এ এইচ নান্টু, বিশেষ প্রতিনিধি || বাগেরহাটের রামপাল পাইলট উচ্চ বালিকা বিদ্যালয়ের সভাপতি নির্বাচিত হয়েছেন মো. রবিউল ইসলাম। রবিবার ওই বিদ্যালয়ের পরিচালনা পর্ষদ গঠনের জন্য নির্বাচন অনুষ্ঠানের দিন ধার্য্য করেন উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা ও নির্বাচন কর্মকর্তা মো. জিয়াউল হক। সভাপতি নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন রামপাল উপজেলা চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সেখ মোয়াজ্জেম হোসেন। তার বিপরীতে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন উপজেলা শ্রমিক লীগের সাধারণ সম্পাদক মো. রবিউল ইসলাম। উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান সেখ মোয়াজ্জেম হোসেন তার প্রার্থীতা প্রত্যাহার করে নেন। এতে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হন মো. রবিউল ইসলাম। সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন নারায়ন মন্ডল, এম, এম মহিতুর রহমান, মো. জাকির হোসেন, শেখ আওরঙ্গজেব ছোট প্রমুখ। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. জিয়াউল হক।
Author: এ এইচ নান্টু
বাগেরহাটের রামপালে পুলিশের অভিযানে হেরোইনসহ গ্রেফতার দুই
এ এইচ নান্টু, বিশেষ প্রতিনিধি||
বাগেরহাটের রামপালে হেরোইন সহ দুই মাদক ব্যবসায়ীকে আটক করেছে পুলিশ। শুক্রবার (৩০ সেপ্টেম্বর) বিকেলে এসআই দেলোয়ার ও ওসি তদন্ত রাধেশ্যাম সরকারের নেতৃত্বে মাদকগুলো জব্দ ও আসামীদের আটক করা হয়।
আটক মাদক ব্যবসায়ীরা হলেন উপজেলার মানিকনগর গ্রামের শহিদ মোড়ল এর পুত্র বিল্লাল মোড়ল (৩৫) ও হালিম শেখ এর পুত্র জসিম শেখ (২৫) রামপাল থানার (ওসি) মো. সামসুদ্দিন জানান, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে মাদক কেনাবেচার খবর পেয়ে শুক্রবার বিকেলে উপজেলার উজলকুড় ইউনিয়ের মানিকনগর গ্রামে অবস্থান নেয় পুলিশ।
এ সময় সংবাদ আসে ১নং আসামীর বাড়ির সামনে মাদক কেনাবেচা চলছে এসময় সেখানে অভিযান চালিয়ে আসামি বিল্লাল এর শরীর তল্লাশি করে ২৫০ পুরিয়া এবং জসিম এর শরীর তল্লাশী করে ৫০পুরিয়া (যাহার ওজন ২০ গ্রাম) হেরোইন পাওয়া যায় যাহার আনুমানিক মূল্য ৪৫০০০ হাজার টাকা।
ওসি সামসুদ্দিন বলেন, ‘আটককৃতরা চিহ্নিত মাদক ব্যবসায়ী। আটককৃতদের বিরুদ্ধে শুক্রবার রাতে থানায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা করা হয়েছে। তাদের শনিবার (০১ অক্টোবর) সকালে বাগেরহাট আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে। মাদকের বিরুদ্ধে আমাদের জিরো টলারেন্সনীতি এবং অভিযান অব্যাহত থাকবে।
রামপালে সর্ববৃহৎ চক্ষু চিকিৎসা শিবিরে ৩ সহস্রাধিক রোগী বিনামূল্যে চিকিৎসা পেলেন
এ এইচ নান্টু, বিশেষ প্রতিনিধি || বাগেরহাটের রামপালে দক্ষিণ বঙ্গের সর্ববৃহৎ চক্ষু চিকিৎসা শিবির সম্পন্ন শুরু হয়েছে। ঢাকা মেগা সিটি লায়ন্স ক্লাবের উদ্যোগে ও লায়ন ডক্টর শেখ ফরিদুল ইসলামের সহযোগিতায় এ কার্যক্রম আবারও শুরু করা হয়।
