স্বপ্নেও ভাবিনি পাকা ঘর পাব, এখন শান্তিতে আছি’

স্বপ্নেও ভাবিনি পাকা ঘর পাব, এখন শান্তিতে আছি’

“আশ্রয়ণের অধিকার, শেখ হাসিনার উপহার” মুজিববর্ষ উপলক্ষে সারা দেশের ন্যায় খুলনার রূপসায় ১ম ও ২য় পর্যায়ে মোট ২৮৭ ভূমিহীন ও গৃহহীন পরিবারের জন্য বরাদ্দ করা হয় একটি করে ঘর। দেশের বিভিন্ন জায়গায় যখন আশ্রয়ণ প্রকল্পের কাজ নিয়ে চলছে তোলপাড়। সেখানে রূপসায় সেই আশ্রয়ণ প্রকল্পের ঘর যেন একটা রোল মডেল। গৃহহীনদের জন্য যা স্বপ্নের বাড়ি। চারপাশে ইটের দেয়াল এবং ছাদে লাল, সবুজ ও নীল রঙের টিনের ছাউনি। ভূমিহীনরা কখনো স্বপ্নেও ভাবতে পারেনি যে তারা জীবনের একটা পর্যায়ে এসে এখন একটি পরিপূর্ণ নতুন ঘর পাবেন। দীর্ঘদিন তারা অন্যের বাড়িতে দুঃখে কষ্টে আশ্রিত ছিলেন। এখন তারা প্রত্যেকে উঠেছেন নিজেদের স্বপ্নের নীড়ে।

সরেজমিন সোমবার (১২ জুলাই) সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত ঘাটভোগ ইউনিয়নের শিয়ালি, আলাইপুর, পুটিমারী ,শ্রীফলতলা ইউনিয়নের পালেরবাজার,আইচগাতি ইউনিয়নের দেয়াড়া ও নৈহাটি ইউনিয়নরে নেহালপুর এলাকায় প্রকল্পের ঘর পরিদর্শন করে দেখা গেছে, দেশের অন্যান্য জেলা-উপজেলার তুলনায় রূপসায় আশ্রয়ণ প্রকল্পের নির্মিত ঘরে এখন পর্যন্ত কোনো অনিয়ম বা সমস্যা দেখা দেয়নি। ঘরে ফাটল কিংবা মেঝের সিমেন্ট উঠে যাওয়ার মতো ঘটনা পরিলক্ষিত তেমন হয়নি। এমনকি ঘর নির্মাণের জন্য বরাদ্দকৃত স্থান নির্ধারণে বেশ রুচির পরিচয় দিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। দুই রুম বিশিষ্ট ঘরে রয়েছে একটি রান্নাঘর, টয়লেট। কেউ কেউ শোভাবর্ধনের জন্য ঘরের আঙ্গিনায় লাগিয়েছেন ফুল ও ফলের গাছ। এদিকে অনেক উপকারভোগীরা জানালেন, ঘর পেলেও তারা এখনো বিদ্যুৎ ও পানির সমস্যা রয়েছেন। তারা অতি দ্রুত এই সমস্যা নিরসনের দাবি জানিয়েছেন। গত ১২ জুলাই প্রকল্পের ঘরের কাজ সরেজমিন পরিদর্শন করে খুলনা জেলা প্রশাসক মো. মনিরুজ্জামান তালুকদার। এ সময় তিনি স্থানীয় উপকারভোগীদের সাথে কথা বলে তাদের সার্বিক বিষয়ে খোঁজখবর নেন।

প্রতিবন্ধী নারগিজ খাতুন বাড়ি রূপসার স্বল্পবাহিরদিয়া গ্রামে। পিতা মাতা মারা যাবার পর ভাইদের অবহেলার পাত্র হয়ে পড়েন নারগিজ। বাড়ি থেকে বের করেদেন তাকে। বঞ্চিত করে পৈত্রিক সম্পত্তি থেকে। হাসপাতাল ছিল তার বাড়ি ।বিধবা বোনের বাড়িতে থাকাবস্থায় প্রধানমন্ত্রীর ঘর উপহারপান। ঘর পেয়ে নারগিজ কান্না জড়িত কন্ঠে বলেন, আমি প্রতিবন্ধী মানুষ। হাসপাতাল আমার বাড়ি ছিল। আমাকে ঘর দিয়ে মমতাময়ী মা (প্রধানমন্ত্রী) ঋণী করে দিলেন। আমি কখনও ভাবীনি পাকা ঘরে বসবাস করব।

তি‌নি বলেন, ‘স্বপ্নও দেখেনি কখনও পাকা ঘরে থাক‌তে পার‌বো। বড় স্যার আমারে একটা পাকা ঘর দিয়েছে। এখন রাতে শান্তিতে ঘুমাতে পারবো।’

