শম্ভু’র পক্ষে কাজ করবেন শিহাব

//সাইফুল্লাহ নাসির, বরগুনা প্রতিনিধি//

বরগুনা-১ আসন থেকে দলীয় মনোনয়ন না পেয়ে স্বতন্ত্র প্রার্থী হওয়ার গুঞ্জন উঠলেও বিষয়টি সত্য নয় বলে জানিয়েছেন আওয়ামী লীগ নেতা এস এম মশিউর রহমান শিহাব।উল্টো তিনি দলীয় প্রার্থীর পক্ষে কাজ করবেন বলে ঘোষণা দিয়েছেন।মঙ্গলবার (২৮ নভেম্বর) নিজ ফেসবুক আইডিতে এ বিষয় নিয়ে একটি পোস্ট করেছেন মশিউর রহমান সিহাব।

পোস্টে সিহাব লিখেন,প্রিয় বরগুনা বাসী,১০৯ বরগুনা-১ আপনাদের জানাই আমার সালাম।বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ দেশের অতি প্রাচীন ও বৃহৎ একটি রাজনৈতিক সংগঠন। এই সংগঠনের রাজনীতি করতে গেলে সেখানে পছন্দ,অপছন্দ থাকতেই পারে। বিভিন্ন জনের বিভিন্ন মতামতও থাকতে পারে। আমরা যার যার সিদ্ধান্তে অবিচল ও দৃঢ় প্রতিজ্ঞ। জননেত্রী শেখ হাসিনার সিদ্ধান্তের প্রতি শ্রদ্ধা রেখে দলের প্রতি আমি অবিচল ও অঙ্গীকারবদ্ধ।

আপনাদের সকলের দোয়ায় ও ভালোবাসায় আমি বরগুনার সর্বস্তরের মানুষের কল্যাণে দীর্ঘদিন ধরে কাজ করে এসেছি। আপনারা সবাই আন্তরিকতার সাথে ও স্বতঃস্ফূর্তভাবে আমার কাজের মূল্যায়ন করেছেন। আমি আপনাদের কাছে কৃতজ্ঞ।নৌকা বঙ্গবন্ধুর প্রতীক,মুক্তিযুদ্ধের প্রতীক, বিজয়ের প্রতীক। এই নৌকার জন্য বাংলাদেশের এই প্রান্ত থেকে ওই প্রান্তে ভোট চেয়ে বেড়িয়েছি, নিরলস ভাবে কাজ কোরে এসেছি। নৌকার বিপরীতে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচন করবার কোনই মানসিকতা আমার নেই। তাছাড়া আমার কিছু পারিবারিক জটিলতার কারনে আমি স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে অংশ নিতে পারছি না।

উল্লেখ্য, বরগুনার সর্বস্তরের জনগন ও নেতা কর্মীরা আমাকে স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়ে নির্বাচন করবার জন্য উৎসাহিত কোরেছেন এবং বিশেষভাবে অনুরোধ করেছেন। আপনাদের কাছে আমি বিশেষভাবে কৃতজ্ঞ। আপনাদের এই ইচ্ছেকে আমি সন্মান জানাতে পারলাম না। আমায় ক্ষমা করবেন।আমি সারাজীবন দলের পক্ষে কাজ কোরে যেতে চাই। আমার সকল নেতা কর্মীদের উদ্দেশ্যে আমি বলতে চাই আপনারা দীর্ঘ বছর ধোরে আমার সাথে যে অক্লান্ত পরিশ্রম করেছেন,যেভাবে প্রতিটি কাজের ক্ষেত্রে আমাকে উৎসাহিত ও অনুপ্রাণিত করেছেন,সব সময় আমার পাশে যেভাবে থেকেছেন, আপনাদের এই অবদান ও এই ঋন শোধযোগ্য নয়।

আমার সকল নেতা-কর্মীদের প্রতি বিশেষ অনুরোধ, কাউকে কটাক্ষ কোরে কথা বলা ও ব্যঙ্গ- বিদ্রুপ করা এবং হেয় প্রতিপন্ন করা থেকে সবাই বিরত থাকবেন। জননেত্রী শেখ হাসিনার উপর শ্রদ্ধা, আস্হা ও বিশ্বাস রেখে আমরা সবাই এক হয়ে নৌকার পক্ষে কাজ করবো। এই হোক আমাদের দৃঢ় প্রত্যয়।আপনাদের সাথে ছিলাম,আছি ও সারাজীবন আপনাদের যে কোন বিপদে,যে কোনো দুর্দিনে,যে কোনো পরিস্থিতিতে,আপনাদের  পাশে থাকবো। আপনারা আমার জন্য দোয়া করবেন। জয় বাংলা,জয় বঙ্গবন্ধু,জয় হোক নৌকার।

Daily World News

বাংলাদেশিদের উৎপাদিত সবজিতে সয়লাব কুয়েতের বাজার

রূপসায় রবি মৌসুমে’র বীজ ও সার সহায়তার উদ্বোধন

শম্ভু’র আগমনে আমতলীতে বিশাল পথসভা অনুষ্ঠিত

//সাইফুল্লাহ নাসির, বরগুনা প্রতিনিধি//

আগামী ৭ জানুয়ারী অনুষ্ঠিতব্য বরগুনা-১ (বরগুনা-আমতলী-তালতলী) আসনের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সংসদ সদস্য পদে নৌকা প্রতীকের প্রার্থী এডভোকেট ধীরেন্দ্র দেবনাথ শম্ভু’র আমতলীতে আগমনে মোটরসাইকেল শোভাযাত্রা ও পথসভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

মঙ্গলবার সকাল দশটায় আমতলী উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও পৌর মেয়র মতিয়ার রহমান এর নেতৃত্বে পৌর শহর থেকে বিশ কিলোমিটার দূরে উপজেলার শাখারিয়া থেকে বরগুনা-১ আসনের আওয়ামী লীগের প্রার্থী এডভোকেট ধীরেন্দ্র দেবনাথ শম্ভু’কে বিশাল মোটরসাইকেল শোডাউনের মাধ্যমে বরণ করে পুনরায় মোটর শোভাযাত্রা সহকারে আমতলীতে পৌঁছে পৌর শহরের মাছ বাজারে পথসভায় মিলিত হয়।

শম্ভু'র আগমনে আমতলীতে বিশাল পথসভা অনুষ্ঠিত

উপজেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি ও পৌর মেয়র মতিয়ার রহমান এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত পথসভায় বক্তব্য রাখেন, আমতলী উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান এডভোকেট এম এ কাদের মিয়া,তালতলী উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান রেজবি-উল-কবির,আমতলী উপজেলা পরিষদ ভাইস চেয়ারম্যান ও আমতলী পৌর আওয়ামী লীগের সভাপতি মোঃ মজিবর রহমান,উপজেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি আলহাজ্ব নুরুল ইসলাম মৃধা, সাধারণ সম্পাদক প্রভাষক জিএম ওসমানী হাসান,জেলা আওয়ামী যুবলীগের সভাপতি রেজাউল করিম এটম,উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ন সাধারণ সম্পাদক ও পৌর কাউন্সিলর জাহিদুল ইসলাম জুয়েল তালুকদার প্রমুখ।

এসময় উপস্থিত ছিলেন জেলা,উপজেলা ও ইউনিয়ন আওয়ামী লীগ এবং সহযোগী সংগঠনের নেতৃবৃন্দ সহ আমতলী উপজেলার সাত ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান,ইউপি সদস্য সহ বিভিন্ন সামাজিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ প্রমুখ।

পথ সভায় সংসদ সদস্য প্রার্থী এডভোকেট ধীরেন্দ্র দেবনাথ শম্ভু বলেন,বরাবরের মতো আসন্ন দ্বাদশ সংসদ নির্বাচনেও এ আসনটি আওয়ামী লীগের সভানেত্রী প্রধানমন্ত্রীকে উপহার দিতে চাই এজন্য তিনি ইউনিয়ন,পৌর,উপজেলা ও জেলা আওয়ামী লীগের সকল নেতাকর্মীদের ঐক্যবদ্ধ থেকে কাজ করার আহ্বান জানিয়ে সবার সহযোগিতা কামনা করেন।

পথসভায় উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়ন থেকে কয়েক শতাধিক মোটরসাইকেল দলীয় নেতাকর্মী ছাড়াও সর্বস্তরের মানুষ অংশগ্রহণ করেন।

ধীরেন্দ্র দেবনাথ শম্ভু ৬ষ্ঠ বারের মতো মনোনয়ন পাওয়ায় আমতলীতে আনন্দ মিছিল

//সাইফুল্লাহ নাসির, বরগুনা প্রতিনিধি//

দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বরগুনা জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি,পাঁচ বারের সাংসদ, সাবেক মন্ত্রী,জননেতা এডভোকেট ধীরেন্দ্র দেবনাথ শম্ভু ষষ্ঠ বার বরগুনা- (সদর,আমতলী,তালতলী) আসন থেকে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন পাওয়ায় বরগুনার আমতলীতে আনন্দ মিছিল, মিষ্টি বিতরণ ও পথ সভা করা হয়েছে।

আজ রোববার সন্ধ্যা সত ঘটিকায় উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও পৌর মেয়র মতিয়ার রহমান এর নির্দেশে পৌর আওয়ামী লীগের সভাপতি ও উপজেলা পরিষদ ভাইস চেয়ারম্যান মোঃ মজিবর রহমান  এর নেতৃত্বে উপজেলা আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনের নেতা-কর্মীরা একটি আনন্দ মিছিল বের করেন।

মিছিলটি আবদুল্লাহ সুপার মার্কেট থেকে শুরু হয়ে শহরের প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে পুনরায় একই স্থানে এসে শেষ হয়। এরপর তাঁরা উপজেলা সদরে দলীয় নেতা-কর্মী ও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের মাঝে মিষ্টি বিতরণ করেন।

পরে আবদুল্লাহ সুপার মার্কেটে অনুষ্ঠিত পথ সভায় বক্তব্য রাখেন, পৌর আওয়ামী লীগ সভাপতি ও উপজেলা পরিষদ ভাইস চেয়ারম্যান মোঃ মজিবর রহমান, উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ন সাধারণ সম্পাদক জাহিদুল ইসলাম জুয়েল তালুকদার, যুবলীগ নেতা সাইফুল ইসলাম বাদল প্যাদা প্রমুখ।

পৌর আওয়ামী লীগ সভাপতি ও উপজেলা পরিষদ ভাইস চেয়ারম্যান মোঃ মজিবর রহমান  বলেন, ‘জেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি ধীরেন্দ্র দেবনাথ শম্ভু বরগুনা-১ আসন থেকে দলীয় মনোনয়ন পাওয়ায় আমরা আনন্দিত। আমাদের প্রিয় নেতা এই আসন থেকে যতবার নির্বাচন করেছেন, ততবারই বিপুল ভোটে জয়ী হয়েছেন। তাঁর বিপক্ষে যাঁরা নির্বাচন করেছেন, তাঁরা সবাই জামানাত হারিয়েছেন। আশা করছি আগামী দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিপক্ষে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করলেও তিনিও জামানাত হারাবেন।’

মজিবুর রহমান আরও বলেন, ‘তিনি সাংসদ থাকা অবস্থায় এলাকার সর্বক্ষেত্রে ব্যাপক উন্নয়ন করেছেন। আমরা সদর-আমতলী-তালতলীবাসী  চাই,জননেতা এডভোকেট ধীরেন্দ্র দেবনাথ শম্ভু সহ আওয়ামী লীগ মনোনীত সব প্রার্থী নির্বাচিত হয়ে দেশের এই উন্নয়নের ধারাকে অব্যাহত রাখুক।

বরগুনা-১ এ আওয়ামী লীগের মনোননয়ন পেলেন এডভোকেট ধীরেন্দ্র দেবনাথ শম্ভু

সাইফুল্লাহ নাসির,আমতলী (বরগুনা) প্রতিনিধিঃ

দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বরগুনা -১ (সদর-আমতলী-তালতলী) আসন থেকে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের চুড়ান্ত মনোনয়ন পেয়েছেন মনোনয়ন বর্তমান সাংসদ,সাবেক মন্ত্রী,জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও পাঁচ বারের সাংসদ এডভোকেট ধীরেন্দ্র দেবনাথ শম্ভু।

উল্লেখ্য, বরিশাল বিভাগের সর্বোচ্চ মনোনয়ন ফরম সংগ্রহকারী বরগুনা-১ থেকে আওয়ামীলীগের ২২ প্রার্থী হলেন,বরগুনা জেলা আওয়ামীলীগ সভাপতি সাংসদ ধীরেন্দ্র দেবনাথ শম্ভু, অবসরপ্রাপ্ত সিনিয়র সচিব মিহির কান্তি মজুমদার,বরগুনা জেলা আওয়ামীলীগ সাধারণ সম্পাদক জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান বীর মুক্তিযোদ্ধা জাহাঙ্গীর কবির,সাবেক গ্রামীণ ব্যাংকের ডিজিএম,আমতলী উপজেলা আওয়ামীলীগ সহ-সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা জামাল উদ্দিন বিশ্বাস, উপজেলা পরিষদ সাবেক চেয়ারম্যান আলহাজ্ব গোলাম সরোয়ার ফোরকান,বরগুনা জেলা আওয়ামীলীগ জেষ্ঠ যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক বরগুনা সরকারী কলেজের সাবেক ভিপি গোলাম সরোয়ার টুকু, ঢাকা বার এর সাবেক সভাপতি অ্যাড. গাজী শাহ আলম, বরগুনা পৌরসভা মেয়র অ্যাড. কামরুল আহসান মহারাজ, বাংলাদেশ আওয়ামীলীগ তথ্য ও গবেষনা উপ-কমিটির সদস্য মোঃ রফিকুল ইসলাম বাপ্পি, বরগুনা জেলা পরিষদ সাবেক চেয়ারম্যান মরহুম দেলোয়ার হোসেনের কন্যা ফারজানা সুমি, বরগুনা সদর উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান মোঃ মনিরুল ইসলাম মনির,বরগুনা জেলা আওয়ামীলীগ সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আব্দুল মোতালেব মৃধা,বরগুনা পৌরসভার সাবেক মেয়র অ্যাড. মোঃ শাহজাহান, বরগুনা সদর উপজেলা পরিষদ সাবেক চেয়ারম্যান আব্বাস হোসেন মন্টু,বরগুনা জেলা যুবলীগ সহ-সভাপতি এলমান আহম্মেদ সুহাদ,জেলা আওয়ামীলীগ সাবেক সদস্য এসএম মশিউর রহমান শিহাব,সাবেক ছাত্রলীগ নেতা মোঃ খলিলুর রহমান, আওয়ামীলীগ নেতা হুমায়ুন কবির,প্রকৌশলী মনিরুজ্জামান মনির,রোজিনা নাসরিন, মেহেরুন নেছা ও মোঃ ইদ্রিস আলী মোল্লা।

গোপালগঞ্জ খ্যাত বরগুনা জেলায় আওয়ামী লীগের আস্হার প্রতিক হিসেবে এডভোকেট ধীরেন্দ্র দেবনাথ শম্ভু সাধারণ মানুষ ও দলীয় নেতা কর্মীদের মন জয় করেছেন।

বরগুনা-১ এ আওয়ামী লীগের মনোনয়ন দৌড়ে কে এগিয়ে!

//সাইফুল্লাহ নাসির, বরগুনা প্রতিনিধি//

দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বরগুনা -১ (সদর-আমতলী-তালতলী) আসন থেকে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সম্ভাব্য মনোনয়ন প্রার্থী হিসেবে ২২ জন মনোনয়ন ফরম ক্রয় করলেও টপ ফেভারিট হিসেবে আছেন বর্তমান সাংসদ,সাবেক মন্ত্রী,জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও পাঁচ বারের সাংসদ এডভোকেট ধীরেন্দ্র দেবনাথ শম্ভু ও স্হানীয় সরকার ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের সাবেক অবসরপ্রাপ্ত সিনিয়র সচিব,কর্মসংস্থান ব্যাংক এর সাবেক চেয়ারম্যান,বেসরকারি সংস্থা উদ্দীপন এর চেয়ারম্যান ডঃ মিহির কান্তি মজুমদার।

বরগুনা,আমতলী ও তালতলী উপজেলা ঘুরে দেখা গেছে,এ আসনের সর্বত্রই আলোচনা চলছে এডভোকেট ধীরেন্দ্র দেবনাথ শম্ভু ও ডঃ মিহির কান্তি মজুমদার কে ঘিরে।তবে দলের হাইকমান্ড যাকেই মনোনয়ন দিবেন সাধারণ মানুষ ও দলীয় নেতা কর্মীরা তার পক্ষেই একনিষ্ঠ ভাবে নির্বাচনী কার্যক্রম পরিচালনা করবেন।

বরগুনা-১ থেকে আওয়ামীলীগ দলীয় মনোনয়ন ফরম সংগ্রহকারী অপর প্রার্থীরা হলেন,বরগুনা জেলা আওয়ামীলীগ সাধারণ সম্পাদক জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান বীর মুক্তিযোদ্ধা জাহাঙ্গীর কবির,সাবেক গ্রামীণ ব্যাংকের ডিজিএম,আমতলী উপজেলা আওয়ামীলীগ সহ-সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা জামাল উদ্দিন বিশ্বাস, উপজেলা পরিষদ সাবেক চেয়ারম্যান আলহাজ্ব গোলাম সরোয়ার ফোরকান,বরগুনা জেলা আওয়ামীলীগ জেষ্ঠ যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক বরগুনা সরকারী কলেজের সাবেক ভিপি গোলাম সরোয়ার টুকু, ঢাকা বার এর সাবেক সভাপতি অ্যাড. গাজী শাহ আলম, বরগুনা পৌরসভা মেয়র অ্যাড. কামরুল আহসান মহারাজ, বাংলাদেশ আওয়ামীলীগ তথ্য ও গবেষনা উপ-কমিটির সদস্য মোঃ রফিকুল ইসলাম বাপ্পি, বরগুনা জেলা পরিষদ সাবেক চেয়ারম্যান মরহুম দেলোয়ার হোসেনের কন্যা ফারজানা সুমি, বরগুনা সদর উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান মোঃ মনিরুল ইসলাম মনির,বরগুনা জেলা আওয়ামীলীগ সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আব্দুল মোতালেব মৃধা,বরগুনা পৌরসভার সাবেক মেয়র অ্যাড. মোঃ শাহজাহান, বরগুনা সদর উপজেলা পরিষদ সাবেক চেয়ারম্যান আব্বাস হোসেন মন্টু,বরগুনা জেলা যুবলীগ সহ-সভাপতি এলমান আহম্মেদ সুহাদ,জেলা আওয়ামীলীগ সাবেক সদস্য এসএম মশিউর রহমান শিহাব,সাবেক ছাত্রলীগ নেতা মোঃ খলিলুর রহমান, আওয়ামীলীগ নেতা হুমায়ুন কবির,প্রকৌশলী মনিরুজ্জামান মনির,রোজিনা নাসরিন, মেহেরুন নেছা ও মোঃ ইদ্রিস আলী মোল্লা।

দলীয় হাইকমান্ড চাইলে নতুন কোন চমকও আসতে পারে বলে জানিয়েছেন বিশেষ সুত্র।

তিনমাস ধরে আত্মগোপনে আমতলীর প্রধান শিক্ষক!

//সাইফুল্লাহ নাসির, বরগুনা প্রতিনিধি//

নানাভাবে আর্থিক অনটনে পরে ঋণগ্রস্ত হয়ে ৩ মাস ধরে আত্মগোপনে রয়েছে প্রধান শিক্ষক!

বরগুনার আমতলী উপজেলার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের এক প্রধান শিক্ষক ঋণগ্রস্ত হয়ে বিগত ৩ মাস ধরে পালিয়ে রয়েছেন বলে জানা গেছে।গত ১০ আগস্ট থেকে স্কুলে অনুপস্থিতির সংবাদ জানার পর উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস ঐ শিক্ষকের বেতন ভাতা প্রদান বন্ধ করে দিয়েছে।

উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস সূত্রে জানা গেছে,উপজেলার গুলিশাখালী ইউনিয়নের দক্ষিণ-পূর্ব গুলিশাখালী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোঃ  আবুল কালাম আজাদ যথাযথ কর্তৃপক্ষ কাউকে কিছু না বলে ১০ আগস্ট থেকে বিদ্যালয়ে অনুপস্থিত রয়েছেন। ৩০ আগস্ট ওই ক্লাস্টারের সহকারী শিক্ষা কর্মকর্তা মোঃ আনিসুর রহমান বিদ্যালয় পরিদর্শন করতে গিয়ে প্রধান শিক্ষক মোঃ আবুল কালাম অনুপস্থিতির বিষয়টি জানতে পারেন।

পরবর্তীতে উপজেলা শিক্ষা অফিস থেকে আবুল কালামের পরিবারের সদস্যদের কাছে খোঁজ নিয়ে জানতে পারেন কাউকে কিছু না বলে তিনি নিখোঁজ রয়েছেন। অফিসে দেওয়া মোবাইল নম্বরে ফোন দিলেও তা বন্ধ পাওয়া যায়। আবার কখনো কখনো রিং বাজলেও তিনি রিসিভ করছেন না। এভাবে বিনা অনুমতিতে নিখোঁজ থাকায় প্রাথমিক শিক্ষা অফিস আগস্ট মাস থেকে তার বেতন-ভাতা বন্ধ করে দেয়।

অভিযুক্ত প্রধান শিক্ষক আবুল কালাম আজাদের স্ত্রী শাহনাজ পারভিন বলেন, আমার স্বামী ঋণগ্রস্ত হয়ে পড়েছেন। তার মানসিক অবস্থা ভালো নয়। দেনার দায়ে দেউলিয়া হওয়ায় ১০ আগস্ট কাউকে কিছু না জানিয়ে চলে যান। এরপর কোনো যোগাযোগ নেই। আমি আমার সন্তান নিয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছি।

গুলিশাখালী ক্লাস্টারের সহকারী শিক্ষা অফিসার মুহাম্মদ আনিসুর রহমান বলেন, গুলিশাখালী ইউনিয়নের দক্ষিণ-পূর্ব গুলিশাখালী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোঃ আবুল কালাম আজাদ ১০ আগস্ট থেকে বিনা অনুমতিতে অনুপস্থিত রয়েছেন। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, তিনি ঋণগ্রস্ত হয়ে আত্মগোপনে চলে গেছেন। এ বিষয়ে তার বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে।

এ বিষয়ে উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার মোঃ শফিউল আলম জানান,বিনা অনুমতিতে বিদ্যালয়ে অনুপস্থিত থাকার কারণে গুলিশাখালী ইউনিয়নের দক্ষিণ-পূর্ব গুলিশাখালী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোঃ আবুল কালাম আজাদকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে এবং তার বেতন ভাতা বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। তদন্তসাপেক্ষে তার বিরুদ্ধে সরকারি চাকরিবিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

 

 

সড়ক দুর্ঘটনায় তালতলীর ব্যবসায়ী নিহত

//সাইফুল্লাহ নাসির, বরগুনা প্রতিনিধি//

বরগুনার তালতলী উপজেলার  তালতলী-ছোটবগী আঞ্চলিক সড়কের মঠখোলা নামক স্থানে মোটর সাইকেল দুর্ঘটনায় মোঃ সাখাওয়াত হোসেন (২৮) নামের মোবাইল ব্যবসায়ী নিহত হয়েছে। ঘটনটি ঘটেছে আজ শনিবার সন্ধ্যায়।

জানা গেছে,তালতলী উপজেলা সড়কের বাসিন্দা রফিক মুন্সির ছেলে ব্যবসায়ী সাখাওয়াত হোসেন শনিবার সন্ধ্যায় বরগুনা থেকে তালতলী ফিরছিল। পথিমধ্যে তালতলী-ছোটবগী আঞ্চলিক সড়কের মঠখোলা নামক স্থানে মোটর সাইকেলের নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে একটি গাছের সঙ্গে ধাক্কা লাগে।এতে তিনি গুরুতর আহত হয়।স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে তালতলী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে হাসপাতালের কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত্যু ঘোষনা করেন।

প্রত্যক্ষদর্শী কয়েকজন বলেন, মোটর সাইকেলটি একটি গাছের সঙ্গে ধাক্কা লেগে চালক সাখাওয়াত সিটকে পড়ে গুরুতর আহত হয়েছে। এতে তার মুখমন্ডলে গুরুতর জখম হয়।

তালতলী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মেডিকেল অফিসার আইরিন আলম বলেন, মোটর সাইকেল দুর্ঘটনায় আহত সাখাওয়াতকে হাসপাতালে আনার পুর্বেই মারা গেছেন।

তালতলী থানার অফিসার ইনচার্জ শহীদুল ইসলাম খাঁন বলেন,হাসপাতাল থেকে নিহতের মরদেহ পরিবার বাড়ী নিয়ে গেছে। বিষয়টি জানতে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠিয়েছি।

তালতলীতে সুফল প্রকল্পের অনিয়মের অভিযোগ

//সাইফুল্লাহ নাসির, বরগুনা প্রতিনিধি//

বরগুনার তালতলীতে টেকসই বন ও জীবিকা (সুফল) প্রকল্পের বিভিন্ন কাজের অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে রেঞ্চ মনিরুল ইসলাম ও বিট কর্মকর্তার ফজলুল হকের বিরুদ্ধে। স্থানীয় ১১টি ভিসিএফ সমিতির হাতে দায়িত্ব ও ক্ষমতা দেওয়া থাকলেও তা বাস্তবে নেই। এই রেঞ্চ ও বিট কর্মকর্তার সেচ্ছাচারিতায় মুখ থুবরে পড়েছে সরকারে এই প্রকল্প।

জানা যায়, গত ২০২১-২২ অর্থ বছরে উপজেলার সংরক্ষিত বন এলাকা বড়বগী,সোনাকাটা ও নিশানবাড়িয়া ইউনিয়নের টেকসই বন ও জীবিকা (সুফল) প্রকল্প দেয় বন বিভাগ। এই প্রকল্প বাস্তবায়নের জন্য ঘর ভাড়া নিয়ে ঐ তিনটি ইউনিয়নে ১১ টি ভিসিএফ সমিতি করা হয়। সেখানে ঘর ভাড়া মাসে ২৫’শ টাকা চুক্তি হয়। তবে চুক্তি অনুযায়ী ঘর ভাড়ার টাকা দেওয়া হয়নি। এই সমিতিতে সঞ্চয় ও ঋণ পরিচালনা করার জন্য প্রতি মাসে ৫ হাজার টাকা করে এক জন ক্যাশিয়ার (বুক কিপার) নিয়োগ দেওয়া হলেও সেই সম্মানী ভাতার টাকা দেওয়া হয়নি। ঐ এলাকার বন নির্ভরশীল মানুষকে সচেতন করার জন্য প্রশিক্ষন দেওয়ার কথা থাকলেও নামে মাত্র প্রশিক্ষন দেওয়া হয়েছে। বনকে সুরক্ষা করার জন্য স্থানীয়দের সম্মানী ভাতার মাধ্যমে প্রহরী নিয়োগ করে থাকলেও তাদের কোনো ধরনের সম্মানী ভাতা দেওয়া হয়নি। এছাড়া টেকসই বন ও জীবিকা(সুফল) প্রকল্পের ১১টির ভিসিএফ সমিতির অন্যান্য প্রকল্পগুলো সঠিক ভাবে বাস্তবায়ন করছে না তারা। এই সব অভিযোগের  উপজেলা রেঞ্চ কর্মকর্তা মনিরুল ইসলাম ও নিশানবাড়িয়া বিট কর্মকর্তা একে এম ফজলুল হক।

সংশ্লিষ্ট ভিসিএফ কমিটির সওদাগার পাড়ার সভাপতি মনোয়ার হোসেন মীর,কবিরাজপাড়ার সভাপতি মি.মংথিন জো  ও নামেশেপাড়ার সভাপতি মি.মংচিন থান বলেন,রেঞ্চ ও বিট কর্মকর্তার অনিয়ম ও দূর্নীতি কারণে সরকারের এই প্রকল্পটি মুখ থুবরে পড়েছে। প্রকল্পের শর্ত অনুযায়ী আমাদের হাতে ক্ষমতা দেওয়া থাকলেও তারা কোনো ক্ষমতাই দেয়নি। সমিতির টাকা ব্যাংক থেকে উঠানোর জন্য চেকে স্বাক্ষর নিয়ে যায়। সেই টাকা কি করে কোথায় খরচ করে তাও আমাদের জানায় না। এর প্রতিবাদ করতে গেলে আমাদের সবাইকে হুমকি দেয়।

কবিরাজপাড়া সমিতির ক্যাশিয়ার(বুক কিপার) রিপা বলেন, আমি বুক কিপার হিসেবে আমি দুই বছর যাবৎ কাজ করে আসছি। গত তিন মাস আগে আমারদের জন্য মাসে ৫ হাজার টাকা করে সম্মানী দেওয়ার বরাদ্দ হয়। তবে আমাদের তিন মাসের ১৫ হাজার টাকা দেওয়ার কথা থাকলেও মাত্র ৫ হাজার টাকা দিয়ে তিন মাসেইর স্বাক্ষর নিয়ে যায়। তখন বলেন বাকি দুই মাসের টাকা বিভিন্ন অফিস খরচ বলে আমাদের পাঠিয়ে দেয়। ১১টি সমিটির ১১ জন বুক কিপারের টাকাই রেখে দিয়েছেন রেঞ্চ ও বিট কর্মকর্তা। এমন অভিযোগ এই ১১টি সমিটির সকল বুক কিপারের।

এবিষয়ে তালতলী রেঞ্চ কর্মকর্তা মনিরুল ইসলাম বলেন আমি কিছু জানি না। এটা ঐ সমিতির লোকজনের নামে ব্যাংকে টাকা আসে তারাই ভালো জানে। আমরা শুধু এই প্রকল্পের তরারকি করি।

পটুয়াখালী বিভাগীয় বন কর্মকর্তা শফিকুল ইসলাম বলেন,এবিষয়ে যদি কেউ অভিযোগ করেন তাহলে তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

Daily World News

তফসিল ঘোষণার পরপরই আমতলী উপজেলা আওয়ামী লীগের সভা ও শান্তি মিছিল

তফসিল ঘোষণার পরপরই আমতলী উপজেলা আওয়ামী লীগের সভা ও শান্তি মিছিল

//সাইফুল্লাহ নাসির, বরগুনা প্রতিনিধি//

বরগুনার আমতলী উপজেলা আওয়ামী লীগের উদ্যোগে বুধবার (১৫ নভেম্বর) সন্ধায় দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন উপলক্ষে বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশন কর্তৃক তফসিল ঘোষণার পর উপজেলা আওয়ামী লীগের আলোচনা ও শান্তি মিছিল অনুষ্ঠিত হয়েছে।

উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও পৌর মেয়র মতিয়ার রহমান এর নির্দেশনায় উপজেলা আওয়ামী লীগের সিনিয়র সহ সভাপতি ও উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান এডভোকেট এম এ কাদের মিয়ার সভাপতিত্বে দলীয় কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত আলোচনা সভায় বক্তব্য রাখেন,উপজেলা পরিষদ ভাইস চেয়ারম্যান ও পৌর আওয়ামী লীগের সভাপতি মোঃ মজিবর রহমান,উপজেলা আওয়ামী লীগের সহ- সভাপতি আলহাজ্ব নুরুল ইসলাম মৃধা, উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ন সাধারণ সম্পাদক ও পৌর কাউন্সিলর জাহিদুল ইসলাম জুয়েল তালুকদার সহ আওয়ামী লীগ ও অঙ্গ সংগঠনের নেতৃবৃন্দ।সভায়৷ দেশের উন্নয়ন শান্তি কামনা করে দোয়া ও মোনাজাত করা হয়।

সভা শেষে তফসিল ঘোষনাকে স্বাগত জানিয়ে  পৌর আওয়ামী লীগ সভাপতি মোঃ মজিবর রহমান এর নেতৃত্বে শান্তি মিছিল বের পৌর শহরের গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে সাকিব প্লাজার সামনে পথ সভা করা হয়।

আমতলীতে কাজী বানিজ্য! ১২০ দিনে নয় বছর, চলছে ভুয়া কাজীর রমরমা অবৈধ বানিজ্য

সাইফুল্লাহ নাসির,আমতলী (বরগুনা) প্রতিনিধিঃ

বরগুনার আমতলী পৌরসভার ৯টি ওয়ার্ডে নিকাহ রেজিস্ট্রার ও কাজীর ৫টি শুন্য পদে দীর্ঘ নয় বছরেও নিয়োগ না দেওয়ার সুযোগে সর্বোচ্চ একশত বিশ দিনের জন্য অতিরিক্ত দায়িত্ব পাওয়া দুই কাজী মেয়াদ শেষ হওয়ার পরেও বিধি-বিধানের তোয়াক্কা না করে টানা নয় বছরেরও বেশি সময় ধরে প্রকাশ্যে কাজীর অফিসের সাইনবোর্ড লাগিয়ে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে অবৈধ দুই কাজী।এদিকে সংবাদ সংগ্রহকালে ভুয়া কাজীর বিষয়টি জানাজানি হলে কাজী জয়নুল ও শাহ আলম গভীর রাতে সাইনবোর্ড খুলে অফিস তালাবদ্ধ করে দেয়।

মুসলিম বিবাহ ও তালাক (নিবন্ধন) বিধিমালা ২০০৯ এর বিধি ৬ অনুযায়ী সংশ্লিষ্ট সাব রেজিস্ট্রার নিকাহ রেজিস্ট্রারের পদ শুন্য হওয়ার সর্বোচ্চ একশত বিশ দিনের মধ্যে উক্ত শুন্য পদে নতুন নিকাহ রেজিস্ট্রার ও কাজী নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করবেন এবং ঐ একশত বিশ দিনের জন্য সংশ্লিষ্ট জেলা রেজিস্ট্রার পার্শ্ববর্তী কোন নিকাহ রেজিস্ট্রার ও কাজীকে উক্ত শুন্য পদে সর্বোচ্চ একশত বিশ দিনের জন্য অতিরিক্ত দায়িত্ব প্রদান করিতে পারিবেন।

প্রাপ্ত তথ্য থেকে জানা গেছে, আমতলী পৌরসভার ৪,৫ ও ৬ নং ওয়ার্ডের নিকাহ রেজিস্ট্রার ও কাজী ২০১৫ইং সালে অবসর গ্রহণ করেন এবং ১,২,৩,৭,৮ ও ৯ নং ওয়ার্ড গুলো তারও আগ থেকে শুন্য ছিল।পৌরসভার এই ৯টি ওয়ার্ডে ২০১৫ সালে দুইজন নিকাহ রেজিস্ট্রারকে একশত বিশ দিনের জন্য অতিরিক্ত দায়িত্ব প্রদান করলেও উক্ত কাজী দ্বয় জেলা রেজিস্ট্রার অফিসের কতিপয় অসাধু কর্মচারীর সাথে যোগসাজশে বিভিন্ন কৌশলে ৯ বছরের বেশী সময় ধরে অবৈধভাবে নিকাহ রেজিস্ট্রার ও কাজীর অতিরিক্ত দায়িত্ব পালন করে হাতিয়ে নিচ্ছে কোটি কোটি টাকা।

এ বিষয়ে নিকাহ রেজিস্ট্রার ও কাজীর সংশ্লিষ্ট জনৈক ব্যক্তি বলেন,আমতলী পৌরসভায় বছরে সাতশত বিয়ে হলে এবং প্রতিটি বিয়েতে তিন হাজার টাকা ফি গ্রহণ করলে প্রতি বছরে ২১ (একুশ) লক্ষ টাকা আয় আসে। সে হিসাবে নয় বছরে প্রায় দুই কোটি টাকা আয় করেছে দুই কাজী।এছাড়াও তালাক রেজিস্ট্রিকরণ ও নকল এর ফি রয়েছে।

এ ছাড়াও আমতলী সদর ইউনিয়ন ও পৌর সভার একশত বিশ দিনের অতিরিক্ত দায়িত্ব পাওয়া নিকাহ রেজিস্ট্রার ও কাজী যথাযথ কর্তৃপক্ষের অনুমতি না নিয়ে এবং কাউকে দায়িত্বে না রেখে ২০২০ইং সালের জানুয়ারি মাসে সৌদিতে গিয়েছিলেন।প্রশ্ন উঠেছে তার সৌদিতে থাকা কালীন সময়ে আমতলী সদর ইউনিয়ন ও পৌর সভায় নিকাহ রেজিস্ট্রার ও কাজীর দায়িত্ব কে এবং কিভাবে পালন করেছে?

এসব বিষয়ে জানতে চাইলে পৌর সভার বর্তমান কাজী মোঃ জয়নুল আবেদীন বলেন,আমি যে টাকা পাই তার ৫০% (পঞ্চাশ ভাগ) উপজেলা সাব রেজিস্ট্রার, জেলা রেজিস্ট্রার,আইজিআর সহ বিভিন্ন অফিসে দিতে হয়। কাউকে অতিরিক্ত দায়িত্ব না দিয়ে এবং কর্তৃপক্ষকে না জানিয়ে সৌদিতে যাওয়ার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি নিরুত্তর থাকেন।এ ছাড়াও কাজী জয়নুল আবেদীনের মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডের আলিম পাশের সনদ জ্বাল বলে অভিযোগ রয়েছে। সে বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ বরাবরে তথ্য অধিকার আইনে তথ্য চেয়ে আবেদন করা হয়েছে।

এ বিষয়ে উপজেলা সাব রেজিস্ট্রার নুরুল আবসার বলেন,আমি অত্র অফিসে যোগদানের পর আমতলী পৌরসভায় নিকাহ রেজিস্ট্রার ও কাজীর পাঁচটি শুন্য পদে নিয়োগ প্রক্রিয়া শুরু করেছি। অচিরেই নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন হবে।নয় বছর ধরে অতিরিক্ত দায়িত্ব পালনকারী দুই নিকাহ রেজিস্ট্রার ও কাজীর সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি বলেন, এ বিষয়টি জেলা রেজিস্ট্রার এর এখতিয়ারাধিন।

এ বিষয়ে বরগুনা জেলা রেজিস্ট্রার মোঃ সিরাজুল করিম বলেন,নিকাহ রেজিস্ট্রার ও কাজী নিয়োগের বিষয়টি উপজেলা সাব রেজিস্ট্রারের।বিষয়টি বিলম্বিত হওয়ায় উপজেলা সাব রেজিস্ট্রারকে পত্র দিয়ে নিয়োগ প্রক্রিয়া ত্বরান্বিত করতে বলা হয়েছে। দীর্ঘ নয় বছর ধরে দুইজন নিকাহ রেজিস্ট্রার ও কাজীর অতিরিক্ত দায়িত্ব পালন প্রসঙ্গে বলেন,বিধি অনুযায়ী সর্বোচ্চ একশত বিশ দিনের জন্য দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।এই সময়ের পর উক্ত নিকাহ রেজিস্ট্রার ও কাজীর অতিরিক্ত দায়িত্ব পালন করার কোন বিধান নেই। এখনো পৌরসভায় নিকাহ রেজিস্ট্রার ও কাজী’র অতিরিক্ত দায়িত্ব কিভাবে পালন করছে জানতে চাইলে তিনি বলেন,তদন্ত করে উক্ত নিকাহ রেজিস্ট্রার ও কাজীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। কাজী জয়নুল আবেদীন এর সৌদিতে যাওয়ার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন,তিনি সৌদিতে যাওয়ার জন্য অফিসের কোন অনুমতি নেননি তবে এটি সহ সকল বিষয়ের তদন্ত পূর্বক আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

এ বিষয়ে আমতলী উপজেলা নির্বাহী অফিসার এবং নিকাহ রেজিস্ট্রার ও কাজী নিয়োগ কমিটির সদস্য মোহাম্মদ আশরাফুল আলম বলেন,আমি বিষয়টি জেনে উপজেলা সাব-রেজিস্ট্রার ও জেলা রেজিস্ট্রারের সাথে কথা বলেছি তারা আমাকে বলছেন দ্রুত সময়ের মধ্যে শূন্য পদে নিয়োগ প্রক্রিয়া শুরু করবেন এবং নির্দিষ্ট সময়ের পরেও নিকাহ রেজিস্ট্রার ও কাজীর অতিরিক্ত দায়িত্ব পালন করার বিষয়ে তদন্ত পূর্বক আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন।