রামপালে পুলিশের অভিযানে গাঁজাসহ গ্রেফতার- ১

জেনিভা প্রিয়ানা, বিশেষ প্রতিনিধি ||

বাগেরহাটের রামপাল থানা পুলিশ অভিযান চালিয়ে মুন্না মুহাম্মাদ রকি (২০) নামের এক জন মাদক কারবারি কে গ্রেফতার করেছে।

গ্রেফতারকৃত মাদক কারবারি কে বাগেরহাটের বিজ্ঞ আদালতে প্রেরন করা হয়েছে।
আটক মুন্না মোহাম্মদ রকি উপজেলার গিলাতলা গ্রামের মোল্লা আল মামুনের ছেলে।

রামপাল থানা পুলিশ সূত্রে জানা যায়,  শনিবার (২২ জুন) মাদক,অস্ত্র,জুয়া বিরোধী অভিযান পরিচালনা কালে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে রামপাল থানার অফিসার ইনচার্জ জনাব সোমেন দাশ এর তত্বাবধানে এস আই  নিকুঞ্জ রায় সংগীয় ফোর্স সহ  রামপাল উপজেলার বাঁশতলী ইউনিয়নের ৪নং ওয়ার্ডের হাওলাদার লিয়াকত আলীর বাড়ির সামনে অভিযান পরিচালনা করে মুন্না মুহাম্মদ রকি কে ৪৫ গ্রাম (পয়তাল্লিশ) গ্রাম মাদকদ্রব‍্য গাঁজা সহ হাতেনাতে আটক করা হয়।

এ বিষয়ে রামপাল থানার অফিসার ইনচার্জ সোমেন দাস সাংবাদিকদের বলেন,  অভিযানে গাঁজা সহ এক জন মাদক কারবারি কে গ্রেফতার করা হয়েছে। মামলা রুজু করে আটক মাদক কারবারি কে বাগেরহাট বিজ্ঞআদালতে প্রেরণ করা হয়েছে। মাদক,অস্ত্র,জুয়া বিরোধী আমাদের  অভিযান অব‍্যহত রয়েছে।

রামপালে দেশী-বিদেশি মদ সহ ৩ মাদক কারবারি গ্রেফতার

জেনিভা প্রিয়ানা, বিশেষ প্রতিনিধি ||

বাগেরহাটের রামপাল থানা পুলিশ অভিযান চালিয়ে তুহিন শিকদার(২৪), গাজী ইমরুল কায়েস (২৬) ও মনোজিৎ ঢালী (২৬) নামের তিন জন মাদক কারবারি কে দেশী ও বিদেশী মদ সহ গ্রেফতার করেছে।

গ্রেফতারকৃত তিন মাদক কারবারি কে বাগেরহাটের বিজ্ঞ আদালতে প্রেরন করা হয়েছে।

আটককৃতরা হলো, বাগেরহাট জেলার রামপাল উপজেলার শ্রীফলতলা গ্রামের আনসার শিকদারের ছেলে তুহিন শিকদার, একই গ্রামের আব্দুল মজেদ গাজীর ছেলে ইমরুল কায়েস ও ওড়াবুনিয়া গ্রামের মনোরঞ্জন ঢালীর ছেলে মনোজিৎ ঢালী।

রামপাল থানা পুলিশ সূত্রে জানা যায়,  শুক্রবার (২১ জুন ) মাদক,অস্ত্র,জুয়া বিরোধী অভিযান পরিচালনা কালে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে রামপাল থানার অফিসার ইনচার্জ জনাব সোমেন দাশ এর তত্বাবধানে এস আই লিটন কুমার বিশ্বাস এর নেতৃত্বে সংগীয় অফিসার ও ফোর্স সহ অভিযান পরিচালনা করে রামপাল সদরের হাজী এনায়েতউল্লাহ মাদ্রাসার সামনে থেকে তিন বোতল বিদেশী মদ ও এক বোতল দশীয় মদ সহ তুহিন শিকদার, ইমরুল কায়েস ও মনোজিৎ ঢালী কে হাতেনাতে আটক করা হয়।

