বাগেরহাটের রামপালে জমি জাল দলিল করায় সাব-রেজিস্টারসহ ৭ জনের নামে মামলা

এ এইচ নান্টু, বিশেষ প্রতিনিধি||

বাগেরহাটের রামপালে মৃত্যু শয্যায় থাকা বৃদ্ধের ৬০ শতাংশ জমি জাল জালিয়াতির মাধ্যমে লিখে নেওয়ায় সাব রেজিষ্টারসহ ৭ জনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের হয়েছে। বাগেরহাটের বিজ্ঞ সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেটের আদালতে গত ২৭ এপ্রিল বেলা ১১ টায় মামলাটি করেন, ভুক্তভোগী বৃদ্ধ রণজিৎ কুমার পালের একমাত্র পুত্র বিশ্বজিৎ কুমার পাল। পিটিশন মামলা নং ২৫/২০২৩। বিজ্ঞ আদালত মামলাটি তদন্তের জন্য বাগেরহাটের পিবিআই কে নির্দেশ দিয়েছেন।

মামলার আসামিরা হলেন, রামপাল উপজেলা সাব-রেজিস্টার নাহিদ জাহান মুনা, উপজেলার গিলাতলা গ্রামের দীনেশ পালের পুত্র ও ইউপি সচিব রতন কুমার পাল, তার পিতা (দলিল গ্রহিতা) দীনেশ চন্দ্র পাল, দলিল লেখক ওড়াবনিয়া গ্রামের সবুজ কুমার মন্ডল, সৈয়দ গালিব জামান (ইশাদী), রতিন কুমার পাল, সনাক্তকারী রীতা রানী পাল।

এজাহারে তিনি উল্লেখ করেন, গত ইং ০৭-০২-২০২৩ তারিখ রামপাল সাব রেজিস্ট্রার অফিসে বসে ষড়যন্ত্র ও যোগসাজশের মাধ্যমে দলিল গ্রহীতা দীনেশ পালের পুত্র রতন পাল দলিল লেখক সবুজ মন্ডলের মাধ্যমে একটি জাল জালিয়াতি করে দলিলটি করান। অত্যন্ত গোপনীয়তা বজায় রেখে দলিলটি রেজিষ্ট্রি করা হলেও বিষয়টি প্রকাশ হয়ে যায়।

এ বিষয়ে অনুসন্ধান করতে দলিল দাতা রণজিৎ কুমার পালের বাড়িতে গিয়ে দেখা যায় তিনি বার্ধক্য জনিত কারণে গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় শয্যাশায়ী। কথা হয় তার পুত্র বিশ্বজিৎ পালের সাথে। তিনি বলেন আমার বাবার জমি ইউপি সচিব রতন কুমার পাল ও আমার সৎ মা রীতা রানী পাল সাব-রেজিস্টারের সাথে যোগসাজশে ভূয়া দলিল দাতা সাজিয়ে ৮৮ নং গিলাতলা মৌজার এসএ ৬৪০ খতিয়ানের ১৮৪৭ দাগের ০.৯৫ একরের মধ্যে ০.৬০ একর জমি জাল জালিয়াতি করে লিখে নেন। যার দলিল নং ৩৪৪/২০২৩। তিনি মামলায় উল্লেখ করেন, তার পিতা রণজিৎ কুমার দীর্ঘ দিন ধরে বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত হয়ে শয্যাশায়ী অবস্থায় রয়েছেন। তার স্মৃতি শক্তি ও লোপ পেয়েছে। অথচ তার স্থলে অন্য ব্যক্তির ছবি ও ভূয়া আইডি কার্ড ব্যবহার করে মূল্যবান জমিটি রেজিষ্ট্রি করা হয়েছে।
তার গ্রামে গিয়ে কথা হয়, মনোরঞ্জন পাল, তুষার কান্তি পাল ও সুদর্শন বিশ্বাসের সাথে। তারা বলেন, রণজিৎ বাবু ৭/৮ মাস মৃত্যুর সাথে পাঞ্জা লড়ছেন। তার অবস্থা খারাপ। তাকে বাইরে নেওয়ার মত বা তার বের হওয়ার মত অবস্থায় নেই।

অভিযুক্ত ইউপি সচিব রতন পালের কাছে জানতে চাইলে তিনি জানান, সবুজ মহরীর সাথে ২ লক্ষ টাকার চুক্তি করে ১ লক্ষ ৭০ হাজার টাকার বিনিময়ে দলিল করিয়েছি। সবুজ মন্ডল সব কিছু করেছে বলে স্বীকার করেন।

অন্যতম কুশীলব সবুজ মন্ডলকে সোমবার দুপুর ১ টায় সাবরেজিস্টারের মুখোমুখি করানো হলে থলের বিড়াল বেরিয়ে আসে। কথিত দাতা সাজিয়ে ভুয়া আইডি কার্ড ও ভূয়া ছবি ব্যবহার করে দলিল করিয়েছেন বলে প্রাথমিকভাবে প্রমাণিত হয়েছে। সবুজ মন্ডল আরও জল জালিয়াতির মাধ্যমে দলিল করে বিপুল বিত্তের মালিক হয়েছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।

অনুসন্ধানে দেখা যায়, ইউপি সচিব রতন পাল মোংলা উপজেলার বুড়িরডাঙ্গা ইউনিয়নের বিদ্যারবাহন গ্রামের মৃত যতীন্দ্র নাথ মন্ডলের পুত্র জগদীশ মন্ডলকে দাতা বানিয়ে ও ভূয়া আইডি কার্ড দিয়ে জমি দলিল করেন। সাংবাদিকরা জগদীশ মন্ডলের বাড়িতে গেলে সে কৌশলে পালিয়ে যায়। কথা হয় জগদীশ মন্ডলের সহচর এনপিএস নিউজের খুলনা বিভাগীয় চীফ জুয়েল খান জগদীশ পিএনএসের সদস্য বলে স্বীকার করেন। তিনি জানান, জগদীশ এমন একটি ঘটনা ঘটিয়েছে বলে শুনেছি।

জমি জাল জালিয়াতি করে দলিল সম্পাদন ও বাগেরহাটের বিজ্ঞ আদালতে মামলা দায়েরের বিষয়টি নিয়ে সাংবাদিকদের সাথে কথা হয় রামপাল উপজেলা সাবরেজিষ্টার নাহিদ জাহান মুনা’র সাথে। তার অফিসে বসে ৩৪৪/২৩ নং দলিলটি দেখতে চাইলে তিনি দলিলটি এনে দেখতে পান, দলিল দাতা ও তার আইডি কার্ড জাল করা হয়েছে। উপস্থিত মহরার সমিতির নেতৃবৃন্দরা ও বিষয়টির সত্যতা পান। এ পর্যায়ে সবুজ জাল জালিয়াতির বিষয়টি স্বীকার করেন।

রামপাল উপজেলা সাবরেজিষ্টার নাহিদ জাহান মুনা বলেন, সরল বিশ্বাসে আমি জমির দলিল রেজিষ্ট্রি করেছি। আমাকে মিস গাইড করে ভূয়া দাতা ও ভূয়া ছবি ব্যবহার করা হয়েছে। আমি অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহন করবো।

যশোরে গোয়েন্দা পুলিশের অভিযানে লেদ থেকে পিস্তল‌ও অস্ত্র তৈরির সরঞ্জামসহ মিস্ত্রী গ্রেফতার

মোঃ শফিকুল ইসলাম পিকুল, বিশেষ প্রতিনিধি‍ঃ

যশোর গোয়েন্দা পুলিশের একটি টীম অভিযান পরিচালনা করে লেদ কারখানার সন্ধান পায় এবং কারখানা থেকে দেশি পিস্তল, গুলি ও অস্ত্র তৈরির বিপুল পরিমাণ সরঞ্জামসহ লেদ মিস্ত্রি শাহাদত হোসেন (৪০) কে গ্রেফতার করে।আটক শাহাদত শংকরপুর চোপদারপাড়ার শাহাজাহানের ছেলে। ২৭ মার্চ
সোমবার রাতে যশোর শহরের শংকরপুর চোপদারপাড়ার শাহাদতের বসত ঘরের পাশের রুমে এই কারখানার সন্ধান পায় । ঘটনার বিবরণ অনুযায়ী, ডিবি পুলিশের এসআই শাহিনুর রহমান ও এসআই নুরের সমন্বয়ে গঠিত গোয়েন্দা পুলিশের বিশেষ টীম গোপন সংবাদের ভিত্তিতে খবর পায় শহরের পার্শ্ববর্তী শংকরপুরের চোপদারপাড়ায় একটি বসত ঘরের সাথে লেদ বসিয়ে অস্ত্র তৈরি করা হচ্ছে। উল্লেখিত তথ্যের ভিত্তিতে রাত আনুমানিক বারোটায় লেদ কারখানায় অভিযান পরিচালনা করে একটি দেশি তৈরি পিস্তল, চার রাউন্ড গুলি ও বিপুল পরিমাণ অস্ত্র তৈরির সরঞ্জামাদি উদ্ধারসহ লেদ মিস্ত্রি শাহাদতকে গ্রেফতার করা হয়। এ সংক্রান্ত বিষয়ে এস আই শাহিনুর বলেন, শাহাদতকে আটক করে ডিবি কার্যালয়ে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। উল্লেখ্য এর আগে গত বছর অক্টোবর মাসের ১৩ তারিখে যশোর শহরের বারান্দীপাড়া কদম তলার রাঙ্গামাটি গ্যারেজ মোড়ের নিউ বিসমিল্লাহ ইঞ্জিনিয়ারিং নামে লেদ কারখানায় অভিযানে পাঁচটি অস্ত্র উদ্ধারসহ কারখানা মালিক আজিজুল ইসলামসহ তিনজনকে আটক করা হয়েছিলো।

মাগুরার ধর্ষণ মামলার মূল আসামি বাকারুল র‍্যাব-৬ এর হাতে গ্রেফতার

মোঃ শফিকুল ইসলাম পিকুল, বিশেষ প্রতিনিধি‍ঃ

মাগুরা সদরের বুদ্ধি প্রতিবন্ধী মেয়েকে (২০) ধর্ষণ মামলার মূল আসামী বাকারুল (৪০)কে আজ র‌্যাব-৬, যশোর গ্রেফতার করেছে।
র‍্যাব সুত্রে জানা যায়, ধৃত আসামি গত ২১ ফেব্রুয়ারি ২০২৩ খ্রি: যুবতী বুদ্ধি প্রতিবন্ধী মেয়ে (২০)’কে বাড়ীতে একা পেয়ে আসামী মোঃ বাকারুল ইসলাম (৪০) তার ইচ্ছার বিরুদ্ধে জোরপূর্বক ধর্ষণ করে।ভিকটিম তার বাবা-মা ও বড় বোনের সাথে মাগুরা সদর থানা এলাকায় বসবাস করে আসছে। আসামী ভিকটিমের প্রতিবেশী হওয়ায় উল্লেখিত তারিখে ভিকটিমের বাড়িতে সবাই কাজের তাগিদে বাড়ির বাইরে থাকায় সুযোগ বুঝে আসামী বুদ্ধি প্রতিবন্ধী ভিকটিম (২০) কে জোরপূর্বক ধর্ষণ করে। এ সময় ভিকটিমের ডাক-চিৎকারে তার মা ও বোন সহ আশেপাশের লোকজন ছুটে বাড়িতে আসলে বাকারুল ইসলাম (৪০) ঘটনাস্থল হতে পালিয়ে যায়।
পরবর্তীতে বুদ্ধি প্রতিবন্ধী ভিকটিমের বড় বোন বাদী হয়ে মাগুরা সদর থানায় একটি ধর্ষণ মামলা রুজু করলে ধর্ষক মাগুরা সদর উপজেলার রামনগর গ্রামের সলেমান মন্ডলের পুত্র মোঃ বাকারুল ইসলাম।মামলা রেকর্ড হওয়ার পর আত্নগোপনে থাকে।
র‌্যাব-৬, যশোর বিষয়টি অবহিত হলে তাৎক্ষনিক অত্র ক্যাম্পের একটি চৌকস আভিযানিক দল ধর্ষককারীকে আটকের জন‍্য গোয়েন্দা তৎপরতা বৃদ্ধি করে আসছিল।
এরই ধারাবাহিকতায় মঙ্গলবার ২১ মার্চ ২০২৩ খ্রি: র‌্যাব-৬, যশোর ক্যাম্পের একটি চৌকস আভিযানিক দল গোপন তথ্যের ভিত্তিতে ঝিনাইদহ সদর থানাধীন ছয়ালপুটে এলাকায় বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে মূল ধর্ষণকারী মোঃ বাকারুল ইসলাম (৪০)কে গ্রেফতার করে। গ্রেফতারকৃত আসামীকে ব‍্যাপক জিজ্ঞাসাবাদে সে ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে।ধৃত আসামীকে মাগুরা সদর থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে ।

যশোর র‌্যাব-৬ এর অভিযানে যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত কুখ্যাত মাদক কারবারি বিল্লাল গ্রেফতার

//মোঃ শফিকুল ইসলাম পিকুল , বিশেষ প্রতিনিধি‍//

যশোর র‌্যাব -৬ ফোর্সেস আমাদের প্রিয় মাতৃভূমির অপ্রতিরোধ্য উন্নয়ন অগ্রযাত্রাকে তরান্বিত করতে এবং সন্মানিত নাগরিকদের জন্য টেকসই নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আইনের আলোকে কঠোর পরিশ্রম করে যাচ্ছে। এছাড়াও দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে দীর্ঘদিন যাবত পালিয়ে থাকা বিভিন্ন মেয়াদে সাজাপ্রাপ্ত ও ওয়ারেন্টভূক্ত আসামীদের গ্রেফতারের মাধ্যমে দৃষ্টান্ত স্থাপন করে জনগনের বিশ্বাস ও আস্থা অর্জন করে আসছে।

যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত আসামী বিল্লাল হোসেন যশোর জেলার কোতয়ালী মডেল থানাধীন শংকরপুর এলাকার কুখ্যাত মাদক কারবারি। সে দীর্ঘদিন যাবত যশোর জেলাসহ বিভিন্ন জেলায় মাদক ব্যবসা পরিচালনা করে আসছিল।

জানা যায়,গত ২০১১ সালের অক্টোবর মাসে আসামী বিল্লাল হোসেনকে বিপুল পরিমাণ ফেন্সিডিলসহ গোপালগঞ্জ ডিবি পুলিশ কর্তৃক গ্রেফতার করা হয় এবং আসামীর নামে গোপালগঞ্জ সদর থানায় মাদক মামলা রুজু হয়। বিজ্ঞ আদালত হতে উক্ত মামলায় জামিন পেয়ে আসামী তার মাদক ব্যবসা পুনরায় চালু করে।

উক্ত মামলার বিচারকার্য শেষে ঘটনার সত্যতা প্রমানিত হওয়ায় বিজ্ঞ আদালত আসামী বিল্লাল হোসেন বিল্লালকে যাবজ্জীবন সাজা প্রদান করেন। আসামী আইন শৃংখলা রক্ষাকারী বাহিনীর চোখ ফাঁকি দিয়ে দেশের বিভিন্ন স্থানে পালিয়ে বেড়ায়। পরবর্তীতে র‌্যাব গোয়েন্দা তথ্যের মাধ্যমে উক্ত আসামীর অবস্থান নিশ্চিত করে।

এরই ধারাবাহিকতায় গত ০১ মার্চ ২০২৩ তারিখ রাতে র‌্যাব-৬, যশোর ক্যাম্পের একটি আভিযানিক দল গোপন সংবাদের ভিত্তিতে নড়াইল জেলার সদর থানাধীন বৌবাজার এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত কুখ্যাত মাদক কারবারি মৃত আ:সোবহান হোসেন ভূইয়ার পুত্র বিল্লাল হোসেনকে আটক করে।

গ্রেফতারকৃত আসামীকে যশোর জেলার কোতয়ালী মডেল থানায় হস্তান্তর করা হয়।

নাশকতার মামলায় বিএনপির ড. ফরিদসহ ১১ জনের উচ্চ আদালতে জামিন লাভ

এ এইচ নান্টু, বিশেষ প্রতিনিধি ||

গত ২৫ ফেব্রুয়ারী সকালে বাগেরহাট বিএনপির পদযাত্রায় নাশকতার অভিযোগে সদর মডেল থানা পুলিশ মামলা দায়ের করে। মামলায় জেলা বিএনপির যুগ্ম আহবায়ক লায়ন ডক্টর শেখ ফরিদুল ইসলামসহ কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় ৪৮ জন নেতার নাম উল্লেখ করে ও অজ্ঞাতনামা ৩০/৪০ জনকে আসামি করা হয়। ওই মামলায় বুধবার সকালে হাইকোর্টে আগাম জামিনের জন্য আবেদন করা হয়।

শুনানি শেষে হাইকোর্ট ১১ জনকে জামিন মঞ্জুর করেছেন। শুনানীতে উপস্থিত ছিলেন এ্যাডঃ নিতাই রায় চৌধুরী, বারিস্টার শেখ মোঃ জাকির হোসেন, এ্যাডঃ মিজানুর রহমান প্রমূখ। আদালত প্রঙ্গনে উপস্থিত ছিলেন, বিএনপির খুলনা বিভাগীয় ভারপ্রাপ্ত সাংগঠনিক সম্পাদক অনিন্দ্য ইসলাম অমিত, শিক্ষা বিষয়ক সম্পাদক প্রফেসর ড. এবিএম ওবায়দুল ইসলাম, কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য শেখ মজিবর রহমান এবং জেলা বিএনপির সদস্য সচিব মোজাফফর রহমান আলমসহ জামিন প্রত্যাশি নেতৃবৃন্দ। উচ্চ আদালত থেকে নেতৃবৃন্দ জামিন লাভ করায় রামপাল ও মোংলা বিএনপির নেতৃবৃন্দ অভিনন্দন জানিয়েছেন।

বরগুনার তালতলীতে গাঁজাসহ চাকরিচ্যুত সেনা সদস্য গ্রেফতার 

সাইফুল্লাহ নাসির,আমতলী (বরগুনা) প্রতিনিধিঃ

বরগুনার তালতলীতে এক কেজি গাঁজাসহ মহসীন ফকির (৪১) নামের চাকরিচ্যুত এক সেনা সদস্যকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

সোমবার (২৭ ফেব্রুয়ারি) উপজেলার ছোটবগী ইউপির ঠংপাড়া এলাকা থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়।গ্রেফতারকৃত চাকরিচ্যুত সেনা সদস্য মহসীন ফকির (৪১) উপজেলার ছোটবগী ইউনিয়নের চরপাড়া গ্রামের মৃত শাহজাহান ফকিরের ছেলে।

তালতলী থানা পুলিশ জানায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে পুলিশ জানতে পেরে চাকরিচ্যুত সেনা সদস্য মহসীন ফকির দীর্ঘ দিন ধরে এলাকায় মাদক ব্যবসা করে আসছে। এর প্রেক্ষিতে এস আই জামাল ও এএস আই আবু জাফর ক্রেতা ছদ্মবেশে ফোন দিলে তাদের কাছে মাদক বিক্রি করবে বলে জানায়।

পরে তালতলী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ওসি সাখাওয়াত হোসেন তপুর নেতৃত্বে পুলিশের একটি টিম ক্রেতার ছদ্মবেশে মহসীন ফকিরের কাছে মাদক ক্রয়ের জন্য যায়। এ সময় তল্লাশি করে তার শরীরে পেচানো চাদর থেকে গাজাঁ পাওনা যায়। পরে বিভিন্ন স্হানে তল্লাশি চালিয়ে আরও ১ কেজি পাওয়া গেলে গাঁজাসহ তাকে আটক করা হয়।

তালতলী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ওসি কাজী সাখাওয়াত হোসেন তপু বলেন, সেনাবাহিনীর চাকরিচ্যুত মহসীন ফকির দীর্ঘ দিন ধরে গাঁজা বিক্রি করে আসছিল। ছদ্মবেশের কৌশলে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।এই মাদক কারবারির জন্য তাকে চাকুরিচ্যুত করা হয়েছিল। তার বিরুদ্ধে বিভিন্ন থানায় মাদকসহ একাধিক মামলা রয়েছে। এই ঘটনায় পুলিশ বাদী হয়ে মাদকদ্রব্য আইনে মামলা দায়ের করেছে।তাকে আদালতে পাঠানো হয়েছে।

সত্য প্রকাশ হবেই- ১০ বছর পর এএসআই হত্যায় অধরা আটক

// নিউজ ডেস্ক//

রাজধানীর মিরপুরে ২০১৩ সালে পুলিশের সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) হুমায়ূন কবির হত্যা মামলার ‘মূল পরিকল্পনাকারী’ মডেল অভিনেত্রী  সুহাসিনী অধরাকে (২৯) গ্রেফতার করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার রাতে মেরুল বাড্ডার সুবাস্তু টাওয়ার থেকে তাকে গ্রেফতার করে র‌্যাব–৩। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন র‌্যাব-৩–এর অধিনায়ক লে. কর্নেল আরিফ মহিউদ্দিন আহমেদ।

শুক্রবার সকালে তিনি জানান, অধরার আসল নাম ফজিলাতুন্নেসা রিয়া। পরিচয় পরিবর্তন করে তিনি মডেল হয়েছিলেন। নতুন নাম হয় সুহাসিনী অধরা।

র‌্যাব কর্মকর্তা জানান, তার গ্রামের বাড়ি পটুয়াখালীর কলাপাড়া উপজেলায়। বৃহস্পতিবার রাতে মেরুল বাড্ডার সুবাস্তু টাওয়ার থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়।

রাজধানীর শাহ আলী থানার সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) হুহমায়ূন কবির (৪৪) ২০১৩ সালে হত্যাকাণ্ডের শিকার হন। এই হত্যার পরিকল্পনাকারী ফজিলাতুন্নেছা রিয়া। হত্যার পর রিয়া থেকে বনে যান মডেল–অভিনেত্রী। গত দশ বছর নিজের নামে কাগজপত্র সব পরিবর্তন করে ভালোই চলছিল তার জীবন। কিন্তু শেষ রক্ষা হয়নি। যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত কথিত সেই মডেলকে গ্রেফতার করেছে র‌্যাব–৩।

আমতলীতে নকল প্রসাধনী বিক্রির অপরাধে জরিমানা

//সাইফুল্লাহ নাসির, বরগুনা প্রতিনিধি//

বরগুনার আমতলীতে সরকারী একে হাই স্কুল সড়কে বুধবার সকাল সাড়ে ১১ টার সময় নকল প্রসাধণী বিক্রির অপরাধে দুই যুবককে পৌরসভার স্বাস্থ্য পরিদর্শক মোঃ কবির হোসেন লক্ষাধিক টাকার প্রসাধনীসহ আটক করেন।

পরে আটককৃতদের ভ্রাম্যমান আদালতে সোপর্দ করলে আদালতের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও আমতলী উপজেলা নির্বাহী অফিসার মুহাম্মদ আশরাফুল আলম আটককৃতদের ভোক্তা অীধকার আইন-২০০৯ এর ৪১ ধারায় ভ্রাম্যান আদালতের মাধ্যমে ২০ হাজার টাকা জরিমানা অনাদায়ে ১ মাসের বিনাশ্রম কারাদন্ডের আদেশ প্রদান করেন।

আটকৃতরা হলেন,বরগুনা সদর উপজেলার কুমরাখালী গ্রামের বদরখালী ইউনিয়নের রিপন হাওলাদারের ছেলে ছাব্বির (২০) ও একই গ্রামের কামাল হোসেন হাওলাদারের ছেলে আশিক হাওলাদার (২০)।
তাদের কাছ থেকে পাওয়া নকল প্রসাধনী পুরিয়ে ফেলা হয়।

মেয়ে মরিয়মই  ‘রহিমা বেগম অপহরণ নাটকের মাস্টারমাইন্ড

//নিজস্ব প্রতিবেদক//

আলোচিত খুলনার রহিমা বেগম অপহরণ নাটকের মাস্টারমাইন্ড ছিল তার মেয়ে মরিয়ম মান্নান। তদন্ত শেষে আজ সকালে এই মামলার তদন্ত প্রতিবেদন মহানগর হাকিম আদালতে দাখিল করা হয়েছে।

সোমবার (১৩ ফেব্রুয়ারি) সংবাদ সম্মেলনে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) খুলনার পুলিশ সুপার সৈয়দ মুশফিকুর রহমান এ তথ্য জানিয়েছে।

মুশফিকুর রহমান জানান, অপহরণ নয়, জমি সংক্রান্ত বিরোধে প্রতিবেশীদের ফাঁসাতে মরিয়ম মান্নানের নেতৃত্বে রহিমা বেগম অপহরণ নাটক সাজানো হয়।

মেয়ে মরিয়মই  ‘রহিমা বেগম অপহরণ নাটকের মাস্টারমাইন্ড

তদন্ত প্রতিবেদনে মরিয়ম মান্নান, তার মা রহিমা বেগম ও মামলার বাদী ছোট বোন আদুরী আক্তারের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের সুপারিশ করা হয়েছে। পাশাপাশি অব্যাহতির সুপারিশ করা হয়েছে ওই মামলায় ফাঁসানো আসামিদের।

মুশফিকুর রহমান বলেন, মরিয়ম মান্নানের মা রহিমা বেগম যে রাতে নিখোঁজ হয়েছিলেন, সেদিন বিকেলে মাকে মোবাইল ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে এক হাজার টাকা পাঠিয়েছিলেন মরিয়ম মান্নান। এর ২০ থেকে ২৫ দিন আগে ঢাকায় গিয়ে মরিয়ম মান্নানের বাড়িতে কয়েক দিন থেকেও এসেছিলেন রহিমা বেগম।

এর আগে গত ২৭ আগস্ট রাত সাড়ে ১০টার দিকে পানি আনতে বাড়ি থেকে নিচে নামেন রাহিমা বেগম (৫২)। এরপর আর বাসায় ফেরেননি। খোঁজ নিতে গিয়ে সন্তানরা মায়ের ব্যবহৃত জুতা, গায়ের ওড়না ও কলস রাস্তার ওপর পড়ে থাকতে দেখেন। রাতে সম্ভাব্য সব স্থানে খোঁজ নিয়েও তার সন্ধান মেলেনি। এরপর সাধারণ ডায়েরি ও পরে কয়েকজনের নাম উল্লেখ করে দৌলতপুর থানায় মামলা করেন তার সন্তানরা। এ মামলা তদন্তকালে পুলিশ ও র‌্যাব ১২ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ছয়জনকে আটক করে।

নিখোঁজের ২৮ দিন পর ২৫ সেপ্টেম্বর রাতে ফরিদুরের বোয়ালমারীর সৈয়দপুর গ্রামের একটি বাড়ি থেকে রহিমাকে উদ্ধার করে পুলিশ।

খুলনায় ৫৪বছর পর হত্যা মামলায় দুইজনের যাবজ্জীবন

//আ: রাজ্জাক শেখ, খুলনা//
খুলনায় ১৯৭১ সালে আমিন উদ্দিন শেখ হত্যা মামলায় ২ জনের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একইসঙ্গে প্রত্যেককে ২০ হাজার টাকা জ‌রিমানা, অনাদায়ে আরও ৩ মাসের সশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।

আজ মঙ্গলবার (৭ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে খুলনা জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিচারক মীর শ‌ফিকুল আলম এ রায় ঘোষণা করেন।

আদালতের রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) এনামুল হক বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

আসা‌মিরা হলেন- আমজাদ মিনা ও সাবাজ হালদার। রায় ঘোষণার সময় আসা‌মিরা আদালতে উপ‌স্থিত ছি‌লেন।

আদালত সূত্রে জানা যায়, ১৯৭১ সালের ১৯ অক্টোবর রাতে আসামী শাবাজ হালদার, আমজাদ মিনা ও জলিল হাওলাদারসহ অজ্ঞাতনামা আরও ৫/৬ জন হাতে রাইফেল, বন্দুক ও রামদাসহ ধারালো অস্ত্রের মুখে আমিন উদ্দিন শেখকে তার বাড়ি থেকে ধরে নিয়ে যায়। তাকে তার বাড়ির অদূরে একটি পুকুর পাড়ে নিয়ে যায়। আসামীরা আমিন উদ্দিনের বুকে গুলি এবং ধারালো অস্ত্র দিয়ে মাথা কেটে হত্যা করে। হত্যার পর মাথা পুকুরের পানিতে ফেলে দেয় এবং সেখান থেকে আসামীরা চলে যায়। পরে বাদীর ভাই, সাক্ষী ও ভাবী তার পিতার লাশ জড়িয়ে কান্নাকাটি করেন এবং তার পিতার খন্ডিত মাথা খোঁজাখুজি করেন। পরদিন সকালে পুকুরের পানি থেকে খন্ডিত মাথা দেখে খুলনায় বসবাসরত বাদীর বড় ভাই বর্তমানে মৃত শেখ নিজাম উদ্দিনকে সংবাদ দিলে বাদীর বড় ভাই খুলনা থানা পুলিশের সহায়তায় বাদীর পিতার লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্ত করেন। নিহত আমিন উদ্দিনের লাশ ১৯৭১ সালের ২০ অক্টোবর বিকেল ৩ টার দিকে তাদের চাঁদপুর গ্রামের পারিবারিক কবর স্থানে দাফন করে। পরে তারা বাড়ি ছেড়ে চলে আসেন।

১৯৭১ সালের ১৭ ডিসেম্বর পরিবারের সকল সদস্যদের নিয়ে পুনরায় দেশ শত্রুমুক্ত হওয়ার পরদিন তাদের চাঁদপুর গ্রামের বসত বাড়ীতে ফিরে আসেন। বাদী ও তার পরিবারের সকল সদস্যদের জীবন নাশের হুমকির কারণে এবং পরিবেশ না থাকায় বাদী পরবর্তীতে কোন মামলা করতে পারেননি। সরকার নতুন করে আইনানুগভাবে সুযোগ প্রদান করায় নিহত আমিন উদ্দিনের ছেলে এ্যাডভোকেট শেখ মোহাম্মদ আলী নিজে বাদী হয়ে তর পিতার নৃশংস হত্যাকাণ্ডের বিচারের দাবি জানিয়ে আদালতে নালিশী দরখাস্ত দায়ের করেন। এ ঘটনায় রূপসা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আদালতের নির্দেশে এফ.আই.আর ফরম পূরণ করে মামলা রুজু করেন।

আদালতের রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী পিপি শেখ এনামুল হক বলেন, ১৯৭১ সালের ১৯ অক্টোবর আমিন উদ্দিন হত্যাকান্ডের পর তার পরিবারের সদস্যদের জীবনের হুমকি থাকার কারণে তখন মামলা করতে পারেননি। পরবর্তীতে ২০১০ সালে নিহতের ছেলে এ্যাডভোকেট শেখ মোহাম্মদ আলী বাদী হয়ে মামলা দায়ের করেন। এ মামলার তিন আসামীর মধ্যে জলিল হাওলাদার মৃত্যুবরণ করেছে। আজ সাক্ষ্যপ্রমাণ শেষে আসামী শাবাজ হালদার ও আমজাদ মিনাকে যাবজ্জীবন কারাদন্ড দিয়েছেন আদালত।