//মোঃ শফিকুল ইসলাম পিকুল, বিশেষ প্রতিনিধি//
যশোরের অভয়নগর উপজেলার সড়ক উন্নয়নের কাজ চলছে ধীর গতিতে । চরম ভোগান্তিতে পড়েছে ব্যবসায়ি ও জনসাধারণ । উপজেলার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সড়ক হল চেঙ্গুটিয়া বাজার হতে মিস্ত্রিপাড়া সড়কটি। এই সড়ক দিয়ে প্রতিদিন হাজার হাজার লোক চলাচল করে।
শিল্পশহর ও বাণিজ্য নগরী নওয়াপাড়ায় বেশিরভাগ নদীবন্দরে ঘাট, গোডাউন থাকার কারনে ব্যবসার প্রধান মোকাম হিসেবে পরিচিত। এ সড়কের সাথে থাকা বিভিন্ন ঘাট গোডাউনে প্রায় কয়েক হাজার শ্রমিক কাজ করে তাদের পেটের খোরাকির যোগান দেয়। ওই গুরুত্বপূর্ণ সড়ক দিয়ে বিভিন্ন কর্মক্ষেত্রে, হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে এবং কেনাকাটা করার জন্য প্রতিনিমত যাওয়া আসা করা হয়। তাছাড়া, নড়াইল, খুলনা, গোপালগঞ্জ, চাপাই, নাটোর, কুঁড়িগ্রাম, সাতক্ষীরা, চুয়াডাঙ্গা, মেহেরপুর, কুষ্টিয়াসহ ২২ জেলার সার, কয়লা, ভুট্টা, চাউল, গম, সিমেন্ট, ও ভুষিমাল ট্রাক যোগে এ সড়ক দিয়ে যাতায়াত করে থাকে। কিন্তু বর্তমানে সড়কের যে বেহাল অবস্থা বিরাজ করছে তাতে চলাচলা করতে সাধারণ জনসাধারণের প্রতিনিয়ত দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। সরেজমিনে, গিয়ে দেখা গেছে, ঠিকাদারের অবহেলার কারণে সড়কের উন্নয়ন কাজ ধীরগতিতে চলছে ।
মুষ্টিমেয় কয়েকজন ইমারাত শ্রমিক দিয়ে কাজ করাচ্ছন তিনি, রাস্তায় বালি দিয়ে ভরাট করে রাখা হয়েছে। মাত্র ২ টা ট্রলি দিয়ে মাকাড্যামের কাজ করা হচ্ছে। কাজের অগ্ৰগতি তেমন নেই বললে চলে। সড়কে দিন-মূজুরির কয়েকজন শ্রমিক বলেন,এক মাস কাজ বন্ধ ছিল। কয়েকদিন আবার চালু হয়েছে। কাজের জন্য লোক সংখ্যা কম। জানাগেছে, এ সড়কের পাশে মের্সাস নোয়াপাড়া ট্রেডার্সের নিজস্ব ঘাট গোডাউন, দেশ ট্রেডিংয়ের গোডাউন, দিপু স্টোনের ঘাট গোডাউনসহ বেশ কয়েকটি প্রতিষ্ঠানের গোডাউন রয়েছে।
সরকারি বরাদ্দকৃত সার আনতে পারছেন না প্রতিষ্ঠান গুলো। এ সড়ক দিয়ে গাড়ি যাওয়া আসায় বন্ধ রাখায় চরম বিপাকে পড়েছেন ব্যবসায়ীরা। অনেক আগে থেকে গোডাউন ভাড়া নিয়ে বিপাকে আছেন তারা। এই সড়ক দিয়ে লোড আনলোডের কাজ না করতে পেরে অনেকে বেকার অবস্থায় বসে আছেন। নাম প্রকাশ না করার শর্তে হ্যান্ডলিং সর্দার বলেন, সড়কের উন্নয়ন কাজে ধীরগতি হওয়াতে কয়েকমাস কাজ বন্ধ ছিল,কয়েক দফায় আমরা ঠিকাদারকে বলেছি রাস্তার কাজটা অনেক শ্রমিক নিয়ে দ্রুত শেষ করতে কিন্তু ঠিকাদার তা করছেন না। চেঙ্গুটিয়া বাজার টু মিস্ত্রিপাড়া সড়কের ২৮০ মিটার সড়ক উন্নয়ন কাজে চরম ধীরগতি লক্ষ্য করা গেছে। ১২ ফুট সড়কের উভয়দিকে ৩ ফুট করে বাড়িয়ে মোট ১৮ ফুট চওড়া রাস্তার পুনঃ পাকাকরন ও ঢালাই কাজের টেন্ডার দেয়া হয়। এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক( এডিবি) ও বাংলাদেশ সরকারের অর্থায়নে স্থানীয় সরকার প্রকৌশলী অধিদপ্তরের ( এলজিইডি) পল্লী সংযোগ সড়কের পল্লী উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় এ সড়ক উন্নয়ন কাজ চলছে। কাজটি করছেন মোজাহার এন্টারপ্রাউজ (প্রাঃ)লিঃ ও শামীম চাকলাদার(জেভি)। প্রায় ১০ মাস অতিবাহিত হলেও এখনও মাত্র ৫৫/৬০ শতাংশ কাজ সমাপ্ত হয়েছে।
আনিসুর রহমান, আবুল হোসেন, রহিম খান, রবিউল ইসলাম বলেন, মোটর সাইকেলে প্রতিদিন এই রাস্তা দিয়ে নওয়াপাড়া যেতে হয়। অনেকদিন হল সংস্কার কাজ চলছে। দ্রুত এ অবস্থার অবসান চাই। এ ব্যাপারে ঠিকাদারের লিভার সর্দার আনছার আলী বলেন, এর আগে মাস খানেক কাজ বন্ধ থাকায় কাজের গতি কমে গেছে। সঠিক তথ্য পাবেন সাব কন্টাক্টর কালাম ভাইর কাছে। এ বিষয়টি নিয়ে মুঠোফোনে সাব কন্টাক্টর মো. কালামের সাথে কথা হলে তিনি বলেন, ওই সড়কের কাজ আমরা যথা সময়ে শেষ করবো।
আমাদের হাতে অনেক সময় আছে। নওয়াপাড়া পৌরসভার প্রকৌশলী অসিম কুমার সোম বলেন, সংস্কার কাজে ধীরগতির সুযোগ নেই। দ্রুত ব্যবস্থা নেয়া হবে। এ বিষয়ে জানতে চাইলে ঠিকাদার শামীম চাকলাদার বলেন, আমি অসুস্থ। তাছাড়া ইট, পিচ এবং বিটুমিনসহ আনুষাঙ্গিক জিনিসের দাম ব্যাপকভাবে বেড়েছে। যে কারণে কিছু দিন বন্ধ ছিল। আগামী মাসের মধ্যেই কাজ শেষ হবে ।

