ইউক্রেনের স্থানীয় সময় শনিবার সন্ধ্যায় ওডেসা বিমানবন্দরে মিসাইল হামলার ঘটনা ঘটেছে। রাশিয়া এ হামলা চালিয়েছে এমনটি দাবি করেছে ইউক্রেন। যদিও রাশিয়া এখনো এ বিষয়ে মুখ খোলেনি।
ইউক্রেনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, বিমানবন্দরটির রানওয়ে লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়েছে। ফলে এটি এখন পুরোপুরি অকার্যকর হয়ে গেছে।
এ ব্যাপারে ইউক্রেনের সেনাবাহিনী জানিয়েছে, ওডেসায় মিসাইল হামলার কারণে, বিমান বন্দরের রানওয়ে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এটি ব্যবহার করা অসম্ভব।
এদিকে বন্দর শহর ওডেসায় খুব বেশি হামলা চালায়নি রাশিয়ার সেনারা।
কিন্তু কয়েকদিন আগে এক রুশ কমান্ডার ঘোষণা দেন, তারা ইউক্রেনের পুরো দক্ষিণ ভাগ দখল করবে।
ওডেসা ইউক্রেনের দক্ষিণ দিকে অবস্থিত একটি শহর।
ইউক্রেনে হামলা করার পর ওডেসাকে এই হামলার বাইরে রাখলেও শহরটি দখল করার চিন্তা যে রুশ বাহিনী বাদ দেয়নি সেটিরই এখন জানান দিচ্ছে তারা।
ওডেসা বিমানবন্দর ধ্বংস করে দিয়ে সেখানে থাকা ইউক্রেনীয় সেনাদের আরও কোণঠাসা করে দিল রাশিয়া।
রাশিয়া ও মালদোভার বিভিন্ন জায়গায় গত ২৪ ঘণ্টায় বেশ কিছু হামলা-বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে। এগুলোর জন্য ইউক্রেনকে দায়ী করা হলেও কিয়েভ তা অস্বীকার করছে।
খবরে বলা হয়, রাশিয়ার তিনটি ইউক্রেন-সীমান্তবর্তী প্রদেশে বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে। বেলগোরদ শহরের মেয়র বলেছেন, ইউক্রেন সীমান্তের ১২ মাইল ভেতরে স্টারাইয়া-নেলিদভকা নামে একটি গ্রামের কাছে একটি অস্ত্রের ডিপোর ওপর বুধবার ভোরে আক্রমণ হয়। আক্রমণের পর ডিপোটিতে আগুন ধরে যায় তবে এখন আগুন নিভিয়ে ফেলা হয়েছে।
এতে কোনো বেসামরিক লোক আহত হননি বলে জানিয়েছেন মেয়র ভিয়াশেস্লাভ গ্লাদকভ। এই বেলগোরদে রাশিয়া দুটি স্বল্প-পাল্লার ইসকান্দার-এম ক্ষেপণাস্ত্র সিস্টেম মোতায়েন করেছে বলেও জানা গেছে।
এসব আক্রমণ ইউক্রেনের ভেতর থেকে চালানো হয়েছে কিনা তা স্বীকার করেন নি ইউক্রেনের প্রেসিডেন্টের সহকারী মিখাইলো পোডোলিয়াক।
তবে তিনি বলেন, একটি দেশ যখন আরেকটি দেশকে আক্রমণ করে তখন কখনো না কখনো তার দায় শোধ করতে হয়।
ট্রান্সনিস্ট্রিয়াতেও হামলা হয়েছে
ইউক্রেনের পশ্চিম সীমান্ত-বরাবর মালদোভার বিচ্ছিন্নতাবাদী ট্রান্সনিস্ট্রিয়া অঞ্চলে অনেকগুলো বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে। ট্রান্সনিস্ট্রিয়া অঞ্চলটি ইউক্রেনের ওডেসা বন্দর থেকে মাত্র ৫০ কিলোমিটার দূরে এবং সেখানে দেড় হাজার রুশ সৈন্য মোতায়েন রয়েছে।
এই অঞ্চলটিতে গত কয়েকদিনে বেশ কিছু আক্রমণের ঘটনা ঘটে। কর্তৃপক্ষ বলছে, বড় অস্ত্রের গুদাম আছে এমন একটি গ্রাম, রেডিও টাওয়ার, এবং সেনা ইউনিটের ওপর এসব আক্রমণ চালানো হয়।
কর্তৃপক্ষ বলছে, এখানে ইউক্রেনের ভেতর থেকে ওড়ানো ড্রোনও পাওয়া গেছে।
ট্রান্সনিস্ট্রিয়ার রুশ-সমর্থিত সরকার ইউক্রেনের বিরুদ্ধে ওই অঞ্চলের ভেতরে গুলিবর্ষণ করার অভিযোগ আনে। তবে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট জেলেনস্কি বলেছেন, রুশ বিশেষ বাহিনীই এসব আক্রমণের পেছনে আছে । কিয়েভ বলছে, এসব আক্রমণের ঘটনা রাশিয়াই সাজিয়েছে – যার লক্ষ্য হচ্ছে ওই অঞ্চলটিকে অস্থিতিশীল করা।
মস্কো বলছে, তারা এসব ঘটনা গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করছে।
খেরসন এখন রুশ নিয়ন্ত্রণে
রুশ প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় বলছে, তাদের বাহিনী দক্ষিণ ইউক্রেনের খেরসন অঞ্চল দখল করে নিয়েছে – যদিও স্বাধীন সূত্র থেকে এই দাবি নিশ্চিত করা যায়নি।
ইউক্রেনে রুশ অভিযানের শুরুর দিকেই খেরসন শহরটি রাশিয়ার বাহিনীর দখলে চলে যায়। ইউক্রেন এর মধ্যে হুঁশিয়ার করে দিয়েছে যে ওই এলাকায় রাশিয়া একটি ভুয়া গণভোট করার পরিকল্পনা করছে – যাতে এ অঞ্চলগুলোকে রাশিয়ার অংশ করে নেয়া যায়।
এছাড়া রুশ প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় আরো জানিয়েছে যে ইউক্রেনের ভেতরে জাপোরিঝিয়া এবং আরো ৫৮টি লক্ষ্যবস্তুর ওপর গত রাতে কালিবর মিসাইল দিয়ে আক্রমণ চালানো হয়েছে। জাপোরিঝিয়ায় যে লক্ষ্যবস্তুটি আক্রান্ত হয় সেটি একটি অস্ত্রের ডিপো।
মারিউপেলের মেয়র জানিয়েছেন, রুশ বাহিনী আজোভস্টাল ইস্পাত কারখানাটির ওপর আক্রমণ অব্যাহত রেখেছে। এটি এখন শহরের একমাত্র জায়গা যা ইউক্রেনীয়দের দখলে রয়েছে।
ডোনেৎস্ক অঞ্চলে রাশিয়ার বাহিনী এখন পোপসানোই এবং রুবিঝনি অঞ্চলের পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ দখল করার জন্য অভিযান চালিয়ে যাচ্ছে। তবে ইউক্রেন বলছে, তাদের সৈন্যরা ডোনেৎস্ক ও লুহানস্ক অঞ্চলে গত ২৪ ঘন্টায় নয়টি আক্রমণ প্রতিহত করেছে। সূত্র: বিবিসি
