পরিস্কার পানিতে এডিস মশায় বিষ ! রূপসায় চিকিৎসক সংকট হাসপাতালে বাড়ছে রোগী; স্কুলছাত্রীসহ ৪ জনের মৃত্যু, কীট পরীক্ষায় বঞ্চিত পাবলিক

// এম মুরশীদ আলী //

হাসপাতালে রোগীর ভীড় দেখে বোঝা যাচ্ছে কোভিড-১৯ এর মত ছড়িয়ে পড়েছে ডেঙ্গুর ভয়াবহতা। ডেঙ্গু একটি ভাইরাসজনিত রোগ যা এডিস মশার মাধ্যমে ছড়ায়। এ লক্ষ্যে ঘরে ঘরে জ্বর, সর্দি-কাশি দেখা দিলেই চিকিৎসক ডেঙ্গু পরীক্ষার পরামর্শ দেন। এতে সামান্য জ্বর অসুস্থদের ভিতর ডেঙ্গুর ভয়-ভয় লাগলেও পরীক্ষা ছাড়া চিকিৎসা নেই।

রূপসায় আশঙ্কাজনক হারে ডেঙ্গু জ্বরের কারণ হচ্ছে- বর্ষা মৌসুমে থেমে থেমে বৃষ্টি এবং বৃষ্টির পানি ঘরের আশপাশে ফেলে দেওয়া পাত্র, ফুলের টব, ড্রাম, পরিত্যক্ত টায়ার ইত্যাদি এ সকল স্থানে পরিষ্কার পানি জমে এডিস মশার ডিম থেকে প্রজন্ম বৃদ্ধি পাচ্ছে। এই এডিস মশার কামড়ের বিষাক্ত বিষের তেজস্ক্রিয়তা মানুষের শরীরের ছড়িয়ে- মাথায় যন্ত্রণা, গিরেই-গিরেই ব্যথা, পেটে পানি জমা সহ তীব্র তাপদাহে জ্বরের সৃষ্টি। শরীরের ঐবিষ নিস্ক্রিয় হতে জ্বর থাকে ৭ দিনের মত, আর শরীরের পূর্ণ স্বাভাবিক হতে ১৫ থেকে ২০ দিনেরও বেশি সময় ক্লান্ত ক্লান্তিভাবে ভোগতে হয়। অন্যদিকে বেশ কিছু আক্রান্ত রোগী চিকিৎসকের পরামর্শ নিয়ে বাড়িতে চিকিৎসা নিচ্ছেন বলে জানা যায়। ডেঙ্গু আক্রান্তের নেই কোন বয়সের সীমা, ছোট্ট বাচ্চা থেকে বৃদ্ধ, তাছাড়া নার্স, ডাক্তারও আক্রান্ত হতে দেখা যাচ্ছে। এ ক্ষেত্রে দিনে ও রাতে ঘুমানোর সময় মশারি ব্যবহার এবং সামান্য জ্বর অনুভূত হলেই দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া আবশ্যক হয়।

পরিস্কার পানিতে এডিস মশায় বিষ ! রূপসায় চিকিৎসক সংকট হাসপাতালে বাড়ছে রোগী; স্কুলছাত্রীসহ ৪ জনের মৃত্যু, কীট পরীক্ষায় বঞ্চিত পাবলিক

ইতিমধ্যে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে রূপসার ঘাটভোগ ইউনিয়ন ধোপাখোলা গ্রামের যুবক দেব বিশ্বাস, খাজাডাঙ্গা গ্রামের স্কুলছাত্রী নাসিমা খাতুন এবং ভবানীপুর গ্রামের দুজনের মৃত্যু হয়েছে।

খুলনা জেলার ৯ টি উপজেলার মধ্যে রূপসা উপজেলায় সবচেয়ে বেশি ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত হচ্ছে। রূপসায় ৫ টি ইউনিয়নের মধ্যে নৈহাটি ইউনিয়নের গ্ৰামগুলির মানুষ বেশি আক্রান্ত হতে দেখা যাচ্ছে। কারন- জনবল বেশি, ঘনত্ব বসবাস, শ্রমিক এলাকায় সচেতনতার অভাব ইত্যাদি কারণে ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগী ব্যাপক হারে বেড়ে উঠায় এলাকাগুলো এডিস মশার হটস্পট হয়ে উঠেছে। অবহেলিত রূপসার অনেক জায়গায়ই মশক নিয়ন্ত্রণে ব্যবস্থা নেওয়ার মতো জনবল, যন্ত্র ও বাজেট নেই।

স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে যথাযথ পদক্ষেপ না নিলে রূপসায় আগস্ট, সেপ্টেম্বর থেকেও অক্টোবর আরো ভয়াবহ পরিস্থিতি রুপ নিতে পারে। এডিস মশার কামড়ে আক্রান্ত মানুষ প্রাণ হারালেও মশক নিধনে কার্যকর উদ্যোগের অভাব, অপরিকল্পিত রূপসা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে বাইরে চলে যেতে পারে বলে বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন। সিজনাল জ্বর থেকে সুস্থ হতে ঔষধের খরচ তেমন একটা নেই। কিন্তু ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত হলে সুস্থ হতে খরচ হচ্ছে ২ থেকে আড়াই হাজার টাকার মতো।

হাসপাতাল সূত্র জানা যায়, বছরের শুরু থেকে দেখা দিয়েছে ডেঙ্গু আক্রান্ত। এ বছর হাসপাতালে ৬৩১ জন ডেঙ্গু রোগীর ভর্তি ও  চিকিৎসা নেই। আর কীট পরীক্ষা ১৬৪৯টি দেওয়া হয়েছে। যেমন- জানুয়ারি মাসে ৩ জন, ফেব্রুয়ারি মাসে ২ জন, মার্চ ও এপ্রিলে মাসে ভর্তি নেই, মে মাসে ১০ জন, জুন মাসে ৪১ জন, জুলাই মাসে ৮১ জন, আগষ্ট মাসে ২৫০ জন, সেপ্টেম্বর মাসে ২৫৯ জন। সর্বমোট এ পর্যন্ত আক্রান্ত হয়েছেন ৬৩১ জন। এর মধ্যে পুরুষ ৩৬৪ জন এবং নারী ২৫৯ জন, শিশু ৮ জন।

আক্রান্তদের জন্য হাসপাতালে ফ্রী কীট স্বল্পতা থাকায় প্রতিদিন ২০-২৫ জনকে দেওয়া হয়। যেমন- মার্চ মাসে ১৪ টি, এপ্রিল মাসে ১২ টি, মে মাসে ৭টি, জুন মাসে নেই, জুলাই মাসে ১১৮টি, আগষ্ট মাসে ৭১০ টি, সেপ্টেম্বর মাসে ৭৮৮ টি। সর্বমোট ১৬৪৯টি কীট পরীক্ষা ফ্রী করা হয়েছে।

এই জরুরি মূহুর্তে রূপসায় বেসরকারি হাসপাতাল সিএসএস রেভা আব্দুল মেমোরিয়াল হাসপাতালে আংশিক রোগীর টিটমেন্ট ব্যতীত সরকারি-হাসপাতালে রোগীর চাপ অতিরিক্ত মাত্রায় বেড়েছে। ইতিমধ্যে সরকারি এ হাসপাতালে বিভিন্ন গ্ৰাম থেকে ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগী ভর্তি হচ্ছে। হঠাৎ করে রোগী চাপে চিকিৎসা ব্যবস্থায় অতিরিক্ত ডিউটিতে হিমশিম।

এ ব্যাপারে আবাসিক মেডিকেল অফিসার (R.M.O) ডাঃ খন্দকার এহসান হিমেল জানান, রূপসা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সটি ৫০ শয্যা বিশিষ্ট। এখানে সর্বোচ্চ ৫০ জন রোগীর জন্য ৩ শিফট মিলে ৪১ জন চিকিৎসকের মধ্যে ১২ জন বিশেষজ্ঞ এবং ২৩ জন মেডিকেল অফিসার থাকার কথা। সেখানে আছে ৬ জন বিশেষজ্ঞ এবং ১০ জন মেডিকেল অফিসার। আর স্বাস্থ্য সেবী/নার্স ৩০ জনের মধ্যে আছে ২৮ জন। হাসপাতালে রোগীর সংখ্যা হয় ৮০ থেকে ১০০রও অধিক, এ রোগীদের চিকিৎসা দিতে হিমশিম খেতে হয়। এরমধ্যে ডেঙ্গু জ্বরের পাশাপাশি হাম-রুবেলা, টাইফয়েট জ্বর, সিজনাল জ্বর, পাতলা পায়খানা, হিটস্ট্রোক, নিউমোনিয়া ইত্যাদি রোগের চিকিৎসা সেবা প্রদান করা হয়। প্রতিদিন সকাল ৯টা থেকে দুপুর গড়িয়েও হাসপাতালে ৩ টাকার সিলিপে ব্যাপক ভীড়ে বিভিন্ন রোগীর চিকিৎসা শেষে ভর্তি রোগীদের সেবাতো চলমান থেকে যায়।

উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার-পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাঃ মাজেদুল হক কাউসার বলেন- জ্বরে আক্রান্ত হয়ে ল্যাবরেটরিতে প্রতিদিন ৫০-৬০ জন রোগী ফ্রি ডেঙ্গু পরীক্ষা জন্য আসে, কিন্তু কীট স্বল্পতা থাকায় মাত্র ২৫ জন রোগী ডেঙ্গু পরীক্ষা সুযোগ পাচ্ছেন। বাকি ২৫-৩০ জন রোগী বাহিরে পরীক্ষায় যেতে হচ্ছে। কারণ- কর্তৃপক্ষ পর্যাপ্ত ডেঙ্গু কীট সরবরাহ না করায় রোগীদের আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন হতে হচ্ছে।

ডেঙ্গু রোগীর জন্য ৩ ধরনের পরীক্ষা আবশ্যই:

যেমন-  ১. (এন এস-১) ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত ফ্রী করেছে সরকার। সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ১২৩৬ টি পরীক্ষা করা হয়েছে।

২. (আই জি জি এবং আই জি এম) ৫৯০ টি পরীক্ষা স্বল্প মূল্য ৫০ টাকা করে নিয়ে দেওয়া হয়েছে।

৩. সি বি সি সেলকাউন্ড ৪/৫ বার টেষ্ট করানো লাগে।

এটা বেসরকারিভাবে রোগীকে বাহিরে করতে হচ্ছে, আপাতত সাপ্লাই নেই।

ডেঙ্গু প্রতিরোধে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা গুরুত্বপূর্ণ বিষয় ; সমাজের সর্বস্তরের মানুষকে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে …. রূপসায় জেলা প্রশাসক মিজ্ হুরে জান্নাত

//এম মুরশীদ আলী, খুলনা//

খুলনা জেলা প্রশাসক ও বিজ্ঞ জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মিজ্ হুরে জান্নাত বলেছেন, ডেঙ্গু প্রতিরোধে শুধু আক্রান্ত হওয়ার পর চিকিৎসা নিশ্চিত করলেই হবে না, এর আগেই ডেঙ্গুর সম্ভাব্য উৎস ও ঝুঁকিপূর্ণ স্থানগুলো চিহ্নিত করে কার্যকর ব্যবস্থা নিতে হবে। এ জন্য জেলা ও উপজেলা প্রশাসনের পাশাপাশি স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, স্বাস্থ্য বিভাগ, সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠান এবং সাধারণ মানুষের সম্মিলিত অংশগ্রহণ প্রয়োজন। ডেঙ্গু প্রতিরোধে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে নিয়মিতভাবে বিভিন্ন কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে। মাঠপর্যায়ে কোথায় পানি জমে আছে, কোথায় মশার প্রজননের তৈরি হচ্ছে এবং কোন এলাকাগুলোতে ঝুঁকি বেশি, এসব বিষয় চিহ্নিত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে হবে। শুধু অভিযান পরিচালনা করলেই দায়িত্ব শেষ হবে না, অভিযান পরবর্তী সময়ে পরিস্থিতি কতটা নিয়ন্ত্রণে এসেছে, সেটিও নিয়মিতভাবে পর্যবেক্ষণ করতে হবে। পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা ডেঙ্গু প্রতিরোধের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। বাড়ির আঙিনা, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, সরকারি-বেসরকারি অফিস, বাজার, সড়কের পাশসহ যেসব স্থানে পানি জমে থাকার সম্ভাবনা রয়েছে, সেসব স্থান নিয়মিত পরিষ্কার রাখতে হবে। দীর্ঘদিন ধরে পড়ে থাকা পাত্র, টায়ার, ডাবের খোসা, প্লাস্টিকের পাত্র কিংবা অন্য কোনো বস্তুতে পানি জমে থাকলে সেগুলো অপসারণ করতে হবে। নিজ নিজ অবস্থান থেকে মানুষ যদি এসব বিষয়ে সচেতন হয়, তাহলে ডেঙ্গুর প্রজননস্থল অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব হবে।

উপজেলা ও ইউনিয়ন পর্যায়ে ডেঙ্গু প্রতিরোধে চলমান কার্যক্রমকে আরও কার্যকর করতে স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। ইউনিয়ন পরিষদ, স্বাস্থ্য বিভাগ, কৃষি বিভাগ, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানসহ সংশ্লিষ্ট সরকারি দপ্তরগুলোকে পারস্পরিক সমন্বয়ের মাধ্যমে কাজ করতে হবে। কোন এলাকায় ডেঙ্গু আক্রান্তের সংখ্যা বৃদ্ধি পেলে দ্রুত সেই এলাকার পরিস্থিতি পর্যালোচনা করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। ডেঙ্গু প্রতিরোধে জনসচেতনতা তৈরির কোনো বিকল্প নেই। সাধারণ মানুষকে ডেঙ্গুর লক্ষণ, মশার প্রজননস্থল এবং প্রতিরোধের উপায় সম্পর্কে জানাতে নিয়মিত প্রচার-প্রচারণা চালাতে হবে। একই সঙ্গে জ্বর বা ডেঙ্গুর উপসর্গ দেখা দিলে অবহেলা না করে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে। তবে ডেঙ্গু নিয়ে আতঙ্কিত হওয়ারও প্রয়োজন নেই; সচেতনতা, সময়মতো চিকিৎসা এবং সম্মিলিত প্রতিরোধমূলক কার্যক্রমের মাধ্যমে পরিস্থিতি মোকাবিলা করা সম্ভব। প্রশাসন মাঠপর্যায়ে যে কার্যক্রম পরিচালনা করছে, তার সঙ্গে জনগণের অংশগ্রহণ যুক্ত হলে উদ্যোগগুলো আরও ফলপ্রসূ হবে। ডেঙ্গু একটি মশাবাহিত রোগ, তাই এর নিয়ন্ত্রণে স্বাস্থ্য বিভাগের চিকিৎসা কার্যক্রমের পাশাপাশি পরিবেশ ব্যবস্থাপনা ও মশার প্রজননস্থল ধ্বংসের বিষয়টি সমানভাবে গুরুত্ব দিতে হবে। কোথাও কোনো সমস্যা দেখা দিলে স্থানীয় পর্যায় থেকে দ্রুত তা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জানাতে হবে।

তিনি আরও বলেন, ডেঙ্গু প্রতিরোধ একটি চলমান কার্যক্রম। এটি কোনো নির্দিষ্ট সময়ের অভিযান নয়। বর্ষা ও বর্ষা-পরবর্তী সময়ে বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে নিয়মিতভাবে পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম, ঝুঁকিপূর্ণ স্থান চিহ্নিতকরণ, জনসচেতনতা সৃষ্টি এবং প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে। জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে উপজেলা প্রশাসনের মাধ্যমে মাঠপর্যায়ের কার্যক্রমের অগ্রগতি পর্যবেক্ষণ করা হবে। প্রয়োজন অনুযায়ী সংশ্লিষ্ট দপ্তর ও স্থানীয় পর্যায়ের প্রতিনিধিদের নিয়ে আরও কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হবে। ডেঙ্গু প্রতিরোধে প্রশাসন, জনপ্রতিনিধি ও স্বাস্থ্য বিভাগের পাশাপাশি শিক্ষক, শিক্ষার্থী, ব্যবসায়ী, সামাজিক সংগঠন এবং সাধারণ নাগরিক সবার দায়িত্ব রয়েছে। প্রত্যেকে নিজের বাড়ি, প্রতিষ্ঠান ও আশপাশের পরিবেশ পরিষ্কার রাখলে এবং অন্যদেরও সচেতন করলে ডেঙ্গুর ঝুঁকি কমানো সম্ভব। তাই আতঙ্ক নয়, সম্মিলিত উদ্যোগ ও দায়িত্বশীল আচরণের মাধ্যমেই ডেঙ্গু প্রতিরোধে কার্যকর ফলাফল নিশ্চিত করতে হবে।

তিনি গত ২৪ সেপ্টেম্বর সকালে রূপসা উপজেলার টিএসবি ইউনিয়ন পরিষদ আয়োজিত ডেঙ্গু মশাবাহিত ও অন্যান্য রোগ প্রতিরোধে সমন্বিত কার্যক্রম, পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা অভিযান ও সচেতনতামূলক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন।

সেমিনারে সভাপতিত্ব করেন রূপসা উপজেলা নির্বাহী অফিসার সানজিদা রিকতা। বিশেষ অতিথির বক্তৃতা করেন সহকারী কমিশনার ভূমি (অতিরিক্ত) এস এম নুরুন্নবী, জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের সহকারী কমিশনার মেহেদী হাসান, রূপসা থানা অফিসার ইনচার্জ তদন্ত মোহাম্মদ আব্দুস সবুর খান, টিএসবি ইউনিয়ন পরিষদ ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান মো. আছাফুর রহমান।

সেমিনার প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন ডাঃ ইব্রাহিম হাওলাদার। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন ইউনিয়ন পরিষদ সচিব মো. নাসির উদ্দিন। এসময় উপস্থিত ছিলেন টিএসবি ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক আহবায়ক খান আনোয়ার হোসেন, প্রধান শিক্ষক শাবানা, ইউপি সদস্য শফিকুল ইসলাম বাবু, ইনতাজ মোল্যা, হোসনেয়ারা পারভিন হেনা, নাজমা বেগম, বিএনপি নেতা শিহাবুল সরদার, সাজ্জাত হোসেন, জাহাঙ্গীর হালদার, নজরুল ইসলাম, জাকির শেখ, আকতার শেখ প্রমুখ।

এর পূর্বে তিনি নৈহাটি ইউনিয়ন ভূমি অফিস পরিদর্শন করে দেবীপুর এলাকায় কৃষক কার্ড বিতরণে তথ্য সংগ্রহ কার্যক্রম পরিদর্শন করেন। এসময় উপস্থিত ছিলেন রূপসা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা তরুন কুমার বালা ও অতিরিক্ত কৃষি অফিসার সুজিত মন্ডল।

এছাড়া তিনি রূপসা উপজেলা প্রশাসন আয়োজিত সরকারি দপ্তরসমূহের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ডি-নথির মাধ্যমে অফিসিয়াল পত্র নিষ্পত্তি সংক্রান্ত প্রশিক্ষণে প্রধান অতিথির বক্তৃতা করেন এবং রূপসা থানা, উপজেলা ভূমি অফিস ও আঠারোবেকী নদীর তীরে অবস্থিত আশ্রয়ন প্রকল্প পরিদর্শন করেন।

রূপসায় বিএনপির সমাবেশ ও বিক্ষোভ মিছিল অনুষ্ঠিত

//এম মুরশীদ আলী //

সন্ত্রাস ও নৈরাজ্যের প্রতিবাদে রূপসায় বিএনপি ও অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের উদ্যোগে সমাবেশ ও বিক্ষোভ মিছিল অনুষ্ঠিত হয়েছে। গত ২৩ সেপ্টেম্বর বিকেলে আইচগাতী সেনেরবাজার ঘাট এলাকায় এ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়।

প্রতিবাদ সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন খুলনা জেলা বিএনপির সদস্য শেখ আব্দুর রশিদ। সাবেক জেলা বিএনপি নেতা ও জেলা শ্রমিক দলের সভাপতি উজ্জল সাহার সভাপতিত্বে সমাবেশে বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন খুলনা জেলা বিএনপির সদস্য নাজমুস সাকিব পিন্টু, এম এ সালাম, শেখ আলী আজগর ও জেলা যুবদল নেতা আয়ূব মোল্যা।

রূপসায় বিএনপির সমাবেশ ও বিক্ষোভ মিছিল অনুষ্ঠিত

সমাবেশটি সঞ্চালনা করেন উপজেলা যুবদলের আহ্বায়ক শফিকুল ইসলাম বাচ্চু ও খুলনা জেলা জিয়া শিশু-কিশোর সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক মোল্যা মেজবাউল ইসলাম।

এ সময় বক্তব্য রাখেন বিএনপি নেতা এসএম সবুর রাজীব, বিএনপি নেতা শফিকুল ইসলাম, অ্যাডভোকেট শহিদুল ইসলাম, শ্রমিক দল নেতা আঃ কুদ্দুস, বিএনপি নেতা দেলোয়ার হোসেন মুন্সী, দুলাল আকন, চৌধুরি সেলিম, জামাল মোল্যা, মাসুদুর রহমান, মনির আহম্মেদ লস্কর, মনিরুল ইসলাম, আমিনুল ইসলাম লিটু, রনি লস্কর, শেখ মাসুদুর রহমান, হিরন চৌধুরি, বিল্লাল চৌধুরী, রাজীব শেখ, বাকি বিল্লাহ, মিঠুন শেখ, সেলিম চৌধুরী, হাফিজুর শেখ, শেখ মোহাম্মদ, ডা. খান আলমগীর বাবর, ইয়াসিন আরাফাত, আলামিন, নাজমুস সাকিব ও আশিকুজ্জামান মিঠুন প্রমুখ।

সমাবেশ শেষে নেতাকর্মীরা একটি বিক্ষোভ মিছিল বের করেন। মিছিলটি সেনেরবাজার এলাকার বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে। এ সময় তারা সন্ত্রাস ও নৈরাজ্যের প্রতিবাদে বিভিন্ন স্লোগান দেন।

বিএনপি শিক্ষাবান্ধব সরকার, তাই শিক্ষার্থীদের পাঠ্যবইয়ের পাশাপাশি নৈতিক শিক্ষা, শৃঙ্খলা, দেশপ্রেম ও মানবিক মূল্যবোধের চর্চা করতে হবে …… রূপসায় এমপি আজিজুল বারী হেলাল

//এম মুরশীদ আলী//

খুলনা-৪ আসনের সংসদ সদস্য এস কে আজিজুল বারী হেলাল বলেছেন, বিএনপি শিক্ষাবান্ধব সরকার, শিক্ষার্থীদের আধুনিক ও মানসম্মত শিক্ষা নিশ্চিত করতে বদ্ধপরিকর। বিএনপি বিশ্বাস করে, একটি দেশের প্রকৃত উন্নয়ন ও অগ্রগতির মূল ভিত্তি হলো শিক্ষা। তাই শিক্ষার্থীদের মানসম্মত ও আধুনিক শিক্ষায় শিক্ষিত করে গড়ে তুলতে বিএনপি সবসময় কাজ করে এসেছে এবং ভবিষ্যতেও করবে। আমরা চাই আমাদের শিক্ষার্থীরা শুধু পরীক্ষায় ভালো ফলাফল করুক, এটাই আমাদের লক্ষ্য নয়। তারা যেন প্রকৃত শিক্ষা গ্রহণ করে জ্ঞান, মেধা, নৈতিকতা ও মানবিক মূল্যবোধে সমৃদ্ধ হয়ে দেশ-বিদেশে বাংলাদেশের নাম উজ্জ্বল করতে পারে, সেটিই আমাদের প্রত্যাশা। শিক্ষার্থীদের নিজেদের যোগ্য নাগরিক হিসেবে গড়ে তুলতে হলে পাঠ্যবইয়ের পাশাপাশি নৈতিক শিক্ষা, শৃঙ্খলা, দেশপ্রেম ও মানবিক মূল্যবোধের চর্চা করতে হবে।

তিনি বলেন সাবেক প্রধানমন্ত্রী মরহুম বেগম খালেদা জিয়া সবসময় শিক্ষার গুরুত্ব দিয়েছেন। তাঁর নেতৃত্বাধীন বিএনপি সরকার শিক্ষার প্রসার, শিক্ষার্থীদের সুযোগ সুবিধা বৃদ্ধি এবং শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের অবকাঠামোগত উন্নয়নে বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণ করেছিল। শিক্ষিত ও দক্ষ প্রজন্ম গড়ে তোলার মাধ্যমে একটি সমৃদ্ধ বাংলাদেশ নির্মাণই বিএনপির অন্যতম লক্ষ্য। শুধু জ্ঞান অর্জন করলেই হবে না, অর্জিত জ্ঞানকে শ্রদ্ধা ও দায়িত্ববোধের সঙ্গে কাজে লাগাতে হবে। শিক্ষা মানুষের মধ্যে বিনয়, বিবেক ও দায়িত্ববোধ তৈরি করে। একজন শিক্ষার্থী যখন প্রকৃত শিক্ষায় শিক্ষিত হবে, তখন সে শুধু নিজের ভবিষ্যৎ নয়, পরিবার, সমাজ ও দেশের ভবিষ্যৎও পরিবর্তনে ভূমিকা রাখতে পারবে।

তিনি আরও বলেন, শিক্ষার্থীদের আধুনিক শিক্ষার সুযোগ নিশ্চিত করতে বিদ্যালয়ে কম্পিউটার ও প্রয়োজনীয় প্রযুক্তি সুবিধা বৃদ্ধি, নিরাপদ ও সুপেয় পানির জন্য ওয়াটার রিফাইং মেশিন স্থাপন, সমৃদ্ধ লাইব্রেরির জন্য প্রয়োজনীয় বই-পুস্তক সরবরাহসহ বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কার্যক্রম গ্রহণ করা হবে।শিক্ষার্থীদের জ্ঞানচর্চার পাশাপাশি তাদের শারীরিক ও মানসিক বিকাশের দিকেও গুরুত্ব দিতে হবে।

শুধু বইয়ের মধ্যে শিক্ষার্থীদের আটকে রাখলে চলবে না। খেলাধুলা তাদের মন ও মানসিকতা বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। তাই বিদ্যালয়ের মাঠ উন্নয়ন ও খেলাধুলার উপযোগী পরিবেশ তৈরি করাও জরুরি। শিক্ষার্থীরা যাতে নিয়মিত খেলাধুলা ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডে অংশগ্রহণ করতে পারে, সে বিষয়েও প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়া হবে। আমাদের সন্তানদের জন্য একটি সুন্দর, নিরাপদ ও আধুনিক শিক্ষার পরিবেশ নিশ্চিত করতে হবে। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক, অভিভাবক, শিক্ষার্থী ও স্থানীয় জনগণকে সঙ্গে নিয়ে সম্মিলিতভাবে কাজ করলে একটি আদর্শ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলা সম্ভব। ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে যোগ্য, দক্ষ ও দেশপ্রেমিক নাগরিক হিসেবে গড়ে তুলতে সবাইকে নিজ নিজ অবস্থান থেকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে।

তিনি আজ ১৮ সেপ্টেম্বর (শুক্রবার) সকালে রূপসা উপজেলার টিএসবি ইউনিয়নের কিশোর কল্যাণ মাধ্যমিক বিদ্যালয় কতৃক আয়োজিত বিদ্যালয়ের শিক্ষক মিলনায়তন ও সীমানা প্রাচীর উদ্বোধন উপলক্ষে মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে একথা বলেন।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তৃতা করেন রূপসা উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা এসএ আনোয়ারুল হক, প্রকৌশলী মাহমুদুল হাসান, মেহেদি হাসান, জেলা বিএনপির যুগ্ম আহবায়ক খান জুলফিকার আলি জুলু, মোল্যা খায়রুল ইসলাম, জিএম কামরুজ্জামান টুকু, উপজেলা বিএনপির আহবায়ক মোল্যা সাইফুর রহমান, জেলা বিএনপির সদস্য আনিছুর রহমান, আরিফুর রহমান আরিফ, মোল্যা রিয়াজুল ইসলাম, আছাফুর রহমান, রূপসা উপজেলার বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম আহবায়ক বিকাশ মিত্র,টিএসবি ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক আহবায়ক খান আনোয়ার হোসেন, সাবেক সদস্য সচিব আজিজুর রহমান।

সভায় সভাপতিত্ব করেন অত্র বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি আশরাফুজ্জামান জমাদ্দার (বাদশা) এবং সঞ্চালনায় ছিলেন বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক নকিব উদ্দীন আজাদ।

বক্তৃতা করেন জেলা মহিলাদল নেত্রী শাহনাজ ইসলাম, বিএনপি নেতা হুমায়ূন কবীর, এসএম আঃ মালেক, মহিউদ্দিন মিন্টু, দিদারুল ইসলাম, মিকাইল বিশ্বাস, খন্দকার শরিফুল ইসলাম, কামরুল ইসলাম কচি, ফিরোজ মাহমুদ, মহিতোষ ভট্টাচার্য, শিক্ষক খায়রুল জমাদ্দার, খালেদ মাহমুদ, ইশমতআরা ইয়াসমিন, গোবিন্দ প্রসাদ দাস, লুবনা আক্তার, ওয়াসিম সানা, আ: কাদের জমাদ্দার, আঃ করিম মোড়ল, বিধান চন্দ্র রায়, রবিক জমাদ্দার, রানা আহম্মেদ, সুকুমার ঘোষ, রুমা আক্তার, জেলা স্বেচ্ছাসেবক দল নেতা রেজাউল ইসলাম রেজা, বিএনপি নেতা শ,ম হাসিবুর রহমান, সাবেক ছাত্রনেতা মুন্না সরদার, খান আলিম হাসান, মাসুদ খান, আরিফ মোল্যা,  শাহজামান প্রিন্স, কামরুজ্জামান নান্টু, মহিলা দল নেত্রী রহিমা আক্তার নয়ন, বিএনপি নেতা জহিরুল হক শারাদ, তরিকুল ইসলাম রিপন, ইসরাইল বাবু, শিহাবুল ইসলাম, এসএম আবু সাঈদ, রাজু দাস, জাহাঙ্গীর হালদার, মোকাররম হোসেন, টিটো জমাদ্দার, শফিক ঢালি, ইউনিয়ন সহযোগী সংঠনের নেতা নাঈম আহম্মেদ, খান ওলিয়ার রহমান, হাফিজুর রহমান, বিএনপি নেতা জিএম হিরোক, জাহিদ শেখ, সাবু জমাদ্দার, শাহিনুর রহমান,  গোলাম রসুল, ইব্রাহিম শেখ, ওয়ালিদ শেখ, লাভলু শেখ প্রমূখ। এরপর এমপি আজিজুল বারী হেলাল গোয়ালবাথান-গিলাতলা ৩ নং ওয়ার্ড বিএনপির নেতৃবৃন্দের সাথে মতবিনিময় করেন। পরিশেষে তিনি নৈহাটি ইউনিয়নের অচিনতলা মাদ্রাসায় অনুষ্ঠিত ওয়াজ মাহফিলে অতিথি হিসাবে উপস্থিত হন।

কর্মকর্তা শূন্য রূপসা উপজেলা পরিষদ: ‘ধার-দেনা’ কর্মকর্তা ও জোড়াতালির প্রশাসনে নাগরিক সেবা স্থবির

//এম মুরশীদ আলী//

তৃণমূলের দোরগোড়ায় সরকারি সেবা পৌঁছে দিয়ে সাধারণ মানুষের জীবনমান উন্নয়নের লক্ষ্য নিয়ে গঠিত হয়েছিল উপজেলা পরিষদ। সরকারি নিয়মে সপ্তাহে ৫ দিন পূর্ণাঙ্গ দাপ্তরিক সেবা দেওয়ার কথা থাকলেও খুলনার রূপসা উপজেলায় চিত্রটি সম্পূর্ণ বিপরীত। রূপসা উপজেলা পরিষদের নিয়ন্ত্রণাধীন গুরুত্বপূর্ণ ১৭টি দপ্তরসহ ৩৩টি সরকারি দপ্তরের অধিকাংশই এখন অভিভাবকশূন্য। স্থায়ী কর্মকর্তার অভাবে অন্য উপজেলা থেকে ‘ধার-দেনা’ করে আনা অতিরিক্ত দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা কিংবা নিচের পদের কর্মচারীদের দিয়ে কোনোমতে জোড়াতালি দিয়ে চলছে কার্যক্রম। এতে সেবা নিতে এসে মাসের পর মাস চরম ভোগান্তি ও হয়রানির শিকার হচ্ছেন সাধারণ মানুষ।

উপজেলা প্রশাসনের বিভিন্ন দপ্তর ঘুরে দেখা গেছে, অধিকাংশ টেবিলেই দায়িত্বপ্রাপ্ত শীর্ষ কর্তারা অনুপস্থিত। সেবাগ্রহীতারা কোনো কাজে দপ্তরে গেলে সহকারীরা মুখস্থ উত্তর ছুঁড়ে দেন ! ‘স্যার- জেলা অফিসে মিটিংয়ে আছেন’ অথবা ‘ট্রেনিংয়ে গেছেন’। সপ্তাহে পাঁচ দিন কর্মদিবস নির্ধারিত থাকলেও জেলা অফিসের কাজের বাহানায় অনেকেই এক থেকে দুই দিন কর্মস্থলে অনুপস্থিত থাকছেন। ফলে সাধারণ মানুষ প্রয়োজনীয় সেবা থেকে বঞ্চিত হয়ে ক্ষোভে ফুঁসছেন। স্থানীয়দের প্রশ্ন—উপজেলা পর্যায়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের এই ঢিলেঢালা উপস্থিতির বিষয়টি জেলা পর্যায়ের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ আদৌ তদারকি করেন কি না?

দপ্তরগুলোর বেহাল দশা ও জোড়াতালির প্রশাসন সহকারী কমিশনার (ভূমি) কার্যালয়: রূপসা উপজেলায় স্থায়ী সহকারী কমিশনার (ভূমি) নেই। তেরখাদা উপজেলার এসিল্যান্ড এস এম নুরুন্নবীকে অতিরিক্ত দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে, যিনি সপ্তাহে মাত্র ২ দিন এখানে বসেন। ফলে ভূমিসংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ সেবা নিতে এসে মানুষ চরম বিড়ম্বনায় পড়ছেন।

উপজেলা প্রাণিসম্পদ দপ্তর ও ভেটেরিনারি হাসপাতাল :

কর্মকর্তা ড. আহসান হাবীব প্রামাণিক পদোন্নতি পেয়ে গত ১৩ আগস্ট বদলি হন। এরপর থেকে বটিয়াঘাটা উপজেলার প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. তরিকুল ইসলাম অতিরিক্ত দায়িত্ব হিসেবে সপ্তাহে মাত্র ২ দিন রূপসায় দায়িত্ব পালন করছেন। এতে করে খামারিরা সময়মতো সেবা পাচ্ছেন না।

উপজেলা হিসাবরক্ষণ অফিস:

সম্প্রতি ফকিরহাট উপজেলার হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তা অতিরিক্ত হিসেবে রূপসায় ২৮ দিন দায়িত্ব পালন করে গেছেন। এরপর দাকোপ উপজেলার কর্মকর্তা মো. মনিরুল ইসলামকে সপ্তাহে ২ দিনের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।

জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর:

এখানকার প্রকৌশলী জয় প্রকাশ মজুমদার গত চার মাস ধরে প্রশিক্ষণে আছেন। তবে দীর্ঘদিনেও তাঁর স্থলে কোনো অতিরিক্ত কর্মকর্তা পদায়ন করা হয়নি। উপসহকারী প্রকৌশলী মো. রাসেল দায়িত্ব পালনে হিমশিম খাচ্ছেন ।

প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার (পিআইও) কার্যালয়:

গ্রামীণ উন্নয়ন ও ত্রাণ কার্যক্রমের অন্যতম প্রধান এই কার্যালয়ে স্থায়ী কর্মকর্তা নেই। তেরখাদা উপজেলার পিআইও হানিফ শিকদার সপ্তাহে মাত্র ১ দিন এসে কোনোমতে ফাইল সই করছেন।

সাব-রেজিস্ট্রার কার্যালয়: রূপসার সাবেক সাব-রেজিস্ট্রার পদোন্নতি পেয়ে গত ৬ আগস্ট ভূমি উন্নয়ন প্রকল্প অটোমেশন অফিসে যোগদান করেন। এরপর ফুলতলা উপজেলার সাব-রেজিস্ট্রার মো. তুষার আলমকে সপ্তাহে ২ দিনের জন্য অতিরিক্ত দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। জমি রেজিস্ট্রেশন করতে এসে দূর-দূরান্তের মানুষ চরম ভোগান্তিতে পড়ছেন।

আইসিটি অধিদপ্তর:

উপজেলা আইসিটি কার্যালয়ের সহকারী প্রোগ্রামার মো. ইমরান হোসেনের বিরুদ্ধে নিয়মিত গড়হাজির থাকার অভিযোগ দীর্ঘদিনের। তাঁর অন্য কোনো উপজেলায় অতিরিক্ত দায়িত্ব না থাকলেও  মাঝেমধ্যে তাকে অফিসে পাওয়া যায় না বলে ভুক্তভোগীর অভিযোগ।

উপজেলা ভূমি অফিস (সার্ভেয়ার) :

এই দপ্তরের সার্ভেয়ার জেলা অফিস থেকে সপ্তাহে মাত্র ২ দিন আসেন। তবে অভিযোগ রয়েছে, সেই দুই দিনেও তাঁকে ঠিকমতো পাওয়া যায় না।

অন্য উপজেলায় দায়িত্ব পালন ও প্রশাসনিক সংকট। এদিকে রূপসার কর্মকর্তারাও অন্য উপজেলায় অতিরিক্ত দায়িত্ব পালন করায় রূপসার অফিস ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। রূপসা উপজেলা আনসার ও ভিডিপি কর্মকর্তা অজিত কুমার ঘোষকে সপ্তাহে ২ দিন খুলনা খানজাহান আলী থানা কার্যালয়ে ডিউটি করতে হয়। ফলে রূপসার নির্ধারিত কর্মদিবসের দুই দিন তিনি অনুপস্থিত থাকেন। একইভাবে রূপসা উপজেলা পল্লী উন্নয়ন কর্মকর্তা তারেক ইকবাল আজিজ সপ্তাহে ২ দিন অতিরিক্ত দায়িত্ব পালন করছেন তেরখাদায়।

এদিকে রূপসা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও উপজেলা পরিষদ প্রশাসক—এই দুটি গুরুত্বপূর্ণ পদের দায়িত্বে আছেন সানজিদা রিক্তা। তিনি বর্তমানে বেশ কিছুটা অসুস্থ থাকলেও জনসেবা করার আপ্রাণ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন।

অতিরিক্তরা রূপসা অফিসে সপ্তাহে কোনদিন থাকবেন, তা দপ্তরে নেই দিন-ক্ষন। এতে করে জনসাধারণ বিভিন্ন সেবায় ফলপ্রসু সেবা পাচ্ছেন বলে ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়ায় দেখা দিয়েছে। তাছাড়া কোন কোন দপ্তরের কর্মকর্তা সকাল ৯ টায় অফিস টাইম থাকলেও আসেন ১০ টার পরে এবং বিকাল ৪ টা পর্যন্ত অফিস করার সময় থাকলেও চলে যান চারটার পূর্বে। ফলে দূর-দূরান্ত থেকে সেবাগ্রহীতারা এসে ফিরে যাচ্ছেন শূন্য হাতে।

এ ব্যাপারে উপজেলা নির্বাহী অফিসার সানজিদা রিক্তা জানান, সময় মত অফিসে আসা এবং বিকাল ৪ টা পর্যন্ত অফিসে দায়িত্ব পালন করার ব্যাপারে নজর দেওয়া হবে এবং যেসব দপ্তরে কর্মকর্তা নাই তা ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাকে অবহিত করা হয়েছে। অফিস শেষে গুরুত্বপূর্ণ দপ্তরগুলোতে দ্রুত স্থায়ী কর্মকর্তা পদায়ন করে উপজেলার সার্বিক প্রশাসনিক স্থবিরতা কাটানোর জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের আশু হস্তক্ষেপ দাবি করেছেন রূপসাবাসী।

প্রাকৃতিক জলাশয়, খাল-বিলে পোনা মাছ অবমুক্ত করণে রূপসায় এমপি আজিজুল বারী হেলাল

//এম মুরশীদ আলী//

খুলনা-৪ আসনের সংসদ সদস্য এসকে আজিজুল বারী হেলাল বলেছেন, দেশের নদী-খাল, বিল, প্লাবন ভূমি ও জলাশয় আমাদের প্রাকৃতিক সম্পদ। এসব জলাশয় রক্ষা করা শুধু মৎস্য উৎপাদন বৃদ্ধির জন্য নয়, বরং কৃষি, পরিবেশ, জীববৈচিত্র্য ও সাধারণ মানুষের জীবন-জীবিকার স্বার্থে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠী অবৈধভাবে সরকারি খাল, বিল বা জলাশয় দখল করে রাখবে এটি বিএনপি সরকার কোনোভাবে মেনে নেবে না। দখল ও ভরাটের কারণে অনেক জলাশয়ের পানি প্রবাহ বন্ধ হয়ে যাচ্ছে এবং মাছের স্বাভাবিক প্রজনন ও বিচরণক্ষেত্র নষ্ট হচ্ছে। তাই অবৈধ দখলে থাকা জলাশয়গুলো চিহ্নিত করে জনগণ ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী কঠোর হয়ে সেগুলো রক্ষা করতে হবে। উদ্ধার জলাশয়গুলোকে কীভাবে সংরক্ষণ ও উৎপাদনশীল কাজে ব্যবহার করা যায়, সে বিষয়ে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা করতে হবে।

খাল-বিলের পানি প্রবাহ স্বাভাবিক রাখতে হবে। যাতে বর্ষার পানি স্বাভাবিকভাবে প্রবাহিত হতে পারে এবং প্লাবন ভূমিতে দেশীয় মাছ প্রজনন বেড়ে ওঠার সুযোগ পায়। এতে একদিকে জলাবদ্ধতা কমবে, অন্যদিকে প্রাকৃতিক মাছের উৎপাদন বৃদ্ধি পাবে।

