বরগুনায় ছাত্রলীগের উপর পুলিশের বেধড়ক মারধর এর প্রতিবাদে আমতলীতে বিক্ষোভ

//সাইফুল্লাহ নাসির, বরগুনা প্রতিনিধি//

বরগুনায় ১৫ আগষ্ট জাতীয় শোক দিবসের অনুষ্ঠানে ছাত্রলীগের উপরে পৈশাচিক নির্যাতন ও বরগুনা জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও বরগুনা-১ আসনের সাংসদ এ্যাডভোকেট ধীরেন্দ্র দেবনাথ শম্ভু’র সাথে বরগুনা অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মহরম আলীর অসৌজন্যমূলক আচরণের প্রতিবাদে আমতলীতে বিক্ষোভ মিছিল ও প্রতিবাদ সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

বরগুনায় ছাত্রলীগের উপর পুলিশের বেধড়ক মারধর এর প্রতিবাদে আমতলীতে বিক্ষোভ

আজ বিকেল ৫টায় আমতলী উপজেলা আওয়ামীলীগ আয়োজিত বিক্ষোভ মিছিলটি আবদুল্লাহ সুপার মার্কেট থেকে শুরু হয়ে শহরের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে আমতলী চৌরাস্তায় প্রতিবাদ সভা করে।
মিছিল ও প্রতিবাদ সভায় যুবলীগ,ছাত্রলীগ সহ অঙ্গ সংগঠনের নেতাকর্মীরা ও সাধারন জনগগন অংশ করে।

আমতলী উপজেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি এডভোকেট এম এ কাদের মিয়ার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত প্রতিবাদ সভায় বক্তব্য রাখেন,আমতলী উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান (ভারপ্রাপ্ত) ও আমতলী পৌর আওয়ামীলীগের সভাপতি মোঃ মজিবুর রহমান, উপজেলা আওয়ামীলীগের সিনিয়র সহ সভাপতি আলহাজ্ব মোঃ নুরুল ইসলাম মৃধা, সহ সভাপতি ও সদর ইউপি চেয়ারম্যান মোঃ মোতাহার উদ্দিন মৃধা,যুগ্ন সাধারণ সম্পাদক ও চাওড়া ইউপি চেয়ারম্যান মোঃ আক্তারুজ্জামান বাদল খান, আওয়ামিলীগ নেতা ও পৌর কাউন্সিলর জাহিদুল ইসলাম জুয়েল তালুকদার, আওয়ামীলীগ নেতা মোঃ আবদুল হক, তরিকুল ইসলাম জুয়েল,আমতলী পৌর সভার প্যানেল মেয়র মীর হাবিবুর রহমান সহ আওয়ামিলীগ, যুবলীগ,ছাত্রলীগ ও অঙ্গ সংগঠনের নেতৃবৃন্দ।

 

বরগুনার ঘটনায় কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের তদন্ত কমিটি গঠন

//সাইফুল্লাহ নাসির, বরগুনা প্রতিনিধি//

বরগুনায় ছাত্রলীগের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের উপর হামলার ঘটনায় সংঘর্ষ এড়াতে পুলিশের লাঠিচার্জের ঘটনা নিয়ে তদন্ত কমিটি গঠন করেছে কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগ।

মঙ্গলবার (১৬ আগস্ট) কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সভাপতি আল নাহিয়ান খাঁন জয় ও সাধারণ সম্পাদক লেখক ভট্টাচার্য স্বাক্ষরিত একপ্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানান।

তারা বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করেছেন, বরগুনা জেলার শিল্পকলা অ্যাকাডেমিতে অনাকাঙ্ক্ষিত সংঘর্ষ ও হামলার ঘটনার তদন্তের স্বার্থে ছাত্রলীগ নেতা বেল্লাল হোসেন বিদ্যুৎ ও আব্দুর রশিদ রাফি তিন কার্য দিবসের মধ্যে সুপারিশসহ তদন্ত প্রতিবেদন কেন্দ্রীয় দপ্তর সেলে জমা দিবেন বলে উল্লেখ করেছেন।

সোমবার (১৫ আগস্ট) সাড়ে এগারোটায় বঙ্গবন্ধুর শাহাদাতবার্ষিকী উপলক্ষে বঙ্গবন্ধু স্মৃতি কমপ্লেক্সে হাজার অধিক ছাত্রলীগ নেতাকর্মীদের নিয়ে ফুল দিতে যান জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি রেজাউল কবির রেজা ও সাধারণ সম্পাদক তৌশিকুর রহমান ইমরান।

বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে পুষ্পস্তবক অর্পণ শেষে ফেরার সময় শিল্পকলা অ্যাকাডেমির সামনে পৌঁছালে ছাত্রলীগের পদবঞ্চিত নেতা সবুজ মোল্লার গ্রুপের সদস্যরা তাদের ওপর হামলা চালান। এতে দুই গ্রুপের নেতা-কর্মীরা সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়েন। পুলিশ থামাতে গেলে পুলিশের একটি গাড়ি ভাঙচুর হয়।

এ সময় পুলিশ লাঠিচার্জ করে তাদের ছত্রভঙ্গ করে দেয়। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে শহরজুড়ে থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে। গুরুত্বপূর্ণ স্থানে পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।

এর আগে দীর্ঘ আট বছর পর গত ১৭ জুলাই বরগুনা শহরের সিরাজ উদ্দীন টাউন হল মিলানায়তনে বরগুনা জেলা ছাত্রলীগের সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। ২৪ জুলাই রাতে কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক জেলা ছাত্রলীগের নতুন কমিটির অনুমোদন দেন।

এতে জেলা কমিটির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকসহ ৩৩ সদস্যের নাম প্রকাশ করা হয়। এরপর থেকেই সদ্য ঘোষিত এ কমিটি প্রত্যাখ্যান করে বরগুনা শহরে পদবঞ্চিতরা প্রতিবাদ জানাতে থাকেন।

 

আমতলীতে জাতীয় শোক দিবস পালন

//সাইফুল্লাহ নাসির, বরগুনা প্রতিনিধি//

দিনব্যাপী নানা আয়োজন আর কর্মসূচিতে বরগুনার আমতলীতে পালিত হয়েছে স্বাধীনতার মহান স্থপতি হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ বাঙ্গালী জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এর ৪৭তম শাহাদত বার্ষিকী ও জাতীয় শোক দিবস।

সোমবার দিবসটি পালন উপলক্ষে আমতলী উপজেলা আওয়ামীলীগের আয়োজনে সকাল ৭টায় দলীয় কার্যালয়ে জাতীয় পতাকা ও দলীয় উত্তোলন করা হয়,সকাল ৭.১৫ মিনিটে কালোব্যাজ ধারণ ও আমতলী পৌরসভা চত্বরে নির্মিত জাতীর পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের মুড়ালে পুস্প স্তবক অর্পন,সকাল নয়টায় উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে আলোচনা সভা, সকাল এগারোটা পনের মিনিটের সময় উপজেলা আওয়ামীলীগ আয়োজিত আলোচনা সভা,দিনব্যাপী উপজেলা আওয়ামীলীগ কার্যালয়ে পবিত্র কোরআন থেকে তেলাওয়াত,দুপুর একটা পনের মিনিট এর সময়ে শহীদদের রুহের মাগফেরাত কামনায় দোয়া ও মিলাদ এবং শহীদদের রুহের মাগফেরাত কামনায় আমতলীর সকল মন্দির,গীর্জা ও প্যাগোডায় বিশেষ প্রার্থনা।

এ সকল কর্মসূচিতে উপস্থিত ছিলেন আমতলী উপজেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি এডভোকেট এম এ কাদের মিয়া,উপজেলা আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক ও আমতলী পৌর মেয়র মতিয়ার রহমান, উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান (ভারপ্রাপ্ত) ও পৌর আওয়ামীলীগের সভাপতি মোঃ মজিবুর রহমান, উপজেলা আওয়ামীলীগের সিনিয়র সহ সভাপতি আলহাজ্ব মোঃ নুরুল ইসলাম মৃধা,কেন্দ্রীয় আওয়ামীলীগ নেতা মিজানুর রহমান, উপজেলা আওয়ামীলীগের সহ সভাপতি ও আমতলী সদর ইউপি চেয়ারম্যান মোঃ মোতাহার উদ্দিন মৃধা,যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও চাওড়া ইউপি চেয়ারম্যান মোঃ আক্তারুজ্জামান বাদল খান, কুকুয়া ইউপি চেয়ারম্যান বোরহান উদ্দিন মাসুম তালুকদার,আড়পাংশিয়া ইউপি চেয়ারম্যান সোহেলী পারভীন মালা,আঠারোগাছিয়া ইউপি চেয়ারম্যান রফিকুল ইসলাম রিপন, হলদিয়া ইউপি চেয়ারম্যান আসাদুজ্জামান মিন্টু মল্লিক,গুলিশাখালী ইউপি চেয়ারম্যান এডভোকেট মনিরুল ইসলাম মনি,উপজেলা পরিষদের সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান,বীর মুক্তিযোদ্ধা শামসুদ্দিন শানু,চাওড়া ইউনিয়ন আওয়ামীলীগ সভাপতি আহরুজ্জামান আলমাস খান, আওয়ামীলীগ নেতা পৌর কাউন্সিলর জাহিদুল ইসলাম জুয়েল তালুকদার, আমতলী পৌরসভার প্যানেল মেয়র মীর হাবিবুর রহমান,আওয়ামীলীগ নেতা আমতলী পৌর সভার প্যানেল মেয়র মীর হাবিবুর রহমান,আওয়ামীলীগ নেতা এম,এ হান্নান,হারুন অর রশীদ,কামাল আজন,রিপন তালুকদার,তরিকুল ইসলাম জুয়েল মৃধা সহ যুবলীগ, ছাত্রলীগ, শ্রমিক লীগ সহ বিভিন্ন অঙ্গ সংগঠনের নেতৃবৃন্দ প্রমুখ।

দিবসটি পালন উপলক্ষে অনুষ্ঠিত বিভিন্ন আলোচনা সভায় বক্তারা বলেন বঙ্গবন্ধু একটি স্বাধীন লাল সবুজ বাংলাদেশের স্বপ্ন দেখেছিলেন বলেই আজ আমরা স্বাধীন ও মুক্ত বিহঙ্গ। তাই বঙ্গবন্ধুর অর্জিত স্বাধীনতাকে আমাদের মর্যাদা ও সম্মানের সঙ্গে বুকে ধারন করে জাতির পিতার আদর্শে নিজেদের এবং আগামী প্রজন্মদের গড়ে তুলতে হবে। তবেই বঙ্গবন্ধু ও তার পরিবারের সদস্য এবং লাখ লাখ মানুষের বুকের তাজা রক্তের মূল্যায়ন করা হবে।

লঘুচাপের প্রভাবে আমতলীর নিম্নাঞ্চল প্লাবিত, ভোগান্তিতে লাখো মানুষ

//সাইফুল্লাহ নাসির,  বরগুনা প্রতিনিধি//

বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট লঘুচাপের কারণে অতিবর্ষণ ও পূর্ণিমার জোঁতে পায়রা (বুড়িশ্বর) নদীতে স্বাভাবিক জোয়ারের চেয়ে ৫৯ সেন্টিমিটার পানি বৃদ্ধি পেয়ে উপকুলীয় অঞ্চল বরগুনার আমতলীর নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। আমতলী পায়রা (বুড়িশ্বর) নদীর ফেরির গ্যাংওয়ে পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় যানবাহন পারাপারে বিঘ্ন সৃষ্টি হচ্ছ ফলে ভোগান্তিতে পড়েছে জেলা শহর বরগুনায় যাতায়াতকারী লোকজন। এদিকে পানিতে তলিয়ে গেছে আমতলী পৌর শহরের বিভিন্ন সড়ক। আউশের ধান ও আমনের বীজতলা পানির নীচে তলিয়ে যাওয়ায় পচনধরার সম্ভাবনা রয়েছে।বিভিন্ন স্হানে দেখা দিয়েছে ভয়াবহ জলাবদ্ধতা। অতিবর্ষনে জনজীবন বিপর্যস্থ হয়ে পরেছে। এতে দুর্ভোগে পরেছে উপজেলার কমপক্ষে দেড় লক্ষাধীক মানুষ।

বিভিন্ন স্হান ঘুরে জানা যায়,সৃষ্ট লঘুচাপের প্রভাবে অতিবর্ষণ ও পূর্ণিমার জোঁতে পায়রা নদীতে স্বাভাবিক জোয়ারের চেয়ে ৫৯ সেন্টিমিটার পানি বৃদ্ধি পেয়ে উপকুলীয় এলাকা  আমতলীর নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধের বাহিরের বসবাসরত মানুষের ঘরবাড়ী তলিয়ে গেছে। তারা অতিকষ্টে জীবনযাপন করছে। অতি বর্ষণ ও বিভিন্ন স্হানে জমে থাকা পানির কারনে আমতলীী জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পরেছে।বিভিন্ন স্হানে দেখা যায়  পানিতে মাঠ-ঘাট থই থই করছে। তলিয়ে গেছে আউশের ধান ক্ষেত ও আমনের বীজখেত। চাষাবাদ বন্ধ হয়ে গেছে।স্লুইস গেটের জলকপাটগুলো দিয়ে তেমন পয়নিস্কাশন না হওয়ায় উপজেলার বিভিন্ন স্হানে ভয়াবহ জলাবদ্ধতা দেখা দিয়েছে।এলাকাবাসীর দাবি দ্রুত পয়নিস্কাশন না হলে আউশ ধান ও আমনের বীজখেত পঁচে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

কৃষি অফিস সূত্রে জানাগেছে,বরগুনার আমতলী ও তালতলী উপজেলার ৩৬ হাজার ৩০০ হেক্টর আবাদি জমি পানিতে তলিয়ে থাকায় চাষাবাদ বন্ধ রয়েছে।

একই স্থানে বিএনপির দুই গ্রুপে সভা আহবান করায় আমতলীতে ১৪৪ ধারা

//সাইফুল্লাহ নাসির, বরগুনা প্রতিনিধি//

উপজেলা ও পৌর বিএনপির কমিটি ঘোষণাকে কেন্দ্র করে এক পক্ষের আনন্দ শোভযাত্রা ও অপর পক্ষের তা প্রতিরোধ করার ঘোষণাকে কেন্দ্র করে আইন শৃংঙ্খলা অবনতি হওয়ার আশংকায় বরগুনার জেলা প্রশাসন আমতলীতে ১৪৪ ধারা জারি করেছেন।

জানা গেছে, গত ২ আগস্ট  বরগুনা বিএনপি’র সভাপতি মাহবুবুল আলম ফারুক মোল্লা ও সাধারণ সম্পাদক তারিকুল ইসলাম টিটু স্বাক্ষরিত আমতলী উপজেলা বিএনপি ও পৌর বিএনপি’র আহবায়ক কমিটি ঘোষনা করেন। ওই কমিটিতে জালাল উদ্দিন ফকির আহবায়ক ও কামরুজ্জামান হিরু মৃধাকে সদস্য সচিব করে ৭ সদস্য বিশিষ্ট আংশিক উপজেলা কমিটি এবং কবির উদ্দিন ফকির আহবায়ক ও তুহিন মৃধাকে সদস্য সচিব করে ১০ সদস্য বিশিষ্ট আংশিক পৌর কমিটি ঘোষনা করেন।

ওই কমিটি ঘোষনার পর থেকে সদ্য ঘোষিত উপজেলা বিএনপি’র আহবায়ক জালাল উদ্দিন ফকির ও পৌর কমিটির সদস্য সচিব তুহিন মৃধা উভয় কমিটি বাতিলের জন্য বিরোধীতা করে আসছে। এরই ধারাবাহিকতায় গত ১০ আগস্ট বুধবার বিকেলে জালাল উদ্দিন ফকির ও তুহিন মৃধার নেতৃত্বে ছাত্রদল ও যুবদলের অর্ধশতাধিক নেতা- কর্মীদের নিয়ে একে সরকারী হাই স্বুল সংলগ্ন দলীয় কার্যালয়ের সামনে বিএনপি’র কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সহ- শ্রম বিষয়ক সম্পাদক মামুন মোল্লার ছবিতে ঝাড়ু ও জুতাপেটা করে প্রতিবাদ জানায় সেই সাথে জেলা নেতৃবৃন্দের কঠোর সমালোচনা করা হয়।

অপরদিকে ঘোষিত কমিটিকে অভিনন্দন জানিয়ে আজ  শনিবার বিকেলে সদ্য ঘোষিত কমিটির উপজেলা বিএনপি’র সদস্য সচিব কামরুজ্জামান হিরু মৃধা ও পৌর বিএনপি’র আহবায়ক কবির উদ্দিন ফকিরের নেতৃত্বে আনন্দ শোভাযাত্রা হওয়ার কথা থাকলেও ঘোষিত কমিটি উপজেলা বিএনপি’র আহবায়ক জালাল উদ্দিন ফকির ও পৌর কমিটির সদস্য সচিব তুহিন মৃধা তা প্রতিহত করার ঘোষনা দেয়ায় উভয় পক্ষের মধ্যে উত্তেজনার সৃষ্টি হয়। আইন শৃংঙ্খলার অবনতির আশংকায় পুলিশ উপজেলা প্রশাসনের কাছে ১৪৪ ধারা জারি করার জন্য আবেদন করেন।

আইন শৃংঙ্খলার অবনতির আশংকায় আমতলী উপজেলা প্রশাসন জেলা প্রশাসনের কাছে ঐ আবেদনটি পাঠিয়ে দেয়। বিকাল ৪টায় আমতলী উপজেলা নির্বাহী অফিসারের কার্যালয় হতে আইন শৃংঙ্খলার অবনতির আশংকায় উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ হতে আমতলী পৌর শহরে আজ শনিবার বিকাল ৪ টা থেকে রাত রাত ১২ টা পর্যন্ত সকল প্রকার সভা সমাবেশ নিষিদ্ধ ঘোষনা করে ১৪৪ ধারা জারি করে আমতলী পৌর শহরে মাইকিং করা হয়েছে।

এ বিষয়ে ঘোষিত উপজেলা বিএনপি’র সদস্য সচিব মোঃ কামরুজ্জামান হিরু মৃধা বলেন, নতুন কমিটি ঘোষনাকে কেন্দ্র করে আমাদের পূর্ব নির্ধারিত আনন্দ শোভাযাত্রা বানচাল করতে উপজেলা বিএনপি’র আহবায়ক জালাল উদ্দিন ফকির ও পৌর বিএনপি’র সদস্য সচিব তুহিন মৃধা ষরযন্ত্র করে আসছে। বিষয়টি আমরা জেলা বিএনপি’র নেতৃবৃন্দকে জানিয়েছি। অচিরেই বিএনপি’র নেতা-কর্মীরা এর সমুচিত জবাব দিবে ইনশাআল্লাহ।

আমতলী থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) এ,কে,এম মিজানুর রহমান বলেন, বিএনপি’র দুই গ্রুপের পাল্টাপাল্টি কর্মসূচি ঘোষণাকে কেন্দ্র করে আইন  শৃংঙ্খলা অবনতির আশংকায় আমতলী পৌর শহরে ১৪৪ ধারা জারি করা হয়েছে।

বেতাগীতে আগুন দিয়ে পুড়িয়ে ইউপি সদস্য শামীমকে হত্যার তিন দিন পর মামলা

//সাইফুল্লাহ নাসির, বরগুনা প্রতিনিধি//

বরগুনায় বেতাগীতে সরিষামুড়ি ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য ও প্যানেল চেয়ারম্যান খান ফারুক আহমেদ শামীমকে বসতঘরে তালা লাগিয়ে আগুনে পুড়িয়ে হত্যার ঘটনায় মামলা হয়েছে।

শনিবার (১৩ আগষ্ট) দুপুরে নিহত শামীমের মা মনোয়ারা বেগম বাদী হয়ে অজ্ঞাতনামাদের আসামী করে  বেতাগী থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।

বেতাগী থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোঃ শাহ আলম হাওলাদার জানান,ইউপি সদস্য ও প্যানেল চেয়ারম্যান খান ফারুক আহমেদ শামীমকে আগুনে পুড়িয়ে হত্যার ঘটনায় ৪০৬,৪২৭,৩০২ ও ৩৪ ধারায়  একটি মামলা হয়েছে। মামলা নম্বর ৯,তারিখ ১৩ আগষ্ট ২০২২ খ্রি.।

গত শুক্রবার সকাল ১০টায় স্থানীয় ভোড়া হাতেম আলী মাধ্যমিক বিদ্যালয় মাঠে হাজারো মানুষের  অংশগ্রহণ ও উপস্থিতিতে জানাজা শেষে পাবিবারিক কবরস্থানে ইউপি সদস্য ও প্যানেল চেয়ারম্যান খান ফারুক আহমেদ শামীমকে দাফন করা হয়।

গত মঙ্গলবার রাত আনুমানিক ২টার সময় উপজেলার প্রত্যন্ত জনপদ সরিষামুড়ি ইউনিয়নের মায়ার হাঁট বাজার সংলগ্ন ২নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য খান ফারুক আহমেদ শামীম খানের টিনসেট বসত ঘরে বাহির থেকে দরজায় তালা লাগিয়ে পেট্রোল দিয়ে আগুন ধরিয়ে দেয় দুর্বৃত্তরা।এ আগুনে ইউপি সদস্য খান ফারুক আহমেদ শামীমের  দুই হাত,পিঠ,ঘাড় এবং মাথার চুল সহ শরীরের ৭০ শতাংশ পুড়ে যায় এবং তার স্ত্রী সূচী আক্তার (২৫), শিশু পুত্র মাইনুল খান  (৫) ও  সামিউল খান  (২) দগ্ধ হন। আহতদের বরিশাল শেরে-ই বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

পরে অবস্থার অবনতি হলে সেখান থেকে শামিমকে ঢাকার শেখ হাসিনা জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে ভর্তি করা হয়।গত বৃহস্পতিবার দুপুরে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শামিমের মুত্যু হয়।

এতে এখনো পরিবারে চলছে শোকের মাতম ও এলাকায় বিরাজ করছে শোকের ছায়া।  একই গ্রামের বাসিন্দা প্রভাষক হাবীবুর রহমান জানান,ইউপি সদস্য ফারুক আহমেদ শামিমের এ মৃত্যু আমরা কিছুতেই মেনে নিতে পাছিনানা। এলাকার যে অপূরনীয় ক্ষতি হয়েছে। তা ভুলবার নয়।

টাকার বিনিময়ে কমিটি দেওয়ার প্রতিবাদে আমতলীতে বিএনপি’র কেন্দ্রীয় নেতার ছবিতে জুতা, ঝাড়ু নিক্ষেপ ও বিক্ষোভ মিছিল

//সাইফুল্লাহ নাসির, বরগুনা প্রতিনিধি//

বরগুনাট আমতলী উপজেলা বিএনপি’র কমিটি গঠনে ঘুষ নেয়ার অভিযোগে বিক্ষোভ ও বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতার ছবিতে জুতা ও ঝাড়ু নিক্ষেপ করেছেন তৃনমুল নেতাকর্মীরা।

আজ সকাল১১.ঘটিকায় আমতলী একে স্কুল সড়ক বিএনপি’র অস্হায়ী কার্যালয়ের সামনে নেতাকর্মীরা বিএনপি’র কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির শ্রম বিষয়ক সম্পাদক ফিরোজ্জামান মামুন মোল্লার কুশপুওলিকা জুতা ও ঝাড়ু দিয়ে বিক্ষোভ প্রতিবাদ করেন।

জানা যায় বিগত ৮ই আগষ্ট বরগুনার আমতলী উপজেলা বিএনপি’র থানা ও পৌর আহ্বায়ক কমিটি দেয়া হয়। ১০ সদস্য বিশিষ্ট উপজেলা বিএনপি’র আহ্বায়ক কমিটি ও ৭ সদস্য বিশিষ্ট পৌর বিএনপি’র আহ্বায়ক কমিটি বরগুনা জেলা বিএনপি’র আহ্বায়ক কমিটি অনুমোদন করেন।

উক্ত কমিটিতে বিএনপি’র ত্যাগীও জেষ্ঠ নেতাদের দলে পদ পদবী না দিয়ে ও টাকার বিনিময় পকেট কমিটি দেয়া হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন দলের তৃনমূল নেতাকর্মীরা।

বিক্ষোভ ও প্রতিবাদ সমাবেশের সভাপতিত্ব করেন,আমতলী উপজেলা যুবদলের সদস্য পৌর কাউন্সিলর মোঃ শামসুল হক চৌকিদার।

বক্তারা অভিযোগ করে বলেন, কেন্দ্রীয় নেতা মামুন মোল্লা মোটা অংকের টাকা ঘুষ নিয়ে আমতলী উপজেলা ও পৌর বিএনপির কমিটি দিয়েছেন, আমরা এই কমিটি বাতিল চাই।

এ বিষয়ে অভিযুক্ত বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির শ্রম বিষয়ক সম্পাদক ফিরোজ্জামান মামুন মোল্লা মুঠো বলেন,আমতলী উপজেলা ও পৌর কমিটি অনুমোদন দিয়েছেন বরগুনা জেলা কমিটি এখানে আমার কোন হাত নেই,টাকার নেয়ার অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা ও বানোয়াট।যদি কেহ কোন প্রমান দিতে পারে তবে রাজনীতি ছেড়ে দেব।

এ বিষয়ে বরগুনা জেলা বিএনপির আহ্বায়ক মাহবুবুল আলম ফারুক মোল্লা জানান, আমি কোন লিখিত অভিযোগ পাইনি,তাছাড়া সবকিছু আলোচনা করে সমাধান করা যায় কিন্তু এভাবে রাস্তায় বিক্ষোভ প্রতিবাদ করলে দলের ভাবমূর্তি নষ্ট হয় তাই আলোচনা করে সমাধান করা যেতে পারে।

বিক্ষোভ ও প্রতিবাদ সমাবেশে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা যুবদলের সিঃ যুগ্ন আহ্বায়ক মঈনুদ্দিন মামুন,যুগ্ন আহ্বায়ক আবু সাঈদ জুবেরী,যুগ্ন আহ্বায়ক মেহেদী জামান রাকিব,যুগ্ন আহ্বায়ক আঃ রাজ্জাক,পৌর যুবদলের যুগ্ন আহ্বায়ক অসীম মৃধা, শ্রমিকদলের সভাপতি তরিকুল ইসলাম সোহাগ। মৎসজীবি দলের সভাপতি কবির হোসেন তালুকদার,কৃষকদলের সভাপতি জাহাঙ্গীর মাস্টার, স্বেচ্ছাসেবক দলের যুগ্ন আহ্বায়ক জসিম মেম্বার, সোহেব ইসলাম হেলাল আহ্বায়ক উপজেলা ছাএদল, মোঃ ইমরান খান সদস্য সচিব আমতলী উপজেলা ছাএদল, মনির ডাকুয়া সদস্য সচিব আমতলী সরকারী কলেজ শাখা ছাএদল সহ বিভিন্ন পর্যায়ের নেতা কর্মীরা।

 

গৃহকর্মীর কাজ করতে গিয়ে ঢাকায় খুন হলো আমতলীর মেয়ে, গৃহকর্তী আটক

//সাইফুল্লাহ নাসির, বরগুনা প্রতিনিধি//

বরগুনার আমতলী উপজেলার হলদিয়া ইউনিয়নে টেপুরা গ্রামের রেখা বেগম (২০) নামে এক কিশোরী ঢাকায় গৃহকর্মীর কাজ করতে গিয়ে অস্বাভাবিক মৃত্যু হয়েছে। রেখার স্বজনরা অভিযোগ করেছেন গৃকর্তী রেখাকে পাওনা টাকা না দেওয়ার জন্য নির্যাতন করে হত্যা করেছে।

এঘটনায় পুলিশ লাশ উদ্ধারসহ রেশমা নামে ওই গৃহকর্তীকে আটক করে জেল হাজতে পাঠিয়েছে। ঘটনা ঘটেছে ৪ আগস্ট বনানী থানার ২৩/এ সড়কের ৮৬ নং বাড়ীর নবম তলায়।

আমতলী উপজেলার হলদিয়া ইউনিয়নের টেপুরা গ্রামের নিহত গৃহকর্মী রেখা বেগমের (২০) খালা পারভীন বেগম জানান, নিহত রেখার বাবা দুধা গাজী ২০ বছর পূর্বে এবং তার মা রাজিয়া বেগম ১৮ বছর পূর্বে মারা যান।

মা বাবা হীন এতিম রেখাকে আমি লালন পালন করি। অভাবের তারনায় রেখাকে নিয়ে ২০১০ সালে আমরা ঢাকায় চলে যাই। আমার স্বামী রাজ মিস্ত্রীর কাজ করে। যে বছর আমরা ঢাকা যাই তার কয়েকদিন পর ১০ বছর বয়সে রেখা ঢাকার বিমান বন্দর এলাকা থেকে হারিয়ে যায়। এর পর রেখাকে আমরা আর খুজে পাইনি।

২ বছর আগে রেখা গ্রামের বাড়ি ফিরে আসে। তখন সে জানায় বনানী থানার ৮৬ নম্বও বাড়ীর ২৩/এ সড়কের রেশমা বেগম নামে এক গৃহকর্তীর বাসায় গৃহকর্মীর কাজ নেয় সে। ওই গৃহকর্তী তালাক প্রাপ্তা ছিল।

তার বাবার নাম মোকছেদ আলী। গৃহকর্তী ২০১০ সাল থেকে ২০১৯ সাল পর্যন্ত রেখাকে বেতনের কোন টাকা পয়সা না দেওয়ায় ২০১৯ সালে সে পালিয়ে গ্রামের বাড়ি চলে আসে।

ওই গৃহকর্তী তখন ফোনের মাধ্যমে রেখাকে তার বাসায় যাওয়ার অনুরোধ করে এবং তার বকেয়া সকল টাকা দেওয়ার আশ্বাস দেয়। রেখা তার গৃহকর্তীর কথা বিশ্বাস করে সে আবার তার বাসায় ফিরে যায়।

ওই বাসায় ফিরে যাওয়ার পর রেখার সাথে বাড়ির লোকজনের ফোনের সকল যোগোযোগ বন্ধ করে দেয় গৃহকর্তী রেশমা বেগম। রেখাকে কখনো বাসার বাইরে কিংবা অন্য কারো সাথে মিশতে দিত না গৃহকর্তী রেশমা বেগম।

রেখার স্বজনরা কেউ ওই গৃহকর্তীর বাসা চিনত না। রেখা পালিয়ে বাড়ি আসার পর শুধু ফোনে যোগাযোগ করেছে। রেখাকে নিয়ে যাওয়ার পর রেখার সকল স্বজনদের ফোন নম্বর ব্লাক লিস্টে ফেলে রাখায় তারা আর কেউ ওই গৃহকর্তীর সাথে যোযোগ করতে পারেনি বলে অভযোগ খালা পাভীনের।

পারভীন আরো অভিযোগ কওে বলেন, সম্প্রতি রেখা তার পাওনা টাকা পরিশোধের জন্য চাপ দেওয়ায় গৃহকর্তী রেখাকে নির্যাতন করে। এ নির্য়াতনেই তার মৃত্যু হয়।

বনানী থানার এসআই গুলশান আরা জানান, গত ৪ আগস্ট গৃহকর্তী রেশমা বেগম থানায় ফোন করে জানান তার বাসার গৃহকর্মী অত্মহত্যা করেছে। ওই দিন সন্ধ্যা সাড়ে ৬টায় আমরা তার বাসার বাথরুম থেকে লাশ উদ্ধার করে থানায় নিয়ে আসি। তখন গৃহকর্তী রেশমাকেও জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করে থানায় নিয়ে আসি।

লাশ আনার পর রেখার কোন স্বজন না থাকায় ময়না তদন্ত করে বেওয়ারিশ হিসেবে মেডিকেলের হিম ঘরে রাখি। গৃহকর্তী রেশমাকে জিজ্ঞাসাবাদের এক পর্যায়ে সে রেখার ঠিকানা প্রদান করায় আমতলী থানার মাধ্যমে সোমবার সকালে তার স্বজনদের খবর দেই। মঙ্গলবার সকালে খবর পেয়ে স্বজনরা রেখার মরদেহ নিয়ে যায়।

মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা বনানী থানার এসআই গুলশান আরা জানান, লাশের শরীরের অনেক জায়গায় আঘাতের চিহ্ন ছিল।

রেখার চাচা মজিবুর রহমান গাজী অভিযোগ করে বলেন, ২০১০ সাল থেকে রেখা রেশমা বেগমের বাসায় কাজ করে। এ পর্যন্ত কোন টাকা পয়সা দেয় নাই।

তার পাওনা টাকার না দেওয়া একবার সে বাড়ি চলে এসেছিল। ফিরে যাওয়ার পর তাকে ব্যাপক নির্যাতন করেছে। ধারনা করা হচ্ছে পাওনা টাকা না দেওয়ার জন্য তাকে ওই গৃহকর্তী মেরে হত্যা করে আত্মহত্যার নাটক সাজিয়েছে। তিনি আরো বলেন, রেখার শরীরে বটির কোপসহ মারধরের আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। আমরা এঘটনার বিচার চাই।

বনানী থানার ওসি নূরে আজম মিয়া বলেন, গৃহকর্মী রেখাকে আত্মহত্যার প্ররোচনার অভিযোগে আটক করে জেল হাজতে পাঠানো হয়েছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়া সাপেক্ষে আইনী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

তালতলীতে আন্তর্জাতিক আদিবাসী দিবস পালিত

//সাইফুল্লাহ নাসির, বরগুনা প্রতিনিধি//

বরগুনার তালতলীতে ৯ আগষ্ট মঙ্গলবার আন্তর্জাতিক আদিবাসী দিবস পালিত হয়েছে। আদিবাসী দিবস উদযাপন কমিটির আয়োজনে “ঐতিহ‍্যগত বিদ‍্যা সংরক্ষণ ও বিকাশে আদিবাসী নারী সমাজের ভূমিকা ” প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে সকাল ১০টায় রাখাইন সম্প্রদায়ের নারী ও পুরুষ মিলে বিশাল এক র‌্যালী শহর প্রদক্ষিন শেষে তালতলী সরকারি মডেল মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে শেষ হয়।

পরে বিদ্যালয়ের হল রুমে মি:মংথিনজো এর পরিচালিত সভায় সভাপতিত্ব করেন, রাখাইন সমাজ উন্নয়ন সংস্থার সিনিয়র সহ-সভাপতি মি:মং তাহান। সভায় বক্তব্য রাখেন,উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান মোঃ মোস্তাফিজুর রহমান মোস্তাক, সমাজ সেবক ইউপি সদস্য মোঃ নজরুল ইসলাম লিটু,তালতলী প্রেসক্লাবের সভাপতি মোঃ গোলাম কিবরিয়া,তালতলী প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি মোঃ আব্দুল মান্নান মাষ্টার, তালতলী উপজেলার পুজা উদযাপন কমিটির সাধারণ সম্পাদক মিঃ রতন কুমার বিশ্বাস,রাখাইন সমাজ উন্নয়ন সংস্থা সাধারণ সম্পাদক মিঃ মংচিন থান,এডভোকেট মিঃ মংথান,সাবেক ইউপি সদস্য মোআব্দুল ছালাম, মিঃ চানমং ও মিসেস এমেন প্রমুখ।

এ সময় বক্তারা সরকারের কাছে জাতিসংঘ ঘোষিত ৯ আগষ্ট আন্তর্জাতিক আদিবাসী দিবস রাষ্ট্রীয়ভাবে পালন করে সমতলের আদিবাসীদের জন্য আলাদা ভূমি কমিশন,রাখাইন ছাত্র-ছত্রীদের জন্য রাখাইন ভাষা শিক্ষার ব্যাবস্থা,তাদের সংস্কৃতির সংরক্ষণ ও সংস্কারের জন্য তালতলীতে রাখাইন বৌদ্ধকৃষ্টি একাডেমি পূনঃ প্রতিষ্ঠা,রাখাইনদের প্রতি মিথ্যা মামলার দ্রুতগতিতে প্রত্যাহারের দাবি,রাখাইনদের ভূমি ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য বিপর্যয় সৃষ্টিকারীদের শাস্তির বিধান রাখার দাবি জানান, অনুষ্ঠান শেষে রাখাইন শিল্পীদের সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত।

 

আমতলীর মেয়ে চিত্র নায়িকা শিমু হত্যাঃ তদন্ত প্রতিবেদন দিতে ষষ্ঠ বার সময় নিল পুলিশ

//সাইফুল্লাহ নাসির, বরগুনা প্রতিনিধি//

বরগুনার আমতলী উপজেলার হলদিয়া ইউনিয়নের মেয়ে চিত্রনায়িকা রাইমা ইসলাম শিমু হত্যা মামলার তদন্ত প্রতিবেদন ১৮ সেপ্টেম্বরের মধ্যে জমা দিতে পুলিশকে আজ আবার আদেশ দিয়েছেন আদালত।

তদন্ত কর্মকর্তা ঢাকার কেরানীগঞ্জ মডেল থানার উপ-পরিদর্শক চুন্নু মিয়া আজ কোনো প্রতিবেদন দাখিল না করায় ঢাকার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মেশকাত শুকরানা এ আদেশ দেন।
এ নিয়ে এ পর্যন্ত পুলিশ মামলার তদন্ত শেষ করার জন্য ছয় বার সময় নিলো।

অভিনেত্রী শিমু কলাবাগানের বাসা থেকে নিখোঁজ হওয়ার পর গত ১৭ জানুয়ারি কেরানীগঞ্জের হযরতপুর ব্রিজের কাছে তার বস্তাবন্দী লাশ পাওয়া যায়।

এ ঘটনার পর শিমুর ভাই হারুনুর রশিদ বাদী হয়ে কেরানীগঞ্জ মডেল থানায় তার স্বামী শাখাওয়াত আলী নোবেল ও তার গাড়িচালক এসএমওয়াই ফরহাদসহ অজ্ঞাতনামা কয়েকজনের বিরুদ্ধে মামলা করেন।

পুলিশ তাদের গ্রেপ্তার করে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তিন দিনের রিমান্ডে নেয়। পরে তারা পৃথক ম্যাজিস্ট্রেটের কাছে হত্যাকাণ্ডের বর্ণনা দিয়ে জবানবন্দি দেন।
জবানবন্দিতে নোবেল বলেন, ১৬ জানুয়ারি রাতে ঝগড়ার পর তিনি তার স্ত্রীকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করেন।

নোবেল সারা রাত লাশের সাথে ছিলেন এবং পরদিন সকালে তার বন্ধু আবদুল্লাহ ফরহাদকে তার গ্রীন রোডের বাড়িতে ডাকেন। পরে বন্ধুর সহায়তায় নোবেল কেরানীগঞ্জে লাশ ফেলে দেন।