মৎস্য সপ্তাহে আমতলীতে অবৈধ জাল উচ্ছেদ

//সাইফুল্লাহ নাসির, বরগুনা প্রতিনিধি//

বরগুনার  আমতলীতে মৎস্য সপ্তাহ ২০২২ উপলক্ষে অবৈধ জাল উচ্ছেদ অভিযানের চতুর্থ দিনে পায়রা (বুড়িশ্বর) নদীতে অভিযান চালিয়ে অবৈধ বেহুন্দি জাল ও কারেন্ট জাল জব্দ করা হয়েছে। পরে সেই অবৈধ জাল আগুন দিয়ে পুড়িয়ে দেওয়া হয়।

মৎস্য অফিস সূত্রে জানা গেছে, মৎস্য সপ্তাহ ২০২২ উপলক্ষে আজ মঙ্গলবার (২৬ জুলাই) সকাল থেকে বিকেল পাঁচটা পর্যন্ত উপজেলার বুড়িরচর থেকে গুলিশাখালীর জাংগালিয়ার ঠোডা পর্যন্ত পায়রা নদীতে পাতা বিভিন্ন স্থানে অবৈধ ১০০০০ মিটার কারেন্ট জাল,১২ টি বেহুন্দি জাল ও অন্যন্য ২ টি জাল উচ্ছেদ করা হয়।

এসময় উপস্থিত ছিলেন উপজেলা মেরিন ফিসারিজ অফিসার সায়েদ মোঃ ফারাহ। ফিল্ড ফেসিলিটেটর হিমেল  আহমেদ,নয়ন চন্দ্র,আরিফুর রহমান,দীপংকর পাইক,সাকিব।

উপজেলা মেরিন ফিসারিজ কর্মকর্তা সায়েদ মোঃ ফারাহ জানান, মৎস্য সপ্তাহ ২০২২ উপলক্ষে মঙ্গলবার সকালে অভিযান চালিয়ে অবৈধ জাল জব্দ করা হয়। এবং সেই জাল আগুন দিয়ে পুড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। আমাদের এ অভিযান অব্যাহত থাকবে।

প্রবাসী মেয়ের বাড়ীর পুকুরে বৃদ্ধার লাশ

//সাইফুল্লাহ নাসির, বরগুনা প্রতিনিধি//

কাতার প্রবাসী মেয়ে শাহিনুরের বাড়িতে মা শাহাভানু (৭০) নামের এক বৃদ্ধাকে হত্যার ঘটনা ঘটেছে। হত্যাকারীরা তাকে হত্যা করে মেয়ের ঘরে থাকা দুই লক্ষ টাকা ও স্বর্ণালংকার লুট করে নিয়েছে।

মঙ্গলবার দুপুরে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন পুলিশ। পুলিশ বৃদ্ধার লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য বরগুনা মর্গে পাঠায়। সোমবার গভীর রাতে আমতলী উপজেলার দক্ষিণ টেপুরা গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।

জানা গেছে, উপজেলার দক্ষিণ টেপুরা গ্রামের মৃত জব্বার হাওলাদারের বিধবা স্ত্রী শাহাভানুর কাতার প্রবাসী মেয়ে শাহিনুরের নতুন বাড়িতে নাতি অন্তরকে নিয়ে বসবাস করতেন। সোমবার রাতে শাহাভানু ও তার নাতি অন্তর (১২) ঘরে ঘুমিয়ে ছিল। ওই রাতে হত্যাকারীরা ঘরের পেছন দিকে সুড়ঙ্গ খুঁড়ে ঘরে প্রবেশ করে। পরে বৃদ্ধা শাহাভানুকে হত্যা করে পুকুরে ফেলে রাখে ঘরে থাকা দুই লক্ষ টাকা ও স্বর্ণালংকার নিয়ে যায়।

মঙ্গলবার সকালে নাতি অন্তর ঘুম থেকে জেগে ঘরের দরজা খোলা দেখে এবং নানিকে খুঁজে পাচ্ছে না। নানিকে না পেয়ে মোবাইল ফোনে অন্তর মা শাহিনুরকে জানায়। ওই দিন বেলা সাড়ে ১১টার পর নাতি অন্তর পুকুরে তার লাশ ভাসতে দেখে ডাকচিৎকার দেয়। পরে স্থানীয়রা এসে পুলিশে খবর দেয়। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে তার লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য বরগুনা মর্গে পাঠায়।

বৃদ্ধার লাশে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে বলে নিশ্চিত করেছেন আমতলী থানার অফিসার ইনচার্জ একেএম মিজানুর রহমান। পুলিশের ধারণা হত্যাকারীরা বৃদ্ধাকে হত্যা করে লাশ পুকুরে ফেলে রেখেছে।

শিশু নাতি অন্তর জানায়, সকালে ঘুম থেকে জেগে দরজা খোলা দেখি কিন্তু নানিকে দেখি না। পরে মাকে ফোনে জানাই। বেলা সাড়ে ১১টায় পুকুরে নানির লাশ ভাসতে দেখে ডাকচিৎকার দেই।

নিহতের বড় জামাই হানিফ হাওলাদার বলেন, হত্যাকারীরা ঘরের পেছন দিয়ে সুড়ঙ্গ খুঁড়ে ঘরে প্রবেশ করে আমার শাশুড়িকে হত্যা করেছে।

তিনি আরও বলেন, শাশুড়ি এলাকার বিভিন্ন মানুষের স্বর্ণালংকার রেখে টাকা ধার দিতেন। হত্যাকারীরা ওই স্বর্ণালংকার ও ঘরে থাকা দুই লক্ষ টাকা নিয়ে গেছে।

ইউপি সদস্য মোঃ আবু সালেহ বলেন, বৃদ্ধার মেয়ে কাতার প্রবাসী। তিনি তার নাতি অন্তরকে নিয়ে মেয়ের নতুন বাড়িতে বসবাস করতেন। কিন্তু সোমবার সকালে তার লাশ পুকুরে ভাসতে দেখে পুলিশে খবর দেই। পুলিশ এসে তার লাশ উদ্ধার করে।

আমতলী থানার অফিসার ইনচার্জ একেএম মিজানুর রহমান বলেন, বৃদ্ধার লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য বরগুনা মর্গে পাঠানো হয়েছে। লাশের বিভিন্ন স্থানে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। ঘটনা রহস্যজনক। তদন্তসাপেক্ষে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

Daily World News

ডুমুরিয়ায় খাসজমি বন্দোবস্তে সরকারী ও বেসরকারি  উদ‍্যোগে উত্তরনের কর্মশালা

পারিবারিক কলহের কারণে স্ত্রী চলে যাওয়ার হতাশায় নিজের ঘরেই কবর খুড়লেন স্বামী

//সাইফুল্লাহ নাসির, বরগুনা প্রতিনিধি//

বরগুনায় পারিবারিক কলহের কারনে বাড়ী ছেড়ে চলে যাওয়া স্ত্রী হাজেরাকে ফেরাতে ব্যর্থ হয়ে হতাশায় নিজের ঘরে কবর খুঁড়েলেন স্বামী জাফর গাজী।

শুক্রবার (২২ জুলাই) বিকেল ৫ টার দিকে সদর উপজেলার আয়লা ইউনিয়নের কদমতলা এলাকায় এ ঘটনাটি ঘটে।

পরে গ্রাম পুলিশ ও স্থানীয় জনতা কবর খোঁড়া বন্ধ করেন।
ঘটনাটি এলাকায় চাঞ্চল্য তৈরি করলে গ্রামের মানুষ ভির করতে শুরু করে।

আয়লা ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের গ্রাম পুলিশ সাইফুল ইসলাম জানান, প্রায় এক যুগের সংসার জাফর ও হাজেরার। তাদের সংসার জীবনে প্রায় নানা বিষয় নিয়ে ঝগড়া চলছিলো।

চলতি সপ্তাহে এ বিষয়ে ইউনিয়ন পরিষদে দুই পক্ষের মধ্যে সালিশ বৈঠকের কথা রয়েছে। তারা দুজনেই এক মাস ধরে আলাদা থাকেন। নিজ ঘরেই কবর খুঁড়ার সংবাদ পেয়ে তিনি দ্রুত ছুটে গিয়ে জাফরকে কবর খোঁড়া থেকে বিরত রাখে এবং পুলিশকে অবহিত করেন।
জাফর জানান, ১৩ বছর আগে ঢাকায় বিয়ে হয় তার স্ত্রী হাজেরার সঙ্গে। বিয়ের পর থেকেই হাজেরা তার কথার অবাধ্য ছিল। পরে তারা বরগুনার গ্রামের বাড়িতে বসবাস শুরু করেন। এখানেও কিছু দিন পরে পারিবারিক কলহের তৈরি হলে দু’জনে আলাদা থাকতে শুরু করেন। এ নিয়ে স্থানীয় জন প্রতিনিধির উপস্থিতিতে একাধিকবার সালিশ করলেও হাজেরা তা মানছেন না। সর্বশেষ চলতি বছরের ২২ জুন বুধবার তার সঙ্গে রাগ করে হাজেরা তার নিজের চায়ের দোকানে বসবাস শুরু করেন। তাকে দোকান থেকে ঘরে ফেরত আনার একাধিক চেষ্টায় ব্যর্থ হয়ে নিজের কবর খুঁড়তে শুরু করেছেন জাফর।

এ বিষয় হাজেরার রয়েছে ভিন্ন অভিযোগ। তিনি জানান, ১৩ বছর আগে বিয়ের সময় তার সঙ্গে প্রতারণা করেছে জাফর। জাফরের আগের স্ত্রীকে তালাক না দিয়েই মিথ্যা তালাকনামা তৈরি করে তা দেখিয়ে বিয়ে করেন তাকে। এ সব নিয়ে ঝগড়া ঝামেলা শুরু হলে গ্রামে চলে আসেন তারা। বর্তমানে সংসারে অমনোযোগী হওয়ায় প্রায় সময় ঝগড়া চলে আসছে তাদের মধ্যে। এখন সে জাফরের সঙ্গে সংসার করতে রাজি না।

স্থানীয় ইউপি সদস্য কাজি মোখলেচুর রহমান জানান, মানসিকভাবে বিপর্যস্ত হয়ে জাফর যাতে কোন অঘটন না ঘটাতে পারে সে জন্য ঘর থেকে গ্রাম পুলিশের মাধ্যমে কদমতলা বাজারে নিয়ে আসা হয়েছে জাফরকে। পুলিশকে খবর দেওয়া হয়েছে। পুলিশ পরবর্তী পদক্ষেপ নেবে।

বরগুনা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আলী আহম্মেদ বাংলানিউজকে জানান, ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। বিষয়টি আইনগতভাবে দেখা হবে।

ডেপুটি স্পিকার ফজলে রাব্বী মিয়া’র মৃত্যুতে আমতলী পৌর এর শোক প্রকাশ

//সাইফুল্লাহ নাসির, বরগুনা প্রতিনিধি//

মহান জাতীয় সংসদের ডেপুটি স্পিকার ও গাইবান্ধা-৫ আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট মোঃ ফজলে রাব্বী মিয়া ইেিন্তকাল করেছেন (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)।

ফজলে রাব্বী মিয়া’র মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন বরগুনার আমতলী উপজেলা আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক ও পৌর মেয়র মোঃ মতিয়ার রহমান।

শুক্রবার (২২ জুলাই) দিবাগত রাত ২টার দিকে যুক্তরাষ্ট্রের একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। ডেপুটি স্পিকার দুরারোগ্য ক্যান্সারে আক্রান্ত হয়ে ওই হাসপাতালে ভর্তি ছিলেন। প্রয়াত ডেপুটি স্পিকার তিন মেয়ে, নাতি-নাতনিসহ অসংখ্য আত্মীয়-স্বজন ও গুণগ্রাহী রেখে গেছেন।

আওয়ামীলীগ নেতা ও পৌর মেয়র মতিয়ার রহমান জাতীয় সংসদের ডেপুটি স্পিকার ফজলে রাব্বী মিয়া’র বিদেহী আত্মার মাগফেরাত কামনা সহ শোক সন্তপ্ত পরিবারের সদস্যদের প্রতি গভীর সমবেদনা জ্ঞাপন করেন।

আমতলী উপজেলা ছাত্রলীগের পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠন

সাইফুল্লাহ নাসির, বরগুনা প্রতিনিধি

বরগুনার আমতলী উপজেলা ছাত্রলীগের নতুন কমিটি ঘোষণা করা হয়েছে। এতে মোঃ মাহবুবুল ইসলাম কে সভাপতি এবং আব্দুলাহ আল মামুন (সবুজ) কে সাধারণ সম্পাদক করে ১৩১ সদস্য বিশিষ্ট আমতলী উপজেলা ছাত্রলীগের পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠিত হয়েছে।

বরগুনা জেলা ছাএলীগের সভাপতি জুবায়ের আদনান অনিক ও সম্পাদক তানভীর হোসাইন (১৬ জুলাই) স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য নিশ্চিত করা হয়।

নবগঠিত কমিটির অন্যরা হলেন, সহ-সভাপতি মোঃ মতিন খাঁন,মো. অলি আহমেদ, মো. সুমন প্যাদা, জহিরুল ইসলাম ফাল্গুন, রাশেদুল ইসলাম প্রিন্স। যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ইয়ামিন ফকির, আল-আমিন, আলাউদ্দিন উদ্দিন রিজন, পারভেজ খাঁন, জাকারিয়া গাজী, মুমতাহীন আঁচল, ইসফাক আহম্মেদ ত্বোহা, রাহাত মৃধা। সাংগঠনিক সম্পাদক আবুল কাশেম, সোহেল আমিন, মো. ইব্রাহিম বিশ্বাস, শাহাবুদ্দিন সিহাব মৃধা, লুবাইদ আব্দুলাহ আনান। প্রচার সম্পাদক মো. ইমরান ফকির,  মো. মেহেদী হাসান, মো. বেল্লাল হোসেন বাপ্পি দপ্তর সম্পাদক,উম্মে রুকাইয়া ফারজীকে ছাত্রী বিষয়ক সম্পাদিকা করে ১৩১সদস্য বিশিষ্ট আমতলী উপজেলা ছাএলীগের পূর্ণাঙ্গ কমিটি অনুমোদিত হয়।

আমতলী-পটুয়াখালী সড়কে বাস-ট্রাক মুখোমুখি সংঘর্ষে নিহত-১,আহত-১৫

//সাইফুল্লাহ নাসির, বরগুনা প্রতিনিধি//

পটুয়াখালী-আমতলী আঞ্চলিক মহসড়কের আমতলী উপজেলার ব্রিকফিন্ড নামক স্থানে গতকাল শনিবার রাতে যাত্রীবাহী বাস ও ট্রাকের মুখোমুখি সংঘর্ষে একজন নিহত ও ১৫ জন আহত হয়েছে।

আমতলী থানা পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, শনিবার সন্ধ্যা ৭টার সময় ঢাকা থেকে রাজিব পরিবহন (ঢাকা মেট্টো-০-১৫-২১৭৫) নামে একটি বাস যাত্রী নিয়ে কুয়াকাটার উদ্দেশে ছেড়ে আসে। বাসটি রাত সাড়ে ৩টার সময় আমতলী উপজেলার ব্রিকফিন্ড নামক স্থানে পৌছামাত্র বিপরীত দিক থেকে আসা একটি ট্রাকের (ঢাকা মেট্টো-১৪-১১৫৯) মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। সংঘর্ষে যাত্রীবাহী বাসটি দুমরে মুছরে উল্টে পাশের একটি খাদে পরে যায়।

এসময় বাসের মধ্যে থাকা অন্তত ১৫ জন যাত্রী আহত হয়। আহতদের মধ্যে মো. রিয়াদ (৩০) নামে একজন গুরুতর আহত হয়। তাকে স্থানীয়রা উদ্ধার করে আমতলী হাসপাতালে নিয়ে আসলে তার অবস্থা সংকটাপন্ন হলে তাৎক্ষনিক তাকে বরিশাল শেবাচিম হাসপালে নেওয়ার পথে মারা যায়। বাস দুর্ঘটনায় নিহত রিয়াদ বরিশালের গৌরনদী উপজেলার কুতুবপুর গ্রামের বাসিন্দা। আহত অন্যদের আমতলী ও পটুয়াখালী জেনালেল হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে তবে তাদের নাম জানা যায়নি।

আমতলী থানার অফিসার ইনচার্জ একেএম মিজানুর রহমান জানান, রিয়াদ (৩০) নামে এক বাসযাত্রীর মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে এবং ট্রাকটি জব্দ করা হয়েছে।

 

বরগুনার তালতলীর প্লাবিত এলাকায় বিশুদ্ধ পানি ও খাবারের সংকট

//সাইফুল্লাহ নাসির, বরগুনা প্রতিনিধি//

পূর্ণিমার জোয়ারে পায়রা নদীর পানি স্বাভাবিকের চেয়ে দুই-তিন ফুট বৃদ্ধি পেয়েছে। এতে জেলার তালতলী উপজেলার নিম্নাঞ্চলের ১০টি গ্রাম প্লাবিত হয়েছে।

তালতলী উপজেলার তেতুলবাড়িয়ায় ভাঙা বাঁধ দিয়ে এখনও ঢুকছে জোয়ারের পানি। দিনের পর দিন প্লাবিত হওয়ায় শুকনা খাবার ও বিশুদ্ধ পানির সংকট শুরু হয়েছে প্লাবিত গ্রামগুলোতে।

পূর্ণিমার জোয়ারে প্লাবিত এলাকাগুলোতে বিশুদ্ধ পানির খোঁজে এক গ্রাম থেকে অন্য গ্রামে যেতে দেখা গেছে শতাধিক মানুষকে।

বরগুনার তালতলীর প্লাবিত এলাকায় বিশুদ্ধ পানি ও খাবারের সংকট

গ্রামগুলোর অধিকাংশ ডিপ টিউবয়েল পানির নিচে তলিয়ে থাকায় উঁচু স্থানের টিউবয়েল থেকে পানি সংগ্রহ করছেন সবাই। রান্না ও খাওয়ার পানির সংকট দেখা দিয়েছে। জোয়ারের পানি নামতে না নামতেই আবারো পানি উঠে তলিয়ে যায় গ্রামের পর গ্রাম।

নিদ্রাসকিনা গ্রামের তাছলিমা বেগম বলেন,ঘরে কয়েকদিন যাবত চুলা জ্বলছে না। পানি এখনো কমে নাই। পরিবারে বৃদ্ধসহ শিশু রয়েছে এদের নিয়ে মানবতার জীবনযাপন করছি।

তালতলীর তেতুঁলবাড়িয়া গ্রামের ৬০ বছরের বৃদ্ধা খোদেজা বেগম বলেন,পরিবারের সদস্যদের জন্য পাশের এলাকার আত্মীয়ের বাড়ি থেকে ৪ দিন ধরে খাবার আনছি। এলাকার অধিকাংশ টিউবয়েল পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় লবণ পানি ঢুকে পরেছে টিউবয়েলে। তাই খাবার পানি সংকটে এখন হাজারো মানুষ।

আমতলী উপজেলা পানি উন্নয়ন বোর্ডের পানি পরিমাপকারী মোঃ আবুল কালাম আজাদ জানান, পয়রা নদীর পানু বিপদসীমার ৪৩ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হয়েছে।

বরগুনার পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মোঃ নুরুল ইসলাম বলেন,যে সকল জায়গায় বন্যানিয়ন্ত্রণ বাঁধ দুর্বল হয়ে গেছে সেগুলো সংস্কার এবং পানি কমে গেলেই বাঁধ দ্রুত সংস্কারের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

তালতলী উপজেলার উপজেলা নির্বাহী অফিসার এসএম সাদিক তানভীর জানান, এখন পর্যন্ত জনপ্রতিনিধিদের মাধ্যমে ১০৭ পরিবারকে শুকনো খাবার দেওয়া হয়েছে।

নিখোঁজের সাড়ে চার ঘন্টা পর এনএসআই কর্মকর্তা ও তার স্ত্রী ‘র বোনের মেয়ের মরদেহ উদ্ধার

//সাইফুল্লাহ নাসির, বরগুনা প্রতিনিধি///

শুভসন্ধ্যা সমুদ্র সৈকতে গোসল করতে গিয়ে নিখোঁজের সাড়ে চার ঘণ্টা পর এনএসআই কর্মকর্তা মোস্তফা কাদের ও তাঁর স্ত্রীর বোনের মেয়ে জুইয়ের মরদেহ উদ্ধার করেছে স্থানীয়রা। আজ বুধবার বিকেল সাড়ে চারটার দিকে শুভসন্ধ্যা সমুদ্র সৈকতের পূর্ব পশ্চিম কোন থেকে স্থানীয়রা তাঁদের পাশাপাশি ভাসমান মরদেহ দুটি উদ্ধার করেন।

নিহত মোস্তফা কাদেরের স্ত্রী সেলিনা শিকদার উদ্ধার হওয়া মরদেহ দুটি তাঁর স্বামী ও বোনের মেয়ে জুঁইয়ের বলে শনাক্ত করেছেন।

এর আগে বুধবার দুপুর ১২টার দিকে শুভসন্ধ্যা সৈকতে গোসল করতে নেমে তাঁরা নিখোঁজ হন। এর আগে মোস্তফা কাদেরের স্ত্রী সেলিনা সিকদার (৩৫), ছেলে মাহাতির মোহাম্মাদ (০৯) ও আরেক ছেলে আবদুল করিমকে (১৬) উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় মোস্তফা কাদের ও জুঁই নিখোঁজ ছিলেন।

নিখোঁজদের পরিবার সূত্রে জানা গেছে, মোস্তফা কাদের জাতীয় নিরাপত্তা গোয়েন্দা সংস্থার জুনিয়র ফিল্ড অফিসার হিসেবে বরগুনায় কর্মরত ছিলেন। সেই সুবাদে ঢাকা থেকে স্ত্রী, দুই ছেলে ও তাঁর স্ত্রীর বোনের মেয়ে জুই ঈদের ছুটিতে শুভসন্ধ্যা সমুদ্র সৈকতে ঘুরতে আসেন। পরে সবাই মিলে সমুদ্রে গোসল করতে যান। হঠাৎ ঢেউ এসে মুহূর্তের মধ্যে সমুদ্রের মাঝে নিয়ে যায় তাদের সবাইকে। পরে খোঁজাখুঁজির পর তিনজনকে পাওয়া গেলেও মোস্তফা ও জুই নিখোঁজ ছিলেন। এরপর সাড়ে চার ঘণ্টা পরে তাঁদের মরদেহ উদ্ধার করেন স্থানীয়রা।

তালতলী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কাজী সাখাওয়াত হোসেন তপু বিষয়টি নিশ্চিত করে আজকের পত্রিকাকে বলেন, এনএসআই কর্মকর্তা ও জুইয়ের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। লাশ দুইটি থানায় নিয়ে আসা হয়েছে। পরবর্তী কার্যক্রম শেষে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে।

পায়রা নদীর ফেরীর গ্যাংওয়ে তলিয়ে যাওয়ায় চলাচলে বিঘ্ন সৃষ্টি

//সাইফুল্লাহ নাসির, বরগুনা প্রতিনিধি//

বরগুনার আমতলী পায়রা (বুড়িশ্বর) নদীর ফেরির গ্যাংওয়ে তলিয়ে যাওয়ায় যানবাহন ও মানুষ চলাচলে বিঘ্ন সৃষ্টি হচ্ছে।

জানা গেছে,পূর্ণিমার জোঁ এর প্রভাবে পায়রা নদীতে জোয়ারের স্বাভাবিক পানির চেয়ে ২০ সেন্টিমিটার পানি বৃদ্ধি পেয়ে উপকুলী অঞ্চল আমতলীর চর ও নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে।

বরগুনা-আমতলী যাতায়াতের মাধ্যম পায়রা নদীর ফেরির গ্যাংওয়ে তলিয়ে যাওয়ায় যানবাহন ও মানুষের চলাচলে সমস্যা হচ্ছে।মানুষ হাটু সমান পানি ডিঙ্গিয়ে সড়কে উঠছে। দ্রুত পায়রা ফেরির গ্যাংওয়ে সংস্কার করে উঁচু গ্যাংওয়ে নির্মাণের দাবী জানিয়েছেন ভুক্তভোগীরা।

পায়রা নদীর কোলঘেষে অবস্থিত তালতলী উপজেলার পচাঁকোড়ালিয়া ও আমতলীর ঘোপখালী,বালিয়াতলী, পশুরবুনিয়া,আড়পাঙ্গাশিয়া, পশ্চিম আমতলী,ফেরীঘাট, পুরাতন লঞ্চঘাট,আমুয়ার চর, পানি উন্নয়ন বোর্ড,আঙ্গুলকাটা, গুলিশাখালী ও হরিদ্রবাড়িয়া নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়ে ঘর বাড়ী পানিতে তলিয়ে গেছে।

আজ বুধবার দুপুরে পায়রা নদীর তীরে অবস্থিত আমতলী ফেরিঘাট এলাকা সরেজমিনে ঘুরে দেখা গেছে,ফেরির গ্যাংওয়ে পানিতে তলিয়ে গেছে। মানুষ হাটু সমান পানি ডিঙ্গিয়ে সড়কে উঠছেন।যানবাহন চলাচলেও সমস্যা হচ্ছে।

লঞ্চঘাট এলাকার বাসিন্দা জিদান বলেন, পূর্ণিমার জোঁর কারনে পানি বৃদ্ধি পেয়ে পায়রা নদী সংলগ্ন চর ও নিমাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। নিম্নাঞ্চলে বসবাসরত মানুষরা উচু স্থানে আশ্রয় নিয়েছে। আংগুলকাটা এলাকার দেলোয়ার মুন্সি  বলেন, পানিতে ঘর তলাইয়্যা গেছে তাই অন্য স্হানে আশ্রয় নিয়েছি।

পায়রা ফেরি ঘাটের পরিচালক হাসান মিয়া বলেন, জোয়ারের পানিতে ফেরির গ্যাংওয়ে তলিয়ে যাওয়ায় যানবাহন ও মানুষ চলাচলে সমস্যা হচ্ছে। দ্রুত ফেরির গ্যাংওয়ে সংস্কার করে উচ্চতা বাড়ানো জরুরী।

আমতলী গেইজ রিডার আবুল কালাম আজাদ বলেন,পায়রা নদীতে স্বাভাবিক জোয়ারের চেয়ে ২০ সেন্টিমিটার পানি বৃদ্ধি পেয়েছে।

বরগুনা পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপ-সহকারী প্রকৌশলী আমিনুল ইসলাম সোহাগ বলেন, তালতলীর তেঁতুলবাড়িয়া এলাকার ভাঙ্গে যাওয়া বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ দ্রুত সংস্কার করা হবে।

তালতলীতে সমুদ্রে গোসল করতে গিয়ে এনএসআই কর্মকর্তা সহ দুইজন নিখোঁজ

//সাইফুল্লাহ নাসির, বরগুনা প্রতিনিধি//

বরগুনার তালতলীর শুভসন্ধ্যা  সমুদ্রসৈকতে গোসল করতে নেমে এনএসআই কর্মকর্তাসহ দুজন নিখোঁজ হয়েছেন। মুমূর্ষু অবস্থায় আরও তিনজনকে উদ্ধার করেছেন স্থানীয়রা।

আজ বুধবার দুপুর ১২টার দিকে শুভসন্ধ্যা সৈকতে এ ঘটনা ঘটে।

নিখোঁজ দু’জন হলেন মোস্তফা কাদের ও তাঁর স্ত্রীর বোনের মেয়ে নুর আক্তার জুই (১৮)। মোস্তফা কাদের জাতীয় নিরাপত্তা গোয়েন্দা সংস্থার জুনিয়র ফিল্ড অফিসার হিসেবে বরগুনায় কর্মরত আছেন। মুমূর্ষু  অবস্থায় উদ্ধারকৃতরা হলেন মস্তফা কাদেরর স্ত্রী সেলিনা সিকদার (৩৫), ছেলে মাহাতি (০৯) ও আরেক ছেলে আবদুল করিম (১৬)।

নিখোঁজদের পরিবারের সূত্রে জানা যায়,এনএসআই কর্মকর্তা মোস্তফা কাদের বরগুনায় চাকরি করার সুবাদে ঢাকা থেকে স্ত্রী,দুই ছেলে ও তাঁর স্ত্রীর বোনের মেয়ে জুঁইকে নিয়ে ঈদের ছুটিতে শুভসন্ধ্যা সমুদ্রসৈকতে ঘুরতে যান। পরে সবাই মিলে সমুদ্রে গোসল করতে নামেন।এ সময়ে হঠাৎ ঢেউয়ের স্রোত মুহূর্তের মধ্যে সবাইকে সমুদ্রের গভীরে নিয়ে যায়।অনেক খোঁজাখুঁজির পর তিনজনকে পাওয়া গেলেও এনএসআই কর্মকর্তাসহ দুইজন এখনো নিখোঁজ রয়েছেন। তাঁদের উদ্ধারে কোস্টগার্ড,নৌ পুলিশ,ফায়ার সার্ভিস ও থানা পুলিশের সমন্বয়ে কয়েকটি টিম কাজ করছে।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, এনএসআই কর্মকর্তা তাঁর পরিবার নিয়ে শুভসন্ধ্যা সমুদ্র  সৈকতের কাছে সাঁতার কাটতে নামেন। এ সময় ঢেউয়ের আঘাতে সবাই বিচ্ছিন্ন হয়ে হাত থেকে ছুটে গিয়ে ডুবে যান। তাঁদের কেউ সাঁতার জানতেন না। তাই অন্য পর্যটকেরা তাঁদের উদ্ধারের চেষ্টা করে ব্যর্থ হন।

তালতলী ফায়ার সার্ভিসের অফিসার মোঃ আহসান হাবিব এ তথ্য নিশ্চিত করে জানান, গোসল করতে নেমে নিখোঁজদের মধ্যে তিনজনকে স্থানীয়রা উদ্ধার করেছেন। আরও দুজন নিখোঁজ রয়েছেন। তাঁদের উদ্ধারে পুলিশ ও স্থানীয়দের সমন্বয়ে উদ্ধারকাজ চলছে।