এ বিষয়ে রামপাল থানার অফিসার ইনচার্জ সোমেন দাস সাংবাদিকদের বলেন,  গোপন সংবাদের ভিত্তিতে আমরা অভিযান চালিয়ে তিন জন মাদক কারবারি কে দেশি ও বিদেশী চার বোতল মদ সহ গ্রেফতার করেছি। মামলা রুজু করে আটক তিনজন মাদক কারবারি কে বাগেরহাট বিজ্ঞআদালতে প্রেরণ করা হয়েছে। মাদক,অস্ত্র,জুয়া বিরোধী আমাদের   অভিযান অব‍্যহত আছে।

ফকিরহাটে বাসের চাপায় প্রাণ গেল মোটরসাইকেল আরোহী  পিতা ও শিশু পুত্রের

জেনিভা প্রিয়ানা, বিশেষ প্রতিনিধি ||

বাগেরহাটের ফকিরহাটে যাত্রীবাহী বাসের সঙ্গে মোটরসাইকেলের মুখোমুখি সংঘর্ষে বাবা ও ছেলের মৃত্যু হয়েছে। এসময় মোরটসাইকেলে থাকা মাও গুরুত্বর আহত হয়েছেন।

খুলনা-বাগেরহাট মহাসড়কের ফকিরহাট উপজেলার পিলজংগ ইউনিয়নের মহাদেবের দোকান নামক এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।

পুলিশ জানায়, শনিবার (২২ জুন) সকাল ৯টায় পটুয়াখালী থেকে মোটরসাইকেল যোগে তারা তিনজন মোটরসাইকেলে যশোর গদখালী এলাকায় যাচ্ছিলেন।

ফকিরহাট উপজেলার মাহদেবের দোকান এলাকায় এসে পৌঁছলে বিপরীত দিক থেকে আসা বাগেরহাটগামী একটি যাত্রীবাহী বাসের সঙ্গে তাদের মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়।

এতে মোটরসাইকেল চালক খলিলুর রহমান (৪৫) এবং তার এক বছরের শিশুপুত্র ঘটনাস্থলেই নিহত হন। এসময় নিহত খলিলুর রহমানের স্ত্রী মিনু বেগম (৩৫) গুরুত্বর আহত হন। তার অবস্থাও আশংকাজনক বলে চিকিৎসকরা জানিয়েছেন।

কাটাখালী হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মিজানুর রহমান বলেন, বাসের সঙ্গে মোটরসাইকেলের সংঘর্ষে বাবা ও ছেলে ঘটনাস্থলেই নিহত হয়েছেন। তাদের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। আইনী প্রক্রিয়া শেষে মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে।

মোংলায় রুদ্র মুহম্মদ শহিদুল্লাহর মৃত্যুবার্ষিকী পালিত

জেনিভা প্রিয়ানা, বিশেষ প্রতিনিধি||

বা‌গেরহা‌টের মোংলায় নানা আয়োজনে “ভালো আছি ভালো থেকো, আকাশের ঠিকানায় চিঠি লিখো” গানের স্রষ্টা, তারুণ্য ও সংগ্রামের দীপ্ত প্রতীক কবি রুদ্র মুহম্মদ শহিদুল্লাহ’র ৩৩তম মৃত্যবার্ষিকী পালিত হয়েছে। রুদ্র মুহম্মদ শহিদুল্লাহ ১৯৫৬ খ্রিষ্টাব্দের ১৬ অক্টোবর বরিশাল রেডক্রস হাসপাতালে জন্মগ্রহণ করেন। ১৯৯১ সালের ২১ জুন মাত্র ৩৫ বছর বয়সে মারা যান কবি রুদ্র মুহম্মদ শহিদুল্লাহ। এ বছর তিনি একুশে পদকে (মরণোত্তর) ভূষিত হন। শিল্পমগ্ন উচ্চারণ তাঁকে দিয়েছে সত্তরের অন্যতম কবি-স্বীকৃতি।

শুক্রবার (২১শে জুন) সকালে রুদ্র স্মৃতি সংসদের আয়োজনে একটি শোক র‌্যালি বের হয়। র‌্যালিটি কবির গ্রামের বাড়ি উপজেলার মিঠাখালী বাজার প্রদক্ষিণ করে তার কবরস্থানে গিয়ে শেষ হয়। সেখানে কবির কবরে পুষ্পমাল্য অর্পণ করেন রুদ্র স্মৃতি সংসদ, সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোট, বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রধান, শিক্ষার্থী, রাজনৈতিক ও সামাজিক সংগঠনের প্রতিনিধিসহ নানা শ্রেণি-পেশার মানুষ।

এ সময় কবির কবরের পাশে দাঁড়িয়ে এক মিনিট নীরবতা পালনসহ দোয়া অনুষ্ঠিত হয়। এছাড়া মসজিদে কোরআন খতম ও মিলাদ অনুষ্ঠিত হয়েছে। সন্ধ্যায় মোংলা সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোট ও রুদ্রের গড়া সংগঠন অন্তর বাজাও এর শিল্পীরা রুদ্রের গানের আয়োজন করেছে।

কবি রুদ্র মুহম্মদ শহিদুল্লাহর স্মরণ সভায় রুদ্র স্মৃতি সংসদের রুদ্রের অনুজ সুমেল সারাফাতের সভাপতিত্বে উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আবু তাহের হাওলাদার, মিঠাখালী ইউপি চেয়ারম্যান উৎপল কুমার মন্ডল, মোংলা সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোটের মোংলা শাখার সভাপতি নূর আলম শেখ, রুদ্র স্মৃতি সংসদের সাবেক সাধারণ সম্পাদক নাজমুল হক প্রমুখ বক্তব্য রাখেন। স্মরণসভা শেষে রুদ্রের কবিতা আবৃত্তি ও গান পরিবেশিত হয়।

উল্লেখ্য, ‘জাতির পতাকা আজ খামচে ধরেছে সেই পুরোনো শকুন’ এই নির্মম সত্য অবলোকনের পাশাপাশি তিনি উচ্চারণ করেছেন অবিনাশী স্বপ্ন ‘দিন আসবেই দিন সমতার’। যাবতীয় অসাম্য, শোষণ ও ধর্মান্ধতার বিরুদ্ধে অনমনীয় অবস্থান কবিকে পরিণত করেছে ‘তারুণ্যের দীপ্ত প্রতীক’-এ। একই সঙ্গে তাঁর কাব্যের আরেক প্রান্তর জুড়ে রয়েছে স্বপ্ন, প্রেম ও সুন্দরের প্রতি মগ্নতা।

মাত্র ৩৫ বছরের (১৯৫৬-১৯৯১) জীবনে তিনি সাতটি কাব্যগ্রন্থ ছাড়াও গল্প, কাব্যনাট্য এবং ‘ভালো আছি ভালো থেকো’সহ অর্ধ শতাধিক গান রচনা ও সুরারোপ করেছেন। পরবর্তীকালে এ গানটির জন্য তিনি বাংলাদেশ চলচ্চিত্র সাংবাদিক সমিতি প্রদত্ত ১৯৯৭ সালের শ্রেষ্ঠ গীতিকারের (মরণোত্তর) সম্মাননা লাভ করেন। ‘উপদ্রুত উপকূল’ ও ‘ফিরে চাই স্বর্ণগ্রাম’ কাব্যগ্রন্থ দুটির জন্য ‘সংস্কৃতি সংসদ’ থেকে পরপর দুইবার ‘মুনীর চৌধুরী সাহিত্য পুরস্কার’ লাভ করেন। সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোট ও জাতীয় কবিতা পরিষদ গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন দ্রোহের এ কবি।

বিগত স্বৈরাচার-বিরোধী আন্দোলনে রুদ্র সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করেন। ১৯৯১ খ্রিষ্টাব্দের আজকের এই দিনে মাত্র ৩৫ বছর বয়সে তিনি মৃত্যুবরণ করেন ।

Daily World News

শ্রী শ্রী জগন্নাথ দেবের রথযাত্রা উৎসব উপলক্ষে প্রস্তুতিমূলক ও বিশেষ বর্ধিত এবং সংবর্ধনা সভা অনুষ্ঠিত

রামপালে পুলিশের অভিযানে গাঁজাসহ কারবারি গ্রেফতার

জেনিভা প্রিয়ানা, বিশেষ প্রতিনিধি ||

বাগেরহাটের রামপাল থানা পুলিশ অভিযান চালিয়ে মো: মোরসিলিন শেখ (২০) নামের এক মাদক কারবারি কে গ্রেফতার করেছে।

গ্রেফতারকৃত মাদক কারবারি কে বাগেরহাটের বিজ্ঞ আদালতে প্রেরন করা হয়েছে।

আটক মোরসালিন খুলনা জেলার বোটিয়াঘাটা উপজেলার নোয়াইলতলা গ্রামের মো:কেরামত শেখ এর ছেলে।

রামপাল থানা পুলিশ সূত্রে জানা যায়,  বৃহস্পতিবার (১৩ জুন ) মাদক,অস্ত্র,জুয়া বিরোধী অভিযান পরিচালনা কালে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে রামপাল থানার অফিসার ইনচার্জ জনাব সোমেন দাশ এর তত্বাবধানে এস আই নাসির উদ্দীনের নেতৃত্বে সংগীয় ফোর্স সহ রামপাল উপজেলার গৌরম্ভা এলাকায় খানজাহান আলী মাধ‍্যমিক বিদ‍্যালয়ের মেইন গেটের সামনে রাস্তার উপর থেকে মোরসালিন কে ৫০ (পঞ্চাশ) গাঁজা সহ হাতেনাতে আটক করা হয়।

এ বিষয়ে রামপাল থানার অফিসার ইনচার্জ সোমেন দাস সাংবাদিকদের বলেন,  আমাদের নিয়মিত অভিযানে মোরসালিন নামের এক মাদক কারবারি কে গ্রেফতার করা হয়েছে। মামলা রুজু করে আটক মাদক কারবারি কে বাগেরহাট বিজ্ঞআদালতে প্রেরণ করা হয়েছে। মাদক,অস্ত্র,জুয়া বিরোধী আমাদের অভিযান অব‍্যহত আছে।

রামপাল উপজেলাকে ভূমিহীন মুক্ত ঘোষণা; ১৫০ টি পরিবার পেল নতুন ঠিকানা

জেনিভা প্রিয়ানা, বিশেষ প্রতিনিধি ||

শতশত পরিবারকে ভূমিহীন ও গৃহহীন রেখেই বাগেরহাটের রামপাল উপজেলাকে ভূমিহীন ও গৃহহীন মুক্ত ঘোষনা করা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা কর্তৃক ১৮ হাজার ৫৬৬ টি ভূমিহীন ও গৃহহীন পরিবারকে জমি ও গৃহ হস্তান্তর কার্যক্রমের শুভ উদ্বোধন ঘোষনা করেন। এরপরেই উপজেলার উপকারভোগীদের মাঝে ঘর ও জমির দলিলাদি হস্তান্তর করা হয়।

মঙ্গলবার (১১ জুন) বেলা সাড়ে ১১ টায় উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে নির্বাহী কর্মকর্তা রহিমা সুলতানা বুশরা এর সভাপতিত্বে উপজেলায় ৫ম পর্যায়ে সর্বমোট ১৫০ টি গৃহ নির্মাণ কাজ সম্পন্ন হয়।

এ সময় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা চেয়ারম্যান সেখ মোয়াজ্জেম হোসেন, উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান নূরুল হক লিপন, মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান হোসনেয়ারা মিলি, পিআইও মো. মতিউর রহমান, এলজিইডি প্রকৌশলী মো. গোলজার হোসেন, রামপাল থানার ওসি সোমেন দাশ, সমাজসেবা কর্মকর্তা মো. শাহিনুর রহমান, মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. আনোয়ারুল কুদ্দুস, উপজেলা আইসিটি কর্মকর্তা রনিক হালদার, উপজেলা জনস্বাস্থ্য প্রকৌশলী মো. ইমরান হোসেন, সহকারী তহশিলদার এ্যাডভোকেট মো. শহিদুল ইসলাম, প্রেসক্লাব রামপালের সভাপতি এম, এ সবুর রানাসহ বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা ও উপকারভোগী পরিবারের সদস্যরা।

রামপাল উপজেলাকে ভূমিহীন মুক্ত ঘোষনা উপলক্ষে নির্বাহী কার্মকর্তার প্রেস ব্রিফিং

জেনিভা প্রিয়ানা, বিশেষ প্রতিনিধি ||

বাগেরহাটের রামপালে শতশত পরিবারকে ভূমিহীন রেখেই রামপাল উপজেলাকে ভূমিহীন ও গৃহহীন মুক্ত ঘোষনা উপলক্ষে এক প্রেস ব্রিফিং করলেন রামপাল উপজেলা নির্বাহী কার্মকর্তা।

মুজিব শতবর্ষ উপলক্ষে ৫ম পর্যায়ে ভূমিহীন ও গৃহহীনদের মাঝে ২ শতাংশ খাস জমি বন্দোবস্ত প্রদানপূর্বক একক গৃহ নির্মাণের মাধ্যমে পুনর্বাসন এবং ভূমিহীন ও গৃহহীন মুক্ত ঘোষনা উপলক্ষে এ প্রেস ব্রিফিং করা হয়।

সোমবার (১০ জুন) বেলা সাড়ে ১১ টায় উপজেলা নির্বাহী কার্মকর্তা রহিমা সুলতানা বুশরা এর সভাপতিত্বে সাংবাদিকদের উপস্থিতিতে লিখিত ব্রিফিং এ তিনি জানান, সারা বাংলাদেশে ১৮৮ টি উপজেলার মধ্যে রামপাল উপজেলায় ৫ম পর্যায়ে সর্বমোট ১৫০ টি গৃহ নির্মাণ কাজ সম্পন্ন হওয়ায় উদ্বোধনের জন্য অপেক্ষমান। উপজেলা টাস্কফোর্স কমিটির একাধিক সভার মাধ্যমে ‘ক’ তালিকার পরিবার সমূহককে সরকারি কার্মকর্তা ও স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের মাধ্যমে যাচাই বাছাই অন্তে ৫১৬ টি ভূমিহীন ও গৃহহীন পরিবার পাওয়া গেছে। তাদের পর্যয়ক্রমে পুনর্বাসন করা হয়েছে। ঘরের গুণগত মান নিশ্চিত করতে স্থানীয় এমপি, জেলা প্রশাসক, উপজেলা চেয়ারম্যান, উপজেলা নির্বাহী কার্মকর্তা, এসিল্যান্ড, পিআইও, এলজিইডি কার্মকর্তা সার্বক্ষণিক তদারকি করেছেন। উপকারভোগীদের ঘর, জমি, কবুলিয়ত দলিলসহ সবকিছু বুঝিয়ে দেওয়া হয়েছে।

মঙ্গলবার (১১ জুন) প্রধানমন্ত্রী একযোগে ভার্চুয়ালি যুক্ত থেকে উপকারভোগীদেরকে তাদের দলিলাদি সম্বলিত ফোল্ডার হস্তান্তর করবেন।

এ সময় সাংবাদিকরা জানান, এ উপজেলায় শতশত ভূমিহীনদের বাইরে রেখে ভূমিহীন ও গৃহহীন মুক্ত ঘোষনা কত টুকু যুক্তি যুক্ত ? এ সময় নির্বাহী কার্মকর্তা বলেন, বিভিন্ন কারণে মানুষ ভূমিহীন হয়ে থাকেন। কেউ বাদ পড়লে সরকার পর্যায়ক্রমে তাদের পুনর্বাসন করবে। এ প্রকল্পের আওতায় আরো গৃহ নির্মাণ করা হবে। এ সময় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা চেয়ারম্যান সেখ মোয়াজ্জেম হোসেন, মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান হোসনেয়ারা মিলি, পিআইও মো. মতিউর রহমান, প্রেসক্লাব রামপালের সভাপতি এম, এ সবুর রানা, সিনিয়র সহসভাপতি মোতাহার মল্লিক, সাধারণ সম্পাদক সুজন মজুমদার প্রমুখ।

রামপালে সরকারি ৩ খালে মাছ চাষ, হুমকিতে মোংলা-ঘোষিয়াখালী ক্যানেল

জেনিভা প্রিয়ানা, বিশেষ প্রতিনিধি ||

প্রধানমন্ত্রীর অগ্রাধিকার প্রকল্পের আওতায় মোংলা-ঘোষিয়াখালী ক্যানেল সচল রাখতে ৮৩ টি খাল খনন করা হয়। খননকৃত খালের মধ্যে তিনটি বড় সরকারি খাল দখল করে মাছ চাষের অভিযোগ দিয়েও প্রতিকার মিলছে না। স্থানীয় দুই ইউপি সদস্যসহ গ্রামবাসীর স্বাক্ষরযুক্ত লিখিত অভিযোগ করেও আইনানুগ প্রতিকার না পাওয়ায় হতাশ হয়েছেন গ্রামবাসী। চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি মাসে তারা বাগেরহাট জেলা প্রশাসক ও পানি উন্নয়ন বোর্ডের জোর হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

জানা গেছে, বঙ্গবন্ধু মোংলা ঘোষিয়াখালী ক্যানেল সচলে সংলগ্ন মৃতপ্রায় প্রবাহমান সরকারি খালগুলি খনন করে বাগেরহাটের পানি উন্নয়ন বোর্ড। স্থানীয় সাবেক ইউপি সদস্য ও পেড়িখালী ইউনিয়ন যুবলীগ সভাপতি আনিস মাঝি ও তার লোকজন দখলে নিয়ে মৎস্য চাষ শুরু করে। এ নিয়ে সচেতন গ্রামবাসীর সাথে দখলকারীদের মধ্যে বিরোধ সৃষ্টি হয়। তারা বঙ্গবন্ধু মোংলা-ঘোষিয়াখালী ক্যানেল সচল রাখার স্বার্থে খালগুলি উম্মুক্ত রাখতে উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের জোর হস্তক্ষেপ কামনা করেন।

এ বিষয়ে অভিযুক্ত আনিস মাঝির সাথে কথা হলে তিনি অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, খালগুলো দিয়ে জোয়ারের পানি প্রবেশ নিয়ন্ত্রণ করা হয় যাতে বাড়ি ঘর ডুবে না যায়। তবে গ্রামবাসীরা সকলে মিলে মাছ চাষ করেন বলে স্বীকার করেন ওই করেন তিনি।

এ বিষয়ে রামপাল উপজেলা নির্বাহী কার্মকর্তা রহিমা সুলতানা বুশরা এর সাথে কথা হলে তিনি জানান, ওখানে তহশিলদার পাঠানো হয়েছিল। খালগুলির উপরে পূর্বে থেকেই বাঁধ ও রাস্তা  করা হয়েছে। বিকল্প ব্যাবস্থা না করে খাল উম্মুক্ত করা যাচ্ছে না। সরকারি খাস খাল দখল করে কাউকে মৎস্য চাষ করতে দেয়া হবে না। প্রবহমান নদী ও খাল দখলকারীদের কোনো প্রকার ছাড় দেয়া হবে না নিশ্চিত করেন ওই কার্মকর্তা।

বাগেরহাটে রিকসা চালকের রক্তাক্ত মরদেহ উদ্ধার

জেনিভা প্রিয়ানা, বিশেষ প্রতিনিধি ||

বাগেরহাট পৌর শহরের নাগেরবাজার এলাকায় মোঃবাশার(২২)নামের এক রিকসা চালক খুন হয়েছে।

রবিবার (৯জুন) সকালে নাগেরবাজার মন্দির রোড থেকে রক্তাক্ত অবস্থায় পুলিশ বাশারের মৃতদেহ উদ্বার করে ময়না তদন্তের জন্য জেলা সদর হাসপাতাল মর্গে প্রেরন করেছে।

রিকসা চালক বাশার বাগেরহাট শহরের নাগেরবাজার এলাকার আঃআজিজের ছেলে।

কে বা কারা তাকে হত্যা করেছে তা এখনও পর্যন্ত জানা যায়নি। নাগেরবাজার ও পুরাতন রেল স্টেশন এলাকাবাসী জানায়, রবিবার সকালে মন্দিরের রোডে বাশারের রক্তাক্ত মৃত দেহ পড়ে থাকতে দেখে স্থানীয়রা থানায় খবর দেয়। পুলিশ খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে এসে লাশের সুরতহাল করে ময়না তদন্তের জন্য হাসপাতাল মর্গে প্রেরন করে।

শনিবার দিবাগত গভীর রাতে রিকসা চালক বাশারের মাথায় আঘাত করে হত্যা করা হয় বলে প্রাথমিক ভাবে ধারনা করা হচ্ছে।

এ বিষয় বাগেরহাট মডেল থানার ওসি সাইদুর রহমান জানান, খবর পেয়ে আমরা রিকসা চালক বাশারের লাশের সুরতহাল করে ময়না তদন্তের জন্য হাসপাতাল মর্গে প্রেরন করা হয়েছে। তার মাথার পিছনের দিকে থেতলানো অবস্থায় পাওয়া গেছে। ধারনা করা হচ্ছে রাতের আধারে পিছন থেকে বাশারের মাথায় আঘাত করা হযেছে। কে বা কারা এই খুনের সাথে জড়িত সেটা তদন্ত করার পরে জানাযাবে বলেও জানান তিনি।।

রামপালে রেমালের ছোবলে মৎস্য খামারী মজনুর ১ কোটি টাকার ক্ষতি

জেনিভা প্রিয়ানা, বিশেষ প্রতিনিধি ||

বাগেরহাটের রামপালে ঘূর্ণি ঝড় রেমালের জলোচ্ছ্বাস ভেসে গেছে মৎস্য খামারের কোটি টাকার কার্প ও চিংড়ির পোনা। সব হারিয়ে এখন পথে বসেছেন উপজেলার শ্রীরম্ভা গ্রামের শেখ ফারদিন মৎস্য খামারের মালিক মিজানুর রহমান মজনু।

উপজেলার গৌরম্ভা ইউনিয়নসহ আশপাশের খামরগুলোতে কার্প জাতীয় মাছের পোনার বৃহৎ জোগান দেয়া হতো ওই ফারদিন মৎস্য খামার থেকে।

সরোজমিনে গিয়ে দেখা যায়, গত ইং ২৬ মে ঘূর্ণি ঝড় রেমালের জলোচ্ছ্বাসে ভেসে গেছে রামপালের গৌরম্ভা ইউনিয়নের অধিকাংশ মৎস্য ঘের। বাড়ীঘর লণ্ডভণ্ড হওয়ার পাশাপাশি এ এলাকার একমাত্র আয়ের উৎস চিংড়ী খামার ভেসে যায়। শুধু তাই নয় খামারের বেড়ী বাঁধ স্রোতের তোড়ে বিলিন হয়ে যায়। বাদ যায়নি ফারদিনের বেড়ী বাঁধও। খামারের দেখভাল করা রিক্তা বেগম জানান, অনেক চড়াই উতরাই পেরিয়ে ধারদেনা করে খামারে প্রায় ৬০ লাখ টাকা বিনিয়োগ করেছেন মালিক মিজানুর রহমান মজনু।

কয়েক বছরের প্রচেষ্টায় তিনি খামারটি গড়ে তোলেন। ছোট ধানিপোনা কিনে এনে তা খামারে রেখে খাবার দিয়ে বড় করা হয়। এ জন্য সকল প্রকার নিয়ম মেনে নিরাপদ প্রক্রিয়ায় অক্সিজেন ও খাবার দেয়া হয়। রিক্তা বেগম আরো জানান, রুই, কাতল, মৃগেল ও কালিবাউস মাছ ১০/১২ টায় কেজি হলে তা অন্য খামারিদের মাঝে সরবরাহ করা হয়। কোন কিছু বুঝে ওঠার আগেই হটাৎ করে রেমাল আঘাত হানে। সারা বছরের স্বপ্ন ভেসে পানিতে মিশে যায়। সব থেকে বেশী সমস্যা তৈরি হয় তীব্র লবণাক্ত পানি প্রবেশ করে। অবশিষ্ট মাছে মরে সব ভেসে ওঠে। সরোজমিনে সাংবাদিকরা গিয়ে মৃত মাছের সমাধি ও মরা মাছ ভেসে ওঠার দৃশ্য দেখতে পান।

এ সময় খামারি মজনুর স্ত্রী রিক্তা কান্না জড়িত কণ্ঠে বলেন, কি করে আমরা বেচে থাকবো ? আমরা সন্তান মরা শোকে পড়েছি। সন্তানের মত মাছেদের খাবার দিতাম। আমার স্বামী ভয়ে এখানে আসছেন না, এলে তিনি স্ট্রোক করবেন। এমন অবস্থা হয়েছে যে বেড়ী বাঁধ দিয়ে নতুন করে পোনা ছাড়ারও সুযোগ নেই। তিনি সরকারের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সহযোগীতা কামনা করেন।