রামপালে একটি মাধ‍্যমিক বিদ‍্যালয়ের ১১ শিক্ষার্থী অসুস্থ, হাসপাতালে ভর্তি

এ এইচ নান্টু, বিশেষ প্রতিনিধি ||

রামপালের ঝনঝনানিয়া মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ১১ শিক্ষার্থী অসুস্থ হলে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে। অভিভাবক ও শিক্ষার্থীদের অভিযোগ অ্যাসেম্বলির পর রৌদ্রে মাঠ পরিষ্কার করায় তারা অসুস্থ হয়ে পড়ে।

জানাগেছে, বুধবার সকালে উপজেলার ঝনঝনিয়া মাধ্যমিক বিদ্যালয় শিক্ষার্থীরা প্রতিদিনের মত স্কুলে হাজির হয়। এরপর তাদের অ্যাসেম্বলি শেষ হলে মাঠ পরিষ্কার করার নির্দেশ দেন প্রধান শিক্ষক বিষ্ণুপদ বিশ্বাস। এতে শিক্ষার্থীদের মধ্যে ১১ জন অসুস্থ হয়ে পড়ে। পরে শিক্ষকরা তাদের অভিভাবকদের খবর দিয়ে হাসপাতালে ভর্তি করান। অসুস্থ শিকার্থীরা হলো নিপাহ (১৪), কারিমা (১২), তানিয়া (১৩), চায়না (১২), জুইমনি (১২), অন্তরা (১২), শাহাদাৎ ব্যাপারী (১৪), তুলি (১২), নাম (১৪), সপিয়া (১৩) ও সাবিনা (১২)। এরা সবাই ৭ম ও ৮ম শ্রেণির শিক্ষার্থী বলে জানা গেছে।  এদের সবার বাড়ি ঝনঝনিয়া গ্রামে। সাংবাদিকরা শিক্ষার্থীদের সাথে কথা বললে তারা সবাই অভিযোগ করে বলে, স্কুলে গেলে পিটি করানোর পর রৌদ্রে তাদের মাঠ পরিষ্কার করায়। এতে তারা অসুস্থ হয়ে পড়ে। একই অভিযোগ করেন অভিভাবকরা। তারা বলেন আমরা আমাদের ছেলেমেয়েদের সকালে খাবার খাওয়ায়ে ও টিফিন দিয়ে স্কুলে পাঠাই। শিক্ষকরা অসত্য বলেছেন।

রামপালে একটি মাধ‍্যমিক বিদ‍্যালয়ের ১১ শিক্ষার্থী অসুস্থ হাসপাতালে ভর্তি

এ বিষয়ে ওই বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক বিষ্ণুপদ’র সাথে কথা হলে তিনি বলেন শিক্ষার্থীরা ঠিকমত না খেয়ে স্কুলে আসে। তাদের গ্যাসের সমস্যা হয়েছে। বিদ্যালয়ে কর্মচারী থাকতে কেন শিশুদের দিয়ে মাঠ পরিষ্কার করালেন এমন প্রশ্নের উত্তরে বলেন, এতে দোষ কি ? আমরা ও তো বিদ্যালয়ে পড়াকালীন সময়ে মাঠ পরিষ্কার করেছি। প্রশ্ন করা হয় এত শিক্ষার্থীর এক সাথে গ্যাস্টিকের সমস্যা কি করে হতে পারে ? এর কোন সদুত্তর তিনি দিতে পারেনি। সহকারী প্রধান শিক্ষক তাহিদুল ইসলাম বলেন মাস হিষ্টিরিয়া হয়েছে বলে চিকিৎসক জানিয়েছেন।

এ বিষয়ে বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি ও উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান মো. নূরুল হক লিপন জানান, শিক্ষার্থীরা হটাৎ কেন অসুস্থ হয়েছে তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

এ ব্যাপারে রামপাল উপজেলা স্বাস্থ্য প. প. কর্মকর্তা ডাক্তার সুকান্ত কুমার পাল এর মুঠোফোনে জানতে চাইলে তিনি বলেন এটা গণ হিষ্টিরিয়া। আমরা বেলা ১১ টা থেকে ২ টা ৩০ মিনিট পর্যন্ত আগত রোগীদের ভর্তি করে সেবা দিচ্ছি। তাদের গ্যাস্টিক বা অন্য কোন সমস্যা নেই তবে একটি ছেলে পূর্ব থেকেই অসুস্থ।

বাগেরহাটের রামপালে ঘূর্ণিঝড় সিত্রাং এ প্রায় ৯ কোটি টাকার ক্ষতি

এ এইচ নান্টু,  বিশেষ প্রতিনিধি ||

ঘূর্ণিঝড় সিত্রাং এ রামপালে প্রায় ৯ কোটি টাকার ক্ষতি হয়েছে বলে জানা গেছে। রামপাল উপজেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন দপ্তর সূত্রে জানা গেছে ২৩ ও ২৪ সেপ্টেম্বরে আঘাত হানা ঘূর্ণিঝড় সিত্রাং এ উপজেলার ১০ ইউনিয়নে ৭৪ টি কাঁচা ঘর সম্পূর্ণভাবে ও ১৪৯ টি আংশিকভাবে বিধ্বস্ত হয়েছে। বিভিন্ন আশ্রয় কেন্দ্রে আশ্রয় নিয়েছেন ১০ হাজার ৭০০ জন। এ উপজেলায় একজন মহিলা আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। গাছপালা উপড়ে পড়েছে। কৃষিতে কিছুটা ক্ষতি হলেও আমন আবাদের কৃষকরা উপকৃত হয়েছেন। হাস-মুরগী মারা গেছে ১ হাজার ১৫০ টি। যার অনুমান মূল্য ৩ লক্ষ ১০ হাজার ৫ শত টাকা। বিদ্যুৎ লাইনের ক্ষতি হয়েছে ৩৩ লক্ষ ১০ হাজার টাকার। পাকা সড়কের আংশিক ক্ষতি হয়েছে ৩০ লক্ষ টাকার আর আংশিক ক্ষতি হয়েছে ৫০ লক্ষ টাকার। উচ্চ বিদ্যালয়ের ক্ষতি হয়েছে ১ লক্ষ ৫০ হাজার টাকার। হাসপাতালের ক্ষতি হয়েছে ১ লক্ষ ৫০ হাজার টাকার। সব চেয়ে বেশী ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে মৎস্য চাষিদের। পুকুর ও জলাশয়ের মাছ ভেসে ৩ কোটি ৫১ লক্ষ টাকার ও বেশি ক্ষতি হয়েছে।

রামপাল উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মো. মতিউর রহমান জানান, আমরা ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নিরূপণ চলমান রেখেছি। এখনো বিভিন্ন ইউনিয়ন থেকে ক্ষয়ক্ষতির তথ্য সংগ্রহ চলমান রয়েছে।

এ বিষয়ে রামপাল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. নাজিবুল আলম এর দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে তিনি জানান, ঘূর্ণিঝড় সিত্রাং এর ক্ষয়ক্ষতি কমিয়ে আনার জন্য আমরা সর্বাত্মক প্রস্তুতি গ্রহণ করেছিলাম। ঝড়ো হাওয়া ও অতিবর্ষণে বেশ কিছু গাছপালা উপড়ে পড়েছে। কাঁচা ঘরবাড়ি, বিদ্যালয়, কমিউনিটি হাসপাতাল, হাস-মুরগী, সড়কসহ কিছু অবকাঠামোর ক্ষতি হয়েছে। আমরা প্রাথমিকভাবে ক্ষয়ক্ষতি নিরূপণ করেছি যার পরিমাণ প্রায় ৮ কোটি ৮৭ লক্ষ ২৪ হাজার ৫০০ টাকার মতো। উপজেলা  তাৎক্ষণিকভাবে ১০ ইউনিয়নে কিছু ত্রাণ সহায়তা প্রদান করা হয়েছে। উর্ধতন কর্তৃপক্ষ বরাবর ক্ষয়ক্ষতির বিবরণ দিয়ে পত্র পাঠানো হয়েছে। বরাদ্দ পাওয়া গেলে আমরা ক্ষতি গ্রস্তদের সহয়তা প্রদান করা হবে।#

বাগেরহাটের রামপালে ভ্রাম্যমাণ আদালতে ৩ মাদকসেবির ৬ মাস কারাদণ্ড

এইচ নান্টু, বিশেষ প্রতিনিধি ||

বাগেরহাটের রামপালে ৩ মাদকসেবিকে ৬ মাস করে বিনাশ্রম কারাদণ্ড প্রদান করেছেন ভ্রাম্যমান আদালত। রামপাল উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট শেখ সালাউদ্দিন দিপু আদালত বসিয়ে এ দন্ডাদেশ প্রদান করেন।

উপজেলা সহকারী কমিশনার এর অফিস সূত্রে জানা গেছে, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে বাগেরহাটের মাদক দ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের ইন্সপেক্টর মিলন কুমার মুখার্জি সহ একটি টিম নিয়ে উপজেলার কুমলাই ও চাকশ্রী গ্রামে অভিযান পরিচালনা করা হয়। বৃহস্পতিবার সকাল ৮ টা থেকে সোয়া ৯ টা পর্যন্ত অভিযান পরিচালনা করে ৩ জনকে আটক করা হয়।

ওই সময়ে তাদের কাছ থেকে মোট ২৫০ গ্রাম গাঁজা পাওয়া যায়। আটককৃতরা হলো কুমলাই গ্রামের মো. ডালিম শেখ (৩০), চাকশ্রী গ্রামের শেখ রফিকুল ইসলাম (৫০) ও তার পুত্র তরিকুল ইসলাম (২৫)। আটককৃতদের আদালতে প্রেরন করা হয়েছে।

রামপালে ভ্রাম্যমাণ আদালতে ৩ মাদকসেবির ৬ মাস কারাদণ্ড

এ এইচ নান্টু, বিশেষ প্রতিনিধি || বাগেরহাটের রামপালে ৩ মাদকসেবিকে ৬ মাস করে বিনাশ্রম কারাদণ্ড প্রদান করেছেন ভ্রাম্যমান আদালত। রামপাল উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট শেখ সালাউদ্দিন দিপু আদালত বসিয়ে এ দন্ডাদেশ প্রদান করেন। উপজেলা সহকারী কমিশনার এর অফিস সূত্রে জানা গেছে, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে বাগেরহাটের মাদক দ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের ইন্সপেক্টর মিলন কুমার মুখার্জি সহ একটি টিম নিয়ে উপজেলার কুমলাই ও চাকশ্রী গ্রামে অভিযান পরিচালনা করা হয়। বৃহস্পতিবার সকাল ৮ টা থেকে সোয়া ৯ টা পর্যন্ত অভিযান পরিচালনা করে ৩ জনকে আটক করা হয়। ওই সময়ে তাদের কাছ থেকে মোট ২৫০ গ্রাম গাঁজা পাওয়া যায়। আটককৃতরা হলো কুমলাই গ্রামের মো. ডালিম শেখ (৩০), চাকশ্রী গ্রামের শেখ রফিকুল ইসলাম (৫০) ও তার পুত্র তরিকুল ইসলাম (২৫)। আটককৃতদের আদালতে প্রেরন করা হয়েছে। #

রামপালে পুলিশ সদস্যের মায়ের মরদেহ মিললো ট্রাঙ্কের ভেতর

এ এইচ নান্টু, বিশেষ প্রতিনিধি || বাগেরহাটের রামপালে নিখোঁজের চারদিন পারে পুলিশ সদস্যের মাতা নীহারিকা হালদার (৭০) নামের এক বৃদ্ধা নারীর অর্ধগলিত মরদেহ বাড়ীর ট্রাঙ্ক থেকে উদ্ধার করেছে পুলিশ। এ ঘটনা তদন্তে বাগেরহাট জেলা পুলিশের বিভিন্ন সংস্থা ইতিমধ্যে কার্যক্রম শুরু করেছে। রামপাল থানা পুলিশ নিহতের লাশের প্রাথমিক সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরী করে ময়নাতদন্তের জন্য বাগেরহাটের মর্গে প্রেরণ করেছে।

নিহতের বাড়ি উপজেলার ভোজপাতিয়া ইউনিয়নের বেতকাটা গ্রামে। সে মৃত ক্ষিতীশ হালদারের স্ত্রী। গত শুক্রবার থেকে সে নিখোঁজ হয়। ওইদিন একই গ্রামে তার মেয়ে রাধিকার বাড়িতে বেড়াতে যায়। এরপর সে বাড়িতে ফিরে আসে। পরে তাকে সোমবার সন্ধ্যা ৭ টায় দরজায় তালাবদ্ধ আবস্থাতে ঘরের ট্রাঙ্কের ভেতরে পাওয়া যায়। রামপাল থানার ওসি মোহাম্মদ সামসুদ্দীন জানান, ওই বৃদ্ধার বেশকিছু গচ্ছিত টাকা রয়েছে বলে শোনা যায়। তার পুত্র বাবলু হালদার পুলিশের চাকরি করেন। আমাদের বিভিন্ন সংস্থা ইতিমধ্যে তদন্ত কার্যক্রম শুরু করেছে। আশা করি দ্রুত সময়ের মধ্যে ক্লু বের করা সম্ভব হবে। এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে এখনো কেউ অভিযোগ পত্র দাখিল করেনি। কি কারণে ও কেন ওই বৃদ্ধাকে হত্যা করে তার নিজ ঘরের ট্রাঙ্কের ভেতরে তালাবদ্ধ করে রাখে দুর্বৃত্তরা সেটিও খতিয়ে দেখছে পুলিশ।

 

রামপালে জেলা পরিষদ সদস্য হলেন যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক প্রিন্স

এ এইচ নান্টু, বিশেষ প্রতিনিধি ||

সকল জল্পনা কল্পনার অবসান ঘটিয়ে অবশেষে শেষ হাসিটা হেসেছেন রামপাল উপজেলা যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক শেখ মনির আহমেদ প্রিন্স। বাগেরহাট জেলা পরিষদ নির্বাচনে ৬ নং ওয়ার্ড (রামপাল উপজেলা) এ উৎসবমুখর পরিবেশে ও শান্তিপূর্ণভাবে নির্বাচন সম্পন্ন হয়েছে। উপজেলা অডিটোরিয়ামে সোমবার সকাল ৯ টা থেকে দুপুর ২ টা পর্যন্ত একটানা ভোট গ্রহণ করা হয়েছে। এখানে সাধারণ সদস্য পদে ৩ জন ও সংরক্ষিত নারী আসনে ২ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। তালা প্রতীক নিয়ে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন শেখ মনির আহমেদ প্রিন্স, টিউবওয়েল প্রতীক নিয়ে লড়ছেন সাবেক জেলা পরিষদ সদস্য অসিত বরণ কুন্ডু ও হাতি প্রতীক নিয়ে লড়ছেন সাবেক আওয়ামী লীগ নেতা মো. গোলাম আজম। নারী আসেন প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন হরিণ প্রতীক নিয়ে লড়ছেন অ্যাডভোকেট শরিফা হেমায়েত ও ফুটবল প্রতীক নিয়ে লড়ছেন অঞ্জলী রানী দাস। মনির আহমেদ প্রিন্স ভোট পেয়েছেন ৫৮ টি। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী সাবেক জেলা পরিষদ সদস্য অসিত বরন কুন্ডু পেয়েছেন ৪১ ভোট। অপর প্রার্থী গোলাম আজম পেয়েছেন ৩৩ ভোট। নারী আসনে অ্যাডভোকেট শরীফা পেয়েছেন ১০৬ ভোট পেয়ে এগিয়ে রয়েছেন। তার একমাত্র প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী অঞ্জলী রানী দাস পেয়েছেন ২৬ ভোট। নির্বাচনে প্রিজাইডিং অফিসারের দায়িত্ব পালন করেন মো. শাহিনুর রহমান। এ সময় নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের দায়িত্ব পালন করেন রামপাল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. নাজিবুল আলম ও সহকারী কমিশনার (ভূমি) শেখ সালাউদ্দিন দিপু। আইন শৃঙ্খলা রক্ষায় দায়িত্ব পালন করেন এডিশনাল এসপি ( ক্রাইম এন্ড অবস্ ) রাসেলুর রহমান, রামপাল থানার ওসি মোহাম্মদ সামসুদ্দীন, ওসি (তদন্ত) রাধেশ্যম এবং আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বিভিন্ন বাহিনীর সদস্যরা। এসময় উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়ন থেকে আগত বিপুল সংখ্যক উৎসুক জনতা ও আওয়ামী লীগ দলীয় নেতা কর্মীরা।

রামপালে আইন শৃঙ্খলা সভায় হৈ চৈ বাকবিতন্ডা

এ এইচ নান্টু, বিশেষ প্রতিনিধি|| বাগেরহাটের রামপাল উপজেলা পরিষদের মাসিক আইন শৃঙ্খলা কমিটির সভায় চেয়ারে বসা নিয়ে উপজেলা চেয়ারম্যান, ইউএনও ও এক ইউপি চেয়ারম্যানের মধ্যে প্রায় ১০/১৫ মিনিট ধরে হৈচৈ বাকবিতন্ডা হয়েছে। এক পর্যায়ে ইউএনও নাজিবুল আলম আইন শৃঙ্খলা সভা মুলতবির ঘোষণা দেন। পরে এক ইউপি চেয়ারম্যানের অনুরাধে সভার কাজ পুনরায় শুরু হয়।

জানা গেছে উপজলা নির্বাহী কর্মকর্তা নাজিবুল আলমের সভাপতিত্বে বেলা ১১টায় উপজেলা সম্মেলন কক্ষে বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তা, উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান, নারী ভাইস চেয়ারম্যান ও বিভিন্ন ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানদের সমন্বয়ে সেপ্টম্বর /২০২২ মাসের আইন শৃঙ্খলা কমিটির সভা শুরু হয়। সভা শুরুর কয়েক মিনিট পরে উপজেলা চেয়ারম্যান সেখ মোয়াজ্জম হোসেন, ভাইস চেয়ারম্যান নুরুল হক লিপন ও নারী ভাইস চেয়ারম্যান হোসনেয়ারা মিলি সভা কক্ষে আসেন। এসেই তারা তাদের নির্দিষ্ট চেয়ার না পেয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন। এ নিয়ে উপজেলা চেয়ারম্যান সেখ মোয়াজ্জেম হোসেন ও উজলকুড় ইউপি চেয়ারম্যান মুন্সি বোরহান উদ্দিনের মধ্যে প্রথম কথা কাটাকাটি হয়। এসময় উপজেলা চেয়ারম্যান মোয়াজ্জম হোসেন ইউএনও নাজিবুল আলমের সাথেও বাকবিতন্ডায় জড়িয়ে পড়েন। পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে ইউএনও এক পর্যায়ে আইন শৃঙ্খলা সভা মুলতবির ঘোষনা দেন। পরে ইউপি চেয়ারম্যান আব্দুল্লাহ ফকিরের অনুরোধে বেলা সাড়ে ১১ টায় পুনরায় সভার কাজ শুরু হয়।
এ ব্যাপারে ইউপি চেয়ারম্যান মুন্সি বোরহান উদ্দিন জেড বলেন চেয়ারম্যানদের জন্য নির্দিষ্ট চেয়ার না থাকায় আজকে এই সমস্যা তৈরী হয়েছে। উপজেলা চেয়ারম্যান ও ইউএনও স্যারের উচিত ছিল আগে থেকে আমাদের চেয়ারম্যানদের চেয়ারগুলা নির্দৃষ্ট করে রাখা। ইউপি চেয়ারম্যান আব্দুল্লাহ ফকির বলেন আমি মিটিং এর শৃঙ্খলা যাতে নষ্ট না হয় এ জন্যে তাদেরকে অনুরোধ করে মিটিংয়ের পরিবেশ তৈরী করেছি। এ ধরনের শৃঙ্খলা পরিপন্থী পরিবেশ আমি আশা করিনি। উপজেলা চেয়ারম্যান সেখ মোয়াজ্জেম হোসেন বলেন আমি কক্ষে ঢুকে দেখি ইউএনও স্যার মিটিং করছেন। আমার সাথে থাকা মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান হোসনে আরা মিলি চেয়ার না পাওয়ায় আমি প্রতিবাদ করেছি। এ নিয়ে সবাই আমার সাথে ইউএনও এবং ইউপি চেয়ারম্যান মুন্সি বোরহান উদ্দিনের সাথে কথা কাটাকাটি হয়েছে। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নাজিবুল আলম বলেন উপজেলা চেয়ারম্যান, ভাইস চেয়ারম্যান ও মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান কখন পিছনে এসে দায়িয়েছেন তা আমি খেয়াল করিনি। পরে মহিলা ভাইস চেয়ারম্যানে বসা নিয়ে উপজেলা চেয়ারম্যান সাহেবের সাথে আমার বেশ খানিকটা কথা কাটাকাটি হয়েছে। এ ছাড়া উপজেলা চেয়ারম্যানের সাথে ইউপি চেয়ারম্যান মুন্সি বোরহান উদ্দিন জেড এর সাথে ও কথা কাটাকাটি হয়েছে। এক পর্যায়ে আমি মিটিং স্থগিত করার কথা বলেছিলাম। এসময় ইউপি চেয়ারম্যান আব্দুল্লাহ ফকিরের অনুরোধ করলে পুনরায় মিটিংয়ের কাজ শুরু করি। আগামী মিটিং এ চেয়ারম্যান সাহবদের জন্য চেয়ার নির্দৃষ্ট করে রাখা হবে।

রামপালে সামাজিক ক্ষমতায়ন সুরক্ষা ও বাল্যবিয়ে প্রতিরোধ বিষয়ক সমন্বয় সভা অনুষ্ঠিত

এ এইচ নান্টু, বিশেষ প্রতিনিধি ||

রামপাল উপজেলা পরিষদ সভাকক্ষে বৃহস্পতিবার বেলা ১১ টায় উপজেলা প্রশাসন এবং ব্র্যাক সামাজিক ক্ষমতায়ন ও আইনি সুরক্ষা কর্মসূচির যৌথ উদ্যোগে বাল্যবিবাহ প্রতিরোধ বিষয়ক সমন্বয় সভা অনুষ্ঠিত হয়।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. নাজিবুল আলমের সভাপতিত্ব অনুষ্ঠিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্য দেন উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান সেখ মোয়াজ্জেম হোসেন। উপস্থিত ছিলেন উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান নূরুল হক লিপন, মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান হোসনেয়ারা মিলি, থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো সামসুদ্দীন, সরকারী পর্যায়ের বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা, বিভিন্ন ইউনিয়নের চেয়ারম্যানগণ, শিক্ষক, সাংবাদিক, কাজী, ইমাম, এনজিও প্রতিনিধি, যুব প্রতিনিধি ও ব্র্যাকের পক্ষে জেলা ব্যবস্থাপক (সেল্প) পলাশ হালদার, এসোসিয়েট অফিসার (সেল্প) জেসমিন আক্তার প্রমুখ।

সমন্বয় সভার উদ্দেশ্য ছিল বাল্য বিয়ে প্রতিরোধে প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয় সাধন, বাল্য বিয়ে হ্রাসকরণে চ্যালেঞ্জগুলি চিহ্নিত করা ও ভবিষ্যত কর্মকৌশল নির্ধারন করা এবং বাল্য বিয়ে প্রতিরোধে কার্যকরি সমন্বিত উদ্যোগ গ্রহণ করা। সভায় বর্তমান পরিস্থিতিতে বাল্যবিবাহ প্রতিরোধের ক্ষেত্রে চ্যালেঞ্জসমুহ চিহ্নিত করে চ্যালেঞ্জ উত্তোরণের উপায় এবং কর্মকৌশল নির্ধারন করা হয়। #

রামপালে স্কুল শিক্ষকের নির্যাতনের শিকার সুমাইয়ার সংবাদ সম্মেলন

 

এ এইচ নান্টু, বিশেষ প্রতিনিধি || বাগেরহাটের রামপালে নির্মম নির্যাতনের অভিযোগে স্বামী নাজমুল হাসানের বিরুদ্ধে এক সংবাদ সম্মেলন করেছেন গৃহবধূ সুমাইয়া খাতুন। এক সন্তানের জননী ওই গৃহবধূ স্বামী সন্তান নিয়ে সংসার করার চেষ্টায় ব্যর্থ হয়ে সংবাদ সম্মেলন করেন।

শনিবার বেলা ১১ টায় শ্রীফলতলাস্থ তার পিতা মাহামুদ শেখের বাড়ীতে লিখিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি জানান, গত ইং ২০১৩ তারিখ উভয় পরিবারে সম্মতিতে সিংগড়বুনিয়ার নূরুল ইসলাম খোকোর পুত্র নাজমুল হাসানের সাথে বিয়ে হয়। ওই সংসারে হাসিরুন মাহিন নামের একটি ছেলে সন্তান রয়েছে। তার স্বামী একজন নারী লোভী ও নারী আসক্ত। সে ৪/৫ টি বিয়ে করেছেন। এরপর জনৈক এক নার্সের সাথে পরকীয়ায় জড়িয়ে তার কথায় আমাকে নির্মমভাবে নির্যাতন শুরু করেন। এমনভাবে সে নির্যাতন করে যা ভাষায় প্রকাশ করা সম্ভব নয়। সে মলত্যাগ করে সেই মল আমার মুখে মুছে দেয়, মুখের মধ্যে পুরে দেয়, এমনকি সে বিভৎস আচরণ করে। তবুও সন্তানের মুখের দিকে তাকিয়ে তার সংসার করে আসছি। সে আমাকে তালাক দিয়েছে বলে প্রকাশ করে বলে আমি আবারও বিয়ে করবো। আমি ওই নার্সকেই বিয়ে করবো। দেখি তুই কি করতে পারিস ? এই বলে গত ইং ১৫ সেপ্টেম্বর সকালে তার পরিবারের সকলের সমনে আমার পরুন সোনার গহনা কেড়ে নেয়। আমি বাঁধা দিলে সে নির্মমভাবে মারপিট করে। খবর পেয়ে আমার পিতা বাড়িতে এনে চিকিৎসা করান। এমন অবস্থায় আমি ও আমার পুত্র মারাত্মক নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি। আমি আইনের কাছে ও প্রশাসনের কাছে নিরাপত্তা ও প্রতিকার চাই।

এ বিষয়ে অভিযুক্ত রামপাল পাইলট বালিকা বিদ্যালয়ের সহ শিক্ষক হাওলাদার নাজমুল হাসানের সাথে কথা হলে তিনি সকল অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, আমার স্ত্রী আমার অবাধ্য। তাকে আমি তালাক দিয়েছি। তবে তিনি কোন কাগজপত্র দেখাতে পারেননি। প্রশ্ন রাখা হয় তার স্ত্রীর অন্য কোন দোষ ত্রুটি আছে কি না ? এর উত্তরে জানান, আছে তবে সেটিও তিনি প্রমাণ দেখাতে ব্যর্থ হন।

রামপালে নিরুত্তাপ জেলা পরিষদ নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতায় ৩ প্রার্থী

এ এইচ নান্টু, বিশেষ প্রতিনিধি ||

আসন্ন ১৭ অক্টোবর বাগেরহাট জেলা পরিষদ নির্বাচনে ৬ নং ওয়ার্ডের (রামপাল উপজেলা) সদস্য পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন ৩ জন প্রার্থী। ১৩৩ জন জনপ্রতিনিধি এ ওয়ার্ডে তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করে জনপ্রতিনিধি বা সদস্য নির্বাচন করবেন। এ ওয়ার্ডের প্রার্থীরা হলেন রামপাল উপজেলা যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক মনির আহমেদ প্রিন্স, সাবেক আওয়ামী লীগ নেতা ও স্বতন্ত্র প্রার্থী শেখ মো. গোলাম আজম ও সাবেক জেলা পরিষদ সদস্য অসিত বরন কুন্ডু। বাগেরহাট জেলা পরিষদের ৬ নং ওয়ার্ড রামপাল উপজেলা। এ ওয়ার্ডে ভোটার সংখ্যা মোট ১৩৩ জন। ১০ টি ইউনিয়নে ১০ জন চেয়ারম্যান, ৯০ জন সাধারণ সদস্য ও ৩০ জন সংরক্ষিত নারী সদস্যসহ মোট ১৩০ জন জনপ্রতিনিধি। এ ছাড়াও উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান, ভাইস চেয়ারম্যান ও মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করবেন।