তিনি আরো বলেন, খাল-বিলসহ প্রাকৃতিক জলাশয়ে একসময় দেশীয় বিভিন্ন প্রজাতির প্রচুর পরিমানে মাছ পাওয়া যেত। বর্তমানে জলাশয় ভরাট, দখল, দূষণ, অতিরিক্ত আহরণ ও অবৈধভাবে মাছ ধরার কারণে দেশীয় মাছ কমে গেছে। এ অবস্থার পরিবর্তন করতে হলে মৎস্যসম্পদের প্রাকৃতিক আবাসস্থল রক্ষা করতে হবে। মাছের অভয়াশ্রম ও প্রজননক্ষেত্র সংরক্ষণ করতে হবে এবং প্রজনন মৌসুমে মাছ ধরার ক্ষেত্রে সরকারি বিধিনিষেধ যথাযথভাবে বাস্তবায়ন করতে হবে। আজ যে পোনা জলাশয়ে অবমুক্ত করা হচ্ছে, এগুলো আমাদের ভবিষ্যৎ মৎস্যসম্পদের একটি অংশ। এই পোনাগুলো যাতে নিরাপদে বেড়ে উঠতে পারে, সেজন্য স্থানীয় জনগণকেও দায়িত্ব নিতে হবে। কেউ যেন অবৈধ জাল ব্যবহার করে মাছের পোনা নিধন না করে এবং বিষ বা কারেন্ট জাল দিয়ে মাছ শিকার না করে সেদিকে সবাইকে নজর রাখতে হবে। প্রাকৃতিক সম্পদ ও মৎস্যসম্পদ রক্ষায় আমাদের সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে।

তিনি আরও উল্লেখ করেন, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান দেশের কৃষি, মৎস্য ও গ্রামীণ অর্থনীতিকে শক্তিশালী করতে খাল খননের যে যুগান্তকারী নীতি গ্রহণ করেছিলেন, সেটি ছিল মানুষের জীবন-জীবিকা ও দেশের অর্থনীতির সঙ্গে সরাসরি সম্পৃক্ত একটি দূরদর্শী উদ্যোগ। সেই নীতির ধারাবাহিকতায় বিএনপির চেয়ারম্যান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে বর্তমানে খাল খনন ও পুনঃখননের কার্যক্রম এগিয়ে যাচ্ছে।

খাল খনন মানে শুধু পানি চলাচলের পথ তৈরি করা নয়, এর সঙ্গে কৃষি, মৎস্য, পরিবেশ ও মানুষের জীবিকা সরাসরি জড়িত। বর্ষায় প্রাকৃতিকভাবে বিভিন্ন প্রজাতির মাছ খাল-বিলে প্রবেশ করতে পারে, পোনা মাছ বেড়ে ওঠার পরিবেশ তৈরি হয় এবং দেশীয় মাছের উৎপাদন বৃদ্ধি পায়। এতে জেলে ও মৎস্যজীবী মানুষের আয় ও কর্মসংস্থান বাড়ার পাশাপাশি সাধারণ মানুষের জন্য সহজলভ্য হবে মাছের যোগান। তাই খাল খননের পাশাপাশি খালগুলোকে দখল ও দূষণমুক্ত রাখা এবং মৎস্যসম্পদের প্রাকৃতিক প্রজননক্ষেত্র সংরক্ষণে সবাইকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে।

শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের হাতে গড়া বিএনপি সবসময় কৃষক, শ্রমিক, জেলে ও সাধারণ মানুষের অধিকার ও অর্থনৈতিক উন্নয়নের কথা বলে, বিএনপি জনগণের দল। রাষ্ট্রের সম্পদ ও সরকারি সুযোগ-সুবিধা কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর স্বার্থে নয়, এগুলো জনগণের কল্যাণে ব্যবহার নিশ্চিত করতে হবে। তাই শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার আদর্শ বুকে ধারণ করে আমাদের সকলকে জনগণের অধিকার নিশ্চিত করার জন্য কাজ করে যেতে হবে। স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা ও জনসম্পৃক্ততার মাধ্যমে একটি জনবান্ধব রাষ্ট্রব্যবস্থা গড়ে তোলাই একমাত্র বিএনপির লক্ষ্য।

তিনি গত ১৪ সেপ্টেম্বর দুপুরে রূপসা উপজেলা মৎস্য অফিসের আয়োজনে ২০২৬-২৭ অর্থবছরে মৎস্য অধিদপ্তরের রাজস্ব বাজেটের আওতায় প্লাবন ভূমি, বর্ষাপ্লাবিত ধান ক্ষেত ও প্রাতিষ্ঠানিক জলাশয়ে পোনা মাছ অবমুক্তকরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন। প্রধান অতিথি মোট ১৬টি জলাশয়ে মৎস্য পোনা বিতরণ শেষে ঘাটভোগ ইউনিয়নের পুঁটিমারি খাল, উপজেলা পরিষদ চত্বর ও রূপসা থানা পুকুরে পোনা মাছ অবমুক্ত করেছেন।

এসময় উপস্থিত ছিলেন রূপসা থানা অফিসার ইনচার্জ মো. আনোয়ার জাহিদ, উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা জ্যোতি কনা দাস, রূপসা থানা পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) মোহাম্মদ আব্দুস সবুর খান, খুলনা জেলা বিএনপির যুগ্ম আহবায়ক খান জুলফিকার আলি জুলু, উপজেলা বিএনপির আহবায়ক মোল্য সাইফুর রহমান, সদস্য সচিব জাবেদ হোসেন মল্লিক, জেলা বিএনপির সদস্য আনিচুর রহমান, আরিফুর রহমান, মোল্যা রিয়াজুল ইসলাম, আছাফুর রহমান, উপজেলা বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম আহবায়ক বিকাশ মিত্র, জেলা যুবদলের যুগ্ম আহবায়ক গোলাম মোস্তফা তুহিন, উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহবায়ক হুমায়ুন কবীর, ইলিয়াজ হোসেন, খান আনোয়ার হোসেন, মহিউদ্দিন মিন্টু, দিদারুল ইসলাম, মিকাইল বিশ্বাস, ফিরোজ মাহমুদ, শামীম হাসান, খান আলিম হাসান, জাহিদুল ইসলাম রবি, মোকাররম হোসেন, তরিকুল ইসলাম রিপন, এসএম আবু সাঈদ, নাঈম আহম্মেদ, মোস্তাহিন শিকদার, গোলাম রসূল, জাহিদ শেখ প্রমূখ।

রূপসায় সাংবাদিকের ছেলেকে ডেকে গুম এবং কুপিয়ে জখম করেছে এক জাসাস নেতা

//এম মুরশীদ আলী//

রূপসায় সাংবাদিকের ছেলে কু-প্রস্তাবে রাজি না হওয়ায় ডেকে নিয়ে ১ রাত গুম এবং পারের দিন কুপিয়ে জখম করে এক জাসাস নেতা। তাঁর বিরুদ্ধে থানায় অভিযোগ দায়ের।

অভিযোগ পত্রে উল্লেখ- সাংবাদিক মো. বাবর হোসেন বাকী, জাতীয় দৈনিক আমার দেশ পত্রিকায় রূপসা প্রতিনিধি এবং রূপসা উপজেলা প্রেসক্লাবের দপ্তর সম্পাদক। তিনি বলেন- আমার ছেলে আব্দুল্লাহ যোবায়ের খুলনা প্রকৌশলী কলেজে অধ্যায়নরত। তাকে  আনন্দনগর গ্ৰামের জাসাস নেতা শাহজালাল লস্কর, গত ৮ সেপ্টেম্বর মোবাইলে ডেকে নিয়ে রাতে খাওয়া-দাওয়া শেষ নিজের বসত ঘরে ঘুমিয়ে রাখে। ঐসময় ছেলের কাছে ২টি দামি মোবাইল ফোন ছিল। যার একটি হলো অপ্পো ফেক্সজিড, মূল্য- ১ লক্ষ ২০ হাজার টাকা, আর একটি অপ্পো মোবাইল আনুমানিক মূল্য ২০ হাজার টাকা সহ নগদ অর্থ কেড়ে নেয়। এর

পরের দিন গত ৯ সেপ্টেম্বর সকাল ৯ টায় দিকে ঘরে আটকিয়ে পরিকল্পিত ভাবে গলায় চাপাটি ধরে হত্যার ভয় দেখিয়ে স্বীকারোক্তি হিসেবে ভিডিও ধারণ করে এবং চোর সাব্যস্ত করে বলে আমি যা বলবো তাই স্বীকার করবি। ঐ সময় শেখানো কথা বলতে ছেলে অস্বীকৃতি জানালে তার পায়ে কুপিয়ে জখম সহ মারপিটে করে রাস্তার পাশে ফেলে যায়। রোডে চলাচলরত অজ্ঞাত এক ভ্যান চালক তুলে নিয়ে রূপসা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা জন্য ভর্তি করেন। ঘটনার পরবর্তীতে শাহজালাল লস্কর আমার মোবাইলে ভয়েস কল পাঠায় যে ছেলে তার কাছে আছে কিন্তু মারপিটের বিষয়ে জানতে পায় হাসপাতাল সূত্রে।

তিনি আরো উল্লেখ করেন- জাসাস নেতা শাহজালাল লস্কর দল থেকে বহিষ্কৃত। সে

আমার ছেলেকে বিভিন্ন প্রলোভন দেখিয়ে শিক্ষা জীবনটি নষ্ট করছে জানতে পেয়ে তাৎক্ষণিক খুলনা জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক, খুলনা জেলা পরিষদ প্রশাসক মনিরুল হাসান বাপ্পীর কাছে নালিশ করি। পরবর্তীতে তিনি শাহজালাল লস্করকে ডেকে শাসায় যে, আর কখনো সাংবাদিকের ছেলে আব্দুল্লাহ যোবায়েরকে ডাকবি না। তোর নামে এরকম নালিশ অনেকেই করছে সাবধান হয়ে যা।

ঐ রাগের প্রতিশোধ নিতে আজ শাহজালাল লস্কর সহ তার গুন্ডা বাহিনী আমার ছেলেকে হত্যার চেষ্টায় মারপিট করেছে। আমি এর প্রতিকার চাই। আর কোনো শিক্ষা জীবন নষ্ট করতে না পারে।

এব্যাপারে রূপসা উপজেলা স্বাস্থ্য বিভাগের মেডিকেল অফিসার নিশাত তাছনিম জানান- পেশেন্ট এখানে রক্তাক্ত অবস্থায় পায়ের হাঁটুর নিচে ধারালো কিছুর কুপে রক্তাক্ত এবং ছেলা-ফোলা অবস্থায় আসে। তার খতটা বেশ গভীর ছিল, তাকে একটি এক্সরে করাতে বলা হয়েছে। রিপোর্ট আসলে বিস্তারিত বোঝা যাবে।

রূপসায় সাক্ষরতা দিবস পালিত ; হাতের লেখা বিজয়ীদের পুরস্কার বিতরণ

//এম মুরশীদ আলী//

‘মানুষ, পৃথিবী এবং সমৃদ্ধির জন্য সাক্ষরতা’। এ প্রতিপাদ্য সামনে রেখে রূপসায় আন্তর্জাতিক সাক্ষরতা দিবস উপলক্ষে  আলোচনা সভা গত ৮ সেপ্টেম্বর সকাল ১১ টায় উপজেলা অফিসার্স ক্লাব মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত হয়।

সাক্ষরতা দিবসে ক্ষুদে শিক্ষার্থীদের সুন্দর হাতের লেখা প্রতিযোগিতায় বিজয়ী প্রথম স্থানে শাহরিয়ার ইসলাম সাফা, দ্বিতীয় স্থানে জায়মা হায়দার এবং তৃতীয় স্থানে জামিলা খাতুনদের পুরস্কৃত করা হয়।

রূপসায় সাক্ষরতা দিবস পালিত ; হাতের লেখা বিজয়ীদের পুরস্কার বিতরণ

আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তৃতা করেন রূপসা উপজেলা নির্বাহী অফিসার সানজিদা রিকতা। স্বাগত বক্তব্য রাখেন উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা (টিও) মুহা. আবুল কাশেম। প্রাথমিক সহকারী শিক্ষা কর্মকর্তা (এটিও) মাসুদ রানার পরিচালনায় বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন- উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা ফারহানা ইয়াসমিন, ভেটেরিনারি সার্জন বৃষ্টি ইসলাম, সমবায় কর্মকর্তা জান্নাতুন নেছা, সহকারী শিক্ষা কর্মকর্তা এসএম আলী আকবর,  এসআই নাজমুল হুদা।

সাক্ষরতা শুধু পড়তে ও লিখতে শেখার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়, বরং এটি মানুষের জ্ঞান, সচেতনতা ও আত্মনির্ভরশীলতা বৃদ্ধির অন্যতম প্রধান মাধ্যম। শিক্ষার আলো একজন মানুষের জীবনকে যেমন পরিবর্তন করতে পারে, তেমনি একটি পরিবার, সমাজ ও রাষ্ট্রের সার্বিক উন্নয়নেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। তাই নিরক্ষরতা দূর করার পাশাপাশি সমাজের প্রতিটি মানুষকে শিক্ষার সুযোগের আওতায় আনা প্রয়োজন।

একটি সমৃদ্ধ ও উন্নত দেশ গড়ে তুলতে মানসম্মত শিক্ষার কোনো বিকল্প নেই। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পাঠ্যবইয়ের জ্ঞানের পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের নৈতিকতা, মানবিক মূল্যবোধ, দায়িত্ববোধ ও বাস্তবজীবনমুখী শিক্ষায় গড়ে তুলতে শিক্ষকদের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে হবে। বিশেষ করে সুবিধাবঞ্চিত ও শিক্ষার সুযোগ থেকে পিছিয়ে থাকা জনগোষ্ঠীকে শিক্ষার মূলধারায় সম্পৃক্ত করার মাধ্যমে একটি সচেতন, দক্ষ ও আত্মনির্ভরশীল সমাজ গড়ে তুলতে হবে। সম্মিলিত প্রচেষ্টার মাধ্যমে নিরক্ষরমুক্ত ও জ্ঞানভিত্তিক সমাজ প্রতিষ্ঠাই হতে পারে একটি উন্নত বাংলাদেশের অন্যতম প্রধান ভিত্তি।

উপস্থিত শিক্ষকদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন- প্রধান শিক্ষক সজীব কুমার মহলী, শেখ লুৎফর রহমান, শ্যামল দাস, শাবানা, মাসুদ আলম, আবু বক্কর সিদ্দিক, কামরুল ইসলাম, শেখ সালাউদ্দিন আহম্মেদ, নাজমা পারভিন, জাবেদা পারভিন, শিপ্রা রানী, পারভিন সুলতানা, আঃ সত্তার, নাসরিন সুলতানা, মোতাহার হোসেন, মোঃ নজরুল ইসলাম, এসএম রাকিবুল ইসলাম, আ: সত্তার খান, সুলতানা জাহান, এসএম কামরুল ইসলাম, লক্ষ্মী রানী, শিক্ষা দপ্তরের মোঃ ফয়সাল, আল মামুন গাজী, মুরাদ শেখ, প্রদীপ দত্ত, শিক্ষার্থী শাহরিয়ার ইসলাম সাফা প্রমূখ।

আইনশৃঙ্খলা কমিটির মাসিক সভায় রূপসা ঘাটের টোল আদায় অনিয়ম ও পন্টুন গ্যাংওয়ে দ্রুত মেরামতের আশ্বাস বিআইডব্লিউটিএ

//এম মুরশীদ আলী, খুলনা// 

রূপসা উপজেলা আইন-শৃঙ্খলা কমিটির মাসিক সভায় সভাপতি নির্বাহী অফিসার সানজিদা রিক্তা বলেন- রূপসা খেয়াঘাটে যাত্রী পারাপারে অনিয়মের অভিযোগ দীর্ঘদিনের। এঘাটে জনপ্রতি ৭ টাকা খরচ, মাঝিরা নিচ্ছে ৫ টাকা এবং টোলে ২ টাকাসহ যাত্রীদের ব্যাগ ও বিভিন্ন মালামাল পার করতে আরো অতিরিক্ত টাকা দিতে হয়। অথচ ঘাটের গ্যাংওয়ে এত জরাজীর্ণ, ছোট বড় সকলের চলাচল ঝুঁকির মুখে পড়তে হচ্ছে। তাছাড়া মাঝি এবং টোল আদায়কারীর ব্যবহার অতি দুঃখজনক। খেয়া পারাপারের প্রতি নৌকায় লাইফ জ্যাকেট বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। এ সকল সমস্যার সমাধান অতিদ্রুত করার জন্য খুলনা বিআইডব্লিউটিএ প্রতিনিধি এবং রূপসা ঘাট ইজারা নেওয়া প্রতিনিধি উপস্থিত রেখেছি এবং তাদের বক্তব্যে সমস্যার সমাধান দ্রুত করার আশ্বাস পাওয়া গেছে।

আইনশৃঙ্খলা কমিটির মাসিক সভায় রূপসা ঘাটের টোল আদায় অনিয়ম ও পন্টুন গ্যাংওয়ে দ্রুত মেরামতের আশ্বাস বিআইডব্লিউটিএ

এছাড়া ডেঙ্গু প্রতিরোধে পরিস্কার-পরিচ্ছন্ন অভিযান ও মাইকিং করার ব্যবস্থা গ্ৰহন হয়েছে। মাদক ক্রয়-বিক্রয়, অবৈধ মাটি কাটা, বালু উত্তোলন এবং অবৈধ ট্রলি চলাচল ও তৈরির কারখানা বন্ধের পাশাপাশি বাল্যবিবাহ রোধে সকলকে সচেতন হতে হবে। জন্ম মৃত্যু নিবন্ধনের হার ত্বরান্বিত করতে ৪৫ দিনের মধ্যে নিবন্ধনের বিষয় কাজ করতে ইউনিয়ন চেয়ারম্যানদের বিশেষভাবে গুরুত্ব দিতে বলা হয়েছে। এ সকল বিষয়ে গত ৩১ আগষ্ট সকাল ১১টায় অফিসার্স ক্লাব মিলনায়তনে আইন-শৃঙ্খলা সভায় খন্ড খন্ড বক্তব্যের প্রতি উত্তরে প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণের আশ্বাস প্রদান করেন। সকলের সহযোগিতা নিয়ে সম্মিলিতভাবে সমাধান করতে পারলে একটি সুন্দর সমাজ গড়া সম্ভব হবে বলে উপস্থিত সকলকে ধন্যবাদ জানিয়ে সভার সমাপ্তি ঘোষণা করেন।