কোথাও জায়গা না পেলে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খানের বাড়িতে কলাবাগান থানা ভবন নির্মাণের প্রস্তাব দিয়েছেন গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের প্রতিষ্ঠাতা জাফরুল্লাহ চৌধুরী। আজ বুধবার দুপুরে কলাবাগানের তেঁতুলতলা মাঠে থানা ভবন স্থাপনের প্রতিবাদে আয়োজিত প্রতিবাদ সমাবেশে অংশ নিয়ে তিনি এ প্রস্তাব দেন।
এ সময় জাফরুল্লাহ চৌধুরী বলেন, ‘থানা ভবন বানানোর জন্য কোথাও জায়গা না পেলে মাননীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী, আপনার বাড়ির একটু জায়গা দিন। তাতে আপনার সুনাম হবে। আর কোথাও জায়গা না পেলে পাশের বহুতল ভবনের চারতলা-পাঁচতলা নিয়ে নেন, সেখানে থানা করেন।’
তেঁতুলতলা মাঠ ‘শিশুদের ফুসফুস, বয়স্কদের ফুসফুস’ মন্তব্য করে জাফরুল্লাহ চৌধুরী আরও বলেন, ‘এ ফুসফুস নষ্ট করতে দেওয়া যাবে না। এখানে থানা নির্মাণের অন্যায় অনুমতি দেওয়া হলেও আমরা মেনে নেব না। এখান থেকে ইটপাথর সরাতে হবে। তা না হলে আমরা এখানে আস্তানা গাড়ব।’
মাঠ রক্ষায় আরও বৃহত্তর আন্দোলন গড়ে তুলতে হবে বলেও সমাবেশে মন্তব্য করেন জাফরুল্লাহ চৌধুরী। আন্দোলনে সম্পৃক্তদের উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত বাড়ি যাওয়া চলবে না। আমরা সম্মিলিতভাবে মাঠকে রক্ষা করব। মাঠের পাশে দেয়াল, ইট-বালু ছুড়ে ফেলার আন্দোলনে আমি আপনাদের সঙ্গে থাকব।’
পান্থপথের স্কয়ার হাসপাতালের উল্টো দিকের খোলা জায়গাটি তেঁতুলতলা মাঠ হিসেবে পরিচিত। সেখানে স্থানীয় শিশুরা খেলাধুলা করে। পাশাপাশি মাঠটিতে ঈদের নামাজ, জানাজাসহ বিভিন্ন সামাজিক অনুষ্ঠান হয়। এই মাঠে কলাবাগান থানার স্থায়ী ভবন নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। বিষয়টি জানাজানি হওয়ার পর থেকেই এর প্রতিবাদ করছেন স্থানীয় লোকজন।
এই মাঠ রক্ষার আন্দোলনে সক্রিয় হওয়ায় গত রোববার ১৩ ঘণ্টা কলাবাগান থানায় আটকে রাখা হয় ওই এলাকার বাসিন্দা সৈয়দা রত্না ও তাঁর কলেজপড়ুয়া ছেলেকে। খবর পেয়ে বেলা দুইটার দিকে স্কয়ার হাসপাতালের উল্টো দিকের ওই মাঠে যান বাংলাদেশ পরিবেশ আইনবিদ (বেলা) সমিতির প্রধান নির্বাহী সৈয়দা রিজওয়ানা হাসানসহ অধিকারকর্মীরা। পরে রাতে স্থানীয়দের সঙ্গে কলাবাগান থানার সামনে অবস্থান নিয়ে মা–ছেলের মুক্তির দাবিতে বিক্ষোভ করেন তাঁরা। বিক্ষোভের মুখে রাত সাড়ে ১২টার দিকে থানা থেকে মুক্তি পান সৈয়দা রত্না ও তাঁর ছেলে।
ধর্ম অবমাননার মামলায় অভিযুক্ত বিনোদপুর রামকুমার উচ্চবিদ্যালয়ের বিজ্ঞানের শিক্ষক হৃদয় চন্দ্র মণ্ডলের বিরুদ্ধে ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত হানার বিষয়টি প্রমাণিত হয়নি। এ ঘটনায় মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা (মাউশি) অধিদপ্তরের তদন্ত কমিটির প্রধান সরকারি হরগঙ্গা কলেজের অধ্যক্ষ আবদুল হাই তালুকদার বুধবার বিকেলে এ তথ্য জানিয়েছেন।
বুধবার বিকেল পৌনে পাঁচটার দিকে ঘটনার তদন্ত প্রতিবেদন মাউশি অধিদপ্তরের মহাপরিচালক নেহাল আহমেদের কার্যালয়ে গিয়ে তাঁর কাছে জমা দেওয়া হয়েছে।
অধ্যক্ষ আবদুল হাই তালুকদার বলেন, ‘১১ এপ্রিল মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তর থেকে আমাকে ঘটনার বিষয়টি তদন্ত করার জন্য পাঁচ কার্যদিবসের সময় বেঁধে দেয়। ১২, ১৩, ১৮, ১৯ এপ্রিল ঘটনার তদন্ত করি। এ সময় মামলার বাদী, বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক, বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সভাপতি, বিদ্যালয়ের শিক্ষক এবং দশম শ্রেণির যেসব শিক্ষার্থীর সঙ্গে ধর্ম ও বিজ্ঞান বিষয় নিয়ে কথা-কথাকাটি হয়েছিল, তাদের সবার সঙ্গে কথা বলেছি। এদের মধ্য থেকে ১০ জনের লিখিত বক্তব্যও নেওয়া হয়। তাদের কারও বক্তব্যে ধর্ম অবমাননার বিষয়টি প্রমাণিত হয়নি।’
আবদুল হাই তালুকদার আরও বলেন, ছাত্ররা গোপনে ক্লাসে মুঠোফোন নিয়েছিল। ছাত্ররা তাঁর বক্তব্যটি উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে রেকর্ড করেছিল। এগুলো পরিকল্পিত ছিল। ছাত্ররা এগুলো স্বীকার করেছে। ছাত্ররা তাদের ভুল বুঝতে পেরেছে, এ জন্য ক্ষমা চেয়েছে। বাইরে থেকে এগুলো কেউ তাদের দিয়ে করিয়েছে কি না, তা কেউ স্বীকার করেনি। তবে ধারণা করা হচ্ছে, শিক্ষক হৃদয় মণ্ডল প্রাইভেট পড়াতেন। অনেক প্রাইভেট শিক্ষার্থী ছিল। এ ছাড়া একজন বিজ্ঞানের শিক্ষক ছিলেন, তিনি অবসরে গেছেন। এ জন্য বিজ্ঞান ও গণিতের সব ক্লাস হৃদয় মণ্ডল পেয়েছেন। এতে অন্য শিক্ষকেরা ঈর্ষান্বিত হতে পারেন। এসব কারণেও হৃদয় মণ্ডলের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র হতে পারে।
হৃদয় চন্দ্র মণ্ডল বুধবার রাতে বলেন, ‘তদন্তে ধর্ম অবমাননার বিষয়টি মিথ্যা প্রমাণিত হয়েছে। আমি ও আমার পরিবারের সবাই খুব খুশি। আমার বিশ্বাস ছিল, আমাকে যে বিষয় নিয়ে ফাঁসানোর চেষ্টা করা হয়েছে, সেটি একদিন না একদিন মিথ্যা প্রমাণিত হবে। তবে এত তাড়াতাড়ি হয়তো হতো না। মিডিয়ার কারণে সম্ভব হয়েছে।’
ধর্ম অবমাননার অভিযোগে হৃদয় চন্দ্র মণ্ডলের বিরুদ্ধে গত ২২ মার্চ বিদ্যালয়ের অফিস সহকারী মো. আসাদ বাদী হয়ে মামলা করেন। ওই দিনই তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়। ২৩ ও ২৮ মার্চ আদালতে তাঁর জামিন চাওয়া হয়েছিল। সে সময় আদালত তাঁর জামিন আবেদন নামঞ্জুর করেছিলেন। ১০ এপ্রিল জামিনে মুক্তি পান হৃদয় চন্দ্র মণ্ডল। ১১ এপ্রিল এ ঘটনা তদন্তে মাউশি মুন্সিগঞ্জ সরকারি হরগঙ্গা কলেজের অধ্যক্ষ আবদুল হাই তালুকদারকে প্রধান করে এক সদস্যের কমিটি গঠন করে।
বিনোদপুর রামকুমার উচ্চবিদ্যালয়ের একজন শিক্ষক বলেন, ২০ মার্চ দশম শ্রেণির বিজ্ঞানের ক্লাস নিচ্ছিলেন হৃদয় চন্দ্র মণ্ডল। সেখানে বিজ্ঞান ও ধর্ম বিষয়ে তাঁর সঙ্গে শিক্ষার্থীদের কয়েকজনের পক্ষে-বিপক্ষে কথোপকথন হয়। এক শিক্ষার্থী ওই কথোপকথনের ভিডিও ধারণ করে। পরে প্রধান শিক্ষক মো. আলাউদ্দীনকে বিষয়টি জানানো হয়। প্রধান শিক্ষক সেদিনই হৃদয় চন্দ্রকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেন এবং শিক্ষার্থীদের শান্ত থাকতে বলেন। তবে শিক্ষার্থীরা স্থানীয় কয়েকজন ও প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের বিষয়টি জানায়। পরদিন সকালে তাঁরা বিদ্যালয়ে এসে ওই শিক্ষককে গ্রেপ্তারের দাবিতে স্লোগান দিতে থাকেন। পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
বাংলাদেশ ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প সংস্থার (বিসিক) কর্মকর্তা সমিতির কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী পরিষদের সভাপতি হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন বিপণন বিভাগের মহাব্যবস্থাপক অখিল রঞ্জন তরফদার এবং মহাসচিব নির্বাচিত হয়েছেন হিসাব ও অর্থ বিভাগের নিয়ন্ত্রক জি. এম. রব্বানী তালুকদার।
সোমবার বিসিক কর্মকর্তা সমিতি নির্বাচন-২০২২ উপলক্ষ্যে গঠিত নির্বাচন কমিশন এক দাপ্তরিক বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এ ফলাফল ঘোষণা করেছে।
গত ১১ এপ্রিল এ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। বিসিক প্রধান কার্যালয়সহ সারাদেশের ২১টি ভোটকেন্দ্রে ভোটাধিকার প্রয়োগ করেন বিসিক কর্মকর্তারা।
পরিকল্পনা ও গবেষণা বিভাগের পরিচালক নেপাল চন্দ্র কর্মকার প্রধান নির্বাচন কমিশনার হিসেবে এবং সহকারী নির্বাচন কমিশনার হিসেবে এ.এম. বজলুর রশীদ, উপমহাব্যবস্থাপক (অব:) ও বশীর আহমেদ, মহাব্যবস্থাপক (অব:) এই নির্বাচন পরিচালনা করেন।
ইউক্রেনের বন্দর নগরী মারিওপোলের সেনাসদস্য ও বাসিন্দাদের আত্মসমর্পণ করার জন্য রোববার পর্যন্ত সময়সীমা বেঁধে দিয়েছিল রাশিয়া।
কিন্তু ইউক্রেনীয়রা এতে কর্ণপাত না করায় রুশ বাহিনীর বোমায় গুড়িয়ে দেওয়া হয়েছে মারিওপোলের বহু স্থাপনা।
রুশ হামলার পর ইউক্রেনের প্রধানমন্ত্রী ডেনিস শ্মিহাল এবং পররাষ্ট্রমন্ত্রী দিমিত্র কুলেবার বলেন, এ শহরের আর কোনো অস্তিত্ব নেই।
যুক্তরাষ্ট্রের একটি সংবাদ সংস্থাকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে কুলেবা বলেন, মারিওপোলের আর কোনো অস্তিত্ব নেই। অল্প কিছু বাহিনী ও সাধারণ বাসিন্দাদের একটা বড় অংশ এখনও বেঁচে আছে। কিন্তু তাদের চারদিক থেকে ঘিরে ফেলেছে রুশ বাহিনী। তারা প্রতিদিন বাঁচার জন্য লড়াই করে যাচ্ছে। তবে রাশিয়ার আচরণ দেখে বোঝা যাচ্ছে, যেকোনো মূল্যে ওরা শহরটাকে মাটিতে মিশিয়ে দিতে চায়।
এদিকে ইউক্রেনে রুশ সামরিক অভিযান ৫৫তম দিনে সোমবার রাতে ইউক্রেনের বেশ কয়েকটি শহরে রুশ বাহিনী বোমাবর্ষণ করেছে। পশ্চিমাঞ্চলীয় লাভিভ শহরে ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় অন্তত ৭ জন নিহত হয়েছে।
এ ছাড়া খারকিভ শহরে আবাসিক ভবনের ওপর রুশ বাহিনী গোলাবর্ষণ করলে অন্তত দু’জন বেসামরিক লোক নিহত হয়। রাজধানী কিয়েভেও বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে।
ইউক্রেনের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, কিয়েভ দখলের চেষ্টা করলে প্রতিরোধের মুখে পিছু হটার পর পূর্ব ইউক্রেনে আগ্রাসনের নতুন ধাপ শুরু করেছে রুশ বাহিনী।
গত কয়েক সপ্তাহ ধরে পূর্ব ইউক্রেনের দনবাস অঞ্চলকে লক্ষ্য করে হামলা জোরদার করেছে রাশিয়া। অঞ্চলটির একাংশ মস্কোপন্থী বিচ্ছিন্নতাবাদীদের নিয়ন্ত্রণে।
সোমবার মধ্যরাতে টেলিগ্রামে দেওয়া বার্তায় জেলেনস্কি বলেন, ‘আমরা এখন নিশ্চিত করছি, রুশ বাহিনী দনবাস অঞ্চলের জন্য লড়াই শুরু করেছে। দীর্ঘ সময় ধরে তারা এর জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছিল। তবে এখানে যত জন রুশ সেনা নিয়ে আসা হোক না কেন আমরা লড়াই করব। আত্মরক্ষার এই লড়াই চালিয়ে যাব আমরা।’
রুশ বাহিনীর বড় ধরনের হামলার শঙ্কা থেকে এর আগেই দনবাসের মানুষজনকে ইউক্রেনের পশ্চিম অংশ সরে যাওয়ার আহ্বান জানিয়েছিল দেশটির কর্তৃপক্ষ।
দনবাসের নিয়ন্ত্রণ মস্কোর জন্য কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এর নিয়ন্ত্রণ নিলে ২০১৪ সালে রাশিয়ার দখলকৃত ক্রিমিয়া উপদ্বীপের সঙ্গে করিডর তৈরি হবে।
এদিকে সোমবার ইউক্রেনের শতাধিক সামরিক লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালিয়েছেন রুশ সেনারা। রাশিয়ার পক্ষ থেকে বলা হয়, রুশ সেনাদের ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় ইউক্রেনের সেনাদের বেশ কিছু সেনাঘাঁটি ধ্বংস হয়েছে।
মুক্তিযুদ্ধের ঠিক পর পরেই সদ্য স্বাধীন বাংলাদেশ জটিল এক সমস্যার মুখোমুখি হয়।
যুদ্ধ বিধ্বস্ত দেশটিতে আমদানি-রপ্তানি শুরু করা দরকার। কিন্তু চট্টগ্রাম ও চালনা (এখনকার মোংলা) বন্দর চালু করা যাচ্ছিল না, কারণ পাকিস্তানি বাহিনী অসংখ্য মাইন ফেলে রেখেছে।
মাইন ছাড়াও গেরিলা বাহিনীর অভিযান ও ভারতের হামলায় ডুবে যাওয়া ছোট-বড় অসংখ্য জাহাজ কর্ণফুলী নদীর মোহনায় ডুবে ছিল। ফলে বন্দরে কোন জাহাজ ভেড়ানো যাচ্ছিল না।
সদ্য স্বাধীন বাংলাদেশে নৌপথে আমদানি-রপ্তানি চালু করতে না পারায় ব্যবসা-বাণিজ্য আটকে গিয়েছিল।
বাংলাদেশের প্রথম পরিকল্পনা কমিশনের ভাইস চেয়ারম্যান অধ্যাপক নুরুল ইসলাম বিবিসি বাংলার মোয়াজ্জেম হোসেনকে বলেছেন, ”চিটাগাং পোর্ট তখন বন্ধ, কারণ পাকিস্তানিরা মাইন ফেলে রেখেছে। সেটাকে ডি-মাইন (মাইন মুক্ত) করতে হবে। আমাদের সব ব্যবসা-বাণিজ্য বন্ধ। সেটা ছিল সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।”
“আমাদের ব্যবসা-বাণিজ্য তখন পুরোপুরি বন্ধ, কারণ বন্দর ব্যবহার করা যাচ্ছে না। বঙ্গবন্ধু আমাকে বললেন, আপনি জাতিসংঘের সাথে আলাপ করুন। তিনি চাননি বন্দর মাইন মুক্ত করার কাজে কোন বৃহৎ শক্তি জড়িত হোক। কারণ দেশের নিরাপত্তা নিয়ে তার মধ্যে উদ্বেগ ছিল,” বলছিলেন নুরুল ইসলাম।
১৯৭১ সালে চট্টগ্রামে মোতায়েন করা রাশিয়ান টাস্কফোর্স
কিন্তু চট্টগ্রাম বন্দর মাইন মুক্ত করার কাজে জাতিসংঘের সাহায্য পাওয়া যায়নি। বাংলাদেশ থেকে জাতিসংঘের সহায়তা চাওয়া হলে তারা জানায়, যেহেতু সংস্থাটি অনুদান নিয়ে চলে, তাই অর্থ সংগ্রহ, সরঞ্জাম সংগ্রহ ও দক্ষ প্রতিষ্ঠান তৈরিতে সময় লাগবে।
তবে এ ব্যাপারে সাহায্য এসেছিল সোভিয়েত ইউনিয়ন থেকেই।
প্রথম পরিকল্পনা কমিশনের ভাইস চেয়ারম্যান অধ্যাপক নুরুল ইসলাম বিবিসি বাংলাকে বলেছেন, ”ওরা (সোভিয়েত ইউনিয়ন) এই ব্যাপারে আগ্রহী ছিল। বললো, তোমরা কেন চট্টগ্রাম বন্দর চালু করছো না, তোমাদের তো ব্যবসা-বাণিজ্য বন্ধ। ”
”উনি (শেখ মুজিবুর রহমান) কিন্তু সেটায় তাড়াতাড়ি রাজি হননি। কারণ বিগ পাওয়ার, কি করে না করে। উনি জাতিসংঘের সহায়তার জন্য চেষ্টা করতে বললেন। আমি সোভিয়েত ইউনিয়নের কাছ থেকে একটু সময় নিলাম। ”
এরপর বাংলাদেশের প্রতিষ্ঠাতা রাষ্ট্রপতি শেখ মুজিবুর রহমান যখন তার প্রথম বিদেশ সফরে মার্চ মাসে সোভিয়েত ইউনিয়নে যান, তখন আবার এই প্রসঙ্গটি ওঠে।
যে বৈষম্যের কারণে বাঙালিরা পাকিস্তান থেকে মুখ ফিরিয়ে নেয়
যেভাবে পরিকল্পনা করা হয়েছিল ‘অপারেশন সার্চলাইট’
অধ্যাপক নুরুল ইসলাম বলছিলেন, “বঙ্গবন্ধু যখন তার প্রথম সফরে সোভিয়েত ইউনিয়নে গেলেন, তখন আমি সাথে ছিলাম। তখন ওরা বললো, কি ব্যাপার, তোমরা এটা চাইছো না। তোমাদের তো পোর্ট চলছে না। আমি বঙ্গবন্ধুকে বললাম, কি করবো?
”তিনি বললেন, একটু সময় চান। নিউইয়র্কে (জাতিসংঘে) আবার ফোন করেন। ওরা (জাতিসংঘের কর্মকর্তারা) বললো, কোন মতে বন্দোবস্ত করতে পারছি না, টাকা-পয়সা নেই। তোমাদের অন্য ব্যবস্থা দেখতে হবে, না হলে আমাদের সময় দিতে হবে। সময় দিলে তো আমাদের পোর্ট চলবে না। তখন আমি বঙ্গবন্ধুর কথা মতো রাজি হলাম, তোমরা করো।”
এরপর দুই দেশের মধ্যে এ বিষয়ে চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। সেই মাসেই একটি প্রতিনিধি দল পাঠায় রাশিয়া।
”এরপর ভ্লাদিভস্তক থেকে ওরা বিরাট দল পাঠালো চট্টগ্রামে। কাজটা ওরা বেশ দ্রুতই শেষ করেছিল”, বলছিলেন অধ্যাপক নুরুল ইসলাম।
ওই অভিযানে ৫০ বছর পূর্তি উপলক্ষে একটি বিশেষ বার্তা দিয়েছে ঢাকায় রাশিয়ার দূতাবাস। সেখানে উল্লেখ করা হয়েছে, ১৯৭২ সালের ২১শে মার্চ সোভিয়েত নৌবাহিনীর একটি প্রতিনিধি দল বাংলাদেশে আসে।
ভাইস অ্যাডমিরাল সের্গেই যুয়েঙ্কোর নেতৃত্বে এক হাজার নাবিকের একটি বিশেষ টাস্কফোর্স মাইন অপসারণের কাজ শুরু করে। ওই অভিযানে অংশ নিয়েছিল ২৪টি জাহাজ।
মাইন এবং ডুবে থাকা জাহাজ অপসারণ করে পুরো কাজ শেষ করতে বিশেষ টাস্কফোর্সের সময় লেগেছিল ১৯৭৪ সালের জুন মাস পর্যন্ত।
এসব জাহাজের মধ্যে ছিল ভাসমান ওয়ার্কশপ, মাইন সুইপার, দ্রুতগামী নৌকা, সমুদ্রগামী টাগ, একটি ট্যাঙ্কার, একটি এএইচটিএস জাহাজ, একটি ক্রেনবাহী বার্জ, একটি হাইড্রোগ্রাফিক সাউন্ডিং সিস্টেম সম্বলিত জাহাজ, ক্রুদের বহনকারী জাহাজ, স্টর্ম বোট, মোবাইল ডাইভিং স্টেশন এবং একটি ভাসমান গুদাম৷
তৎকালীন সোভিয়েত বাহিনী বঙ্গোপসাগর থেকে মাইন অপসারণের কাজ শুরু করেছিল এপ্রিল মাসে। যদিও জুলাই মাসের মধ্যে জাহাজ চলাচলের একটি প্রণালি বের করে ফেলেছিল টাস্কফোর্স, কিন্তু মাইন এবং ডুবে থাকা জাহাজ অপসারণ করে পুরো কাজ শেষ করতে বিশেষ টাস্কফোর্সের সময় লেগেছিল ১৯৭৪ সালের জুন মাস পর্যন্ত।
ঢাকায় রুশ দূতাবাসের তথ্য অনুযায়ী, সেই সময় বঙ্গোপসাগরে ডুবে যাওয়া ২৬টি জাহাজ উদ্ধার করে এই টাস্কফোর্স। তার মধ্যে যুদ্ধের সময় ডুবে যাওয়া জাহাজ যেমন রয়েছে, তেমনি উনিশ শতকে ডুবে যাওয়া জাহাজও পাওয়া গেছে।
ওই অভিযানে কাজ করতে গিয়ে নিহত হয়েছেন ইউরি রেডকিন নামের রাশিয়ার একজন নাবিক। তাকে পতেঙ্গায় বাংলাদেশ ন্যাভাল অ্যাকাডেমিকে কবর দেয়া হয়, যে জায়গাটি রেডকিন পয়েন্ট নামে পরিচিত।
ভাইস অ্যাডমিরাল সের্গেই যুয়েঙ্কো এবং তার দলকে ২০১২ সালের ২৭ মার্চ ‘মুক্তিযুদ্ধে বিদেশি বন্ধু’ হিসাবে সম্মাননা দিয়েছে বাংলাদেশ সরকার। সূত্র: বিবিসি
কেউ জাল দলিল করলে ২ বছর এবং মালিকানার অতিরিক্ত জমি রেজিস্ট্রি করে নিলে ৫ বছর কারাদণ্ড ভোগ করতে হবে। কারও জমি জোরপূর্বক দখল করে নিলে জেল-জরিমানা হবে ৩ বছর। এভাবে ৩০টি ধারায় পৃথকভাবে বিভিন্ন মেয়াদে জেল-জরিমানার বিধান রেখে দেশে প্রথমবারের মতো ভূমি অপরাধ প্রতিরোধ আইন হচ্ছে। শাস্তি প্রদানের ক্ষেত্রে কারাদণ্ডের পাশাপাশি জরিমানার বিধান রাখা হয়েছে। ‘ভূমি অপরাধ প্রতিরোধ ও প্রতিকার আইন-২০২২’ শিরোনামে নতুন এ আইনের খসড়া ইতোমধ্যে চূড়ান্ত করেছে ভূমি মন্ত্রণালয়।
প্রস্তাবিত আইনের দ্বিতীয় অধ্যায়ের ৪ ও ৫ ধারায় বলা হয়েছে, ব্যক্তিগতভাবে লাভবান হওয়ার জন্য যদি কেউ সরকারি কিংবা বেসরকারি জমি জাল দলিলের মাধ্যমে নিজের নামে লিখে নেন তাহলে তাকে অনধিক ২ বছর এবং কমপক্ষে ৬ মাসের জেল বা ৫০ হাজার থেকে সর্বোচ্চ ২ লাখ টাকা জরিমানা করা হবে। অপরদিকে ৬(১) ধারা অনুযায়ী দাতার মালিকানা ও দখল না থাকা সত্ত্বেও কেউ অতিরিক্ত জমি লিখে নিলে ২ থেকে ৫ বছরের জেল এবং তিন থেকে দশ লাখ টাকা জরিমানার বিধান রাখা হয়েছে। এ ধরনের জালিয়াতি প্রতারণামূলক বেশ কিছু অপরাধকে করা হয়েছে জামিনঅযোগ্য।
যদি কোনো ব্যক্তি তার জমি পূর্বে বিক্রি বা হস্তান্তর করার তথ্য গোপন করে পুনরায় কোনো ব্যক্তির কাছে বিক্রি করেন তাহলে ৫ বছর কারাভোগের মুখোমুখি হতে হবে। একই শাস্তি হবে যদি কেউ একজনের সঙ্গে বায়না দলিল করার পর পুনরায় অন্য কারও সঙ্গে বায়না চুক্তি করেন। এছাড়া কেউ যদি কোনো ব্যক্তিকে ভুল বুঝিয়ে বা মিথ্যার আশ্রয় নিয়ে প্রতারণামূলকভাবে কোনো জমির দান দলিল সৃষ্টি করেন তাহলে ২ বছরের কারাদণ্ড হবে।
যদি কেউ উত্তরাধিকারীকে বঞ্চিত করে নিজের প্রাপ্যতার বাইরে বেশি জমি নিজের নামে দলিল করে নেয় তাহলে তাকেও অনধিক ২ বছরের কারাদণ্ড ভোগ করতে হবে। এছাড়া কেউ যদি বৈধ কাগজপত্র না থাকা সত্ত্বেও ব্যক্তি মালিকানাধীন বা সরকারি খাস জমিসহ সরকারি যে কোনো প্রতিষ্ঠান বা সংবিধিবদ্ধ সংস্থার মালিকানাধীন ভূমি জোরপূর্বক দখল করেন অথবা দখল অব্যাহত রাখেন তাহলে অনধিক ৩ বছরের কারাদণ্ড হবে।
কোনো ব্যক্তি বেআইনিভাবে সরকারি বা বেসরকারি ভূমি, নদীর পাড়, তলদেশ বা অন্য কোনো ভূমি ইত্যাদি হতে মাটি কাটেন বা কাটান, বালি উত্তোলন করেন বা করান, তাহলে প্রকৃত ক্ষতিসাধন হোক বা না হোক এই অপরাধের জন্য জড়িত ব্যক্তিকে অনধিক ২ বছরের জেল দেওয়া হবে। এছাড়া যদি কোনো ব্যক্তি বেআইনিভাবে মাটি ভরাট করে বা অন্য কোনোভাবে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি করেন বা করান তাহলে ২ বছরের কারাদণ্ড হবে। কেউ যদি ভূমির উপরের স্তর হতে মাটি কেটে নেন, বা কাউকে দিয়ে করান তাহলেও তাকে অনধিক ২ বছরের কারাভোগ করতে হবে। যদি কোনো ব্যক্তি কোনো এলাকায় ভূমি অধিগ্রহণ করার বিষয়টি জানতে পেরে দাম বাড়ানোর উদ্দেশ্যে অধিগ্রহণের পূর্বে নির্ধারিত মূল্যের অতিরিক্ত মূল্যে জমি রেজিস্ট্রি করেন তাহলে সেটি অপরাধ হিসাবে গণ্য হবে। এজন্য অভিযুক্ত ব্যক্তির অপরাধ প্রমাণিত হলে তাকে অনধিক ২ বছরের জেল দেওয়া হবে।
কোনো ব্যক্তি জনসাধারণের ব্যবহার্য বা পাবলিক ইজমেন্ট, খেলার মাঠ, জলাশয় প্রভৃতি দখল করলে বা ওয়াকফ এস্টেট, দেবোত্তর, কবরস্থান, মসজিদ, মন্দির, গির্জা, ঈদগাহ, প্যাগোডা, মাজার শরিফ, দরগা, শ্মশান প্রভৃতির জমি দখল করলে অনধিক ২ বছরের জেল হবে। এছাড়া চিকিৎসা, শিক্ষা, ক্রীড়া, বিনোদন প্রভৃতি দাতব্য উদ্দেশ্যে উৎসর্গীকৃত জমি বেআইনিভাবে দখল করেন বা দখল গ্রহণে সহায়তা করলেও একই শাস্তি হবে। মালিকানা না থাকা সত্ত্বেও পাহাড় বা টিলার পাদদেশে যে কোনো ধরনের স্থাপনা নির্মাণ করে বসতি স্থাপন করলে ৩ মাসের কারাদণ্ড হবে।
আইনের ২০ ধারায় বলা আছে, রিয়েল এস্টেট কর্তৃক জমি, ফ্ল্যাট হস্তান্তরের ক্ষেত্রে একটি জমি একাধিক ব্যক্তির বরাবর দলিল সম্পাদন করলে, চুক্তি মোতাবেক নির্দিষ্ট পরিমাণ অর্থ প্রাপ্তির পর ঘোষিত সময়ের মধ্যে জমির দখল হস্তান্তর করতে ব্যর্থ হলে, ফ্ল্যাট বিক্রির পর ঘোষিত সময়ের মধ্যে হস্তান্তর করতে না পারলে এবং ফ্ল্যাট হস্তান্তর করার পর ফ্ল্যাটের দলিল হস্তান্তর করতে ব্যর্থ হলে অনধিক ২ বছরের জেল দেওয়া হবে। কমপক্ষে ৬ মাসের জেল। এছাড়া জরিমানার বিধান রাখা হয়েছে ১০ থেকে ২০ লাখ টাকা। ক্ষেত্র বিশেষে উভয় দণ্ড হতে পারে। এছাড়া এ আইন বাস্তবায়নের সময় রিয়েল এস্টেট উন্নয়ন ও ব্যবস্থাপনা আইন-২০১০ এর সঙ্গে যাতে এই আইনের সাংঘর্ষিক অবস্থা তৈরি না হয় সেটি আইনে বিবেচনায় নেওয়া হয়েছে।
সরকারি-বেসরকারি জমি দখল করে সেখানে কেউ স্থাপনা গড়ে তুললে তাহলে জড়িত ব্যক্তিকে ২ বছরের কারাভোগ করতে হবে। সঙ্গে থাকছে জরিমানা। নদী, হাওড়, বিল ও অন্যান্য জলাভূমির শ্রেণি পরিবর্তন করলে শাস্তির বিধান রাখা হয়েছে। আইনের ২৩ ধারায় এ বিষয়ে বলা হয়েছে, যদি কোনো ব্যক্তি বেআইনিভাবে এসব স্থান থেকে মাটি, বালি বা আবর্জনা দ্বারা বা অন্য কোনো উপায়ে আংশিক বা পরিপূর্ণ ভরাট করে তাহলে তাকে শাস্তির মুখোমুখি হতে হবে। কেউ আংশিক ভরাট করলে অনধিক ১ বছর এবং পরিপূর্ণ ভরাট করলে অনধিক ২ বছর সাজা প্রদানের বিধান রাখা হয়েছে।
কেউ যদি একক বা দলগতভাবে অবৈধভাবে ভূমির দখল গ্রহণ করেন এবং দখল বজায় রাখতে অস্ত্র প্রদর্শন কিংবা ব্যবহার করেন তাহলে এ অপরাধের জন্য ৩ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হবে। এছাড়া এটি হবে জামিনঅযোগ্য অপরাধ।
এই আইনের অধীনে কেউ একই অপরাধ পুনরায় করলে তাকে নির্ধারিত ধারায় দ্বিগুণ শাস্তি দেওয়া যাবে। এখানেও বিচারের ক্ষেত্রে জামিন পাবেন না। এছাড়া ধারা ৬-এ বর্ণিত দলিল বা কাগজ যদি এক একর অপেক্ষা বেশি হয় বা বিষয়টিতে ল্যান্ড ডেভেলপার বা রিয়েল এস্টেট জড়িত থাকে, তাহলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির অনধিক সাজা হবে ৫ বছর। কমপক্ষে ২ বছর।
এদিকে আইনে সাক্ষীর সুরক্ষা নিশ্চিত করা হয়েছে। এছাড়া ৩৪ ধারায় বলা হয়েছে, ফৌজদারি কার্যবিধিতে যা কিছু থাকুক না কেন, এ আইনের অধীন কোনো প্রথম শ্রেণির ম্যাজিস্ট্রেট বা মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট বা মোবাইল কোর্ট পরিচালনাকারী এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট দোষী সাব্যস্ত ব্যক্তিকে সংশ্লিষ্ট অপরাধের জন্য এই আইনে অনুমোদিত যে কোনো অর্থদণ্ড আরোপ করতে পারবেন।
এই আইনের অধীন অপরাধের তদন্তভার পাওয়ার পর সংশ্লিষ্ট পুলিশ কর্মকর্তাকে দ্রুত তদন্ত শুরু করতে হবে। দায়িত্ব নেওয়ার ৩০ দিনের মধ্যে তদন্ত শেষ করতে হবে।
কুষ্টিয়ায় প্রাথমিক বিদ্যালয়ের একজন সহকারী শিক্ষিকার শত কোটি টাকার সম্পদের উৎসের সন্ধানে নেমে হাজার কোটি টাকার অবৈধ সম্পদের সন্ধান পেয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। এতে দুদকের সম্প্রসারিত তদন্তের জালে আটকে গেছেন ওই স্কুল শিক্ষিকার স্বামী কুষ্টিয়া সদর উপজেলার চেয়ারম্যান আতাউর রহমান আতা।
দুদক সদর দপ্তর থেকে পাঠানো নির্দেশনায় এখন আর কেবলমাত্র ৪ নং পৌর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষিকা শাম্মী আরা পারভীনের জ্ঞাত আয়বহির্ভুত সম্পদই নয়, সেইসাথে সমন্বিত তদন্ত প্রক্রিয়ায় তার স্বামীর অবৈধ সম্পদের হদিস উদঘাটনে নেমেছে দুদক।
সেই লক্ষ্যে সমন্বিত দুর্নীতি দমন কমিশন কুষ্টিয়া কার্যালয়ের উপ-পরিচালক জাকারিয়া স্বাক্ষরিত একটি ইনকোয়ারি পত্র সরকারের সবগুলো দপ্তরে পাঠিয়ে ১৩ এপ্রিলের মধ্যে সকল তথ্য দিতে অনুরোধ করেছিলেন।
দুদক কুষ্টিয়া কার্যালয়ের সূত্রে নিশ্চিত করেছে, সবগুলো তথ্যই নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সরকারি ওইসব দপ্তরগুলো থেকে পাঠানো হয়েছে। এখন সেগুলো যাচাই-বাছাই শেষে সঠিক তথ্যের মানদণ্ড ধরে মামলা চূড়ান্ত করার প্রক্রিয়া সম্পন্ন হবে বলে দুদকের ওই সূত্র নিশ্চিত করেছে।
তবে অভিযোগ নাকচ করেছেন ওই শিক্ষিকা শাম্মী আরা পারভীন এবং তার স্বামী আতাউর রহমান আতা। তারা বলছেন, একটি প্রতিপক্ষ রাজনৈতিক গ্রুপ হীন স্বার্থ চরিতার্থ করতেই পরিকল্পিতভাবে এসব অভিযোগ দাঁড় করিয়েছে। জ্ঞাত আয়বহির্ভুত বা অপ্রদর্শিত কোন সম্পদ তার নেই। দুদক মামলা করলে তারা তা মোকাবিলা করবেন বলে জানান।
দুদক সূত্রে জানা যায়, গত বছরের মধ্যবর্তী সময়ে ঢাকাস্থ দুদক সদর দপ্তরে প্রাপ্ত একটি অভিযোগের ভিত্তিতে দুদক জানতে পারে, কুষ্টিয়া শহরের একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষিকা মিসেস শাম্মী আরা পারভীনের বিভিন্ন ব্যাংকে চলমান নানা ধরনের সঞ্চয়ী স্কীম হিসাবে প্রায় অর্ধশত কোটি নগদ টাকা ছাড়াও উচ্চমূল্যের জায়গা-জমি, ভবন, মার্কেটসহ স্থাবর অস্থাবর সকল সম্পত্তির একত্রে আনুমানিক মূল্যমান শতকোটি টাকা ছাড়িয়ে গেছে। একজন স্কুল শিক্ষিকার ব্যাংক হিসাবে একসঙ্গে জমাকৃত এতো টাকার উৎসের সন্ধান শুরু করে দুদক। এ সময় শাম্মী আরা পারভিনের অধিকাংশ ব্যাংক হিসাবের ট্রানজেকশনের সূত্র সন্ধানে কুষ্টিয়া সদর উপজেলার চেয়ারম্যান আতাউর রহমান আতার নাম উঠে আসে। সঙ্গত কারণেই এটি হয়ে ওঠে দুদক তদন্তের টার্নিং পয়েন্ট। যে কারণে গত বছরের মধ্যবর্তী সময়ে শুধুমাত্র শাম্মী আরা পারভিনের মামলাটি ছাড়াও মুখ্য হয়ে ওঠে তার স্বামী আতাউর রহমান আতার সম্পদের অনুসন্ধান। তাই ট্যাগিং সিস্টেমে স্বামী স্ত্রী দুজনের মামলা একত্রেই প্রক্রিয়াধীণ।
কুষ্টিয়া সদর উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা শহিদুর রহমান জানান, ২০১৯ সালের এপ্রিলে বিনা প্রতিদ্বন্দিতায় নির্বাচিত কুষ্টিয়া সদর উপজেলার চেয়ারম্যান আতাউর রহমান আতা তার প্রার্থীতাপত্রের সাথে সংযুক্ত অঙ্গীকারনামায় স্ত্রী ও নিজ নামীয়/স্বত্ত্বাধীন স্থাবর অস্থাবর-সম্পত্তির বিবরণে যথাক্রমে ১৫ লক্ষ ও ৪ লক্ষ ৮৮ হাজার টাকার ব্যাংক হিসাব এবং সম্পদের উল্লেখসহ সরকারি কোনো লাভজনক উন্নয়ন প্রকল্পের ঠিকাদার নন বলে অঙ্গীকার করেন।
দুদকের নোটিশ সূত্রে আরও জানা যায়, চেয়ারম্যান আতাউর রহমান আতা ও তার স্ত্রী শাম্মি আরা পারভীনকে চলতি মাসের ১৩ তারিখের মধ্যে দুদকের নির্দিষ্ট ছকে সব সম্পত্তি হিসেব দাখিল করতে বলা হয়েছিল।
সমন্বিত জেলা দুর্নীতি দমন কমিশন দুদক কুষ্টিয়া জেলা কার্যালয়ের উপ-পরিচালক মো. জাকারিয়া জানান, আতাউর রহমান আতার বিরুদ্ধে নানা অভিযোগ রয়েছে। চাঁদাবাজি, টেন্ডারবাজি, সরকারি রাজস্ব ফাঁকি দিয়ে বালুমহাল ব্যবসা, হাট-বাজার ইজারা, নিয়োগ বাণিজ্যসহ নানা খাত থেকে অর্জিত অবৈধ সম্পদের হিসাবে এক হাজার কোটি টাকার দুর্নীতির অভিযোগ আনা হয়েছে তার বিরুদ্ধে। একইভাবে একজন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষিকা শাম্মী আরা পারভীন তার স্বামীর রাজনৈতিক প্রভাবকে কাজে লাগিয়ে অবৈধ পন্থায় অর্জিত শত কোটির টাকার সম্পদ রয়েছে বলে অভিযোগ আছে। এসব অভিযোগের সত্যতা যাচায়ে তথ্য জানাতে বিভিন্ন সরকারি দপ্তরে গত ৩০ মার্চ পত্র পাঠানো হয়েছ।
ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন কুষ্টিয়া জেলা পরিষদের প্রধান নির্বাহী মুন্সি মো. মনিরুজ্জামান, স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী জাহিদুর রহমান মন্ডল, সড়ক ও জনপথ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী শাকিরুল ইসলাম, গণপূর্ত বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী জাহিদুল ইসলাম, শিক্ষা প্রকৌশল বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. ইসতিয়াক ইকবাল হিমেলসহ দুদকের পত্রপ্রাপ্ত দপ্তরগুলো।
এসব দপ্তর সূত্রে জানা যায়, দুদক প্রেরিত ওই পত্রে কেবলমাত্র মেসার্স আতাউর রহমান নামক ফার্মের স্বত্ত্বাধিকার আতাউর রহমানের সব তথ্য পাওয়া সম্ভব নয়। কারণ আতাউর রহমান আতা নিজ নামীয় ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ছাড়াও অন্তত আরও অর্ধডজন অন্যান্য নামের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের নামে উন্নয়ন প্রকল্পের কার্যাদেশপ্রাপ্ত হন।
কুষ্টিয়া জেলা প্রশাসনের রাজস্ব বিভাগের একটি বিশ্বস্ত সূত্রে জানা যায়, ২০১৯-২০২০ অর্থবছর পর্যন্ত সময়কালে এক ভুয়া মামলাবাজের খপ্পরে আটকে কেবলমাত্র জেলার ২১টি বালুমহাল থেকে সরকারের রাজস্ব ফাঁকি দিয়ে আয় করেছেন প্রায় সাড়ে ৬শ’ কোটি টাকা। যা বিভিন্ন গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশিত হয়।
স্থানীয় আওয়ামী লীগসহ বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে, ভেড়ামাড়া উপজেলার ষোল দাগ গ্রামের বাড়ি থেকে ২০১২ সালে কুষ্টিয়া শহরের মজমপুরের একটি ভাড়া বাড়িতে ওঠেন আতাউর রহমান। এরপর পৌর আওয়ামী লীগের লীগের সাধারণ সম্পাদক মোমিনুর রহমান মোমিজ এক ঘটনায় দল থেকে বহিষ্কার হলে আতাউর রহমান ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক হন। পরে কাউন্সিলের মাধ্যমে ভারমুক্ত হন তিনি। সর্বশেষ ২০১৯ সালে উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে দলীয় মনোনয়নপ্রাপ্ত হন এবং বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় চেয়ারম্যান হন। এরপর আর তাকে পেছন ফিরে তাকাতে হয়নি।
অভিযোগ আছে, মাধ্যমিক উত্তীর্ণ এই নেতা ম্যানেজিং কমিটিতে ননা জটিলতা সৃষ্টি করে স্কুল, কলেজ ও মাদ্রাসাসহ সকল শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিয়োগ ছাড়াও সরকারি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে নিয়োগ বাণিজ্য করে শতকোটি টাকা হাতিয়েছেন। এছাড়া কুষ্টিয়া মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল নির্মাণে পুকুরচুরি জেলাজুড়ে আলোচিত বিষয়। সূত্র: বিডিজা
ব্যক্তি এবং পরিবার পর্যায়ে কেউ আর ৬০ বিঘার বেশি কৃষিজমির মালিকানা রাখতে পারবেন না। ক্রয়সূত্রে কারও মালিকানায় এর চেয়ে বেশি জমি থাকলে তা সরকারের কাছে সমর্পণ করতে হবে। তবে উত্তরাধিকারসূত্রে প্রাপ্ত হলে ৬০ বিঘার অতিরিক্ত কৃষিজমি সংশ্লিষ্ট মৌজামূল্যে উপযুক্ত ক্ষতিপূরণ দিয়ে সরকারের অনুকূলে খাস করে নেওয়া হবে।
এখানে পরিবার বলতে পরিবারে যার ওপর নির্ভরশীল ব্যক্তিরা থাকেন, তাদের সবাইকে নিয়ে পরিবার বা এক ইউনিট বোঝাবে। অর্থাৎ পিতা পরিবারের প্রধান হলে তার ওপর নির্ভরশীল স্ত্রী, সন্তান, বাবা-মা ও ভাই-বোন থাকলেও তাদের সবাইকে নিয়ে একটি একক ইউনিট গণ্য করা হবে। তাদের প্রত্যেকের নামে থাকা কৃষিজমির যোগফল যদি ৬০ বিঘার বেশি হয়, তাহলে এই আইনের বিধিনিষেধের আওতায় পড়বে। তবে শিল্প-কলকারখানা স্থাপনের জন্য শর্তসাপেক্ষে এই ধারা শিথিল করার বিধান রাখা হয়েছে।
ভূমি মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, শিগগিরই এ বিষয়ে সরকার আইন প্রণয়ন করতে যাচ্ছে। মন্ত্রণালয় থেকে প্রস্তুত করা এ সংক্রান্ত ‘ভূমি সংস্কার আইন-২০২২’ নীতিগত অনুমোদনের জন্য শিগগিরই মন্ত্রিসভায় উত্থাপিত হবে। পরবর্তী সব প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে আইনটি কার্যকর হওয়ার দিন থেকে কৃষিজমির মালিকানার বিষয়টি কঠোরভাবে মনিটরিং করবে সরকার। এর আগে এ সংক্রান্ত বিধিমালায় খুঁটিনাটি সব বিষয় আরও বিশদভাবে স্পষ্টীকরণ করা হবে।
প্রস্তাবিত আইনের প্রধান লক্ষ্য কৃষিজমির সুরক্ষা করে ভূমির যথাযথ ব্যবহার নিশ্চিত করা। তবে এ আইনে আবাসন ব্যবসায়ীদের জমিকে সংযুক্ত করা হয়নি। মূলত ভূমি সংস্কার অধ্যাদেশ-১৯৮৪ হালনাগাদ করে নতুন আইনটি বিশদভাবে যুগোপযোগী করে প্রণয়ন করা হচ্ছে। এ সংক্রান্ত অন্য আইনে যা কিছু থাকুক না কেন, এ আইনটি প্রাধান্য পাবে।
আইনের দ্বিতীয় অধ্যায়ে কৃষিজমি অর্জন সীমিতকরণ বিষয়ে বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছে। আইনের ৪(১) ধারায় বলা হয়েছে, যিনি বা যার পরিবার ৬০ প্রমিত বিঘা (৩৩ শতকে এক বিঘাকে প্রমিত বিঘা বোঝায়) অপেক্ষা অধিক কৃষিজমির মালিক, তিনি নতুন করে হস্তান্তর, উত্তরাধিকার, দান বা অন্য যে কোনো উপায়ে নতুন কোনো কৃষিজমি অর্জন করতে পারবেন না। তবে কোনো সংস্থা জনকল্যাণের উদ্দেশ্যে সরকারের অনুমোদন সাপেক্ষে এর ঊর্ধ্বসীমা অতিক্রম করতে পারবে।
ধারা ২-এ এই বিধিনিষেধ আবার ৭টি ক্ষেত্রে শিথিল করা হয়েছে।
এর মধ্যে-
ক. যদি কোনো সমবায় সমিতির সব সদস্য তাদের জমির মালিকানা সমিতির অনুকূলে হস্তান্তর করে নিজেরা চাষাবাদ করেন।
খ. চা, কফি, রাবার বা অন্য ফলের বাগানের জন্য ব্যবহৃত জমি।
গ. কোনো শিল্পপ্রতিষ্ঠান তার নিজস্ব কারখানায় ব্যবহৃত কাঁচামাল উৎপাদনের জন্য জমি ব্যবহার করলে।
ঘ. অন্য কোনো কাজের জন্য জনস্বার্থে সরকার প্রয়োজন মনে করলে।
ঙ. কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান ১০০% রপ্তানিমুখী কৃষিপণ্য অথবা কৃষিজাত পণ্য প্রক্রিয়াকরণ শিল্পের জন্য অথবা ১০০% রপ্তানিমুখী বিশেষায়িত শিল্পের জন্য সরকারের পূর্বানুমোদনক্রমে ৬০ প্রমিত বিঘার ঊর্ধ্বে নির্ধারিত পরিমাণ জমির মালিকানা অর্জন করা যাবে।
চ. শিল্পকারখানা স্থাপনের উদ্দেশ্যে কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান সরকারপ্রধানের অনুমোদন সাপেক্ষে ৬০ বিঘার অতিরিক্ত জমি অর্জন করতে পারবে।
ছ. ওয়াকফ, দেবোত্তর বা ধর্মীয় ট্রাস্টের ক্ষেত্রে এর মালিকানাধীন জমির সম্পূর্ণ আয় ধর্মীয় বা দাতব্য কাজে ব্যয় হলে এইরূপ জমির ক্ষেত্রে এই ঊর্ধ্বসীমার বিধান প্রযোজ্য হবে না।
ধর্মীয় ও দাতব্য প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে যদি জমির আয় আংশিক ধর্মীয়/দাতব্য কাজে এবং আংশিক কোনো ব্যক্তির স্বার্থে ব্যয় হয়ে থাকে, তবে জমির যে অংশের আয় কেবল ধর্মীয় বা দাতব্য কাজে ব্যয় হয়, সেই পরিমাণ জমির জন্য এই ঊর্ধ্বসীমা প্রযোজ্য হবে না।
আইনের ৪(৩) ধারায় বলা আছে, যিনি বা যার পরিবার ৬০ বিঘা অপেক্ষা কম কৃষিজমির মালিক, তিনি যে কোনো উপায়ে নতুন কৃষিজমি অর্জন করতে পারবেন। কিন্তু উক্তরূপ নতুন জমি তার মালিকানায় থাকা কৃষিজমিসহ একত্রে ৬০ বিঘার অধিক হবে না।
এছাড়া ৪(৪) ধারায় বলা হয়েছে, ক্রয়সূত্রে যদি কোনো জমির মালিক এই ধারার বিধানাবলি লঙ্ঘন করে কোনো নতুন কৃষিজমি অর্জন করেন, তাহলে যে পরিমাণ জমি ৬০ প্রমিত বিঘার বেশি হবে, তা সরকারের অনুকূলে সমর্পিত হবে। এই সমর্পিত জমির জন্য সরকারের কাছ থেকে কোনো প্রকার ক্ষতিপূরণ পাওয়া কিংবা আদায় করা যাবে না। তবে সেটি যদি উত্তরাধিকার, দান বা উইলের মাধ্যমে প্রাপ্ত হয়, তাহলে এই বিধান প্রযোজ্য হবে না।
৪(৫) ধারায় বলা আছে, উত্তরাধিকার সূত্রে প্রাপ্ত জমি ৬০ প্রমিত বিঘার বেশি হলে জমির মালিক তার পছন্দমতো ৬০ বিঘা জমি নিজের অনুকূলে রাখতে পারবেন। অবশিষ্ট জমি উপযুক্ত কর্তৃপক্ষ কর্তৃক নির্ধারিত মৌজামূল্যে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ কর্তৃক নির্ধারিত ক্ষতিপূরণ দিয়ে সরকার খাস করতে পারবে। অর্থাৎ সংশ্লিষ্ট জেলার ডিসি সরকারের পক্ষে এই উদ্যোগ গ্রহণ করবেন।