আমতলীতে ইসলামিক ফাউন্ডেশন এর যাকাত ফান্ড সহায়তা প্রদান

//সাইফুল্লাহ নাসির, বরগুনা প্রতিনিধি//

বরগুনার আমতলীতে ইসলামী ফাউন্ডেশন কর্তৃক সরকারী যাকাত ফান্ডের অর্থায়নে দুস্হ, চিকিৎসা বঞ্চিত,শিক্ষাবৃত্তি ও সেলাই মেশিন ক্রয়ের জন্য নয়জনকে ২৮০০০ (আটাশ হাজার) টাকার চেক বিতরন করা হয়েছে।

আমতলী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মুহাম্মদ আশরাফুল আলম এর তত্বাবধানে চেক বিতরণ এর সময় উপস্থিত ছিলেন, উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান বীর মুক্তিযোদ্ধা অ্যাডভোকেট এম,এ কাদের মিয়া,উপজেলা মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান তামান্না আফরোজ মনি, আমতলী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা এ, কে, এম মিজানুর রহমান প্রমুখ।

বরগুনার আমতলীতে রাজাকার পুত্রের বিরুদ্ধে সংবাদ সম্মেলন

//সাইফুল্লাহ নাসির, বরগুনা প্রতিনিধি//

বরগুনার আমতলী উপজেলার গুলিশাখালী ইউনিয়নের রাজাকার পুত্র নুরুল ইসলামের বিরুদ্ধে একই ইউনিয়নের বর্তমান চেয়ারম্যান ও ইউনিয়ন আওয়ামীলীগ সভাপতি এ্যাড. এইচ. এম. মনিরুল ইসলাম মনি আজ (১৭/০৪/২০২৩ইং) তার ল’চেম্বারে এ সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করেন।

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি হারুন অর রশিদ,সহ-সভাপতি কাজী মোজাম্মেল হক, বীর মুক্তিযোদ্ধা বারেক চৌকিদার,ইউনিয়ন পুজা উদযাপন কমিটির সভাপতি শ্রী মনিন্দ্র মাঝি সহ হিন্দু সম্প্রদায়ের নির্যাতিত জনসাধারণ।

এইচ. এম. মনিরুল ইসলাম মনি লিখিত বক্তব্যে বলেন, গত ১৫ এপ্রিল ২০২৩ তারিখ আমি ও আমার বড় ভাইয়ের বিরুদ্ধে অসত্য ও মিথ্যা অভিযোগ এনে সংবাদ সম্মেলন করেছেন রাজাকার পুত্র নুরুল ইসলাম। আমার বিরুদ্ধে অভিযোগে বলেছেন, ৪০ দিনের কাজ, চাঁদাবাজি, আমার বড় ভাইয়ের দুর্নিতী কথা। বর্তমান সরকারের ডিজিটাল বাংলাদেশে কম্পিউটার ও মোবাইল অ্যাপসের মাধ্যমে ৪০ দিনের কাজ এন্ট্রি করা তাতে সরকারের টাকা ফাকি দেওয়ার উপয় নেই, আর আমার বড় ভাই চাঁদাবাজী ও দুর্নিতীর সংস্পর্শে নেই বলে তাকে সরকার প্রমোশন দিয়ে জেলা নির্বাহী প্রকৌশলী হিসেবে প্রমোশন দিয়েছেন।

তিনি আরও বলেন, এই রাজাকার পুত্র নুরুল ইসলাম বিগত ১০ বছর গুলিশাখালী ইউনিয়নের চেয়ারম্যান ও ইউনিয়ন সভাপতি ছিলেন। এই ১০ বছরে হিন্দুদের উপর অত্যাচার, মাঠ, কালভার্ট, মসজিদের ঘাটলা নির্মাণের টাকা বিভিন্ন প্রকল্পের নামে উঠিয়ে খেয়েছেন। এছাড়া গুলিশাখালী বাজারে খাস জমিতে দোকানঘর তুলে প্রায় কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন। তিনি চিহ্নিত রাজাকার মৃত মফিজ উদ্দিন শরীফ (রাজাকার গেজেট নং-১৩২) এর পুত্র নুরুল ইসলাম তার মৃত বাবার কৃতিত্বের জন্য আওয়ামী লীগ পদ থেকে বর্তমানে শূন্য কোঠায় আছে। তার একটি লাল গাড়ী আছে যেটিতে তার বাহিনী নিয়ে চলাচল করেন। তার নামে একটি শর্টগান আছে যেটি ওই গাড়ী চলা অবস্থায় গড ফাদারের ন্যয় এলাকায় ঘুরে বেড়ায়।

এ্যাড. এইচ. এম. মনিরুল ইসলাম মনি সাংবাদিকদের উদ্দেশ্যে বলেন, আপনারা এই রাজাকার পুত্রের সকল সকল কোষ্ঠিনামা সংবাদ মাধ্যমে তুলে ধরার মাধ্যমে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ এবং গুলিশাখালীকে আধুনিক মডেল ইউনিয়ন গড়তে সকলের সহযোগিতা কামনা করেন।

বরগুনা আইনজীবী সমিতির সভাপতি বাহাদুর – সম্পাদক আতিকুর

//সাইফুল্লাহ নাসির, বরগুনা প্রতিনিধি//

নবরগুনা জেলা আইনজীবী সমিতির বার্ষিক নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে।

শুক্রবার (১৪ এপ্রিল) সমিতির হল রুমে এ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়।

নির্বাচনে আক্তারুজ্জামান বাহাদুর সভাপতি ও মো: আতিকুল হক আতিক সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হয়েছেন।

প্রধান নির্বাচন কমিশনার অ্যাডভোকেট মো: মোস্তাফিজুর রহমান বাবুল শুক্রবার বিকেলে আনুষ্ঠানিকভাবে ফলাফল ঘোষণা করেন।

জানা গেছে, বরগুনা জেলা আইনজীবী সমিতির ২৬৭ জন ভোটারের মধ্য ২৬১ জন ভোটার তাদের ভোট প্রদান করেন। আক্তারুজ্জামান বাহাদুর (আ’ লীগ) তিনি ভোট পেয়েছেন ১৬১। তার নিকটতম আবদুর রহমান নান্টু পেয়েছেন ৯৬ ভোট। অন্যান্য পদ গুলো হলো সহ-সভাপতি মো: মিজানুর রহমান মজনু, মো: মশিউর রহমান (আ’লীগ), মো: মহসিন (বিএনপি), সাধারণ সম্পাদক মো: আতিকুল হক আতিক ( আ’লীগ), যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মো: আরিফ হোসেন (আ’লীগ), নার্গিস সুলতানা লাকি (বিএনপি), মাহবুবুর রহমান মঈন, গ্রন্থাগার সম্পাদক মো: কবির হোসেন, ক্রীড়া ও সমাজ কল্যাণ সম্পাদক মো: ইসমাইল হোসেন রাসেল, মহিলা বিষয়ক সম্পাদক উম্মে সালমা খান নাতাশা, সদস্য ইমরান হোসেন( আ’লীগ) সাইফুল ইসলাম ওয়াসিম (বিএনপি) ও রুহুল ইসলাম হাওলাদার (জাতীয় পার্টি)।

বরগুনার আমতলীতে পৌনে চার কেজি গাঁজা সহ ব্যবসায়ীকে গ্রেফতার করেছে র্যাব

//সাইফুল্লাহ নাসির, বরগুনা প্রতিনিধি//

বরগুনার আমতলীতে র‌্যাব-৮, সিপিসি-১, পটুয়াখালী ক্যাম্প এর মাদক বিরোধী অভিযানে পৌনে চার কেজি গাঁজা সহ একজন মাদক ব্যাবসায়ীকে গ্রেফতার করা হয়েছে।

তুহিন রেজা,সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার,কোম্পানী অধিনায়ক র‌্যাব-৮, সিপিসি-১, পটুয়াখালী ক্যাম্প এর স্বাক্ষরিত এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়,১৩/০৪/২০২২ইং তারিখ আনুমানিক ভোর ০৪:০০ ঘটিকায় একটি মাদক বিরোধী অভিযান পরিচালনা করেন। অভিযান পরিচালনাকালে আনুমানিক ভোর ০৩:০০ ঘটিকার সময় গোপন সংবাদের ভিত্তিতে জানিতে পারি যে, বরগুনা জেলার আমতলী থানাধীন সাখারিয়া বাজার হইতে গলাচিপাগামী রাস্তার অনুমান ৩০ গজ দূরে পাঁকা রাস্তার উপর কে বা কাহারা মাদক দ্রব্য গাঁজা ক্রয়/বিক্রয় এর জন্য অবস্থান করিতেছে। প্রাপ্ত গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে কোম্পানী অধিনায়ক সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার তুহিন রেজা এর নের্তৃত্বে আনুমানিক ভোর ০৪:০০ ঘটিকায় উক্ত স্থানে উপস্থিত হলে র‌্যাবের উপস্থিতি টের পেয়ে দৌড়ে পালানোর চেষ্টাকালে র‌্যাব সদস্যরা ঘেরাও পূর্বক ০১ জন ব্যক্তিকে গ্রেফতার করেন। গ্রেফতারকৃত আসামীর নাম হলো মোঃ রুবেল খাঁন(২২), পিতা-মোঃ বিল্লাল খান, মাতা-আসমা বেগম, সাং-সংকরপুর, ০৮নং মাদার বুনিয়া ইউপি, ০৫নং ওয়ার্ড, থানা-পটুয়াখালী সদর, জেলা-পটুয়াখালী। ধৃত আসামীকে জিজ্ঞাসাবাদের একপর্যায়ে স্বীকার করে যে, পেশায় একজন দিনমুজুর হলেও মাদকই তাহার প্রকৃত ব্যবসা। উক্ত আসামীর নিকট হতে ০৩ কেজি ৭০০ গ্রাম কথিত গাঁজা উদ্ধার করা হয়। কথিত গাঁজা যাহার অবৈধ বাজার মূল্য অনুমান ১,১১,০০০/- (এক লক্ষ এগার হাজার) টাকা। ধৃত আসামী অত্র থানাসহ বিভিন্ন এলাকায় দীর্ঘ দিন যাবত কথিত গাঁজা ক্রয়/বিক্রয় করিয়া আসিতেছে। উদ্ধারকৃত আলামতসহ গ্রেফতারকৃত আসামীকে বরগুনা জেলার আমতলী থানায় হস্তান্তর করা হয়। এ ব্যাপারে র‌্যাব বাদী হয়ে বরগুনা জেলার আমতলী থানায় মাদকদ্রব্য আইনে একটি মামলা দায়ের করে।

বরগুনার তালতলীতে এতিমের পৈত্রিক সম্পত্তি বুঝ পেতে এতিম মেয়ের সংবাদ সম্মেলন 

//সাইফুল্লাহ নাসির, বরগুনা প্রতিনিধি//

বরগুনার তালতলীতে পৈত্রিক সম্পত্তি চাচার দখল থেকে বুঝ পেতে চাচার বিরুদ্ধে সংবাদ সম্মেলন করেছেন এতিম ভাতিজি।

আজ রোববার বিকেল ২ টার সময়ে তালতলী প্রেসক্লাবে এ সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়।সংবাদ সন্মেলনে মৃত্যু মহিউদ্দিন বাবুল জমাদ্দারের (এতিম মেয়ে) মেয়ে মারজিয়া আক্তার (১৮) বলেন,২০১৬ সালে আমার পিতার বিষপানে মৃত্যু হয়। পিতার মৃত্যুর ২ দিন পূর্বে আমার বাবাকে তার ভাই মজিবর জমাদ্দার জুতা দিয়ে পেটায়।

এ কারনেই তিনি হয়তো আত্মহত্যা করেছেন। আমার পিতার রেখে যাওয়া চিরকুট দেখে বোঝা যায় তার মৃত্যুর জন্য আমার চাচা দায়ী।

পিতার মৃত্যুর পর থেকে আমার চাচা পিতার রেখে যাওয়া সম্পত্তি ভোগ করে আসছে। আমার পিতার জমি আমাদেরকে বুজিয়ে দিচ্ছেন না চাচা মজিবর জমাদ্দার। তিনি জোরপূর্বক দখল করে রেখেছেন। তিনি স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ কিছুই মানে না। তার ক্ষমতার উৎস ফজলুল হক জমাদ্দার এবং মিন্টু হাওলাদার। এসময়ে তিনি আরো বলেন,আমার পিতার যতটুকু জমি আছে সেগুলোর সঠিক বুজ পেতে আমরা সকলের সহযোগিতা কামনা করছি।

এছাড়াও তিনি চাচার  হুমকি ধমকি দিচ্ছেন বলে প্রশাসনের সুদৃষ্টি কামনা করছি।সংবাদ সন্মেলনে বিভিন্ন ইলেক্ট্রনিক্স ও প্রিন্ট মিডিয়ার সাংবাদিকরা উপস্থিত ছিলেন।

সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকের স্ত্রী পেয়েছেন ভিজিডি কার্ড

//সাইফুল্লাহ নাসির,আমতলী (বরগুনা) প্রতিনিধি//

বরগুনার তালতলীতে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষকের স্ত্রীর নামে দুস্থদের ভিজিডি কার্ড পেয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।
আর্থিক স্বচ্ছল এই পরিবার প্রতি মাসে ভিজিডির ৩০ কেজি করে চাল তুললেও বঞ্চিত হচ্ছেন অসহায় ও দুস্থরা। হতদরিদ্র পরিবারের জন্য বরাদ্দকৃত সরকারি ভিজিডি কার্ড বিতরণে এমন অনিয়ম ও দুর্নীতির ঘটনা ঘটেছে তালতলীর বড়বগী ইউনিয়নে।

প্রাপ্ত অভিযোগ থেকে জানা যায়,উপজেলার বড়বগী ইউনিয়নের তিন নং ওয়ার্ডের বাসিন্দা শাহ নেওয়াজ সেলিম মেনিপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক। তার স্ত্রী সালমা বেগমের নামে ২০২৩-২৪ অর্থ বছরে ভিজিডি কার্ড হয়েছে। তিনি এই ভিজিডি কার্ড দিয়ে চালও তুলে নিচ্ছেন।এলাকার এক হত দরিদ্র ভুক্তভোগী এ বিষয়ে তালতলী উপজেলা নির্বাহী অফিসারের কাছে একটি অভিযোগ দায়ের করেন। তার তিনসন্তান থাকলেও আয়-রোজগারের করার কোনো মাধ্যম নেই।অথচ তার নামে ভিজিডি নেই। তবে অনিয়ম ও দুর্নীতির মাধ্যমে সরকারি চাকরিজীবীর স্ত্রীও ভিজিডি কার্ড পেয়েছেন।
মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, ইউনিয়ন পরিষদের চূড়ান্ত তালিকায় ৩ নং ওয়ার্ডের তালুকদার পাড়া গ্রামে ৪২ নম্বর সিরিয়ালে ভিজিডির কার্ডধারী সালমা বেগমের নামে একটি ভিজিডি কার্ড রয়েছে। সেই কার্ড থেকে ২০২৩-২৪ সালের ভিজিডির চালও পাচ্ছেন। সালমা বেগমের পরিবার বেশ স্বচ্ছল।স্বামী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক।

এবিষয়ে বড়বগী ইউপি পরিষদ চেয়ারম্যান আলমগীর হোসেন (আলম মুন্সী) বলেন,তিনি এ তালিকা করেননি এ তালিকা করেছেন উপজেলা চেয়ারম্যান।এ বিষয়ে তিনি বলতে পারবেন।

তালতলী উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা রূপ কুমার পাল বলেন, ইউনিয়নের চেয়ারম্যান-মেম্বারদের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী চূড়ান্ত তালিকা তৈরি করা হয়েছে। তাছাড়া অভিযোগ পাওয়ার পরে ঐ শিক্ষকের স্ত্রীর নামের ভিজিডির কার্ডটি বাতিল করা হবে। নতুন কারও নামে কার্ড তৈরি করা হবে।

তালতলী উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও উপজেলা ভিজিডি কমিটির সভাপতি সিফাত আনোয়ার তুমপা বলেন, এইটাসহ বেশ কয়েকটি অভিযোগ এসেছে। সংশ্লিষ্ট দপ্তরকে তদন্ত করার জন্য বলা হয়েছে। তদন্ত রিপোর্ট আসার পরে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। কোনো স্বজনপ্রীতি হলে অবশ্যই তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

উপজেলা চেয়ারম্যান রেজবি উল কবির জোমাদ্দার বলেন, ভিজিডি কার্ডের নামের তালিকা দেওয়ার সময় ভোটার আইডি কার্ড অনুযায়ী সুপারিশ করা হয়েছে। ভোটার আইডি কার্ডে স্বামীর নাম থাকে না। এজন্য এই ভুল গুলো হয়। তিনি আরও বলেন পরিচয় গোপন করে এমন কিছু হয়ে থাকলে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

বরগুনার তালতলীর সাফিয়া হত্যা মামলার আসামীকে ঢাকা থেকে গ্রেফতার করলো র‌্যাব

//সাইফুল্লাহ নাসির, আমতলী (বরগুনা) প্রতিনিধি//

বরগুনার তালতলী উপজেলার মোসাঃ শাফিয়া বেগম হত্যা মামলার অন্যতম আসামী সিদ্দিক হাওলাদার কে গোপন সংবাদ এর ভিত্তিতে ঢাকার সাভার সাভার থেকে গ্রেফতার করেছে র‌্যাবের যৌথ টিম র‌্যাব-৮ এর সিপিসি-১, পটুয়াখালী ক্যাম্প ও র‌্যাব-৪, সিপিসি-২।

র‌্যাব-৮,সিপিসি-১পটুয়াখালী এর কোম্পানি অধিনায়ক এবং সহকারী পুলিশ সুপার তুহিন রেজা স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞাপ্তিতে জানানো হয়, র‌্যাব-৮, সিপিসি-১ (পটুয়াখালী ক্যাম্প) ও র‌্যাব-৪, সিপিসি-২, সাভার ক্যাম্প একটি যৌথ অভিযান পরিচালনা করে।

ঘটনার বিবরণে জানা যায় যে, গত ০৩/০৪/২০২৩ ইং তারিখ দিবাগত রাত ০৯:৩০ ঘটিকায় ভিকটিম মৃত মোসাঃ শাফিয়া বেগম(৫০) টাকা ধার নেওয়ার জন্য প্রতিবেশী বিকাশ ব্যবসায়ী মোঃ সবুজের দোকানের উদ্দেশ্যে রওয়ানা হয়। পরবর্তীতে সে বাড়িতে ফিরে না আসায় এবং রাত্র গভীর হওয়ায় তাহাকে বিভিন্ন জায়গায় খোজাখূজি করিতে থাকে। খোজাখুজির এক পর্যায়ে ইং০৫/০৪/২০২৩ দুপুর অনুমান ০২:২০ ঘটিকার সময় তালতলী থানাধীন ০৪নং শারিকখালী ইউনিয়নের ০৭নং ওয়ার্ডস্থ দক্ষিণ নলবুনিয়া সাকিনের ধোপার ভিটার পূর্ব পাশে কালীর খালের মধ্যে কেওড়া গাছের গোড়ায়, পানির মধ্যে মৃত শাফিয়াকে উপুর অবস্থায় ভেসে থাকতে দেখিতে পাইয়া ডাকচিৎকার ও কান্নকাটি শুরু করিলে আশপাশের লোকজন ঘটনাস্থলে আসে। স্থানীয় গ্রাম পুলিশ মোঃ আব্দল মালেক বিষয়টি মোবাইল ফোনের মাধ্যমে থানা পুলিশকে অবহিত করে। মৃত ভিকটিম এর মেয়ে মোসাঃ আজমাইন আক্তারকে জিজ্ঞাসা বাদে সে জানায় যে, বাড়ি থেকে বাহির হওয়ার সময় তাহার মায়ের পড়নের কাপড়ের কোচরে ১০,০০০/- টাকা এবং কাণে স্বর্ণের দুল ওজন অনুমান ৫ আনা মূল অনুমান ৩৪০০০/- টাকা ও নাকে স্বর্ণের নাক ফুল ওজন অনুমান ১ আনা মূল্য অনুমান ৬০০০/- টাকা। যাহা শাফিয়া বেগম এর মৃত দেহের সাথে পাওয়া যায় নাই। উল্লেখিত বিবাদীগণ ভিকটিম মৃত মোসাঃ শাফিয়া বেগমকে গত ০৩/০৪/২০২৩ইং তারিখ দিবাগত রাত ০৯:৩০ ঘটিকা হইতে ০৫/০৪/২০২৩ইং তারিখ দুপুর অনুমান ০২:৩০ ঘটিকার মধ্যে যে কোন সময় খুন করিয়া লাশ গোপন করার উদ্দেশ্যে ঘটনাস্থলে ফেলে রাখে এবং স্বর্নের জিনিস নিয়া যায়। উক্ত বিষয়ে বরগুনা জেলার তালতলী থানায় একটি মামলা দায়ের করা হয়। যাহার মামলা নং-৫, তারিখ-০৬/০৪/২০২৩ইং , ধারা-৩০২/২০১/৩৭৯/৩৪ পেনাল কোড। র‌্যাব-৮, সিপিসি-১ বিষয়টি গুরুত্বসহকারে আমলে নিয়ে কার্যক্রম আরম্ভ করে এবং আসামীদের গ্রেফতারের লক্ষ্যে গোয়েন্দা তৎপরতা অব্যাহত রাখে। র‌্যাব-৮, সিপিসি-১ গোপন সংবাদের ভিত্তিতে জানতে পারে বর্ণিত মামলার ০৩ নং আসামী মোঃ সিদ্দিক হাওলাদার(৫০), আইন শৃংখলা বাহিনীর নিকট হতে গ্রেফতার এড়াতে রাজধানীর সাভার এর কাঠগড়া বাজার এলাকায় অবস্থান করছে। স্থানীয় র‌্যাব-০৪, সিপিসি-২, সাভার উক্ত সংবাদের ভিত্তিতে রাজধানীর সাভার এর কাঠগড়া বাজার এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে গত ০৭/০৪/২০২৩ইং তারিখ ১৯০০ ঘটিকার সময় আসামীকে গ্রেফতার করতে সক্ষম হয়। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেফতারকৃত আসামী মোঃ সিদ্দিক হাওলাদার(৫০) ঘটনার সাথে নিজের সরাসরি সং¯িøষ্টতার বিষয়টি র‌্যাবের কাছে স্বীকার করে।

গ্রেফতারকৃত আসামীকে পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য (মামলা নং-৫, তারিখ-০৬/০৪/২০২৩ইং , ধারা-৩০২/২০১/৩৭৯/৩৪ পেনাল কোড) মূলে বরগুনা জেলার তালতলী থানায় হস্তান্তর করা হয়।

বরগুনায় বেহুন্দি জাল জব্দ বাবা-ছেলের এক বছরের কারাদণ্ড

//সাইফুল্লাহ নাসির,আমতলী (বরগুনা) প্রতিনিধি//

বরগুনায় অবৈধ জাল নির্মূল অভিযানকালে সদর উপজেলায় নয়টি অবৈধ বেহুন্দি জাল সহ বাবা ও ছেলেকে গ্রেফতার করেছে বরগুনার ভ্রাম্যমান আদালত ।

গ্রেপ্তারারকৃতদের ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে মৎস্য সুরক্ষা ও সংরক্ষণ আইন ১৯৫০ এর ধারা ৫ অনুযায়ী এক বছর সশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে এবং জব্দকৃত বেহুন্দি জালগুলো পুড়িয়ে ধ্বংস করা হয়েছে।

গত কাল বৃহস্পতিবার (৬ এপ্রিল) রাতে এ ঘটনা ঘটেছে বলে নিশ্চিত করেছেন জেলা মৎস্য কর্মকর্তা বিশ্বজিৎ কুমার দেব।

দণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন,সদর উপজেলার বদরখালী ইউনিয়নের দক্ষিণ তেঁতুলবাড়িয়া এলাকার গোলাম মোস্তফা (৫৭) ও তার ছেলে সোলায়মান (২৮)।

বরগুনা জেলা মৎস্য কর্মকর্তা বিশ্বজিৎ কুমার দেব বলেন, ‘গোপন সংবাদের ভিত্তিতে বৃহস্পতিবার বিকেলে জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ফয়সাল আল নূরের নেতৃত্বে বিষখালী নদীর বরগুনা সদর উপজেলার দক্ষিণ তেঁতুলবাড়িয়া এলাকায় অভিযান চালানো হয়। এসময় নয়টি অবৈধ বেহুন্দি জালসহ ওই দুজনকে আটক করা হয়।’

বরগুনার বীর সেনানী নুরুল ইসলাম পাশা তালুকদারের ইন্তেকাল

//সাইফুল্লাহ নাসির,আমতলী (বরগুনা) প্রতিনিধি//

বরগুনার আমতলী উপজেলার বীর সেনানী,মুক্তিযুদ্ধ কালিন আমতলী থানা দখলকারী ও স্বাধীনতাত্তোর আমতলী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার দায়িত্ব পালনকারী,নির্ভীক দেশ প্রেমিক,নিজের জন্য চাওয়া পাওয়ার উর্ধে থাকে সর্বোচ্চ ত্যাগ স্বীকারকারী,চাওড়া সম্ভ্রান্ত পরিবার তালুকদার বাড়ির জেষ্ঠ্য কৃতি সন্তান,বীর মুক্তিযোদ্ধা,আলহাজ্ব নূরুল ইসলাম পাশা তালুকদার আজ দুপুর দুইটার সময়ে চিকিৎসাধীন থাকা অবস্থায় গেলেন না ফেরার দেশে। (ইন্না-লিল্লাহ ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)।
মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৯৮ বছর।মৃত্যুকালে ৭সন্তানসহ অসংখ্য আত্মীয়-স্বজন, গুণগ্রাহী ও শুভানুধ্যায়ী রেখে গেছেন।
তার মৃত্যুতে আমতলীর সর্বস্তরের জনগন ও সংগঠন গভীর শোক ও দুঃখ প্রকাশ করেছেন।
শোক বিবৃতিতে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ও সংগঠনের নেতৃবৃন্দ মরহুমের রুহের মাগফিরাত কামনা এবং তার শোকসন্তপ্ত পরিবার- পরিজন,আত্মীয়-স্বজন, গুণগ্রাহীদের প্রতি গভীর সমবেদনা জ্ঞাপন করেন।

বরগুনার পাথরঘাটার মাদক ব্যবসায়ী আব্দুর রবকে যৌথ অভিযানে আটক করেছে র‌্যাব-৭ ও র‌্যাব-৮

সাইফুল্লাহ নাসির আমতলী (বরগুনা) প্রতিনিধিঃ

বরগুনার পাথরঘাটার কুখ্যাত মাদক ব্যাবসায়ী ও সন্ত্রাসী আবদুর রব কে যৌত অভিযানে চট্টগ্রাম থেকে গ্রেফতার করেছে র‌্যাব-৭ ও র‌্যাব-৮।

র‌্যাব পটুয়াখালী এর সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়,
গত ১৮ মার্চ ২০২৩, দুপুর ১৪৩০ ঘটিকার দিকে বরগুনার পাথরঘাটা উপজেলার চরদুয়ানী ইউনিয়নের মুন্সিরহাট এলাকায় ডিবি পুলিশের একটি আভিযানিক দল মাদক অভিযানে গমন করলে তাদের উপর মাদক ব্যবসায়ীরা ধারালো ছুরি নিয়ে অতর্কিত হামলা করে। উক্ত হামলায় ডিবি পুলিশের একজন সদস্যসহ ৩জন আহত হন। এ সময় মাদক ব্যবসায়ী সৈকত হোসেন ও তার লোকজন দেশিয় অস্ত্র (চাকু) দিয়ে পুলিশের উপর হামলা চালায়। এতে পুলিশ সদস্যসহ পুলিশের সোর্স আহত হয়। পরে ডিবি পুলিশের অন্য সদস্যরা আহতদের উদ্ধার করে চিকিৎসার জন্য পাথরঘাটা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। উক্ত ঘটনার পরে পাথরঘাটা থানায় ঘটনার সাথে সরাসরি জড়িত ০৩ জনকে আসামী করে মামলা করা হয়। উক্ত মামলার এজাহারভুক্ত অন্যতম আসামী আব্দুর রব হাওলাদার।

র‌্যাব-৮, সিপিসি-১ বিষয়টি গুরুত্বসহকারে আমলে নিয়ে কার্যক্রম আরম্ভ করে এবং র‌্যাব সদর দপ্তরের গোয়েন্দা শাখার তৎপরতায় ও র‌্যাব-৭ আভিযানিক দলের অভিযানে আসামি আব্দুর রব এর অবস্থান সনাক্ত করে তাকে চট্টগ্রাম হতে গ্রেফতার করা হয়। আব্দুর রব এর বাড়ি পাথরঘাটা হলেও সে মাদক ব্যবসার সূত্রে চট্টগ্রামের ষ্টিল মিল এলাকায় বসবাস করে। সে মাদক চট্টগ্রাম ও কক্সবাজার হতে সংগ্রহ করে তা বরগুনা ও বরিশাল বিভাগের বিভিন্ন স্থানে বিক্রয় চক্রের অন্যতম সদস্য। আসামী আব্দুর রব গত ১৮ মার্চ ২০২৩ তারিখ পুলিশ সদস্য আহত করার পর পালিয়ে কক্সবাজার গমন করে। পরবর্তীতে, গত ৩১ মার্চ সে কক্সবাজার হতে চট্টগ্রামে নিজ ভাড়া বাসার উদ্দেশ্যে রওনা করলে র‌্যাব-৭, সিপিসি-৩ এর আভিযানিক দল তাকে পটিয়া-আনোয়ারা সংযোগ সড়কের মোর থেকে তাকে গ্রেফতার করে। আসামী আব্দুর রব হাওলাদারের ক্রিমিনাল রেকর্ড বিশ্লেষণ করলে দেখা যায় যে, চট্টগ্রাম ও বরগুনা জেলায় ৩টি মাদক মামলা ও পুলিশ সদস্যকে ছুরিকাঘাতে দায়েরকৃত মামলাসহ সর্বমোট ০৪টি মামলায় সে এজাহারে অভিযুক্ত আসামী। গ্রেফতারকৃত আসামীকে পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য বরগুনা জেলার পাথরঘাটা থানা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।