মোঃ শফিকুল ইসলাম পিকুল, বিশেষ প্রতিনিধিঃ
খুলনাঞ্চল চিংড়ির জন্য খুবই বিখ্যাত। জিআই পণ্য চিংড়ি বাংলাদেশের হোয়াইট গোল্ড হিসেবে বিশ্বে পরিচিত। খুলনা, বাগেরহাট ও সাতক্ষীরা হতে চিংড়ি দেশের নানা প্রান্তে সরবরাহ করা হয় দেশ- বিদেশেও রপ্তানি করা হয়। কিছু অসাধু ব্যবসায়ীরা অতিশয় মুনাফার লোভে মানব স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর অপদ্রব্য জেলি পুশ করে চিংড়ির ওজন বৃদ্ধি করে আসছে ও ক্ষতিকর রাসায়নিক পদার্থ ব্যবহার করে চিংড়ির রং ক্রেতাদের নজরকাড়া অর্থাৎ আকর্ষণীয় করে তুলছে।
র্যাব-৬, সিপিসি-৩ কোম্পানি অধিনায়ক মেজর মো:সাকিব হোসেন এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানান, ১৩ মার্চ গোপন সংবাদের ভিত্তিতে জানতে পারে যে, বিপুল পরিমাণ চিংড়িতে ইনজেকশনের মাধ্যমে অপদ্রব্য জেলি পুশ করে মাছের ওজন বৃদ্ধি করে অস্বাস্থ্যকর ভাবে বাজারজাত করণের উদ্দেশ্যে বিপুল পরিমান জেলি পুশ চিংড়ি নিয়ে যশোর মনিহার মোড় হয়ে হিমেল সিমান্ত নামক ১ টি বাস সাতক্ষীরা হইতে শেরপুর ও অপর ১ টি আসিফ স্পেশাল বাস সাতক্ষীরা হইতে রংপুর যাইতেছে।
এমন সংবাদের ভিত্তিতে ১৩ মার্চ রাত আনুমানিক ১০টা হইতে ১৪ মার্চ রাত ১ টা ৪০ মিনিট পর্যন্ত র্যাব-৬, সিপিসি-৩, যশোর ক্যাম্পের কোম্পানী কমান্ডার মেজর মোহাম্মদ সাকিব হোসেন, স্কোয়াড কমান্ডার এএসপি মোঃ ফয়সাল তানভীর ও যশোর সদর উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা রিপন কুমার ঘোষ এর সমন্বয়ে র্যাবের একটি আভিযানিক দল যশোর কোতয়ালী মডেল থানাধীন মনিহার মোড়ে অস্থায়ী চেকপোষ্ট বসিয়ে চিংড়ি মাছ ভর্তি উল্লেখিত হিমেল সিমান্ত ও আসিফ স্পেশাল নামক ০২ টি বাস থামিয়ে বাসের বক্সে ও ছাদে রাখা ককসিটে সংরক্ষিত চিংড়িতে জেলি পুশকৃত মোট ১১ টি ককসিট ভর্তি আনুমানিক ৩৪০ কেজি চিংড়িতে ইনজেকশনের মাধ্যমে জেলি পুশ করার প্রমাণ পাওয়া যায়। চিংড়ি মাছে অপদ্রব্য জেলি পুশ করার প্রমাণ পাওয়ায় মৎস্য ও মৎস্য পণ্য উদ্ধারকৃত ককসিট ভর্তি জেলি পুশ চিংড়ি জব্দ করা হয়
এ সময় হিমেল সিমান্ত বাসের মালিক সঞ্জয় গুপ্ত লাল’কে সাতাশ হাজার টাকা ও আসিফ স্পেশাল বাসের মালিক আব্দুল মান্নান কে উনত্রিশ হাজার) টাকা, মোট ৫৬,০০০/- হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে।
জরিমানাকৃত টাকা বিধি মোতাবেক সরকারি কোষাগারে জমা করা হয়েছে এবং জব্দকৃত অপদ্রব্য জেলি পুশ চিংড়ি উপস্থিত জনগণ, মৎস্য কর্মকর্তা সহ অন্যান্য কর্মকর্তাগণের সম্মুখে ধ্বংস করা হয়েছে।

