জনগণের হক জনগণকেই দিতে হবে- রূপসায় মৎস্য পক্ষ উদ্বোধনীতে এমপি হেলাল

//এম মুরশীদ আলী, খুলনা//

খুলনা-৪ আসনের সংসদ সদস্য এস কে আজিজুল বারী হেলাল বলেছেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের বলিষ্ঠ নেতৃত্বে বিএনপি সরকার গঠন করেছে। জনগণের ভোটে নির্বাচিত এই সরকার জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠা, কৃষি ও মৎস্যখাতের উন্নয়ন এবং দেশের অর্থনীতিকে আরও শক্তিশালী করতে কাজ করে যাচ্ছে। কৃষক, জেলে ও সাধারণ মানুষের কল্যাণকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে সরকারী উন্নয়ন পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা হবে।

দেশের মৎস্যখাতকে আরও সমৃদ্ধ ও আধুনিক করতে যা যা করা প্রয়োজন, সরকার তা করবে। মৎস্য উৎপাদন বৃদ্ধি, মাছের প্রজনন ও জলজ সম্পদ রক্ষা এবং মৎস্যজীবীদের জীবনমান উন্নয়নে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হবে। একই সঙ্গে কৃষকদের স্বার্থ রক্ষায় কৃষক কার্ড ও ফ্যামিলি কার্ডসহ সরকারের বিভিন্ন সহায়তা কর্মসূচি প্রকৃত যোগ্য মানুষের কাছে পৌঁছে দিতে হবে।

জনগণের হক জনগণকেই দিতে হবে- রূপসায় মৎস্য পক্ষ উদ্বোধনীতে এমপি হেলাল

কৃষক কার্ড, ফ্যামিলি কার্ডসহ বিভিন্ন সরকারি সুবিধার জন্য যারা যোগ্য, তাদেরই এসব সুবিধা দিতে হবে। যারা এসব কার্ডের জন্য জরিপ করবেন এবং কার্ড বিতরণের সঙ্গে যুক্ত থাকবেন, তাদের অবশ্যই স্বচ্ছতা, সততা ও শতভাগ নিরপেক্ষতা বজায় রাখতে হবে। কে কোন দলের কৃষক, কার রাজনৈতিক পরিচয় কী এসব বিবেচনা করা যাবে না। যে ব্যক্তি প্রকৃতপক্ষে যোগ্য, তাকেই সরকারি সুবিধা দিতে হবে। জনগণের হক জনগণকেই দিতে হবে।

তিনি বলেন, জলাশয়গুলোকে উন্মুক্ত রাখতে হবে এবং দখলমুক্ত করতে হবে। খাল-বিল, নদী ও জলাশয় কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর ব্যক্তিগত সম্পত্তি নয়, এগুলো সাধারণ মানুষের সম্পদ। তাই জলাশয় দখল করে কৃষক ও মৎস্যজীবীর অধিকার কেড়ে নেওয়া যাবে না এবং  জলাবদ্ধতা সৃষ্টি করে কৃষি ও মৎস্য উৎপাদন ব্যাহত করার সুযোগ দেওয়া হবে না। তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন সরকার জলাশয় দখলমুক্ত রাখতে কঠোর পদক্ষেপ নেবে। প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে এ বিষয়ে আরও কঠোর হতে হবে। যারা জলাশয় দখল করে, সন্ত্রাস সৃষ্টি করে কিংবা সাধারণ মানুষের অধিকার কেড়ে নেয়, তাদের কোনোভাবেই ছাড় দেওয়া যাবে না। আমরা উন্মুক্ত জলাশয়ে মাছ ছাড়ব, মাছের উৎপাদন বাড়াব, আর কেউ সেই জলাশয় দখল করে সেই মাছ ভোগ করবে এটা হতে পারে না। জনগণের সম্পদ জনগণের জন্যই উন্মুক্ত রাখতে হবে। যারা জলাশয় দখল করে রাখবে, তাদের বিরুদ্ধে জনগণকে সঙ্গে নিয়ে প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে ব্যবস্থা নিতে হবে। জনগণের সম্পদ দখল করে রাখার সুযোগ দেওয়া হবে না। সে যত বড় নেতা বা প্রভাবশালী ব্যক্তিই হোক, জনগণের সম্পদ দখল করে রাখার অধিকার কারোর নেই। এসব দখলবাজ ও সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

তিনি আরও বলেন, বিএনপি সরকার কৃষি, মৎস্য ও জ্বালানি খাতসহ দেশের সার্বিক উন্নয়নের জন্য যে পরিকল্পনা নিয়ে এগিয়ে যাচ্ছে, তার সুফল সাধারণ মানুষ পাবে। তবে শুধু সরকারের উদ্যোগ যথেষ্ট নয়  খাল-বিল ও জলাশয় দখলমুক্ত রাখা এবং মৎস্য সম্পদ রক্ষায় বিএনপির নেতাকর্মীদেরও সোচ্চার থাকতে হবে। কৃষক, মৎস্যজীবী ও সাধারণ মানুষের স্বার্থে সবাইকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে। দেশের কৃষক ও মৎস্যজীবীরা আমাদের অর্থনীতির গুরুত্বপূর্ণ চালিকাশক্তি। তাদের স্বার্থ রক্ষা করা মানে দেশের স্বার্থ রক্ষা করা। কৃষি ও মৎস্যখাতকে সমৃদ্ধ করতে হলে জলাশয় রক্ষা, নদী-খাল দূষণমুক্ত রাখা, দখল বন্ধ করা এবং প্রকৃত কৃষক ও মৎস্যজীবীদের সরকারি সহায়তা নিশ্চিত করতে হবে। সরকার ও জনগণের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় একটি সমৃদ্ধ, উৎপাদনশীল ও বৈষম্যহীন বাংলাদেশ গড়ে তোলা সম্ভব।

তিনি গত ১৬ আগস্ট (রবিবার) রূপসা উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তার কার্যালয় ও জাতীয় মৎস্য পক্ষ রূপসা উদযাপন কমিটির আয়োজনে রূপসা উপজেলা মডেল মসজিদ অডিটোরিয়ামে জাতীয় মৎস্য সপ্তাহের উদ্বোধনী অনুষ্ঠান, আলোচনা সভা, সফল মৎস্য চাষী, উদ্যোক্তা ও প্রতিষ্ঠানকে মৎস্য পুরস্কার প্রদান এবং সমাপনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্য একথা বলেন। এরপর তিনি দুপুরে

উপজেলা পরিষদ চত্বরের পুকুরে ও ঘাটভোগ ইউনিয়নের নড়নীয়া বিলে মোট ১২০ কেজি মাছের পোনা অবমুক্ত করেন।

উপজেলা মডেল মসজিদ অডিটোরিয়ামে আলোচনা সভায় উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. ইফতেখারুল ইসলাম শামীম এর সভাপতিত্বে স্বাগত বক্তৃতা করেন উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা জ্যোতিকনা দাস।

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে রাখেন রূপসা থানা পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) মোহাম্মদ আব্দুস সবুর খান, খুলনা জেলা বিএনপির যুগ্ম আহবায়ক খান জুলফিকার আলি জুলু, মোল্যা খায়রুল ইসলাম, এনামুল কবীর সজল,

উপজেলা আহবায়ক মোল্যা সাইফুর রহমান, সদস্য সচিব জাবেদ হোসেন মল্লিক, খুলনা জেলা স্বেচ্ছাসেবকদলের আহবায়ক আতাউর রহমান রুনু।

অনুষ্ঠানে রূপসা উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা ফারহানা ইয়াসমিনের সঞ্চালনায় বক্তৃতা করেন আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডাঃ খন্দকার হিমেল, শিক্ষা কর্মকর্তা মুহাঃ আবুল কাশেম,সমাজসেবা কর্মকর্তা রাকিবুল ইসলাম তরফাদর, যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা শেখ বজলুর রহমান, ইউআরসি ইনসট্রাক্টর এহতেশামুল হক,পূর্ব রূপসা চিংড়ি বনিক সমিতির সভাপতি রুবেল মীর, মৎস্যচাষী খন্দকার শরিফুল ইসলাম, সুজন বসু।

এসময় উপস্থিত ছিলেন খুলনা জেলা বিএনপির সদস্য আনিসুজ্জামান আনিস,আরিফুর রহমান আরিফ, মোল্যা রিয়াজুল ইসলাম,আছাফুর রহমান, উপজেলা বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম আহবায়ক বিকাশ মিত্র,জেলা মহিলাদলের সাধারন সম্পাদক সেতারা বেগম, জেলা যুবদলের যুগ্ম আহবায়ক গোলাম মোস্তফা তুহিন, জেলা মহিলাদলের সিনিয়র সহ-সভাপতি শাহানাজ ইসলাম, উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহবায়ক রয়েল আজম, বিএনপি নেতা এসএম আঃ মালেক, খান আনোয়ার হোসেন, মহিউদ্দিন মিন্টু, শরিফুল ইসলাম বকুল, আজিজুর রহমান, দিদারুল ইসলাম, মিকাইল বিশ্বাস, ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান আজিজুল ইসলাম নন্দু, জিয়াউল ইসলাম বিশ্বাস, ইলিয়াজ হোসেন,জেলা মহিলাদের যুগ্ম সাধারন সম্পাদক মনিরা বেগম, বাদশা জমাদ্দার, সাইফুল ইসলাম পাইক, আবুল কাশেম কালা, মহিতোষ ভট্টাচার্য, সৈয়দ মাহমুদ আলী, শামীম হাসান, প্রধান শিক্ষক চাঁদ সুলতানা, শাবানা,হাকিম কাজী, মোঃ সাজ্জাত হোসেন, জেলা স্বেচ্ছাসেবকদলের দপ্তর সম্পাদক রেজাউল ইসলাম রেজা, সাবেক ছাত্রনেতা  খান আলিম হাসান, মাসুদ খান, মুন্না সরদার, আরিফ মোল্যা, জাহিদুল ইসলাম রবি, কামরুজ্জামান নান্টু, জেলা যুবদলের সদস্য তরিকুল ইসলাম রিপন,স্বেচ্ছাসেবক দল নেতা মো. রয়েল, রহিমা আক্তার নয়ন, ছাত্রদল নেতা কাজী জাকারিয়া, মো. দাউদ শেখ, এসএম আবু সাঈদ, মাহমুদুল হাসান, নাঈম ইসলাম, মনিশংকর রায়,  মিজানুর রহমান, সিহাবুল ইসলাম, মোল্যা দুরুল ইসলাম, সাইফুল ইসলাম মোল্যা, আসলাম লস্কর, রহিমা আক্তার নয়ন প্রমূখ।

“কিচির মিচির” — রূপসায় শিশুদের স্বপ্নের ঠিকানা’র শুভ উদ্বোধন

//এম মুরশীদ আলী, খুলনা//

শিশুদের শারীরিক ও মানসিক বিকাশের জন্য প্লে-জোন “কিচির মিচির” রূপসা উপজেলা পরিষদ অভ্যন্তরে উন্নয়ন তহবিল থেকে নির্মিত করা হয়েছে। গত ৩ আগষ্ট বিকেলে শুভ উদ্বোধনের পাশাপাশি পরিবেশ ও জলবায়ু সংরক্ষণে বর্তমান সরকারের ৫ বছরে ২৫ কোটি বৃক্ষরোপনের লক্ষ্যমাত্রা অর্জনের গাছের চারা বিতরণ করা হয়।

উপজেলা নির্বাহী অফিসার সানজিদা রি্কতা রূপসায় একটি দৃষ্টান্ত স্থাপন করলেন। তিনি সভাপতির বক্তব্যে বলেছেন, আমি যখন এ উপজেলায় প্রথম যোগদান করি, তার কিছু দিনপর এ পথ দিয়ে হেঁটে চলার মধ্যে হঠাৎ একটি বাচ্চা এসে বললো, ম্যাম আপনিতো আমাদের নতুন নির্বাহী, আমাদের একটা পার্ক করে দিবেন। যেখানে আমারা দোলানায় দোল খাবো, ষড়াত খাবো, হাঁসের পিঠে নড়াচড়া করবো এবং হেসে-খেলে আনন্দ উপভোগ করতে পারবো। তার এ কথাগুলো অবশ্য কারোর শেখানো বুঝতে পারছিলাম। তারপরও ওর কথাগুলি আমার মনে মায়ার স্বরে জায়গা করে নেয়। ঐসময় শিশুটিকে আশ্বস্তী করি তোমার মনের আশা অল্পদিনের মধ্যেই পূরণ হবে ইনশাআল্লাহ। ঐ ছোট শিশুর কথা মনে রেখেই ‘কিচির মিচির’ পার্কের সৃষ্টি হয়েছে।

"কিচির মিচির" --- রূপসায় শিশুদের স্বপ্নের ঠিকানা'র শুভ উদ্বোধন

শিশুদের জন্য পার্ক নির্মাণ করাতে স্থানীয় অভিভাবকরা সন্তুষ্ট প্রকাশ করে বলেন, আমাদের এলাকায় শিশুদের নিয়ে ঘোরার মতো ভালো কোনো স্থান ছিল না। বাচ্চাদের একটু আনন্দ দিতে হলে শহরের দিকে যেতে হতো। ছোট শিশুদের নিয়ে দূরে যাওয়া কষ্টকর ও ঝুঁকিপূর্ণ। কিন্তু কিচির মিচির প্লে-জোনটি হওয়ার পর সেই সমস্যা অনেকটাই দূর হয়েছে। শিশুরা একসঙ্গে খেলাধুলা আর আনন্দ করে নিজেদের মধ্যে মিশছে। শিশুদের মুখের এই হাসির চেয়ে একজন বাবা-মায়ের কাছে বড় শান্তি আর কী হতে পারে। এটি শুধু একটি প্লে-জোন নয়, এটি আমাদের সন্তানদের আনন্দময় শৈশবের একটি সুন্দর ঠিকানা।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তৃতা করেন- সহকারী কমিশনার (ভূমি) ইফতেখারুল ইসলাম শামীম, রূপসা থানা ওসি আব্দুর রাজ্জাক মীর, কৃষি কর্মকর্তা তরুণ কুমার বালা, প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ড. আহসান হাবীব প্রামাণিক।

এসময় উপস্থিত ছিলেন- প্রকৌশলী নাজমুল হুদা, ইউআরসি ইনসট্রাক্টর এহতেশামুল হক, প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা বুরহান উদ্দীন, যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা মো. বজলুর রশীদ, মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা ফারহানা ইয়াসমিন, সহকারী প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা এস এম আলী আকবর, সহকারী প্রোগ্রামার মো. ইমরান হোসেন, উপ-সহকারী প্রকৌশলী মোঃ ইমরান হোসেন, আইচগাতী ইউনিয়ন ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান মো. মাসুম, শ্রীফলতলা ইউনিয়ন ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান মো. জিয়াউল হক বিশ্বাস, নৈহাটি ইউনিয়ন ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান মো. ইলিয়াস, টিএসবি ইউনিয়ন ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান আসাফুর রহমান, ঘাটভোগ ইউনিয়ন ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান আজিজুল ইসলাম নন্দু, প্রধান শিক্ষক সাবানা, শিক্ষক চন্দ্র শেখর পাল, শিক্ষক শামীমা নাসরিন, দিলারা খানম, সঙ্গীত শিক্ষক নীলমনি বিশ্বাস, ব্যবসায়ী ওবায়েদ ফারাজী প্রমূখ।

(ফ্যামিলি কার্ড) রূপসায় বাড়ি বাড়ি তথ্য সংগ্রহ নিয়োগ পরীক্ষা সম্পন্ন

//এম মুরশীদ আলী, খুলনা//

দেশের প্রান্তিক ও নিম্নআয় পরিবারের জন্য আর্থিক সহায়তা স্বরুপ ফ্যামিলি কার্ড দেওয়ার প্রতিশ্রুতি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের। এ লক্ষ্যে রূপসার ৫টি ইউনিয়নের মধ্যে আবেদনকারীর নিয়োগ পরীক্ষা গত ২৯ ও ৩০ জুলাই উপজেলা অফিসার্স ক্লাব মিলনায়তনে সম্পন্ন হয়েছে।

পরীক্ষা চলাকালে দেখা গেছে প্রায় ৮০০  পরীক্ষার্থী এ পদ ২ টিতে অংশগ্রহণ করেছে। এসময় আগত পরীক্ষার্থীদের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ উদ্দীপনা লক্ষ্য করা যায়। পরীক্ষায় অংশগ্রহণ শেষে একাধিক পরীক্ষার্থী জানান, বেশ কয়েক বছর পরে স্থানীয় ভাবে একটি নিয়োগ পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করে খুবই ভালো লেগেছে। আশা করছি উক্ত পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে সরকারি সহযোগিতা নিয়ে দেশের মানুষের জন্য কিছু করতে পারবো।

(ফ্যামিলি কার্ড) রূপসায় বাড়ি বাড়ি তথ্য সংগ্রহ নিয়োগ পরীক্ষা সম্পন্ন

নিয়োগ বোর্ড কমিটির সদস্য সচিব সমাজসেবা কর্মকর্তা রাকিবুল ইসলাম তরফদার জানান, সুপারভাইজার পদে ১০৭ জন এবং তথ্য সংগ্রহকারী স্বেচ্ছাসেবী পদে ৬৫০ জন আবেদনকারীর মৌখিক ও ব্যবহারীক পরীক্ষা সম্পন্ন হয়েছে। এদের মধ্যে তথ্য সংগ্রহকারী স্বেচ্ছাসেবী পদে ৭২ জন এবং সুপারভাইজার পদে ৬ জন। (মোট ৭৮ জন) অস্থায়ী ভিত্তিতে ৪৫ দিনের জন্য নিয়োগ পাইবেন। নির্বাচিতরা উপজেলার ৫টি ইউনিয়নের মধ্যে বাড়ি বাড়ি গিয়ে প্রান্তিক ও নিম্নআয় পরিবারের তথ্য সংগ্রহ পূর্বক স্মার্টফোন বা ট্যাবলেটে সংরক্ষণ করবেন।

নিয়োগ বোর্ডে উপজেলা নির্বাহী অফিসার সানজিদা রিক্তার সার্বিক ব্যবস্থাপনায় পরীক্ষা সম্পন্ন হয়েছে। তিনি বলেন, নিয়োগ পরীক্ষা সুষ্ঠু, শান্তিপূর্ণ এবং নিরপেক্ষ করতে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে সরকারি বিধি মোতাবেক মৌখিক ও ব্যবহারীক পরীক্ষা সময়োপযোগী ব্যবস্থা গ্ৰহন করা হয়েছে।

এ পরীক্ষা পরিচালনায় সহযোগিতা করেছেন- সহকারী কমিশনার (ভূমি) ইফতেখারুল ইসলাম শামীম, উপজেলা কৃষি অফিসার তরুণ কুমার বালা, পরিবার-পরিকল্পনা কর্মকর্তা সাইদুর রহমান, কমিটির সদস্য- মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা ফারহানা ইয়াসমিন ও সহকারী প্রোগ্রামার মো. ইমরান হোসেন।

খুলনার রূপসায় দূর্নীতি প্রতিরোধ বিষয়ক বিতর্ক প্রতিযোগিতার পুরস্কার ও গাছের চারা বিতরণ

//এম মুরশীদ আলী, খুলনা//

‘একটি দেশের দারিদ্রতার মূল কারণ দূর্নীতি’। এ প্রতিপাদ্য সঙ্গে নিয়ে রূপসায় ৩ দিন ব্যাপী শিক্ষার্থীদের মধ্যে দূর্নীতি প্রতিরোধ বিষয়ক বিতর্ক রচনা প্রতিযোগিতার সমাপনী ও পুরস্কার বিতরণ গত ৩০ জুলাই উপজেলা মডেল মসজিদ মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত হয়েছে।

অপরদিকে- ২০২৬-২৭ অর্থবছরে পরিবেশ ও জলাবায়ু সংরক্ষণ এবং বর্তমান সরকারের ৫ বছরে ২৫ কোটি বৃক্ষরোপনের লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে উপস্থিত সকলের মাঝে গাছের চারা বিতরণ করেছেন।

খুলনার রূপসায় দূর্নীতি প্রতিরোধ বিষয়ক বিতর্ক প্রতিযোগিতার পুরস্কার ও গাছের চারা বিতরণ

পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তৃতা করেন- উপজেলা নির্বাহী অফিসার সানজিদা রিক্তা।

উপজেলা দূর্নীতি প্রতিরোধ কমিটির সভাপতি সাবেক অধ্যক্ষ শেখ মো. খায়রুল আলমের সভাপতিত্বে বিশেষ অতিথির বক্তৃতা করেন- রূপসা থানা ওসি আব্দুর রাজ্জাক মীর, উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা এস এ আনোয়ার-উল কুদ্দুস।

বিতর্ক রচনা প্রতিযোগিতায় বিচারকের দায়িত্বে ছিলেন- সহকারী মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা নাজমা আক্তার, রূপসা মহিলা কলেজের সহকারী অধ্যাপক শিপ্রা রানী নন্দী, শিয়ালী এস জি সি টেকনিক্যাল কলেজ সহকারী অধ্যাপক সুদীপ্ত কুমার মহলী এবং সময় নিয়ন্ত্রকের দায়িত্বে ছিলেন একাডেমিক সুপারভাইজার নিত্যানন্দ মন্ডল।

উপস্থিত ছিলেন- উপজেলা দুর্নীতি প্রতিরোধ কমিটির সহ-সভাপতি ওবায়েদ ফারাজী, সাধারণ সম্পাদক মো. ফরিদ শেখ, সদস্য- শিক্ষক শামসুর রহমান, নাহিদুজ্জামান খান, আসমা আক্তার লিপি, সাংবাদিক আখতার খান। এ সময় উপস্থিত ছিলেন- সহকারী অধ্যাপক সুদীপ্ত কুমার মহলী, শিক্ষক মিল্টন বিশ্বাস, শিক্ষক সীমা পান্ডে, শিক্ষক কামনা শীষ রায়, মো. শামীম হাসান, শিক্ষক উত্তম কুমার চ্যাটার্জী, উপজেলা ইসলামিক ফাউন্ডেশনের মডেল কেয়ারটেকার আব্দুস সালাম প্রমুখ।

বিশ্ব তামাকমুক্ত দিবস পালিত হলো খুলনার রূপসায়

//এম মুরশীদ আলী, খুলনা//

‘তামাকমুক্ত সমাজ গড়ি, সুস্থ বাংলাদেশ গড়ি’। এ প্রতিপাদ্য সঙ্গে নিয়ে রূপসা উপজেলা প্রশাসন আয়োজনে বিশ্ব তামাকমুক্ত দিবসের এক র‍্যালি শেষে আলোচনা সভা গত ৭ জুলাই সকাল সাড়ে ১১ টায় অফিসার্স ক্লাব মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত হয়।

তামাকমুক্ত করনীয় বিষয়ে বিশদ আলোচনা করেন (সভার সভাপতি) উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ইফতেখারুল ইসলাম শামীম। তিনি বলেন- দেশে তামাকজনিত রোগে বছরে প্রচুর মানুষের মৃত্যু এবং পঙ্গুত্বের ঘটনা ঘটেছে। মানব জীবন রক্ষায় ১৯৮৯ সাল থেকে বিশ্বে দিবসটি উদযাপিত হয়ে আসছে। প্রতিবছর এ দিনে  দিবসটি পালনের মাধ্যমে আমাদের স্মরণ করিয়ে দেয় মানব জীবনে স্বাস্থ্য, অর্থনীতি ও পরিবেশের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর ব্যাপারে।

পাবলিক প্লেস ও পাবলিক পরিবহনে ধূমপান নিষিদ্ধ এবং পাবলিক পরিবহনে সতর্কতামূলক নোটিস প্রদর্শন এবং তামাকজাত দ্রব্য প্যাকেটে স্বাস্থ্য সতর্কবাণী দেওয়া থাকে। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানসমূহের আশপাশ ১০০ মিটারের মধ্যে তামাকজাত দ্রব্য বিক্রয় নিষিদ্ধ।  তাছাড়া ১৮ বছরের নিচে অপ্রাপ্তবয়স্ক শিশুর কাছে তামাকজাত দ্রব্য বিক্রয় দণ্ডনীয় অপরাধ। এ ক্ষেত্রে স্বাস্থ্যঝুঁকি রক্ষায় সরকারের পাশাপাশি মিডিয়া ও সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা এগিয়ে আসলে তামাকমুক্ত দেশ গড়া সম্ভব হবে।

এসময় বিশেষ অতিথির বক্তৃতা করেন- উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা তরুণ কুমার বালা, রূপসা থানা (ওসি তদন্ত)) আব্দুর সবুর খান, মেডিকেল অফিসার মো. আল আমিন, প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মো. বুরহান উদ্দীন।

আলোচনা সভায় আরও বক্তৃতা করেন- উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক মোল্লা সাইফুর রহমান, সদস্য সচিব জাবেদ হোসেন মল্লিক,

ইউআরসি ইনসট্রাক্টর এহতেশামুল হক, প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার মুহা: আবুল কাশেম, যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা মো. বজলুর রশীদ, সমাজসেবা কর্মকর্তা রাকিবুল ইসলাম তরফদার, অধ্যক্ষ মো. আতাহার আলী ফকির, রূপসা ফায়ার সার্ভিস স্টেশন কর্মকর্তা মো. মোশাররফ হোসেন, সহকারী মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা নাজমা আক্তার, ইউপি সদস্য সফিকুল ইসলাম, শিক্ষক সাবানা, মোছাঃ নাসরিন খাতুন, কমল চন্দ্র সানা প্রমুখ।

তামাকমুক্ত দিবসটি যথাযথ পালনের লক্ষ্যে এলাকার গন্যমান্য ব্যক্তিবর্গ সহ গণমাধ্যম কর্মীরা উপস্থিত ছিলেন। সভা শেষে উপস্থিত সকলের মাঝে বিভিন্ন জাতের গাছের চারা বিতরণ করা হয়েছে।

খুলনার রূপসায় জাতীয় পল্লী উন্নয়ন দিবস পালিত

//এম মুরশীদ আলী, খুলনা//

“উন্নত পল্লী সমৃদ্ধ দেশ, সবার আগে বাংলাদেশ”। এ প্রতিপাদ্য নিয়ে গত ৬ জুলাই জাতীয় পল্লী উন্নয়ন দিবস পালন উপলক্ষে রূপসা উপজেলায় এক র‍্যালি শেষে আলোচনা সভা অফিসার্স ক্লাব মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত হয়। সভা শেষে উপস্থিত সকলের মাঝে বিভিন্ন জাতের গাছের চারা বিতরণ করা হয়েছে।

খুলনার রূপসায় জাতীয় পল্লী উন্নয়ন দিবস পালিত

সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. ইফতেখারুল ইসলাম শামীম।

আলোচনা সভায় রূপসা পল্লী উন্নয়ন কর্মকর্তা তারেক ইকবাল আজিজের সভাপতিত্বে বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা তরুন কুমার বালা, রূপসা থানা ওসি আবদুর রাজজাক মীর, সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা জ্যোতি কনা দাস, ব্র্যাক বাংলাদেশ ডিভিশনাল ম্যানেজার মো. আবু সাঈদ এবং জেলা বিএনপির সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক মোস্তফা উল বারী লাভলু।

ফিল্ড অফিসার কৃষ্ণ গোপাল সেনের সঞ্চালনায়  বক্তব্য রাখেন- উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা শেখ বোরহান উদ্দিন, মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা ফারহানা ইয়াসমিন, সমবায় কর্মকর্তা জান্নাতুল ইসলাম রুমি, সমাজসেবা কর্মকর্তা রাকিবুল ইসলাম তরফদার, ইউসিসিএ লিমিটেডের চেয়ারম্যান হাসিবুর রহমান বাবুল লস্কর, সোনালী ব্যাংকের কর্মকর্তা নুরুর রহমান, সহকারী পল্লী উন্নয়ন কর্মকর্তা প্রদীপ কুমার বিশ্বাস, সাবেক চেয়ারম্যান গোপাল চন্দ্র মন্ডল, সাংবাদিক তরুন চক্রবর্তী বিষ্ণু, রিশাদুল ইসলাম ও ইউসুফ শেখ।

অনুষ্ঠানে বক্তারা পল্লী উন্নয়নের গুরুত্ব, গ্রামীণ অর্থনীতি শক্তিশালীকরণ এবং টেকসই উন্নয়নের মাধ্যমে সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গঠনের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

সরকারি উন্নয়ন কোনো ধরনের দুর্নীতি বরদাশত করা হবে না ……রূপসায় আজিজুল বারী

//এম মুরশীদ আলী//

এম মুরশীদ আলী : “উন্নত পল্লী সমৃদ্ধ দেশ, সবার আগে বাংলাদেশ”। এ প্রতিপাদ্য সামনে রেখে আগামী ৬ জুলাই জাতীয় পল্লী উন্নয়ন দিবস সফল করার লক্ষ্যে গত ৩ জুলাই বিকেলে রূপসা উপজেলার মডেল মসজিদ মিলনায়তনে কৃষক সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে।

কৃষি সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তৃতা করেন- খুলনা-৪ আসনের সংসদ সদস্য এস কে আজিজুল বারী হেলাল। তিনি বললেন-  বিএনপির তথ্য সম্পাদক আজিজুল বারী হেলাল বলেছেন দেশের কৃষি ও গ্রামীণ অর্থনীতিকে শক্তিশালী করতে হলে কৃষকদের উৎপাদন ব্যয় কমাতে হবে। এছাড়া সহজ শর্তে ঋণ নিশ্চিত করা, কৃষি সহায়তা প্রকৃত কৃষকের হাতে পৌঁছে দিতে হবে। কৃষকদের বাদ দিয়ে দেশের উন্নয়ন কল্পনা করা যায় না। মাঠের কৃষক ভালো থাকলে দেশের অর্থনীতিও শক্ত ভিত্তির ওপর দাঁড়াবে। কৃষকদের জন্য বরাদ্দকৃত সার, বীজ, কৃষি উপকরণ, ঋণসহ সরকারি সহায়তা যেন কোনো মধ্যস্বত্বভোগী বা প্রভাবশালীর হাতে না গিয়ে প্রকৃত কৃষকের কাছে পৌঁছায়, সে বিষয়ে সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে। কৃষকের অধিকার রক্ষার পাশাপাশি উৎপাদন বৃদ্ধিতে স্থানীয়ভাবে কার্যকর উদ্যোগ নিতে হবে।

তিনি বলেন, বিএনপি এমন একটি সংগঠন যাদের নেতা-কর্মীর জনগণের জবাবদিহিতায় বিশ্বাসি। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে বিএনপি সরকার জনগণের প্রতিটি টাকার সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত করবে। সকলকে অনৈতিক কর্মকাণ্ডের উর্ধ্বে থেকে মানুষের আস্থা অর্জন করতে হবে সেবার মাধ্যমে। সরকারি উন্নয়ন প্রকল্পে কোনো ধরনের দুর্নীতি বরদাশত করা হবে না। রাস্তা-ঘাট, সেচব্যবস্থা ও অন্যান্য উন্নয়ন কাজ নির্ধারিত সিডিউল অনুযায়ী সম্পন্ন করতে হবে। কোথাও অনিয়ম বা নিম্নমানের কাজ হলে তা বন্ধের ব্যবস্থা নিতে হবে। জনগণের অর্থের অপচয় কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।

তিন বলেন কৃষকদের কথা চিন্তা করে পল্লী উন্নয়ন বোর্ড  বাস্তবায়নের উদ্যোগ নিয়েছিলেন শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান। সমবায়ের মাধ্যমে কৃষকদের ঋণ প্রদান ও গ্রামীণ অর্থনীতিকে শক্তিশালী করার সেই উদ্যোগ আজও সমানভাবে গুরুত্বপূর্ণ। পরিবেশ দূষণ হয় এমন কোনো কাজ করা যাবে না। পল্লী কৃষি, উন্নয়ন ও পরিবেশের মধ্যে ভারসাম্য বজায় রেখেই এগিয়ে যেতে হবে। বর্তমান সরকার দেশব্যাপী বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি হাতে নিয়েছে। প্রতিটি শিক্ষার্থীকে একটি করে গাছ লাগাতে হবে এবং পরিবারের প্রতিটি সন্তানের নামে অন্তত একটি করে গাছ রোপণ করতে হবে।  কৃষি ও পরিবেশ একে অপরের পরিপূরক। পরিবেশ রক্ষা ছাড়া টেকসই কৃষি সম্ভব নয়। তাই বৃক্ষরোপণে কৃষকসহ সর্বস্তরের মানুষকে সম্পৃক্ত হতে হবে।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে রাখেন রূপসা উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. ইফতেখারুল ইসলাম শামীম, রূপসা থানা ওসি আবদুর রাজ্জাক মীর, জেলা বিএনপির যুগ্ম আহবায়ক খান জুলফিকার আলি জুলু, মোল্যা খায়রুল ইসলাম, রূপসা উপজেলা বিএনপির আহবায়ক মোল্যা সাইফুর রহমান, সদস্য সচিব জাবেদ হোসেন মল্লিক, জেলা স্বেচ্ছাসেবকদলের আহবায়ক আতাউর রহমান রুনু।

কৃষক সমাবেশে স্বাগত বক্তৃতা করেন উপজেলা পল্লী উন্নয়ন অফিসার তারেক ইকবাল আজিজ।

রূপসা ইউসিসিএ লিমিটেডের সভাপতি হাসিবুর রহমান বাবুল লস্করের সভাপতিত্বে এবং ফিল্ড অফিসার কৃষ্ণ গোপাল সেনের সঞ্চালনায় বিএনপি নেতা মহিউদ্দিন মিন্টু, সমবায়ী এ্যাডঃ সুশীল কুমার পাল, তাইজুল শেখ, ধিমান দাস, অমেলা শিকদার প্রমূখ।

এসময় উপস্থিত ছিলেন সহকারী পল্লী উন্নয়ন কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) প্রদীপ কুমার বিশ্বাস, খুলনা জেলা আরিফুর রহমান আরিফ, মোল্যা রিয়াজুল ইসলাম, আছাফুর রহমান,জেলা মহিলাদল নেত্রী শাহানাজ ইসলাম, উপজেলা বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম আহবায়ক বিকাশ মিত্র, বিএনপি নেতা হুমায়ূন কবীর, এসএম সবুর রাজীব,এসএম আঃ মালেক, মিকাইল বিশ্বাস, দিদারুল ইসলাম, আজিজুল ইসলাম নন্দু, মনিরা বেগম, শারমিন আক্তার আঁখি, খন্দকার শরিফুল ইসলাম, রেজাউল ইসলাম রেজা, শামীম হাসান, সরদার শিহাব, ফিরোজ মাহমুদ, মহিতোষ ভট্টাচার্য, আমিনুল ইসলাম তারেক, জহিরুল হক শারাদ, তরিকুল ইসলাম রিপন, মনিশংকর রায়, এসএম আবু সাঈদ, নাঈম আহম্মেদ, মঞ্জু শিকারি, জাহাঙ্গীর হোসেন, ওমর ফারুক প্রমূখ।

সভা শেষে ২০০ জন কৃষকের মাঝে গাছের চারা বিতরণ করেন এমপি।

রূপসায় ইয়াদ আলী সড়কটিকে টেকসই সড়ক নির্মাণে ব্যাপক অনিয়ম ; চরম ক্ষোভে ফুঁসে উঠেছে জনতা

//এম মুরশীদ আলী, খুলনা//

বর্তমান সরকারের টেকসই সড়ক নির্মাণে ব্যাপক অনিয়ম দেখে সহ্য করতে পারছে না স্থানীয় জনতা। ১ কোটি ১২ লক্ষ ২৭ হাজার টাকায় ইয়াদ আলী সড়কের ১ কিলো ৩০ মিটার পর্যন্ত নির্মাণ হচ্ছে।

এ কাজে নিম্নমানের আমা ইটের গাঁথুনিতে ৬টা বালুর সাথে ১টা সিমেন্ট মিশ্রণ করে রাস্তার গাইড ওয়াল নির্মাণের মধ্যে ওয়াল হেলে যাওয়া এবং ইটের গাঁথুনি খুলে যাওয়ার ফলে এলাকাবাসীর মধ্যে চরম ক্ষোভ ও উত্তেজনা দেখা দিয়েছে।

ফারজানা এন্টারপ্রাইজ ঠিকাদার প্রতিষ্ঠানটি রূপসা বাগমারা রব ঠিকাদারের মোড় থেকে মদনার খাল পর্যন্ত রাস্তাটির নির্মাণ কাজে ফাঁকি দিয়ে মোটা অংকের টাকা লাভের আশায় রাস্তার গাইডওয়াল গাঁথুনিতে নিম্নমানের বালুর পাশাপাশি সিমেন্ট কম দেওয়া এবং নিম্নমানের আমা ইট ব্যবহার করার ফলে, বিভিন্ন স্থান থেকে ইট খুলে পড়ে যাচ্ছে। এতে স্থানীয়রা চরমভাবে অসন্তোষ হয়েছে।

ত্রুটিপূর্ণ কাজ নিয়ে স্থানীয় ছাত্রনেতা সাজ্জাদ হোসেন লিপন সহ একাধিক নারী-পুরুষরা বলেন- সরকারি অর্থে নির্মিত সড়কের কাজটি সঠিক নিয়মে সম্পন্ন করতে হবে। চলমান কাজটি শেষ হওয়ার আগেই বিভিন্ন স্থানের ইট খুলে পড়ে যাচ্ছে। এ কাজের মান নিশ্চিত করার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। তাদের দাবি, জনগণের করের টাকায় নির্মিত সড়কের কাজে কোনো ধরনের অনিয়ম ও দুর্নীতি মেনে নেওয়া যায় না। ভবিষ্যতে এ সড়কটি টেকসই হবে কি-না, তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে এলাকাবাসী।

 

রূপসায় ইয়াদ আলী সড়কটিকে টেকসই সড়ক নির্মাণে ব্যাপক অনিয়ম ; চরম ক্ষোভে ফুঁসে উঠেছে জনতা

চলমান কাজের লেবার সরদার ও রাজমিস্ত্রী বলেন- এ রাস্তার সাইড ওয়ালের গাঁথুনি বালু মোটামোটি এবং ৬টা বলুর সাথে ১টা সিমেন্ট মিশ্রণ করে দিতে বলেছেন ঠিকাদার। আর ইটের মানতো দেখতেই পাচ্ছেন। তাদের কথায় ১নং ও দেড় নং ইটের দেখা না মিল্লেও ৩/৪ নং ইট দ্বারা সাইড ওয়াল নির্মিত সেটা দৃশ্যমান হয়েছে।

সাব অ্যাসিস্ট্যান্ট ইঞ্জিনিয়ার (SAE) আবু সালেহ মুসা আশিক কাজটি দেখা শোনার দায়িত্বে আছে। তিনি মুঠোফোনের মাধ্যমে জানান, বিভিন্ন কাজে ব্যস্ত থাকার কারণে মাত্র ৩ বার সাইড পরিদর্শন গিয়েছিলেন এবং ইটের মান খারাপ পেয়ে সে ইট ফেরত পাঠানো হয়ে ছিল। এর মধ্যে ৮% এর মত বিলও উঠিয়েছে ঠিকাদার।

উপজেলা প্রকৌশলী শোভন সরকার বলেন- রূপসায় (KDRIDP প্রকল্প) খুলনা বিভাগ পল্লী অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্পের কাজটি পেয়েছে ফারজানা এন্টারপ্রাইজ। সাইডের কাজটি প্রতিনিয়ত তদারকির দায়িত্বে অফিসের (SAE) আশিকে দেওয়া আছে। আমি সদ্য ফকিরহাট উপজেলায় বদলী হয়েছি। তার পরও জুন মাসের কারনে দুই উপজেলায় ডিউটি করতে হচ্ছে। ঠিকাদার সরকারি কাজে নিম্নমানের সামগ্রী দিয়ে কাজ করছে জানতে পেয়েছি। আমি পরিদর্শনে যাব এবং ইষ্টিমেট অনুযায়ী কাজ না করলে তার সমুদয় বিল পাস হবে না।

…… চলবে

জন্ম-মৃত্যু নিবন্ধন কার্যক্রম ত্বরান্বিত করতে রূপসায় দিনব্যাপী কর্মশালা অনুষ্ঠিত

//এম মুরশীদ আলী,  খুলনা//

জন্ম-মৃত্যু নিবন্ধন কার্যক্রমকে আরও গতিশীল, নির্ভুল ও জনবান্ধব কার্যক্রম ত্বরান্বিত করার জন্য করণীয় শীর্ষক কর্মশালা গত ১৭ জুন দিনব্যাপী

উপজেলা অফিসার্স ক্লাব মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত হয়েছে।

কর্মশালায় প্রধান অতিথি ও মুখ্য আলোচক হিসেবে বিশদ আলোচনা করেন স্থানীয় সরকার খুলনার উপ-পরিচালক ও অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক মো. আরিফুল ইসলাম। তিনি বলেন- শিশু জন্মের ৪৫ দিনের মধ্যে জন্ম নিবন্ধন করতে হবে। এ কারণে জন্ম-মৃত্যু নিবন্ধন টার্গেট দেওয়া থাকে যে, এক মাসের মধ্যে কতজন জন্মগ্ৰহন করেছেন এবং কতজন মৃত্যুবরণ করেছে তা নিবন্ধন করাটাই টার্গেট পূরণ হবে। এ বিষয়ে মাঠ পর্যায়ে তথ্য সংগ্রহ কাজ গতিসম্পন্ন ভাবে চালিয়ে যেতে হবে। পাশাপাশি বাল্যবিবাহ রোধে ইউনিয়ন পরিষদ সংশ্লিষ্ট সকলকে কাজ করতে হবে। জন্ম-মৃত্যু নিবন্ধন শুধু একটি প্রশাসনিক কার্যক্রম নয়, এটি একজন নাগরিকের রাষ্ট্রীয় পরিচয়ের ভিত্তি। একটি শিশুর জন্মের পর নির্ধারিত সময়ে সঠিক হালনাগাদ নিবন্ধন তথ্য সরকারের পরিকল্পনা প্রণয়ন জনসেবা প্রদান এবং জাতীয় তথ্যভাণ্ডার সমৃদ্ধ করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। এ ক্ষেত্রে জনপ্রতিনিধি, নিবন্ধক, প্রশাসন ও সাধারণ জনগণের সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন। সকলকে দায়িত্বশীলতার সঙ্গে কাজ করে শতভাগ জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধন নিশ্চিত করতে হবে।

জন্ম-মৃত্যু নিবন্ধন কার্যক্রম ত্বরান্বিত করতে রূপসায় দিনব্যাপী কর্মশালা অনুষ্ঠিত

রূপসা উপজেলা প্রশাসনের আয়োজনে জন্ম-মৃত্যু নিবন্ধন অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন রূপসা উপজেলা নির্বাহী অফিসার সানজিদা রিকতা। এসময় তিনি জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধন কার্যক্রমে বিদ্যমান সমস্যা ও সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা করেন এবং সেবার মানোন্নয়নে সকলের সমন্বিত উদ্যোগের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

কর্মশালায় বক্তব্য রাখেন- রূপসা উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ইফতেখারুল ইসলাম শামীম, উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা সাঈদুর রহমান, সহকারী প্রোগ্রামার ইমরান হোসেন, ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান আজিজুল ইসলাম নন্দু, ইলিয়াজ হোসেন, জিয়াউল ইসলাম গাজী, মাসুম বিল্লাহ, ইউপি সদস্য ফিরোজ মাহমুদ, ইউনিয়ন পরিষদ প্রশাসনিক কর্মকর্তা সৌমিক রায়, প্রদীপ কুমার সাহা, মোঃ শামীমুজ্জামান, শেখ আলমগীর হোসেন, মোঃ নাছির উদ্দীন প্রমুখ। কর্মশালায় বিভিন্ন ইউনিয়নের জনপ্রতিনিধি, প্রশাসনিক কর্মকর্তা ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিবর্গ অংশগ্রহণ করেন।

কর্মশালা শেষে উপস্থিত সকলের মাঝে গাছের চারা বিতরণ করেন প্রধান অতিথি।

রূপসায় বিজ্ঞান ও উদ্ভাবনী প্রদর্শনীতে এমপি হেলাল

//এম মুরশীদ আলী, খুলনা//

রূপসায় এডুকেশনাল এক্সিলেন্স সাপোর্ট স্কিম (EESS) এবং উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অধিদপ্তর আয়োজনে মেধা বিজ্ঞান উদ্যোগ ও উদ্ভাবনের দেশ, সবার আগে বাংলাদেশ। এ প্রতিপাদ্য সামনে রেখে বিজ্ঞান প্রকল্প শুরু ও উদ্ভাবনী ধারণা প্রদর্শনী কর্মসূচি গত ১২ জুন (শুক্রবার) দুপুরে উপজেলা পরিষদ চত্বরে অনুষ্ঠিত হয়েছে।

বিজ্ঞান প্রদর্শনীযে প্রধান অতিথির বক্তৃতা করেন- খুলনা-৪ আসনের সংসদ সদস্য এস কে আজিজুল বারী হেলাল। তিনি তাঁর বক্তব্যে বলেন, বর্তমান বিশ্ব দ্রুত পরিবর্তনশীল। এই পরিবর্তনের সাথে তাল মিলিয়ে এগিয়ে যেতে হলে শিক্ষার্থীদের বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিনির্ভর শিক্ষা গ্রহণ করতে হবে। কেবল বইয়ের পড়াশোনায় সীমাবদ্ধ না থেকে বাস্তবভিত্তিক জ্ঞান, গবেষণাধর্মী মানসিকতা এবং উদ্ভাবনী চিন্তা গড়ে তুলতে হবে। আজকের শিক্ষার্থীরাই আগামী দিনের বিজ্ঞানী, প্রকৌশলী, উদ্যোক্তা ও নেতৃত্বদানকারী শক্তি। তাই তাদের মেধা বিকাশের জন্য প্রয়োজন সঠিক দিকনির্দেশনা, আধুনিক শিক্ষা ব্যবস্থা এবং সুযোগ-সুবিধা। সরকার ও সমাজের সকল স্তরের মানুষ যদি একসাথে কাজ করে, তাহলে রূপসা উপজেলা শুধু নয়, পুরো দেশই একটি প্রযুক্তিনির্ভর ও উন্নত রাষ্ট্রে পরিণত হবে।

এছাড়াও তিনি শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে বলেন, ছোট ছোট উদ্ভাবনী ধারণাও ভবিষ্যতে বড় পরিবর্তনের সূচনা করতে পারে। তাই ভয় না পেয়ে নতুন কিছু চিন্তা করতে হবে, প্রশ্ন করতে হবে এবং পরীক্ষা-নিরীক্ষার মাধ্যমে নিজের দক্ষতা বাড়াতে হবে। বিজ্ঞানই পারে একটি জাতিকে এগিয়ে নিতে এবং আত্মনির্ভরশীল করতে।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন রূপসা উপজেলা নির্বাহী অফিসার সানজিদা রিকতা। স্বাগত বক্তব্য প্রদান করেন রূপসা উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা এস. এ. আনোয়ারুল কুদ্দুস।

মাধ্যমিক একাডেমিক সুপারভাইজার নিত্যানন্দ মণ্ডলের সঞ্চালনায় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন রূপসা থানার অফিসার ইনচার্জ আব্দুর রাজ্জাক মীর, খুলনা জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক খান জুলফিকার আলী জুলু, জেলা বিএনপির সদস্য শেখ আব্দুর রশিদ, রূপসা উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক মোল্যা সাইফুর রহমান, সদস্য সচিব জাবেদ হোসেন মল্লিক, জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক আতাউর রহমান রুনু, জেলা কৃষক দলের সাধারণ সম্পাদক শেখ আবু সাঈদ।

উপস্থিত ছিলেন- অধ্যক্ষ হিল্লোল মুখার্জি, ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ আনোয়ার হোসেন, খুলনা জেলা বিএনপির সদস্য আনিসুর রহমান বিশ্বাস, আরিফুর রহমান আরিফ, আছাফুর রহমান, উপজেলা বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক বিকাশ মিত্র, সমাজসেবক জাকির হোসেন জমাদ্দার, বিএনপি নেতা কবীর শেখ, রয়েল আজম, রবিউল ইসলাম রবি, জিয়াউল ইসলাম বিশ্বাস, ইলিয়াজ হোসেন, খান আনোয়ার হোসেন, মহিউদ্দিন মিন্টু, শরিফুল ইসলাম বকুল, মিকাইল বিশ্বাস, আজিজুর রহমান, দিদারুল ইসলাম, এছাড়াও বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রধান ও স্থানীয় নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

অনুষ্ঠানে বিভিন্ন বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা মোট ১৫টি স্টলে তাদের নতুন নতুন উদ্ভাবনী বিজ্ঞান প্রকল্প ও আইডিয়া প্রদর্শন করে। এতে শিক্ষার্থীদের সৃজনশীলতা ও প্রযুক্তিনির্ভর চিন্তার প্রকাশ ঘটে।