বড়দিয়া হাজী আরিফ (র.) মাদরাসা মাঠে সোমবার দিনব্যাপী রোগী বাছাই করা হয়েছে। এ বছর প্রায় ৫ শতাধিক ছানিপড়া ও নেত্রনালী রোগীকে অপারেশনের জন্য বাছাই করা হয়েছে।
এসব বাছাইকৃত রোগীদের ঢাকা মেগা সিটি লায়ন্স চক্ষু হাসপাতালে ভর্তি করে অপারেশন ও লেন্স সংযোজন করা হবে। এ ছাড়াও প্রায় ৩ সহস্রাধিক রোগীকে প্রাথমিক চিকিৎসা সেবা প্রদান, বিনামূল্যে ঔষধ ও বয়স্ক রোগীদের চশমা প্রদান করা হয়েছে।
ইতিপূর্বে দেশের দক্ষিণ পশ্চিম অঞ্চলের এই সর্ববৃহৎ চক্ষু চিকিৎসা শিবিরের মাধ্যমে প্রায় সড়ে ৪ হাজার চোখে ছানি পড়া ও নেত্রনালীর রোগীকে ঢাকা নিয়ে অপারেশনসহ লেন্স সংযোজন করা হয়েছে। ওই সময়ে প্রায় ৫০ হাজারেরও বেশী রোগীকে প্রাথমিক চিকিৎসা ও ঔষধ প্রদান করা হয়েছে।
চিকিৎসা নিতে আগত বাগেরহাট সদরের সৈয়দপুর গ্রামের রোগী বৃদ্ধ ইসরাফিল মোড়ল তার অনুভূতি ব্যক্ত করে বলেন দীর্ঘ দুই তিন বছর এ এলাকায় চক্ষু চিকিৎসা শিবির বন্ধ থাকায় আমরা খুব অসুবিধায় ছিলাম। আবার চক্ষু চিকিৎসা শিবির চালু হওয়ায় আমাগো পরানের মানুষের জন্যি আমরা দুয়া করি। একই অনূভুতি ব্যক্ত করেন রামপালের সোনাতুনিয়া গ্রামের লাইলী বেগম, পিরোজপুর জেলার ইন্দুরকানি উপজেলার চার বলেস্বর গ্রামের মো. শাহ আলম হাওলাদার।
অনুষ্ঠানে অনুভূতি ব্যক্ত করে ঢাকা মেগা সিটি লায়ন্স ক্লাবের সভাপতি লায়ন ডক্টর শেখ ফরিদুল ইসলাম বলেন আমি মানবতার কল্যাণে কাজ করে যেতে চাই। এ জন্য আপনাদের সহযোগিতা কামনা করছি ও দোয়া চাই। করোনার কারণে ২ দুই বছর পর আবারও আমাদের চক্ষু চিকিৎসা শিবির শুরু করেছি। আজকে আমরা ছানি পড়া ও নেত্রনালী রোগীসহ বিভিন্ন সমস্যার প্রায় ৫ শতাধিক রোগী বাছাই করেছি। প্রাথমিক চিকিৎসা ও ঔষধ প্রদান করা হয়েছে প্রায় ৩ সহস্রাধিক রোগী। যা চলমান আছে। রোগীর সংখ্যা আরও বাড়তে পারে। এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত প্রচন্ড রৌদ্র ও তাপ উপেক্ষা করে শত শত রোগী সারিবদ্ধভাবে দাঁড়িয়ে সেবা নিচ্ছিলেন।
রামপালে জমি সংক্রান্ত বিরোধে মা-ছেলেকে মারপিটের অভিযোগ
এ এইচ নান্টু, বিশেষ প্রতিনিধি||
বাগেরহাটের রামপালে জমি সংক্রান্ত বিরোধের জের ধরে মা ও ছেলেকে মারপিটের অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী লাকি বেগম (৪০) রামপাল থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।
লিখিত অভিযোগে জানা গেছে, উপজেলার গিলাতলা গ্রামের আল আমীন শেখের স্ত্রী লাকি বেগম ৩ বছর পূর্বে ২ শতাংশ জমি ক্রয়ের জন্য একই এলাকার হায়দার মল্লিককে ৫০ হাজার টাকা দেন। হায়দার মল্লিক জমি না দিয়ে লাকিকে ঘোরাতে থাকেন। এক পর্যয়ে শুক্রবার সকাল ৭ টার সময় লাকি হায়দার মল্লিকের কাছে জমি লিখে দিতে বললে হায়দার মল্লিক, অভি মল্লিক, ইমরান মল্লিক ও আলী আশ্বাফ মল্লিক বেধড়ক মারধর করে লাকিকে। এ সময় ঠেকাতে গেছে পুত্র শেখ শরিফকে ও মারধর করে। এতে তারা আহত হন। ওই সময় লাকির কানের দুল ছিনিয়ে নেয়।
