কান চলচ্চিত্র উৎসবে জেলেনস্কির ভাষণ।। ইতিহাসের কি বলে….!

//আন্তর্জাতিক নিউজ ডেস্ক//

ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি এবার ৭৫তম কান চলচ্চিত্র উৎসবের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে ভাষণ দিয়েছেন। বিশ্ব চলচ্চিত্রের সবচেয়ে বড় এ উৎসবে তিনি স্যাটেলাইটের মাধ্যমে যুক্ত হন।

মঙ্গলবার বাংলাদেশ সময় রাত সোয়া ১১টায় এবারের আসরের পর্দা উঠেছে। প্রতিবারের মতো এবারও ফ্রান্সের কান শহরে বসেছে এ জমকালো আয়োজন।

মঞ্চে বড়পর্দায় ভিডিওতে জেলেনস্কি হাজির হলে উপস্থিত সবাই তাকে দাঁড়িয়ে সম্মান জানান। ইউক্রেনের সাবেক এ অভিনেতা নিজের ভাষণে রুশ আগ্রাসনের বিরুদ্ধে লড়াইয়ের জন্য বিশ্বজুড়ে সবার সমর্থনের আবেদন জানিয়েছেন।

এ ছাড়া চলচ্চিত্রে যুদ্ধ ও স্বৈরশাসকদের তুলে ধরতে ‘দ্য গ্রেট ডিক্টেটর’ ও ‘অ্যাপোক্যালিপস নাউ’র মতো ছবির উদাহরণ তুলে ধরেছেন জেলেনস্কি।

তিনি বলেন, গণকবরে ভরে গেছে ইউক্রেন। আমার দেশে প্রতিদিন মানুষের মৃত্যু হচ্ছে। আমাদের সাজানো রঙিন দেশ ক্ষত-বিক্ষত-রক্তাক্ত অথচ বিশ্ব সিনেমা নিশ্চুপ। এ রকম তো হওয়ার কথা ছিল না। বিশ্ব সিনেমা কি এভাবেই নিশ্চুপ থাকবে, তারা কি ইউক্রেনের পাশে দাঁড়াবে না, বলবে না বন্ধ হোক যুদ্ধ।

জেলেনেস্কি এ সময় উদাহরণ টানেন চার্লি চ্যাপলিনের। যিনি ১৯৪০ সালে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের বিরুদ্ধে হিটলারের আগ্রাসী নীতির বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়িয়েছিলেন। নিজে হিটলার সেজে অভিনয় করেন দ্য গ্রেট ডিক্টেটর সিনেমায়। চ্যাপলিন যখন হিটলার সাজেন, তখন বিশ্বকে যুদ্ধ থামানোর কথা বলেন, চ্যাপলিন যখন হিটলার রূপে তখন হত্যার বিরুদ্ধে কথা বলেন। সেদিন সিনেমা হয়ে ওঠে প্রতিবাদের তীব্র রূপ।

ইউক্রেনের এ নেতা শুরুতে ছিলেন রুপালি পর্দার নায়ক। অভিনেতা হিসেবে বেশ কিছু ছবি এবং টিভি সিরিজে কাজ করেছেন তিনি। মাত্র ১৭ বছর বয়সে কমেডিয়ান হিসেবে অভিনয় শুরু করেন জেলেনস্কি। রাশিয়ান ও ইউক্রেনীয় ভাষার একাধিক টিভি শোতে অংশগ্রহণ করেন তিনি।

২০০৮ সালে তিনি ‘লাভ ইন দ্য বিগ সিটি’ ফিচার ফিল্মে কাজ করার সুযোগ পান। এর পর তিনি এ ছবির সিক্যুয়েল ‘লাভ ইন দ্য বিগ সিটি ২’ তেও কাজ করেন। ছবিটির তৃতীয় অংশ এসেছিল ২০১৪ সালে।

২০১২ সালে, তার চলচ্চিত্র হেভস্কি ভার্সেস নেপোলিয়ন মুক্তি পায়। একই বছরে তার হিট ছবি ৮ ফার্স্ট ডেটসও আসে। এই ছবির সিক্যুয়েল ২০১৫ এবং ২০১৬ সালে মুক্তি পায়। ২০১০ থেকে ২০১২ সাল পর্যন্ত ভলোদিমির জেলেনস্কি বোর্ডের সদস্য এবং টিভি চ্যানেল ইন্টারের সাধারণ প্রযোজক ছিলেন। ২০১৪ সালে তিনি ইউক্রেনের সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের রাশিয়ান শিল্পীদের নিষেধাজ্ঞার বিরুদ্ধে আওয়াজ তুলেছিলেন।

২০১৫ সালে রাশিয়ান শিল্পীদের ইউক্রেনে প্রবেশ নিষিদ্ধ করেছিল। এমন পরিস্থিতিতে ২০১৮ সালে জেলেনস্কির রোমান্টিক কমেডি ছবি লাভ ইন দ্যা বিগ সিটি ২ ইউক্রেনে নিষিদ্ধ করা হয়। ২০১৫ সালে, ভলোদিমির জেলেনস্কি সার্ভেন্ট অব দ্য পিপল নামে একটি শোতে কাজ করেছিলেন। মজার বিষয় হলো— এই শোতে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্টের ভূমিকায় অভিনয় করেছেন ভলোদিমির। সূত্র: দ্য নিউইয়র্ক টাইমস।

English Dainikbiswa

ভয়াবহ অগ্নিকান্ডে পুড়ে ছাই বরগুনা পৌর সুপার মার্কেটের ১৭০ দোকান

স্কুলশিক্ষিকা মা ছেলেকে দেন ৮০ কোটি টাকা/ আয়কর ফাঁকি ২৪ লাখ টাকা

//দৈনিক বিশ্ব ডেস্ক//

এ যেন রূপকথার গল্পকেও হার মানায়। প্রত্যন্ত অঞ্চলের এক স্কুলশিক্ষিকা তার ছেলেকে ৮০ কোটি টাকা দান করেছেন। এত টাকা কোত্থেকে পেয়েছেন, আয়কর ফাইলে এর হদিস নেই। এ দানশীল মা হচ্ছেন লীলাবতী হালদার। আর সেই সৌভাগ্যবান ছেলে হচ্ছেন ঋণ কেলেঙ্কারির মহানায়ক পিকে (প্রশান্ত কুমার) হালদার।

ঋণ কেলেঙ্কারি ও অর্থ পাচারের দায়ে অভিযুক্ত পিকে হালদার কর ফাঁকিতেও সিদ্ধহস্ত ছিলেন। জালিয়াতির মাধ্যমে উপার্জিত অর্থ বৈধ করতে নিজের মা লীলাবতী হালদারকে ‘ঘুঁটি’ হিসাবে ব্যবহার করেছেন।

কর কর্মকর্তাদের সহায়তায় প্রথমে মায়ের নামে জাল আয়কর ফাইল খোলেন এবং সেখানে বিপুল অঙ্কের নগদ অর্থ দেখানো হয়। পরে মায়ের ফাইল থেকে নিজের আয়কর ফাইলে ‘দান’ দেখানোর মাধ্যমে অর্থ স্থানান্তর করা হয়। কিন্তু এতেও শেষরক্ষা হয়নি।

সম্পদ ও বিনিয়োগের তথ্য গোপন করে প্রায় ২৪ লাখ টাকা আয়কর ফাঁকি দেওয়ায় তার বিরুদ্ধে মামলা চলমান আছে। প্রাপ্ত তথ্য বলছে, ২০১৫ সালেই আয়কর গোয়েন্দাদের কাছে পিকে হালদারের জালিয়াতি ধরা পড়ে। ওই বছরের আগস্টে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সেলের (সিআইসি) কর্মকর্তারা গোপন সংবাদের ভিত্তিতে কর অঞ্চল-৫-এর সার্কেল-১০৩-এ অভিযান চালান। তখন পুরো আয়কর প্রশাসনে এ অভিযান আলোড়ন সৃষ্টি করে।

ওই অভিযানে করদাতাদের সম্পদবিবরণীতে প্রকৃত সম্পদের চেয়ে কমবেশি ও প্রকৃত আয় না দেখিয়ে কর ফাঁকিতে সহায়তা করার অভিযোগে এক সহকারী কর কমিশনারকে বরখাস্ত করা হয়। একই সঙ্গে তার অধীনে থাকা শতাধিক করদাতার কর নথি পর্যালোচনার জন্য সিআইসিতে আনা হয়। ওই কর্মকর্তার অধীনে থাকা সব কর নথিতেই করদাতাদের সম্পদ ও আয়ের গরমিল পাওয়া যায়। ওই সার্কেলে রিটার্ন দেওয়া ফাইলগুলোর মধ্যে একটি ছিল পিকে হালদারের মা লীলাবতী হালদারের।

অভিযানে অংশ নেওয়া এক কর্মকর্তা জানান, অশীতিপর এক বৃদ্ধার আয়কর ফাইলে বিপুল পরিমাণ নগদ অর্থ দেখানোয় পুরো বিষয়টি সন্দেহজনক মনে হয়। বিস্তারিত তদন্ত শুরু করলে পিকে হালদারের নাম বেরিয়ে আসে। কিন্তু অজ্ঞাত কারণে সেই তদন্ত বেশিদূর এগোয়নি। তখন থেকেই পিকে হালদারের ওপর নজর রাখছিলেন সিআইসির গোয়েন্দারা। এরপর একের পর এক আর্থিক কেলেঙ্কারিতে পিকে হালদারের সংশ্লিষ্টতা প্রমাণিত হলে তার কর ফাঁকির তদন্তে নামেন আয়কর গোয়েন্দারা।

একাধিক কর্মকর্তার সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার অংশ হিসাবে পিকে হালদার তার মায়ের নামে আয়কর ফাইল খুলেন। সেখানেও জালিয়াতির আশ্রয় নেওয়া হয়। শুরুর দিকে যে টিআইএন-এর বিপরীতে লীলাবতী রিটার্ন জমা দিয়েছেন, সেটি জালিয়াতির মাধ্যমে বানানো। ওই সংখ্যার টিআইএন তখনকার ডেটাবেজে পাওয়া যায়নি। অথচ সেই টিআইএন-এর বিপরীতে ১৯৮৯-৯০ করবর্ষে ৮০ কোটি টাকার বেশি নগদ অর্থ লীলাবতীর ফাইলে দেখানো হয়।

পরবর্তী সময়ে এই অর্থই ২০১৩-১৪ করবর্ষে পিকে হালদারের ফাইলে স্থানান্তর করা হয়। সেই অর্থ দিয়ে পিকে হালদার শেয়ারবাজারে বিনিয়োগ ও জমিজমা ক্রয়ের মাধ্যমে সম্পদ অর্জন করেছেন বলে নিজ আয়কর ফাইলে প্রদর্শন করেন। ২০১৩ সালের অক্টোবরে ১২ সংখ্যার নতুন টিআইএন নেন লীলাবতী। পরবর্তী সময়ে সিআইসি লীলাবতীর বিরুদ্ধে ২৩ কোটি টাকা কর ফাঁকি উদ্ঘাটন করে। দায় স্বীকার করে ফাঁকি দেওয়া আয়কর পরিশোধও করেন তিনি।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, পিরোজপুরের নাজিরপুর উপজেলার মাটিভাঙ্গা ইউনিয়নের দীঘিরজান গ্রামের পিকে হালদারের পৈতৃক বাড়ি আছে। তার বাবা প্রণবেন্দু হালদার পেশায় ছিলেন দীঘিরজান বাজারের একজন দরজি। মা লীলাবতী হালদার ছিলেন স্কুলশিক্ষিকা। দীঘিরজান মাধ্যমিক বিদ্যালয় থেকে এসএসসি ও বাগেরহাটের সরকারি পিসি কলেজ থেকে এইচএসসি পাশ করেন পিকে হালদার। এরপর বুয়েট থেকে মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে পড়াশোনা শেষে চাকরিজীবন শুরু করেন। এখন পিকে হালদারের পৈতৃক ভিটায় শুধু ভাঙা ঘর আছে। সেখানে তারই চাচাতো ভাই থাকেন। অর্থ পাচারের কেলেঙ্কারি ফাঁস হওয়ার পর তার মা আরেক ছেলে প্রীতিশ হালদারের বাড়ি ভারতের অশোকনগরে চলে যান। তার আরেক ভাই প্রাণেশ হালদার কানাডায় থাকেন বলে জানা যায়।

গত ফেব্রুয়ারিতে পিকে হালদারের কর ফাঁকির বিস্তারিত তথ্য তুলে ধরে সিআইসি থেকে কর অঞ্চল-১৩তে প্রতিবেদন পাঠানো হয়। ওই প্রতিবেদনে বলা হয়, পিকে হালদার কর ফাঁকি দিতে সুদ আয় ও প্রকৃত সম্পদের তথ্য গোপন করেছেন। এভাবে প্রায় ২৪ লাখ টাকা আয়কর ফাঁকি দিয়েছেন তিনি। তাছাড়া দুদক পিকে হালদারের যে সম্পদের বিবরণী গণমাধ্যমে বিজ্ঞপ্তি আকারে প্রকাশ করেছে, রিটার্নে সেসব সম্পদের পূর্ণাঙ্গ তথ্য পাওয়া যায়নি। অর্থাৎ রিটার্নে সম্পদের তথ্য গোপন করেছেন তিনি। প্রতিবেদনে কর আদায়ে বেশকিছু সুপারিশ করা হয়েছে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হচ্ছে-দুদকের অনুসন্ধানে প্রাপ্ত সম্পদ অনুযায়ী কর নির্ধারণ করা। পাশাপাশি ব্যাংক হিসাব জব্দের মাধ্যমে ফাঁকি দেওয়া কর আদায় এবং ভুল তথ্য দেওয়ায় আয়কর আইনে পিকে হালদারের বিরুদ্ধে মামলা করতে বলা হয়েছে।

ওই প্রতিবেদনে ফাঁকি দেওয়া কর আদায়ে ১৪৩ ও ১৬৫ ধারা অনুযায়ী ব্যবস্থা নিতে সিআইসির পক্ষ থেকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। আয়কর অধ্যাদেশের ১৪৩ ধারায় বলা হয়েছে, করদাতার অর্থ বা পণ্য বা সম্পদ জমা রয়েছে-এমন ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানকে কর আদায়ে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা নোটিশ দিতে পারবেন।

সাধারণত এ ধরনের নোটিশ যে ব্যাংকে করদাতার অ্যাকাউন্ট রয়েছে, সেই ব্যাংকে পাঠানো হয়। নোটিশে ফাঁকি দেওয়া করের সমান অর্থ ব্যাংকে গচ্ছিত থাকলে অথবা পাওনার সমপরিমাণ অর্থ ব্যাংকে জমা হওয়ামাত্র অথবা খেলাপকারীর অর্থ বৈধভাবে ব্যাংকের অধিকারে আসামাত্র তা এনবিআর-এর কোষাগারে জমা করার নির্দেশ দেওয়া হয়। এছাড়া ১৬৫ ধারা অনুযায়ী, ইচ্ছাকৃতভাবে রিটার্নে অসত্য তথ্য দিলে অথবা হিসাব, বিবৃতি, সার্টিফিকেট বা মিথ্যা ঘোষণা দিলে সর্বনিম্ন তিন মাস থেকে সর্বোচ্চ তিন বছরের কারাদণ্ড বা অর্থদণ্ড বা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত করার বিধান রয়েছে। এক্ষেত্রে সাধারণত কর কর্মকর্তারা অর্থদণ্ড দিয়ে থাকেন।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে কর অঞ্চল-১৩-এর সহকারী কর কমিশনার মুহাম্মদ জাহিদুল হাসান বিশ্বাস যুগান্তরকে বলেন, সিআইসি প্রতিবেদন পেয়েছি। সে অনুযায়ী পরবর্তী কার্যক্রম চলমান আছে।

English Dainikbiswa

প্রশাসনের কর্মচারীরা পাহাড় কাটছে কক্সবাজারে

ন্যাটো রাশিয়ার সীমান্তে বড় আকারের মহড়া শুরু করেছে

//আন্তর্জাতিক নিউজ ডেস্ক//

রাশিয়ান সীমান্ত থেকে মাত্র ৬০ কিলোমিটার দূরে এস্তোনিয়ায় বড় মাত্রার সামরিক মহড়া শুরু করেছে সামরিক জোট ন্যাটো। বাল্টিক দেশগুলোর ইতিহাসে এটি অন্যমত বৃহত্তম মহড়া।

সোমবার ‘হেজহগ ২০২০’ নামের এই মহড়া শুরু হয়। রাশিয়ান সংবাদমাধ্যম আরটি এই খবর প্রকাশ করেছে।

এ মহড়ায় ন্যাটোর সদস্য এবং সহযোগীসহ মোট ১৪টি দেশের অন্তত ১৫ হাজার সেনা অংশ নেবেন বলে জানানো হয়েছে।

ফিনল্যান্ডের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন ইলের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এ মহড়ায় অংশ নেওয়া সেনাদের মধ্যে ফিনল্যান্ড, সুইডেন, জর্জিয়া এবং ইউক্রেনের সেনা রয়েছেন। সামরিক বাহিনীর সব শাখা এ মহড়ায় অন্তর্ভুক্ত করা হবে। আকাশ, পানি ও স্থলপথে মহড়ায় অংশ নেবেন সেনারা। এ ছাড়া সাইবার যুদ্ধের বিষয়েও প্রশিক্ষণ নেবেন মহড়ায় অংশ নেওয়া সেনারা।

ন্যাটো এক বিবৃতিতে জানায়, এ মহড়ায় মার্কিন নৌবাহিনীর ওয়াস্প-ক্লাস ল্যান্ডিং শিপ ‘কিয়ারসার্জ’-কেও অংশ নিতে দেখা যাবে। তবে রাশিয়ান সীমান্তের ৬০ কিলোমিটার দূরে শুরু হওয়া এ মহড়ার সঙ্গে ইউক্রেনে চালানো মস্কোর সামরিক অভিযানের কোনো সম্পর্ক নেই বলে দাবি করেছে ন্যাটো এবং এস্তোনিয়ার প্রতিরক্ষা বাহিনীর মেজর জেনারেল ভেইকো-ভেল্লো পাম।

এদিকে এই সামরিক মহড়াটি এমন এক সময়ে শুরু হলো যখন নর্ডিক দেশ ফিনল্যান্ড এবং সুইডেন ন্যাটোর সদস্য হওয়ার পরিকল্পনার কথা জানিয়েছে এবং সদস্যপদ পেতে আনুষ্ঠানিক আবেদন করার ঘোষণা দিয়েছে। তবে পশ্চিমা কর্তৃপক্ষ বলছে, ইউক্রেন যুদ্ধ শুরু হওয়ার আগেই এ মহড়ার পরিকল্পনা করা হয়েছিল।

এস্তোনিয়ায় হওয়া এই মহড়া রাশিয়ান সীমান্তের কাছে হওয়া ন্যাটোর বড় মাত্রার সামরিক কর্মকাণ্ডের একটি অংশ মাত্র। আরেক বাল্টিক দেশ লিথুনিয়ার আয়োজনে চলছে ‘আইরন ওলফ’ নামে সামরিক মহড়া, যেখানে ন্যাটোর তিন হাজার সেনার পাশাপাশি এক হাজার সামরিক সরঞ্জামও ব্যবহার করা হচ্ছে। এর মধ্যে জার্মানির লিওপার্ড ট্যাঙ্ক-২ ও আছে।

অন্যদিকে শুক্রবার দেওয়া ন্যাটোর এক বিবৃতিতে জানা যায়, ন্যাটোর বৃহত্তম দুটি মহড়া ‘ডিফেন্ডার ইউরোপ’ এবং ‘সুইফট রেসপন্স’ অনুষ্ঠিত হচ্ছে পোল্যান্ডসহ আটটি দেশে। এ মহড়ায় ২০টি দেশের ১৮ হাজার সেনা অংশ নিচ্ছেন।

সূত্র: বিবিসি।

English Dainikbiswa

ফিনল্যান্ড ও সুইডেনের ন্যাটোতে যোগ দেওয়া নিয়ে যা বললেন পুতিন

বেপরোয়া ট্রাকের চাপায় নিহত হলো ৩টি তাজা প্রাণ

//দৈনিক বিশ্ব ডেস্ক//

প্রাইভেটকারের ফুরিয়ে যাওয়া তেল আনতে গিয়ে দিনাজপুরের বিরল উপজেলায় ট্রাকের চাকায় পিষ্ট হয়ে একই মোটরসাইকেলে থাকা একজন ইউপি সদস্যসহ ৩ জন নিহত হয়েছেন।

রোববার দিবাগত রাত সাড়ে ১২টায় দিনাজপুর-বোচাগঞ্জ সড়কের বিরল উপজেলার মঙ্গলপুর চেয়ারম্যানের বাজার এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।

নিহতরা হলেন- দিনাজপুরের বোচাগঞ্জ উপজেলার দৌলা গ্রামের আব্দুল আজিজ বাবুর ছেলে স্থানীয় ইউপি সদস্য মো. রাকিব (৩৫), ঠাকুরগাঁও জেলার রানীশংকৈল পৌর এলাকার নওহেদ আলীর ছেলে মো. তাসিম (১৪) ও দিনাজপুর শহরের গুড়গোলা মহল্লার ওসমান গনির ছেলে সাদবিন ওসমান (২৪)।

স্থানীয়রা জানান, রোববার দিবাগত রাতে ইউপি সদস্য মো. রাকিব ও তাসিমসহ ৪ জন একটি প্রাইভেটকারে দিনাজপুর শহর থেকে বোচাগঞ্জের দিকে যাচ্ছিলেন। বিরলের মঙ্গলপুর এলাকায় গিয়ে তাদের প্রাইভেটকারের তেল শেষ হয়ে যায়। এ সময় রাকিব ও তাসিম দুই কিলোমিটার দূরের একটি ফিলিং স্টেশনে গিয়ে তেল নিয়ে ফেরার পথে মোটরসাইকেল আরোহী সাদবিন ওসমানের সাহায্য চান। তেল নিয়ে তারা মোটরসাইকেলে তিনজন প্রাইভেটকারের কাছে আসার পথে বিরল উপজেলার মঙ্গলপুর চেয়ারম্যানের বাজার এলাকায় বোচাগঞ্জগামী একটি ট্রাক তাদের চাপা দিয়ে চলে যায়। এতে ট্রাকের চাকায় পিষ্ট হয়ে ঘটনাস্থলেই তিনজন প্রাণ হারান।

বিরল উপজেলার মঙ্গলপুর পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের ইনচার্জ হাফিজ মো. রায়হান আলী দুর্ঘটনার এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

কাশিয়ানীতে ত্রিমুখি সংঘর্ষে ৮ জন নিহত

//দৈনিক বিশ্ব ডেস্ক//

গোপালগঞ্জের কাশিয়ানীতে বাস, প্রাইভেটকার ও মোটরসাইকেলের মধ্যে সংঘর্ষে ৮ জন নিহত হয়েছেন।আহত হয়েছেন আরও অন্তত ২০ জন।

শনিবার বেলা ১১টার দিকে কাশিয়ানী উপজেলার মিল্টন বাজার এলাকার ঢাকা-খুলনা মহাসড়কে এ দুর্ঘটনা ঘটে।

বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ভাটিয়াপাড়া হাইওয়ে পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ আবু নাঈম মোহাম্মদ মুফাজ্জেল হক।

তিনি জানান, রাজিব পরিবহন নামে একটি বাস মাওয়া থেকে খুলনার দিকে যাচ্ছিল। এ সময় কাশিয়ানী উপজেলার মিল্টন বাজার এলাকায় খুলনা থেকে ঢাকাগামী একটি প্রাইভেটকার ও মোটরসাইকেলের বাসটির মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। এতে তিনটি বাহনই দুমড়ে মুচড়ে ঘটনাস্থলেই ৭ জন নিহত হয়।

এরপর হাসপাতালে নেওয়ার পর সেখানে একজন মারা যায় বলে জানান কাশিয়ানী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মেহেদি হাসান।

মুফাজ্জেল হক আরও জানান, দুর্ঘটনাস্থলে সড়কের পাশেই ধান মাড়াই করছিল স্থানীয়রা। নিহতদের মধ্যে তাদেরও দু-একজন থাকতে পারে। দুর্ঘটনার খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার শুরু করে। তবে তাৎক্ষণিকভাবে হতাহতদের পরিচয় জানা যায়নি। এছাড়া নিহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে জানান এই কর্মকর্তা।

ইউরোপে গ্যাস সরবরাহ বন্ধ করেছে রাশিয়া

//আন্তর্জাতিক নিউজ ডেস্ক//

রাশিয়া ইউক্রেন যুদ্ধের ময়দানের মতোই পাল্লা দিয়ে উত্তাপ ছড়াচ্ছে রাশিয়া ও পশ্চিমাদের অর্থনৈতিক যুদ্ধ। এরই ধারবাহিকতায় রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন গ্যাজপ্রমের ইউরোপীয় সহায়ক সংস্থাগুলোর বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে মস্কো।

মূলত ইউক্রেন একটি প্রধান গ্যাস ট্রানজিট রুট বন্ধ করার একদিন পর এই সিদ্ধান্ত নেয় প্রেসিডেন্ট পুতিনের প্রশাসন। আর এতে করে বেকায়দায় পড়েছে ইউরোপ। রুশ গ্যাসের বিকল্প নিশ্চিত করতে ইউরোপের ওপর চাপ আরও বেড়েছে। আজ শুক্রবার (১৩ মে) এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানিয়েছে বার্তাসংস্থা রয়টার্স।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইউরোপে গ্যাস সরবরাহে রাশিয়ার নিষেধাজ্ঞা এবং ইউক্রেনের ভেতর দিয়ে যাওয়া রুশ গ্যাসলাইনগুলো বন্ধ করে দেওয়ার প্রেক্ষিতে তীব্র গ্যাস-সংকটে পড়েছে ইউরোপের দেশগুলো। ফলে গ্যাসের বিকল্প সরবরাহ নিশ্চিত করার চাপ বৃদ্ধির পাশাপাশি ইউরোপজুড়ে বেড়ে গেছে গ্যাসের দাম।

ইউক্রেন পরিস্থিতি নিয়ে সৃষ্ট দ্বন্দ্বে মস্কো ইতোমধ্যে বুলগেরিয়া ও পোল্যান্ডে গ্যাস সরবরাহ বন্ধ করে দিয়েছে। এছাড়া ইউরোপের অন্য দেশগুলোও সামনে শীত মৌসুমের আগে নিজেদের ক্রমবর্ধমান গ্যাসের মজুদ পূরণের জন্য কার্যত হন্যে হয়ে দৌড়াচ্ছে।

রয়টার্স বলছে, রাশিয়া গত বুধবার রাতে গ্যাজপ্রমের ইউরোপীয় সহযোগী সংস্থাগুলোর ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে, যার মধ্যে গ্যাজপ্রম জার্মানিয়াও রয়েছে। মূলত জ্বালানি সরবরাহ সুরক্ষিত রাখার জন্য জার্মানি গত মাসে ট্রাস্টিশিপের অধীনে এটি চালু করেছিল। এছাড়া ইউরোপে রুশ গ্যাস বহনকারী ইয়ামাল-ইউরোপ পাইপলাইনের পোলিশ অংশের মালিকের ওপরও নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে মস্কো।

রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সরকারী বাসভবন ও কার্যালয় ক্রেমলিনের মুখপাত্র দিমিত্রি পেসকভ বলেছেন, এসব কোম্পানির সঙ্গে কোনো সম্পর্ক থাকতে পারে না বা তারা রাশিয়ার গ্যাস সরবরাহের কাজে অংশ নিতে পারে না।

নিষেধাজ্ঞার আওতায় আসা এসব কোম্পানির নাম রাশিয়ার সরকারের ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা হয়েছে। এসব প্রতিষ্ঠান মূলত সেইসব দেশের যারা ইউক্রেনে আগ্রাসন চালানোর কারণে রাশিয়ার বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে। আরও ভালোভাবে বললে, এসব দেশের বেশিরভাগই ইউরোপীয় ইউনিয়নের সদস্য।

ইউরোপে রাশিয়ার জ্বালানির শীর্ষ গ্রাহক জার্মানি। দেশটি বলছে, গ্যাজপ্রম জার্মানিয়ার কিছু সহযোগী সংস্থা নিষেধাজ্ঞার কারণে গ্যাস পাচ্ছে না। জার্মানির অর্থনীতি বিষয়ক মন্ত্রী রবার্ট হ্যাবেক দেশটির পার্লামেন্টের নিম্নকক্ষ বুন্ডেস্ট্যাগকে বলেছেন, ‘গ্যাজপ্রম ও এর সহযোগী সংস্থাগুলো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এর মানে কিছু সহায়ক সংস্থা রাশিয়া থেকে আর গ্যাস পাচ্ছে না।’

কিয়েভ যে ট্রানজিট পয়েন্টটি বন্ধের দাবি করেছে সেটি দিয়ে সাধারণত ইউরোপে রাশিয়ার মোট গ্যাসের প্রায় ৮ শতাংশ সরবরাহ করা হয়ে থাকে। ওই লাইন দিয়ে দিয়ে মূলত অস্ট্রিয়া, ইতালি, স্লোভাকিয়া এবং পূর্ব ইউরোপের অন্যান্য দেশে গ্যাস সরবরাহ করা হয়।

English Dainikbiswa

করাচিতে বোমা বিস্ফোরণ

খুলনায় অবৈধভাবে মজুদ ৭৩হাজার লি: সয়াবিন তেল ও ১লাখ ৬৩হাজার লি: পামওয়েল উদ্ধার

//দৈনিক বিশ্ব ডেস্ক//

খুলনায় অভিযান চালিয়ে তিনটি গোডাউন থেকে অবৈধভাবে মজুদ করা ৭৩ হাজার ৩২ লিটার সয়াবিন তেল উদ্ধার করেছে ভ্রাম্যমাণ আদালত। এসময় তিন প্রতিষ্ঠানকে ১ লাখ ৬০ হাজার টাকা জ‌রিমানা করা হয়।

বৃহস্পতিবার নগরীর বড় বাজার এলাকায় জেলা প্রশাসন ও র‌্যাবের ভ্রাম্যমাণ আদালত এ অভিযান চালায়।

বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট দেবাশীষ বসাক।

তিনি বলেন, গোপন খবরে ওই তিন প্রতিষ্ঠানের গোডাউনে অভিযান চালিয়ে অবৈধভাবে মজুদ করা ৭৩ হাজার ৩২ লিটার সয়া‌বিন ও ১ লাখ ৬৩ হাজার ৬০৮ লিটার পামওয়েল জব্দ করা হয়।

এ সময় সোনালী এন্টারপ্রাইজের মালিক প্রদীপ সাহাকে ৩০ হাজার, সাহা ট্রেডিং এর মালিক দিলীপ সাহাকে ৯০ হাজার টাকা ও রনজিত বিশ্বাস অ্যান্ড সন্স এর মালিক অসিত বিশ্বাসকে ৪০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।

তিনি আরও বলেন, সরকরি নিয়মনীতি উপেক্ষা করে খুলনার ব্যবসায়ীরা তেল মজুদ করে বাজারে কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করছে। এ ধরনের পরিস্থিতি এড়াতে তাদের এই অভিযান অব্যহত থাকবে।

দুই বিমানের সংঘর্ষ// বিমান লিজ// কার লাভ আর কার ক্ষতি

//দৈনিক বিশ্ব ডেস্ক//

হ্যাঙ্গারে দুই বিমানের সংঘর্ষের নেপথ্যেও লিজ বাণিজ্য বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা!

উড়োজাহাজ লিজ বাণিজ্যে ডুবছে বিমান। রাষ্ট্রীয় বিমান সংস্থাটিকে একের পর এক বিপর্যয়ে ফেলছে এই লিজ বাণিজ্য। লিজের যৌক্তিকতা প্রমাণে নিজস্ব বেশ কয়েকটি এয়ারক্রাফট নষ্ট করে রাখা হয়েছে। বহরের নতুন উড়োজাহাজগুলোর ব্লক আওয়ার কম দেখিয়ে বসিয়ে রাখা হচ্ছে। কারণে-অকারণে দুর্ঘটনার মুখে পড়ছে মূল্যবান বিমানগুলো। পাশাপাশি প্রতিনিয়ত ঘটছে শিডিউল বিপর্যয়।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, প্রতিবছর হজ মৌসুম শুরুর আগে রহস্যজনক এই দুর্ঘটনার ঘটনা বেশি ঘটছে। ১২ এপ্রিল বিমানের নিজস্ব হ্যাঙ্গারে দুই বিমানের সংঘর্ষের নেপথ্যেও লিজ বাণিজ্য বলে মনে করছেন তারা। অভিযোগ, উড়োজাহাজ লিজ মানে শত কোটি টাকার কমিশন বাণিজ্য। যার কারণে প্রতি বছর হজ এলেই উড়োজাহাজ লিজ নিতে তৎপর হয়ে উঠে বিমানের টপ টু বটম।

এবারও হজের জন্য দুটি এয়ারক্রাফট লিজের অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। লুটপাটের মাধ্যমে নিজদের আখের গোছাতে ব্যস্ত একটি সিন্ডিকেট পেছন থেকে এসব করছে বলে অভিযোগ উঠেছে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, হেস্টনের উড়োজাহাজ দুটি লিজ নিলে বিমানের গচ্চা যাবে কমপক্ষে ২০০ কোটি টাকা।

বেসামরিক বিমান চলাচল ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা বলেন, ১২ এপ্রিল বিমানের নিজস্ব হ্যাঙ্গারে সংঘর্ষে দুটি নতুন বিমানের বড় ধরনের ক্ষতি হলেও এ নিয়ে কারও বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। ঘটনার পর এক মাস পেরিয়ে গেলেও তদন্ত কমিটির রিপোর্ট আলোর মুখ দেখেনি। পরদিন বিমান প্রতিমন্ত্রী মাহবুব আলী ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দিলেও নির্বিকার বিমান প্রশাসন।

তার মতে, হজের আগে লিজ বাণিজ্য করতেই পরিকল্পিতভাবে দুটি মূল্যবান এয়ারক্রাফট বোয়িং ৭৭৭ ও বোয়িং ৭৩৭-এর ওপর ‘হামলা’ হয়েছিল। তদন্তে কেঁচো খুঁড়তে সাপ বেরিয়ে আসবে বলে ভয়ে বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার চক্রান্ত চলছে। তড়িঘড়ি করে বোয়িং টিম ঢাকায় পৌঁছার আগেই বিমানের নিজস্ব হ্যাঙ্গারে এয়ারক্রাফট দুটি মেরামত করে ফেলা হয়েছে। ওয়ারেন্টি শপকে না জানিয়ে এভাবে নিজস্ব হ্যাঙ্গারে মেরামত করায় ডি চেক করানোর জন্য আরও বড় ধরনের আর্থিক দণ্ডের মুখে পড়তে পারে দুই এয়ারক্রাফট।

বেসামরিক বিমান চলাচল ও পর্যটন প্রতিমন্ত্রী মাহবুব আলী বলেন, লিজ নিয়ে অনিয়ম-দুর্নীতি হয় না এটা বলা যাবে না। এর আগেও লিজ নিয়ে বিমান মন্ত্রণালয়কে বড় ধরনের অস্বস্তিতে পড়তে হয়েছিল। এয়ারক্রাফট লিজ নিয়ে শত শত কোটি টাকা গচ্চা দিতে হয়েছে সরকারকে। তিনি বলেন, ১১ এপ্রিল তিনি বিমানের শীর্ষ কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করেছেন। ওই বৈঠকে তিনি স্পষ্ট করে বলেছেন, প্রয়োজন ছাড়া কোনো লিজ নয়। এ বছর হজযাত্রী কম। কাজেই বিমানের নিজস্ব এয়ারক্রাফট দিয়ে যদি সম্ভব হয় তাহলে লিজে না যাওয়ার জন্য তিনি বলেছেন।

২০১৪ সালে সম্পাদিত ৫ বছর মেয়াদি একটি লিজ চুক্তি এখনও বিমানের গলার কাঁটা হয়ে বিঁধছে। এ চুক্তির কারণে বিমানকে একটি এয়ারক্রাফট ও একটি ইঞ্জিন না চালিয়েও ভাড়া হিসাবে ৬শ কোটি টাকার বেশি অর্থ দিতে হয়েছে লিজদাতাকে। ওই উড়োজাহাজ লিজের সময় স্থানীয় একটি কোম্পানিকে এজেন্ট হিসাবে নিয়োগ দেওয়া হয়।

কিন্তু স্থানীয় এজেন্টের সব কাজ করত বিমান। অথচ বিমানের ওই সিন্ডিকেট ভাড়ার টাকার ৫ শতাংশ হারে স্থানীয় এজেন্টকে প্রতি মাসে গড়ে ৪৭ লাখ টাকা করে দিয়েছে। ৫ বছর ধরে এই টাকা দিয়ে গেছে বিমান কর্তৃপক্ষ। এ খাত থেকেও বড় অঙ্কের মাসোহারা পেত তৎকালীন ফাইন্যান্স, ফ্লাইট অপারেশন ও প্রকৌশল বিভাগের সংশ্লিষ্ট সিন্ডিকেট।

২০১৬ সালেও হজের জন্য লিজ নেওয়া হয় একটি এয়ারবাস। অভিযোগ ছিল ওই এয়ারবাসের স্থানীয় এজেন্ট ছিল বিমানের ওই সময়ের ফাইন্যান্স বিভাগের এক শীর্ষ কর্মকর্তার ঘনিষ্ঠ বন্ধু। আর এ কারণে বোয়িং ৭৭৭-৩০০ উড়োজাহাজ লিজ না নিয়ে এয়ারবাস নেওয়া হয় চড়া মূল্যে। পরে আরও দুটি উড়োজাহাজ লিজ নেওয়া হয়।

লিজ প্রসঙ্গে বিমানের সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক এএম মোসাদ্দিক আহমেদ বলেন, ইজিপ্ট এয়ারলাইন্স থেকে লিজে আনা উড়োজাহাজটি বিমানকে বিব্রতকর অবস্থায় ফেলে দিয়েছিল। তবে সব লিজকে ঢালাওভাবে খারাপ বলা যাবে না।

২০১১ সালে বিমান একটি বোয়িং ৭৪৭ উড়োজাহাজ লিজ নিয়েছিল এয়ার আটলান্টা নামের একটি কোম্পানির কাছ থেকে। ওই লিজে বিমান ৫৪ কোটি টাকা লোকসান দিয়েছে। লোকসানের কারণ হিসাবে বলা হয়েছিল বিমানের পরিকল্পনা ও ফাইন্যান্স বিভাগ লিজ নেওয়ার সময় উড়োজাহাজের গড় কেবিন ফ্যাক্টর ৮০ ভাগের ওপর ধরে হিসাব চূড়ান্ত করেছিল।

কিন্তু চুক্তি শেষে দেখা গেছে, লিজে আনা বোয়িং ৭৪৭-এর কেবিন ফ্যাক্টর ছিল মাত্র ৬৮.৪০ শতাংশ। এছাড়া চুক্তি অনুযায়ী ওই এয়ারক্রাফট ১ বছরে ৩ হাজার ঘণ্টা আকাশে উড়ার কথা। কিন্তু বিমানের একটি সিন্ডিকেট গোপনে ম্যানেজমেন্ট ও বিমান পরিচালনা পর্ষদকে না জানিয়ে চুক্তির বাইরে আরও ৪৪৯ ঘণ্টা বেশি আকাশে উড়ায়।

এতে বিমানকে ৫৪ কোটি টাকার বাইরে অতিরিক্ত ২ লাখ ৭০ হাজার ৪৬০ মার্কিন ডলার বেশি গুনতে হয়েছিল। একই অভিযোগ ছিল নাইজেরিয়ার কাবো এয়ারলাইন্স থেকে লিজে নেওয়া উড়োজাহাজ বোয়িং ৭৪৭-এর বিরুদ্ধে। ওই উড়োজাহাজটিও চুক্তির বাইরে বড় অঙ্কের টাকার ফ্লাই করেছিল। বিমান পরিচালনা পর্ষদকে না জানিয়ে তৎকালীন বিমান ম্যানেজমেন্ট গোপনে ওই ফ্লাই করে।

অভিযোগ আছে, হজের জন্য উড়োজাহাজ ভাড়ায় এনে বিমান ম্যানেজমেন্ট গোপনে ওই উড়োজাহাজটি চুক্তির বাইরে আরও ৩ মাস বেশি চালিয়েছিল। এতে বিমানকে ১০০ কোটি টাকার বেশি অর্থ গুনতে হয়েছিল ওই বছর। এতে সবচেয়ে ভয়ংকর কাজ হয়েছে যেটি তা হলো, ভাড়ার উড়োজাহাজ চালাতে গিয়ে বহরের নিজস্ব উড়োজাহাজগুলো বসিয়ে রাখা হয়েছিল। তারও আগে ফাইন্যান্স বিভাগের যোগসাজশে সিন্ডিকেট সিকিউরিটি মানি কাটছাঁট না করে লিজে আনা একটি উড়োজাহাজের ছাড়পত্র দিয়ে দেওয়ায় বিমানকে ২২ কোটি টাকার বেশি অর্থ গুনতে হয়েছিল।

জানা গেছে, ২০০৯ সালে উড়োজাহাজ সংকটের কথা বলে বিমান কর্তৃপক্ষ পর্তুগালের ইউরোআটলান্টা নামের একটি কোম্পানির কাছ থেকে একটি বোয়িং ৭৭৭-২০০ এয়ারক্রাফট লিজ নেয়। ঘণ্টায় ৬ হাজার ৪শ ডলারে উড়োজাহাজটি লিজ নেওয়া হয়। কিন্তু নানা অনিয়ম-দুর্নীতির কারণে এক বছরের মাথায় উড়োজাহাজটি ফেরত দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয় বিমান।

এবারও বিমানের পরিকল্পনা বিভাগ নিজস্ব উড়োজাহাজগুলোর ব্লক আওয়ার কম দেখিয়ে হেস্টনের ২৬৬ আসনের দুটি এয়ারবাস লিজ নেওয়ার জন্য পর্ষদে ফাইল উপস্থাপন করে। আর তড়িঘড়ি করে মাত্র ৭ সদস্যের উপস্থিতিতে পর্ষদ সেটি অনুমোদন দেয়। দুজন সদস্য এর বিরোধিতা করলেও তার তোয়াক্কা করা হয়নি রহস্যজনক কারণে।

এমনকি ওই বোর্ড সভাটি মাত্র ৬ ঘণ্টা আগের নোটিশে করা হয়। তাতে অনেক সদস্য সভায় উপস্থিত থাকতে পারেননি। বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স সূত্র জানায়, ঈদের আগে যখন সারা দেশে ছুটির আমেজ শুরু হয় তখন অর্থাৎ এপ্রিলের ৩০ তারিখ বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের পরিচালনা পর্ষদের ২৭৬তম সভা অনুষ্ঠিত হয়। মাত্র ৬ ঘণ্টা আগের নোটিশে অনুষ্ঠিত সভায় ২৬৬ আসনের ওই দুটি উড়োজাহাজ ওয়েট লিজিংয়ে আনার সিদ্ধান্ত হয়।

বোর্ড সভায় বিমানের চেয়ারম্যান-এমডি ছাড়াও বিমানের করপোরেট প্ল্যানিং ও প্রকৌশল বিভাগের আট কর্মকর্তা উপস্থিত ছিলেন। ছিলেন না বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের (বেবিচক) চেয়ারম্যানসহ ৫ জন বোর্ড সদস্য যাদের ছাড়া এর আগে কোনো স্পর্শকাতর এজেন্ডা পাশ করতেন না চেয়ারম্যান।

পরিচালনা পর্ষদের এক সদস্য জানান, বিমানের করপোরেট প্ল্যানিং ও ট্রেনিং বিভাগ থেকে গত মাসে এ বিষয়ে একটি প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল। প্রস্তাবে লিজের সঙ্গে সেই এয়ারলাইন্স প্রতিষ্ঠানের ক্রু, ইঞ্জিনিয়ার ও ইন্স্যুরেন্স নেওয়ার কথা ছিল। তবে বিমানের পক্ষ থেকে সেটি নাকচ করা হয়। নাকচের কারণ হিসাবে বলা হয়, ‘ল্যাক অব এ ফেইথফুল স্টাডি অ্যান্ড অ্যানালাইসিস’ (পর্যাপ্ত গবেষণা না থাকা)। কিন্তু একই প্রস্তাব বোর্ডে পাশ করে দেন বিমান পর্ষদ চেয়ারম্যান সাবেক সিনিয়র সচিব সাজ্জাদুল হাসানের নেতৃত্বে ৫ সদস্য। ওই সদস্য আরও জানান, বোর্ড সভায় তিন সদস্য এ প্রস্তাবের বিপক্ষে ছিলেন। পাঁচজন ছিলেন পক্ষে। বিপক্ষে থাকা তিনজনের দুজন সভায় বলেন, বিমানের বহরে বর্তমানে ২১টি উড়োজাহাজ রয়েছে। সেগুলো দিয়েই হজ ফ্লাইট পরিচালনা করা সম্ভব।

পর্ষদের অন্যতম পরিচালক ও বাংলাদেশ বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান এয়ার ভাইস মার্শাল এম. মফিদুর রহমান বলেন, ‘আমি ওই সভায় উপস্থিত ছিলাম না। সৌদি আরবে ছিলাম, এখনও আছি। সিদ্ধান্তের বিষয়ে আমার কোনো কিছু জানা নেই।’ সভায় পর্ষদ সদস্য ও অর্থ মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব আব্দুর রউফ তালুকদার চুক্তির বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য চেয়েছিলেন। তবে ঘণ্টাপ্রতি ভাড়া সাত হাজার ডলারের অঙ্ক ছাড়া চুক্তির বিস্তারিত তথ্য বোর্ড সদস্যদের কাছে তুলে ধরা হয়নি।

বিমান পর্ষদের সাবেক সদস্য কাজী ওয়াহিদুল আলম বলেন, বর্তমানে বিমানের অনেক বড় বহর রয়েছে। তাদের বোয়িং-৭৭৭ মডেলের ভালো উড়োজাহাজ আছে। এগুলো হজ ফ্লাইট পরিচালনার জন্য যথেষ্ট। পৃথক উড়োজাহাজ আনার দরকার আছে বলে মনে করি না। এত টাকা দিয়ে উড়োজাহাজ এনে বিমান কতটা মুনাফা করতে পারবে, তা নিয়ে সন্দেহ রয়েছে।

বিমানের মার্কেটিং বিভাগের একজন সদস্য বলেন, বিমান ২০১৮ ও ২০১৯ সালে নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় হজ ফ্লাইট পরিচালনা করে। তাতে বিমানের প্রায় ২০০ কোটি টাকা মুনাফা হয়। দুবারই ৫০ হাজারের বেশি যাত্রী বহন করেছিল বিমান। এবার মাত্র ২৭ হাজার হজযাত্রী পরিবহণের জন্য কেন ২টি উড়োজাহাজ লিজ নিতে হবে এটাই প্রশ্ন।

ফ্লাইট অপরেশন বিভাগের একজন শীর্ষ কর্মকর্তা বলেন, বর্তমানে বিমানের ৪১৯ আসনের ৪টি বোয়িং ৭৭৭-৩০০ এয়ারক্রাফট রয়েছে যেগুলো গড়ে ১২.৬৭ ঘণ্টা আকাশে উড়ছে। বাস্তবে এগুলো ১৬.৬৭ ঘণ্টা (ব্লক আওয়ার) আকাশে উড়ানো সম্ভব। অর্থাৎ একটি ৭৭৭ দিয়ে দিনে ১টি হজ ফ্লাইট ও একটি কম দূরুত্বের শিডিউল ফ্লাইট করা সম্ভব। একই ভাবে বোয়িং ৭৭৭-২০০ বর্তমানে ১১.৩৩ ঘণ্টা আকাশে উড়ছে। এ জাহাজগুলোকেও ১২.৯৮ ঘণ্টা আকাশে উড়ানো সম্ভব। এছাড়া বোয়িং ৭৩৭ বর্তমানে আকাশে উড়ছে মাত্র ৮.৮২ ব্লক আওয়ার। এ উড়োজাহাজগুলোকেও ১১.৯৯ ব্লক আওয়ার উড়ানো সম্ভব।

ওই কর্মকর্তা আরও বলেন, যদি এটা করা সম্ভব হয় তাহলে হজের জন্য উড়োজাহাজ লিজ নেওয়ার দরকার হবে না। তার মতে, হজের জন্য রুট থেকে বোয়িং ৭৭৭ গুলো পুরোপুরি প্রত্যাহার করা লাগবে না। দিনে একটি ডেডিকেটেড হজ ফ্লাইট করেও ওই জাহাজ দিয়ে আরেকটি শিডিউল ফ্লাইটও করা যাবে অন্য সময়। তাতে সিডিউলে কোনো ক্ষতি হবে না। বর্তমানে বিমানের ভাগে যে হজযাত্রী তা পরিবহণ করতে বি ৭৭৭-এর ৭৩টি ফ্লাইট লাগবে। প্রতিদিন ৪টি ফ্লাইট হিসাবে ১৮ দিনে এই যাত্রী পরিবহণ করা সম্ভব। আর সৌদি সিভিল এভিয়েশনের সঙ্গে নেগোসিয়েশন করে যদি দিনের সংখ্যা আরও বাড়ানো যায় তাহলে নিজস্ব উড়োজাহাজ দিয়েই হজ ফ্লাইট করা সম্ভব। আর সৌদি আরবের শিডিউল ফ্লাইটেও হজযাত্রী পাঠানো যাবে। কোনো এয়ারক্রাফট লিজ নেওয়ার প্রয়োজন হবে না। তাতে বিমান ২শ কোটি টাকার উপর মুনাফা করতে পারবে। সূত্র: যুগান্তর

English Dainikbiswa

পড়ুণ দৈনিক বিশ্ব

রাশিয়ায় হামলা চালাল ইউক্রেন

ক্যাসিনো সম্রাট ও তার অনুসারী এবং বর্তমান রাজনৈতিক অবস্থান

নতুন নির্দেশনায় খুলে যাচ্ছে ৬৬ হাজার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়

//দৈনিক বিশ্ব ডেস্ক//

পবিত্র ঈদুল ফিতরের ছুটির পর আগামী ১২ মে (বৃহস্পতিবার) খুলছে ৬৬ হাজার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়। করোনার ক্ষতি পুষিয়ে নিতে এবার রমজানে খোলা রাখা হয় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। গত ২২ এপ্রিল থেকে ঈদের ছুটি পালন করে প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলো।

দীর্ঘ ছুটিশেষে আগামীকাল ১২ মে প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলো খোলা হচ্ছে। এক্ষেত্রে কয়েক দফা নির্দেশনা দেয়া হয়ে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর থেকে। স্কুল খোলার পর এগুলো মেনে চলতে হবে প্রতিষ্ঠানগুলোকে।

নির্দেশনাগুলোর মধ্যে রয়েছে-

এক শিফট বিশিষ্ট বিদ্যালয়গুলোতে শনিবার থেকে বুধবার সকাল ০৯ টা থেকে বিকাল ৩ টা:১৫ পর্যন্ত এবং বৃহস্পতিবার বিকাল ২টা ২৫ পর্যন্ত (১ম ও ২য় শ্রেণি সকাল ০৯.৩০ থেকে দুপুর ০১টা পর্যন্ত এবং ৩য়, ৪র্থ ও ৫ম শ্রেণি সকাল ৯টা থেকে বিকাল ৩টা ১৫ পর্যন্ত শ্রেণি পাঠদান কার্যক্রম চলবে।

দুই শিফটের বিদ্যালয়সমূহে শনিবার থেকে বুধবার সকাল ০৯টা থেকে বিকাল ০৪টা পর্যন্ত এবং বৃহস্পতিবার বিকাল ০২ টা ৩০ মিনিট পর্যন্ত (১ম ও ২য় শ্রেণি: সকাল ০৯টা থেকে সকাল ১১:৫০ পর্যন্ত এবং ৩য়, ৪র্থ ও ৫ম শ্রেণি সকাল ১১:৩০ থেকে বিকাল ০৪ টা পর্যন্ত) শ্রেণি পাঠদান কার্যক্রম চলমান থাকবে।

এক শিফট বিশিষ্ট বিদ্যালয়সমূহে প্রাক-প্রাথমিক শ্রেণি কার্যক্রম শনিবার থেকে বৃহস্পতিবার সকাল ৯:৩০টা থেকে দুপুর ১২ টা এবং দুই শিফট বিশিষ্ট বিদ্যালয়সমূহে সকাল ০৯টা থেকে সকাল ১১টা ৩০ পর্যন্ত চলবে।

এক শিফট বিশিষ্ট বিদ্যালয়সমূহে দৈনিক সমাবেশ সকাল ০৯ থেকে সকাল ০৯:২৫ পর্যন্ত এবং দুই শিফট বিশিষ্ট বিদ্যালয়সমূহে দৈনিক সমাবেশ সকাল ১১.৩০ থেকে সকাল ১১:৫০ ঘটিকা পর্যন্ত স্বাস্থ্যবিধি মেনে পরিচালনা করতে হবে;

প্রধান শিক্ষক বিষয়ভিত্তিক প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত শিক্ষকদের অগ্রাধিকার দিয়ে রুটিন প্রণয়নপূর্বক সংশ্লিষ্ট ক্লাস্টারের সহকারী উপজেলা শিক্ষা অফিসারের অনুমোদন গ্রহণ করবেন।

ঢাকা মহানগরীর প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পাঠদানের সময়সূচির ক্ষেত্রে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের ২০১৯ সালের ২৯ জানুয়ারির পরিপত্রটি অনুসরণ করবেন;

শিখন ঘাটতি পূরণে যথাযথ পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে।

English Dainikbiswa

গণতন্ত্র মঞ্চ নামে নতুন রাজনৈতিক দল যোগ হতে যাচ্ছে

রাশিয়ার পাশে আছে এবং থাকবে বলে জানিয়েছেন কিম জং উন

গণতন্ত্র মঞ্চ নামে নতুন রাজনৈতিক দল যোগ হতে যাচ্ছে

//অনলাইন নিউজ ডেস্ক//

আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে আ স ম আবদুর রবের জেএসডিসহ সাতটি রাজনৈতিক দল মিলে নতুন জোট হচ্ছে। ‘গণতন্ত্র মঞ্চ’ নামে এ জোটের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা হতে পারে চলতি মাসেই।

আপাতত সাতটি দল থাকলেও ভবিষ্যতে পরিধি আরও বাড়ানো হবে। এ নিয়ে মঙ্গলবার সকালে রাজধানীর হাতিরপুলে গণসংহতি আন্দোলনের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে সাত দলের শীর্ষ নেতাদের বৈঠক হয়। তারা নতুন জোটের নাম নির্ধারণ, কাঠামো, কর্মসূচি প্রণয়ন, অন্য রাজনৈতিক দলগুলোকে সংযুক্তিসহ নানা কর্মকৌশল নিয়ে আলোচনা করেন। ২৩ মে পরবর্তী বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে।

সাত দলে জেএসডি ছাড়াও অন্য রয়েছে বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টি, নাগরিক ঐক্য, গণঅধিকার পরিষদ, ভাসানী অনুসারী পরিষদ, রাষ্ট্র সংস্কার আন্দোলন ও গণসংহতি আন্দোলন। সূত্র জানায়, চার ঘণ্টাব্যাপী বৈঠকে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের অধীনে নির্বাচনে অংশগ্রহণ না করার বিষয়ে ঐক্যবদ্ধভাবে সিদ্ধান্ত নিয়েছে এ সাতটি রাজনৈতিক দল। পাশাপাশি বর্তমান সরকারের পদত্যাগ এবং একটি অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের অধীনে সুষ্ঠু অবাধ ও গ্রহণযোগ্য পরিবেশ নিশ্চিত করে আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠানের দাবিতে একমত হয়েছেন দলগুলোর শীর্ষ নেতারা। বৈঠকে অংশ নেন জেএসডি সভাপতি আ স ম আবদুর রব, বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হক, নাগরিক ঐক্যের সভাপতি মাহমুদুর রহমান মান্না, গণসংহতি আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়কারী জোনায়েদ সাকি, গণঅধিকার পরিষদের সদস্য সচিব নুরুল হক নুর, ভাসানী অনুসারী পরিষদের সভাপতি ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী, মহাসচিব শেখ রফিকুল ইসলাম বাবলু, রাষ্ট্র সংস্কার আন্দোলনের হাসনাত কাইয়ূম প্রমুখ। এর আগে ২৮ এপ্রিল রাজধানীর গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রে এ সাত দলের প্রথম বৈঠক হয়।

নাগরিক ঐক্যের সভাপতি মাহমুদুর রহমান মান্না যুগান্তরকে বলেন, আমরা কতগুলো বিষয় চিহ্নিত করে একমত হয়েছি। এ সরকারের অধীনে নির্বাচন নয়, তাদের পদত্যাগ করতে হবে। তারপর একটা অন্তর্বর্তীকালীন সরকার গ্রহণযোগ্য নির্বাচন নিশ্চিত করবে। এখন কীভাবে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার গঠিত হবে, কতদিন মেয়াদ হবে-এসব বিষয়ে আমরা সাংবিধানিক দিকগুলোও খতিয়ে দেখছি। পরের বৈঠকগুলোতে এ নিয়ে আরও আলোচনা হবে।

নতুন জোট গঠন নিয়ে সংশ্লিষ্ট নেতারা জানান, সরকারবিরোধী আন্দোলনে এ জোট বিএনপির সঙ্গে ঐক্যবদ্ধ না হলেও যুগপৎভাবে দাবি আদায়ে রাজপথে কর্মসূচি দেবে। তবে সাত দলের সমন্বিত দাবিগুলোর প্রতি কোনো দল একমত প্রকাশ করে যোগ দিতে চাইলেও ধর্মভিত্তিক কোনো সংগঠনকে যুক্ত করবেন না। সেক্ষেত্রে জামায়াত বা এ ধরনের কোনো সংগঠনকে জোটে রাখা হবে না। গণসংহতি আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়কারী জোনায়েদ সাকি বলেন, নির্বাচন ও শাসনতন্ত্র প্রশ্নে ন্যূনতম কর্মসূচি, নাম ও কাঠামো এবং অন্যদের সংযুক্তির বিষয়ে আমাদের মধ্যে আলোচনা চলছে। পরবর্তী বৈঠকে রাজপথের কর্মসূচি বিষয়ে আলোচনা হবে।

ভাসানী অনুসারী পরিষদের মহাসচিব শেখ রফিকুল ইসলাম বাবলু বলেন, অবিলম্বে মানুষের ভোটাধিকার ফিরিয়ে দেওয়ার লক্ষ্যে ও অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের কাছে ক্ষমতা হস্তান্তরের দাবিতে সাত দল একমত হয়েছে। এ ঐক্যকে আরও বৃহত্তর ঐক্য হিসাবে গড়ে তোলার জন্য আমরা কাজ করব। গণঅধিকার পরিষদের সদস্য সচিব নুরুল হক নুর বলেন, আমরা এখন নাম চূড়ান্ত করে, আট-দশটি দাবি নির্ধারণ করে ঐক্যবদ্ধ হয়েছি। দেশ-জাতির প্রয়োজনে এ মঞ্চ।

তবে আমরা আক্রমণাত্মক নয়, সহনশীলভাবে এগিয়ে যেতে চাই। এদিকে সরকারবিরোধী রাজনৈতিক দলগুলো নিয়ে বিএনপির বৃহত্তর জাতীয় ঐক্য প্রক্রিয়া শুরুর মধ্যে এ সাত দলের রাজনৈতিক জোট নিয়ে নানা আলোচনা শুরু হয়েছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বিএনপির একজন নীতিনির্ধারক যুগান্তরকে বলেন, আগামী জাতীয় নির্বাচন নিয়ে বিএনপির অবস্থানের সঙ্গে সরকারবিরোধী সব রাজনৈতিক দলেরই মিল রয়েছে। বর্তমান সরকারের অধীনে আগামী জাতীয় নির্বাচন নয়, ইতোমধ্যে এমন মত জানিয়েছে বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলো। এমনকি সরকার পতনের জন্য আন্দোলনে যেতেও একমত সবাই। এখন এ বিষয়ে যার যার জায়গা থেকে যে কোনো উদ্যোগ গ্রহণ করতেই পারে, তাতে দোষের কিছু নেই।

English Dainikbiswa

বেপরোয়া মাদক ব্যাবসায়ীরা।। বিজিবির উপড় হামলা ও গাড়ী ভাঙচুর

খুলনার অমিত জাবির ছাত্র , হলের ছাদ থেকে লাফদিয়ে আত্মহত্যা