রামপালে পুলিশের নামে টাকা আদায় করা বোমারু মিজান গ্রেফতার

এ এইচ নান্টু, বিশেষ প্রতিনিধি ||

রামপালের কালেখারবেড় গ্রামের তাসলিমা বেগম নামের এক নারীর কাছ থেকে পুলিশের নাম ভাঙ্গিয়ে টাকা আদায়ের ঘটনা ঘটছে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী নারী মো. মিজানুর রহমান শেখ ওরফে বোমা মিজান (৫৫) ‘র বিরুদ্ধে রামপাল থানায় একটি মামলা দায়ের করেছেন।

পুলিশ প্রতারণার অভিযোগে রামপাল থানা এলাকা থেকে ৯ এপ্রিল মঙ্গলবার বিকালে মিজানকে আটক করেছে। সে উপজেলার রাজনগর ইউপির কালেখারবেড় গ্রামের হাবিবুর রহমান শেখের পুত্র। রামপাল থানার ওসি এস, এম আশরাফুল আলম সাংবাদিকদের জানান, পুলিশের নাম করে প্রতারনার মাধ্যমে ভুক্তভোগী নারী তাসলিমা বেগমের কাছ থেকে ১৮ হাজার টাকা হাতিয়ে নেয়।

এ ঘটনায় ভুক্তভোগী মহিলা বিষয়টি রামপাল থানা পুলিশকে জানালে ওসি (তদন্ত) রাধেশ্যাম সরকার, এসআই লিটন কুমার বিশ্বাস, এসআই সঞ্জয় পাল ও সঙ্গীয় ফোর্সসহ রামপাল থানা পুলিশের একটি চৌকশ টিম আসামী মো. মিজানুর রহমান শেখ কে রামপাল থানা এলাকা হতে আটক করে। এসময় তার নিকট হতে নগদ ১৮ টাকা উদ্ধার করা হয়।

ভুক্তভোগী তাসালিমা বেগম রামপাল থানায় একটি অভিযোগ দায়ের করলে রামপাল থানায় একটি নিয়মিত মামলা রুজু হয়। আসামী মিজানের বিরুদ্ধে ইতিপূর্বে একাধিক প্রতারণার অভিযোগসহ বিভিন্ন থানায় একাধিক মামলা রয়েছে বলে জানান পুলিশের ওই কর্মকর্তা।

রামপালে সাংবাদিক নেতৃবৃন্দের সাথে নবাগত ওসি আশরাফুলের মতবিনিময়

এ এইচ নান্টু, বিশেষ প্রতিনিধি ||

প্রেসক্লাব রামপালের সাংবাদিক নেতৃবৃন্দের সাথে নবাগত ওসি এস, এম আশরাফুল আলমের এক মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। রবিবার রাত সাড়ে ৮ টায় রামপাল থানার ওসির কক্ষে এ মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়।

প্রেসক্লাব রামপালের সভাপতি এম, এ সবুর রানা’র সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত মতবিনিময় সভায় আলোচনা করেন ক্লাবের সি. সহসভাপতি মল্লিক মোতাহার হোসেন, সাধারণ সম্পাদক সুজন মজুমদার, সাবেক সাধারণ সম্পাদক আমিনুল হক নান্টু, সাংগঠনিক সম্পাদক মিলন মন্ডল, অর্থ সম্পাদক তারিকুল ইসলাম, দপ্তর সম্পাদক মোল্লা হাফিজুর রহমান, প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক সরদার মহিদুল ইসলাম, তথ্য ও ক্রীড়া সম্পাদক মেহেদী হাসান, সদস্য সুব্র ঢালী, লায়লা সুলতানা প্রমুখ।নবাগত ওসি আশরাফুল কে আইন শৃঙ্খলা রক্ষায় সার্বিক সহযোগিতার আশ্বাস প্রদান করে সাংবাদিক নেতৃবৃন্দরা বলেন, আমরা গণমুখী সাংবাদিকতা ও উন্নয়নশীল সাংবাদিকতায় বিশ্বাস করি। এরই ধারাবাহিকতায় রামপালে আইন শৃঙ্খলা রক্ষায় পুলিশের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকার পাশাপাশি সাংবাদিকদের ও দায়িত্ব রয়েছে পুলিশকে ইতিবাচক কাজে সহযোগিতা করা। ওই সময় ওসি আশরাফুল আলম বলেন, আমি রামপালের আইন শৃঙ্খলা রক্ষায় আপনাদের সহযোগিতা কামনা করছি। আপনারা সঠিক তথ্য প্রদান করে পুলিশকে সহযোগিতা করবেন।

রামপালে আইন শৃঙ্খলা বিষয়ে সুধীজনের সাথে মতবিনিময় সভা

এ এইচ নান্টু, বিশেষ প্রতিনিধি ||

রামপালের উজলকুড় ইউনিয়নে আইন শৃঙ্খলা বিষয়ক এক মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। শনিবার বিকাল সাড়ে ৪ টায় উপজেলার উজলকুড় ইউনিয়নের ফয়লাহাট পুলিশ ফাঁড়ির চত্বরে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়।

উজলকুড় ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মুন্সি বোরহান উদ্দিন জেডের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্য দেন রামপাল থানার নবাগত ওসি এস, এম আশরাফুল আলম। অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য দেন উজলকুড় ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান গাজী আক্তারুজ্জামান, সাধারণ সম্পাদক হাওলাদার জুলফিকার আলি ভুট্টো, গোবিন্দপুর এ, জে, এস ফাজিল ডিগ্রী মাদরাসা অধ্যক্ষ মাওলানা ইউনূস আলী, প্রেসক্লাব রামপালের সভাপতি এম, এ সবুর রানা, সাধারণ সম্পাদক সুজন মজুমদার, সাবেক সাধারণ সম্পাদক আমিনুল ইসলাম নান্টু, ফয়লাহাট পুলিশ ফাড়ির ইনচার্জ ইসমাইল হোসেন, ফায়লাহাট বাজার সমিতির সভাপতি হাওলাদার আ. সালাম, চিংড়ি পোনা আড়ৎ মালিক সমিতির সভাপতি গাজী রাশেদুল ইসলাম ডালিম, সমাজ সেবক সামসুদ্দীন আবুল কালাম, ইউপি সদস্য মুজিবর রহমান, প্রমুখ। মতবিনিময় সভায় অত্র ইউনিয়নের জনপ্রতিনিধি, রাজনৈতিক ব্যক্তিবর্গ, সাংবাদিক, ধর্মীয় নেতৃবৃন্দ, ব্যাবসায়ী, মহিলা জনপ্রতিনিধি, শিক্ষক, গ্রাম পুলিশসহ বিভিন্ন পেশাজীবি সংগঠনের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

সভায় মাদক, কিশোর গ্যাং, চুরি-ছিনতাই, জুয়াসহ নানা অপরাধ দমনের বিষয়ে আলোচনা করেন বক্তাগণ। এ সময় আইন শৃঙ্খলা রক্ষায় রামপাল থানার ওসি এস, এম আশরাফুল আলম সকলের সহযোগিতা কামনা করেন।

বাগেরহাটের রামপালে নদীতে নিখোঁজ ভ্যান চালকের লাশ উদ্ধার

 

এ এইচ নান্টু, বিশেষ প্রতিনিধি |

বাগেরহাটের | মোংলা-ঘোষিয়াখালী চ্যানেলের বগুড়া পয়েন্টে নদীতে ঝাপ দিয়ে আবু হানিফ (৩৫) নামের এক ভ্যান চালক নিখোঁজ হওয়ার একদিন পর তার মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। রামপাল ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা শনিবার সকাল ৭ টায় পার্শ্ববর্তী মোংলা উপজেলার উলুবুনিয়া এলাকার নদীর চর থেকে তার লাশ উদ্ধার করে। নিহত আবু হানিফ উপজেলার ওড়াবুনিয়ার পার্শ্ববর্তী মোংলা ঘোষিয়াখালী চ্যানেলে গত বৃহস্পতিবার রাত ৩ টায় ঝাপ দেয়। বাগেরহাটের ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স এবং রামপাল ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি দল শুক্রবার দিনব্যাপী উদ্ধার অভিযান পরিচালনা করে ব্যার্থ হয়। রামপাল ফায়ার সার্ভিসের সাব অফিসার গোলাম ফারুক জানান, শনিবার সকল ৭ টায় তার মৃতদেহ উদ্ধার করে আইনি ব্যবস্থা গ্রহনের জন্য রামপাল থানায় হস্তান্তর করি। এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত হানিফের মরদেহ তার পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে বলে রামপাল থানার ওসি এস, এম আশরাফুল আলম নিশ্চিত করেছেন।

রামপালে মোটরসাইকেলের বেপরোয়া গতির ধাক্কায় শিশু আহত

এ এইচ নান্টু, বিশেষ প্রতিনিধি ||

রামপাল পিতার ব্যবহৃত মোটরসাইকেল নিয়ে পুত্রের বেপরোয়া গতিতে গাড়ির ধাক্কায় ছায়রা খাতুন (১২) গুরুতর আহত হয়েছে। আহত ছায়রা কে প্রথমে রামপাল স্বাস্থ্য কেন্দ্রে এবং পরে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। তার অবস্থা আশংকাজনক বলে জানা গেছে। জানা গেছে, শনিবার সকাল ৯ টায় ইলিয়াস শেখের কন্যা ছায়রা রামপালের শ্রীফলতলার নিউমার্কেট এলাকার পাকা রাস্তার পাশ দিয়ে হেটে যাচ্ছিল। এমন সময় একই গ্রামের বেলাল শেখের পুত্র মোস্তাফিজুর রহমান (১৭) তার পিতার মোটরসাইকেল নিয়ে বেপরোয়া গতিতে গাড়ি চালিয়ে ছায়রাকে ধাক্কা দেয়। এতে সে গুরুতর আহত হয়। আহত ছায়রার পিতা ইলিয়াস শেখ জানান, বেলালের অবৈধ গাড়ি তার পুত্র মোস্তাফিজ নিয়ে বেপরোয়া গতিতে গাড়ি চালিয়ে আমার কন্যাকে ধাক্কা দেয়। এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত রামপাল থানায় কোন অভিযোগ দেওয়া হয়নি বলে জানা গেছে। তবে তার পিতা আইনের আশ্রয় নিবেন বলে জানান।#

বাগেহাটের রামপালে নদীতে ঝাপ দিয়ে ভ্যান চালক নিখোঁজ

এইচ নান্টু, বিশেষ প্রতিনিধি ||

বাগেহাটের মোংলা-ঘোষিয়াখালী চ্যানেলের বগুড়া পয়েন্টে নদীতে ঝাপ দিয়ে আবু হানিফ (৩৫) নামের এক ভ্যান চালক নিখোঁজ হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। ঘটনাটি ঘটেছে উপজেলার ওড়াবুনিয়ার পার্শ্ববর্তী মোংলা ঘোষিয়াখালী চ্যানেলে।

বাগেরহাটের ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স এবং রামপাল ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি দল নিখোঁজ হানিফকে উদ্ধারের জন্য অভিযান পরিচালনা করেছে। খবর পেয়ে রামপাল থানার ওসি এস, এম আশরাফুল আলম ঘটনাস্থলে ফোর্স পাঠিয়েছেন। নিখোঁজ হানিফের পিতা ইলিয়াস শেখ জানান, বৃহস্পতিবার দিনগত রাত ৩ টার সময় আবু হানিফ নদীতে ঝাপ দেয়।

এরপর তাকে ফেরাতে ডাকাডাকির এক পর্যায়ে সে পানিতে ডুবে যায়। পরে শুক্রবার ভোরে রামপাল থানা ও রামপাল ফায়ার সার্ভিসের সদস্যদের খবর দেওয়া হয়। পুলিশ ঘটনাস্থলে অবস্থান করছে। ফায়ার সার্ভিস বাগেরহাটের উপপরিচালক মো. গোলাম সরোয়ার জানান, খবর পেয়ে রামপাল স্টেশনের ও খুলনার ডুবুরি দল নিখোঁজ হানিফকে নদী থেকে উদ্ধার অভিযান পরিচালনা করছে।

জীবিত বা মৃত্যু বডি না পাওয়া পর্যন্ত আমরা উদ্ধার অভিযান পরিচালনা অব্যাহত রাখবো। পুত্রকে হারিয়ে পিতা-মাতাসহ আত্মীয় স্বজনেরা বুক ফাটিয়ে চিৎকার করে বাতাস ভারী করে তুলেছেন।#

বাগেরহাটের রামপালের কুমলাই কবরস্থানের বরাদ্দ আত্মসাতের চেষ্টা অবশেষে সংস্কার শুরু

এ এইচ নান্টু, বিশেষ প্রতিনিধি ||

অবশেষে রামপালের কুমলাই গ্রামের জান্নাতুল বাকী গণকবর স্থানের সংস্কার কাজ শুরু হয়েছে। বাগেরহাট জেলা পরিষদের বরাদ্দ এনে আবুল কালাম নামের এক ব্যক্তি টাকা আত্মসাৎ করে গিলে ফেলেছেন। পরে জানাজানি হলে তা পুনরায় জেলা পরিষদে ফেরত দেওয়ার পর সংস্কার কাজ শুরু হয়েছে। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন জেলা পরিষদের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ঝুমুর বালা।

অভিযোগে জানা গেছে, রামপাল উপজেলার কুমলাই গ্রামে জান্নাতুল বাকী কবরস্থান নির্মাণ করছেন কুমলাই এর কৃতি সন্তান ও কুষ্টিয়া ইসলামী বিশ্ব বিদ্যালয়ের বর্তমান ভিসি ডক্টর আ. সালাম। ওই কবরস্থান সংস্কারের জন্য বাগেরহাটের জেলা পরিষদ থেকে তিনি ২ লক্ষ টাকা অনুদান পান। এরপর ওই কবরস্থানের বাউন্ডারি ওয়াল নির্মাণের জন্য কাজটি পান ঠিকাদার ফারুক তালুকদার। তিনি কবরস্থানের স্থায়ী কমিটির এক সদস্যের সাথে যোগাযোগ করলে তিনি বলেন, আমি কাজ করে দিবো। আবুল কালাম নামের ওই ব্যাক্তি দীর্ঘ ৮/৯ মাস পূর্বে ঠিকাদারের কাছ থেকে টাকা বুঝে নিয়ে পকেটে পুরে রাখেন। কবরস্থানের পুরাতন ওয়ালের ছবি তুলে কাজ সম্পন্ন হয়েছে মর্মে ফাইনাল রিপোর্ট জমা দেন আবুল কালাম। দীর্ঘ দিন পরে বিষয়টি জানাজানি হলে ঠিকাদার ফারুক তালুকদার ওই আবুল কালামকে চাপ দিয়ে বকাঝকা করেন। এরপর আবুল কালাম তড়িঘড়ি করে ঠিকাদারের কাছে টাকা ফেরত দেন।

এলাকাবাসী জানান, আবুল কালাম ডক্টর আ. সালাম এর সৎ ভাই। তিনি জানতে পেরে ছোট ভাই কে তিরস্কার করেন।
অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্ত আবুল কালামের সাথে কথা হলে তিনি সকল অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, ঠিকাদার বাঁচার জন্য আমার নাম বলছেন। আমি কিছু জানি না।

এ বিষয়ে ঠিকাদার ফারুক তালুকদারের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি সরল বিশ্বাসে আবুল কালামের কাছে টাকা দিয়েছিলাম। সে যে কবরস্থানের টাকা গিলে খাবে তা চিন্তাও করতে পারিনি। তবে টাকা ফেরত পাওয়ার কথা জানান ওই ঠিকাদার।

জেলা পরিষদের প্রকৌশলী আওলাদ হোসেনের সাথে কথা হলে বলেন, আমি বিষয়টি জেনেছি। প্রশ্ন করা হয়, কাজ পরিদর্শন করার দায়িত্ব ছিল আপনার, কাজ পরিদর্শন না করে বিল ভাউচারে স্বাক্ষর করলেন কি করে এমন প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, এখনো কাজের মেয়াদ রয়েছে বলে দাবি করেন।

এ বিষয়ে কথা হয় বাগেরহাটের জেলা পরিষদের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ঝুমুর বালা’র সাথে। তিনি জানান, আমরা খবর পেয়ে তাৎক্ষণিকভাবে সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারকে ডেকে দ্রুত কাজ করার নির্দেশ দিয়েছি। সেখানে কাজ শুরু হয়েছে।

বাগেরহাটের জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান কামারুজ্জামান টুকুর সাথে মুঠোফোনে কথা হলে তিনি বলেন, বিষয়টি আমি শুনেছি এবং দ্রুত ওয়াল নির্মাণের নির্দেশ দিয়েছি। এতে কারো কোন গাফিলতির প্রমাণ পাওয়া গেলে ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে। #

বাগেরহাটের রামপালের পবনতলায় ভূয়া কমিটি দিয়ে মসজিদের টাকা আত্মসাতের চেষ্টা

এ এইচ নান্টু, বিশেষ প্রতিনিধি ||

বাগেরহাটের রামপালে জেলা পরিষদের বরাদ্দকৃত অর্থ ভুয়া রেজুলেশন ও বিল ভাউচার দিয়ে আত্মসাতের  চেষ্টার অভিযোগ পাওয়া গেছে। ঘটনাটি ঘটেছে উপজেলার কুমলাই পবনতলা এলাকায়।

এ ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। এলাকাবাসী অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থাসহ শাস্তির দাবী করেছেন।

অভিযোগে জানা গেছে,  উপজেলার কালিয়াতলা এলাকার গাছতলা বাইতুন নূর জামে মসজিদের কমিটির সদস্য শিক্ষক ইয়াহিয়া, শেখ ইউনুসসহ কয়েকজন যোগসাজশে জেলা পরিষদে দুই লক্ষ টাকা বরাদ্দের জন্য আবেদন করেন। তারা পাশের গ্রামের পবনতলা বাইতুন নূর জামে মসজিদের নামে ভূয়া রেজুলেশন, ভূয়া কমিটি ও সিল সই জাল করে জেলা পরিষদের বরাদ্দ থেকে দুই লক্ষ টাকা উত্তোলন করেন। বিষয়টি জানাজানি হলে পবনতলা বাইতুন নূর জামে মসজিদ কমিটিসহ এলাকাবাসী তীব্র নিন্দা ও ক্ষোভ প্রকাশ করেন। এরপর গাছতলা জামে মসজিদের সভাপতি,  সাধারণ সম্পাদক কামাল হোসেন ও অর্থ সম্পাদক শিক্ষক ইয়াহিয়ার সাথে কথা বলেন।

পবনতলা বাইতুন নূর জামে মসজিদের সভাপতি আলহাজ্ব আবু জাফর ও সাধারণ সম্পাদক সরদার মাঞ্জুরুল ইসলাম জানান, ইচ্ছাকৃতভাবে পবনতলা মসজিদের নামে বরাদ্দ এনে তা তারা আত্মসাৎ করার চেষ্টা করেছে গাছতলা মসজিদ কমিটির কয়েকজন সদস্য। পবনতলা মসজিদ কমিটির সদস্যগণ বিষয়টি নিশ্চিত হওয়ার জন্য বাগেরহাটের জেলা পরিষদে গিয়ে নথিপত্রে এমন জালিয়াতির চিত্র দেখতে পান। বিষয়টি ধামাচাপা দিতে গাছতলা মসজিদ কমিটির কয়েকজন সদস্য পবনতলা মসজিদ কমিটির সদস্যদের সাথে দফায় দফায় বৈঠক করে পরিস্থিতি ধামাচাপার চেষ্টা করেন। সর্বশেষ শিক্ষক ইয়াহিয়া ও ইউনুস আলী পবনতলা মসজিদের নামে বরাদ্দের টাকা ফেরত দেওয়ার কথা বলেন।

অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্ত শিক্ষক ইয়াহিয়ার ব্যবহৃত মুঠোফোনে জানতে চাইলে তিনি বলেন, অভিযোগ সত্য নয়। আমাদের মসজিদের নামে বরাদ্দ চেয়ে আবেদন করেছি। জেলা পরিষদ থেকে প্রিন্টেড মিস্টেক  হয়েছে। প্রশ্ন করা হয়, “গাছতলা” বাইতুন নূর জামে মসজিদের নাম একেবারে পাল্টে গিয়ে “পবনতলা” হলো কি করে ? এমন প্রশ্নের উত্তরে ওই শিক্ষক ইয়াহিয়া বলেন, আমরা টাকা আত্মসাতের চেষ্টা করিনি। টাকা খরচও করিনি। আপনি নথিপত্র দেখতে পারেন। এ বিষয়ে বাগেরহাট জেলা পরিষদের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ঝুমুর বালা’র সাথে কথা হলে তিনি বলেন, অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে এবং সরেজমিনে পরিদর্শন করা হবে।

বাগেরহাটের রামপালে মহান মে দিবস পালন

এ এইচ নান্টু, বিশেষ প্রতিনিধি ||

“শ্রমিক-মালিক ঐক্য গড়ি
স্মার্ট বাংলাদেশ গড়ে তুলি”এই প্রতিপাদ্যে মহান মে দিবস পালন করা হয়েছে। জাতীয় শ্রমিকলীগ রামপাল উপজেলা শাখার আয়োজনে সোমবার সকাল ১০টায় উপজেলা স্বেচ্ছাসেবকলীগের কার্যালয়ের সামনে থেকে বর্ণাঢ্য র‌্যালি বের করা হয়। র‌্যালি শেষে সোনালী ব্যাংক চত্বরে এক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।

রামপাল উপজেলা শ্রমিকলীগের সভাপতি আশরাফুল আযম আকুঞ্জী’র সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক মোঃ রবিউল ইসলামের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন, রামপাল উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান সেখ মোয়াজ্জেম হোসেন, বাগেরহাট জেলা আওয়ামী লীগের সদস্য ও সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান আলহাজ্ব শেখ মোঃ আবু সাঈদ, উপজেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক মো. হামীম নূরী, উপজেলা যুবলীগের সহ-সভাপতি মো. আবুল কালাম আজাদ,
উপজেলা যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক ও জেলা পরিষদ সদস্য শেখ মনির আহমেদ প্রিন্স, উপজেলা স্বেচ্ছাসেবকলীগের সভাপতি সরদার বোরহান উদ্দিন, সাধারণ সম্পাদক এ্যাড. চয়ন মন্ডল, জেলা ছাত্রলীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মোঃ মেহেদী হাসান রাজু, উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি মো. হাফিজুর রহমান, সাধারণ সম্পাদ শেখ সাদীসহ শ্রমিকলীগের উপজেলা ও ইউনিয়ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ।

রামপালে ইসলাম ধর্ম অবমাননার আসামি সজীব বিশ্বাস ভারতীয় পুলিশের হাতে আটক

এ এইচ নান্টু, বিশেষ প্রতিনিধি ||

রামপালে ইসলাম ধর্ম নিয়ে কটুক্তি ও অবমাননার অভিযোগে করা মামলার আসামি সজীব ও তার পিতা গোলক বিশ্বাসকে অবৈধ অনুপ্রবেশের অভিযোগে ভারতীয় পুলিশ আটক করেছে। এ সংক্রান্ত একটা বার্তা পাঠিয়েছে কোলকাতা পুলিশ। জানা গেছে,  গত ইংরেজি ১৭ এপ্রিল উপজেলার হুড়কা ইউনিয়নের জগারহুলা গ্রামের গোলক বিশ্বাসের পুত্র সজীব বিশ্বাস ওরফে দোদো (১৫) ছাড়াখালী গ্রামের দারুল নাজাত হাফিজিয়া মাদরাসা সামনে দাড়িয়ে ইসলাম ধর্ম ও রমজানের ঈদ নিয়ে কটুক্তি করে।

এ ঘটনায় গত ২০ এপ্রিল রামপাল থানায় একটি মামলা দায়ের হয়। মামলাটি করেন একই গ্রামের মনিরুজ্জামান গোলদার। এরপর পুলিশি অভিযানের ভয়ে সজীব ও তার পিতা গোলক বিশ্বাস গত ২৫ এপ্রিল অবৈধভাবে ভারতে অনুপ্রবেশ করন। ওই সময় তারা ভারতীয় পুলিশের হাতে আটক হন। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন রামপাল থানার ওসি মোহাম্মদ সামসুদ্দীন। তিনি বলেন, আসামি ভারতে আটক সংক্রান্ত একটি প্রতিবেদন পেয়েছি।

বিষয়টি নিশ্চিত হওয়ার জন্য এবং আইনগত ব্যবস্থা গ্রহনের জন্য আমরা কাজ করছি।

উল্লেখ,  ইসলাম ধর্ম অবমাননার অভিযোগে করা মামলার আসামি সজীব হলেও তার পিতা গোলক বিশ্বাস মামলার আসামি ছিলেন না। তবে সে কেন ভারতে পালিয়ে যাচ্ছিল সেটা স্পষ্ট নয়। এলাকাবাসী বলছেন একটি বিরূপ ইস্যু সৃষ্টির জন্য সে ভারত গিয়ে ইচ্ছাকৃত পুলিশের কাছে ধরা দিয়েছেন।