হাজার বছরের বট ছায়ায় কৃষকের বিশ্রামে বাধা হচ্ছে একটি পরিবার

হাজার বছরের বট ছায়ায় কৃষকের বিশ্রামে বাধা হচ্ছে একটি পরিবার

//এম মুরশীদ আলী//

কৃষক বিশ্রামের হাজার বছরের বট ছায়া ব্যবহারে বাধা সৃষ্টি করছে একটি পরিবার, এলাকাবাসী অভিযোগ তুলেছেন। ঘটনাটি রূপসার শ্রীফলতলা ইউনিয়ন ডোমরা ২ নং ওয়ার্ডের পুটিমারী এলাকায়। ১০/১২টি গ্রামের বাসিন্দাদের হাজার হাজার বিঘা জমিতে শত শত কৃষক প্রতিদিন শ্রমবিনিময়ে উপর্জনের নির্ভরশীল ক্ষেত্র। এ বিলে ধানের ফলণ, মৎস্য চাষ, তরিতরকারি সহ নানাবিদ ফসল উৎপাদনে দেশের ঘাটতি পূরণে সহয়তা করে। অথচ বাদশা শেখ ও তার পরিবারটির অত্যাচারে মাঠের কৃষকরা বট বৃক্ষের শান্তির ছায়া আশ্রয়স্থল থেকে বঞ্চিত হচ্ছে।

হাজার বছরের বট ছায়ায় কৃষকের বিশ্রামে বাধা হচ্ছে একটি পরিবার

ক্ষুব্ধ কৃষকরা হলেন- শাহ আলম, মো. কামাল শেখ, হেকমত, আসগর আলী, মো. আইয়ুব আলী, মো. মনিরুল ইসলাম, মো. রবিউল ইসলাম, হাসান গাজী, ইমদাদুল ইসলাম, সবুজ, মনোয়ারা বেগম, আনজিরা বেগম, খুরশিদা বেগম, জোসনা বেগম, শারমিন বেগম, শিল্পি বেগম, সেলিনা বেগম প্রমূখ।

তারা বলেন- ডোমরা উত্তরপাড়া বিলে হাজার বছরের এ বট বৃক্ষ, কে রোপন করেছেন? তা না জানলেও তৎকালীন সময়ে দুইব্যাক্তি তাদের ৮ শতক জমি কৃষকের বিশ্রামের প্রতি সম্মান দেখিয়ে ব্যবহার করেনি, যা পূর্বপুরুষ থেকে শুনে আসছি। পরবর্তীতে এ স্থানটি ডোমরা মৌজায় ১৯২২ সালে প্রজাসত্ব থেকে পিএস, ১৯৩০ সালে কালেক্টর বাহাদুর নামে রেকর্ড সহ খাস-খতিয়ান ভুক্ত হয়। যাহা (কালামের মার বটতলা) নামে পরিচিত। কতিপয় ব্যাক্তিদ্বয়ের দানের জমির উপর বট বৃক্ষের ছায়া আজও বিদ্যমান।

এলাকার সৌন্দর্য রক্ষার্থে বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনের কয়েকজন ছাত্র ও সংগঠক তামিম হাসান লিয়ন বলেন- বটবৃক্ষের নিচের জমি ছেড়ে দিতেই হবে। এ অধিকার কৃষক ও পর্যটনের জন্য। বহু বছরের এ বটবৃক্ষ দেখতে বিভিন্ন এলাকার লোকজন ছুটে আসে। মনোরম ফাকা যায়গায় এই বটের ছায়ার নিচে শান্তির বাতাস উপভোগে স্বস্তি পায়। এতে এলাকার ভাবমুর্তি উজ্জ্বল হয়ে থাকে। এই সৌন্দর্য নষ্ট করতে দেওয়া হবে না। ছাত্ররা প্রশাসনের দৃষ্টি কামনা করেছেন দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য।

স্থানীয় ইউপি সদস্য জাহাঙ্গীর মোল্যা বলেন- আমি এ পরিবারের সাথে কয়েকবার বসেছি এবং বলেছি এখানে প্রতিদিন শত শত কৃষক বট ছায়ার নিচে বসে। সেখানে ঘর বাধা, একাধিক কুটার পালা, গরুর গোবর-প্রস্রাব ইত্যাদি অপরিস্কার দুর্গন্ধ সৃষ্টির ফলে বিশ্রামের পরিবেশ নষ্ট হচ্ছে। বরং তোমাদের জমিতে গিয়ে এগুলো করো। তাছাড়া গ্রামের ছেলে-মেয়েরা প্রতিনিয়ত খেলাধুলা করে থাকে। তার পরেও শুনলো না ওরা ! অনেক চেষ্টায় ব্যর্থ হয়ে আর কিছু বলি না।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *