ব্যবসায়ী আমজাদ নিকারীসহ ভোমরা সীমান্তে দুইজন আটক

ব্যবসায়ী আমজাদ নিকারীসহ ভোমরা সীমান্তে দুইজন আটক

//দৈনিক বিশ্ব নিউজ ডেস্ক //

সাতক্ষীরার ভোমরা সীমান্ত দিয়ে ভারতে প্রবেশ কালে সাউথ বাংলা এগ্রিকালচার এ্যান্ড কমার্স ব্যাংকের সাবেক চেয়ারমান এস এম আমজাদ হোসেনসহ দু’জনকে আটক করেছে। এ সময় রবিশালের আরও এক নেতাও আটক হন। বৃহস্পতিবার সকাল ১০টায় দিকে তাদেরকে আটক করে বিজিবি। আটককৃত অপর ব্যক্তি হলেন বরিশাল মহানগর আওয়ামী লীগের শিল্প ও বাণিজ্য সম্পাদক নিরব হোসেন ওরফে (খোড়া টুটুল)

সাতক্ষীরাস্থ বিজিবি ৩৩ ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল আশরাফুল হক বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, তাদের কাছে গোপন সংবাদ ছিল, রাজনৈতিকভাবে প্রভাব বিস্তার করে সন্ত্রাসী, মাদক ব্যবসায়ী, চাঁদাবাজি, দুর্নীতি ও অনিয়মের অভিযোগ রয়েছে এমন মানুষ ভোমরা ইমিগ্রেশন দিয়ে ভারতে পালিয়ে যেতে পারেন। এর ভিত্তিতে সীমান্তের তল­াশি চৌকিতে বিশেষ নজর রাখা হয়।

তিনি আরও জানান, সকাল ১০টার দিকে নীরব হোসেন ইমিগ্রেশন পার হয়ে ভারতে যাচ্ছিলেন। সেখান থেকে তাকে আটক করা হয়। এছাড়া দুপুরে ব্যবসায়ী ও আওয়ামী লীগ নেতা আমজাদ হোসেনকেও আটক করা হয়েছে।

অভিযোগ রয়েছে, পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত সাউথ বাংলা এগ্রিকালচার এ্যান্ড কমার্স ব্যাংকের পদত্যাগী চেয়ারমান এস এম আমজাদ হোসেনের শত শত কোটি টাকার সম্পদের সন্ধান পেয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন। এই সম্পদের একাংশ দেশে, একাংশ বিদেশে।

সংস্থাটি তথ্য অনুযায়ী, সম্পদের মধ্যে রয়েছে যুক্তরাষ্ট্রে একাধিক বাড়ি। বেলজিয়াম, ফ্রান্স, সিঙ্গাপুর, রাশিয়া ও ভারতসহ বিভিন্ন দেশে পাচার করেছেন বিপুল পরিমাণ টাকা। এসব দেশেও রয়েছে তার স্থাবর ও অস্থাবর সম্পদ।

খুলনা অঞ্চলের এই ব্যবসায়ী স্থানীয় ভাবে আমজাদ নিকারি নামে পরিচিত ছিলেন। কর্মজীবনের শুরুতে এলাকায় ঘুরে ঘুরে গৃহস্থের কাছ থেকে মাছ কিনে বাজারে বিক্রি করতেন বলে নামের সঙ্গে ‘নিকারি’ শব্দটি যুক্ত হয়। আশির দশকে বাংলাদেশ থেকে ফ্রোজেন ফিস রপ্তানি শুরু হলে, শুরুতেই তিনি সেই ব্যবসায় যুক্ত হন। গঠন করেন নিজের গ্রামের নামে লকপুর গ্র“প।

অভিযোগ আছে বিদেশে চিংড়িসহ অন্যান্য মাছ রপ্তানির নামে তার প্রতিষ্ঠান বিভিন্ন সময় অপদ্রব্য রপ্তানি করে এই খাতকে ঝুঁকিতে ফেলেছেন। তিনি বাগেরহাট, খুলনা ও সাতক্ষীরায় একাধিক প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলেছেন। খুলনা শহরে তার রয়েছে একধিক বাড়ি, আবাসিক হোটেল ও অন্যান্য ব্যবসা প্রতিষ্ঠান।

এসব প্রতিষ্ঠানের মধ্যে রয়েছে লকপুর ফিশ প্রসেস কোম্পানি লিমিটেড, বাগেরহাট সি ফুড ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেড, শম্পা আইস এ্যান্ড কোল্ড স্টোরেজ লিমিটেড, রূপসা ফিশ এ্যান্ড অ্যালাইড ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেড, মুন স্টার ফিশ লিমিটেড, খুলনা প্রিন্টিং এ্যান্ড প্যাকেজিং লিমিটেড, খুলনা অ্যাগ্রো এক্সপোর্ট প্রাইভেট লিমিটেড, ইস্টার্ন পলিমার লিমিটেড, মেট্রো অটো ব্রিকস্ লিমিটেড, খুলনা বিল্ডার্স।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *