বিজয় দিবস উপলক্ষে ৮ দলীয় এমপি কাপ ফুটবল টুর্নামেন্ট শুরু হয়েছে বাগেরহাটের রামপালে

এ এইচ নান্টু, বিশেষ প্রতিনিধি ||

মাদক মুক্ত সমাজ গড়ার অঙ্গিকার ব্যক্ত করে রামপালে মহান বিজয় দিবস উপলক্ষে ঝনঝনিয়া মাধ্যমিক বিদ্যালয় মাঠে ৮ দলীয় এমপি কাপ ফুটবল টুর্নামেন্টের উদ্বোধন করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার বিকাল সাড়ে ৩ টায় খুলনা সিটি করপোরেশন এর মেয়র তালুকদার আবদুল খালেক এ অনুষ্ঠানের শুভ উদ্বোধন করেন। সপ্তাহব্যাপী অনুষ্ঠানের মধ্যে আরও রয়েছে ক্বেরাত প্রতিযোগিতা, দাবা, ক্যারাম, হাডুডু ও পিঠা উৎসবের আয়োজন করা হয়েছে। শেখ নাইম আহমেদ এর সভাপতিত্বে ও রামপাল সরকারি ডিগ্রী কলেজের প্রভাষক মোস্তফা কামাল পলাশের সঞ্চালনায় উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্য দেন উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান সেখ মোয়াজ্জেম হোসেন, ভাইস চেয়ারম্যান সেখ নূরুল হক লিপন, উপজেলা স্বাস্থ্য ও প.প. কর্মকর্তা সুকান্ত কুমার পাল, ওসি মোহাম্মদ সামসুদ্দীন, সাবেক উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মোল্লা আ. রউফ, মুক্তিযোদ্ধা শেখ আ. মান্নান, বাইনতলা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ফকির আব্দুল্লাহ, হুড়কা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান তপন কুমার গোলদার, ভাগা মহিলা কলেজের অধ্যক্ষ শেখ খালিদ আহমেদ, অধ্যক্ষ মোতাহার রহমান, প্রভাষক শাহ নেওয়াজ, গৌরম্ভা ইউপির সাবেক চেয়ারম্যান গাজী গিয়াস উদ্দিন, সদরের সাবেক চেয়ারম্যান শেখ মো. বজলুর রহমান, ঝনঝনিয়া মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক বিষ্ণুপদ বিশ্বাস, উপজেলা যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক ও জেলা পরিষদ সদস্য মনির আহমেদ প্রিন্স, ছাত্রলীগের সভাপতি মো. হাফিজুর রহমান প্রমুখ। খেলার প্রথম দিনে হুড়কা ইউনিয়ন ও গৌরম্ভা ইউনিয়ন একাদশ অংশ গ্রহণ করে। প্রথম খেলায় ১-০ গোলে হুড়কা ইউনিয়ন একাদশ জয়লাভ করে।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে খুলনা সিটি করপোরেশন এর মেয়র তালুকদার আবদুল খালেক বলেন, শিক্ষকার পাশাপাশি ক্রীড়া মানসিক বিকাশ ঘটায়। মাদক ও সন্ত্রাস মুক্ত সমাজ গড়তে খেলাধূলার বিকল্প নেই। বেশি বেশি এমন খেলাধূলার আয়োজনে সকলকে এগিয়ে আসতে হবে।

রামপালে বাঁশতলী ইউপি’র কৃতি শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা বয়স্ক ভাতার কার্ড বিতরণ

এ এইচ নান্টু, বিশেষ প্রতিনিধি|| বাগেরহাটের রামপাল উপজেলার বাঁশতলী ইউনিয়ন পরিষদের উদ্যোগে এসএসসিতে এ প্লাস পাওয়া ৭০ জন শিক্ষার্থীকে সংবর্ধনা প্রদান করা হয়েছে। এছাড়াও সামাজিক ও খাদ্য নিরাপত্তার আওতায় ১৬৯ জন বয়স্ক ও বিধবাদের মাঝে ভাতার কার্ড বিতরণ করা হয়েছে।

১০ নং বাঁশতলী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. মোস্তাফিজুর রহমান সোহেল এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সংবর্ধনা প্রদান ও বয়স্ক, বিধবা ভাতার কার্ড বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্য দেন রামপাল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নাজিবুল আলম। মো. শেখ আল আমিনের সঞ্চালনায় বিশেষ অতিথির বক্তব্য দেন সাবেক উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও বাগেরহাট জেলা আওয়ামী লীগের সদস্য শেখ মো. আবু সাইদ, আবুল কালাম মহাবিদ্যালয়ের অধ্যক্ষ মো. ফরহাদ হোসেন, অধ্যাপক মিজানুর রহমান, উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হাওলাদার হাফিজুর রহমান, ভোজপাতিয়া ইউপি চেয়ারম্যান তরফদার মাহাফুজুল হক টুকু, ইসলামাবাদ ফাজিল (ডিগ্রী) মাদরাসার সহকারী অধ্যাপক মো. বজলুর রহমান খান, গিলাতলা সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সুশান্ত কুমার পাল, গিলাতলা হাজী আরিফ বালিকা বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক বীরেন্দ্রনাথ পাল, বাঁশতলী মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ইজারাদার ফিরোজ আহমেদ, চন্ডিতলা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক গোপাল চন্দ্র পাল, ফাতিমাতুজ্জোহরা দাখিল মাদ্রাসার সুপার মাওলানা মো. গোলাম ফারুক, উপজেলা ছাত্র লীগের সাধারণ সম্পাদক শেখ সাদি, অভিভাবক সালাউদ্দিন সোহাগ, শিক্ষার্থী শ্রাবন্ত পাল, জান্নাতুন ফেরদৌস মুমু প্রমুখ। আয়োজক সভাপতি ও বাঁশতলী ইউপি চেয়ারম্যান সোহেল বলেন, আমরা পরিষদের সকল সদস্য একত্রিত হয়ে এ ইউনিয়নবাসীকে সাথে নিয়ে শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা দেওয়ার আয়োজন করেছি। আমরা জঙ্গিবাদ মুক্ত, মাদক মুক্ত একটি ইউনিয়ন পরিষদ উপহার দিতে কাজ করছি। আমরা আমাদের শিক্ষার্থীদের অভিভাবক ও যারা এবার এসএসসি পরীক্ষায় জিপিএ-৫ পেয়ে উত্তীর্ণ হয়েছে তাদের সাথে আমরা একটি যোগসূত্র তৈরি করতে এমন মহতি কাজ হাতে নিয়েছি। মেধা বিকাশে আমরা সকলকে সহায়তা প্রদান অব্যাহত রাখবো।

বিশেষ করে দরিদ্র ও অসহায় শিক্ষার্থীদের লেখা পড়া যাতে থেমে না যায় এজন্য আমি দায়িত্ব পালন করে যাবো। এ জন্য সকলের সহযোগিতা কামনা করেন।

রামপাল উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান শেখ মো আবু সাইদ বলেন অভিভাবকদের সচেতন হতে হবে। আপনার সন্তান কি করে, কোথায় যায়, কার সাথে মেলামেশা করে ? এগুলো দেখতে হবে। মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যন্ত শিক্ষার্থীদের হাতে দয়া করে মোবাইল ফোন তুলে দিবেন না।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. নাজিবুল আলম বলেন, আমাদের শিক্ষার্থীরা এমন ভালো রেজাল্ট করেছে এজন্য বাবা-মা ও বিদ্যালয়ের শিক্ষকগণ অবদান রেখেছেন। এ জন্য সবাইকে আমি অভিনন্দন জানাচ্ছি। এমন মহতী অনুষ্ঠান আয়োজন করে শিক্ষার্থীদের ও অভিভাবকদের অনুপ্রেরণা দেওয়া হয়েছে। এমন অনুষ্ঠান আয়োজনের জন্য সকলকে ধন্যবাদ বলেন সরকার পক্ষ থেকে সকল প্রকার সহযোগীতা করা হবে।

বাগেরহাটের রামপালে ১২৮টি প্রাথমিক বিদ‍্যালয়ে ১৬৯টি পদ খালি

এ এইচ নান্টু, বিশেষ প্রতিনিধি ||

বাগেরহাটের রামপাল উপজেলার ১২৮ টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষকসহ মোট ১৬৯ টি পদ খালি রয়েছে। এর মধ্যে ৩৬ টিতে প্রধান শিক্ষক, ৬৫ টিতে সহকারী শিক্ষক ও প্রাক প্রাথমিকের সৃজনকৃত ৬৭ টি পদের বিপরীতে এই পদগুলো দীর্ঘদিন ধরে শূন্য পড়ে আছে। এ ছাড়াও সুমা রানী পাল নামের এক সহকারী শিক্ষিকা অননুমোদিত ছুটি ছাড়া গত ইংরেজি ০৪-০৭-২০১৮ সাল থেকে নিরুদ্দেশ রয়েছেন।

রামপাল উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস সূত্রে জানা গেছে, অবসর জনিত কারণে ৩৬ জন প্রধান শিক্ষকের পদ দীর্ঘ দিন ধরে শূন্য পড়ে আছে। প্রতি মাসেই ২/১ জন শিক্ষক অবসর নিচ্ছেন। এ ছাড়াও কয়েকজন শিক্ষক অসুস্থতা জনিত কারণে মৃত্যুবরণ ও করেছেন।

উপজেলার ১০ টি ইউনিয়নের মোট ৪৯ টি বিদ্যালয়ে সহকারী শিক্ষকদের শূন্য পদের তালিকা চেয়ে পাঠিয়েছে বাগেরহাট জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস। প্রধান শিক্ষকের শূন্য পদের তালিকা সংশ্লিষ্ট দপ্তরে দপ্তরে চালাচালি হলেও দীর্ঘ ৮/১০ বছর ধরে প্রধান শিক্ষকের পদ পূরণ করা হচ্ছে না। শতকরা ৬৫ ভাগ প্রধান শিক্ষকের শূন্য পদের বিপরীতে পদোন্নতি দেয়ার কথা থাকলেও সেটি ঝুলে আছে। এ ছাড়াও সরাসরি শতকরা ৩৫ ভাগ সহকারী শিক্ষককে নিয়োগ দানের বিষয়টি ও ঝুলে আছে দীর্ঘ দিন।

উপজেলার প্রাক প্রাথমিকে ৬৭ টি পদ সৃজন করা হলেও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ শূন্য পদের বিপরীতে নিয়োগ প্রদান করা হয়নি। এ উপজেলায় ৬৭ টি বেসরকারি রেজিস্ট্রার প্রাথমিক বিদ্যালয় গুলো জাতীয় করণ করা হলেও সংশ্লিষ্ট বিদ্যালয়ে প্রাক প্রাথমিকের কোন শিক্ষক নিয়োগ দেয়া হয়নি। কোন কোন বিদ্যালয়ে বদলি হওয়া কিছু শিক্ষক প্রাক প্রাথমিকের শিশুদের পাঠ দান করে আসছেন। অন্য বিদ্যালয় গুলোতে সহকারী শিক্ষকদের মধ্যে থেকে ১৫ দিনের প্রশিক্ষন দিয়ে তাদের দ্বারা পাঠদান করানো হচ্ছে। সরকারের প্রাক প্রাথমিক শিক্ষা একটি শুভ উদ্যোগ। এটা মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে শুধুমাত্র প্রাকের উপযোগী শিক্ষক না থাকায়।

এ বিষয়ে রামপাল উপজেলা উন্নয়ন সংগ্রাম সমন্বয় কমিটির সভাপতি অ্যাডভোকেট মহিউদ্দিন শেখ এর দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে তিনি বলেন, শিশুদের পাঠ দান বা মানসিক বিকাশ শুরু হয় প্রাক প্রাথমিক শিক্ষা থেকে। এটাকে যুগোপযোগী করতে হলে অবশ্যই প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত শিক্ষক দিতে হবে প্রাক প্রাথমিকে। এছাড়াও অনেকগুলো প্রধান শিক্ষকের পদ দীর্ঘদিন ধরে শূন্য রয়েছে। সহকারী শিক্ষকদের নিয়োগ বন্ধ থাকায় সহকারী শিক্ষকদের শূন্য পদের বিপরীতে নিয়োগ দেয়া হচ্ছে না। এতে শিক্ষার মানে ত্রুটি থেকেই যাচ্ছে। এ সমস্যার সমাধানের দাবী করেন এই নেতা।

এ বিষয়ে রামপাল উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. মতিউর রহমান এর দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে তিনি বলেন, নতুন করে সরকার সহকারী শিক্ষক নিয়োগ দিয়েছে। সকল শূন্য পদের বিপরীতে জনবল চেয়ে সংশ্লিষ্ট উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নিকট পত্র দেওয়া হয়েছে। এক প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন প্রাক প্রাথমিকের শূন্য পদের বিপরীতে জনবল নিয়োগ খুবই জরুরী। কারণ এখন থেকে মূলত শিশুদের মেধা বিকাশ শুরু হয়। সরকারের পক্ষ থেকে আমরা প্রাথমিক শিক্ষা কে এগিয়ে নিতে কাজ করছি। এ জন্যে সকলের সহযোগিতা কামনা করছি।

বাগেরহাটের রামপালে শ্রদ্ধা ও স্মরণে বিজয় দিবস পালিত

এ এইচ নান্টু, বিশেষ প্রতিনিধি ||

বাগেরহাটের রামপালে শ্রদ্ধা ও স্মরণে মহান  বিজয় দিবস পালিত হয়েছে। শুক্রবার ভোর ৬ টায় তোপধ্বনির মাধ্যমে এ দিবসের সূচনা করা হয়। রামপাল উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে সকাল ৮ টায় পরিষদ মাঠের সবুজ চত্বরে নির্বাহী কর্মকর্তা নাজিবুল আলম এর সভাপতিত্বে কুচকাওয়াজ ও ডিসপ্লে প্রদর্শন করা হয়। এতে বীর মুক্তিযোদ্ধা, পুলিশ, আনসার, ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা, কলেজ, বিদ্যালয়, মাদরাসা ও প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা অংশ গ্রহণ করে।

এ সময় স্বাগত বক্তব্য দেন উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান সেখ মোয়াজ্জেম হোসেন। পরে কুচকাওয়াজে অংশ নেওয়া বিজয়ী ও সকলকে পুরষ্কৃত করা হয়। বেলা ১১ টায় মুক্তিযোদ্ধাদের সংবর্ধনা প্রদান ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। রামপাল সরকারি কলেজের সহকারী অধ্যাপক সাইফুল আলম বক্তিয়ার ও প্রভাষক মোস্তফা কামাল পলাশের সঞ্চালনায় বক্তব্য দেন সাবেক উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মোল্লা আ. রউফ, মুক্তিযোদ্ধা মোজাফফর হোসেন, উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান শেখ নূরুল হক লিপন, মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান হোসনেয়ারা মিলি, ওসি মোহাম্মদ সামসুদ্দীন, উপজেলা যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক মনির আহমেদ প্রিন্স, ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক শেখ সাদি প্রমুখ।

অনুষ্ঠানে বিভিন্ন সরকারি, বেসরকারি, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, এনজিও, প্রেসক্লাব রামপালসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের বিপুল সংখ্যক মানুষ ও শিক্ষার্থীরা অংশ গ্রহণ করেন। বিকাল ৩ টায় সরকারি কলেজ মাঠে মহিলাদের জন্য বিশেষ অনুষ্ঠান, পরিষদ মাঠে প্রীতি ফুটবল ম্যাচ, দুপুরে এতিম খানা ও হাসপাতালে উন্নত মানের খাবার বিতরণ। জুম্মাবাদ জাতির সুখ, সমৃদ্ধি কামনা করে বিশেষ দোয়া এবং সন্ধ্যায় মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান হওয়ার কথা রয়েছে।

বাগেরহাটের রামপালে বিশ্ব মানবাধিকার দিবস পালিত

এ এইচ নান্টু, বিশেষ প্রতিনিধি ||

রামপালে বিশ্ব মানবাধিকার দিবস পালন উপলক্ষে এক র্যালী ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। শনিবার সকল ১০ টায় উপজেলা অডিটোরিয়ামে অনুষ্ঠিত আলোচনা সভায় সভাপতিত্ব করেন, উপজেলা মানবাধিকার কমিশনের সভাপতি অ্যাডভোকেট মহিউদ্দিন শেখ।

সংগঠনের সাংগঠনিক সম্পাদক ও প্রেসক্লাব রামপালের সভাপতি এম, এ সবুর রানা’র সঞ্চালনায় প্রধান অতিথির বক্তব্য দেন উপজেলা পরিষদের মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান হোসনেয়ারা মিলি। বিশেষ অতিথির বক্তব্য দেন ভাগা মহিলা কলেজের সহকারী অধ্যাপক ইয়াছিন আলী, শেখ আফজাল হোসেন, মো. বজলুর রহমান, হাওলাদার আ. হাদি, রূপান্তরের উপজেলা সমন্বয়কারী পার্থ প্রতীম ঠাকুর, মিলন মন্ডল, মোতাহার হোসেন মল্লিক, সুজন মজুমদার, আল মামুন প্রমুখ।

বক্তারা উপজেলার সার্বিক মানবাধিকার বিষয়ে আলোকপাত করেন। বিভিন্ন দপ্তরে সীমাহীন অনিয়ম ও সেচ্ছাচারিতার অভিযোগ পাওয়া বিষয়েগুলো তুলে ধরেন। তারা বলেন, এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট দপ্তর প্রধানকে অভিযোগের বিষয়ে অবহিত করা, বিভিন্ন দপ্তরে আগত সেবা প্রত্যাশিরা যাতে হয়রানি মুক্তভাবে সেবা পেতে পারে সেগুলো ফলোআপ করা এবং বিভিন্ন দপ্তরের আসপাশে থাকা দালালদের চিহ্নিত করে প্রশাসনকে অবহিত করে ব্যাবস্থা নেওয়ার বিষয়ে সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়।

রামপালে বিএনপির ২০ নেতাকর্মীর নামে মামলা আটক ৬

এ এইচ নান্টু, বিশেষ প্রতিনিধি||

রামপাল থানায় ২০ জন বিএনপি নেকাকর্মী নামসহ অজ্ঞাতনামা আরও ৩০/৪০ জনের নামে বিশেষ ক্ষমতা আইন ও বিষ্ফোক দ্রব্য আইনে একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। এ ঘটনায় ৬ জন বিএনপি নেতাকর্মীকে গ্রেফতার করে আদালতে প্রেরণ করেছে রামপাল থানা পুলিশ।

গ্রেফতারকৃতদের কাছ থেকে ৩ টি ককটেল, ১টি বিষ্ফোরিত ককটেলের অংশ, ১টি ছোরা, ১৫টি বাঁশের লাঠি, ১০টি লোহার রড, ২টি লোহার রান দা ও ৫ জোড়া স্যান্ডেল উদ্ধার দেখিয়েছে পুলিশ।

আটককৃতরা হলেন- রামপাল উপজেলার বিএনপির সাবেক সহ-সভাপতি শেখ ফিরোজ কবির, উপজেলা যুবদলের আহবায়ক মল্লিক জিয়াউল হক জিয়া, উপজেলা যুব দলের সাবেক সেক্রেটারী শেখ ওলিয়ার রহমান, বিএনপি নেতা জিন্নাহ হোসেন, শেখ আজাহার হোসেন (টুকু) ও দেলোয়ার হোসেন মোল্লা। আটককৃতদের বাড়ি উপজেলার বিভিন্ন গ্রামে।

এজাহারনামী অপর আসামীরা হলেন উপজেলার বিএনপির সাবেক যুগ্ম সাধারন সম্পাদক মোস্তফা কামাল পাটোয়ারী, উপজেলা বিএনপির সাবেক দপ্তর সম্পাদক কাজি জাহিদুল ইসলাম, উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের আহবায় মোঃ ওজিয়ার রহমান, সদস্য সচিব মাজহারুল ইসলাম ইয়ামিন, উপজেলা যুব দলের সদস্য সচিব আলমগীর কবির বাচ্চু, উপজেলা ছাত্র দলের আহবায়ক মোল্লা তরিকুল ইসলাম সোভন প্রমূখ।

এ বিষয়ে রামপাল থানার ওসি মোহাম্মদ সামসুদ্দীন এর দৃষ্টি আকার্ষন করা হলে তিনি জানান, ১৯৭৪ সালের বিশেষ ক্ষমতা আইনের ১৫(৩)/২৫-ডি তৎসহ ১৯০৮ সালের বিষ্ফোরক আইনের ৪/৫/৬ ধারায় একটি মামলা রজু করা হয়েছে। যার নাম্বার ০৫। আটককৃত আসামীদের কাছ থেকে ককটেলসহ দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র উদ্ধার করা হয়েছে। এ ঘটনায় ৬ জনকে আটক করা হয়েছে। আটককৃতদের আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে।

বাগেরহাটের রামপালে সাঁকো কেটে পথ বিচ্ছিন্ন করলো দুর্বৃত্তরা

এ এইচ নান্টু, বিশেষ প্রতিনিধি ||

বাগেরহাটের রামপালের রোমজাইপুর গ্রামের লিয়াকত মোল্লার বাড়ি যাওয়ার পথের সাঁকোটি কেটে বিচ্ছিন্ন করে দিয়েছে দুর্বৃত্তরা।

এ ঘটনায় ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্যদের চলাচলে দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। উপায়ান্ত না পেয়ে ভুক্তভোগী  রাফেজা বেগম রামপাল থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। রামপাল থানা পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে।

লিখিত অভিযোগে রাফেজা বেগম জানান,  উপজেলার রোমজাইপুর গ্রামে তার স্বামী লিয়াকত আলী মোল্লাসহ পরিবারের সদস্যদের নিয়ে দীর্ঘ ১৫ বছর ধরে বসবাস করে আসছেন। তারা একটি কাঠের সাঁকো দিয়ে গত ১৫ বছর ধরে আসা যাওয়া করে আসছেন। ঘটনার দিন গত ২৪ নভেম্বর সকাল ১০ টায় জায়গার দাবি করে একই গ্রামের মৃত নূর মোহাম্মদের পুত্র মুকুল শেখ, আহম্মদ মোল্লার পুত্র আবু সাইদ ও মঞ্জুর শেখের পুত্র ফয়সাল শেখ সাঁকোটি কেটে ফেলে। ওই সময় বাঁধা দিলে রাফেজা বেগম ও তার পুত্রবধূ সাবিনা বেগমকে কোপাতে আসে ও গালাগাল করে।

এ বিষয়ে অভিযুক্ত মুকুল, আবু সাইদ ও ফয়সালের সাথে যোগাযোগ করার চেষ্টা করেও তাদের পাওয়া যায়নি।

রামপালে মাদরাসা ভবন নির্মাণে যুবলীগ নেতার সেচ্ছাচারিতার অভিযোগে এলাকাবাসীর মানববন্ধন

এইচ নান্টু, বিশেষ প্রতিনিধি ||

বাগেরহাটের রামপালে পেড়িখালী দাখিল মাদ্রসার নতুন ভবন নির্মাণে যুবলীগ নেতার অনিয়ম ও সেচ্ছাচারিতার অভিযোগে এলাকাবাসী মানববন্ধন করেছে। বৃহস্পতিবার সকাল ১০ টায় উপজেলার পেড়িখালী দাখিল মাদ্রাসার সামনে ঘণ্টাব্যাপী এ মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়।

পেড়িখালী ইউপি চেয়ারম্যান মো. রফিকুল ইসলাম বাবুলের নেতৃত্বে মানববন্ধনে বক্তব্য দেন রামপাল উপজেলা পরিষদের মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান ও মহিলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক হোসনেয়ারা মিলি, পেড়িখালী পি, ইউ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সংকর কুমার সিকদার,  পেড়িখালী দাখিল মাদ্রাসার সুপার মো. বোরহান উদ্দিন শেখ, ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ইকরামুল কবির কচি, বিএনপি নেতা আ. আজিজ বাবু, শিক্ষিকা শামীম আরা শিপ্রা, মো. মোজাফফর হোসেন, সমাজ সেবক আলহাজ্ব আবুল কালাম প্রমুখ।

এ সময় বক্তারা বলেন, ১৯৯৭ সালে পেড়িখালী দাখিল মাদ্রাসা প্রতিষ্ঠার পর একটি মাত্র টিনসেডে শিক্ষার্থীদের পাঠদান করে আসছে। জরাজীর্ণ এই ভবনে পাঠদানের চরম ব্যহত হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন বক্তারা। বহু চেষ্টা করে বিগত ২৪ বছর পরে ৩ কোটি ৮৬ লক্ষ ৫০ হাজার টাকা ব্যয়ে ৪ তলা বিশিষ্ট একটি ভবন নির্মাণ কাজ শুরু হয়। যার ঠিকাদার ঝর্ণা এন্টারপ্রাইজ। ওই প্রতিষ্ঠানের স্বত্বাধিকারী মোংলা উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান ও উপজেলা যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক মো. ইকবাল হোসেন। ওই ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান গত ইং ৮-০২-২০২১ তারিখ কাজ শুরু করে। যার মেয়াদকাল শেষ হয় আরও ৬ মাস পূর্বে। ওই প্রতিষ্ঠানের মেয়াদকাল শেষ হওয়ার পর সংশ্লিষ্ট জেলার প্রধান নির্বাহী প্রকৌশলী এবং পেড়িখালী ইউপি চেয়ারম্যান মো. রফিকুল ইসলাম বাবুল ইকবাল হোসেনের সাথে দুর্ব্যবহার করেন বলে বক্তারা অভিযোগ করেন। তারা আরও জানান, নিন্মমানের নির্মাণ সামগ্রী দিয়ে কাজ শুরুর কয়েক দিনের মধ্যে কিছু মালামাল ছড়িয়ে ছিটিয়ে রেখে চম্পট দেয় ওই ঠিকাদার।

এ বিষয়ে ঠিকাদার ইকবাল হোসেন এর সাথে তার মুঠোফোনে কথা হলে তিনি জানান, আমি ওই প্রতিষ্ঠানের ঠিকাদার নই। মূল ঠিকাদার আসলাম শেখ। তিনি ও ওই নির্মাণ কাজটি অন্যত্র হস্তান্তর করেছেন। শুধু শুধু চেয়ারম্যান আমাকে দোষারোপ করছেন।

এ বিষয়ে বন, পরিবেশ ও জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়ক উপমন্ত্রী হাবিবুন নাহার এমপি’র দৃষ্টি আকর্ষণ করলে তিনি বলেন, সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের উত্তরে বলেন উন্নয়নের প্রশ্নে কোন আপোষ নেই। কেউ অনিয়ম করলে তাকে ছাড় দেয়া হবে না।

বাগেরহাটের রামপালে সাজাপ্রাপ্ত প্রতারক উজ্জ্বলকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ

এ এইচ নান্টু, বিশেষ প্রতিনিধি || বাগেরহাটের রামপাল থানা পুলিশ অভিযান চালিয়ে চেক প্রতারণা মামলায় সাজাপ্রাপ্ত উজ্জ্বল কুন্ডু (৩০) নামের এক ব্যক্তিকে গ্রেফতার করেছে। রবিবার সন্ধায় উপজেলার ফয়লাহাট এলাকা থেকে তাঁকে আটক করা হয়। সে উপজেলার দলদাহ গ্রামের মৃত পুলিন বিহারী কুন্ডুর পুত্র।

রামপাল থানার ওসি মোহাম্মদ সামসুদ্দীন জানান, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে থানার অভিযানিক দলের এসআই রিফাজ সংগীয় ফোর্সসহ উজ্জ্বল কে রবিবার সন্ধায় গ্রেফতার করেন। গ্রেফতারকৃত উজ্জ্বলের বিরুদ্ধে বাগেরহাটের বিজ্ঞ আদালতের ৫ মাসের কারাদণ্ডাদেশ ও ৫ লক্ষ টাকা জরিমানার আদেশ রয়েছে। আটককৃত উজ্জ্বলকে সোমবার সকলে আদালতে প্রেরন করা হয়েছে।

রামপালে প্রবাসী নারীর বাড়ি দখল চেষ্টার অভিযোগ

এ এইচ নান্টু, বিশেষ প্রতিনিধি || বাগেরহাটের রামপালে প্রবাসী স্বপ্না রহমান নামের এক নারীর বাড়ি দখল চেষ্টার অভিযোগ পাওয়া গেছে। প্রতিকার চেয়ে ওই নারীর পক্ষে রামপাল থানায় একটি জিডি করেছেন তার ভাই শেখ আরিফুল ইসলাম। জিডি নং ৮৮৩, তারিখ ১৬-১১-২০২২।

জিডিতে তিনি উল্লেখ করেন, উপজেলার বাইনতলার কুমলাই গাবতলা গ্রামের মৃত ব্যারিস্টার মনির জামানের কন্যা ও মৃত ব্যারিস্টার হাফিজুর রহমান মিনারের স্ত্রী স্বপ্না রহমান প্রবাসে থাকেন। তার ক্রয়কৃত জমিতে পাকা বাড়ি করে তার ভাই আরিফুল ইসলামকে দেখাশুনা করার দায়িত্ব দেন। শোলাকুড়া গ্রামের গাজী মাহাবুবের পুত্র গাজী আরাফাত আলম গত ১৬ নভেম্বর সকালে স্বপ্না রহমানের ভোগদখলীয় বাড়িতে চড়াও হয়ে গাছপালা কেটে সাবাড় করেন। ওই সময় সে তার সঙ্গীয় লোকজন নিয়ে বাড়ীর জায়গা ঘিরে নিতে থাকেন। খবর পেয়ে স্বপ্নার ভাই আরিফুল তাদের বাঁধা দিলে তাকে মারপিট করতে উদ্যত হয়, গালাগাল করে ও জীবন নাশের হুমকি দেয়। অভিযোগ কারী আরিফুল ইসলাম জানান, গাজী আরাফাত আলমের বিরুদ্ধে একটা হত্যা মামলা রয়েছে। সে খুব বিপদজনক লোক। আমরা নিরাপত্তাহীনতায় দিন কাটাচ্ছি।

এ বিষয়ে গাজী আরাফাত আলমের মুঠোফোনে কথা হলে তিনি বলেন আমার মা ওই জমির শরীক। আমার মামারা দাড়িয়ে থেকে আমার মায়ের অংশ মেপে বুঝিয়ে দেন। এ সময় আরিফ এসে আমাদের সাথে বিবাদ সৃষ্টি করে। আপনারা খোঁজ নিয়ে দেখুন আমার মা জমি পাবেন কি না ?