বিশেষ অতিথির বক্তৃতা করেন- সহকারী কমিশনার (ভূমি) ভারপ্রাপ্ত এস এম নুরুন্নবী,

রূপসা থানা ওসি তদন্ত মোহাম্মদ আব্দুস সবুর খান, কৃষি কর্মকর্তা তরুণ কুমার বালা, সিনিয়র উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা জ্যোতি কনা দাস।

সভায় বিভিন্ন বিষয়ে উপর বক্তৃতা করেন- উপজেলা বিএনপি’র আহ্বায়ক সাইফুর রহমান মোল্লা, সদস্য সচিব জাবেদ হোসেন মল্লিক, রূপসা জামায়াত ইসলামী আমির মাওলানা লবিবুল ইসলাম, খুলনা বিআইডব্লিউটিএ নির্বাহী প্রকৌশলী ঋদ্ধি রুবায়েদ, প্রভাষক পিনজিরা খানম, কাজদিয়া বালিকা বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা চাঁদ সুলতানা, মাদ্রাসা সুপার মাওলানা শফিউদ্দিন নেছারী, শিক্ষক শাবানা, রূপসা ঘাট ইজারা আ. হ. ম এন্টারপ্রাইজের পক্ষে বক্তৃতা করেন ধীমান মহলদার স্বাধিন, রূপসা মাঝি ঘাট ইউনিয়ন সমিতির সাধারণ সম্পাদক হারেজ আলী প্রমুখ।

এসময় উপস্থিত ছিলেন- উপজেলা ভেটেরিনারি সার্জন বৃষ্টি ইসলাম, প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার মুহা: আবুল কাশেম, ইউআরসি ইনসট্রাক্টর এহতেশামুল হক, মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আনোয়ার উল কুদ্দুস, সমাজসেবা কর্মকর্তা রাকিবুল ইসলাম তরফদার, যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা মো. বজলুর রশীদ, মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা ফারহানা ইয়াসমিন, উপজেলা আনসার-ভিডিপি কর্মকর্তা মো. হারুন অর রশিদ, সমবায় কর্মকর্তা জান্নাতুন নেছা, একাডেমিক সুপারভাইজার নিত্যানন্দ মন্ডল, রূপসা ফায়ার সার্ভিস স্টেশন (ভারপ্রাপ্ত) কর্মকর্তা মো. মোশারেফ হোসেন, রূপসা শিল্পকলা একাডেমীক সঙ্গীত শিক্ষক অসিম কুমার নীলমনি, শ্রীফলতলা ইউনিয়ন ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান মো. জিয়াউল হক বিশ্বাস, নৈহাটি ইউনিয়ন ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান মো. ইলিয়াস, টিএসবি ইউনিয়ন ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান আসাফুর রহমান, ঘাটভোগ ইউনিয়ন ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান আজিজুল ইসলাম নন্দু, প্রভাষক মেজবাহ উদ্দিন সেলিম, পিঠাভোগ ডিজিসি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক কৃষ্ণ পদ রায়, জামায়াত নেতা হাফেজ মো. জাহাঙ্গীর, রূপসা দুর্নীতি প্রতিরোধ কমিটির সহ-সভাপতি ওবায়দ হোসেন, ইসলামিক ফাউন্ডেশন কেয়ারটেকার আব্দুস সালাম প্রমুখ।

অপরদিকে- নজরুল বর্ষ উপলক্ষে রূপসা উপজেলার সকল পর্যায়ের শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ভিত্তিক সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতার উদ্বোধন হয়েছে। সর্বশেষ রূপসার বিভিন্ন ক্লাবে ফুটবল বিতরণ করা হয়।

রূপসায় বৃত্তিপ্রাপ্ত অসচ্ছল মেধাবী ছাত্র-ছাত্রীদের মাঝে স্কুল ব্যাগ ও ফুটবল বিতরণ

// এম মুরশীদ আলী //

রূপসায় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ২০২৫ সালে বৃত্তিপ্রাপ্ত অসচ্ছল মেধাবী ছাত্র-ছাত্রীদের শিক্ষা সহায়ক উপকরণ স্কুল ব্যাগ বিতরণী গত ২৭ আগষ্ট সকালে উপজেলা মডেল মসজিদ ও সাংস্কৃতিক সেন্টারের অনুষ্ঠিত হয়। এ অনুষ্ঠানটি উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটির আয়োজনে ২০২৬-২৭ অর্থ বছর থেকে বৃত্তিপ্রাপ্ত ৬০ জন সহ ভালো রেজাল্ট করা শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে স্কুল ব্যাগ এবং প্রত্যেক স্কুলের শিক্ষার্থীদের খেলাধুলায় মনোনিবেশ করাতে ফুটবল বিতরণ করা হয়েছে।

রূপসায় বৃত্তিপ্রাপ্ত অসচ্ছল মেধাবী ছাত্র-ছাত্রীদের মাঝে স্কুল ব্যাগ ও ফুটবল বিতরণ

বিতরণী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি উপজেলা নির্বাহী অফিসার সানজিদা রিক্তা বলছেন- দেশে বর্তমানে ডেঙ্গু জ্বরের ভয়াবহতা দেখা দিয়েছে। এক্ষেত্রে কোমলমতি শিক্ষার্থীদের রক্ষায় স্কুলের চতুরপাশে পরিস্কার-পরিচ্ছন্ন রাখার পরামর্শ প্রদান করেন। তিনি আরো বলেন, রূপসায় প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষার রেজাল্টের পর শিক্ষার্থীদের অনুপ্রেরণার জন্য স্কুল ব্যাগ দেওয়ার আলোচনা হয়েছে। তাছাড়া সামনে নতুন করে ফুটবল প্রতিযোগিতা আসছে, সেখানে প্রাথমিকে যারা ক্লাস ফাইভে আছে তারা কিন্তু রেজিস্ট্রেশন করতে পারবে। খুব শীঘ্রই এই প্রতিযোগিতাটা শুরু হবে। তাদের প্র্যাকটিসের জন্য ফুটবল দেওয়া হলো।

রূপসায় বৃত্তিপ্রাপ্ত অসচ্ছল মেধাবী ছাত্র-ছাত্রীদের মাঝে স্কুল ব্যাগ ও ফুটবল বিতরণ

আজ আমি অবাক হলাম যে, ছোট্ট শিক্ষার্থীরা মাইক্রোফোন ধরে এতো মানুষের সম্মুখে বক্তৃতা দেওয়াতে বোঝা যায়, তারা আমাদের চেয়ে অনেক বেশি এগিয়ে যাবে। এই এগিয়ে যাওয়ার পেছনের শক্তি অভিভাবক ও স্কুল শিক্ষক। আমি বিশ্বাস করি শিক্ষকতা সবসময় মহান পেশা। আপনারা শিক্ষক দায়িত্বটা সঠিকভাবে পালন করছেন বলেই আজকে এই শিক্ষার্থীরা বৃত্তিপ্রাপ্ত হয়েছে। তাদের এগিয়ে নেওয়ার সাথে তার মাঝে মানবিকতাটা তৈরি করার কাজটিও আপনারা অবশ্যই করবেন। আজকের শিক্ষার্থীরা ভবিষ্যতে সমাজ ও দেশের দায়িত্ব নিতে হলে নিজেকে সেভাবে গড়ে তুলতে হবে। এখান থেকে তোমারা শিক্ষা বয়সে মোবাইলে ভিডিও দেখা এবং নেশায় আসক্ত হওয়া থেকে বিরত রাখতে পারলে, তোমার ভবিষ্যৎ কর্মপরিকল্পনায় সফল হওয়া সম্ভব বলে মনে করি।

প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার (টিও) মুহা: আবুল কাশেম এর সভাপতিত্বে বিশেষ অতিথি হিসাবে উপস্থিত ছিলেন- সহকারী শিক্ষা কর্মকর্তা (এটিও) মো. মাসুদ রানা ও (এটিও) আলী আকবর।

এসময় অভিভাবদের মধ্যে বক্তৃতা করেন- সরদার শাহজাহান আলী এবং শিক্ষকদের মধ্যে বক্তৃতা করেন- প্রধান শিক্ষক মোতাহার হোসেন, ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক সাবানা, শ্যামল কুমার দাস, আব্দুর সাত্তার খান, শেখ লুৎফার রহমান, জবেদা পারভীন সহ অন্যান্য শিক্ষকবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।