এ এইচ নান্টু, বিশেষ প্রতিনিধি|| বাগেরহাটের রামপাল উপজেলা পরিষদের মাসিক আইন শৃঙ্খলা কমিটির সভায় চেয়ারে বসা নিয়ে উপজেলা চেয়ারম্যান, ইউএনও ও এক ইউপি চেয়ারম্যানের মধ্যে প্রায় ১০/১৫ মিনিট ধরে হৈচৈ বাকবিতন্ডা হয়েছে। এক পর্যায়ে ইউএনও নাজিবুল আলম আইন শৃঙ্খলা সভা মুলতবির ঘোষণা দেন। পরে এক ইউপি চেয়ারম্যানের অনুরাধে সভার কাজ পুনরায় শুরু হয়।
জানা গেছে উপজলা নির্বাহী কর্মকর্তা নাজিবুল আলমের সভাপতিত্বে বেলা ১১টায় উপজেলা সম্মেলন কক্ষে বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তা, উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান, নারী ভাইস চেয়ারম্যান ও বিভিন্ন ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানদের সমন্বয়ে সেপ্টম্বর /২০২২ মাসের আইন শৃঙ্খলা কমিটির সভা শুরু হয়। সভা শুরুর কয়েক মিনিট পরে উপজেলা চেয়ারম্যান সেখ মোয়াজ্জম হোসেন, ভাইস চেয়ারম্যান নুরুল হক লিপন ও নারী ভাইস চেয়ারম্যান হোসনেয়ারা মিলি সভা কক্ষে আসেন। এসেই তারা তাদের নির্দিষ্ট চেয়ার না পেয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন। এ নিয়ে উপজেলা চেয়ারম্যান সেখ মোয়াজ্জেম হোসেন ও উজলকুড় ইউপি চেয়ারম্যান মুন্সি বোরহান উদ্দিনের মধ্যে প্রথম কথা কাটাকাটি হয়। এসময় উপজেলা চেয়ারম্যান মোয়াজ্জম হোসেন ইউএনও নাজিবুল আলমের সাথেও বাকবিতন্ডায় জড়িয়ে পড়েন। পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে ইউএনও এক পর্যায়ে আইন শৃঙ্খলা সভা মুলতবির ঘোষনা দেন। পরে ইউপি চেয়ারম্যান আব্দুল্লাহ ফকিরের অনুরোধে বেলা সাড়ে ১১ টায় পুনরায় সভার কাজ শুরু হয়।
এ ব্যাপারে ইউপি চেয়ারম্যান মুন্সি বোরহান উদ্দিন জেড বলেন চেয়ারম্যানদের জন্য নির্দিষ্ট চেয়ার না থাকায় আজকে এই সমস্যা তৈরী হয়েছে। উপজেলা চেয়ারম্যান ও ইউএনও স্যারের উচিত ছিল আগে থেকে আমাদের চেয়ারম্যানদের চেয়ারগুলা নির্দৃষ্ট করে রাখা। ইউপি চেয়ারম্যান আব্দুল্লাহ ফকির বলেন আমি মিটিং এর শৃঙ্খলা যাতে নষ্ট না হয় এ জন্যে তাদেরকে অনুরোধ করে মিটিংয়ের পরিবেশ তৈরী করেছি। এ ধরনের শৃঙ্খলা পরিপন্থী পরিবেশ আমি আশা করিনি। উপজেলা চেয়ারম্যান সেখ মোয়াজ্জেম হোসেন বলেন আমি কক্ষে ঢুকে দেখি ইউএনও স্যার মিটিং করছেন। আমার সাথে থাকা মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান হোসনে আরা মিলি চেয়ার না পাওয়ায় আমি প্রতিবাদ করেছি। এ নিয়ে সবাই আমার সাথে ইউএনও এবং ইউপি চেয়ারম্যান মুন্সি বোরহান উদ্দিনের সাথে কথা কাটাকাটি হয়েছে। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নাজিবুল আলম বলেন উপজেলা চেয়ারম্যান, ভাইস চেয়ারম্যান ও মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান কখন পিছনে এসে দায়িয়েছেন তা আমি খেয়াল করিনি। পরে মহিলা ভাইস চেয়ারম্যানে বসা নিয়ে উপজেলা চেয়ারম্যান সাহেবের সাথে আমার বেশ খানিকটা কথা কাটাকাটি হয়েছে। এ ছাড়া উপজেলা চেয়ারম্যানের সাথে ইউপি চেয়ারম্যান মুন্সি বোরহান উদ্দিন জেড এর সাথে ও কথা কাটাকাটি হয়েছে। এক পর্যায়ে আমি মিটিং স্থগিত করার কথা বলেছিলাম। এসময় ইউপি চেয়ারম্যান আব্দুল্লাহ ফকিরের অনুরোধ করলে পুনরায় মিটিংয়ের কাজ শুরু করি। আগামী মিটিং এ চেয়ারম্যান সাহবদের জন্য চেয়ার নির্দৃষ্ট করে রাখা হবে।

