পেশাদারিত্বের মধ্য দিয়ে আইন, পেশাগত দক্ষতা, নিরপেক্ষতা, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার পাশাপাশি জনগণের প্রতি সুশীল আচরণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে চলেছেন বাংলাদেশ পুলিশ। দুষ্টের দমন ও শিষ্টের পালন নিশ্চিত করতে নিরলসভাবে কাজ করছেন খুলনা জেলার রূপসা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) সরদার মোশাররফ হোসেন।
থানায় যোগদানের পর থেকেই টনক নড়েছে অপরাধীদের। সমাজের সকল ধরনের অপরাধ আর অপরাধীরা রয়েছে আতঙ্কে। প্রতিহিংসা ও লোভ-লালসার ঊর্ধ্বে থেকে ভালোবাসা কোমলতা আর কৌশল অবলম্বনের মাধ্যমে পেশাদারিত্ব দায়িত্বের মধ্যে দিয়ে শুরু করেন আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাসহ নানা অনিয়ম অপরাধ নির্মূলের কাজ। সাধারণ মানুষের আস্থা আর নির্ভরতার থানা বাস্তবায়নে তিনি কাজ করে চলেছেন। ুযেখানে কোন রাজনৈতিক ও সাংগঠনিক পরিচয়ে কোনও অনিয়ম, দুর্নীতিকে প্রশয় দেওয়া হয় না। যে কোনও অভিযোগের প্রমাণ পাওয়া মাত্রই নেওয়া হচ্ছে কঠোর আইনি ব্যবস্থা। অনিয়ম দুর্নীতির বিরুদ্ধে ওসি মোশাররফ স্বপ্রণোদিত হয়ে যে শুদ্ধি অভিযান শুরু করেছেন তা এখনও চলমান আছে।

রাজনৈতিক পরিচয়ে অপরাধ করার কোনও সুযোগ তার কাছে নেই, দলীয়ভাবে কখনও কোনও অপরাধীকে রক্ষা করার ঢাল হিসাবে ব্যবহার করার বিন্দুমাত্র সুযোগ ওসি মোশাররফ দেন নাই এবং দেবেন না। কারণ পুলিশের কাছে অপরাধীর পরিচয় অপরাধীই। গুটি কয়েক মানুষের অপরাধের জন্য থানা পুলিশের অনন্য অর্জনগুলো স্লান হতে দিতে চান না। থানার অধীনস্থ স্টাফদের প্রতিও তিনি অমায়িক এবং আন্তরিক। তাদেরকে তিনি তার অধীনস্থ ভাবেন না, ভাবেন একজন সহকর্মী, একজন ষ্টাফ, একজন বন্ধু। তাদের কাজে সহযোগিতা ও কাজ বন্টন করে দেওয়া এবং মামলায় জটিলতা সৃষ্টি হলে কৌশলী সুপরামর্শ দিয়ে প্রশংসিত স্টাফদের কাছেও।
আরো জানা যায়, তিনি এইভাবে ধর্ম-বর্ণ, জাত-গোত্র, উচু নিচু, ধনী গরীবের বিবেচনা না করে কেবল মানুষ মানুষের জন্য এমন চিন্তা চেতনায় সর্বসময় বিপদগ্রস্থ মানুষের পাশে ছায়া হয়ে দাড়ানোর পাশাপাশি নিজের সাধ্যর চেয়েও অধিক সহযোগিতা করে এখন ভালোবাসায় সর্বজন প্রিয় ও পরিচিত ওসি মোশাররফ হোসেন।
সরেজমিনে দেখা যায়, থানায় তাঁর কক্ষে অবস্থান নেওয়া বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের উপস্থিতিই প্রমাণ করে তিনি কথায় নয় কাজে বিশ্বাসী। থানায় আসা ব্যক্তিদের সাথে সাবলীলভাবে হাস্যোজ্জ্বল মুখে কথা বলেন। উপজেলার প্রত্যন্ত অঞ্চল থেকে আসা বিভিন্ন সমস্যা সম্বলিত লোকজনের কথাও শুনছেন এবং স্টাফদের যার যার কাজ ভাগ করে দিয়ে সমস্যা নিরসনের প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। টিমওয়ার্ক আর কাজের দক্ষতায় সমস্যা নিয়ে আসা লোকজন হাসিমুখে থানা থেকে বাহির হতে দেখা যায়।
কোভিড-১৯ করোনা মহামারীতে বিশ্ব যখন স্তব্ধ ও অসহায়, বাংলাদেশের সকল পুলিশ প্রশাসনের মত রূপসা থানা পুলিশের ওসি মোশাররফ হোসেনের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সকল স্টাফদের নিয়ে করোনা সংক্রমন প্রতিরোধে কঠোর অবস্থানে রয়েছেন। করোনাকালীন সময় স্কুল কলেজ বন্ধ থাকায় উদীয়মান শিক্ষার্থীরা অনেকে জড়িয়ে পড়েছিল চোরাকারবারিসহ অসামাজিক কার্যকলাপে। তাদেরকে এই দূর্গম অনিশ্চিত পথ থেকে ফিরিয়ে এনে নতুন ভাবে যাতে এ ধরনের কার্যকলাপে কোন শিক্ষার্থী জড়াতে না পারে তার জন্য উপজেলার প্রতিটা ইউনিয়নে বিট পুলিশিং সভা-সেমিনার আনুষ্ঠানিকতায় যোগদান করে দিয়েছেন কঠিন হুশিয়ারী ও কোমল বাণী।এতে করে সামাজিক অবক্ষয়, অপরাধ প্রবনতা যেমন হ্রাস পেয়েছে তেমনি স্বাস্থ্য ঝুঁকি ও কমেছে।
উপজেলায় মাদক, ইভটিজিং, বাল্যবিবাহ, জঙ্গি ও সামাজিক অবক্ষয় প্রতিরোধে, উপজেলার প্রতিটি ইউনিয়নে বিট পুলিশিং সভা সহ বিভিন্ন কার্যক্রম নিরলসভাবে চালিয়ে যান রূপসা থানার অফিসার ইনচার্জ। ওসি হিসেবে রূপসা থানায় যোগদানের পর থেকে বেশ কয়েকটি আলোচিত ঘটনার তথ্য উৎঘাটন, উপজেলা আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রেখে গুজব প্রতিরোধে জনসচেতনতা সৃষ্টি করেন। খুলনা জেলার রূপসা উপজেলার ৫টি ইউনিয়ন বিট পুলিশিংয়ের মাধ্যমে গড়ে তোলা হয়েছে টিম ওর্য়াক। এলাকার ছোটখাটো ঘটনা সমুহ থানায় কিংবা আদালতে গড়ানোর আগেই বিট পুলিশিংয়ের মাধ্যমে নিষ্পত্তি হচ্ছে বাদী বিবাদীর সম্মতিতে। সম্প্রতি মাদক, চুরি, ডাকাতি, ছিনতাই বন্ধকরণসহ চিহিৃত মাদক চোরাচালানী গ্রেফতার বিপুল পরিমাণ মাদক উদ্ধারসহ অপরাধ দমনে কার্যকর ভূমিকা পালনের জন্য জেলার শ্রেষ্ট অফিসার ইনচার্জ এর পুরস্কারে ভুষিত হয়েছেন।
ওসি মোশাররফ হোসেন সাধারণ মানুষের প্রত্যাশিত সেবাকে দ্রুত জনগণের দোঁরগোঁড়ায় পৌঁছে দেন অনন্য কৌশলে। পুলিশ কর্মকর্তা হিসেবে যোগদানের পর থেকে খুলনা জেলা পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মাহবুব হাসান এর নির্দেশনায় অত্যন্ত সুনামের সাথে সাধারণ মানুষের কাছে মাদকের বিরুদ্ধে সরকারের ‘জিরো টলারেন্স’ নীতির আলোকে সাড়াশি অভিযানের নির্দেশে উপজেলার মাদক ব্যবসা অধিকাংশ ক্ষেত্রে দমন করা সম্ভব হয়েছে। গ্রামের নিরীহ মানুষকে হয়রানি, চাঁদাবাজি দায়িত্ব অবহেলা বন্ধেও কাজ করেন ওসি মোশাররফ। পুলিশের প্রতি অনেকের যে বিরূপ ধারণা ছিল তা বদলে দিতে সক্ষম হয়েছেন তিনি। নিয়ম নীতিতে কাজ করে তিনি এখন জনগণের কাছে প্রশংসিত হচ্ছেন।
ওসি সরদার মোশাররফ হোসেন এর কাছে আইন শৃংখলাসহ সার্বিক বিষয় জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমার কাজই হচ্ছে সমাজের অপরাধীদের চিহ্নিত করে তাদের আইনের আওতায় আনা ও সাধারণ মানুষের জানমালের নিরাপত্তা এবং সমাজে শান্তি প্রতিষ্ঠা করা। যখন কেউ সমাজের জন্য ভালো কিছু করতে চাইবে, অবশ্যই সে নানা বাধা প্রতিকূলতা, প্রতিবন্ধকতা ও নির্যাতনের শিকার হবে, আমিও তার ব্যতিক্রম নয়। ইতোপূর্বেও তিনি সমাজের অপরাধীদের কালো মুখোশ উম্মোচন করতে অনেক বাধা সমস্যার সম্মুখীন হয়েছেন, তাই বলে তার কাজ থেমে থাকবে না বলেও জানান। আমার প্রত্যাশা রূপসা থানাকে বৃহত্তর খুলনার মধ্যে একটা উদাহরণ দেওয়ার মতো থানায় পরিণত করতে চাই।’আর এই করোনাভাইরাস সংক্রমন প্রতিরোধে‘উপজেলাবাসী আপনাদের নিরাপত্তায় আমরা বাইরে আছি, আপনারা ঘরে থাকুন, সুস্থ থাকুন, সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখুন।
//আ. রাজ্জাক শেখ, খুলনা ব্যুরো//
খুলনা বিভাগে একদিনে এ যাবত কালের সর্বোচ্চ মৃত্যু ও সনাক্ত

