বাগেরহাটের রামপালে আইন শৃঙ্খলা কমিটির সভা অনুষ্ঠিত

এ এইচ নান্টু, বিশেষ প্রতিনিধি ||

রামপালে আইন শৃঙ্খলা কমিটির এক সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

বৃহস্পতিবার সকাল ১০ টায় উপজেলা পরিষদের সম্মেলন কক্ষে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নাজিবুল আলমের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্য দেন উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান সেখ মোয়াজ্জেম হোসেন, ভাইস চেয়ারম্যান শেখ নূরুল হক লিপন, ওসি (তদন্ত) রাধেশ্যাম, মৎস্য কর্মকর্তা অঞ্জন বিশ্বাস, কৃষি কর্মকর্তা কৃষ্ণা রানী মন্ডল, ইউপি চেয়ারম্যান তালুকদার সাবির আহমেদ, ইউপি চেয়ারম্যান তপন কুমার গোলদার, ইউপি চেয়ারম্যান ফকির আব্দুল্লাহ, সদর ইউপি চেয়ারম্যান মো. নাসির উদ্দীন, ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান নিখিল মন্ডল, ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান মো. ওলিয়ার রহমান, দুর্নীতি প্রতিরোধ কমিটির সভাপতি হাজি আকবর হোসেন, প্রেসক্লাব রামপাল এর সভাপতি এম, এ সবুর রানা প্রমুখ। সভায় অবৈধভাবে নদী খালে বাঁধ,  নেটপাটা দিয়ে স্রোতের প্রবাহ বন্ধ রাখা ও ভূগর্ভ থেকে বালি উত্তোলনের বিষয়সহ মাদক ও জুয়ার বিষয়ে আলোচনা হয়। এগুলো বন্ধে যথাযথ কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহনে পদক্ষেপ নেয়া হবে বলে সভাকে অবহিত করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা।

সভায় উপজেলা পরিষদের বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা, জনপ্রতিনিধি ও সাংবাদিকগণ উপস্থিত ছিলেন।

রামপালে ইফা’র ফান্ডে সাইফুজ্জামানের জাকাতের অর্থ প্রদান

এ এইচ নান্টু, বিশেষ প্রতিনিধি||

রামপাল উপজেলা ইসলামী ফাউন্ডেশনের ফান্ডে সমাজ সেবক শেখ সাইফুজ্জামান ও তার সহোদর শফিকুজ্জামান জাকাতের অর্থ প্রদান করেছেন।

বুধবার বেলা ১১ টায় উপজেলা সদরে ইসলামী ফাউন্ডেশনের কার্যালয়ে উপস্থিত হয়ে তিনি এই অর্থ প্রদান করেন। এ সময় তার সাথে ছিলেন তার সহোদর ও ইউপি সদস্য সমাজ সেবক শেখ শফিকুজ্জামান, ইফার প্রতিনিধি আল মামুন, আ. হাদি আকুন্জী, মো. জিয়াউর রহমান, মো. মারুফ বিল্লাহ প্রমুখ।

জাকাতের অর্থ প্রদান কালে সাইফুজ্জামান ও শফিকুজ্জামান বলেন, সমাজের বিত্তবানদের সম্পদের উপর গরীব দুঃখীর হক রয়েছে।

সুতারং সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে। বাগেরহাটের জেলা প্রশাসক ও রামপাল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নাজিবুল আলমের অনুপ্রেরণায় তিনি এমন মহতী কাজে এগিয়ে এসেছেন বলে জানান।

বাগেরহাটের রামপালে আওয়ামী লীগের পাল্টা প্রতিবাদ সভা অনুষ্ঠিত

এ এইচ নান্টু, বিশেষ প্রতিনিধি||

বাগেরহাটের রামপালে আওয়ামী লীগের পাল্টা প্রতিবাদ সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। বুধবার বেলা ১১ টায় উপজেলার জাতীয় শহীদ মিনার চত্বরে ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও আওয়ামী লীগের উপজেলা প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক মো. নাসির উদ্দীনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত প্রতিবাদ সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্য দেন জেলা আওয়ামী লীগের সদস্য ও রামপাল উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান শেখ মো. আবু সাইদ।

অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য দেন, সাবেক উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান ও সাংগঠনিক সম্পাদক মো. হামিম নূরী, উপজেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক মো. হাফিজুর রহমান, বাঁশতলী ইউপি চেয়ারম্যান ও বাগেরহাট জেলা সেচ্ছাসেবক লীগের আহবায়ক মো. মোস্তাফিজুর রহমান সোহেল, উজলকুড় ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও আওয়ামী লীগ নেতা মুন্সি বোরহান উদ্দিন জেড, গৌরম্ভা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. রাজীব সরদার, যুবলীগের সহসভাপতি আবুল কালাম আজাদ, সেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি সরদার বোরহান উদ্দিন, শ্রমিক লীগের সাধারণ সম্পাদক ফকির রবিউল ইসলাম, ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক শেখ সাদী প্রমুখ। বক্তারা বলেন, আওয়ামী লীগকে দ্বিধাবিভক্ত করতে একটি মহল নানামুখী ষড়যন্ত্র করছে। তারই অংশ হিসাবে গত ১৩ এপ্রিল উপজেলা পরিষদের চত্বরে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক শেখ মোয়াজ্জেম হোসেন কতিপয় নেতাদের নিয়ে একটি টিভি চ্যানেলের লাইভ অনুষ্ঠানের সূত্র ধরে অসত্য, ভিত্তিহীন, মানহানিকর ও মনগড়া বক্তব্য তুলে ধরেছেন। তিনি উপমন্ত্রী সম্পর্কে অতিরঞ্জিত করে পরিবেশ ঘোলাটে করার চেষ্টা করছেন। সাবেক উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান শেখ মো আবু সাইদের ব্যক্তিগত বিষয় নিয়ে সাংবাদিকদের সামনে বক্তব্য দিয়েছেন। এটা রাজনীতির জন্য কোন কল্যাণকর বার্তা বহন করে না। কে কি করেন সেটি আমরাও জানি, আমরা কারো সমালোচনা করতে চাই না। একটি টিভি চ্যানেলে লাইভ বক্তব্যে ভুল ত্রুটি হতে পারে। তাই বলে প্রকাশ্যে এমন বক্তব্য কাম্য নয়। উপজেলা চেয়ারম্যান কত টাকার মালিক তা একটু খোঁজ নিয়ে দেখুন। আমরা প্রধানমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করে বলতে চাই রামপাল ও মোংলার ১৬ জন চেয়ারম্যান অবহেলিত। পরিষদের চেয়ারম্যানদের এমপি কোটার বরাদ্দ দেয়া হয় না, তাদের সাথে কোন সমন্বয় বা যোগাযোগ রাখা হয় না। মন্ত্রী আসেন, মন্ত্রী চলে যান কিন্তু এর বেশী কিছু আমরা জানতে পারি না বলে ক্ষোভ প্রকাশ করেন অবহেলিত নেতারা। তাদের দাবী উচ্চ পর্যয়ে তদন্ত করলে সবকিছু বেরিয়ে আসবে। রামপাল ও মোংলায় সংগঠনকে মজবুত করতে হলে প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ প্রয়োজন। আগামী জাতীয় নির্বাচনে প্রার্থী বাছাইয়ে তৃণমূলের মতামত নেওয়ার জোর দাবী করেন নেতৃবৃন্দ।

এ বিষয়ে রামপাল উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান সেখ মোয়াজ্জেম হোসেন বলেন, আমরা মানুষের জন্য রাজনীতি করি। আমরা সকলকে নিয়ে দেশের কল্যাণে কাজ করতে চাই। আমার বিরুদ্ধে আনিত অভিযোগ সঠিক নয়। আমি চাই সকলকে নিয়ে কাজ করতে।

উল্লেখ, আওয়ামী লীগের পাল্টা এই সমাবেশকে ঘিরে ব্যাপক সংখ্যাক নেতাকর্মী ও পুলিশের উপস্থিতি ছিল লক্ষ্মণীয়।

রামপালে ইসলাম ধর্মের অবমাননাকারী হিন্দু যুবক সজীব বিশ্বাস’র বিরুদ্ধে মামলা

এ এইচ নান্টু, বিশেষ প্রতিনিধি||

বাগেরহাটের রামপালে ইসলাম ধর্ম ও মাহে রমজানকে নিয়ে কটুক্তি করায় যুবকের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের হয়েছে। এ ঘটনায় মনিরুজ্জামান গোলদার নামের এক ব্যক্তি রামপাল থানায় একটি মামলা দায়ের করেছেন।

মামলা সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার হুড়কা ইউনিয়নের মধ্যপাড়া জগারহুলা গ্রামের গোলক বিশ্বাসের ছেলে সজীব বিশ্বাস (দোদো) গত ১৯ এপ্রিল সন্ধ্যায় চাড়াখালী দারুল নাজাত হিফজুল কুরআন ক্যাডেট মাদরাসার সামনে উদ্দেশ্যমূলকভাবে ইসলাম ধর্ম, মাহে রমজানের তাৎপর্য ও ঈদ-উল ফিতর নিয়ে ধর্ম বিরোধী বিদ্রুপ মন্তব্য করতে থাকে। এসময় মনিরুজ্জামান অভিযুক্ত সজীবকে ধর্ম বিরোধী মন্তব্য করতে নিষেধ করলে উল্টো তার উপর চড়াও হয়ে তাকে জীবন নাশের হুমকি দেয়।

বিষয়টি এলাকায় জানাজানি হলে ধর্মপ্রাণ মুসলমানেরা উত্তেজিত হয়ে পড়েন। পরে স্থানীয় গন্যমান্য ব্যক্তিবর্গ ও চেয়ারম্যান তপন গোলদারের হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে। ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত হানার মামলার ৬ দিন অতিবাহিত হলেও এখনো অভিযুক্ত সজীবকে আটক করতে না পারায় স্থানীয় মুসলমানদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। তারা অতিদ্রুত ওই অভিযুক্ত সজীবকে আইনের আওতায় আনার জোর দাবী করেছেন। সজীব একজন সন্ত্রাসী ও উগ্রবাদী বলে স্থানীয়রা দাবী করেন। তার বিরুদ্ধে একাধিক অভিযোগ রয়েছে।

এবিষয়ে রামপাল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. শামসুদ্দিন মামলা দায়েরের বিষয়টি নিশ্চিত করে সাংবাদিকদের জানান, হুড়কা ইউনিয়ন হিন্দু অধ্যুষিত এলাকা। সবাই মিলেমিশে বসবাস করে। কিন্তু ইসলাম ধর্ম ও পবিত্র মাহে রমজানকে নিয়ে সজীব বিশ্বাস বিদ্রুপ মন্তব্য করলে এলাকায় উত্তেজনার সৃষ্টি হয়। খবর পেয়ে তাৎক্ষণিক সেখানে পুলিশ পাঠানো হয় এবং স্থানীয়দের সাথে কথা বলে সবাইকে শান্ত থাকার অনুরোধ করছি। আমরা অভিযুক্ত সজীবকে আটক করতে জোর চেষ্টা চালাচ্ছি।

বাগেরহাটের রামপালে মৎস্যঘেরে আগুন// মাছ লুটের অভিযোগ

এ এইচ নান্টু, বিশেষ প্রতিনিধি ||

বাগেরহাটের রামপালের মুজিব নগর গ্রামে গোলাম মওলা নামের এক মৎস্য খামারির ঘেরের মাছ লুট ও বাসা ঘরে আগুন দিয়ে ভষ্মিভূত করার অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী গোলাম মওলা দুই লক্ষ টাকার ক্ষতি হয়েছে দাবি করে রামপাল থানায় একটি লিখিত অভিযোগ করেছেন।

অভিযোগে জানা গেছে, মুজিব নগর গ্রামে গোলাম মওলার সাড়ে ৬ একরের একটি মৎস্য ঘের রয়েছে। সে গত ২ বছর ধরে জমির মালিকদের হারির টাকা পরিশোধ করে মৎস্য চাষ করে আসছে। গত ২০ এপ্রিল বৃহস্পতিবার রাত ১০ টায় একই গ্রামের শেখ তরিক, শেখ রফিক, বিল্লাল হোসেন, মাদারতলা গ্রামের শেখ পিয়ার, শেখ মোজাফফর, শেখ মোতালেব, শেখ সুমনসহ ৮/১০ জন দুষ্কৃতকারী ওই ঘেরে গিয়ে বিপুল পরিমাণ বাগদাসহ অন্যান্য মাছ লুটে নেয়। এরপর যাওয়ার সময় বাসা ঘরে আগুন লাগিয়ে দেয় বলে লিখিত অভিযোগে উল্লেখ করেন। এ সময় তারা ঘেরের বেড়িবাঁধ কেটে দেয় এবং মাছ ধারার সরঞ্জাম নদীতে ফেলে দেয়। এতে মওলার আড়াই লক্ষ টাকার ক্ষতি হয়েছে। মওলা বলেন লোন করে, দায় দেনা করে ঘেরে মাছ ছেড়েছি। এখন সব মাছ লুটে নেওয়ায় আমি সর্ব শন্ত হয়ে গেছি। ওয়ার্ড সদস্য সরোয়ার হোসেন বলেন, একটা কুচক্রী মহল আমাদের পিছনে লেগেছে। তারা আমাদের ক্ষতি করার চেষ্টা করছে।

এ ব্যাপারে অভিযুক্ত শেখ তরিকুল, শেখ রফিকুল, শেখ বিল্লাল, শেখ পেয়ারসহ অন্যদের সাথে কথা হলে তারা অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, আমাদের জমিতে আমরা দুই বছর ধরে ঘের করতে পারছি না। মওলা ঘের দখল করেছে। তার বাসাঘর কারা পুড়িয়েছে তা আমরা জানিনা।

এ বিষয়ে রামপাল থানার ওসি মোহাম্মদ সামসুদ্দীন এর কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন এ সংক্রান্ত দুইটা অভিযোগ পাওয়া গেছে। তদন্ত করে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।

বাগেরহাটের রামপালে উপমন্ত্রী হাবিবুন নাহারের ঈদ সামগ্রী আর্থিক সহায়তা প্রদান

এ এইচ নান্টু, বিশেষ প্রতিনিধি || বাগেরহাটের রামপালে বন, পরিবেশ ও জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়ক উপমন্ত্রী হাবিবুন নাহার এমপি দরিদ্র ও অসহায় মানুষদের মাঝে নতুন ঈদের পোশাক ও কয়েকটি ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানে আর্থিক সহায়তা প্রদান করেছেন। বুধবার বেলা সাড়ে ১১ টায় উপজেলার বড়দিয়া গ্রামের হাজী আরিফ প্রাথমিক বিদ্যালয় চত্বরে প্রধান অতিথি হিসেবে এসব সামগ্রী তুলে দেন।

মেসার্স এস, এস জামান এণ্ড ব্রাদার্স এর স্বত্বাধিকারী শেখ সাইফুজ্জামান ও শফিকুল ইসলাম সোহাগের আর্থিক সহায়তায় প্রায় ২ হাজার ৬ শত দরিদ্রের মাঝে শাড়ি ও লুঙ্গি এবং ৪ টি ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান প্রধানের কাছে নগদ টাকার চেক হস্তান্তর করা হয়েছে। সমাজ সেবক শেখ এখলাস আলীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত ঈদ সামগ্রী বিতরণ অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্য দেন উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান সেখ মোয়াজ্জেম হোসেন, ভাইস চেয়ারম্যান শেখ নূরুল হক লিপন, রামপাল থানার ওসি মোহাম্মদ সামসুদ্দীন, জেলা পরিষদ সদস্য শেখ মনির আহমেদ প্রিন্স, মুক্তিযোদ্ধা আ. হক দুখু, ফকির দেলোয়ার হোসেন, প্রেসক্লাব রামপাল এর সভাপতি এম, এ সবুর রানা, মকলেছুর রহমান, মো. আজম হোসেন, বাঁশতলী ইউপি সদস্য শফিকুল ইসলাম সোহাগ, শেখ রাসেল, সংরক্ষিত নারী সদস্য রওশন আরা, সাবেক ইউপি সদস্য মল্লিক মিজানুর রহমান, মুহিদুল ইসলাম, মুজিবর রহমান, মো. ফোরকান কুদরতি, উপজেলা ছাত্র লীগের সভাপতি মো. হাফিজুর রহমান, মল্লিক অভি প্রমুখ। এ সময় ফ্রী মেডিকেল ক্যাম্প পরিচালনা করেন চিকিৎসক এম, এম মহিতুর রহমান ও মো. রাজীব উদ্দিন। প্রধান অতিথির বক্তব্যে উপমন্ত্রী হাবিবুন নাহার বলেন, ধনীদের সম্পদের উপর গরীব দুঃখী মানুষের হক রয়েছে। যার যার সামর্থ্য অনুযায়ী দরিদ্র মানুষের সেবা করা উচিৎ। তিনি বিত্তবানদের এগিয়ে আসার আহবান জানান এবং যারা দরিদ্রদের সাহায্যে এগিয়ে এসেছেন তাদের সাদুবাদ ও সফলতা কামনা করেন।

রামপালে হিটস্ট্রোক রোগীদের জন্য “আমাদের গ্রাম” প্রকল্পের হটলাইন চালু

এ এইচ নান্টু, বিশেষ প্রতিনিধি ||

রামপালে “আমাদের গ্রাম” ক্যন্সার কেয়ার প্রকল্পের পক্ষ থেকে বিনামূল্যে হিটস্ট্রোক রোগীদের স্বাস্থ্য সেবায় চব্বিশ ঘণ্টার হট লাইন চালু করেছে। মঙ্গলবার উপজেলার সড়কগুলিতে মাইকিং করে হটলাইন চালুর ঘোষণা দেওয়া হয়। “আমাদের গ্রাম” ক্যন্সার কেয়ার প্রকল্পের সমন্বয় কমিটির সদস্য শেখ সাদী বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, তীব্র গরমে হিটস্ট্রোক রোগীদের করণীয় ও তাদের পরামর্শ প্রদানের জন্য বিনামূল্যে মোবাইল ফোনের হটলাইন চালু করা হয়েছে। কোন ব্যক্তির হিটস্ট্রোকের লক্ষ্মণ দেখা দিলে সাথে সাথে আমাদের ০১৭৩০-০১৩৭০৫ বা ০১৭৩০-০১৩৭০৬ নম্বরে যোগাযোগ করে পরামর্শ নেওয়ার সুযোগ গ্রহণের অনুরোধ করেছেন। উল্লেখ্য, আমাদের গ্রাম ক্যন্সার কেয়ার সেন্টার দীর্ঘ দিন ধরে ক্যান্সার, মাতৃ স্বাস্থ সেবা ও সচেতনতামূলক কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছে।

রামপালে সড়ক দূর্ঘটনায় হতাহতদের পরিবারকে জেলা প্রশাসকের অনুদান বিতরণ

এ এইচ নান্টু, বিশেষ প্রতিনিধি||

বাগেরহাট জেলা প্রশাসকের পক্ষ থেকে রামপালে নিহত ও আহতদের দুই পরিবারের সদস্যদের মাঝে অনুদান বিতরণ করা হয়েছে। দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রান মন্ত্রণালয়ের অধীনে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তরের কর্তৃক এ অনুদান বিতরণ করা হয়। মঙ্গলবার বেলা সাড়ে ১১ টায় রামপাল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নাজিবুল আলম তার দপ্তরে বসে নিহত মো. আকবর আলী শেখের কন্যা নাইমা আক্তার মান্নি এবং গুরুতর আহত শেখ মানজুর হাসানের স্ত্রী নাসিমা আক্তারের কাছে অনুদানের চেক তুলে দেন। নিহতের পরিবারকে ২০ হাজার ও আহতের পরিবারকে ১০ হাজার টাকা অনুদান দেওয়া হয়।

এ সময় উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মো. মতিউর রহমান, প্রেসক্লাব রামপাল এর সভাপতি এম, এ সবুর রানা উপস্থিত ছিলেন। উল্লেখ, গত ১৯ মার্চ বাগেরহাটে সড়ক দূর্ঘটনায় আকবর আলী নিহত হন ও মাঞ্জুর হোসেন আহত হয়েছিলেন।

রামপাল তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্র যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে বন্ধ

এ এইচ নান্টু, বিশেষ প্রতিনিধি ||

যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে রামপাল তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রের উৎপাদন বন্ধ রয়েছে। গত শনিবার (১৫ এপ্রিল) থেকে কেন্দ্রটির উৎপাদন বন্ধ হয়ে যায় ওই মেগা প্রকল্পের বিদ্যুৎ সরবরাহ। সোমবার দুপুরে বাংলাদেশ-ইন্ডিয়া পার্টনারশিপ পাওয়ার কোম্পানি লিমিটেডের (বিআইএফপিসিএল) উপপরিচালক আনোয়ারুল আজিম এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। এর পূর্বে গত ১৪ জানুয়ারি কয়লা সংকটের কারণে তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রটি বন্ধ হয়েছিল। হটাৎ করে রামপাল তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রের উৎপাদন বন্ধ হওয়ায় প্রভাব পড়েছে বিদ্যুৎ সরবরাহের ওপর। এতে করে লোডশেডিংয়ের মাত্রা বৃদ্ধি পেয়েছে। উপ মহাব্যবস্থাপক আনোয়ারুল আজিম জানান, কারিগরি ত্রুটির কারণে ১৫ এপ্রিল রাত থেকে কেন্দ্রের উৎপাদন বন্ধ রয়েছে। আশা করি দ্রুত সময়ের মধ্যে আবারও উৎপাদন শুরু করা হবে। এ ছাড়া কয়লা সংকট নেই দাবি করে আরও বলেন, বর্তমানে কেন্দ্রে পর্যপ্ত কয়লা মজুদ রয়েছে। বেশ কিছু কয়লা আমদানি করা হয়েছে। যা এখন পথে রয়েছে। দ্রুত সময়ের মধ্যে সমুদ্র পথে বিদ্যুৎ কেন্দ্রে এসে পৌছবে।#

রামপালে সন্ত্রাসীদের জিম্মিদশা থেকে মুক্তি চায় ১০ গ্রামের মানুষ

এ এইচ নান্টু, বিশেষ প্রতিনিধি ||

বাগেরহাটের রামপালে ১০ গ্রামের বাসিন্দা সন্ত্রাসীদের কবল থেকে মুক্তি পেতে চান। তারা বাগেরহাট জেলা পুলিশ সুপার ও রামপাল থানা পুলিশের জোর হস্তক্ষেপ কামনা করছেন। গ্রাম গুলো হলো মিত্রাবাদ, বড়দিয়া, তালবুনিয়া, ইসলামাবাদ, চন্ডিতলা, কিসমত চন্ডিতলা, দেয়ালডাঙ্গা, মুজিব নগর, সুন্দরপুর ও গিলাতলা। গ্রামবাসী বহু আবেদন নিবেদন করার পরেও সন্ত্রাসীরা একের পর এক হামলা, মারপিট করে আহত করছে গ্রামের মানুষদের। সন্ত্রাসীরা আধিপত্য বিস্তার, ঘের দখল ও জমি দখলকে কেন্দ্র করে এ সব অপকর্ম নির্দিধায় চালিয়ে যাচ্ছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। জানা গেছে, উপজেলার ইসলামাবাদ গ্রামের শেখ আবু জাফরের পুত্র ২ টি হত্যা মামলা, বোমা হামলা, নরী অপহরণসহ অর্ধডজন মামলার আসামি মাছুম বিল্লাহ বাড়িতে এসেই একটি অপরাধ জগৎ গড়ে তুলেছেন। তার সহযোগীরা হলো, ইসলামাবাদ গ্রামের আবু তালেব, মারুফ শেখ, মাসুম শেখ, মোস্তাফিজ শেখ, বাকি বিল্লাহ, শরাফত কাজী, খোকন শেখ, পলাশ শেখ, নাহিদ শেখ, আসাদ শেখ সহ প্রায় দুই ডজন ব্যক্তির সমন্বয়ে একটি সিন্ডিকেট গড়ে তুলেছেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। এরা ইতিমধ্যে ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও মাদরাসা শিক্ষক কুদরতি এনামুল বাশার বাচ্চু, সাবেক ইউপি সদস্য ও যুবলীগের সভাপতি মল্লিক মিজানুর রহমান, ইউপি সদস্য শফিকুল ইসলাম সোহাগ, ইউপি সদস্য শেখ রাসেল, সাবেক ইউপি সদস্য রেজাউল কুদরতি, ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি শেখ আব্দুল্লাহ আজমি, রামপাল উপজেলা বিএনপি নেতা ফকির শাহাদাত হোসেন, ফকির আবু জাফরসহ শতাধিক মানুষ কে মারপিট করে গুরুতর আহত করেছেন। এ ছাড়াও সরকারী কাজে বাঁধা প্রদান করে এসি ল্যান্ডের গাড়ি চালক কোহিনূরকে মারপিট করে আহত করছেন। অনেকে এ সব নিয়ে মামলা ও করতে পারেননি। সন্ত্রাসী মাছুম বিল্লাহ বিএনপি নেতা ও জনপ্রিয় চেয়ারম্যান সরদার হাবিবুর রহমানকে এবং সংসদ সদস্য পদপ্রার্থী জামায়াত নেতা গাজী আবু বকারকে নৃশংসভাবে বোমা মেরে হত্যার ঘটনার মামলার আসামি। এদের বিরুদ্ধে রামপাল থানার মামলা নং- ০৩, তারিখ ০১-০৪-২০২৩, রামপাল থানার মামলা নং ২০, তারিখ -২৫-০৫-২০২২, রামপাল থানার মামলা নং -১৭, তারিখ -২০-১১-২০২২, রামপাল থানার মামলা নং -০৫, তারিখ -০৫-০৩-২০০৪, রামপাল থানার মামলা নং -০৬, তারিখ – ০৩-০৬-২০০৩, রামপাল থানার মামলা নং ০৬, তারিখ – ০৬-০২-২০০৪, রামপাল থানার মামলা নং -০৫, তারিখ -০৯-০৯-১৯৯৭, জিআর মামলা নং – ১৮০/০৩, সিআর মামলা নং -৯২/২০০৪, তারিখ – ০৫-০৩-২০০৪, রামপাল থানার সাধারণ ডাইরি নং ৩১৪, তারিখ – ০৭-০৭-০৬, খালিশপুর থানার ডাইরি নং -৩৩৫, তারিখ – ০৮-০৬-২০০৭, খালিশপুর থানার মামলা নং ২৪, তারিখ -১১-০১-২০০৮, রামপাল থানার সাধারণ ডাইরি নং – ৯৫৯, তারিখ – ২৪-০৯-২০২১, রামপাল থানার জিডি নং- ১৩২৪, তারিখ – ২৬-০৮-২০২২, রামপাল থানার জিডি নং -৩১৯, তারিখ -০৮-০১-২০২২, রামপাল থানার জিডি নং – ৪৪৪, তারিখ – ১১-০৪-২০২২, রামপাল থানার জিডি নং ৬৯০, তারিখ – ১৪-০৮-২০২২। এসব মামলা বা অভিযোগের বাইরে তাদের বিরুদ্ধে অসংখ্য অভিযোগ রয়েছে বলে ভুক্তভোগীরা দাবী করেন। এত সব অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্ত মাছুম বিল্লাহ, মারুফ, মাসুমের কাছে জানতে চাইলে তারা সকল অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, গ্রাম্য দলাদলির কারণে অসত্য, বানোয়াট ও ভিত্তিহীন অভিযোগ করেছে। মামলা ও জিডির বিষয়ে জানতে চাইলে তারা বলেন, আমাদের মারপিট করে উল্টো আমাদের নামে মামলা করেছে ও জিডি করেছে। অনেক মামলা থেকে আমরা খালাস পেয়েছি। ভুক্তভোগীরা রামপাল থানা ও বাগেরহাট জেলা পুলিশ সুপারের আশু সমাধান কামনা করে বলেন, আমরা শান্তিপূর্ণভাবে বসবাস করতে চাই। সন্ত্রাসীদের থামানো না গেলে বড় ধরনের দূর্ঘটনা ঘটতে পারে বলে আশংকা প্রকাশ করেছেন।