শুনতে অবাক লাগলেও ২৫মে,২০২১ইং মঙ্গলবার বেলা ১১টার দিকে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা পাপিয়া সুলতানার কার্যালয়ে বাগান মালিক ও ইজারাদারদের হাতে আনুষ্ঠানিকভাবে ওই অর্থের চেক তুলে দেওয়া হয়।
জানা যায়, পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের বন-২ শাখার উপসচিব দীপক কুমার চক্রবর্তী ২০২০ সালের ১ নভেম্বর স্বাক্ষরিত একটি চিঠিতে ক্ষতিপূরণের টাকা দেওয়ার নির্দেশ প্রদান করেন।
সেই মোতাবেক ৩৮টি আমগাছের পাঁচ মালিককে বন অধিদপ্তরের অনুন্নয়ন খাত হতে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ে তাদের ডেকে বার্ষিক তিন লাখ ১৩ হাজার টাকা প্রদান করেন।
টাকা প্রদানের চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে, আমবাগানের শামুকখোল পাখি বিগত তিন বছর ধরে আসছে। প্রাকৃতিক কারণে বা যে কোনো সময় পাখি ওই স্থান ত্যাগ করে অন্য কোনো নতুন স্থানে চলে যেতে পারে।
সেহেতু আগামী কয়েক বছর পর্যবেক্ষণে রেখে এ বিষয়ে পরবর্তী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। তবে যে বছর পাখি বসবে না, সে বছর কোনো ক্ষতিপূরণ দেওয়া হবে না। ক্ষতিপূরণ পাচ্ছেন বাগান মালিক মঞ্জুরুল হক মুকুল সানার উদ্দীন, সাহাদত হোসেন, শফিকুল ইসলাম মুকুট ও ফারুক হোসেন।
বাগান মালিক শফিকুল ইসলাম মুকুট বলেন, পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয় থেকে টাকা প্রদানের অনুমতির চিঠির পরিপ্রেক্ষিতে টাকা হাতে পেয়েছি।
মালিকদের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, গত তিন বছর ধরে পাখিরা বাগানে আসছে। এর আগের দুই বছরের টাকা মালিকরা যদি পায়, তা হলে ক্ষতিটা অনেক পুষিয়ে নেওয়া সম্ভব। অপরদিকে গাছগুলো ক্ষতিগ্রস্ত না হয়, সে জন্য নিয়মিত পরিচর্যার দাবি জানান।
পাখি সুরক্ষায় এটি সরকারের একটি মহৎ উদ্যোগ। বাগান মালিকদের জন্য সরকারি এমন একটি প্রকল্পের ব্যবস্থা গ্রহণ করায় সরকারকে ধন্যবাদ জানাচ্ছি।
আরেক বাগান মালিক সাহাদত হোসেন বলেন, এই পাখি প্রজননে অতীত কোনো ইতিহাস না থাকলেও খোর্দ্দ বাউসা গ্রামটি খাল-বিলের পাশে হওয়ায় প্রজনন সম্ভব হচ্ছিল। কিন্তু বাগান পরিচর্যা করতে গিয়ে কয়েকটি আমগাছের ডাল কেটে পাখির বাসা ভেঙে দেন আম ব্যবসায়ী। ফলে হুমকির মুখে পড়ে হাজারও শামুকখোল পাখি।
স্থানীয় পাখিপ্রেমিক কিছু মানুষ বাধা দিলে ১৫ দিনের সময় বেঁধে দেন আমবাগান মালিকরা। এই খবর যুগান্তরসহ বিভিন্ন গণমাধ্যমে ছাপা হলে পাখি সুরক্ষায় পাশে দাঁড়ায় র্যা ব।
সুপ্রিমকোর্টের আইনজীবী প্রজ্ঞা পারমিতা রায় পাখির অভয়ারণ্য হিসেবে ঘোষণা করার জন্য আদালতে রিট পিটিশন করেন। পাখির বাসা ভাঙা যাবে না বলে হাইকোর্ট নির্দেশ দেন। পাশাপাশি কি পরিমাণ ক্ষতি হবে তা জানতে চেয়ে প্রতিবেদন দাখিলের জন্য জেলা প্রশাসক ও উপজেলা নির্বাহী অফিসারকে নির্দেশ দেন হাইকোর্ট।
তার পরে আমবাগানের ক্ষতির বিষয়ে জরিপ করে ক্ষতির পরিমাণ নির্ধারণ করে প্রতিবেদন দেন।
উপজেলা কৃষি অফিসার শফিউল্লাহ সুলতান বলেন, ৩৮টি আমগাছে পাখি বাসা বেঁধে আছে। সেই আমগাছের সম্ভাব্য দাম ও পরিচর্যার ব্যয় নিরূপণ করে ক্ষতির পরিমাণ নির্ধারণ করে প্রতিবেদন দেওয়া হয়। সেই মোতাবেক বাগান মালিকরা টাকা হাতে পেয়েছেন।
রাজশাহী বন সংরক্ষণ কর্মকর্তা মেহেদী হাসান বলেন, মন্ত্রণালয়ের ওই চিঠির পরিপ্রেক্ষিতে প্রধান বন সংরক্ষণ (সিসিএফ) কর্মকর্তার দপ্তর থেকে নির্দেশনায় চেক হস্তান্তর করা হয়েছে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা পাপিয়া সুলতানা জানান, গত চার বছর থেকে স্বেচ্ছায় পাখি পাহারা দিয়ে আগলে রেখেছেন খোর্দ্দ বাউসা গ্রামের রফিকুল ইসলাম, শাহাদত হোসেন, বিচ্ছাদ আলী, নাসিম আঞ্জুম, সাইফুল ইসলামসহ গ্রামবাসী। সেই মোতাবেক আমবাগানের ক্ষতি বাবদ টাকা সরকারিভাবে দেওয়া হয়েছে।
আনুষ্ঠানিকভাবে বাগান মালিকদের চেক বিতরণ করা হয়েছে। এতে সভাপতিত্ব করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা পাপিয়া সুলতানা। এ সময় উপস্থিত ছিলেন উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট লায়েব উদ্দিন লাভলু, রাজশাহী বন সংরক্ষণ কর্মকর্তা মেহেদী হাসান, বন্যপ্রাণী ও জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ কর্মকর্তা রাহাত হোসেন, বাঘা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা শফিউল্লাহ সুলতান, ভারপ্রাপ্ত মৎস্য কর্মকর্তা আমিরুল ইসলাম, চারঘাট বন কর্মকর্তা এবিএম আবদুল্লাহ, বাঘা বন কর্মকর্তা জহুরুল ইসলাম প্রমুখ।
// স্টাফ রিপোর্টার //
কুমিল্লায় ১০ হাজার পিচ ইয়াবা, ১ টি ট্রাকসহ ২ মাদক ব্যবসায়ী গ্রেফতার

