//এম মুরশীদ আলী, রূপসা//
রূপসায় মৎস্য ঘেরে পানি দেওয়াকে কেন্দ্র করে উভয় পক্ষের মধ্যে হাতাহাতি-মারামারির ঘটনায় রূপসা থানায় অভিযোগ দায়ের। গত ১৫ এপ্রিল সকালে ঘাটভোগ ইউনিয়ন নারকেলী চানপুর গ্রামের অশোক পাল ও পিঠাভোগ গ্রামের কৃষ্ণ পাল ও বিষ্ণু পাল দ্বয়ের সহিত হাতাহাতি-মারামারি সৃষ্ট হয় বলে জানা যায়।
অভিযোগ পত্র ও প্রতক্ষ্যদর্শী জানায়- চানপুর গ্রামের অশোক পালের মৎস্য ঘেরে চৌত্রের খরতাপে পানি কমে যাওয়ার ফলে, মাছের ক্ষতির সম্ভাবনা থেকে রক্ষা পেতে গত ১৪ এপ্রিল স্যালোমেশিন দ্বারা ঘেরে পানি দেয় এবং ঐদিন পহেলা বৈাশাখ দুপুরে বৃষ্টি হয়ে যায়। ঐ বৃষ্টির ফলে ধানের জমির অপেক্ষাকৃত নিচু অংশে পানি জমে। ওই ঘেরের মধ্যে এক পাশে অশোক পালের (বর্গাকৃত জমি) মৎস্য চাষ। আর এক পাশে কৃষ্ণ পাল ও বিষ্ণু পালের নিজ জমি। এ ধানের জমিতে পানি জমার ফলে, তারা ভাবে অশোক পাল ইচ্ছে করে পানি দিয়ে পাকা ধানের ক্ষতি করছে। এরপর তারা দুই ভাই ক্ষিপ্ত হয়ে- ওই বিলে অশোক পাল (৭২), ছেলে মিঠু পাল (৩৭) এবং স্ত্রী উষা রানী পালকে গালিগালাজের এক পর্যায়ে মারামারি লেগে যায় এবং মিঠু পালের গলা চেপে ধরলে, সে বাঁচার জন্য কৃষ্ণ পালের কানে কামড়িয়ে রক্ষা পেয়ে যায়। পরে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা নেয় এবং থানায় অভিযোগ দায়ের করে।
উল্লেখিত বিষয়ে কৃষ্ণ পাল বলেন- অশোক পাল ইচ্ছে করে আমার পাকা ধানের জমিতে পানি দিয়ে ক্ষতি করতে চেয়েছিল। আমি তাদের জিজ্ঞেস করেছিলাম আমার পাকা ধান ক্ষেতে স্যালোমেশিনের পানি ফেলে ফসলের ক্ষতি করছ কেন? এই বলার সাথে সাথে তারা আমাকে মারপিট শুরু করে এবং মুখের চোয়াল ও কানে কামড়িয়ে রক্তাক্ত করে। তাৎক্ষণিক আমার চিৎকারে আশপাশের লোক ছুটে আসাতে আমি রক্ষা পাই। এরপর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা নিয়ে আশার পথে গতিরোধ করে হুমকি-ধামকি ও মারার উত্তাক্ত হয়। তারা আমার ফসলের ক্ষতি করেছে, আমাকে মেরেছে আবার থানায় অভিযোগও করেছে। আমার জমি তারা লিজ নিতে চেয়েছিল, আমি না দেওয়ার কারনে এবং ঐ বিলটি আমার বাড়ি থেকে একটু দুরে, এ সুযোগ নিয়ে তারা যা খুশি তাই করছে। আমিও সত্য ঘটনার আইনী সহয়তা পেতে থানায় অভিযোগ দায়ের করেছি।