উপজেলা যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক মনির আহমেদ প্রিন্স তালা প্রতীক নিয়ে নির্বাচনে লড়ছেন। তিনি ক্লিন ইমেজ প্রার্থী। এলাকায় তার জনপ্রিয়তাও রয়েছে। তিনি আশাবাদী ভোটাররা তাকে রায় প্রদান করে সদস্য নির্বাচিত করবেন। তিনি তার দলগত অবস্থানের বাইরে রাতদিন প্রচারণায় সময় পার করছেন এবং দোয়া ও সহযোগিতা কামনা করছেন। সবকিছু ঠিক থাকলে তিনি বিজয়ী হবেন বলে আশা প্রকাশ করেছেন।

স্বতন্ত্র প্রার্থী মো. গোলাম আজম ও আশাবাদী। তিনি স্বতন্ত্রভাবে হাতি প্রতীক নিয়ে লড়ছেন। তিনি ও তার ক্লিন ইমেজ কাজে লাগানোর চেষ্টা করছেন। শ্রীফলতলাস্থ সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান আবু জাফর মাতব্বর ছিলেন গণমানুষের নেতা। তিনি তার দাদার ঐতিহ্য ধরে রাখতে নিরবচ্ছিন্নভাবে প্রচারণা চালাচ্ছেন। বাড়ি বাড়ি গিয়ে ভোট প্রার্থনা করছেন। আগামী নির্বাচনে জয়যুক্ত হলে মানুষের পাশে থাকে কাজ করার প্রতিশ্রুতি দিচ্ছেন।

সাবেক জেলা পরিষদ সদস্য অসিত বরন কুন্ডু লড়ছেন টিউবওয়েল প্রতীক নিয়ে। তিনি ও আশাবাদী এবারও তিনি নির্বাচিত হবেন। তিনি বলেন জেলা পরিষদের বরাদ্দ যথাযথভাবে কাজে লাগানোর চেষ্টা করেছি। বিশেষ করে ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, পুকুর সংস্কার ও নতুন পুকুর খননসহ রাস্তাঘাটের উন্নয়নে ব্যাপক অবদান রেখেছি। তবে উন্নয়ন বরাদ্দে নয়ছয় বা অনিয়ম হয়নি বলে তিনি দাবী করেন। এবারো তিনি বিজয়ী হবেন বলে আশাবাদী।

ওয়াকিব মহল মনে করেন এবার ভােটের মাঠে ভিন্ন ধরনের মেরুকরণ সৃষ্টি হয়েছে। গত বছর যারা এককভাবে অসিত বরন কুন্ডুকে বিজয়ী হতে সহযোগিতা করেছিলেন এবার তারা প্রার্থী হয়েছেন। তবে শেষ পর্যন্ত শেষ হাসি কে হাসবেন সেটি স্পষ্ট নয়। তবে কয়েকজন সাধারণ ভোটাররা বলেছেন যে যাই বলুন আমরা আমাদের মনোনীত প্রার্থীকে ভোট দিবো। আমাদের মতামতের উপর কেউ হস্তক্ষেপ করুক এটা আমরা চাই না। কয়েকজন চেয়ারম্যান অসিত বরনকে এগিয়ে রাখলেও ভিন্ন চিত্র মাঠের হিসাবে। গত ইউপি নির্বাচনে আওয়ামী লীগের চেয়ারম্যান প্রার্থী ওলোট পালোট হওয়ায় এক নেতার অধিপত্যে ভাটা পড়ে। এতে নতুন সমীকরণ দেখছেন সাধারণ মানুষ। শেষমেশ লড়াইটা ত্রিমুখী হবে না কি দ্বিমুখী হয় সেটি এখন দেখার বিষয়।