থুলনার রূপসায় রেখা বেগমের আশ্রয়ণ প্রকল্পের ঘরের তালা—সিটকেনী ভেঙ্গে জবর—দখলের চেষ্টা

থুলনার রূপসায় রেখা বেগমের আশ্রয়ণ প্রকল্পের ঘরের তালা—সিটকেনী ভেঙ্গে জবর—দখলের চেষ্টা

//রূপসা প্রতিনিধি//

থুলনার রূপসা উপজেলার শিয়ালী গ্রামে নদীর পাড়ে আশ্রয়ণ প্রকল্পে সরকারী ঘরের তালা—সিটকেনী ভেঙ্গে জবর—দখল নেওয়ার চেষ্টায় অব্যাহত একটি কু—চক্রী মহল। প্রকল্পে দলিল প্রাপ্ত রেখা বেগম অভিযোগ দায়ের করেছেন।

ক্ষতিগ্রস্থ রেখা বেগম জানায়, শিয়ালী আশ্রয়ণ প্রকল্পে গত ২০/০৭/২০২২ সালে দলিল প্রাপ্ত হই এবং ২৬ নং ঘরটি আমি ভোগ অধিকার পেয়েছি। তারপর থেকে ঐ ঘরে আমি (স্বামী পরিত্যাক্ত) বসবাস করে আসিতেছি। অথচ কয়েকদিন আগে ৩ দিনের জন্য আত্মীয়র বাড়ি বেড়াতে যাই। সেখান থেকে ফিরে দেখি আমার ঘরের দরজার সিটকেনী সহ তালা ভাঙ্গা এবং অন্য এক মহিলা তার মালামাল নিয়ে আমার ঘরের ভিতর থাকছে। এটা দেখে আমি হতবম্ব হই। আমি ঘরে না থাকা স্বত্বেও আমার ঘরে রেখে যাওয়া টাকা ও মালামাল উধাও! খুজে পাই নাই। এরপর জানতে পায়— সাবেক (ওয়ার্ড মেম্বর) সজিব, দীদার ও তানভীর ষড়যন্ত করে ঐ মহিলার বেশ কিছু টাকা খেয়ে আমার ঘরে উঠিয়েছে।

উল্লেখিত তানভীর গাজী আশ্রয়ণে (সভাপতি) নামে পরিচিত, তার স্ত্রীর ঘর নং—৭। এ ঘটনার কিছুদিন আগে তানভীর আর একটি বিবাহ করে আমার ঘরে তাঁর দ্বিতীয় স্ত্রীকে রাখার প্রস্তাব দিয়েছিল। আমি তাঁর কথায় রাজি না হওয়ায়, সে বলে তুই এ ঘরে কিভাবে থাকিস তা আমি দেখে নিব। তার দেখা সে দেখে নিয়ে বিপদগ্রস্ত করেছে আমাকে।

আমি বিষয়টি সজিবের কাছে জানতে চাইলে সে বলে, তুমি আমাকে ৫ হাজার টাকা দিলে ঐ মহিলাকে নামিয়ে ঐ ঘরেই তোমাকে উঠিয়ে দিব। এরপর প্রায়ই আমার কাছে টাকা চাইত। এরপর উপায়ন্তর না পেয়ে উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করি।

অভিযুক্ত তানভীর জানায়, আমার বিরুদ্ধে কোন অভিযোগ করলেও তাতে আমার কোন সমস্যা নেই। আপনারা সেলিনার কাছে শোনেন, সে যা বলবে তাই সত্য।

অভিযুক্ত সজিব জানায়, আমি চেয়ারম্যানের হুকুমে তালা—সিটকেনী ভেঙ্গে সেলিনাকে ঘরে উঠিয়ে দিই। তবে রেখার কাছ থেকে টাকা—পয়সা নেইনি। আমাকে পরে চেয়ারম্যান বলেছেন, ঐ মহিলার ঘরের দলিল থাকা স্বত্বেও তাঁর ঘরের তালা ভেঙ্গে অন্যকে উঠানো সম্পূর্ন ভুল সিদ্ধান্ত হয়েছে।

বর্তমান দখলদার সেলিনা জানান, সজিব, দীদার ও তানভীর বলেছে চেয়ারম্যান নাকি ঐ ঘরের তালা—সিটকেনী ভেঙ্গে আমাকে থাকতে দিতে। এটি কার ঘর, তা আমি আগে জানতাম না।

ওই ইউনিয়ন চেয়ারম্যান মোল্যা ওয়াহিদুজ্জামান মিজান বলেন, এ ঘরের বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী অফিসার আমাকে তদন্তর জন্য নির্দেশ দিয়েছেন। আমি সরোজমিনে তদন্তপূর্বক ২/১ দিনের মধ্যে সঠিক তথ্যর প্রতিবেদন জমা দিব। আমাকে সজিব, তানভীর ও দীদার, সেলিনার সমস্যার কথা জানালে, আমি ওদেরকে রেখা বেগমের সাথে কথা বলতে বলেছি যে কিছুদিনের জন্য ওর ঘরে সেলিনাকে থাকতে দেয় কি—না। কিন্তু তাঁরা তা না করে সরকারী ঘরের তালা ও সিটকেনী ভেঙ্গে ফেলে। তাদের এই ভাঙ্গার ব্যাপারে আমি কিছুই জানি না। অন্যায়কারীদের আইনের আওতায় আনা হবে।

এ ব্যাপারে উপজেলা নির্বাহী অফিসার কোহিনুর জাহান বলেন, শিয়ালী এলাকায় আশ্রয়ণ প্রকল্প ঘরের বিষয়ে অভিযোগ পেয়েছি। বিষয়টি তদন্তের জন্য ওই ইউনিয়নের চেয়ারম্যানকে দিয়েছি। প্রতিবেদন আসলে অপরাধির বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *