সিজারিয়ান অপারেশনের প্রায় পাঁচ মাস পর কুমিল্লার দেবিদ্বারে একটি বেসরকারী হসপিটালে এক নারীর পেট থেকে বের করা হলো গজ (ব্যান্ডেজ)। পুরো ৫ মাস গজটি ওই নারীর পেটে থাকায় তাতে পচন ধরে তার জীবন এখন সংকটাপন্ন হয়ে পড়েছে।
মঙ্গলবার সন্ধ্যায় অপারেশনের মাধ্যমে পেট থেকে রক্তাক্ত গজ বের করা হয়।
সূত্র জানায়, প্রায় পাঁচ মাস আগে মুরাদনগর উপজেলার মোগসাইর গ্রামের মো. রাসেল মিয়ার স্ত্রী মোসা. শারমিন আক্তার (২৫) দেবিদ্বারের একটি হাসপাতালে ভর্তি হন।
কর্তব্যরত চিকিৎসক রোজিনা আক্তার তাকে দেখে জরুরি সিজার করতে পরামর্শ দেন। ডাক্তারের পরামর্শ মতো সিজারে সম্মতি দিলে ওই দিনই ডাক্তার রোজিনা আক্তার ও ডা. শামীমা আক্তার লিন্টা তার সিজার করেন।
একটি ছেলে সন্তানের জন্ম হয়।
অপারেশেনের কিছুদিন পর থেকে তার পেটে ব্যথা ও ক্ষত থেকে পুঁজ বের হতে থাকে। মঙ্গলবার সন্ধ্যায় শারমিনকে কুমিল্লার ময়নামতি ক্যান্টনমেন্ট জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে ডা. কর্নেল আবু দাউদ মো. শরীফুল ইসলামের নেতৃত্বে একদল চিকিৎসক তার পেটে অপারেশন করে আস্ত গজ (ব্যান্ডেজ) বের করেন।
শারমিনের বড় ভাই রহুল আমিন জানান, শারমিনের আগেও একটি তিন বছরের মেয়ে সন্তান রয়েছে। তার প্রথম সন্তানও সিজারে হয়েছে। দ্বিতীয় সন্তান প্রসবে সিজার করার পর থেকে তার পেটে অনেক ব্যথা ও পুঁজ পড়তে থাকে।
এ ব্যাপারে অভিযুক্ত গাইনি চিকিৎসক ডা. রোজিনার সাথে মোবাইল ফোনে সকাল ৯টা থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত অনেকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি, যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।
আল ইসলাম হাসপাতালের ব্যবস্থাপনা পরিচালক নিয়াজ মোহাম্মদ হোসেন এনাম বলেন, শারমিনের পেটে গজ থেকে যাওয়ার বিষয়টি আমরা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জানতে পারি। ঘটনাটি প্রায় পাঁচ মাস আগের। রোগীর স্বজনরা এরপর কখনো আমাদের সাথে আর যোগাযোগ করেনি। এমন ঘটনা ঘটে থাকলে আমরা অনুতপ্ত।
ময়নামতি ক্যান্টনমেন্ট জেনারেল হাসপাতালের চিকিৎসক ডা. কর্নেল আবু দাউদ মো. শরীফুল ইসলাম জানান , মঙ্গলবার সন্ধ্যায় অপারেশনের মাধ্যমে পেট থেকে রক্তাক্ত গজ বের করা হয়। বর্তমানে রোগী সংকটাপন্ন রয়েছে। ৪-৫ দিন গেলে অবস্থা বোঝা যাবে।
এ বিষয়ে কুমিল্লার সিভিল সার্জন ডা. মীর মোবারক হোসাইন বলেন, সংশ্লিষ্ট চিকিৎসক ও হাসপাতালের নাম উল্লেখ করে স্বজনরা যদি লিখিত অভিযোগ করে, তাহলে বিষয়টি তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনিয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
// নিজস্ব প্রতিবেদক //

