উপমন্ত্রী হাবিবুননাহার কে নিয়ে বানোয়াট ভিত্তিহীন মন্তব্য করায় রামপালে প্রতিবাদ সমাবেশ

এ এইচ নান্টু, বিশেষ প্রতিনিধি ||

বাগেরহাটের রামপালে বন, পরিবেশ ও জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়ক উপমন্ত্রী হাবিবুন নাহার কে নিয়ে বানোয়াট ও ভিত্তিহীন মন্তব্য করায় রামপাল উপজেলা আওয়ামী  লীগের আয়োজনে এক প্রতিবাদ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে। বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ১০ টায় রামপাল উপজেলা পরিষদের চত্বরে প্রতিবাদ মিছিল শেষে এ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে।

সাবেক মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার মো. মোজাফফর হোসেনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত আলোচনা সভায় বক্তব্য দেন বাগেরহাট জেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি ও সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান মোল্লা আ. রউফ, উপজেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি অধ্যক্ষ মোতাহার রহমান, উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও বর্তমান উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান সেখ মোয়াজ্জেম হোসেন, মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান হোসনেয়ারা মিলি, মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার (ভারপ্রাপ্ত) অতিন্দ্র নাথ দুলাল, মুক্তিযোদ্ধা আ. মান্নান, চেয়ারম্যান তপন কুমার গোলদার, চেয়ারম্যান আব্দুল্লাহ ফকির, চেয়ারম্যান সুলতানা পারভীন, জেলা পরিষদ সদস্য ও উপজেলা যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক শেখ মনির আহমেদ প্রিন্স, সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান জামিল হাসান জামু, শেখ মো. বজলুর রহমান, শেখ মোহাম্মদ আলী, গাজী গিয়াস উদ্দিন, গাজী আক্তারুজ্জামান, শেখ নূরুল আমীন, তালুকদার মুজিবর রহমান, জয়দেব কুমার দেবনাথ, অধ্যক্ষ মজনুর রহমান,  অধ্যাপক আকবর আলী, হাওলাদার আবু তালেব, কুদরতি এনামুল বাশার বাচ্চু, বিচিত্র বীর্য পাড়ে, জালাল উদ্দীন দুলাল, শিক্ষক সমিতির সভাপতি প্রধান শিক্ষক ফরহাদ হোসেন প্রমুখ। বক্তারা বলেন, গত ৭ মার্চ শুক্রবার ডিবিসি নিউজ টিভি চ্যানেলে ইলেকশন এক্সপ্রেস নামে বাগেরহাট -৩ আসন নিয়ে একটি লাইভ অনুষ্ঠান হয়েছে।

ওই অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বাগেরহাট জেলা আওয়ামী লীগের সদস্য শেখ মো. আবু সাইদ। তিনি বার বার নির্বাচিত এমপি ও বর্তমানে বাংলাদেশ সরকারের বন, পরিবেশ ও জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়ক উপমন্ত্রী হাবিবুন নাহার কে নিয়ে বানোয়াট ও ভিত্তিহীন মন্তব্য করেছন। তার এ মন্তব্যে আওয়ামী লীগের মধ্যে তীব্র প্রতিক্রিয়া ও ব্যাপক ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।

তিনি আওয়ামী লীগের মধ্যে বিভেদ সৃষ্টির অপচেষ্টা চালাচ্ছেন বলে অভিযোগ করেন নেতৃবৃন্দ। তারা আরও বলেন, আওয়ামী লীগ সরকার এ এলাকায় ব্যাপকভাবে উন্নয়ন করেছে। বিশেষ করে খুলনা সিটি করপোরেশনের মেয়র তালুকদার আবদুল খালেক ও উপমন্ত্রী হাবিবুন নাহার এ এলাকার মানুষের ভালোবাসা নিয়ে ব্যাপক উন্নয়নে অবদান রেখেছেন। যা আপনারা দেখতে পাচ্ছেন। সাবেক ওই উপজেলা চেয়ারম্যান আবু সাইদের সমালোচনা করে বলেন, তিনি আবুল কালাম ডিগ্রি কলেজের বিপুল পরিমাণ টাকা আত্মসাৎ করেছেন,  টিউবওয়েল দেয়া কথা বলে কোটি টাকা আত্মসাৎ করেছেন, সরকার জায়গা দখল করা, জমির হাসির টাকা না দেয়া, মুক্তিযোদ্ধাকে মারপিট, কলেজ অধ্যক্ষকে মারপিট করে আহত এবং মেয়র, মন্ত্রীর সমালোচনা করা হয়েছে। তার দলীয় পদ স্থগিতসহ দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগে দল থেকে অপসারণের দাবী জানান নেতৃবৃন্দ।

অভিযোগের বিষয়ে সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান শেখ মো,  আবু সাইদের মুঠোফোনে জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমার বিরুদ্ধে আনিত অভিযোগ সঠিক নয়। আমি মন্ত্রী বা মেয়রগণদের নিয়ে বানোয়াট ও ভিত্তিহীন কোন সমালোচনা করিনি। কলেজের সামান্য কিছু টাকা আমার কাছে আছে।  টিউবওয়েলের মাত্র ৪৫ হাজার টাকা আমার কাছে আছে। এটা সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান গাজী গিয়াস উদ্দিন ও জানেন। হারী ছাড়া কোন ঘের করিনা, কোন মুক্তিযোদ্ধাকে মারপিটের ঘটনা সঠিক নয়। সরকারী খাস জমি আমি শিল্প কারখানা করার জন্য সরকারের কাছে বরাদ্দ চেয়েছি। বাড়ি করেছি নিজের টাকায়। এখানে টাকা আত্মসাৎ করে বাড়ি করতে হবে কেন ?

প্রতিবাদ সমাবেশে উপজেলা আওয়ামী লীগের নেতৃবৃন্দ, ১০ ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি, সাধারণ সম্পাদক, ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকসহ বিপুল সংখ্যক নেতা কর্মী উপস্থিত ছিলেন।

বিএনপি অবস্থান কর্মসূচি পালন করেছে বাগেরহাটের রামপালে

এ এইচ নান্টু, বিশেষ প্রতিনিধি ||

বাগেরহাটের রামপালে কেন্দ্র ঘোষিত ১০ দফা কর্মসূচী পালন করা হয়েছে। উপজেলার ফয়লাহাট কার্যালয়ের পরিবর্তে গৌরম্ভা বাজার সংলগ্ন সড়কে এ কর্মসূচি পালন করা হয়েছে। শনিবার সকাল ১০ টায় দলীয় কার্যালয়ের সামনে পালন হওয়ার কথা থাকলেও সেখানে পুলিশ ঘিরে রাখে।

পরে গৌরম্ভা বাজার সংলগ্ন রাস্তায় সংক্ষিপ্ত অবস্থান কর্মসূচী পালন শেষে মিছিল করেছে দলটির নেতাকর্মীরা। বিদ্যুৎ, গ্যাস, দ্রব্য মূল্যের উর্ধগতি, আওয়ামী সরকারের সর্বগ্রাসী দুর্নীতি ও পূর্ব ঘোষিত ১০ দফা আদায়ের জন্য এ কর্মসূচি পালন করে বিএনপি। ১১ এপ্রিল সকাল ইউনিয়ন পর্যায়ে কর্মসূচী পালনের সিদ্ধান্ত গ্রহণের মাধ্যমে শনিবারের কর্মসূচী সম্পন্ন হয়। অবস্থান কর্মসূচিতে প্রধান অতিথির বক্তব্য দেন, লায়ন ডক্টর শেখ শেখ ফরিদুল ইসলাম। এ সময় রামপাল উপজেলা ও সকল ইউনিয়ন বিএনপি, অংগ এবং সহযোগী সংগঠনের বিপুল সংখ্যক নেতৃবৃন্দ কর্মসূচীতে অংশ গ্রহণ করেন।

নেতৃবৃন্দ অবিলম্বে উপজেলা বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মোস্তফা কামাল পাটোয়ারী হালিম ও সাবেক দপ্তর সম্পাদক কাজী জাহিদুল ইসলামসহ আটক নেতাকর্মীদের নিঃশর্ত মুক্তির দাবী করেন।

বাগেরহাটের রামপালে কেন্দ্রীয় কর্মসূচি পালনে বিএনপির প্রস্তুতিমূলক সভা

এ এইচ নান্টু, বিশেষ প্রতিনিধি ||

বিএনপির কেন্দ্র ঘোষিত ১০ দফা দাবী আদায়ের লক্ষ্যে রামপাল উপজেলা বিএনপির আয়োজনে শুক্রবার সকাল১০ টায় ফয়লাহাট কার্যালয়ে এক প্রস্তুতিমূলক সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। আগামী ৮ এপ্রিল উপজেলা বিএনপির ও ১১ এপ্রিল ইউনিয়ন বিএনপির কর্মসূচি পালন উপলক্ষে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়। উপজেলা বিএনপির সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মোস্তফা কামাল পাটোয়ারী হালিমের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত আলোচনা সভার প্রধান অতিথির বক্তব্য দেন, বাগেরহাট জেলা বিএনপির যুগ্ম আহবায়ক লায়ন ডক্টর শেখ ফরিদুল ইসলাম। অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য দেন উপজেলা বিএনপির সাবেক দপ্তর সম্পাদক কাজী জাহিদুল ইসলাম, শেখ আব্দুল্লাহ আজমি, ফকির আবু জাফর, মো. ফিরোজ কবির, মাহাফুজুর রহমান চিক, মাহাতাব মোড়ল, নূরুল্লাহ খোকন, মো. জিল্লুর রহমান, আব্বাস আলী, মুজিরার রহমান জোয়ার্দার, আমিনুল ইসলাম কুটি, সাইদুর রহমান, ফকির মাহামুদুল হাসান, সরদার বাকী বিল্লাহ, কামাল হোসেন, জাহিদুর রহমান বাবলা, লিয়াকত হোসেন, সাইদুর রহমান, সেখ আসাদুজ্জামান, শেখ আ. সবুর, হাবিবুর রহমান, উপজেলা যুবদলের সিনিয়র যুগ্ম আহবায়ক মাসুদুর রহমান পিয়াল, সদস্য সচিব আলমগীর কবির বাচ্চু, গাজী শাহজালাল, ছাত্র দলের আহবায়ক মোল্লা তরিকুল ইসলাম শোভন, তরফদার মোতালেব হোসেন, মোফাজ্জল হোসেন বাদল প্রমুখ।

বাগেরহাটের রামপালে দুই নেতাকে গ্রেফতার করায় বিএনপির নিন্দা

এ এইচ নান্টু, বিশেষ প্রতিনিধি|| বাগেরহাটের রামপাল উপজেলা বিএনপির সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মোস্তফা কামাল পাটোয়ারী হালিম ও সাবেক দপ্তর সম্পাদক কাজী জাহিদুল ইসলামকে পুলিশ গ্রেফতার করেছে। শুক্রবার রাতে ফয়লাস্থ নিজ বাড়ি থেকে মোস্তফা কামাল পাটোয়ারী ও ঝনঝনি গ্রামের বাড়ি থেকে কাজী জাহিদুল ইসলামকে গ্রেফতার করে পুলিশ। এ ঘটনার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়ে বিবৃতি দিয়েছেন বাগেরহাট জেলা বিএনপির আহবায়ক ইন্জিনিয়ার এ, টি, এম আকরাম হোসেন তালিম। পুলিশ জানায় তাদের বিরুদ্ধে নাশকতার অভিযোগে মামলা রয়েছে। বিএনপি নেতারা বলছেন, বাড়ি থেকে মামলা ছাড়া গ্রেফতার করেছে পুলিশ। তারা বলেন, শুক্রবার সকাল সাড়ে ১০ টায় ডিবিসি নিউজ টিভিতে সাক্ষাৎকার দেয়ার পরই পুলিশ অভিযান শুরু করে। তারা প্রত্যেক নেতার বাড়িতে শুক্রবার রাতে অভিযান চালায়। ওই সময় হালিম পাটোয়ারী ও জাহিদুল ইসলামকে বাড়ি থেকে পুলিশ তুলে নিয়ে যায়। তারা বাগেরহাট জেলা বিএনপির যুগ্ম আহবায়ক লায়ন ডক্টর শেখ ফরিদুল ইসলামের বাড়িতেও অভিযান চালায়। বিএনপি শান্তিপূর্ণ কর্মসূচি পালন করছে। বিএনপি সহাবস্থানে বিশ্বাস করে। আমরা কেন্দ্র ঘোষিত ১০ দফা দাবি আদায়ে কর্মসূচি পালন করার জন্য সভা করেছি। ডক্টর শেখ ফরিদুল ইসলাম শুক্রবার ডিবিসি টিভিতে সাক্ষাৎকার দিয়েছেন। এরপর পুলিশ অভিযান শুরু করে। তারা বাড়িতে বাড়িতে গিয়ে অভিযান পরিচালনা করে। সরকার গনতন্ত্র বিশ্বাস করে না বলে হামলা মামলা করে নাগরিকদের মধ্যে ভীতিকর পরিবেশ সৃষ্টি করছে। তিনি সকল রাজবন্দীর নিঃশর্ত মুক্তি ও হয়রানি না করার আহবান জানান। অনুরূপ বিবৃতি দিয়েছেন, রামপাল উপজেলা যুবদলের সিনিয়র আহবায়ক মাসুদুর রহমান পিয়াল, সদস্য সচিব আলমগীর কবির বাচ্চু, সেচ্চাসেবক দলের আহবায়ক কাজী অজিয়ার রহমান, ছাত্রদলের সভাপতি মোল্লা তরিকুল ইসলাম শোভনসহ বিভিন্ন পর্যায়ের উপজেলা নেতৃবৃন্দ।

বাগেরহাটের রামপালে জমি জাল দলিল করায় সাব-রেজিস্টারসহ ৭ জনের নামে মামলা

এ এইচ নান্টু, বিশেষ প্রতিনিধি||

বাগেরহাটের রামপালে মৃত্যু শয্যায় থাকা বৃদ্ধের ৬০ শতাংশ জমি জাল জালিয়াতির মাধ্যমে লিখে নেওয়ায় সাব রেজিষ্টারসহ ৭ জনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের হয়েছে। বাগেরহাটের বিজ্ঞ সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেটের আদালতে গত ২৭ এপ্রিল বেলা ১১ টায় মামলাটি করেন, ভুক্তভোগী বৃদ্ধ রণজিৎ কুমার পালের একমাত্র পুত্র বিশ্বজিৎ কুমার পাল। পিটিশন মামলা নং ২৫/২০২৩। বিজ্ঞ আদালত মামলাটি তদন্তের জন্য বাগেরহাটের পিবিআই কে নির্দেশ দিয়েছেন।

মামলার আসামিরা হলেন, রামপাল উপজেলা সাব-রেজিস্টার নাহিদ জাহান মুনা, উপজেলার গিলাতলা গ্রামের দীনেশ পালের পুত্র ও ইউপি সচিব রতন কুমার পাল, তার পিতা (দলিল গ্রহিতা) দীনেশ চন্দ্র পাল, দলিল লেখক ওড়াবনিয়া গ্রামের সবুজ কুমার মন্ডল, সৈয়দ গালিব জামান (ইশাদী), রতিন কুমার পাল, সনাক্তকারী রীতা রানী পাল।

এজাহারে তিনি উল্লেখ করেন, গত ইং ০৭-০২-২০২৩ তারিখ রামপাল সাব রেজিস্ট্রার অফিসে বসে ষড়যন্ত্র ও যোগসাজশের মাধ্যমে দলিল গ্রহীতা দীনেশ পালের পুত্র রতন পাল দলিল লেখক সবুজ মন্ডলের মাধ্যমে একটি জাল জালিয়াতি করে দলিলটি করান। অত্যন্ত গোপনীয়তা বজায় রেখে দলিলটি রেজিষ্ট্রি করা হলেও বিষয়টি প্রকাশ হয়ে যায়।

এ বিষয়ে অনুসন্ধান করতে দলিল দাতা রণজিৎ কুমার পালের বাড়িতে গিয়ে দেখা যায় তিনি বার্ধক্য জনিত কারণে গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় শয্যাশায়ী। কথা হয় তার পুত্র বিশ্বজিৎ পালের সাথে। তিনি বলেন আমার বাবার জমি ইউপি সচিব রতন কুমার পাল ও আমার সৎ মা রীতা রানী পাল সাব-রেজিস্টারের সাথে যোগসাজশে ভূয়া দলিল দাতা সাজিয়ে ৮৮ নং গিলাতলা মৌজার এসএ ৬৪০ খতিয়ানের ১৮৪৭ দাগের ০.৯৫ একরের মধ্যে ০.৬০ একর জমি জাল জালিয়াতি করে লিখে নেন। যার দলিল নং ৩৪৪/২০২৩। তিনি মামলায় উল্লেখ করেন, তার পিতা রণজিৎ কুমার দীর্ঘ দিন ধরে বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত হয়ে শয্যাশায়ী অবস্থায় রয়েছেন। তার স্মৃতি শক্তি ও লোপ পেয়েছে। অথচ তার স্থলে অন্য ব্যক্তির ছবি ও ভূয়া আইডি কার্ড ব্যবহার করে মূল্যবান জমিটি রেজিষ্ট্রি করা হয়েছে।
তার গ্রামে গিয়ে কথা হয়, মনোরঞ্জন পাল, তুষার কান্তি পাল ও সুদর্শন বিশ্বাসের সাথে। তারা বলেন, রণজিৎ বাবু ৭/৮ মাস মৃত্যুর সাথে পাঞ্জা লড়ছেন। তার অবস্থা খারাপ। তাকে বাইরে নেওয়ার মত বা তার বের হওয়ার মত অবস্থায় নেই।

অভিযুক্ত ইউপি সচিব রতন পালের কাছে জানতে চাইলে তিনি জানান, সবুজ মহরীর সাথে ২ লক্ষ টাকার চুক্তি করে ১ লক্ষ ৭০ হাজার টাকার বিনিময়ে দলিল করিয়েছি। সবুজ মন্ডল সব কিছু করেছে বলে স্বীকার করেন।

অন্যতম কুশীলব সবুজ মন্ডলকে সোমবার দুপুর ১ টায় সাবরেজিস্টারের মুখোমুখি করানো হলে থলের বিড়াল বেরিয়ে আসে। কথিত দাতা সাজিয়ে ভুয়া আইডি কার্ড ও ভূয়া ছবি ব্যবহার করে দলিল করিয়েছেন বলে প্রাথমিকভাবে প্রমাণিত হয়েছে। সবুজ মন্ডল আরও জল জালিয়াতির মাধ্যমে দলিল করে বিপুল বিত্তের মালিক হয়েছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।

অনুসন্ধানে দেখা যায়, ইউপি সচিব রতন পাল মোংলা উপজেলার বুড়িরডাঙ্গা ইউনিয়নের বিদ্যারবাহন গ্রামের মৃত যতীন্দ্র নাথ মন্ডলের পুত্র জগদীশ মন্ডলকে দাতা বানিয়ে ও ভূয়া আইডি কার্ড দিয়ে জমি দলিল করেন। সাংবাদিকরা জগদীশ মন্ডলের বাড়িতে গেলে সে কৌশলে পালিয়ে যায়। কথা হয় জগদীশ মন্ডলের সহচর এনপিএস নিউজের খুলনা বিভাগীয় চীফ জুয়েল খান জগদীশ পিএনএসের সদস্য বলে স্বীকার করেন। তিনি জানান, জগদীশ এমন একটি ঘটনা ঘটিয়েছে বলে শুনেছি।

জমি জাল জালিয়াতি করে দলিল সম্পাদন ও বাগেরহাটের বিজ্ঞ আদালতে মামলা দায়েরের বিষয়টি নিয়ে সাংবাদিকদের সাথে কথা হয় রামপাল উপজেলা সাবরেজিষ্টার নাহিদ জাহান মুনা’র সাথে। তার অফিসে বসে ৩৪৪/২৩ নং দলিলটি দেখতে চাইলে তিনি দলিলটি এনে দেখতে পান, দলিল দাতা ও তার আইডি কার্ড জাল করা হয়েছে। উপস্থিত মহরার সমিতির নেতৃবৃন্দরা ও বিষয়টির সত্যতা পান। এ পর্যায়ে সবুজ জাল জালিয়াতির বিষয়টি স্বীকার করেন।

রামপাল উপজেলা সাবরেজিষ্টার নাহিদ জাহান মুনা বলেন, সরল বিশ্বাসে আমি জমির দলিল রেজিষ্ট্রি করেছি। আমাকে মিস গাইড করে ভূয়া দাতা ও ভূয়া ছবি ব্যবহার করা হয়েছে। আমি অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহন করবো।

রামপালে শান্তিপূর্ণ পরিবেশ ফেরাতে আওয়ামী লীগের প্রেস ব্রিফিং

এ এইচ নান্টু, বিশেষ প্রতিনিধি ||

শান্তিপূর্ণ পরিবেশ ফেরাতে রামপাল উপজেলা ও বাঁশতলী আওয়ামী লীগ এক প্রেস ব্রিফিং করেছেন। মঙ্গলবার দুপুর ১২ টায় উপজেলার গিলাতলা বাজারের কার্যালয়ে উপজেলা আওয়ামী লীগ ও বাঁশতলী ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের ২০ নেতৃবৃন্দের স্বাক্ষরিত যৌথ বিবৃতিতে বলা হয়েছে, উপজেলার বাঁশতলী ইউনিয়নের ইসলামাবাদ গ্রামের কতিপয় ব্যক্তি আওয়ামী লীগের ভাবমূর্তি নষ্ট করার অপচেষ্টায় লিপ্ত রয়েছেন। তারা আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক প্রতিপক্ষের সাথে হাত মিলিয়ে আওয়ামী লীগের নেতা কর্মীদের মারপিট, ঘের দখল, ও আধিপত্য বিস্তারের অপচেষ্টা চালাচ্ছে। এসব অপকর্মের বিরোধিতা করায় তারা বাঁশতলী ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক কুদরতি এনামুল বাশার বাচ্চু, যুবলীগ সভাপতি মল্লিক মিজানুর রহমান, ইউপি সদস্য শফিকুল ইসলাম সোহাগ, ইউপি সদস্য মো. রাসেল, সাবেক ইউপি সদস্য মো. মহিদুল ইসলাম, ফকির দেলোয়ার হোসেনসহ উপজেলা ও বাঁশতলী ইউনিয়ন পর্যায়ের নেতাদের হেনস্তা ও মারপিট করে গুরুতর আহত করেছে। এখনও অনেকেই খুলনা এবং বাগেরহাট হাসপাতালে ভর্তি আছেন।
একটি প্রভাবশালী মহলের ছত্রছায়ায় ইসলামাবাদ গ্রামের আবু তালেব, মারুফ শেখ, মাসুম শেখ, মোস্তাফিজুর রহমান, হুমায়ুন কবির, বাকি বিল্লাহ, মাসুম বিল্লাহ, শরাফত আলী, খোকন শেখ, পলাশ শেখ, নাহিদ শেখসহ বেশ কিছু ব্যক্তি সন্ত্রাসী কার্যকলাপে লিপ্ত রয়েছে। তারা রাজনৈতিক প্রতিপক্ষের ফরমুলা মোতাবেক আওয়ামী লীগের মধ্যে থেকে আওয়ামী লীগের ভাবমূর্তি নষ্ট করছে। তারা এলাকায় ত্রাস সৃষ্টি করে সরকারের সুনাম সুখ্যাতি নষ্ট করতে চায়। প্রেস ব্রিফিংয়ে নেতৃবৃন্দ এলাকায় শান্তি প্রতিষ্ঠা ও দলমত নির্বিশেষে শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান নিশ্চিতের জোর দাবি করেন। তারা রামপাল উপজেলা আওয়ামী লীগ, বাগেরহাট জেলা আওয়ামী লীগ, আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক, বন, পরিবেশ ও জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়ক উপমন্ত্রী হাবিবুন নাহার এমপি এবং খুলনা সিটি করপোরেশনের মেয়র তালুকদার আবদুল খালেক এর জোর হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। বিবৃতি দাতারা হলেন, হাওলাদার আবু তালেব, কুদরতি এনামুল বাশার বাচ্চু, ফকির দেলোয়ার হোসেন, বীর মুক্তিযোদ্ধা আ. হক, মো. মুহিতুল ইসলাম, মল্লিক মিজানুর রহমান, আনোয়ার হোসেন, শেখ আপ্তাব, রেজাউল কুদরতি, ইসরাফিল হোসেন, মো. রাসেল শেখ, শফিকুল ইসলাম সোহাগ, দাউদ আলী মল্লিক, সোলাইমান শেখ, আল মামুন (অভি) প্রমুখ। #

রামপাল তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রের ২ লাখ টাকার তামার তারসহ আটক ২

এ এইচ নান্টু, বিশেষ প্রতিনিধি||

রামপালে বাংলাদেশ-ইন্ডিয়া ফ্রেন্ডশিপ পাওয়ার প্লান্টের অভ্যন্তরে সিনপ্লেক্স এলাকা থেকে ১২০ কেজির অধিক কপার ক্যাবলসহ মো. মহিদুল শেখ (২৬) ও হাসিবুর শেখ (২৫) নামে চোর চক্রের দুই সদস্য আটক করেছে ৩ আনসার ব্যাটালিয়নের রামপাল ক্যাম্পের সদস্যরা।
রোববার (২ এপ্রিল) সকাল সাড়ে ৯টার দিকে রামপালে বাংলাদেশ-ইন্ডিয়া ফ্রেন্ডশিপ পাওয়ার প্লান্টের অভ্যন্তরে সিনপ্লেক্স এলাকায় অভিযান চালিয়ে ওই চোর চক্রকে আটক করা হয়। এ সময় তাদের কাছ থেকে ১২০ কেজির অধিক কপার ক্যাবলসহ ০১টি ক্যাবল কাটার হাতিয়ার, ০২টি স্মার্ট ফোন ও ০১টি সেলফোন উদ্ধার করে আনসার ব্যাটালিয়নের সদস্যরা ।
আনসার ব্যাটালিয়ন-৩ এর অধিনায়ক চন্দন দেব নাথ এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
আটক মো. মহিদুল শেখ বাগেরহাটের মোংলা উপজেলার মিঠাখালী গ্রামের জালাল শেখের ছেলে ও হাসিবুর শেখ রামপাল উপজেলার পিপুলবুনিয়া গ্রামের মনিরুল শেখের ছেলে।
আনসার ব্যাটালিয়ন-৩ এর অধিনায়ক চন্দন দেব নাথ জানান, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে জানা যায়, রোববার সকাল ৯টার দিকে তাপ বিদ্যুৎ কেন্দ্রের ভেতর থেকে বিপুল তামার তার পাচার করা হবে। ওই সংবাদের ভিত্তিতে তার নির্দেশনায় কোম্পানি কমান্ডার জনাব রাজিব হোসাইনের নেতৃত্বে চৌকশ আভিযানিক একটি দল বিদ্যুৎ কেন্দ্রের সিনপ্লেক্স এলাকায় অভিযান চালায়। অভিযানেু সকাল সাড়ে ৯টার দিকে ১২০ (একশত বিশ) কেজির অধিক কপার ক্যাবল, ০১টি ক্যাবল কাটার হাতিয়ার, ০২টি স্মার্ট ফোন ও ০১টি সেলফেনসহ চোরচক্রের মো. মহিদুল শেখ (২৬) ও হাসিবুর শেখ আটক করা হয়। উদ্ধার করা কপার ক্যাবল ও সেলফোনগুলোর আনুমানিক মূল্য ২,০৫,০০০/- (দুই লক্ষ পাঁচ হাজার) টাকা প্রায়।
তিনি আরও বলেন, এ জাতীয় রাষ্ট্রীয় সম্পদ চুরির সঙ্গে যারা জড়িত তাদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে। তাপ বিদ্যুৎ কেন্দ্রের কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্ত মোতাবেক উদ্ধারকৃত মালামালসহ চোরকে পুলিশের কাছে সোপর্দ করা হয়েছে। এছাড়া রামপাল থানায় মামলার কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন রয়েছে বলেও জানান তিনি।
উল্লেখ্য গত মে ২০২২খ্রি. হতে অধ্যাবদি পর্যন্ত ৫৫টির অধিক অভিযানে প্রায় ৬৬,৬২,৩০০/- (ছেষট্টি লক্ষ বাষট্টি হাজার তিনশত) টাকার চোরাই মালামাল ও ৪৬ জন চোরাকারবারীকে আটক করে পুলিশে সোপর্দ করা হয়েছে।

বাগেরহাটের রামপালে আধিপত্য বিস্তারের হামলায় আওয়ামীলীগের উভয় পক্ষের ১০ জন আহত গ্রেফতার ২

এ এইচ নান্টু, বিশেষ প্রতিনিধি ||

রামপালে আধিপত্য বিস্তারে আওয়ামী লীগের প্রভাবশালী প্রতিপক্ষের হামলায় বাঁশতলী ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদকসহ উভয় পক্ষের ১০ জন আহত হয়েছেন। এ ঘটনায় শনিবার রাতে ভুক্তভোগী রেজাউল কুদরতি রামপাল থানায় একটি মামলা দায়ের করেছেন। মামলা দায়েরের পরে রাতে অভিযান চালিয়ে সাবেক ইউপি সদস্য আবু তালেব শেখ ও বর্তমান ইউপি সদস্য কবির হোসেন ফকিরকে গ্রেফতার করেছে রামপাল থানা পুলিশ ।

আহতরা হলেন, বাঁশতলী ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও ইসলামাবাদ গ্রামের মৃত মাওলানা খায়রুল বাশারের পুত্র কুদরতি এনামুল বাশার বাচ্চু (৫০), একই গ্রামের মোবারক শেখের পুত্র মহব্বত আলী শেখ (৫৪), মৃত্যু নজরুল ইসলামের পুত্র নাজমুল ইসলাম (৩০), আ. রউফের পুত্র কোহিনূর কুদরতি (৩২), মহব্বত আলী শেখের পুত্র হুসাইন শেখ (৩৩) ও আবুল হাসান শেখ (৩৫) এবং আ. রউফের পুত্র মো. রেজাউল কুদরতি। অন্য পক্ষের আহতরা হলেন, আ. রউফের পুত্র পলাশ শেখ (৩৫) ও তার ভাই নাহিদ শেখ (৩০) ও মৃত্যু তাছিন শেখের পুত্র মারুফ শেখ। আহতরা রামপাল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স, খুলনা ও বাগেরহাটের বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন।

এজাহার সূত্রে ও ভুক্তভোগীদের সাথে কথা বলে জানা গেছে, শনিবার বিকাল সাড়ে ৫ টায় ইসলামাবাদ তিন রাস্তার মোড়ে ফরহাদের দোকানের সামনে স্থানীয় রাজনৈতিক বিরোধ, মৎস্যঘের বিরোধ ও ক্ষমতার দাপট দেখাতে পূর্ব পরিকল্পিতভাবে একই দলের প্রতিপক্ষের উপর দা, লাঠি ও রড নিয়ে সাবেক ইউপি সদস্য আবু তালেব, মারুফ শেখ, মাসুম শেখ, মোস্তাফিজ শেখ, হুমায়ুন শেখ, মাসুম বিল্লাহ, বাকী বিল্লাহ, শরাফত কাজী, খোকন শেখ, পলাশ শেখ, নাহিদ শেখ, আসাদ শেখ, আব্দুল্লাহ শেখ, আবু বকার, রবি ও হাসিব সহ অজ্ঞাত ৭/৮ জন হামলা করে। এতে তারা গুরুতর আহত হয়েছেন।

আসামী আল আমীন জানান, হামলার সময় আমি ছিলাম না। আমি কিছু জানি না। জমি নিয়ে বিরোধের জের ধরে আমার নামে মামলা দায়ের করেছেন। আহত মাসুম বলেন, রেজাউলসহ অন্যরা পলাশকে মারপিট করার সময় আমরা বাঁধা দিলে তারা আমাদের উপর হামলা করে পলাশসহ তিন জনকে আহত করেছে।

এ বিষয়ে রামপাল থানার ওসি মোহাম্মদ সামসুদ্দীন এর কাছে জানতে চাইলে তিনি মারপিটের ঘটনায় মামলা দায়েরের বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, রাতে অভিযান চালিয়ে ১নং আসামিসহ দুই জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে, অন্যদের ধরার জোর চেষ্টা চলছে।

বাগেরহাটের রামপালে একটি মাদ্রাসার সাধারণ শিক্ষক এক যুগ ধরে অন্য মাদরাসায় সভাপতি

এ এইচ নান্টু, বিশেষ প্রতিনিধি ||

বাগেরহাটের রামপালে একটি মাদ্রাসার সাধারণ শিক্ষকের বিরুদ্ধে বিধি বহির্ভূতভাবে টানা এক যুগেরও বেশি সময় ধরে অন্য একটি দাখিল মাদ্রাসার সভাপতির দায়িত্ব পালনের অভিযোগ উঠেছে। মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক স্তরের বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের গভর্নিং বডি ও ম্যানেজিং কমিটি গঠন প্রবিধানমালা ২০০৯ এর পরিপন্থীভাবে এমন নিয়োগ অবৈধ হলেও বহল তবিয়তে সভাপতির পদে সামলাচ্ছেন কুদরতি এনামুল বাশার বাচ্চু নামের এক আওয়ামী লীগ নেতা। এ ঘটনায় এলাকায় তীব্র চাপা ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।

জানা গেছে, রামপাল উপজেলার ইসলামাবাদ ফাতিমাতুজ্জযোহরা (রঃ) দাখিল মহিলা মাদরাসায়
এক যুগেরও বেশি সময় ধরে সভাপতির দায়িত্ব পালন করছেন কুদরতি এনামুল বাশার বাচ্চু। তিনি পার্শ্ববর্তী ইসলামাবাদ ফাজিল (ডিগ্রী) মাদরাসার দাখিল পর্যায়ের সাধারণ শিক্ষক ও বাঁশতলী ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক।

অভিযোগ উঠেছে, তিনি রাজনৈতিক ক্ষমতা অপব্যবহার করে দীর্ঘ দিন ধরে ওই মাদ্রসায় সভাপতির পদ অলংকৃত করছেন। মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে পর পর দুই বছরের বেশী কেউ সভাপতি পদে থাকতে পারবেন না একটি নির্দেশনা দিয়েছেন হাইকোর্ট। এ নির্দেশনা মেনে রামপালের অধিকাংশ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সভাপতি পরিবর্তন হলেও শুধু ওই মাদ্রসায় ৫ম বারের মত বহল তবিয়তে সভাপতি হয়েছেন আওয়ামী লীগের এই নেতা।

প্রবিধানমালার ম্যানেজিং কমিটি গঠন এর ৭ এর ২ ধারায় বলা হয়েছে ‘কোন শিক্ষক কিংবা শিক্ষক শ্রেণীর সদস্য ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি পদে নির্বাচিত হইবেন না’। প্রশ্ন উঠেছে একটি মাদ্রাসার সাধারণ শিক্ষক তা হলে কি করে অন্য একটি দাখিল মাদ্রাসার সভাপতি হতে পারেন ? তাও ২০১০ সাল থেকে টানা ২০২৩ সাল পর্যন্ত !

বার বার সভাপতি পদে নিয়োগ হওয়ায় ওই এলাকার অভিভাবক ও সাধারণ মানুষের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। সাংবাদিকরা মাদরাসার সুপার মাওলানা গোলাম ফারুকের মুখোমুখি হলে তিনি জানান, ২০১০ সাল থেকে বাচ্চু সাহেব সভাপতি হয়ে আসছেন কিন্তু এরপর তিনি আর সভাপতি হবেন না। আপনারা এ বিষয়ে কোন কিছু লেখালেখি করবেন না বলে অনুরোধ করেন।

এ ব্যাপারে প্রতিষ্ঠান সভাপতি ও ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক কুদরতি এনামুল বাশার বাচ্চুর কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, মাদরাসার উন্নয়নের স্বার্থে আমাকে দীর্ঘ দিন সভাপতি পদে রাখা হয়েছে। সভাপতি নির্বাচনে কোন অনিয়ম হয়নি বলে তিনি দাবী করেন। এটা নিয়ে সংবাদ প্রচার করতে তিনি নিষেধ করেন।

এ বিষয়ে রামপাল উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. জিয়াউল হকের দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে তিনি বলেন, এমনটি তো হওয়ার কথা নয়। আমি খোঁজ নিয়ে সত্যতা পেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিবো।

এমন অভিযোগের বিষয়ে রামপাল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নাজিবুল আলম কে ম্যানেজিং কমিটির গঠনের পরিপত্র দেখিয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করা হয়। তিনি পরিপত্র দেখে বলেন, আমার দায়িত্ব পালন কালীন সময়ে এমটি হয়নি। পরিপত্রের নিয়মের বাইরে বিধিবহির্ভূতভাবে সভাপতি পদে নিয়োগ হলে তা বাতিল হবে। মাদরাসা সুপার বা অন্য কেউ তথ্য গোপন করে দুই এর অধিক এবং সভাপতি যদি অন্য মাদরাসার সাধারণ শিক্ষক হয়ে থাকেন তবে সেটিও খতিয়ে দেখে বিধি মোতাবেক ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।

বাগেরহাটের রামপালে ইসলাম ধর্ম ও রোজা নিয়ে কটুক্তি করায় হিন্দু যুবক গ্রেফতার

এ এইচ নান্টু, বিশেষ প্রতিনিধি ||

রামপালে ইসলাম ধর্ম ও মাহে রমজানের রোজা পালন ও ফেসবুকে পোস্ট দেওয়ার অভিযোগে তমাল পাল (১৯) নামের হিন্দু এক যুবককে গ্রেফতার করা হয়েছে। এঘটনায় মো. আক্তার শেখ নামের এক ব্যক্তি ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত হানার অভিযোগ এনে বৃহস্পতিবার রাতে রামপাল থানায় একটি মামলা দায়ের করেছেন। রামপাল থানা পুলিশ তাৎক্ষণিকভাবে প্রযুক্তির ব্যবহার ও অভিযান চালিয়ে বৃহস্পতিবার রাতেই তমাল পাল কে গ্রেফতার করে। গ্রেফতারকৃত ওই যুবক কে শুক্রবার সকালে বাগেরহাটের আদালতে প্রেরন করা হয়েছে। এজাহার সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার হোগলডাঙ্গা গ্রামের আজিবর শেখের পুত্র আক্তার শেখ বৃহস্পতিবার বিকাল সাড়ে ৫ টার সময় উপজেলার খুলনা-মোংলা মহাসড়ক সংলগ্ন ভাগা বাজারের কামাল ফিলিং স্টেশনের সামনে দিয়ে যাচ্ছিলেন। এ সময় কামাল ফিলিং স্টেশনের সামনের বাসিন্দা রবিন পালের পুত্র তমাল পাল ইসলাম ধর্ম ও মাহে রমজানের রোজার তৎপর্য নিয়ে ধর্ম বিরোধী বিরূপ মন্তব্য করতে থাকেন। তাকে নিষেধ করলে সে ক্ষিপ্ত হয়ে বলেন, আমি যা বলেছি ঠিক বলেছি। এ কথা কাউকে জানালে ভয়ভীতি ও মেরে ফেলার হুমকি দিয়ে স্থান ত্যাগ করেন। মামলা দায়ের ও আসামী তমাল পাল কে গ্রেফতারের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন রামপাল থানার ওসি মোহাম্মদ সামসুদ্দীন। তিনি বলেন, ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত হানার বিষয়টি নিয়ে এলাকায় বিরূপ পরিবেশ সৃষ্টি হওয়ার পূর্বেই প্রযুক্তির ব্যবহার ও অভিযান চালিয়ে দ্রুত তাকে খুলনা গ্রেফতার করি। তিনি মাহে রমজানের পবিত্রতা বজায় রাখার জন্য সকলের প্রতি অনুরোধ করেন।