রামপালে ব্যাবসায়ীদের সাথে আইন শৃঙ্খলা বিষয়ক সভা অনুষ্ঠিত

জেনিভা প্রিয়ানা, বিশেষ প্রতিনিধি  ||

রামপালের মল্লিকের বেড় ইউনিয়নের ছোট সন্ন্যাসী বাজারে ব্যবসায়ীদের সাথে আইন শৃঙ্খলা পরিস্হিতি রাখার বিষয়ে এক মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

শুক্রবার (১ সেপ্টেম্বর) বিকাল ৫ টায় উপজেলার মল্লিকেরবেড় ইউনিয়নের ছোট সন্নাসী বাজারে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়। এ সময় প্রধান অতিথির বক্তব্য দেন রামপাল থানার অফিসার ইন-চার্জ এস, এম আশরাফুল আলম, ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সভাপতি তালুকদার মুজিবর রহমানসহ ব্যাবসায়ী নেতৃবৃন্দ। এ সময় উপস্থিত ছিলেন সকল দোকান মালিক,  ইউপি সদস্য, স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ, বীর মুক্তিযোদ্ধা, রাজনৈতিক দলের নেতা কর্মী ও গ্রাম পুলিশ। তাদের সাথে বাজারের নিরাপত্তাসহ মল্লিকের বেড় ইউনিয়নের সার্বিক আইন-শৃঙ্খলা স্বাভাবিক রাখার বিষয়ে সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়।

বাজারে নতুন করে সিসি ক্যামেরা স্থাপন, নাইটগার্ডের সংখ্যা বৃদ্ধিসহ গ্রাম পুলিশের রাত্রি কালীন ডিউটিতে নিয়োজিত থাকার বিষয়েও সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। কেউ দায়িত্ব পালনে অবহেলা করলে তার বিরুদ্ধে আইনগত পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলেও জানানো হয়।

বাগেরহাটের রামপালে মোবাইল টাওয়ার থেকে পড়ে শ্রমিকের মৃত্যু

জেনিভা প্রিয়ানা, বিশেষ প্রতিনিধি ||

বাগেরহাটের রামপালের ভাগা এলাকায় বাংলালিংকের মোবাইল টাওয়ারে উঠে কাজ করার সময় অসাবধানতাবশত পা ফসকে পড়ে গিয়ে  এক শ্রমিক মর্মান্তিকভাবে নিহত হয়েছে। নিহত শ্রমিক ঝিনাইদহ জেলার শৈলকূপা উপজেলার কদমতলা গ্রামের মো. শরিফুল ইসলামের পুত্র মো. তরুন শেখ (২২)।

এ ঘটনায় বুধবার (৩০ আগষ্ট) বিকাল ৫ টায় বাদী হয়ে রামপাল থানায় আরও এক অপমৃত্যু মামলা করেছেন মেডিকাল অফিসার ডাক্তার তাহারিমা খাতুন। রামপাল থানার ফয়লা ফাড়ির এসআই কামাল হোসেন মরদেহের সুরতহাল রিপোর্ট তৈরী করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স থেকে জিম্মায় নিয়েছেন।

জানা গেছে, বুধবার (৩০ আগষ্ট) দুপুর আড়াইটায় উপজেলার ভাগা এলাকায় বাংলালিংক কোম্পানির টাওয়ারে চড়ে শ্রমিক তরুন। ওই সময় অসাবধানতাবশত পা ফসকে গিয়ে ১০০ ফুট নিচেয় পড়ে যায়। ঘটনাস্থলেই সে মারা যায়। পরে দুপুর সাড়ে ৩ টায় রামপাল স্বাস্থ্যকেন্দ্রে নিলে কর্তব্যরত চিকিৎসক ডাক্তার তাহারিমা খাতুন তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

এ বিষয়ে রামপাল থানার ওসি এস, এম আশরাফুল আলম বলেন, বাংলালিংক টাওয়ারে উঠে শ্রমিক তরুণ কাজ করার সময় পড়ে গিয়ে মৃত্যুবরণ করে। ময়না তদন্তের জন্য আইনি প্রক্রিয়া চলছে।

বাগেরহাটের রামপাল বিদ্যুৎকেন্দ্রের ৪ তার চোর গ্রেফতার

জেনিভা প্রিয়ানা, বিশেষ প্রতিনিধি ||

বাগেরহাটের রামপাল থানা পু্লিশ অভিযান চালিয়ে চার জন তামার তার চোরকে গ্রেফতার করেছে। আটককৃতদের বাগেরহাটের বিজ্ঞ আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে।

আটককৃতরা হলো উপজেলার শ্রীফলতলা গ্রামের সেলিম হাওলাদারের পুত্র লিটন হাওলাদার (৪০), কালেখারবেড় গ্রামের বজলুর শেখের পুত্র মো. সোহাগ শেখ (২৩), কালিকাপ্রসাদ গ্রামের মোজাম শেখের পুত্র নাকির শেখ (২৩) ও বর্ণি গ্রামের মালেক মোল্লার পুত্র খান জাহান মোল্লা (২৮)।

পু্লিশ জানায়, গত ২৬ আগষ্ট বিকালে রামপাল তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রের লেভার কলোনির পাশ থেকে চোর চক্রের সদস্যরা ৯০ কেজি মূল্যবান তামার তার চুরি করে। এদের মধ্যে কয়েকজনকে হাতেনাতে আটক করে পু্লিশ। ওই সময় সন্ধিগ্ধ বেশ কয়েকজন পালিয়ে যায়। এরপর মঙ্গলবার (২৯ আগষ্ট) রাতে পু্লিশ রামপালের বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে চারজন সন্ধিগ্ধ আসামীকে আটক করে। প্রাথমিকভাবে জিজ্ঞাসাবাদে তাদের বিরুদ্ধে চুরির সাথে জড়িত থাকার তথ্য মিলেছে বলে পু্লিশ নিশ্চিত হয়েছে।

এ বিষয়ে রামপাল থানার ওসি এস, এম আশরাফুল আলমের কাছে জানতে চাইলে তিনি তাদের আটক ও বুধবার (৩০ আগষ্ট) বাগেরহাটের আদালতে পাঠানোর বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, আইন শৃঙ্খলা রক্ষায় আমরা কাজ করে যাচ্ছি।

বাগেরহাটের রামপালে গৃহবধূর আত্মহত্যা অভিযোগ

জেনিভা প্রিয়ানা, বিশেষ প্রতিনিধি  ||

বাগেরহাটের রামপালে হাসপাতালে এক পুরুষ কর্মকর্তার পর মাত্র ছয় দিনের ব্যাবধানে আরও এক গৃহবধূ আত্মহত্যা করেছে বলে খবর পাওয়া গেছে। এ ঘটনায় রামপাল থানায় একটি অপমৃত্যু মামলা দায়ের করেছেন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে মেডিকাল অফিসার ডাক্তার তাহারিমা খাতুন। বুধবার (৩০ আগষ্ট) বেলা ১১ টায় উপজেলার সুন্দরপুর গ্রামের রবিন ডাকুয়ার স্ত্রী দিপালী ডাকুয়া (৩৫) ঘরের সাথে ওড়না পেঁচিয়ে আত্মহত্যা করেন। তার স্বজনেরা মুমূর্ষু অবস্থায় ওই গৃহবধূকে রামপাল স্বাস্থ্য কেন্দ্রে নেওয়ার পরে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। রামপাল থানা পু্লিশের এসআই  ইসমাইল হোসেন মরদেহের সুরতহাল রিপোর্ট তৈরী করে ওই দিন দুপুরে বাগেরহাট মার্গে প্রেরণ করেন।

কি কারণে বা কেন আত্মহত্যা করেছে সেটি খতিয়ে দেখছে পু্লিশ। উল্লেখ গত ২৩ আগষ্ট রামপাল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সহকারী নার্স (ব্রাদার) ইলিয়াস কবির আত্মহত্যা করেন।

অপমৃত্যু বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন রামপাল থানার ওসি এস, এম আশরাফুল আলম।

রামপালে দ্রব্যমূল্যের উর্ধ্বগতিতে দিশেহারা নিন্ম আয়ের মানুষ

জেনিভা প্রিয়ানা, বিশেষ প্রতিনিধি ||

রামপালে দ্রব্যমূল্যের আকাশছোঁয়া দামে দিশেহারা হয়ে পড়েছে নিন্মবিত্ত ও নিন্ম আয়ের মানুষেরা। আয়ের সাথে ব্যায়ের সংগতি না থাকায় দিন দিন বাজার গুলোতে ক্রেতা শূন্য হয়ে পড়ছে। বাজারে মালামালের সরবরাহ ঠিক থাকলেও দিগুণ-তিনগুণ দামে নিত্যপণ্য কিনতে পারছেন না তারা।

উপজেলার ফয়লাহাট, পেড়িখালী বাজার, ঝনঝনিয়া বাজার, কালিগন্জ বাজার ঘুরে দেখা গেছে এবং বেচা-বিক্রির সাথে জড়িতদের সাথে কথা বলে জানাগেছে, এক শ্রেণীর মুনাফাখোর সিন্ডিকেট ব্যাবসায়ীদের সিন্ডিকেটের কারণে বাজারে আগুন লেগেছে। হু হু করে বাড়েছে পণ্যের দাম। এ চাড়াও বাজার সংশ্লিষ্টদের তদারকি না থাকায় আরও বেপরোয়া হয়ে উঠেছে সিন্ডিকেট ব্যাবসায়ীরা।

ফয়লা বাজারের কাঁচা বাজার ব্যাবসায়ী আল আমিন জানান, খুলনার মোকাম থেকে গত কয়েক মাস ধরে দিগুণ তিনগুণ দামে প্রত্যেকটি তরিতরকারি কিনতে হচ্ছে। এতে আগের মত আমাদের বেচা-বিক্রি হচ্ছে না। দাম শুনে ক্রেতারা মুখ ফিরিয়ে নিচ্ছেন। খুচরা বাজারে আমরা আগের মত ক্রেতা ধরে রাখতে পারছি না। একই কথা বলেন, ভাগা বাজারের রোকন শেখ, শ্রীফলতলা বাজারের আনার শেখ, রামপাল সদরের ফারুক, শহীদ, নূরজামাল ও পেড়িখালী বাজারের মাহামুদ শেখ।

দিন মজুর খলিল বলেন, প্রতিদিন ২/৩ শ টাকা আয় করি। সবদিন আবার আয় হয় না। ৫ জনের সংসার। দুইটি ছেলে মেয়ে লেখাপড়া করে। আমার সংসার চলছে না। একই কথা বলেন আসগর, মোন্তাজ মোল্লাসহ অনেকে।

রামপাল সদরের মুদি ব্যাবসায়ী নূর ইসলাম জানান, মোকামে গিয়ে তিনগুণ দামে পণ্য কিনে আনার পর তা বিক্রির সময় ক্রেতাদের মুখ ফ্যাকাসে হয়ে যায়।

সরু চালের পাশাপাশি মোট চালের দাম কেজিতে ৩ থেকে ৫ টাকা পর্যন্ত বৃদ্ধি পেয়েছে। মোটা চাল সর্বনিম্ন ৫০ থেকে ৫৫ টাকা, সরু চাল ৭০ থেকে ৮৫ টাকা, আটা খোলটা প্রতি কেজি ৬০ টাকা, প্যাকেটজাত ৭০ টাকা, সয়াবিন খোলা তেল ১৫০, বোতলজাত ১৭৯ টাকা ও শরিষার তেল খোলাটা ২৪০ টাকা এবং বোতলজাত ২৮০ টাকায় বিক্রি হতে দেখা গেছে। মশলার দামও আকাশছোঁয়া। জিরা প্রতি কেজি ১২ শত, মশুর ডাল দেশী ১৪০ ও মোট মশুর ১০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

তরকারি আলু ৪৫, বেগুন ৭০, কুমড়া ৩০, ঢেড়শ ৪০, পেঁপে ২০, কুশি ৪০, পটল ৩০, ঝিঙা ৩৫, চাল কুমড়া পিস ২০ টা, কাচা মরিচ ১৬০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এছাড়াও ডিটারজেন্ট, বেকারি সামগ্রী ১৫০ টাকা থেকে ২২০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।

রামপাল উন্নয়ন সংগ্রাম সমন্বয় কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক এম, এ সবুর রানা বলেন, ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ দপ্তর এব্য জেলা বা উপজেলা প্রশাসনের নজরদারীর অভাবে ব্যাবসায়ী সিন্ডিকেটে লাগাম না টানায় দ্রব্যমূল্যে বেড়েই চলেছে। বাজার সংশ্লিষ্টরা নিয়মিত বাজার তদারকি করলে এবং নজরদারী বৃদ্ধি করলে পণ্যের দাম কমানো সম্ভব হতো। তিনি বাজার সিন্ডিকেটদের চিহ্নিত করে আইনের আওতায় নেওয়ার জোর দাবী করেন।

রামপালে পুলিশের পৃথক অভিযানে তামার তারসহ ২ চোর আটক

জেনিভা প্রিয়ানা, বিশেষ প্রতিনিধি ||

বাগেরহাটের রামপাল থানা পু্লিশ পৃথকভাবে অভিযান চালিয়ে রামপাল তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রের অভ্যন্তর থেকে দুই তার চোরকে তারসহ আটক করেছে। এদের বিরুদ্ধে রামপাল থানায় পৃথক দুইটি মামলা দায়ের হয়েছে। আটককৃতদের বাগেরহাটের বিজ্ঞ আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে। আটককৃতরা হলো রামপাল উপজেলার সাতপুকুরিয়া গ্রামের লিয়াকত হাওলাদারের পুত্র মাহাফুজ হাওলাদার (২৬) ও মোংলা উপজেলার সামসুর রহমান রোডের মৃত শাহাজান হাওলাদারের পুত্র রুবেল হাওলাদার (৩৫)।

জানা গেছে, রামপাল থানা পু্লিশের এসআই জাহিদুর রহমান শুক্রবার বিকাল সাড়ে ৫ টায় তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রের অভ্যন্তরের শ্রমিক কলোনির পাশে অভিযান চালান। ওই সময় ৯০ কেজি তামার তারসহ মাহাফুজকে আটক করেন। ওই সময় চুরির সাথে জড়িত আরও ৪ আসামীসহ অজ্ঞাত ৭/৮ জন পালিয়ে যায়।

গত ২৮ জুলাই অপর এক চুরি মামলার আসামী রুবেল হাওলাদার কে রামপালের তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রের পাশ থেকে আটক করে পু্লিশ।

রামপাল থানার ওসি এস, এম আশরাফুল আলম মালামালসহ দুই পেশাধারী চোর আটক এবং আদালতে প্রেরণের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

রামপালে গাঁজাসহ কারবারী আটক

জেনিভা প্রিয়ানা, বিশেষ প্রতিনিধি||

রামপাল থানা পু্লিশ অভিযান চালিয়ে আ. কাদের জিলানী (২১) নামের এক মাদক কারবারীকে আটক করেছে। এ ঘটনায় দুই কারবারীর বিরুদ্ধে রামপাল থানায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে একটি মামলা দায়ের হয়েছে। আটক কাদের উপজেলার পেড়িখালী গ্রামের আবু্ল কালাম শেখের পুত্র।
পু্লিশ জানায়, উপজেলার সিকিরডাঙ্গা গ্রামের সবুর শেখের পোল্ট্রি ফার্মের সামনের তিন রাস্তার সামনে (২৪ আগষ্ট) রাত সোয়া ১০ টায় এসআই শেখ আসগর আলী অভিযান চালান। এ সময় আ. কাদের কে ৫০ গ্রাম গাঁজাসহ আটক করেন। ওই সময় কাদেরের সহযোগী অপর আসামী রাজু ইজারদার (৪৪) পালিয়ে যায়।

পলাতক রাজু একই গ্রামের মৃত কালাম ইজারদারের পুত্র। শুক্রবার (২৫ আগষ্ট) বেলা ১১ টায় আটক কাদেরকে বাগেরহাটের বিজ্ঞ আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে। রামপাল থানার ওসি এস, এম আশরাফুল আলম বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

বাগেরহাটের রামপালে ট্রাক চাপায় মোটরসাইকেল আরোহী ৩ জন নিহত

জেনিভা প্রিয়ানা, বিশেষ প্রতিনিধি||

বাগেরহাটের রামপালে ট্রাক চাপায় মোটরসাইকেলের তিন আরোহী মারা গেছে।

বৃহস্পতিবার (২৪ আগস্ট) রাত সোয়া ৯টার দিকে খুলনা-মোংলা মহাসড়কের তেতুলিয়া ব্রিজ এলাকায় এই দুর্ঘটনা ঘটে।

নিহতরা হলেন-রামপাল উপজেলার বেলাই গ্রামের মোতাচ্ছের হোসেনের ছেলে আরিফ (২৭),একই উপজেলার শংকর নগর গ্রামের বাসার হোসেনের ছেলে এনামুল (২৬), ফকিরহাট উপজেলার লখপুর গ্রামের শুকুর হাওলাদারের ছেলে সাইদুল (২৫)।

বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন রামপাল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এস এম আশরাফুল আলম।

নিহত তিনজনই ফয়লাহাট এলাকার সেলিম পাটোয়ারীর চিংড়িঘেরে কর্মরত ছিলেন।

রামপাল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এস এম আশরাফুল ইসলাম বলেন, রামপাল উপজেলার ফয়লা বাজার এলাকা থেকে মোটরসাইকেল যোগে চিংড়ি ঘেরে যাওয়ার সময় খুলনা-মংলা মহাসড়কের তেতুলিয়া ব্রিজ এলাকায় পৌঁছালে বিপরীত দিক থেকে আসা একটি ট্রাক তাদেরকে চাপা দেয়। এতে ঘটনাস্থলেই  তিনজন মারা যায়।

মরদেহ উদ্ধার করে বাগেরহাটের কাটাখালি হাইওয়ে থানা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।

রামপালে তীব্র লবণাক্ততার মধ্যেও আমন চাষে ব্যাস্ত চাষীরা

জেনিভা প্রিয়ানা, বিশেষ প্রতিনিধি ||

রামপালে আমন চাষীরা চারা রোপনে ব্যাস্ত সময় পার করছেন। তীব্র লবণাক্ততার মধ্যে আগাম বৃষ্টি ও অনুকূল পরিবেশ তৈরী হওয়ায় চাষীরা বীজতলা থেকে চারা তুলে মাঠে রোপন করছেন। সবকিছু ঠিক থাকলে কৃষকেরা কাঙ্খিত ফলনের আশা করছেন।

রামপাল উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানাগেছে, চলতি বছর এ উপজেলায় ৮ হাজার ৪০০ হেক্টর জমিতে আমন ধানের চাষ হচ্ছে। গত বছর (২০২১-২২) আবহাওয়া অনুকূল না থাকায় এবং বৃষ্টি খুব কম হওয়ায় এবং জমিতে লবনের মাত্রা বেশী থাকায় লক্ষ্যমাত্রা পূরণ হয়নি। ওই বছর লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছিল ৮ হাজার ২৫০ হেক্টর। কিন্তু রোপন হয়েছিল ৭ হাজার ৮৩৮ হেক্টর। লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে ৪১২ হেক্টর জমির চাষাবাদ কমে যায়। তার আগের বছরে (২০২০-২১) লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছিল ৮ হাজার ২০০ হেক্টর। অর্জিত হয়েছিল ৮ হাজার ২২০ হেক্টর।

চলতি আমন রোপনে খরিপ -২ এর ২০২৩-২৪ সালের ব্লকওয়ারী রোপা আমন আবাদের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে গৌরম্ভা ইউনিয়নে হাইব্রীড ৬০ হেক্টর, উফশী ৩৬০ ও স্থানীয় জাতের ৯০ হেক্টরসহ মোট আবাদ হচ্ছে ৫১০ হেক্টর। উজলকুড় ইউনিয়নে হাইব্রীড ৫০, উফশী ৩০০ ও স্থানীয়সহ মোট ৪৪০ হেক্টর। বাইনতলায় হাইব্রীড ১১০, উফশী ৬৬০ ও স্থানীয় ১৪০ সহ মোট ৯১০ হেক্টর। রামপাল সদরে হাইব্রীড ৮০, উফশী ৪৮০ ও স্থানীয় ১৪০ সহ মোট ৭০০ হেক্টর। রাজনগরে হাইব্রীড ৫০, উফশী ৩০০ ও স্থানীয় ৮০ সহ মোট ৪৩০ হেক্টর। হুড়কায় হাইব্রীড ৯০, উফশী ৫৪০ ও স্থানীয় ১৪০ সহ মোট ৭৭০ হেক্টর। পেড়িখালীতে হাইব্রীড ৯০, উফশী ৫৪০ ও স্থানীয় ১৫০ সহ মোট ৭৮০ হেক্টর। ভোজপাতিয়ায় হাইব্রীড ৪০, উফশী ২৪০ ও স্থানীয় ৭০ সহ মোট ৩৫০ হেক্টর। মল্লিকেরবেড়ে হাইব্রীড ৩৭০, উফশী ২ হাজার ২২০, স্থানীয় ৪১০ সহ মোট ৩ হাজার হেক্টর। বাশতলীতে হাইব্রীড ৬০, উফশী ৩৬০ ও স্থানীয় ৯০ সহ মোট ৫১০ হেক্টর জমিতে আবাদ হচ্ছে।

উপজেলার ১০ টি ইউনিয়নে হাইব্রীড ১ হাজার, উফশী ৬ হাজার ও স্থানীয় জাতের ১ হাজার ৪০০ হেক্টর সহ মোট ৮ হাজার ৪০০ হেক্টর জমিরও বেশি আমন আবাদের আওতায় আসবে বলে আশা প্রকাশ করা হয়েছে।

এ বিষয়ে রামপাল উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. ওয়ালিউল ইসলাম সাংবাদিকদের জানান, আরও কিছু বৃষ্টি হলে, আবহাওয়া অনুকূল থাকলে আশানুরূপ ফলন মিলবে বলে আশা প্রকাশ করে বলেন, সরকারীভাবে কৃষকদের প্রশিক্ষণ, পাওয়ার টিলার, রোপন যন্ত্র, বীজ সারসহ পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। মাঠ পর্যয়ে কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা, উপ সহকারী কৃষি কর্মকর্তাগণ চাষীদের সার্বক্ষণিক পরামর্শ দিয়ে সহায়তা করছেন।

বাল্যবিবাহ প্রতিরোধে কর্মশালা অনুষ্ঠিত

জেনিভা প্রিয়ানা, বিশেষ প্রতিনিধি||

রামপালে বাল্যবিবাহ বন্ধে কাজী ও ধর্মীয় নেতৃবৃন্দের করণীয় সম্পর্কিত করণীয় বিষয়ক এক কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়েছে। রামপাল থানার আয়োজনে ও ওয়ার্ল্ড ভিশন বাংলাদেশের সহযোগীতায় এ কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়।

বৃহস্পতিবার (২৪ আগষ্ট) বেলা ১১ টায় রামপাল থানার সভাকক্ষে এসআই ইসমাইল হোসেনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত কর্মশালায় প্রধান অতিথির বক্তব্য দেন, রামপাল থানার অফিসার ইন-চার্জ এস, এম আশরাফুল আলম। বিশেষ অতিথির বক্তব্য দেন, ওয়ার্ল্ড ভিশন বাংলাদেশ রামপালের সিনিয়র ম্যানেজার ফুলি সরকার, উপজেলা দুদক প্রতিরোধ কমিটির সভাপতি সাবেক সহকারী অধ্যাপক আকবর আলী, উপজেলা বিবাহ রেজিস্টার কাজী সমিতির সভাপতি মাওলানা নাজিম উদ্দিন, রামপাল সদর থানা মসজিদের পেশ ইমাম মাওলানা নূরুল ইসলাম, ইমাম হেমায়েত উদ্দিন, প্রেসক্লাব রামপাল এর সভাপতি এম, এ সবুর রানা প্রমুখ।

কর্মশালায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে ওসি এস, এম আশরাফুল আলম বলেন, মাদক সেবন ও বিক্রয়ের সাথে জড়িতদের প্রতিরোধ, বাল্যবিবাহ রোধ, মানুষকে উষ্কানি দেওয়া ও গুজব ছড়ানো বন্ধ করা সম্ভব। খাবাপ মানুষ কে ভালোবাসা দিয়ে তাদের ভালো পথে নিয়ে আসাতে হবে। সকলের ভিতরে সামাজিক বন্ধন তৈরী করতে হবে। সমাজের সকলকে নিয়ে খারাপ লোকের তালিকা করুন। উগ্রবাদ পরিহার করে আলোর পথে আনতে হবে। ইসলামের আলোকে সবাইকে আলোকিত করুন। কোন এলাকায় কোন সমস্যা থাকলে নির্দিধায় আমাকে জানান। রাজনগর এলাকায় কতিপয় তার চোরদের চিহ্নিত করে তাদের ভালো পথে আনতে হবে। রাষ্ট্র বিরোধী পোষ্ট, প্রচারণা বন্ধ করতে হবে। ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত করা যাবে না।
বাল্যবিবাহ প্রবণ এলাকা চিহ্নিত করতে হবে। এবার থেকে বাল্যবিবাহের সাথে জড়িতদের ধরে আইনের আওতায় আনতে হবে।
এরপৃুর্বে বিশেষ অতিথি ফুলি সরকার পাওয়ার পয়েন্টের মাধ্যমে বাল্যবিবাহ বন্ধে পুলিশের ভূমিকা, ইমামগণের ভূমিকা ও বিবাহ রেজিস্টারগণের ভূমিকা বিষয়ে বিস্তরিত তুলে ধরেন। সবাই ঐক্যবদ্ধ হয়ে কাজ করলে বাল্যবিবাহের অভিশাপ থেকে মুক্তি মিলবে। এসডিজি বাস্তবায়নে বড় বাধা বাল্যবিবাহ। এর উত্তরণ ঘটাতে পারলে আমাদের জাতিকে একটি সমৃদ্ধিশালী জাতি হিসাবে গড়ে তোলা সম্ভব হবে।