এ বিষয়ে অভিযুক্ত অভি ও হায়দার মল্লিক জানান ঘটনা সত্যি না। অহেতুক আমাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ করেছে। ভুক্তভোগী লাকি রামপাল থানা পুলিশের জোর হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
রামপালে ইউপি সদস্যের বিরুদ্ধে খালে বাঁধ দেয়ার অভিযোগ
এ এইচ নান্টু, বিশেষ প্রতিনিধি ||
বাগেরহাটের রামপাল উপজেলার হুড়কা ইউনিয়নের ৩ নং ওয়ার্ড সদস্য অনিন্দ্য মন্ডলের বিরুদ্ধে খালে বাঁধ দিয়ে আটকে রেখে মাছ চাষের অভিযোগ পাওয়া গেছে। সরকারি খাল বাঁধ দিয়ে রাখার ফলে আমন আবাদ মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে এমন অভিযোগ এনে প্রতিকার চেয়ে উপজেলা প্রশাসন বরাবর অভিযোগ পত্র দাখিল করেছেন আমন চাষিরা।
অভিযোগ পত্র পাওয়ার পর রামপাল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা গ্রহনের জন্য উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) কে ব্যবস্থা নিতে বলেন। সহকারী কমিশনার শেখ সালাউদ্দিন দিপু সরেজমিনে তদন্ত করে রিপোর্ট দেওয়ার জন্য হুড়কা ইউনিয়ন তহশিলদারকে নির্দেশ দেন। তহশিলদার অ্যাডভোকেট শহিদুল ইসলাম গত ১ সেপ্টেম্বর সকালে সরেজমিনে গিয়ে গাজীখালী গ্রামের অংকুর খালে বাঁধ দেখে সংশ্লিষ্ট দপ্তরে প্রতিবেদন দাখিল করেছেন। এরপর ১৭ দিন অতিবাহিত হলেও তদন্ত প্রতিবেদন আলোর মুখ দেখেনি বলে অভিযোগ করেন আমন চাষি আ. জব্বার, বাচ্চু শেখ, মনোজ কুমার। তারা বলেন আমন রোপণ মৌসুম শেষ হয়ে গেলে বাঁধ কেটে কি লাভ ?
এ বিষয়ে রামপাল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. নাজিবুল আলম কে অভিযোগের কপি দেখিয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে তিনি বলেন আমরা ধরাবাহিকভাবে আটকে রাখা নদী, খালের বাঁধ অপসারণ ও অবৈধভাবে মিনি ড্রেজার দিয়ে বালি উত্তোলনকারীদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা গ্রহন জোরদার করেছি। যেখানে এ ধরনের তথ্য পাওয়া যাচ্ছে সেখানেই অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। বঙ্গবন্ধু মোংলা ঘোষিয়াখালী ক্যানেলের নাব্যতা নিশ্চিত করতে আমরা অভিযান অব্যাহত রেখেছি।
রামপালে প্রধানমন্ত্রীর উপহারের ঘর ফেলে ১৭ উপকারভাগী চলে গেছে
//এ এইচ নান্টু, বিশেষ প্রতিনিধি//
: রামপালে কর্মসংস্থানের অভাবে উদ্বাধোনের পর মুজিব শতবর্ষ উপলক্ষে জমি ও ঘর বুঝে নিয়ে উপজলার গৌরম্ভার নতুন আশ্রয়ন প্রকল্পে ঘর ছেড়ে চলে গেছে ১৭ উপকারভাগী পরিবার। তারা গত দেড় মাসেও ফিরে আসেনি।
জানা যায় মুজিববর্ষ উপলক্ষে বাংলাদশের একজন মানুষও গৃহহীন থাকবেনা প্রধানমন্ত্রীর এমন নির্দশেনা বাস্তবায়নে বাগেরহাটের রামপাল উপজেলার গৌরম্ভায় সরকারি খাস জমির উপর তৃতীয় পর্যায়ে গত অর্থ বছরে ৬০টি বাসগৃহ নির্মাণ করা হয়।
গত ২১ জুলাই বৃহস্পতিবার সেই বাসগৃহ ও জমি প্রদান কার্যক্রমের উদ্বোধন (ভার্চুয়াল) করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। উদ্বোধনের সময় ৬০ উপকারভোগীর সবাই জমি ও ঘর বুঝে পাওয়ার পর তাদের মধ্যে ১৭ উপকারভোগী আশ্রয়নের ঘর ছেড়ে চলে যায়। তারা গত দেড় মাসেও ফিরে আসেনি।
সরেজমিনে আশ্রয়নের বাসিন্দাদের সাথে কথা বলে জানা গেছে এখানে গৃহ ও জমি পাওয়া বেশির ভাগ লোকের কোন কর্মসংস্থান নেই। আশপাশে এমন কলকারখানাও নেই যেখানে তাদের কর্মসংস্থান হবে। বেশির ভাগ পরিবারের নেই পুজি। যা দিয়ে তারা ব্যবসা করবে।
তারা আরও জানান, এখানে গৃহ ও জমি প্রদানের আগে বলা হয়েছিল তাদেরকে সহজ শর্তে ঋন দেয়া হবে। গত দেড় মাসে কেউ ঋন পায়নি। আমরা ঘর পেয়ছি কিন্তু কাজ না থাকলে খাবো কি ? ঋন পেলে ছোট দোকান কিংবা ভ্যান কিনে চালিয়ে সংসার চালাতে পারতাম। আয় না থাকায় কেউ কেউ ঘর ফেলে চলে গেছে। এ অবস্থায় থাকলে আরো লোক চলে যাবে এমন মন্তব্য তাদের।
উপকারভোগীদের কথার সুত্র ধরে জানা গেল ৫৬ নং ঘরের বাসিন্দা রামপালের খলিল, ৫৮ নং ঘরের বাসিন্দা রামপালের নাজমা বেগম, ৫৯ নং ঘরের বাসিন্দা হুড়কার প্রমথ মন্ডল, ৬০ নং ঘরের বাসিন্দা উনতি মন্ডল, ৬১ নং ঘরের বাসিন্দা সবিতা মন্ডল, ৬৭ নং ঘরের বাসিন্দা হুড়কার বেলাই তালতলার আশালতা, ৬৯ নং ঘরের বাসিন্দা তাপস কুমার বিশ্বাস, ৭৭ নং ঘরের বাসিন্দা ইউনুছ আলী, ৭৮ নং ঘরের বাসিন্দা অজ্ঞাতনামা, ৭৯ নং ঘরের বাসিন্দা বারুইপাড়ার জাহানারা বেগম, ৮০ নং ঘরের বাসিন্দা ছবেদ আলী, ৮৩ নং ঘরের বাসিন্দা রহিমা বেগম, ৮৪ নং ঘরের বাসিন্দা রিপন, ৮৫ নং ঘরের বাসিন্দা তাপস সহ রামপালের হামিম শেখ, ফরিদা বেগম, উজ্জল ডাকুয়া ও আলামিন হোসেন ঘর ও জমি বুঝে নিয়ে আশ্রয়ন ছেড়ে চলে গেছে পুর্বের ঠিকানায়।
নাম প্রকাশ না করে ওই আশ্রয়ন বসবাস করেন এমন ৪/৫ জন নারী জানান যারা আশ্রয়ন ছেড়ে চলে গেছে তাদের বাড়ি-ঘর আছে। এ ছাড়া এমন অনেকেই আছে যারা এখানে কিছুদিন থাকার পর গ্রামের বাড়িতে বসবাস করে। তারা পুরাপুরি ভুমহীন নয়।
ওই আশ্রয়নের নেতা সাবেক ইউপি সদস্য আ. হান্নান বয়াতী বলেন, যারা ঘরে থাকেনা তাদের বার বার ঘরে আসতে বলা হলেও তারা আসছেনা। মনে হয় তারা আর আসবে না। তবে আশ্রয়নের বাসিন্দারা প্রধানমন্ত্রীর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে বলেন আমাদের মতো ভূমিহীন মানুষের জন্য তিনি যদি ঘর ও জমি না দিতেন তাহলে আমাদের বেঁচে থাকা খুবই কষ্ট হতো। এখন আমাদের দরকার কাজ। এখানে কাজের অভাব। এ জন্য মানুষ চলে যাচ্ছে।
একইভাবে খোঁজ নিয়ে জানা যায়, উপজেলার মল্লিকেরবেড় ইউনিয়নে ভূমিহীনদের ১০ টি ঘর দেয়া হয়েছে। এর মধ্যে ৩ জন ঘর বরাদ্দ নেওয়ার পরেও গত প্রায় এক বছর ধরে ঘরে থাকেননি। এরা হলেন মো. হাসান শেখ, মান্নান শেখ ও মো. আলী হোসেন। অভিযোগ রয়েছে এরা ঘর পাওয়ার পর থেকেই বসবাস করেন না। মাঝে মাঝে শুধু কেউ কেউ খোঁজ নিয়ে চলে যান। এ প্রতিবেদকসহ সাংবাদিকরা সরেজমিনে গিয়ে সত্যতা পায়। তাদের সাথে কথা বলার জন্য যোগাযোগ করার চেষ্টা করেও পাওয়া যায়নি।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. নাজিবুল আলম এর দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে তিনি বলেন, যারা চলে গেছে তারা কেন গেল তা উপজেলা সহকারি কমিশনার (ভূমি) ও পিআইও খতিয়ে দেখবেন। তারা যদি আর ফিরে না আসে তাহলে নুতন করে প্রকৃত ভূমিহীনদের ঐসব ঘর বরাদ্দ দেয়া হবে। ইতিমধ্যে কয়েকজন ঘর পাওয়া উপকারভোগীকে ডেকে তাদের ঘরে থাকতে বলা হয়েছে। আর সমবায় অধিদপ্তর থেকে তাদের ঋণ দেওয়ার উদ্যোগ নেয়া এবং তাদের আয়বর্ধক কর্মসূচির আওতায় আনা হবে।##
রামপালের রুমা কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের সদস্য হওয়ায় বিএনপির অভিনন্দন
এ এইচ নান্টু, বিশেষ প্রতিনিধি ||
ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় কমিটিতে স্থান পেয়েছে রামপালের মেয়ে শারমিন সুলতানা রুমা। তিনি বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের সদ্য ঘোষিত ৩০২ জন বিশিষ্ট কেন্দ্রীয় কমিটির কার্য্য নির্বাহী কমিটির সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন।
গত ১১ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যায় কাজী রওনকুল ইসলাম শ্রাবনকে সভাপতি ও সাইফ মাহমুদ জুয়েলকে সাধারণ সম্পাদক করে ৩০২ জন বিশিষ্ট ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় পূর্ণাঙ্গ কমিটিতে বিএনপির কেন্দ্রীয় সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী আহমেদ সাক্ষর করেন।
শারমিন সুলতানা রুমা বাগেরহাটের রামপাল উপজেলার সোনাতুনিয়া গ্রামের নিহত আতিয়ার রহমানের কন্যা। রুমার বাবা আতিয়ার রহমান রামপাল উপজেলা যুবদলের সাবেক সভাপতি/সাধারণ সম্পাদক এবং উপজেলা কৃষকদলের সাবেক সভাপতি ছিলেন।
রুমা দীর্ঘদিন জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের রাজনীতির সাথে সম্পৃক্ত থেকে দলীয় কর্মকাণ্ড পরিচালনা করে আসছেন।
বর্তমানে তিনি ইডেন মহিলা কলেজে অধ্যায়নরত।
শারমিন সুলতানা রুমা ছাত্রদলের সাংগঠনিক অভিভাবক বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান ও কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের সভাপতি কাজী রওনকুল ইসলাম শ্রাবন ও সাধারণ সম্পাদক সাইফ মাহমুদ জুয়েলের প্রতি কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করেন।এবং দায়িত্ব পালনে তিনি ছাত্রদলের সর্বস্তরের নেতাকর্মীদের সমর্থন ও দোয়া কামনা করেছেন।
তাকে কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য করায় বাগেরহাট জেলা বিএনপির যুগ্ম আহবায়ক লায়ন ডক্টর শেখ ফরিদুল ইসলাম। রামপাল উপজেলা বিএনপি, যুবদল, সেচ্ছাসেবক দল, ছাত্রদলের নেতৃবৃন্দ অভিনন্দন জানিয়েছেন।
রামপালে ফারুক হত্যা মামলায় নেই কোন অগ্রগতি, আসামীদের মামলা তুলে নিতে হুমকি
এ এইচ নান্টু, বিশেষ প্রতিনিধি || বাগেরহাটের রামপালে গত চার মাস পূর্বের একটি হত্যা মামলার কোন অগ্রগতি হয়নি। এ মামলার এজাহারভুক্ত দুই আসামীর মধ্যে একজন আদালতে আত্মসমর্পণ করেন অপরজন উচ আদালত থেকে আগাম জামিন নিয়ে ঘুরে বেড়াচ্ছে । পলাতক আসামীরা বাদী পক্ষকে মামলা তুলে মিমাংশার জন্য মানসিকভাবে চাপ দিচ্ছে।
জানাগেছে মামলার বাদী উপজেলার উজলকুড় গ্রামের আশিকুল ইসলাম (২৪) এর বাড়ির কাছে একটি ধান ক্ষেতে গত ইং ০৬-০৪-২০২২ তারিখ সকাল ১০টায় হাঁস ধানের জমিতে যাওয়াকে কেন্দ্র করে তার মা খুরশিদা বেগম ও ভাই এনামুলের সাথে একই এলাকার মামলার ৪নং আসামী সিদ্দিক শেখের মধ্যে কথা কাটাকাটি হয়। এক পর্যায়ে তা হাতাহাতির পর্যায়ে গড়ায়। বাদী আশিকুল ইসলামের ভাই মিজানুর রহমান ওই দিন বিষয়টি ইফতারির পর উভয় পক্ষকে ডেকে মিমাংশার উদ্যােগ নেন। তার ওই উদ্যোগ অগ্রায্য করে সিদ্দিক আলী তার ছেলে-মেয়ে ও আত্মীয় স্বজনদের খবর দিয়ে বাড়িতে ডেকে এনে জড়ো করেন। পরে তারা বিকাল সাড়ে ৫ টার সময় আশিকুল ইসলামের বাড়িতে হামলা চালায়।
এসময় আশিকুলের ভাই এনামুল অন্যদের সহায়তা চেয়ে চিৎকার করলে দৌড়ে পালানোর চেষ্টা করে। তার চিৎকার শুনে স্থানীয় বাইতুল আমান জামে মসজিদ থেকে নামাজ পড়ে বের হওয়া মাত্র আশিকুলের ভাই ওমর ফারুক ওরফে আজাবুলকে প্রতিপক্ষের লোকজন ঘিরে ফেলে ধরালো দা দিয়ে এলোপাতাড়িভাবে কুপিয়ে জখম করে ফেলে চলে যায়। এতে তার প্রচুর রক্তক্ষরন হয়। ঠোকাতে গেলে তার ভাই মিজানুর রহমানকেও কুপিয়ে জখম করা হয়। পরে তাদেরকে রক্তাক্ত অবস্থায় উদ্ধার করে প্রথমে ফয়লাহাট সুন্দরবন প্রাইভেট হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। এখান ওমর ফারুকর অবস্থার অবনতি হওয়ায় তাকে রাতেই খুলনা মেডিকল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে ডাক্তার তাকে মৃত ঘোষনা করেন। ওই রাতে সোনাডাঙ্গা থানায় একটি সাধারন ডায়রি করা হয়। ডায়নির নং ৫২৯।
খবর পেয়ে রামপাল থানা পুলিশ নিহত ওমর ফারুকের ভাই এ মামলার বাদী আশিকুল ইসলামক ডেকে থানায় নিয়ে একটি সাদা কাগজে স্বাক্ষর রাখেন। তাকে বলা হয় একদিন পর থানায় মামলা নেয়া হবে। বাদী আশিকুল ইসলাম জানান ৮-৪-২০২২ তারিখ ওমর ফারুকের লাশ দাফন করে পরদিন ইং ৯-৪-২০২২ তারিখ থানায় মামলা করতে গিয়ে দেখেন তার কাছ থেকে পুর্ব স্বাক্ষর নেয়া সাদা কাগজে প্রকৃত দোষীদের বাদ দিয়ে ৫ জনকে আসামী করে একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। যার নং ৬। ওই মামলায় আসামী করা হয় আলী শেখ (২৮), কামাল শেখ (৩৫), জামাল শেখ (৩২), সিদ্দিক শেখ (৬০) ও তার মেয়ে নাছিমা খাতুন (৩২)কে।
