পূর্বসূত্র: বিসিক এলাকার বিএনপি নেতা আলতাফ বাচ্চুর কর্মী। পরে সাবেক মেয়র প্রয়াত শওকত হোসেন হিরণ অনুসারী মহানগর ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক অসিম দেওয়ান ও বর্তমান মেয়র সেরনিয়াবাত সাদিক আব্দুল্লাহ এই দুই নেতার বিশ্বস্ত কর্মী রইজ আহমেদ মান্না।
সাবেক মেয়র শওকত হোসেন হিরণের মৃত্যুর পরে নাটকীয়ভাবে ২০১৬ সালে অসিম দেওয়ান ও তার বাসায় হামলা চালায় মান্না ও তার ক্যাডার বাহিনী। প্রথমিকভাবে অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় ওই সময় রইজ আহমেদ মান্নাসহ ১০ জনের বিরুদ্ধে আদালতে চার্জশীট প্রদান করেন তদন্তকারী কর্মকর্তা।
তবে কালের বিবর্তনে বর্তমান মেয়র সাদিক আব্দুল্লাহর বিশ্বস্ত কর্মী হিসেবে পরিচিতি লাভ করেন এই রইজ আহমেদ মান্না। বর্তমান মেয়র সাদিক আবদুল্লাহ’র নাম ব্যবহার করে নগরীতে দাপিয়ে চাঁদাবাজী, দখলবাজীসহ নানা অপকর্ম চালিয়ে যাচ্ছেন মান্না ও তার ক্যাডার বাহিনী।
সর্বশেষ গত সোমবার নগরীর কাউনিয়া ২ নং ওয়ার্ড আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক ও মেয়র সাদিক আব্দুল্লাহর আরেক আস্থাভাজন রাজনৈতিক কর্মী কাজী জিয়া উদ্দিন জিয়ার বিশ্বস্ত রাজনৈতিক কর্মী শেখ শুভকে প্রকাশ্যে নৃশংসভাবে কুপিয়ে মৃত্যু নিশ্চিত ভেবে রাস্তার উপর ফেলে যায় মান্না ও তার সাঙ্গ-পাঙ্গরা। শুভকে স্থানীয়রা উদ্ধার করে শের-ই বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি না করলে হয়তো মৃত্যুই তার অনিবার্য ছিল।
এতসব অপকর্মের কারণে প্রকাশ্যে আসা মান্নাকে নিয়ে বরিশালবাসীর প্রশ্ন, ‘এই মান্না মূলত কার? বিএনপি’র এজেন্ট! নাকি অন্য কারো এজন্টে হিসেবে কাজ করছেন তিনি।’তার কোন পদ-পদবী নেই। এছাড়াও তিনি এক সময়ে ছাত্রলীগ এর সাধারণ সম্পাদক অসিম দেওয়ানের ডান হাত হিসাবে পরিচিতি লাভ করে আওয়ামালীগের রাজনীতির খাতায় নাম লেখান।
সাবেক মেয়র প্রয়াত শওকত হোসেন হিরণ’র মৃত্যুর পরই ছাত্রলীগ এর সাধারণ সম্পাদক অসিম দেওয়ানের আস্থাভাজন এই মান্না হঠাৎ অসিমের সাথে বিশ্বাসঘাতকতা করে বর্তমান মেয়র সেরনিয়াবাত সাদিক আব্দুল্লাহ’র আস্থাভাজন হয়ে ওঠেন। বরিশাল বাসীর প্রশ্ন, অসিম দেওয়ানের সাথে করা বিশ্বাসঘাতকতার মতই কবে যেন মেয়র সাদিক আব্দুল্লাহ’র বুকে ছুড়ি ধরেন এই পদহীন ছাত্রলীগ নেতা।
ক্ষমতাসীন দলের একাধিক নেতা জানান, মেয়র সাদিক আব্দুল্লাহ’র নাম ব্যবহার করে নগরীর বিভিন্ন স্থানে চাঁদাবাজী করে আসছেন মান্না বাহিনী। এমনকি ফুটপাত ব্যবসায়ীরাও বাদ যায়নি মান্নার হাত থেকে। যেখানে নগরপিতা সাদিক আবদুল্লাহ বরিশাল নগরীকে চাঁদাবাজমুক্ত করে গড়ে তুলতে আপ্রাণ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন, সেখানে তাঁর নাম ব্যবহার করে এভাবেই বেপরোয়া কর্মকাণ্ড চালিয়ে যাচ্ছো মান্না। মান্নার এই অপকর্মের ফলে যেমন দলীয় ভাবমূর্তি নষ্ট হচ্ছে, একইভাবে মেয়র সাদিক আব্দুল্লাহ’র স্বপ্ন চাঁদাবাজমুক্ত বরিশাল নগরী গড়ে তোলার কাজ ব্যহত হচ্ছে দারুণভাবে। ভুক্তভোগিদের আশঙ্কা, বেপরোয়া এই মান্নার লাগাম এখনই টেনে ধরা না গেলে এর দায়ভার দায়িত্বপ্রাপ্ত দলীয় নেতাদের ওপর পড়বে ।
দায়িত্বশীল নেতাদের উচিত দ্রুত মান্নার বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা নেয়া। এদিকে ছাত্রলীগ নেতা শেখ শুভর ওপর হামলার ঘটনায় এখনও থমথমে পরিবেশ বিরাজ করছে কাউনিয়ায়। তবে হামলার ঘটনার দুই দিন অতিবাহিত হলেও এখনও কাউকে গ্রেফতার করা হয়নি। শেখ শুভর রাজনৈতিক অভিভাবক ও ২ নং ওয়ার্ড আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক কাজী জিয়া উদ্দিন জিয়া ও রইজ আহমেদ মান্নার সাথে একটি গোপন বৈঠক হয়েছে।
এ বৈঠকে আলোচিত বিষয়টির সমঝোতা করতে ১৫ লাখ টাকার প্রস্তাব দেয় জিয়া। এসময়ে জিয়া শুভ কর্তৃক মামলা না করার শর্তে মান্নার নিকট ১৫ লাখ টাকা দাবী করেন। এ বিষয় শুভর কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘ জিয়া তার রাজনৈতিক অভিভাবক। তিনি যা করবেন, তাই মেনে নেব।’ গোপন মিটিং ও লেনদেনের বিষয় এই ওয়ার্ড আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক কাজী জিয়া উদ্দিন জিয়া কাছে জানতে চাইলে তিনি ব্যস্ততার কথা বলে লাইন কেটে দেন।
অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্ত মান্নার ফোনে একাধিকবার চেষ্টা করা হলেও তার ফোনটি বন্ধ পাওয়া যায়। এদিকে এমন আলোচিত একটি ঘটনার পরেও প্রশাসনের নীরব ভূমিকা দেখে হতভম্ব নগরবাসী। কাউনিয়া থানার ইনচার্জ সাংবাদিকদেন বলেন, ‘কেউ অভিযোগ করেনি। তাই অভিযোগ ছাড়া কোন ব্যবস্থা নেওয়া যাচ্ছে না।’
প্রশাসনের উচ্চপদস্থ একাধিক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে সাংবাদিদের জানান, ‘অপরাধী যত বড়ই হোক না কেন, কেউই আইনের ঊর্ধে নয়।’ তারা জানান, মান্নার বিষয়টি প্রশাসনের সংশ্লিষ্ট দপ্তরের কর্তৃপক্ষ অবগত আছেন। এ বিষয় দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হবে
:: নিজস্ব প্রতিবেদক ::