আইচগাতি ইউনিয়নের দেয়াড়া গ্রামের বাসিন্দা শাহানা বেগম। স্বামী মারা যাবার পর ২১ বছর ধরে ৩ কন্যা সন্তান নিয়ে বাবার মাটির ঘরে বসবাস করতে থাকে। অবশেষে ঘর পেলেন শাহানা। ঘর পেয়ে শাহানা আতœহারা।স্বামী হারা নারী কখনও ভাবতে পারেনি মৃত্যুর আগে পাকা ঘরে ঘুমাবে। আজ সে প্রধানমন্ত্রীকে অনেক দোয়া করেন। এছাড়া নৈহাটি ইউনিয়নের বাসিন্দা খুশিনা বেগম বয়স (৫০)। অসুস্থ স্বামী, ২ পুত্র ৪কন্যা নিয়ে তার সংসার। বিবাহের পর শশুর বাড়ির সাথে সর্ম্পক নষ্ট হওয়ার পর রূপসায় বাসা ভাড়া থাকেন।বর্তমানে স্বামী স্ত্রী দুই জনই অসুস্থ। দুইটি মেয়েরা মাছ কম্পানিতে কাজ করেন। ২টা ছেলে ছোট ও ২টা মেয়ে পড়াশুনা করে। আয়ের তেমন কোন লোক নেই। প্রধানমন্ত্রীর উপহার পাওয়ার খবর পেয়ে খুশিনা বেগম অসুস্থ অবস্থায় বলেন, আল্লাহ শেখ হাসিনাকে তুমি হায়াতদান করুন। আমাদের মত লোকদের পাকা জায়গায় থাকার ব্যবস্থা করে দিয়েছেন। তুমি তাকে রক্ষা করিও।তিনি আরও বলেন, খাই বা না খাই,পাকা জায়গাই ত থাকতে পারব। ভাড়ার টাকা ও গুনতে হবে না মাসে।

এসকল মানুষের মত অনেক পরিবার পেয়েছে স্বপ্নের ঘর।এতোদিন সবাই গৃহহীন হয়ে অন্যের বাড়িতে পরিবারের সদস্যদের নিয়ে দিনাতিপাত করে আশ্রিত ছিলেন। এখন তারা প্রত্যেকে প্রধানমন্ত্রীর উপহারের ঘর পেয়ে বেজায় খুশি। তাদের চোখে মুখে যেন হাসির ঝিলিক। মুজিববর্ষে তাদের সকলের ভাগ্যে বদল হয়েছে। স্বপ্নের নতুন ঘর পেয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রতি তারা প্রত্যেকে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে। কখনো স্বপ্নেও ভাবিনি একটি পাকা ঘর পাব। কিন্তু শেখের বেটির কারণে আমাদের সেই কাঙ্খিত স্বপ্ন পূরণ হয়েছে। এখন মরার আগে কিছুদিন শান্তিতে বাঁচতে পারব।

উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, আশ্রয়ণ প্রকল্প-২ এর আওতায় দ্বিতীয় পর্যায়ে ২১৫টি পাকা ঘর নির্মাণ করা হচ্ছে। প্রতিটি ঘরের খরচ ধরা হয়েছে ১ লাখ ৯০ হাজার টাকা। প্রথম পর্যায়ে ৭২ ভূমিহীন পরিবার পেয়েছিল প্রধানমন্ত্রীর এই উপহার। প্রতিটি ঘরের খরচ ধরা হয়েছে ১ লাখ ৭১ হাজার টাকা। এ ছাড়া প্রতি ১০টি ঘরের জন্য দেওয়া হবে একটি করে টিউবওয়েল এবং বিদ্যুতায়নও করা হবে ঘরগুলো।

উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মো. আরিফ হোসেন বলেন, প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা অনুযায়ী গুণগতমান বজায় রেখে গৃহহীনদের একটা মানসম্মত ও টেকসই ঘর নির্মাণ করে দেওয়ার জন্য আমরা বদ্ধপরিকর। উপজেলার ২৮৭টি ঘর তৈরী করা হয়েছে। ঘর তৈরিতে কোন অনিয়ম হয়নি।

উপজেলা নির্বাহী অফিসার রুবাইয়া তাছনিম বলেন, প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা অনুযায়ী গুনগতমান বজায় রেখে ভূমিহীন, গৃহহীন, বিধবা ও প্রতিবন্ধীদের ঘর তৈরি করে দেয়া হচ্ছে। মুজিববর্ষ উপলক্ষে উপহার হিসেবে ইতিমধ্যে সেসব ঘর হস্তান্তর করা হয়েছে। বেশিরভাগ ঘরে বিদ্যুৎ সংযোগ দেওয়া হয়েছে। পানিরও ব্যবস্থা করা হয়েছে। তবে যেসব ঘরে বিদ্যুৎ ও পানির ব্যবস্থা এখনো হয়নি তা বাস্তবায়ন করার জন্য বিদ্যুৎ বিভাগ ও জনস্বাস্থ্য বিভাগের সাথে আলোচনা হয়েছে। দ্রুত সময়ের মধ্যে তা কার্যকর করা হবে। তাছাড়া উপজেলায় মোট ২৮৭ টি ঘর তৈরী করা হয়েছে। তৈরীকৃত ঘরগুলোতে এখনও পর্যন্ত কোন সমস্যা হয়নি।

//আ. রাজ্জাক শেখ, খুলনা ব্যুরো//

পড়ুন দৈনিক বিশ্ব …

খুলনায় সেনা প্রধান দুঃস্থদের মাঝে খাদ্য সহায়তা বিতরণ করেন

 

 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *