হাওয়া বিবি নাইট শ্যাডো ক্রিকেট টুর্নামেন্টের ফাইনাল খেলা অনুষ্ঠিত

//মাহমুদুল হাসান, আমতলী, বরগুনা//

পবিত্র ঈদুল ফিতর ও পহেলা বৈশাখ উপলক্ষে আমতলীতে হওয়া বিবি নাইট শ্যাডো ক্রিকেট টুর্নামেন্টের ফাইনাল খেলা অনুষ্ঠিত হয়।

কুকুয়া ইউনিয়নের রায়বালা গ্রামের (মৃধা ব্রিকস MMB) সংলগ্ন মাঠে গতকাল রাতে এই ফাইনাল খেলা অনুষ্ঠিত হয়। উক্ত খেলায় দুই ইউনিয়নের দুটি শক্তিশালী দল সোনাখালি একাদশ বনাম চুনাখালী KTS একাদশ এর মধ্যে ফাইনাল খেলা অনুষ্ঠিত হয়।

টস জিতে সোনাখালী একাদশ ফিল্ডিংযে়র সিদ্ধান্ত নেয়। ব্যাটিংয়ে নেমে চুনাখালী KTS টিম ১৫৭ রানের টার্গেট দেয় সোনাখালি একাদশকে। নির্ধারিত ১২ ওভারে সোনাখালি একাদশ ১৫৫ রান তুলতে সক্ষম হয়। চার রানে জিতে যায় চুনাখালী KTS একাদশ।

প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পৌর আওয়ামী লীগের সভাপতি ও উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান মজিবুর রহমান।

পটুয়াখালী আব্দুল হাই বিদ্যানিকেতন সিনিয়র সহকারী শিক্ষক মোহাম্মদ বাবুল বিএসসির সভাপতিত্বে এমএমবি প্রোপাইটার মাহবুব আলম এর সঞ্চালনায় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জনতা ব্যাংক সুবিদখালী শাখার ব্যবস্থাপক পরিচালক জনাব শাহানুর আজিজ, ও সাবেক ইউপি সদস্য ও তরুণ আইনজীবী মোঃ মাহবুব আলম। আমতলী উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী নাজমুল হাসান সোহাগ প্রমুখ।উক্ত খেলা পরিচালনা করেন, মেজবাহ উদ্দিন কামাল বিএসসি ও মশিউর রহমান।

ম্যাচ শেষে আয়োজক কমিটির উপস্থিতিতে বিজয়ী দলকে ৩২ ইঞ্চি এলইডি টেলিভিশন ও রানার্সআপ দলকে ২৪ ইঞ্চি এলইডি টেলিভিশন পুরস্কার দেওয়া হয়।

খেলায় সার্বিক ব্যবস্থাপনা ছিলেন (মৃধা ব্রিক্সস MMB)।

বুড়ামজুমদার যুব সংঘের পক্ষ থেকে ৫০ টি পরিবারকে ঈদ উপহার প্রদান

মাহমুদুল হাসান, আমতলী (বরগুনা) প্রতিনিধিঃ

পবিত্র ঈদুল ফিতরকে সামনে রেখে অসহায় হতদরিদ্র মানুষের মাঝে বরগুনার বেতাগী উপজেলার বুড়া মজুমদার যুবসংঘের পক্ষ থেকে ৫০টি পরিবারকে ঈদের উপহার সামগ্রী প্রদান করা হয়েছে।

আজ মঙ্গলবার বেলা দশটায় উপজেলার বদনিখালী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় প্রাঙ্গন থেকে উক্ত ঈদ সামগ্রী বিতরণ করা হয়।

এ উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন উক্ত সংগঠনের সভাপতি,সাধারণ সম্পাদক ওয়ার্ড আওয়ামী লীগ,  ইউনিয়ন শ্রমিক লীগের সাধারণ সম্পাদক মনিরুজ্জামান মনির শিকদার,এম এ জলিল বিশিষ্ট ব্যবসায়ী ও সমাজসেবক ।

মনিরুজ্জামান গনি মৃধা আমেরিকান প্রবাসী ৫ নং বুড়া মজুমদার ইউনিয়ন আওয়ামী লীগ ও বিশিষ্ট সমাজসেবক আলমগীর হোসেন হাওলাদার।

৫ নং বুড়া মজুমদার ইউনিয়ন আওয়ামী লীগ ও বিশিষ্ট সমাজসেবক পরিচালক নাইচ এনজিও।এ সময় আরো উপস্থিত ছিল সংগঠনের আব্দুর রহিম,মনিরুজ্জামান রনো সহ সংগঠনের সদস্যবৃন্দ।

সংগঠনের সভাপতি বলেন আমরা দীর্ঘদিন যাবত অসহায় হত দরিদ্র মানুষের সেবা করে আসছি এবং  যেখানেই অসহায় দরিদ্র  মানুষ সেখানেই বুড়ামজুমদার যুব সংঘ থাকবে।

আজ বীর মুক্তিযোদ্ধা জিএম দেলওয়ার হোসেনের চতুর্থ মৃত্যুবার্ষিকী

মাহমুদুল হাসান, আমতলী, বরগুনা প্রতিনিধিঃ

বরগুনার আমতলী উপজেলা আওয়ামীলীগ সভাপতি উপজেলা চেয়ারম্যান, মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার বীর মুক্তিযোদ্ধা আলহাজ্ব জিএম দেলওয়ার হোসেনের আজ চতুর্থ মৃত্যু বার্ষিকী।তার মৃত্যুতে মঙ্গলবার দলীয় কার্যালয়ে জাতীয়,দলীয় ও কালো পতাকা উত্তোলন, মরহুমের প্রতিকৃতিতে পুস্পস্তবক অর্পণ,কবর জিয়ারত,কোরআানখানী,দোয়া মাহফিল ও আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়েছে। বরগুনা-১ আসনের সংসদ সদস্য গোলাম সরোয়ার টুকু এ কর্মসুচীতে অংশ নিবেন। এছাড়াও উপজেলা আওয়ামীলীগ,পৌর আওয়ামীলীগ,যুবলীগ,সেচ্ছাসেবক লীগ,ছাত্রলীগ, শ্রমিকলীগ ও ওলামালীগ সহ বিভিন্ন সামাজিক সাংস্কৃতিক সংগঠন এ সকল কর্মসূচীতে অংশ নিবে।

জানাগেছে,দক্ষিণ জনপদের বিশিষ্ট রাজনৈতিক ব্যাক্তিত্ব বীর মুক্তিযোদ্ধা আলহাজ্ব জিএম দেলওয়ার হোসেন ২০২০ সালের ৯ এপ্রিল প্রাণঘাতী করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুরবণ করেন। তিনি দীর্ঘ ৩২ বছর আমতলী উপজেলা আওয়ামীলীগ সভাপতি’র দায়িত্ব পালন করেন। তার মৃত্যুতে আমতলীবাসী একজন অভিভাবক হারিয়েছে। দীর্ঘ ৫৭ বছরের রাজনৈতিক জীবনে যার কাছে মানুষ পেয়েছে অফুরান্ত ভালবাসা। তিনি দেশের সর্ববৃহৎ রাজনৈতিক দল আওয়ামীলীগের বিভিন্ন পদে অধিষ্ট হয়ে মানুষের  আস্থা অর্জন করেছেন। কর্মময় জীবনে তিনি উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান ও মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডারসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেন। তার মৃত্যুতে আমতলীবাসী হারিয়েছে এক সুর্য্যসন্তানকে। আজও সেই সুর্য্য সন্তানের জন্য আমতলীবাসী কাঁদে।

১৯৬২ সালে বঙ্গবন্ধুর আদর্শকে বুকে ধারন করে ছাত্র রাজনীতি শুরু করেন তিনি। ছাত্র রাজনীতির শুরুতেই ছাত্র লীগের সভাপতি হন। ছাত্র রাজনীতিতে যুক্ত হয়েই কুখ্যাত হামিদুর রহমান শিক্ষা কমিশন এবং আর্ন্তজাতিক ক্রোক মিশন বাস্তবায়ন আন্দোলনে অংশগ্রহন করেন। ১৯৬৪ সালে তৎকালীন বিরোধী দলীয় নেত্রী ফাতেমা জিন্নাহর নির্বাচন এবং মুসলিমলীগ বিরোধী কফ্ আন্দোলনে অংশগ্রহন করেন। এই আন্দোলনে অংশগ্রহনের কারনে তৎকালিন সরকারের রাজনৈতিক মামলায় তাকে জেলে যেতে হয়। ১৯৬৫ সালে ছাত্র ইউনিয়নের সাথে যুক্ত হয়ে গুরুত্ব পদে আসিন হন। ১৯৬৬’র  ছয় দফা আন্দোলনে গুরুত্বপূর্ন ভুমিকা পালন করেন। ৬৮ আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলার প্রত্যাহারের আন্দোলনে যুক্ত হন।

এ সকল আন্দোলনে অংশগ্রহনের কারনে তিনি জেল হাজতে যান। ১৯৬৯ গণঅভ্যূথান ও ১৯৭০’র নির্বাচনে দলের পক্ষে সংক্রিয়ভাবে কাজ করেন। ১৯৭১ সালে জাতীর জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মজিবুর রহমানের আহবানে সাড়া দিয়ে ঝাঁপিয়ে পড়েন মুক্তিযুদ্ধে। গঠন করেন সংগ্রাম কমিটি। আমতলী সংগ্রাম কমিটির সভাপতি হয়ে যুবকদের সুসংগঠিত করে যুদ্ধের প্রশিক্ষণ দেন এবং তিনি ভারতের (পিকার ক্যাম্পের ক্যাপ্টেন ছিপার অধীনে) প্রশিক্ষণ গ্রহন করেন। ১৯৭৫ সালে তৎকালিন সরকারের রাজনৈতিক মামলায় কারাভোগ করেছেন তিনি। কারাগার থেকে বের হয়েই আওয়ামীলীগের প্রচার সম্পাদক হন। এরপর আর তাকে পিছনে ফিরে তাকাতে হয়নি। ১৯৮৪ সালে তার দলীয় কর্মদক্ষতার কারনে আওয়ামীলীগ সাধারণ সম্পাদক এবং ১৯৯১ সালে আমতলী উপজেলা আওয়ামীলীগ সভাপতি হন। ওই সময় থেকে মুত্যুর আগ দিন পর্যন্ত তিনি আমতলী উপজেলা আওয়ামীলীগ সভাপতি হিসেবে দক্ষতার সাথে দায়িত্ব পালন করেছেন।  তার দলীয় কর্মদক্ষতায় সাধারণ মানুষের পেয়েছেন অফুরান্ত ভালোবাসা।

দীর্ঘ ৫৭ বছর রাজনৈতিক জীবনে দলের গুরুত্বপূর্ণ পদ ছাড়া কিছুই পায়নি। শুধু ২০১৪ সালে কেন্দ্রীয় আওয়ামীলীগ তাকে আমতলী উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান হিসেবে দলীয় মনোনয়ন দেয়। ওই নির্বাচিত তিনি উপজেলা চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন। গণ মানুষের নেতা বীর মুক্তিযোদ্ধা জিএম দেলওয়ার হোসেন ২০২০ সালের ৯ এপিল সকলকে কাঁদিয়ে না ফেরার দেশে চলে যান। তার জন্য আজও উপজেলার লক্ষ মানুষ কাঁদে। তার শুন্যতা আজও পুরণ হয়নি।

আজ তার চতুর্থ মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে পারিবারিকভাবে কোরআনখানী,মিলাদ মাহফিল ও গণ ইফতারীর আয়োজন করা হয়েছে।এতে সকল ধর্মপ্রাণ মুসলমানদের অংশ গ্রহনের জন্য অনুরোধ করা হয়েছে।

Daily World News

আমতলীতে ১৭৭৬৯ জন দুস্থ ও অসহায় পরিবারের মাঝে ভিজিএফ চাল বিতরণ সম্পন্ন

আমতলীতে ১৭৭৬৯ জন দুস্থ ও অসহায় পরিবারের মাঝে ভিজিএফ চাল বিতরণ সম্পন্ন

//মাহমুদুল হাসান, আমতলী, বরগুনা প্রতিনিধি//

বরগুনার আমতলী উপজেলায় পবিত্র ঈদ-উল-ফিতর উপলক্ষে প্রধানমন্ত্রীর ঈদ উপহার হিসেবে দুস্থ ও অসহায়দের মাঝে ভিজিএফ চাল বিতরণ কার্যক্রম আজ সোমবার সুষ্ঠ ও সুন্দর ভাবে সম্পন্ন হয়েছে।

দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের সহযোগীতায় আমতলী উপজেলা প্রশাসনের ব্যবস্থাপনায় পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষে উপজেলার ১টি পৌরসভা ও ৭টি ইউনিয়নের ১৭ হাজার ৭’শ ৬৯ জন অসহায় ও দুঃস্থ্যদের মাঝে বিনামূল্যে ১০ কেজি করে চাল বিতরণ করা হয়।

এর মধ্যে উপজেলার পৌরসভায় ৪ হাজার ৬ শত ২১ জন,গুলিশাখালী ইউনিয়নে ২ হাজার ২শত ৬৫ জন, কুকুয়া ইউনিয়নে ১ হাজার ৭ শত ৪৩ জন, আঠারগাছিয়া ইউনিয়নে ১ হাজার ৭ শত ২৩ জন,হলদিয়া ইউনিয়নে ২ হাজার ৪ শত ৭৫ জন, চাওড়া ইউনিয়নে ১ হাজার ৬ শত ৪৫ জন,আমতলী সদর ইউনিয়নে ২ হাজার ১ শত জন, আড়পাঙ্গাশিয়া ইউনিয়নে ১ হাজার ১ শত ৯৭ জন।

সরজমিনে সোমবার (০৮ এপ্রিল) উপজেলার আড়পাঙ্গাশিয়া ইউনিয়নে ভিজিএফ চাল বিতরণকালে দেখা যায় দুস্থ ও অসহায়রা লম্বা লাইনে দাড়িয়ে থাকতে। একাধিক দুস্থ ও অসহায়দের সাথে কথা বললে তারা জানান ১০ কেজি করে চাল পেয়ে তারা রমজান মাসে আনন্দিত।চাল বিতরণ অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন দায়িত্বর ট্যাক অফিসার,ইউপি সচিব, ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য ও গ্রাম পুলিশের সদস্যগণ সহ গণ্যমাণ্য ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন।

ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান সোহেলী পারভীন মালা বলেন, ঈদের আনন্দকে সকলের মাঝে ভাগাভাগি করে নেওয়ার প্রয়াসে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এমন উদ্যোগ নিয়েছেন। চাল বিতরণ কার্যক্রম সুষ্ঠভাবে সম্পন্ন হয়েছে। উপহার হিসেবে এই চাল পেয়ে সকলে আনন্দিত এবং সন্তষ্ট হয়েছেন।তিনি মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পক্ষ থেকে সকলকে পবিত্র ঈদুল ফিতরের অগ্রিম শুভেচ্ছা জ্ঞাপন করেন।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মুহাম্মদ আশরাফুল আলম জানান,ঈদ-উল-ফিতর উপলক্ষে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর ঈদ উপহার হিসেবে দুস্থ ও অসহায়দের মাঝে ভিজিএফ চাল বিতরণের জন্য প্রত্যেকটি ইউনিয়ন পরিষদে ট্যাক অফিসার নিয়োগ প্রদান করা হয়েছে। এবং স্বচ্ছভাবে বিতরণ কার্যক্রম পরিচালনার নির্দেশ প্রদান করা হয়। প্রকৃত দুস্থ ও অসহায় ব্যক্তিরা যাতে ভিজিএফ এর চাল থেকে বঞ্চিত না হয় সেদিকেও লক্ষ্য রাখতে বলা হয়েছে। আমি নিজেও বেশ কয়েকটি ইউনিয়নের চাল বিতরণ কার্যক্রম পরিদর্শণ করেছি। এই কর্মসূচি অসহায় ও দুঃস্থদের কষ্ট কিছুটা হলেও লাঘব করবে বলে আমি মনে করি।

প্রায় এক বছর পর আমতলীতে লঞ্চ,যাত্রী পদচারণায সরগরম লঞ্চঘাট

মাহমুদুল হাসান, আমতলী (বরগুনা) প্রতিনিধিঃ

যাত্রী সংঙ্কটে প্রায় এক বছর বন্ধ থাকার পর অবশেষে ঢাকা-আমতলী নৌপথে লঞ্চ চলাচল শুরু হয়েছে। শুক্রবার বিকেলে ঢাকা সদরঘাট থেকে যাত্রী নিয়ে এমভি ইয়াদ-৭ লঞ্চটি আমতলীর উদ্দেশ্যে ছেড়ে আসে। শনিবার সকালে লঞ্চটি আমতলী ঘাটে নোঙ্গর করে। এতে দক্ষিণাঞ্চলের সাধারণ যাত্রী ও ঘাটে কর্মরত শ্রমিকদের মধ্যে আনন্দ বিরাজ করছে। ঘাটে কর্ম চাঞ্চল্যতা ফিরে এসেছে।

জানাগেছে, ২০২২ সালের ২৫ জুন পদ্মা সেতু উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। পদ্মা সেতু খুলে দেয়ার পর যাত্রী সংঙ্কটে পড়ে লঞ্চ মালিকরা। এতে আমতলী-ঢাকা নৌ রুটে লঞ্চ সার্ভিস চলাচলে বিঘœ ঘটে। যাত্রী সংঙ্কট চরম আকার ধারন করায় আমতলী-ঢাকা রুটে লঞ্চ চলাচল অনিয়মিত হয়ে পড়ে। গত বছর ২০ জুলাই মালিক কর্তৃপক্ষ একেবারেই বন্ধ করে দেয়। এতে দক্ষিণাঞ্চল আমতলী, তালতলী, বরগুনা, কলাপাড়া ও পর্যটন কেন্দ্র কুয়াকাটার নৌপথের যাত্রী ও ব্যবসায়ীরা চরম বিপাকে পরছে। বাধ্য হয়েই তারা সড়ক পথে চলাচল শুরু করে। এদিকে লঞ্চ সার্ভিস বন্ধ থাকায় ব্যবসায়ীদের ঢাকা থেকে স্বল্প খরচে দক্ষিণাঞ্চলে মালামাল আনা- নেয়াও বন্ধ হয়ে যায়। ফলে সড়ক পথে বেশী খরচ দিয়ে তাদের মালামাল আনতে হয়। এতে নিত্য প্রয়োজনীয় দ্রব্যের উপরে এর প্রভাব পরছে। অপর দিকে লঞ্চ সার্ভিস বন্ধ থাকায় রাজস্ব হারায় সরকার। এছাড়াও লঞ্চঘাটে কর্মরত অর্ধ শতাধিক মানুষ কর্মহীন হয়ে পরে। দীর্ঘ নয় মাস পরে শুক্রবার বিকেলে ঢাকা সদরঘাট থেকে যাত্রী নিয়ে এমভি ইয়াদ-৭ লঞ্চটি ছেড়ে আসে। শনিবার সকালে লঞ্চটি আমতলী ঘাটে নোঙ্গর করে। এতে দক্ষিণাঞ্চলের নদী পথে যাতাযাত করা মানুষের মধ্যে আনন্দ বিরাজ করছে। ঘাটে কর্ম চাঞ্চল্যতা ফিরে এসেছে।

শনিবার লঞ্চঘাট ঘুরে দেখা গেছে, যাত্রীরা লঞ্চ থেকে হাসিখুশি মনে ঘাটে আনছেন। শ্রমিকরা লঞ্চ থেকে
মালামাল নামাচ্ছেন।

লঞ্চযাত্রী আবুল , শাওন ও রুবেল বলেন, দীর্ঘদিন পর লঞ্চে ঢাকা থেকে আমতলীতে আসছি। অনেক ভালো লেগেছে। যেন লঞ্চ সার্ভিস আবার বন্ধ হয়ে না যায়।

আমতলী মাতৃছোয়া বস্ত্রালয়ের মালিক জিএম মুছা বলেন, লঞ্চ সার্ভিস চালু হওয়ায় খুবই ভালো হয়েছে। অল্প খরচে ঢাকা থেকে মালামাল আনা সহজ হবে।

আমতলী লঞ্চঘাট সুপার ভাইজার শহীদুল ইসলাম হাওলাদার বলেন, বেশ যাত্রী নিয়ে এমভি ইয়াদ-৭ লঞ্চটি শনিবার সকালে ঘাটে নোঙ্গর করেছে।

এমভি ইয়াদ-৭ লঞ্চ মালিক মামুন-অর রশিদ বলেন, যাত্রীদের দাবীর মুখে শুক্রবার বিকেলে ঢাকা সদরঘাট থেকে লঞ্চ ছেড়ে দিয়েছি। আল্লাহ যা করেন।

আমতলীতে প্রধানমন্ত্রীর ঈদ উপহারের চাল পেল ৪ হাজার ৬২১টি পরিবার!

মাহমুদুল হাসান, আমতলী (বরগুনা) প্রতিনিধিঃ

আসন্ন ঈদুল ফিতর উপলক্ষে বরগুনার আমতলী পৌরসভার অতিদরিদ্র ও শ্রমজীবি ৪ হাজার ৬২১টি পরিবারের মাঝে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পক্ষ থেকে দেয়া উপহারের বিশেষ ভিজিএফ’র বিতরণ করা হয়েছে।

আজ শনিবার (৬/৪/২৪) আমতলী পৌরসভার ৯টি ওয়ার্ডে বসবাসরত সাধারণ,অসাহায় ও দুস্থদের মাঝে ১০ কেজি করে এ চাল প্রদান করা হয়।

চাল বিতরণ উপলক্ষে পৌরসভা চত্ত্বরে পৌর মেয়র ও উপজেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি মোঃ মতিয়ার রহমানের সভাপতিত্বে চাল বিতরণের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন আমতলী উপজেলা নির্বাহী অফিসার মুহাম্মদ আশরাফুল আলম। এ সময় নব নির্বাচিত কাউন্সিলরগণ উপস্থিত ছিলেন।

উপজেলা নির্বাহী অফিসার মুহাম্মদ আশরাফুল আলম বলেন,মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বিভিন্ন কর্মসূচির আওতায় অসহায় মানুষ যাতে ঈদ উৎসব থেকে বঞ্চিত না হয় তার জন্য এই বিশেষ ঈদ উপহার।

পৌর মেয়র মোঃ মতিয়ার রহমান বলেন,আমতলী পৌরসভায় প্রধানমন্ত্রীর ঈদ উপহার যা দিয়েছেন তার বাহিরেও যারা আছেন তারা আইডি কার্ড নিয়ে আসলে আমার পক্ষ থেকে ১০ কেজি চাল পাবে। সকলের মাঝে আনন্দময় ঈদ উৎসব পালিত হোক এ কামনা করি।

প্রতিবন্ধী দুই সন্তানকে নিয়ে নেই ঈদের আনন্দ লোকমান-শাহা বানু দম্পত্তির

মাহমুদুল হাসান,আমতলী (বরগুনা) প্রতিনিধিঃ

বরগুনার তালতলীতে জন্মগতভাবে মানসিক প্রতিবন্ধী দুই সন্তানকে নিয়ে নেই কোন ঈদের আনন্দ। বরং সন্তানই এখন মা বাবার কাছে বোঝা হয়ে বেঁচে আছেন। ১৬ বছর বয়সী মিরাজ ও ১৩ বছর বয়সী মেহেদী জন্মের পর থেকেই মানসিক প্রতিবন্ধী। অন্যের সাহায্য ছাড়া খাওয়া-দাওয়া কিছুই করতে পারে না। প্রতিবন্ধী এই দুই সন্তানকে নিয়ে জীবন কাটছে লোকমান ও শাহা বানু দম্পতির। দারিদ্র্যের কারণে এই দুই সন্তানের চিকিৎসা করাতে পারছেন না তারা।

তাদের পরিবারের উপার্জন সক্ষম কেউ নেই। তাদের বাবা লোকমান তিনিও কোনো কাজ করতে পারে না। একমাত্র মা দুই ভাইয়ের দায়িত্ব বহন করে চললেও তাদের বাড়িতে ঈদের আনন্দ নেই। মিরাজ ও মেহেদীর বাড়ি বরগুনা জেলার তালতলী উপজেলার কড়ইবাড়িয়া ইউনিয়নের ১নং ওয়ার্ডের বাসিন্দা তারা।

স্থানীয় লোকজন ও পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, লোকমান ও শাহা বানুর দুই ছেলে। ২০০৬ সালে জন্ম হয় বড় ছেলে মিরাজ। জন্মের পর থেকে মানসিক প্রতিবন্ধী, দ্বিতীয় ছেলের জন্মের দুই বছর পরে সেও মানসিক প্রতিবন্ধী হয়। তখন তাদের চিকিৎসকের কাছে নিয়ে যাওয়া হয়। প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়ার পর উন্নত চিকিৎসার জন্য পরবর্তীকালে যোগাযোগ করতে বলা হয়। কিন্তু টাকার অভাবে চিকিৎসা করাতে পারেননি তারা।

প্রতিবন্ধী দুই সন্তানের মা শাহা বানুর সঙ্গে কথা হলে তিনি তার পরিবারের চরম দুঃখ-দুর্দশার কথা তুলে ধরে বলেন, খুব কষ্টে দিন কাটছে আমাদের কোন কাজ করতে পারে না তাদের সকল কাজ আমার করে দিতে হয়। ডাক্তার দেখাতে গিয়ে আমরা নিঃস্ব হয়ে গেছি। সর্বশেষ বরিশালে ডাক্তার দেখানোর পরে একটু সুস্থ ছিল এখন আবার এই আগের মতো আছে। তাদের অবস্থা খুবই আশঙ্কাজনক মা হয়ে এভাবে তাদের মৃত্যুর দিন দেখতে আমার খুব কষ্ট লাগছে।

প্রতিবেশী আব্দুর রশিদ হাওলাদার বলেন, ছেলে দুটি খুবই অসুস্থ টাকা পয়সার কারণে তাদের চিকিৎসা করাতে পারছে না। আবার তাদের বাবা খুবই গরীব মানুষ ও কোন কাজ করতে পারে না। তাদের চিকিৎসা হলে তারা আবার স্বাভাবিক জীবনের ফিরতে পারে।

তালতলীয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সিফাত আনোয়ার তুম্পার সাথে এ ব্যাপারে কথা বললে তিনি জানান, একই পরিবারে চারজন সদস্য দুইজন পুরো মানসিক প্রতিবন্ধী ও তাদের বাবা লোকমান সেও কোন কাজ করতে পারে না। তাদের ব্যাপারে খোঁজখবর নিয়ে সহযোগিতা করার চেষ্টা করব এছাড়াও তাদের চিকিৎসা প্রয়োজন।

টানা তৃতীয়বার মেয়র হিসেবে  শপথ নিলেন জননেতা মতিয়ার রহমানের

//মাহমুদুল হাসান, আমতলী, বরগুনা প্রতিনিধি//

টানা তৃতীয়বার বিজয়ী হয়ে শপথ পাঠ করলেন আমতলী পৌরসভার মেয়র জননেতা মতিয়ার রহমান।

আজ ১ এপ্রিল বেলা সাড়ে বারোটায় বরিশাল বিভাগীয় কমিশনার কার্যালয়ের হল রুমে এ  শপথ অনুষ্ঠিত হয়।

বরগুনা জেলার আমতলী উপজেলা পটুয়াখালী জেলার পটুয়াখালী পৌরসভার নির্বাচিত মেয়র ও কাউন্সিলার এবং পাথরঘাটা পৌরসভার ১জন নির্বাচিত কাউন্সিলরের শপথ অনুষ্ঠিত হয়। নির্বাচিত সকলকে শপথ পাঠ করান বরিশাল বিভাগীয় কমিশনার মোঃ শওকত আলী।

টানা তৃতীয়বার মেয়র হিসেবে  শপথ নিলেন জননেতা মতিয়ার রহমানের

শপথ অনুষ্ঠানে প্রথম শপথ পাঠ করেন আমতলী পৌরসভার টানা তৃতীয়বার নির্বাচিত মেয়র জননেতা মোঃ মতিয়ার রহমান। এরপর নির্বাচিত কাউন্সিলরগন শপথ পাঠ করেন।

শপথ অনুষ্ঠানের শুরুতে বিভাগীয় কমিশনার মোঃ শওকত আলী বলেন আমতলী পৌরসভা নির্বাচনে শতকরা ৮০ ভাগ ভোটার উপস্থিতিই  বাংলাদেশে একটি দৃষ্টান্তমূলক। সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ ভাবে নির্বাচন সম্পন্ন হওয়ায় তিনি আমতলী পৌরসভার মেয়র সহ নির্বাচিত সকল জনপ্রতিনিধিদের এবং পৌর নাগরিকগনকে ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন।

টানা তৃতীয়বার আমতলী পৌরসভা মেয়র পদে শপথ পাঠ করে উপস্থিত বিভিন্ন গণমাধ্যমকে মতিয়ার রহমান বলেন,আমতলী পৌরসভার উন্নয়নের ধারা অব্যাহত রাখতে এবং মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার হাতকে শক্তিশালী করতে আমার অসামপ্ত কাজ সকল পৌর নাগরিককে নিয়ে একটি স্মার্ট পৌরসভা তৈরী করাই আমার ভিষণ।

তালতলীতে অভিনব চুরি সংঘটিত

//মাহমুদুল হাসান, আমতলী, বরগুনা প্রতিনিধি//

বরগুনার তালতলীতে সেহরির সাথে চেতনা নাশক ঔষধ খাইয়ে স্বামী-স্ত্রী কে অচেতন করে অভিনব চুরি সংঘটিত হয়েছে।

অসুস্থ স্বাধীন-স্ত্রী কে উন্নত চিকিৎসার জন্য বরিশাল শেরেবাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

ঘটনাটি ঘটেছে সোমবার ভোর রাতে উপজেলার সদর ইউনিয়নের নয়াপাড়া এলাকায়।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বাড়িতে চুরির উদ্দেশ্যে একটি সংঘবদ্ধচক্র কোন এক সময়ে খাবারের সাথে চেতনা নাশক ঔষধ মিশিয়ে রাখে। ভোর রাতে সেহরিতে ওই খাবার খেয়ে মোঃ জাফরুল্লাহ হামিদ( ৫০) ও তার স্ত্রী (সাবেক) ইউপি সদস্য সেলিনা আক্তার ইভা অচেতন অবস্থায় বাসায় পড়ে থাকেন। পরে সকাল দশটার দিকে প্রতিবেশীরা তাদের ডাকাডাকি করে এবং অচেতন অবস্থায় দেখতে পেয়ে দ্রুত তাদেরকে উদ্ধার করে তালতলী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে আসে।  উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের কর্তব্যরত চিকিৎসক তাদেরকে উন্নত চিকিৎসা জন্য বরিশাল শেরেবাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করেন।

অচেতন জাফরুল্লাহ হামিদের ছোট ভাই সাংবাদিক কাউসার হামিদ বলেন,আমার বড় ভাইকে সেহরির সাথে চেতনা নাশক ঔষধ মিশিয়ে রাখা খাবার খেয়ে অসুস্থ হয়ে পড়ায়  বাড়িতে চুরি সংঘঠিত হয়েছো। এসময় নগদ অর্থ ও স্বর্নালংকার চুরি করে নিয়ে যায় দুর্বৃত্তরা।

এ বিষয়ে তালতলী থানার অফিসার ইনচার্জ শহিদুল ইসলাম খান জানান,সেহরির খাবার খেয়ে ২ জন অসুস্থ হয়েছে। তাদেরকে উন্নত চিকিৎসার জন্য বরিশাল শেরে বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠিয়েছে। আমরূ এ অসাধু চক্রকে ধরতে জোর চেস্টা করছি।

আমতলীতে ইউপি নির্বাচনে এক চেয়ারম্যান প্রার্থী’র মনোনয়ন পত্র বাতিল

//মাহমুদুল হাসান, আমতলী, বরগুনা প্রতিনিধি//

বরগুনার আমততলী সদর ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে আজ ছিল বাছাই। বাছাইয়ে ৯ চেয়ারম্যান প্রার্থীর মধ্যে   এক চেয়ারম্যান প্রার্থীর মনোনয়নপত্র বাতিল করেছেন রিটার্নিং কর্মকর্তা।

আজ সোমবার আমতলী উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে মনোনয়নপত্র বাছাইকালে উপজেলা নির্বাচন অফিসার ও রিটানিং কর্মকর্তা মোঃ সেলিম রেজা চেয়ারম্যান প্রার্থী মোঃ আবুল বাশার নয়ন মৃধার মনোনয়ন পত্রের হলফ নামায় স্বাক্ষর না থাকায় তার মনোনয়ন পত্রটি বাতিল ঘোষনা করেন। আমতলী উপজেলা নির্বাচন অফিসার ও সদর ইউপি নির্বাচনে রিটানিং কর্মকর্তা মোঃ সেলিম রেজা বলেন, চেয়াম্যান প্রার্থী মোঃ আবুল বাশার নয়ন মৃধার মনোনয়ন পত্রের হলফ নামায় স্বাক্ষর না থাকায় তার মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়েছে।

আগামী ৯ এপ্রিল প্রার্থীদের মধ্যে প্রতীক বরাদ্ধ দেয়া হবে এবং আগামী ২৮ এপ্রিল আমতলী সদর ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে ভোট গ্রহন অনুষ্ঠিত হবে।