আমতলী পৌর নির্বাচন ঘিরে চলছে অভিযোগ পাল্টা অভিযোগ, সংঘর্ষের আশংকায় পৌরবাসী!

//মাহমুদুল হাসান, আমতলী, বরগুনা প্রতিনিধি//

আগামী ৯ই মার্চ অনুষ্ঠিতব্য বরগুনার আমতলী পৌর নির্বাচনকে ঘিরে চলছে জমজমাট প্রচারনা।

বেলা ২টার পর থেকেই প্রচার মাইকের উচ্চ শব্দে নানা সুরের নির্বাচনী গান বাজিয়ে পছন্দের প্রার্থীর পক্ষে প্রচারণায় সরগরম থাকে পৌরসভার পাড়া মহল্লার প্রতিটি ওলি-গলি। ভোটারদের দ্বারে দ্বারে গিয়ে যে যার মত ভোট প্রার্থনা করেছেন প্রার্থীরা। পৌর শহরের হোটেল রেস্তোরাঁ থেকে ছোট ছোট দোকানগুলোর চায়ের আড্ডায় নিজ নিজ পছন্দের প্রার্থীর পক্ষে কথা বলছেন সাধারণ ভোটাররা, প্রশংসায় গাইছেন নিজ নিজ প্রার্থীর গুণগান।বলতে গেলে নির্বাচনকে ঘিরে বইছে উৎসবের আমেজ।

একদিকে উৎসবের আমেজ চললেও তা যেকোনো সময়ে বিষাদে রুপ নিতে পারে সংঘাত ও সংঘর্ষে। বহিরাগতদের আনাগোনা ও গত কয়েকদিনের উত্তপ্ত পরিস্থিতির কারনে এমনটিই মনে করছেন প্রার্থী ও সাধারণ ভোটাররা। উত্তপ্ত পরিস্থিতি ও বহিরাগতদের দাপটে ভোটারদের শঙ্কিত থাকতে হয় বলে অভিযোগ করেন আমতলী পৌরসভার মেয়র ও মোবাইল প্রতিকের প্রার্থী মতিয়ার রহমান।তিনি বলেন নির্বাচনকে ঘিরে তার প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী নাজমুল আহসান নান্নু পার্শ্ববর্তী এলাকার বহিরাগতদের জড়ো করছেন।

তিনি আরও বলেন,তফসিল ঘোষণার পরে আমি নিয়মনীতি মেনেই আমি আমার নির্বাচনী কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছি। প্রতিক বরাদ্দের পরে শান্তিপূর্ণভাবে আমরা প্রচার প্রচারণা চালিয়ে আসছিলাম। আমার প্রতিদ্বন্দ্বী হ্যাঙ্গার প্রতিকের প্রার্থী নাজমুল আহসান খান নান্নু বরগুনা, পার্শ্ববর্তী চাকামাইয়াসহ বিভিন্ন এলাকার বহিরাগত লোকজন এনে শান্তিপূর্ণ নির্বাচনী পরিবেশে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করতে চাইছে। তিনি রিটার্নিং কর্মকর্তাসহ দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রশাসনের কর্মকর্তাদের দৃষ্টি আকর্ষণ করে এ বিষয়ে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহনের জন্য অনুরোধ জানিয়েছেন।

অপর প্রতিদ্বন্দ্বী হ্যাঙ্গার প্রতিকের প্রার্থী সাবেক পৌর মেয়র নাজমুল আহসান খান নান্নু প্রতিদ্বন্দী প্রার্থীর এসব অভিযোগ অস্বীকার করে  পাল্টা অভিযোগ করে বলেন, আমার ব্যানার হাতে নিয়ে তার প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীর নিজের লোকজন দিয়ে এসব করায়। তিনি আরও অভিযোগ করে বলেন,মেয়র মতিয়ার রহমান বিভিন্ন ওয়ার্ডের নারীদের নিজ বাসায় জড়ো করে দেদারসে টাকা দিচ্ছেন এ ব্যাপারে তিনিও নির্বাচন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা ও আইন প্রয়োগকারী সংস্থা সমুহকে প্রয়োজনীয় ব্যাবস্হা গ্রহনের জন্য অনুরোধ জানান।

এসব বিষয়ে আমতলী পৌরসভা নির্বাচনের রিটার্নিং কর্মকর্তা ও জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা আবদুল হাই আল হাদী বলেন,বিষয়টি আমরাও শুনেছি,কয়েকজন ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান তাদের লোকজন নিয়ে একজন প্রার্থীর বিরুদ্ধে প্রচার-প্রচারণা চালাচ্ছেন। তবে তাদেরকে আচরণবিধি মেনে প্রচারণা চালাতে বলা হয়েছে। আমতলী পৌরসভা নির্বাচনের মাঠ পর্যবেক্ষণের জন্য তিনজন ম্যাজিষ্ট্রেট নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। ভোট গ্রহনের ৭২ঘন্টা আগে সকল বহিরাগতদের মাইকিং করে নির্বাচনী এলাকা ছাড়তে বলা হবে।

আমতলী পৌরসভা নির্বাচনে মেয়র পদে নয়জন প্রার্থী অংশ গ্রহণ করলেও বর্তমান মেয়র ও আমতলী উপজেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি মতিয়ার রহমান,সহ-সভাপতি নাজমুল আহসান নান্নু,জিল্লুর রহমান ছাড়া আর কোন প্রার্থীর কোন প্রচারণা চোখে পড়েনি।

অপরদিকে ৯টি ওয়ার্ডে (পুরুষ) ৩৬ জন কাউন্সিলর পদে প্রার্থী হয়ে লড়ছেন। নারী কাউন্সিল পদে ০৯ জন প্রার্থী হয়ে লড়ছেন।আগামী ৯ই মার্চ আমতলী পৌর নির্বাচনে ১৫ হাজার ৮ ’শ ৩৯ ভোটার তাদের ভোটের মাধ্যমে পছন্দের প্রার্থী নির্বাচিত করবেন।

আমতলীতে পোষ্টার টানানোকে কেন্দ্র করে প্রার্থীর সমর্থকদের সংঘর্ষে আহত-৮

//মাহমুদুল হাসান, আমতলী, বরগুনা প্রতিনিধি//

বরগুনার আমতলী পৌর নির্বাচনে পোষ্টার টানানোকে কেন্দ্র করে দুই কাউন্সিলর প্রার্থীর সমর্থকদের সংঘর্ষে ৮জন আহত হয়েছে। গুরুতর আহত পাঁচজনকে স্থানীয়রা উদ্ধার করে আমতলী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেছে। ঘটনাটি ঘটেছে সোমবার দুপুর আড়াইটার দিকে আমতলী পৌরসভার ফকিরবাড়ীর সামনে।

জানাগেছে, আমতলী পৌর নির্বাচনে ১ নং ওয়ার্ডের উটপাখি প্রতিকের কাউন্সিলর প্রার্থী মীর হাবিবুর রহমানের সমর্থকরা ফকিরবাড়ী এলাকার পোষ্টার টানাতে যায় এমন দাবী কাউন্সিলর প্রার্থীর হাবিবুর রহমানের। এ সময় ডালিম প্রতিকের অপর কাউন্সিলর প্রার্থী হাবিবুর রহমান ফকিরের সমর্থকদের মধ্যে কাটাকাটি হয়। এক পর্যায় উভয় পক্ষ সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। এতে দুই পক্ষের অন্তত ৮ জন আহত হয়েছে। আহত প্রার্থী মীর হাবিবুর রহমান,মুছা,কুদরাত,মামুন ও ইমরানকে আমতলী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে। অপরদিকে নিবাচনকে কেন্দ্র করে মিঠাবাজার এলাকার কাজল বেগম প্রতিবেশী হনুফা ও মারিয়াকে পিটিয়ে জখম করেছে।

আহত ইমরান বলেন,কাউন্সিলর প্রার্থী মীর হাবিবুর রহমান ও তার সমর্থকরা আমাকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে আহত করেছে। আমি এ ঘটনার বিচার চাই।

কাউন্সিলর প্রার্থী মীর হাবিবুর রহমান বলেন,পোষ্টার টানাতে গেলে আমার ৬-৭ জন সমর্থককে হাবিবুর রহমান ফকিরের সমর্থকরা পিটিয়ে জখম করেছে।

হাবিবুর রহমান ফকির বলেন,আমার পোষ্টার ছিড়ে মীর হাবিবুর রহমানের সমর্থকরা তার পোষ্টার টানাতে ছিল। এ নিয়ে দুই পক্ষের মধ‌্যে কথা কাটাকাটি হয়। এক পর্যায় মীর হাবিবুর রহমান ও তার লোকজন আমার লোকজনকে  কুপিয়ে গুরুতর জখম করেছে।

আমতলী উপজেলা স্বাস্থ‌্য কমপ্লেক্সের মেডিকেল অফিসার ডাঃ মেহেরীন আশ্রাফ বলেন,আহতদের যথাযথ চিকিৎসা দেয়া হয়েছে। একজনকে পটুয়াখালী পাঠানো হয়।

আমতলী থানার ওসি কাজী সাখাওয়াত হোসেন তপু বলেন,খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা হয়েছে। অভিযোগ পেলে আইনগত ব‌্যবস্থা নেয়া হবে।

পায়রায় বড়শীতে ধরা পড়লো বিশাল আকৃতির কোরাল মাছ

//মাহমুদুল হাসান, আমতলী, বরগুনা প্রতিনিধি//

বরগুনার তালতলী সাগর মোহনার পায়রায় ধরা পরেছে সাড়ে আট কেজি ওজনের কোরাল মাছ।

রোববার (২৫ ফেব্রুয়ারি) দিবাগত রাত সাড়ে তিনটায় পায়রা নদীর তেতুলবাড়িয়া এলাকায় এ মাছটি ধরা পড়ে।

তালতলী উপজেলার ৬ নং নিশানবাড়িয়া ইউনিয়নের জেলে সাগর রাতের জোয়ারে পায়রা নদীতে মাছ ধরতে গেলে বড়শীতে ধরা পরে বিশাল আকৃতির কোরাল মাছটি। পরে তালতলী বাজারে জমাদ্দার ফিস আড়ৎ এ বিক্রি করতে আসলে খোলা ডাকে এক হাজার টাকা কেজি দরে স্হানীয় মাছ বাজারের মাছ ব্যবসায়ী আল আমিন হাওলাদার মাছটি বিক্রয়ের কিনে নেয়।

এ ব্যাপারে মাছ বিক্রেতা আল আমিন বলেন,নদীর বড়শীতে ধরা পরা মাছের দাম একটু বাড়তি হয়। এর কারণে হিসেবে বলেন,বড়শীর মাছ দীর্ঘক্ষণ সতেজ থাকে এবং ফ্রিজে রাখলেও গুনগত মান ভালো থাকে।আল আমিন মাছটি ক্রয়ের পরপরই ৮৮০০ হাজার টাকায় বিক্রি করেন।

পৌরসভা মেয়র নির্বাচন// আমতলীর প্রার্থী সাবেক ও বর্তমান মেয়র

//মাহমুদুল হাসান, আমতলী, বরগুনা প্রতিনিধি//

বরগুনা আমতলী পৌরসভার মেয়র পদে বর্তমান ও সাবেক মেয়র প্রার্থী হয়ে ভোটযুদ্ধে নেমে পড়েছেন। মেয়র প্রার্থী ছাড়াও ৯টি ওয়ার্ডের কাউন্সিলর প্রার্থীরাও ভোটের আমেজে জাগিয়ে তুলেছে পাড়া,মহল্লা। পৌর এলাকার সর্বত্র ছেয়ে গেছে পোস্টার আর ফেস্টুনে। প্রচার যন্ত্রেও নির্দিষ্ট সময়ে চালিয়ে যাচ্ছে অবিরাম প্রচারণা। এতে যেন মানুষের ক্লান্তি বেড়ে যাচ্ছে।তবে ভোটারদের মাঝে মুল আকর্ষণ বর্তমান ও সাবেক মেয়রের ভোট যুদ্ধ।

আগামী আগামী ০৯ মার্চ আমতলী পৌরসভায় ভোট অনুষ্ঠিত হবে। দিনক্ষণ খানিকটা সামনে থাকলেও প্রচার প্রচারণায় যেন হাঁপিয়ে পড়েছেন প্রার্থীরা।ভোটারদের বাড়ী বাড়ী গিয়ে ভোট প্রার্থনা করছেন প্রার্থীরা।সেই সাথে দিচ্ছেন প্রতিশ্রুতির ফুলঝুরিও। নির্বাচনে উৎসবমুখর পরিবেশ থাকলেও  ভোটারদের মাঝে দিনদিন শঙ্কা বেড়েই চলছে। তাদের প্রশ্ন শেষ পর্যন্ত ভোট দিতে আদৌ যেতে পারবেন কি না ভোটের মাঠে এমন শঙ্কাও বিরাজ করছে ভোটারদের মাঝে।

পৌরসভার মেয়র পদে উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও বর্তমান মেয়র মোঃ মতিয়ার রহমান (মোবাইল) প্রতীক নিয়ে প্রার্থী হয়ে ভোটারদের কাছে যাচ্ছেন,তিনি উন্নয়নের ধারা অব্যাহত ও আগামীর প্রতিশ্রুতি দিয়ে ভোটারদের কাছে ভোট প্রার্থনা করছেন।

তার প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী হিসেবে আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি সাবেক মেয়র বীর মুক্তিযোদ্ধা নাজমুল আহসান খাঁন (হ্যাঙ্গার) প্রতিক নিয়ে বসে নেই। তিনিও দিন-রাত যাচ্ছেন ভোটারদের দ্বারে দ্বারে।বলছেন তার আমলে উন্নয়নের কথা এবং দিচ্ছেন নানা প্রতিশ্রুতি।উভয় প্রার্থীকে জেতাতে দলের নেতাকর্মী ও সমর্থকরা চেষ্টা করছেন সমান তালে।

প্রতিদ্বন্দ্বী দুই প্রার্থী ছাড়াও মেয়র পদে রয়েছেন,জহিরুল ইসলাম খোকন,জিল্লুর রহমান,নুসরাত জাহান,, ইফতেকার হাসান,আব্দুল্লাহ আল মামুন, আবুল কালাম আজাদ ও কামাল হোসেন। মেয়র পদে তারা প্রার্থী হলেও তাদের প্রচার প্রচারণা নেই নির্বাচনী মাঠে।

এর বাইরেও ৯টি ওয়ার্ডে (পুরুষ) ৩৬ জন কাউন্সিলর পদে প্রার্থী হয়ে লড়ছেন। নারী কাউন্সিল পদে ০৯ জন প্রার্থী হয়ে লড়ছেন। আগামী ০৯ মার্চ পৌর এলাকায় ১৫ হাজার ৮ ’শ ৩৯ ভোটার তাদের ভোটের মাধ্যমে পছন্দের নেতা নির্বাচন করবেন।

নির্বাচন নিয়ে জানতে চাইলে উপজেলা নির্বাচন অফিসার ও সহকারী রিটানিং কর্মকর্তা সেলিম রেজা জানান,পৌর নির্বাচন অবাধ,সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ করতে কোনো অবস্থাতেই চেষ্টার কমতি থাকবে না সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের।

আপন খালাকে হত্যা করে তার কানের রিং বিক্রি করে খুনিকে টাকা দেয় ভাগ্নে

//মাহমুদুল হাসান,আমতলী, বরগুনা প্রতিনিধি//

বরগুনার তালতলীর শারিকখালী ইউনিয়নের দক্ষিণ নলবুনিয়া গ্রামে জমির লোভে আপন খালাকে খুন করেছে মালেক (৩৮) নামের এক গ্রাম পুলিশ। খুনের মূল ঘটনা থেকে নিজেকে রক্ষা করতে আপন মামাকে বাদী বানিয়ে গ্রামে জমিজমা নিয়ে বিরোধ প্রতিপক্ষকে আসামী বানিয়ে চাকুরী করে আসছিলো গ্রাম পুলিশ আঃ মালেক। শনিবার (২৪ ফেব্রুয়ারী) সকালে কচুপাত্রা বাজার থেকে তাকে গ্রেফতার করে বরগুনা গোয়েন্দা পুলিশ।

বরগুনা জেলা গোয়েন্দা শাখার উপ পরিদর্শক ও ক্লুলেস হত্যা মামলাটির তদন্ত কর্মকর্তা মোঃ মোশারফ হোসেন বলেন গত বছরের ৩ এপ্রিল রাত আটটার সময় নিহত সাফিয়া বেগম বিকাশে টাকা তোলার জন্য ঘর থেকে বের হয়। এরপরে তাকে ৬ এপ্রিল শারিকখালীর ধোপার ভিটার পূর্ব পাশে কালিরখালের কেওড়াগাছের নীচ থেকে তালতলী থানা পুলিশ।

এই ঘটনায় মালেক তার আপন মামা পটুয়াখালী জেলার ছোট বিঘাই গ্রামে বসবাসরত ইউনুস চৌকিদার ঐ দিনই তাদের সঙ্গে জমিজমা বিরোধ রয়েছে ৪ জনকে আসামি করে একটি হত্যা মামলা দায়ের করে। মামলার আসামীরা হলো ১. সোনা মিয়া ২. জাফর ৩. সিদ্দিক ও ফারুক ঘরামী।

সাফিয়া খাতুন হত্যার রহস্য উন্মোচন করতে গত বছরের জুন মাসে মামলাটি তদন্ত করতে বরগুনা জেলা গোয়েন্দা সংস্থার উপর ন্যাস্ত করা হয়। এব্যাপারে তদন্ত কর্মকর্তা আরো বলেন, নিহত সাফিয়ার বিভিন্ন তথ্য জানতে গিয়ে তার ঘনিষ্ঠ ও নির্ভরশীল ব্যক্তি স্হানীয় ফকির করিম খাঁ নিখোঁজ ঘটনার পর থেকে। তাকে খুঁজে পেতে গোপনে বিভিন্ন ভাবে চেষ্টা চালানোর পর গতকাল শুক্রবার মংলা পৌরসভা থেকে গ্রেফতার করে।

করিম খাঁ কে গ্রেফতারের পর তদন্তকারী কর্মকর্তার কাছে সকল ঘটনা স্বীকার করে বলে নিহত সাফিয়া বেগম তাকে খুব মান্য করতো। এই ঘটনার মূলহোতা আঃ মালেকের সঙ্গে জমিজমা নিয়ে বিরোধ ছিল। সে জমি দখল করতে ৪০ হাজার টাকায় ভাড়া করা হয়। বিকাশে টাকা তোলার পর বাড়ির সামনে আসলে তাকে পাশের সূর্যমুখী ক্ষেতের কাছে নিয়ে যাই। সেখানে নিয়ে গেলে মুখ চেপে শ্বাসরোধ করে আঃ মালেক ও তার সহায়তায় সাফিয়া বেগমকে হত্যা করে কালির খালে পুঁতে রাখা হয়। পরে আঃ মালেক নিহত সাফিয়ার কানে স্বর্ণের রিং বিক্রি করে ২০ হাজার টাকা দেয় এবং পালিয়ে যাওয়ার জন্য আরো ৫ হাজার টাকা দেয়। বাকী ১৫ হাজার টাকা আর দেয় নাই। আমি যেন ভারতে পালিয়ে যাই, ভারতে পালিয়ে গেলে কেউ আর এই ঘটনা জানতে পারবেনা।

এব্যাপারে বরগুনা জেলা গোয়েন্দা শাখার অফিসার ইনচার্জ মোঃ বশির আলম  বলেন, বিভিন্ন সোর্স ও ইলেকট্রনিকস ডিভাইস ব্যবহার করে তালতলীর সাফিয়া ক্লুলেস হত্যাকান্ডের প্রকৃত অপরাধী করিম খাঁ কে আটক করা হয়। তাকে জিজ্ঞেসাবাদ করার পর হত্যাকান্ডের মূল পরিকল্পনাকারী গ্রাম পুলিশ আঃ মালেক পালিয়ে যাবার সময় আজ সকালে কচুপাত্রা বাজার থেকে গ্রেফতার করা হয়। বরগুনা ডিবি পুলিশ বরগুনার আরো একটি ক্লুলেস হত্যার রহস্য উন্মোচন করতে সক্ষম হয়েছে। গ্রেফতার কৃত আসামিদের বিরুদ্ধে বিধি মোতাবেক ব্যবস্হা করা হচ্ছে।

গত এক বছরের মধ্যে বরগুনা জেলা গোয়েন্দা শাখার উপ পরিদর্শক মোঃ মোশারফ হোসেন ৪টি ক্লুলেস আলোচিত হত্যার রহস্য উন্মোচন করতে সক্ষম হয়েছে। তালতলীর খালুর হাতে ভায়রার মেয়ে ধর্ষণের পর হত্যার রহস্য, বামনায় কচুক্ষেতে বৃদ্ধ সাফিয়া হত্যাকান্ড, বেতাগীতে আলেয়া নামক বাড়ি ওয়ালাকে সম্পত্তি হাতিয়ে নেয়ার জন্য ভাড়াটিয়া মাদ্রাসা শিক্ষক কর্তৃক হত্যা কান্ড ও ঘটনার রহস্য উন্মোচন করা ছিল উল্লেখযোগ্য।

আমতলীতে ঢোল সহরত সহকারে দখলীয় অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ

মাহমুদুল হাসান, আমতলী (বরগুনা) প্রতিনিধিঃ

বরগুনার আমতলী পৌর শহরে রেকর্ডীয় সম্পত্তি অবৈধ দখলে নিয়ে স্থাপনা নির্মাণ করে দীর্ঘদিন বসবাস করার পর আদালতের নির্দেশে ঢোল সহরত সহকারে উচ্ছেদ করা হয়েছে।

আজ সকাল দশটায় আমতলী পৌর সভার ৪নং ওয়ার্ডের ওয়াপদা সড়কে এ উচ্ছেদ অভিযান চালানো হয়।

জানা গেছে,আমতলী পৌরসভার ৪নং ওয়ার্ডের ওয়াপদা এলাকায় আলহাজ্ব ফিরোজা বেগম সিকদারের রেকর্ডকৃত ৭ শতাংশ জমি মৃত আফজাল হোসেন ও সিরাজ উদ্দিন মৃধা দীর্ঘদিন যাবৎ স্থাপনা তৈরি করে বসবাস করে আসছিল।এ নিয়ে জমির মালিক পক্ষ আদালতে মামলা করায় দীর্ঘদিন  পরিচালনার পর বাদী পক্ষ রায় পেয়ে আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী আজ তাদের জমির দখল পেয়েছেন।

আজ সকালে অবৈধ দখলে থাকা স্থাপনা উচ্ছেদ করে   বরগুনা থেকে আসা আদালতের একটি টীম বাদী পক্ষের কাছে জমি বুঝিয়ে দেন।

এ বিষয়ে জমির মালিক ফিরোজা বেগমের জামাতা এড, সিদ্দিকুর রহমান পান্না বলেন,দীর্ঘদিন মামলা চালানোর পর আদালত আমাদের পক্ষে জমিটি বুঝিয়ে দিয়েছেন।

বরগুনার আমতলীতে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসে ফ্রি মেডিকেল ক্যাম্প অনুষ্ঠিত

//মাহমুদুল হাসান, আমতলী, বরগুনা প্রতিনিধি//

আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উপলক্ষে আমতলী উপজেলার হলদিয়া ইউনিয়নে ডাঃ রিয়াজ মৃধার উদ্যোগে ফ্রি মেডিকেল ক্যাম্প অনুষ্ঠিত হয়।

দিনব্যাপী উপজেলার হলদিয়া ইউনিয়নের পূর্ব চিলা গ্রামে তার পিতা মাতার নামে (প্রস্তাবিত) রফিক-নুরজাহান হসপিটাল তার নিজ বাড়ীতে আটজন ডাক্তার দ্বারা রোগীদের সেবা প্রদান করা হয়।

ফ্রী এ মেডিকেল ক্যাম্পে রোগীদের ডাক্তারের পরামর্শ, রক্তের গ্রুপ নির্ণয়, উচ্চ রক্তচাপ নির্ণয় ও ডায়াবেটিস নির্ণয় করা হয়। এতে সম্পূর্ণ বিনামূল্যে চিকিৎসকের স্বাস্থ্যসেবা পান পূর্বচিলা, হলদিয়া. ধানখালী , আমতলী সদর ইউনিয়নের প্রায় একহাজার রোগী। উক্ত ক্যাম্পে সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত অত্র এলাকার লোকজনকে ফ্রি চিকিৎসা প্রদান করা হয়।

ফ্রি মেডিকেল ক্যাম্পে অর্থোপেডিক্স বিভাগের ডা. রিয়াজ মৃধা, চর্ম ও যৌন বিভাগের ডা. ফাইজুর রহমান, শিশু বিভাগের ডা.শোয়েব এইচ খান, স্ত্রী রোগ প্রসূতি ও গাইনী বিভাগের ডা. ডলি বিনতে হক, স্ত্রী রোগ প্রসূতি ও গাইনী বিভাগের ডা. লুনা বিনতে হক, মেডিসিন বিভাগের ডা. মাসুদ পারভেজ, চক্ষু বিভাগের ডা. এস এম শামসুল আরেফিন, বক্ষব্যাধি, হৃদরোগ, হরমোন মেডিসিন ও ডায়াবেটিস বিশেষজ্ঞ ডা. ইশতিয়াক আহমেদ তালকদার সহ আগত বেশ কয়েকজন ডাক্তার প্রায় একহাজার রোগীদের সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত অত্র এলাকার লোকজনকে ফ্রি চিকিৎসা প্রদান করেন।

ডাঃ মো.রিয়াজ মৃধা বলেন, আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উপলক্ষে প্রতিবছরের ন্যায় এ বছরও আমার বাবা-মায়ের নামে প্রস্তাবিত হসপিটাল প্রাঙ্গণে এই ক্যাম্প করা হয়েছে। সকলে আমার পিতা মাতার জন্য দোয়া করবেন। এভাবে যেন মানুষের পাশে দাঁড়াতে পারি।

অমর একুশে ফেব্রুয়ারি উদযাপনে আমতলী অনলাইন প্রেস ক্লাবের আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত

//মাহমুদুল হাসান, আমতলী, বরগুনা প্রতিনিধি//

অমর একুশে ফেব্রুয়ারী ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উপলক্ষ্যে আমতলী অনলাইন প্রেস ক্লাবের আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

আজ সকাল এগারোটায় সংগঠনের সভাপতি খান মোঃ সাইফ উদ দৌলা শাওন এর সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক বিপ্লব চন্দ্র দাস এর সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত আলোচনা সভায় বক্তব্য রাখেন সংগঠনের সহ-সভাপতি ও বাংলাদেশ ক্রাইম সংবাদ এর আমতলী উপজেলা প্রতিনিধি মোঃ রেদোয়ান,সাংগঠনিক সম্পাদক ও দৈনিক দেশসেবা পত্রিকার উপজেলা প্রতিনিধি মানাফী ইসলাম নাজমুল,অর্থ ও দপ্তর সম্পাদক ও মর্নিং নিউজ এর স্টাফ রিপোর্টার মোসাঃ মৌসুমী, তথ্য,প্রযুক্তি,সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক সম্পাদক তামান্না ইসলাম প্রমুখ।

আমতলী পৌর নির্বাচনে নামকাওয়াস্তে ৮ মেয়র প্রার্থী!

মাহমুদুল হাসান,আমতলী (বরগুনা) প্রতিনিধিঃ

বরগুনার আমতলী পৌরসভা সাধারণ নির্বাচনে মেয়র পদে ১০ জন প্রার্থী মনোনয়ন পত্র দাখিল করেছেন। এর মধ্যে ৮ প্রার্থী নামকাওয়াস্তে মেয়র প্রার্থী হয়েছেন এমন দাবী সাধারণ ভোটারদের। এ ৮ প্রার্থীকে ৯০ ভাগ ভোটার চিনেন না। শুধুমাত্র নিজেদের নাম জাহির ও অন্য প্রার্থীকে সহযোগীতা করতেই তারা প্রার্থী হয়েছেন। শেষ পর্যন্ত এরা প্রার্থী থাকলে তাদের সকলেই জামানত হারানোর আশঙ্কা রয়েছে।

জানাগেছে, আমতলী পৌরসভা নির্বাচন আগামী ৯ মার্চ। গত ১৩ ফেব্রæয়ারী মেয়র পদে উপজেলা আওয়ামীলীগ সভাপতি মেয়র মতিয়ার রহমান, উপজেলা আওয়ামীলীগ সহ-সভাপতি সাবেক মেয়র বীর মুক্তিযোদ্ধা নাজমুল আহসান খাঁন, জিল্লুর রহমান, আবুল কালাম আজাদ, জহিরুল ইসলাম খোকন, নুসরাত জাহান, কামাল মৃধা, আব্দুল্লাহ আল মামুন, মুহা ইফতেকার হাসান ও জেসিকা তারতিলা জুথি মনোনয়নপত্র দাখিল করেছেন। এদের মধ্যে বর্তমান মেয়র মতিয়ার রহমান ও সাবেক মেয়র নাজমুল আহমান খাঁন জনগন ও ভোটারদের কাছে ব্যপক পরিচিত। অপর ৮ জন প্রার্থী জিল্লুর রহমান, আবুল কালাম আজাদ, জহিরুল ইসলাম খোকন, নুসরাত জাহান, কামাল মৃধা, আব্দুল্লাহ আল মামুন, মুহা ইফতেকার হাসান ও জেসিকা তারতিলা জুথি নাম লেখাতেই মেয়র প্রার্থী হিসেবে মনোনয়ন পত্র দাখিল করেছেন। এ ৮ প্রার্থীর নেই কর্মী ও সমর্থক। এরা ডামি প্রার্থী হিসেবে মুল প্রার্থীদের সহযোগীতা করতে প্রার্থী হয়েছেন এমন দাবী ভোটারদের। এর মধ্যে নুসরাত জাহান মেয়র প্রার্থী মতিয়ার রহমানের স্ত্রী এবং আবুল কালাম আজাদ তার ভাগ্নে। জেসিকা তারতিলা জুথি কাউন্সিলর জিএম মুছার স্ত্রী। কামাল মৃধা, আব্দুল্লাহ আল মামুন ও মুহা ইফতেকার হাসান এ তিনজনকে কেউ চিনেন না। আমতলী পৌরসভার ১৫ হাজার ৮ ’শ ৩৯ ভোটারের মধ্যে ৯০ ভাগ ভোটার তাদের চেনেন না এবং জানেন না বলে দাবী সাধারণ ভোটারের।

ভোটার লুৎফর রহমান, স্বপন মিয়া ও খাদিজা বলেন, ৮ প্রার্থীর মধ্যে কামাল মৃধা, আব্দুল্লাহ আল মামুন ও মুহা ইফতেকার হাসান চেনাতো দুরের কথা নাম শুনিনি। এরাতো শুধু নিজেদের নাম জাহির করতেই প্রার্থী হয়েছেন।

মেয়র প্রার্থী আব্দুল্লাহ আল মামুন ও মুহা ইফতেকার হাসান মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তাদের ফোন বন্ধ পাওয়া গেছে।

মেয়র প্রার্থী কামার মৃধা বলেন, পরিচিতি না থাকলেও অল্প দিনের মধ্যে পরিচিত হয়ে যাব। যে মতে কাজ চলছে।

আমতলী উপজেলা নাগরিক ফোরামের সাধারণ সম্পাদক অ্যাড. শাহাবুদ্দিন পান্না বলেন, দুই প্রার্থী ছাড়া অধিকাংশ প্রার্থী জনগন চিনেন না। এরা কেন প্রার্থী হয়েছেন তা তারাই ভালো বলতে পারবেন।

হারিয়ে যেতে বসেছে আবহমান বাংলার চিরচেনা রক্তলাল শিমুল গাছ

//মাহমুদুল হাসান, আমতলী, বরগুনা//

দিন বদলের সাথে সাথে হারিয়ে যাচ্ছে আবহমান বাংলার চির চেনা রক্ত লাল শিমুল গাছ।শীত বিদায় নিচ্ছে।গাছে গাছে নতুন সবুজ পাতার সমারোহ।সবুজে ছেয়ে গেছে ফসলের মাঠ। মৃদু লু-হাওয়ায় নাকে ভেসে আসছে শিমুল ফুলের ঘ্রাণ। দখিনের জেলা বরগুনার প্রকৃতিতে এখন এমনি রুপ।প্রকৃতিতে বইছে দখিনা বাতাস।কোকিলের সুমিষ্ট কুহুতানে ফাগুনের উত্তাল হাওয়া দিচ্ছে দোলা। গাছে গাছে জেগে উঠেছে সবুজ পাতা। মুকুল আর শিমুল ফুল দেখে বোঝা যায় শীত বিদায় নিয়ে এসেছে ফাগুন।

শিমুল ফুলে এখন বসন্তের হাসি।ঋতুরাজ বসন্তের আগমনে আবহমান গ্রামবাংলার প্রকৃতি রাঙিয়ে উঠে নয়নাভিরাম শিমুল ফুল।দূর থেকে হঠাৎ দেখলে ঠিক মনে হবে নতুনের আগমনে কেউ লাল গালিচা বিছিয়ে রেখেছেন।নিঃসঙ্গ যুগে যুগে শিমুল ফুল নিয়ে গান, গল্প,কবিতা,উপন্যাস লিখেছেন অনেক সাহিত্যিক।

বাংলাদেশে এমন কোনো অঞ্চল নেই যেখানে শিমুল ফুলের দেখা পাওয়া যেত না। জেলার পথে প্রান্তরে সারি সারি কিংবা বাঁশ ঝাড়ের ফাঁকে দাঁড়িয়ে উকি দিচ্ছে শিমুলের গাছ,এ যেন অনন্য এক সৌন্দর্য।গাছে, গাছে ফুটে আছে শিমুল ফুল।চারিদিকে ছড়িয়ে পড়ছে এই ফুলের পাগল করা সৌন্দর্যের নয়নাভিরাম কিরন। বাতাসে মিশে সৃষ্টি করছে মনোমুগ্ধকর মৌ মৌ গন্ধ ও সৌন্দর্য্য।যে গন্ধ ও সৌন্দর্য্য মানুষের মনকে করে তুলে বিমোহিত।সেই সাথে পাখিরাও যেন সেই প্রকৃতির ছোঁয়া নিচ্ছে।তাই শিমুল ফুলের কাছে বেশিই কদর বেড়েছে পাখির।

জেলার বিভিন্ন এলাকায় ঘুরে সাধারন মানুষের সাথে কথা বলে জানা যায়,শিমুল ফুল শুধু সৌন্দর্য্য ছড়ায় না,আমাদের আরামদায়ক বিছানায় শিমুলের তুলা বেশ অতুলনীয়।কিন্তু কালের বিবর্তনে  ফাগুনে চোখ ধাঁধানো গাঢ় লাল রঙের অপরূপ সাজে সজ্জিত শিমুল গাছ এখন বিলুপ্ত প্রায়। এক যুগ আগেও গ্রামের অধিকাংশ বাড়ির আনাচে-কানাচে,রাস্তায়,পতিত ভিটায় প্রচুর শিমুল গাছ দেখা যেত। গাছে গাছে প্রস্ফুটিত শিমুল ফুলই স্মরণ করিয়ে দিত,এসেছে বসন্ত।প্রাকৃতিকভাবে তুলা আহরণের অন্যতম অবলম্বন শিমুল গাছ।

জানা যায়,এ গাছের সব অংশেই রয়েছে ভেষজগুণ।শীতের শেষে শিমুলের পাতা ঝরে পড়ে। বসন্তের শুরুতেই গাছে ফুল ফোটে। আর এ ফুল থেকেই হয় ফল। চৈত্র মাসের শেষে ফল পুষ্ট হয়। বৈশাখ মাসের দিকে ফলগুলো পেকে শুকিয়ে যায়। বাতাসে আপনা-আপনিই ফল ফেটে প্রাকৃতিকভাবে তুলার সঙ্গে উড়ে দূর-দূরান্তে ছড়িয়ে পড়া বীজ থেকেই নতুন গাছের পুনরায় জন্ম হয়।অন্যান্য গাছের মতো এ গাছ কেউ শখ করে রোপণ করে না। নেওয়া হয় না কোনো যত্ন। প্রাকৃতিকভাবেই গাছ বেড়ে ওঠে। এ গাছের প্রায় সব অংশই কাজে লাগে। এর ছাল, পাতা ও ফুল গবাদিপশুর খুব প্রিয় খাদ্য।

বর্তমানে এ গাছ কারণে-অকারণে কেটে ফেলছে মানুষ। অতীতে নানা ধরনের প্যাকিং বাক্স তৈরি ও ইটভাটার জ্বালানি, দিয়াশলাইয়ের কাঠি হিসেবে ব্যবহার হলেও সেই তুলনায় রোপণ করা হয়নি। ফলে আজ বিলুপ্তির পথে শিমুল গাছ।বিভিন্ন সূত্র হতে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী বর্তমানে শিমুল তুলা ৪০০ থেকে ৫০০ টাকা কেজি,আর গার্মেন্টের জুট দিয়ে তৈরি তুলা ৪০ থেকে ৫০ টাকা,কাপাশ তুলা ২৫০ এবং পজ্ঞের তুলা ৭০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।বন ও পরিবেশ নিয়ে কাজ করা সংশ্লিষ্টরা জানান, বাণিজ্যিকভাবে এখন দেশের কোথাও এই শিমুলগাছ বা তুলা চাষ করা হয় না।

এটি প্রাকৃতিকভাবে বেড়ে ওঠে। যার কারণে শিমুলগাছ ধীরে ধীরে হারিয়ে যাচ্ছে। এর তুলা খুবই ভালো এটি বাণিজ্যিকভাবে চাষ হলে মানুষ আসল তুলার মর্ম বুঝত।গ্রামে শিমূল গাছ ঔষধি গাছ হিসেবেও পরিচিত। কিন্তু কালের বিবর্তনে আর আধুনিকতার ছোঁয়ায় তেমন চোখে পড়ে না শিমুল গাছের। প্রতিনিয়ত বিলুপ্তি হয়ে যাচ্ছে শিমুল গাছ। যার কারণে গ্রাম বাংলার বুক থেকে হারিয়ে যেতে বসেছে, অতি চিরচেনা এই শিমুল গাছ।