করোনার বৈশ্বিক মহামারীতে সমগ্র বিশ্বের ন্যায় বাংলাদেশের অবস্থাও হতাশা ব্যাঞ্জক।করোনায় আক্রান্ত ও মৃতের হার যেভাবে গাণিতিক হারে বাড়ছে তাতে সামনের দিনগুলো নিয়ে জাতি সশঙ্কিত। শুরু হয়েছে এক সপ্তাহের লকডাউন। লকডাউনসহ সরকারের দেওয়া ১৮ দফাসহ আরও অনেক নির্দেশনা।
ইতিমধ্যে সরকার ঘোষিত লকডাউন উপেক্ষা করে ব্যবসায়ীরা তাদের ব্যবসা বানিজ্য চালিয়ে যাওয়ার জন্য রাজপথে নেমে ব্যবসা প্রতিষ্ঠান চালু রাখার জন্য নুন্যতম সুযোগটা আদায় করে নিতে সমর্থ হয়েছে।
পরিবহন মালিক সমিতি, ব্যবসায়ী সমিতি থাকায় তাদের দাবি আদায় করা সম্ভব পর হয়েছে।
কিন্তু যশোর সদরের কিছু অংশ, অভয়নগর,মনিরামপুর, কেশবপুর ও খুলনার ডুমুরিয়ার একটা অংশ নিয়ে গঠিত দীর্ঘদিনের সমস্যাবহুল ভবদহ এলাকার সাধারণ জনগণ, কৃষক, কৃষিকাজের সাথে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের কোন সংগঠন না থাকায় আশির দশকে সৃষ্ট সমস্যা নিয়ে আজও ক্যান্সারে আক্রান্ত রোগীর মতো বয়ে বেড়াচ্ছে।
গ্রীষ্মের দাবাদহে যখন দেশের মাঠঘাট ফেটে চৌচির তখন ভবদহ এলাকার ২১ বিলের অনধিক ৪০ হাজার হেক্টর জমি পানির নিচে ডুবে আছে। বিলগুলোর মধ্যে মনিরামপুর ও অভয়নগরের বিল কেদারিয়া, বিল গান্ধী মারী, চাতরার বিল, নুনের বিল, বিল ঝিকরা, ধলের বিল,ডুমুরের বিল, শালিখার বিল,ফাহালের বিল, ভায়নার বিল, মাঠের ডাঙার বিল, বিল পায়রা, বিল কপালিয়া, আড়পাতার বিলের ৩০ হাজার হেক্টর জমি ও কেশবপুর উপজেলার বক উড়ার বিল,বাগডাঙার বিল, ভাটবিলার বিল, নড়ের বিল, জিয়লদহের বিল, বিল খুকশিয়া, বিল ভায়নাসহ অনেকগুলি কুড় বিল নিয়ে ১০ হেক্টর জমি আজও পানিকে অপসরণ করে সূর্যের আলো দেখতে পায়নি।

অপরদিকে বিপরীত চিত্র দেখা যায় অত্র এলাকার ভৈরব, শ্রীনদী, হরি, টেকাসহ সকল নদ-নদী গুলো পলি জমে ভরাট হয়ে পানি শূণ্যতায় ভুগতে ভুগতে মরা খালে পরিণত হয়েছে। ফলে বিলগুলো থেকে পানি অপসরণের কোন পথ নেই।
বাংলাদেশ সরকারের নদ- নদী খাল খননের বিভিন্ন প্রকল্পের কাজ ভবদহ এলাকার নদ-নদী খননের জন্য ব্যয় হলেও হরিলুটের খৈয়ের মতো সরকারি টাকার অপচয় ছাড়া কোন ভাল ফলাফল পাওয়া যায়নি। গত কয়েকদিন আগের ছবি দেখলে বাস্তব চিত্রটা পরিলক্ষিত হয়।
ভবদহ এলাকায় জলাবদ্ধতা সৃষ্টির পর থেকে অভয়নগর, মনিরামপুর ও কেশবপুরের অনেক লোক শিল্প নগরী নওয়াপাড়ায় দৈহিক শ্রম বিক্রি করে জীবিকা নির্বাহ করে। কিন্তু সেখানেও বিধিবাম।
একদিকে বাপদাদার থেকে প্রাপ্ত পৈত্রিক সম্পত্তি দীর্ঘদিন অনাবাদি হয়ে পড়ে আছে অন্যদিকে বাঁচার জন্য কায়িকশ্রম বিক্রির জন্য নওয়াপাড়া শিল্প নগরীর যে বিভিন্ন কার্গোতে কাজ করতো সেখানে করোনার কারণে পূর্বের ন্যায় মালামাল ওঠানামা কম হওয়ায় কায়িকশ্রম বিক্রি করে জীবিকা নির্বাহের পথও বন্ধের পথে।ফলে অত্র এলাকার অধিকাংশ লোক খাদ্য, চিকিৎসা ও স্বাস্থ্য ঝঁকির মধ্যে বসবাস করছে।
ভবদহ এলাকার কৃষি ও কৃষিকাজের সাথে সংশ্লিষ্ট কৃষকদের এই মানবেতর জীবন-যাপন থেকে বাঁচানোর জন্য ফসলী জমিগুলো পানির নিচে থেকে উদ্ধার করার জন্য নদ- নদী খননসহ দীর্ঘদিনের পরীক্ষিত টিআরএম প্রকল্প যেমন চালু করা প্রয়োজন তেমনি সাধারণ জনগণকে বাঁচানোর জন্য খাদ্য নিরাপত্তা বলয়ের আওতায় এনে প্রত্যেক পরিবারের জন্য রেশনিং ব্যবস্থা করা খুবই জরুরী। আর এগুলো যদি না করা হয় তাহলে ভবদহ এলাকার জনগন আস্তে আস্তে ডাইনোসরের মতো বিলুপ্ত হয়ে যাবে।
আর তাই বাংলাদেশ সরকারের স্থানীয় প্রশাসন থেকে শুরু করে উচ্চ পর্যায়ের সকল কর্মকর্তাসহ মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর সুদৃষ্টি প্রার্থনা করছি।
// রিপোর্টার স্বীকৃতি বিশ্বাস //