বাদী পক্ষের অভিযোগ এ হত্যার ঘটনার সাথে পরোক্ষ ও প্রত্যক্ষ ভাবে জড়িত ছিল শামীম শেখ (২৪), মোহাম্মাদ শেখ (২২), ফারুক শেখ (৪৮), লিটন শেখ (৪০), কুলসুম বেগম (৩০) ও আবুল কাশম (৫৫)। পুলিশ এ ৬ অপরাধির নাম আসামীর তালিকায় অন্তর্ভূক্ত করেনি। এ নিয়ে আপত্তি জানানো হলেও কোন কাজ হয়নি। পরবর্তীতে আদালতে ১১ জনের নাম উল্লেখ করে আদালতে একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। মামলা নং জিআর ৫৭/২০২২। মামলার ১নং আসামী আলী আদালতে আত্মসমর্পন করে জেল হাজতে আছে। অপর আসামী নাছিমা খাতুন উচ্চ আদালত থেকে জামিন নিয়ে এসে অন্য আসামীদের জামিনের জন্য জোর তদবীর চালাচ্ছে বলে বাদী অভিযোগ করেছেন।
বাদী আশিকুল ইসলাম বলেন পলাতক আসামীদের ধরিয়ে দিতে র্যাব-৬ নগদ অর্থ পুরস্কার ঘোষনা করেছে। রামপাল থানা পুলিশ তড়িঘড়ি করে গোপনে মূল অভিযুক্তদের বাদ দিয়ে আদালতে চার্জসীট দেয়ার জন্য তোড়জোড় চালাচ্ছে বলে অভিযোগ করছেন তারা। একটি মহল পুলিশকে ম্যানেজ করতে মোটা অংকের টাকার থলে মাথায় নিয়ে মাঠে নেমেছে। এতে তিনি ন্যায় বিচার থেকে বঞ্চিত হওয়ার আশংকা করছেন। এ ব্যাপার রামপাল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা শামছুদ্দিন এর কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন চার্জসীট এর বিষয়টি প্রক্রিয়াধীন আছে। তদন্ত সাপেক্ষে পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
বাগেরহাটের রামপালে সাংবাদিকদের সাথে মৎস্য কর্মকর্তার মতবিনিময়
এ এইচ নান্টু, বিশেষ প্রতিনিধি ||
রামপালে মৎস্য সপ্তাহের কর্মসূচি পালনে সাংবাদিকদের সাথে মতবিনিময় করেছেন উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা অন্জন বিশ্বাস। শনিবার সকাল সাড়ে ১০ টায় উপজেলা পরিষদ সম্মেলন কক্ষে উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা অন্জন বিশ্বাস এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্য দেন উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান সেখ মোয়াজ্জেম হোসেন।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন মৎস্য সম্প্রসারণ কর্মকর্তা এইচ, বি, এ সাত্তার, প্রেসক্লাব রামপাল এর সভাপতি এম, এ সবুর রানা, রামপাল প্রেসক্লাবের সভাপতি হাওলাদার আ. হাদি, সাধারণ সম্পাদক ও রামপাল সরকারি কলেজের সহকারী অধ্যাপক সাইফুল আলম বক্তিয়ার, সাংবাদিক রবিউল ইসলাম, মো. হাফিজুর রহমান, সুজন মজুমদার, মো. তারিকুল ইসলাম, গোলাম ইয়াছিন রাজু, মেহেদী হাসান প্রমুখ। এ সময় সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা বলেন, বৈশ্বিক মহামারি করোনার দুর্যোগের কারণে চিংড়ি উৎপাদন বাঁধাগ্রস্ত হলেও মাছের উৎপাদন বেড়েছে। জানান ২৩ জুলাই থেকে ২৯ জুলাই পর্যন্ত নানা কর্মসূচি গ্রহন করা হয়েছে। এক পরিসংখ্যানে তিনি জানান রামপালে চিংড়ি উৎপাদন কিছুটা কমেছে। এ বছর গলদা চিংড়ি উৎপাদন লক্ষমাত্রা ধরা হয়েছে ১ হাজার ৮২৫ মে. টন, বাগদা উৎপাদনের লক্ষমাত্রা ধরা হয়েছে ৩ হাজার ৯৩০ মে. টন, কার্ফ মাছ ৭ হাজার ৭৮৮ মে. টন, কাকড়া ৬৫৭.৩০ টন ও সাদা মাছ, কুচিয়াসহ অন্যান্য ৪ হাজার ৯৭৭ মে. টনের লক্ষমাত্রা ধরা হয়েছে। তবে তিনি জানান মৌসুমের মাঝামাঝি সময়ে বাগদাদ চিংড়িতে মড়ক লাগায় প্রায় ৬০০ মে. টন উৎপাদন কম হয়েছে তবে সাদা মাছের উৎপাদন বেড়েছে।
এ দপ্তর থেকে মাছ চাষে চাষিদের নানাভাবে সহযোগিতা, উঠান বৈঠক, প্রশিক্ষণ ও পরামর্শ প্রদান করা হয়েছে। জনবল সংকটের কারণে কাংখিত সেবা প্রদান করা যাচ্ছে না বলে ও জানান সিনিয়র ওই মৎস্য কর্মকর্তা।
বাগেরহাটের রামপালে ভুমিহীন ও গৃহহীনদের মাঝে ঘর হস্তান্তর
এ এইচ নান্টু, বিশেষ প্রতিনিধি ||
মুজিববর্ষে বাংলাদেশের একজন মানুষও গৃহহীন থাকবে না প্রধানমন্ত্রীর এই নির্দেশনা বাস্তবায়নের ধারাবাহিকতায় ২১ জুলাই ৩য় পর্যায়ের তৃতীয় ধাপের প্রকৃত ভূমিহীন ও গৃহহীন পরিবারের মাঝে জমি ও গৃহ প্রদান করা হয়েছে।
বাগেরহাটের রামপালে বৃহস্পতিবার সকাল ১১ টায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ভার্চ্যুয়ালি সংযোগ থেকে আশ্রয়ণের ৩য় পর্যায়ের তৃতীয় ধাপে উপজেলায় মোট ১০৫টি ভূমিহীন ও গৃহহীন পরিবারকে কবুলিয়ত দলিল ও নামজারি খতিয়ানসহ নতুন ঘর হস্তান্তর করেছেন। ইতোপূর্বে আশ্রয়ণ-২ প্রকল্পের আওতায় ১ম পর্যায়ে রামপালে ১০টি ,২য় পর্যায়ে ৪০ টি এবং ৩য় পর্যায়ের প্রথম ও দ্বিতীয় ধাপে ৫০টি ভূমিহীন ও গৃহহীন পরিবারকে জমিসহ গৃহ প্রদান করা হয়। এর মধ্যে সুন্দরবনের জলদস্যু বাহিনীর হান্নান সরদার আত্মসমর্পণকৃত সাভাবিক জীবনে ফিরে পেয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর ঘর। প্রধানমন্ত্রী জলদস্যু ও বনদস্যুদের সাভাবিক জীবনে ফেরার জন্য তাদের নির্বিগ্নে বসবাসের জন্য সকলকে পর্যায়ক্রমে ঘর প্রদানের জন্য জেলা প্রশাসককে নির্দেশ দিয়েছেন। উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নের ভূমিহীন ও গৃহহীনদের জন্য আরো ১০৩২ টি ঘর নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে সরকারের।
এসময় অন্যান্যর মধ্যে আরো উপস্থিত ছিলেন, বন, পরিবেশ ও জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়ক উপমন্ত্রী হাবিবুন নাহার, খুলনা বিভাগীয় কমিশনার মোঃ জিল্লুর রহমান, বিভাগীয় ডিআইজি ডাঃ মহিউদ্দিন (বিপিএম বার), অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনার শহিদুল ইসলাম, জেলা প্রশাসক আজিজুর রহমান।
৩৩ বছর বয়সী হান্নান সরদার ছিলেন দুর্ধর্ষ জলদস্যু। বর্তমানে স্বাভাবিক জীবন-যাপন করছেন। অস্ত্র ফেলে জঙ্গল ছেড়ে আছেন মুজিব শতবর্ষ উপলক্ষে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার করা আশ্রয়ণ প্রকল্পের বাড়িতে। ফেরারি জীবনে ঘর ছিল না, ঠিকানা ছিল না। সেই হান্নান শেখের এখন বাড়ি হয়েছে, স্থায়ী ঠিকানা হয়েছে। এনিয়ে আবেগাপ্লুত হান্নানের এখন জীবনে পরিবর্তন এসেছে।
