২১ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত বিধিনিষেধের শর্তাবলী জেনে নিন

//ডেস্ক নিউজ//

করোনার সংক্রমণ রোধে চলমান বিধিনিষেধ আগামী ২১ ফেব্রুয়ারি (সোমবার) মধ্যরাত ১২টা পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে। বৃহস্পতিবার বিধিনিষেধ বাড়িয়ে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে।

প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, করোনাভাইরাসজনিত রোগের (কোভিড-১৯) নতুন ভ্যারিয়েন্ট ওমিক্রনের প্রাদুর্ভাব ও বাংলাদেশে এ রোগের বর্তমান পরিস্থিতি বিবেচনায় আগের জারি করা সব বিধিনিষেধ ও নির্দেশনার সঙ্গে দুটি শর্ত সংশোধন করে সার্বিক কার্যাবলি/চলাচলে বিধিনিষেধ আরোপ করা হলো। এই বিধিনিষেধ আগামী ৭ ফেব্রুয়ারি থেকে ২১ ফেব্রুয়ারি দিবাগত রাত ১২টা পর্যন্ত বলবৎ থাকবে।

শর্ত দুটি হলো:

১. উন্মুক্ত স্থানে ও ভবন অভ্যন্তরে সামাজিক/রাজনৈতিক/ধর্মীয়/রাষ্ট্রীয় অনুষ্ঠানে ১০০ জনের বেশি সমাবেশ করা যাবে না। এসব ক্ষেত্রে যারা যোগদান করবেন তাদের অব্যশই কোভিড টিকা সনদ বা ২৪ ঘণ্টার মধ্যে পিসিআর সার্টিফিকেট আনতে হবে।

২. সব স্কুল-কলেজ ও সমপর্যায়ের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শ্রেণিকক্ষে পাঠদান বন্ধ থাকবে।

নতুন ধরন ওমিক্রনসহ করোনাভাইরাসের সংক্রমণ বাড়তে থাকায় গত ১০ জানুয়ারি সারাদেশে বিধিনিষেধ জারি করে সরকার। যা ১৩ জানুয়ারি থেকে কার্যকর হয়।

করোনাভাইরাসে দেশে মোট মৃত্যুর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২৮ হাজার ৪৬১ জনে। একই সময়ে নতুন করে করোনা শনাক্ত হয়েছে ১২ হাজার ১৯৩ জনের। এ পর্যন্ত মোট শনাক্ত রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১৮ লাখ ২৪ হাজার ১৮০ জনে। শনাক্তের হার ২৭ দশমিক ৪৩ শতাংশ।

পড়ুল দৈনিক বিশ্ব

English Dainikbiswa

বান্দরবানে সন্ত্রাসী হামলা: সেনাবাহিনীর এক ওয়ারেন্ট অফিসার নিহত

ইউরোপে আরো ২০০০ সেনা পাঠাচ্ছে আমেরিকা

পাউরুটি কেটে বঙ্গবন্ধুর জন্মদিন পালন করা দুই শিক্ষকের শাস্তি

চাঁপাইনবাবগঞ্জের গোমস্তাপুর উপজেলার বৌরতলা দাখিল মাদ্রাসায় কেকের পরিবর্তে পাউরুটি কেটে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মদিন পালন করায় দুই শিক্ষককে শর্ত সাপেক্ষে ১ বছরের প্রবেশন দিয়েছেন আদালত। শর্ত ভঙ্গ করলে ১ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড ও ১ লাখ টাকা করে জরিমানার আদেশও দেয়া হয়েছে।

মঙ্গলবার দুপুরে রাজশাহী সাইবার ট্রাইব্যুনাল আদালতে এ রায় দেন বিচারক জিয়াউর রহমান।

আদালত ও গোমস্তাপুর থানায় দায়ের করা মামলার এজাহার সূত্রে জানা গেছে, ২০২১ সালের ১৭ মার্চ বঙ্গবন্ধুর জন্মদিন উপলক্ষে বৌরতলা দাখিল মাদ্রাসায় শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের নিয়ে কেকের পরিবর্তে সস্তা পাউরুটি কেটে দিবসটি উদযাপন করেন মাদ্রাসাটির সুপার আব্দুস সালাম ও শিক্ষক গোলাম কিবরিয়া। এ সময় তারা তাচ্ছিল্য করে বলেন, ‘লাও থুবড়া খাও।’ ঘটনাটি তখন ফেসবুকে লাইভ করেন অন্য আরেক শিক্ষক।

এ ঘটনায় এলাকায় উত্তেজনা দেখা দিলে ওই দুইজনের নামসহ মোট ১১ জনের নাম উল্লেখ করে গোমস্তাপুর থানায় ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে মামলা দায়ের করেন স্থানীয় এক আওয়ামী লীগ নেতা।

একই বছরের সেপ্টেম্বর মাসে পুলিশ তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিলে রাজশাহী সাইবার ট্রাইব্যুনাল আদালতে বিচারকাজ শুরু হয়। আজ মঙ্গলবার দুপুরে আদালত শর্ত সাপেক্ষে প্রবেশনের আদেশ দিলেন।

আলালত সূত্র জানায়, প্রবেশনের সময়ে ওই দুই শিক্ষককে মুক্তি সংগ্রামের ইতিহাস পড়তে হবে। সেইসাথে বঙ্গবন্ধুর লেখা অসমাপ্ত আত্মজীবনী, কারাগারের রোজনামচা ও আমার দেখা নয়াচীন বই পড়তে হবে। সেইসাথে আরও পড়তে হবে জাহানারা ইমামের লেখা একাত্তরের দিনগুলো এবং মুক্তিযোদ্ধাদের লেখা নিয়ে সংকলন একাত্তরের চিঠি। এছাড়াও প্রতিজনকে ২০টি করে গাছ লাগিয়ে তাতে যত্ন করতে আদেশ দেয়া হয়েছে।

এসব শর্তের ব্যত্যয় ঘটলে প্রবেশন বাতিল করে ১ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড এবং ১ লাখ টাকা জরিমানা, অনাদায়ে ১ মাসের কারাভোগ করতে হবে বলে রায়ের কপিতে উল্লেখ করা হয়।

মূলত কারাদণ্ডের পরিবর্তে অন্যভাবে শাস্তির আওতায় আনতে নিম্ন আদালতগুলো প্রবেশন দিয়ে থাকেন। এতে শর্ত মাফিক সামাজিক কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকায় দণ্ডপ্রাপ্ত আসামি মানসিকভাবে পরিবর্তন হয়ে থাকে। পাশাপাশি চাপ কমে কারাগারের ওপর।

উল্লেখ্য, সেই অনুষ্ঠানের ভিডিও ব্যঙ্গাত্মভাবে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয়দের মাঝে সমালোচনার ঝড় ওঠে। এ ঘটনায় বোয়ালিয়া ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ইউনুস আলী বাদী হয়ে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে গোমস্তাপুর থানায় ওই মাদ্রাসার সুপার আব্দুস সালাম ও এ কাজে সহযোগিতার অভিযোগে অপর সহকারী শিক্ষক গোলাম কিবরিয়াসহ ১১ জনের নামে মামলা দায়ের করেন।

//অনলাইন নিউজ//

en,Dainikbiswa

পড়ুল দৈনিক বিশ্ব

সকলের ঐক্যবদ্ধ প্রচেষ্টা ছাড়া দেশের উন্নয়ন সম্ভব নয়: বিভাগীয় কমিশনার মো: ইসমাইল হোসেন

ওসি প্রদীপ ও লিয়াকতের ফাঁসির আদেশ…

//দৈনিক বিশ্ব ডেস্ক নিউজ//

সেনাবাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত মেজর সিনহা মো. রাশেদ খান হত্যার মামলার রায় ।

ওসি প্রদীপ ও লিয়াকতের ফাঁসির আদেশ হয়েছে । ৭জনের বেকসুর খালাস দিয়েছেন বিজ্ঞ আদালত।

নন্দদুলাল সহ ৬ জনের যাবজ্জীবন কারাদন্ড।

সোমবার (৩১ জানুয়ারি) বিকেলে ৩০০ পৃষ্ঠার রায় পাঠকালে তাদের দুজনের সর্বোচ্চ সাজা মৃত্যুদণ্ড ঘোষণা করেন কক্সবাজার জেলা ও দায়রা জজ মোহাম্মদ ইসমাঈল।

কক্সবাজারের জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিচারক মোহাম্মদ ইসমাঈল সোমবার দুপুর ২টা ২৫ মিনিটে রায় পড়া শুরু করেন।

এর আগে ২টার দিকে এই মামলার ১৫ আসামিকে কঠোর নিরাপত্তায় আদালত চত্বরে আনা হয়।

এদিকে সেনাবাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত মেজর সিনহা মো. রাশেদ খান হত্যার চাঞ্চল্যকর মামলার অন্যতম আসামি বরখাস্ত ওসি প্রদীপের ফাঁসিসহ সব আসামির দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করে আদালত প্রাঙ্গণে অব্স্থান নেন নির্যাতিত শত শত পরিবারের সদস্যরা।

তারা ‘খুনি প্রদীপের ফাঁসি চাই, ফাঁসি চাই’, ‘মেজর সিনহার খুনি প্রদীপের ফাঁসি চাই’, ‘২০০ মানুষ হত্যাকারীর প্রদীপের ফাঁসি চাই ‘ইত্যাদি বলে স্লোগান দিতে থাকেন।

কক্সবাজারের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. রফিকুল ইসলাম বলেন, সিনহা হত্যা মামলার রায়কে ঘিরে যেন কোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা না ঘটে, সেদিকে পুলিশের সর্বোচ্চ সতর্ক দৃষ্টি রয়েছে। আদালতে নিরাপত্তার স্বার্থে পোশাকধারী পুলিশের পাশাপাশি সাদা পোশাকেও বিপুলসংখ্যক পুলিশ সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে।

মামলার বাদী নিহত সিনহার বড় বোন শারমিন শাহরিয়ার ফেরদৌসের কামনা- প্রধান দুই আসামি প্রদীপ ও লিয়াকতের সর্বোচ্চ ও দৃষ্টান্তমূলক সাজা হবে। বাকি আসামিদের সাজা হোক যার যার অপরাধের ভিত্তিতে। এর মাধ্যমে একই সঙ্গে বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডও বন্ধ হবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।

কক্সবাজার জেলা ও দায়রা জজ আদালতের পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) অ্যাডভোকেট ফরিদুল আলম বলেন, কক্সবাজার জেলা ও দায়রা জজ আদালত সৃষ্টির ৩৮ বছরের ইতিহাসে এই প্রথম এত দ্রুত কোনো হত্যা মামলার রায় ঘোষণা হচ্ছে। এ মামলায় ৮৩ সাক্ষীর মাঝে ৬৫ জনের সাক্ষ্য নেওয়া হয়েছে। এর আগে হত্যা কিংবা ফৌজদারি কোনো মামলায় এত বিপুলসংখ্যক সাক্ষী নেওয়ার নজির নেই। তেমন নজির নেই এত স্বল্পসময়ে চার্জগঠন, শুনানি, সাক্ষ্যগ্রহণ, জেরা ও যুক্তিতর্ক উপস্থাপনেরও। মাত্র ৩৩ কার্যদিবসে আমরা এ মামলার সব বিচারিক কার্যক্রম শেষ করতে সক্ষম হয়েছি।

তিনি বলেন, আমরা সিনহা হত্যার বিষয়টি প্রমাণে সক্ষম হয়েছি। আমাদের আশা সর্বোচ্চ শাস্তি পাবেন বরখাস্ত ওসি প্রদীপ ও অভিযুক্তরা। স্বল্পসময়ে সিনহা হত্যার রায় দেশে একটি মাইলফলক হয়ে থাকবে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

সূত্রমতে, প্রদীপ কুমার দাশ টেকনাফ থানার ওসি থাকাকালে মাদক নির্মূলের নামে ২২ মাসে ১৪৪টি বন্দুকযুদ্ধের ঘটনার জন্ম দেন। তাতে মারা গেছেন ২০৪ জন। এসব ঘটনাকে দেওয়া হয়েছে মাদক ও অস্ত্র উদ্ধারের তকমা। অথচ সাধারণ মানুষ বলছেন, ক্রসফায়ারে নিহতদের বেশিরভাগই ছিলেন নিরীহ।

এমনই একটি সাজানো বন্দুকযুদ্ধের ঘটনায় ২০২০ সালের ৩১ জুলাই রাতে কক্সবাজার-টেকনাফ মেরিন ড্রাইভ সড়কের টেকনাফ উপজেলার বাহারছড়া ইউনিয়নের শামলাপুর চেকপোস্টে পুলিশের গুলিতে নিহত হন সেনাবাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত মেজর সিনহা মোহাম্মদ রাশেদ খান।

এ ঘটনায় পুলিশ বাদী হয়ে টেকনাফ থানায় দুটি এবং রামু থানায় একটি মামলা করে। সরকারি কাজে বাধা প্রদান এবং মাদক আইনে এসব মামলা করা হয়। টেকনাফ থানায় করা দুই মামলায় নিহত সিনহার সঙ্গী সাইদুল ইসলাম সিফাতকে আসামি করা হয়। আর রামু থানায় মাদক আইনে করা মামলাটিতে আসামি করা হয় নিহত সিনহার অপর সফরসঙ্গী শিপ্রা দেবনাথকে।

২০২০ সালের ৫ আগস্ট নিহত সিনহার বড় বোন শারমিন শাহরিয়ার ফেরদৌস বাদী হয়ে ৯ পুলিশ সদস্যের বিরুদ্ধে কক্সবাজার আদালতে মামলা করেন। এতে প্রধান আসামি করা হয় টেকনাফের বাহারছড়া পুলিশ তদন্তকেন্দ্রের সাবেক ইনচার্জ পরিদর্শক লিয়াকত আলীকে।

মামলার অন্য আসামিরা হলো— টেকনাফ থানার তৎকালীন ওসি প্রদীপ কুমার দাশ, বাহারছড়া পুলিশ তদন্তকেন্দ্রের তৎকালীন উপপরিদর্শক (এসআই) নন্দ দুলাল রক্ষিত, কনস্টেবল সাফানুর করিম, কনস্টেবল কামাল হোসেন, কনস্টেবল আব্দুল্লাহ আল মামুন, সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) লিটন মিয়া, উপপরির্দশক (এসআই) টুটুল ও কনস্টেবল মোহাম্মদ মোস্তফা।

মামলাটি টেকনাফ থানায় নথিভুক্ত করার পর আদালত তদন্তভার দেন র্যা বকে। একই সঙ্গে পুলিশের করা মামলা তিনটিও র্যা বকে তদন্ত করার আদেশ দেন আদালত।

২০২০ সালের ৬ আগস্ট সকালে মামলাটি টেকনাফ থানায় নথিভুক্ত করে তদন্তের জন্য র্যা বকে হস্তান্তর করা হয়। ওই দিন বিকালে মামলায় অভিযুক্ত ৯ জনের মধ্যে সাত পুলিশ সদস্য আদালতে আত্মসমর্পণ করেন। ওই দিন পুলিশের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছিল এসআই টুটুল ও কনস্টেবল মোহাম্মদ মোস্তফা নামের কোনো পুলিশ সদস্য জেলা পুলিশে কর্মরত ছিল না। ওই দিনই আত্মসমর্পণকারী আসামিদের জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আদালতে বিভিন্ন মেয়াদে রিমান্ডের আবেদন করেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা।

র্যা ব মামলার তদন্তকালীন ২০২০ সালের ১১ আগস্ট পুলিশের মামলার তিন সাক্ষী টেকনাফের মারিশবুনিয়া এলাকার মো. নুরুল আমিন, মোহাম্মদ আয়াজ ও নিজাম উদ্দিনকে গ্রেফতার করে আদালতে সোপর্দ করে। ওই দিনই তাদের ১০ দিনের রিমান্ড আবেদন করেন তদন্তকারী কর্মকর্তা।

মামলা তদন্তের একপর্যায়ে ২০২০ সালের ১৮ আগস্ট এপিবিএনের তিন সদস্য সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) শাহজাহান মিয়া, কনস্টেবল মো. রাজীব ও কনস্টেবল মো. আব্দুল্লাহকে গ্রেফতার করে আদালতে সোপর্দ করে র্যা ব। ওই দিনই তাদের জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আদালতে রিমান্ড আবেদন করা হয়।

২০২০ সালের ১৪ সেপ্টেম্বর কনস্টেবল রুবেল শর্মাকে গ্রেফতার  করে আদালতে সোপর্দ করে র্যা ব। তাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আদালতে ওই দিনই রিমান্ড আবেদন করেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা।

কারাগারে থাকা এই ১৪ আসামিকে বিভিন্ন মেয়াদে রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করেন তদন্ত কর্মকর্তা। এদের মধ্যে প্রদীপ কুমার দাশ ও কনস্টেবল রুবেল শর্মা ছাড়া অন্য ১২ আসামি আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন।

২০২০ সালের ১৩ ডিসেম্বর র্যা ব-১৩ কক্সবাজার ব্যাটালিয়নের জ্যেষ্ঠ সহকারী পুলিশ সুপার (এএসপি) খাইরুল ইসলাম ১৫ জনকে অভিযুক্ত করে আদালতে অভিযোগপত্র (চার্জশিট) দাখিল করেন। অভিযুক্তদের মধ্যে ১৪ জন কারাগারে থাকলেও টেকনাফ থানার কনস্টেবল সাগর দেব পলাতক ছিল। অভিযোগপত্রে সাক্ষী করা হয় ৮৩ জনকে। একই দিন পুলিশের করা মামলা তিনটির চূড়ান্ত প্রতিবেদন দাখিল করা হয়।

২০২০ সালের ৩১ ডিসেম্বর আদালত অভিযোগপত্রটি গ্রহণ করে পলাতক আসামি কনস্টেবল সাগর দেবের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেন। সেই সঙ্গে পুলিশের করা তিনটি মামলার চূড়ান্ত প্রতিবেদন গ্রহণ করে মামলা থেকে সাইদুল ইসলাম সিফাত ও শিপ্রা দেবনাথকে অব্যাহতি প্রদান করেন আদালত।

এর পর জ্যেষ্ঠ বিচারিক হাকিম তামান্না ফারাহের আদালত থেকে মামলাটির কার্যক্রম জেলা ও দায়রা জজ মোহাম্মদ ইসমাইল হোসেনের আদালতে স্থানান্তর করা হয়। ২০২১ সালের ২৪ জুন পলাতক আসামি কনস্টেবল সাগর দেব আদালতে আত্মসমর্পণ করেন। আদালত ওই দিনই তাকে কারাগারে প্রেরণ করার আদেশ দেন।

২০২১ সালের ২৭ জুন আদালত ১৫ আসামির বিরুদ্ধে বিচারকাজ শুরুর আদেশ দেন। সেই সঙ্গে সাক্ষ্যগ্রহণের জন্য ২৬-২৮ জুলাই পর্যন্ত দিন ধার্য করেন। কিন্তু করোনা মহামারির কারণে আদালতের বিচার কার্যক্রম স্থগিত থাকায় ধার্য দিনগুলোতে সাক্ষ্যগ্রহণ সম্ভব হয়নি।

পরে ২০২১ সালের ২৩ আগস্ট থেকে ১ ডিসেম্বর পর্যন্ত ৮ দফায় ৮৩ জনের মধ্যে ৬৫ জন সাক্ষ্য প্রদান করেন। এর মধ্যে প্রথম দফায় ২৩-২৫ আগস্ট পর্যন্ত তিন দিনে দুজনের সাক্ষ্যগ্রহণ ও জেরা সম্পন্ন হয়। দ্বিতীয় দফায় ৫ থেকে ৮ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত চার দিনে সাক্ষ্যগ্রহণ ও জেরা সম্পন্ন হয় চারজনের। তৃতীয় দফায় ২০ থেকে ২২ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত তিন দিনে সাক্ষ্যগ্রহণ ও জেরা সম্পন্ন হয় আটজনের।

চতুর্থ দফায় ২৮ ও ২৯ সেপ্টেম্বর দুদিনে সাক্ষ্যগ্রহণ ও জেরা করা হয় ছয়জনকে। পঞ্চম দফায় ১০-১২ অক্টোবর পর্যন্ত তিন দিনে ১৫ জনের সাক্ষ্যগ্রহণ ও জেরা সম্পন্ন হয়। ষষ্ঠ দফায় ২৫ থেকে ২৭ অক্টোবর পর্যন্ত তিনদিনে সাক্ষ্যগ্রহণ ও জেরা সম্পন্ন হয় ২৪ জনের। সপ্তম দফায় ১৫ থেকে ১৭ নভেম্বর পর্যন্ত তিন দিনে মামলার তদন্ত কর্মকর্তাসহ ছয়জন সাক্ষ্য দেন। এদের মধ্যে পাঁচজনের জেরা সম্পন্ন হলেও তদন্ত কর্মকর্তার জেরা অসম্পন্ন ছিল।

সর্বশেষ অষ্টম দফায় ২৯ নভেম্বর থেকে ১ ডিসেম্বর পর্যন্ত তিন দিনে মামলার তদন্ত কর্মকর্তার জেরা সম্পন্ন হয়।

এর পর ৬ ও ৭ ডিসেম্বর আসামিরা ফৌজদারি কার্যবিধির ৩৪২ ধারায় আদালতে জবানবন্দি দেন। সবশেষ ৯-১২ জানুয়ারি পর্যন্ত মামলায় উভয়পক্ষের আইনজীবীরা যুক্তিতর্ক উপস্থাপন করেন। যুক্তিতর্ক উপস্থাপনের শেষ দিনে আজ আদালত মামলার রায় ঘোষণার দিন ধার্য করেন।

এ ছাড়া মেজর সিনহা নিহত হওয়ার পর স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় পাঁচ সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করে। সেই কমিটি তদন্ত শেষে একটি প্রতিবেদন মন্ত্রণালয়ে জমা দেয়। তবে ওই তদন্ত প্রতিবেদনে কী উল্লেখ ছিল তা জানা যায়নি।

একই ইস্যুতে কক্সবাজারের পুলিশ সুপারসহ একযোগে দেড় সহস্রাধিক পুলিশ সদস্যকে অন্যত্র বদলি করে তাদের জায়গায় নতুন পুলিশ সদস্যদের পদায়ন করা হয়েছিল।

পড়ুল দৈনিক বিশ্ব

সিনহা হত্যা মামলার রায় পড়া চলছে: প্রদীপ লিয়াকত সহ ১৫ জন এজলাসে

 

সিনহা হত্যা মামলার রায় পড়া চলছে: প্রদীপ লিয়াকত সহ ১৫ জন এজলাসে

//নিউজ ডেস্ক//

সেনাবাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত মেজর সিনহা মো. রাশেদ খান হত্যার মামলার রায় পড়া শুরু হয়েছে।

কক্সবাজারের জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিচারক মোহাম্মদ ইসমাঈল সোমবার দুপুর ২টা ২৫ মিনিটে রায় পড়া শুরু করেন।

এর আগে ২টার দিকে এই মামলার ১৫ আসামিকে কঠোর নিরাপত্তায় আদালত চত্বরে আনা হয়।

এদিকে সেনাবাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত মেজর সিনহা মো. রাশেদ খান হত্যার চাঞ্চল্যকর মামলার অন্যতম আসামি বরখাস্ত ওসি প্রদীপের ফাঁসিসহ সব আসামির দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করে আদালত প্রাঙ্গণে অব্স্থান নেন নির্যাতিত শত শত পরিবারের সদস্যরা।

তারা ‘খুনি প্রদীপের ফাঁসি চাই, ফাঁসি চাই’, ‘মেজর সিনহার খুনি প্রদীপের ফাঁসি চাই’, ‘২০০ মানুষ হত্যাকারীর প্রদীপের ফাঁসি চাই ‘ইত্যাদি বলে স্লোগান দিতে থাকেন।

কক্সবাজারের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. রফিকুল ইসলাম বলেন, সিনহা হত্যা মামলার রায়কে ঘিরে যেন কোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা না ঘটে, সেদিকে পুলিশের সর্বোচ্চ সতর্ক দৃষ্টি রয়েছে। আদালতে নিরাপত্তার স্বার্থে পোশাকধারী পুলিশের পাশাপাশি সাদা পোশাকেও বিপুলসংখ্যক পুলিশ সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে।

মামলার বাদী নিহত সিনহার বড় বোন শারমিন শাহরিয়ার ফেরদৌসের কামনা- প্রধান দুই আসামি প্রদীপ ও লিয়াকতের সর্বোচ্চ ও দৃষ্টান্তমূলক সাজা হবে। বাকি আসামিদের সাজা হোক যার যার অপরাধের ভিত্তিতে। এর মাধ্যমে একই সঙ্গে বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডও বন্ধ হবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।

কক্সবাজার জেলা ও দায়রা জজ আদালতের পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) অ্যাডভোকেট ফরিদুল আলম বলেন, কক্সবাজার জেলা ও দায়রা জজ আদালত সৃষ্টির ৩৮ বছরের ইতিহাসে এই প্রথম এত দ্রুত কোনো হত্যা মামলার রায় ঘোষণা হচ্ছে। এ মামলায় ৮৩ সাক্ষীর মাঝে ৬৫ জনের সাক্ষ্য নেওয়া হয়েছে। এর আগে হত্যা কিংবা ফৌজদারি কোনো মামলায় এত বিপুলসংখ্যক সাক্ষী নেওয়ার নজির নেই। তেমন নজির নেই এত স্বল্পসময়ে চার্জগঠন, শুনানি, সাক্ষ্যগ্রহণ, জেরা ও যুক্তিতর্ক উপস্থাপনেরও। মাত্র ৩৩ কার্যদিবসে আমরা এ মামলার সব বিচারিক কার্যক্রম শেষ করতে সক্ষম হয়েছি।

তিনি বলেন, আমরা সিনহা হত্যার বিষয়টি প্রমাণে সক্ষম হয়েছি। আমাদের আশা সর্বোচ্চ শাস্তি পাবেন বরখাস্ত ওসি প্রদীপ ও অভিযুক্তরা। স্বল্পসময়ে সিনহা হত্যার রায় দেশে একটি মাইলফলক হয়ে থাকবে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

সূত্রমতে, প্রদীপ কুমার দাশ টেকনাফ থানার ওসি থাকাকালে মাদক নির্মূলের নামে ২২ মাসে ১৪৪টি বন্দুকযুদ্ধের ঘটনার জন্ম দেন। তাতে মারা গেছেন ২০৪ জন। এসব ঘটনাকে দেওয়া হয়েছে মাদক ও অস্ত্র উদ্ধারের তকমা। অথচ সাধারণ মানুষ বলছেন, ক্রসফায়ারে নিহতদের বেশিরভাগই ছিলেন নিরীহ।

এমনই একটি সাজানো বন্দুকযুদ্ধের ঘটনায় ২০২০ সালের ৩১ জুলাই রাতে কক্সবাজার-টেকনাফ মেরিন ড্রাইভ সড়কের টেকনাফ উপজেলার বাহারছড়া ইউনিয়নের শামলাপুর চেকপোস্টে পুলিশের গুলিতে নিহত হন সেনাবাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত মেজর সিনহা মোহাম্মদ রাশেদ খান।

এ ঘটনায় পুলিশ বাদী হয়ে টেকনাফ থানায় দুটি এবং রামু থানায় একটি মামলা করে। সরকারি কাজে বাধা প্রদান এবং মাদক আইনে এসব মামলা করা হয়। টেকনাফ থানায় করা দুই মামলায় নিহত সিনহার সঙ্গী সাইদুল ইসলাম সিফাতকে আসামি করা হয়। আর রামু থানায় মাদক আইনে করা মামলাটিতে আসামি করা হয় নিহত সিনহার অপর সফরসঙ্গী শিপ্রা দেবনাথকে।

২০২০ সালের ৫ আগস্ট নিহত সিনহার বড় বোন শারমিন শাহরিয়ার ফেরদৌস বাদী হয়ে ৯ পুলিশ সদস্যের বিরুদ্ধে কক্সবাজার আদালতে মামলা করেন। এতে প্রধান আসামি করা হয় টেকনাফের বাহারছড়া পুলিশ তদন্তকেন্দ্রের সাবেক ইনচার্জ পরিদর্শক লিয়াকত আলীকে।

মামলার অন্য আসামিরা হলো— টেকনাফ থানার তৎকালীন ওসি প্রদীপ কুমার দাশ, বাহারছড়া পুলিশ তদন্তকেন্দ্রের তৎকালীন উপপরিদর্শক (এসআই) নন্দ দুলাল রক্ষিত, কনস্টেবল সাফানুর করিম, কনস্টেবল কামাল হোসেন, কনস্টেবল আব্দুল্লাহ আল মামুন, সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) লিটন মিয়া, উপপরির্দশক (এসআই) টুটুল ও কনস্টেবল মোহাম্মদ মোস্তফা।

মামলাটি টেকনাফ থানায় নথিভুক্ত করার পর আদালত তদন্তভার দেন র্যা বকে। একই সঙ্গে পুলিশের করা মামলা তিনটিও র্যা বকে তদন্ত করার আদেশ দেন আদালত।

২০২০ সালের ৬ আগস্ট সকালে মামলাটি টেকনাফ থানায় নথিভুক্ত করে তদন্তের জন্য র্যা বকে হস্তান্তর করা হয়। ওই দিন বিকালে মামলায় অভিযুক্ত ৯ জনের মধ্যে সাত পুলিশ সদস্য আদালতে আত্মসমর্পণ করেন। ওই দিন পুলিশের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছিল এসআই টুটুল ও কনস্টেবল মোহাম্মদ মোস্তফা নামের কোনো পুলিশ সদস্য জেলা পুলিশে কর্মরত ছিল না। ওই দিনই আত্মসমর্পণকারী আসামিদের জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আদালতে বিভিন্ন মেয়াদে রিমান্ডের আবেদন করেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা।

র্যা ব মামলার তদন্তকালীন ২০২০ সালের ১১ আগস্ট পুলিশের মামলার তিন সাক্ষী টেকনাফের মারিশবুনিয়া এলাকার মো. নুরুল আমিন, মোহাম্মদ আয়াজ ও নিজাম উদ্দিনকে গ্রেফতার করে আদালতে সোপর্দ করে। ওই দিনই তাদের ১০ দিনের রিমান্ড আবেদন করেন তদন্তকারী কর্মকর্তা।

মামলা তদন্তের একপর্যায়ে ২০২০ সালের ১৮ আগস্ট এপিবিএনের তিন সদস্য সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) শাহজাহান মিয়া, কনস্টেবল মো. রাজীব ও কনস্টেবল মো. আব্দুল্লাহকে গ্রেফতার করে আদালতে সোপর্দ করে র্যা ব। ওই দিনই তাদের জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আদালতে রিমান্ড আবেদন করা হয়।

২০২০ সালের ১৪ সেপ্টেম্বর কনস্টেবল রুবেল শর্মাকে গ্রেফতার  করে আদালতে সোপর্দ করে র্যা ব। তাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আদালতে ওই দিনই রিমান্ড আবেদন করেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা।

কারাগারে থাকা এই ১৪ আসামিকে বিভিন্ন মেয়াদে রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করেন তদন্ত কর্মকর্তা। এদের মধ্যে প্রদীপ কুমার দাশ ও কনস্টেবল রুবেল শর্মা ছাড়া অন্য ১২ আসামি আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন।

২০২০ সালের ১৩ ডিসেম্বর র্যা ব-১৩ কক্সবাজার ব্যাটালিয়নের জ্যেষ্ঠ সহকারী পুলিশ সুপার (এএসপি) খাইরুল ইসলাম ১৫ জনকে অভিযুক্ত করে আদালতে অভিযোগপত্র (চার্জশিট) দাখিল করেন। অভিযুক্তদের মধ্যে ১৪ জন কারাগারে থাকলেও টেকনাফ থানার কনস্টেবল সাগর দেব পলাতক ছিল। অভিযোগপত্রে সাক্ষী করা হয় ৮৩ জনকে। একই দিন পুলিশের করা মামলা তিনটির চূড়ান্ত প্রতিবেদন দাখিল করা হয়।

২০২০ সালের ৩১ ডিসেম্বর আদালত অভিযোগপত্রটি গ্রহণ করে পলাতক আসামি কনস্টেবল সাগর দেবের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেন। সেই সঙ্গে পুলিশের করা তিনটি মামলার চূড়ান্ত প্রতিবেদন গ্রহণ করে মামলা থেকে সাইদুল ইসলাম সিফাত ও শিপ্রা দেবনাথকে অব্যাহতি প্রদান করেন আদালত।

এর পর জ্যেষ্ঠ বিচারিক হাকিম তামান্না ফারাহের আদালত থেকে মামলাটির কার্যক্রম জেলা ও দায়রা জজ মোহাম্মদ ইসমাইল হোসেনের আদালতে স্থানান্তর করা হয়। ২০২১ সালের ২৪ জুন পলাতক আসামি কনস্টেবল সাগর দেব আদালতে আত্মসমর্পণ করেন। আদালত ওই দিনই তাকে কারাগারে প্রেরণ করার আদেশ দেন।

২০২১ সালের ২৭ জুন আদালত ১৫ আসামির বিরুদ্ধে বিচারকাজ শুরুর আদেশ দেন। সেই সঙ্গে সাক্ষ্যগ্রহণের জন্য ২৬-২৮ জুলাই পর্যন্ত দিন ধার্য করেন। কিন্তু করোনা মহামারির কারণে আদালতের বিচার কার্যক্রম স্থগিত থাকায় ধার্য দিনগুলোতে সাক্ষ্যগ্রহণ সম্ভব হয়নি।

পরে ২০২১ সালের ২৩ আগস্ট থেকে ১ ডিসেম্বর পর্যন্ত ৮ দফায় ৮৩ জনের মধ্যে ৬৫ জন সাক্ষ্য প্রদান করেন। এর মধ্যে প্রথম দফায় ২৩-২৫ আগস্ট পর্যন্ত তিন দিনে দুজনের সাক্ষ্যগ্রহণ ও জেরা সম্পন্ন হয়। দ্বিতীয় দফায় ৫ থেকে ৮ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত চার দিনে সাক্ষ্যগ্রহণ ও জেরা সম্পন্ন হয় চারজনের। তৃতীয় দফায় ২০ থেকে ২২ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত তিন দিনে সাক্ষ্যগ্রহণ ও জেরা সম্পন্ন হয় আটজনের।

চতুর্থ দফায় ২৮ ও ২৯ সেপ্টেম্বর দুদিনে সাক্ষ্যগ্রহণ ও জেরা করা হয় ছয়জনকে। পঞ্চম দফায় ১০-১২ অক্টোবর পর্যন্ত তিন দিনে ১৫ জনের সাক্ষ্যগ্রহণ ও জেরা সম্পন্ন হয়। ষষ্ঠ দফায় ২৫ থেকে ২৭ অক্টোবর পর্যন্ত তিনদিনে সাক্ষ্যগ্রহণ ও জেরা সম্পন্ন হয় ২৪ জনের। সপ্তম দফায় ১৫ থেকে ১৭ নভেম্বর পর্যন্ত তিন দিনে মামলার তদন্ত কর্মকর্তাসহ ছয়জন সাক্ষ্য দেন। এদের মধ্যে পাঁচজনের জেরা সম্পন্ন হলেও তদন্ত কর্মকর্তার জেরা অসম্পন্ন ছিল।

সর্বশেষ অষ্টম দফায় ২৯ নভেম্বর থেকে ১ ডিসেম্বর পর্যন্ত তিন দিনে মামলার তদন্ত কর্মকর্তার জেরা সম্পন্ন হয়।

এর পর ৬ ও ৭ ডিসেম্বর আসামিরা ফৌজদারি কার্যবিধির ৩৪২ ধারায় আদালতে জবানবন্দি দেন। সবশেষ ৯-১২ জানুয়ারি পর্যন্ত মামলায় উভয়পক্ষের আইনজীবীরা যুক্তিতর্ক উপস্থাপন করেন। যুক্তিতর্ক উপস্থাপনের শেষ দিনে আজ আদালত মামলার রায় ঘোষণার দিন ধার্য করেন।

এ ছাড়া মেজর সিনহা নিহত হওয়ার পর স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় পাঁচ সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করে। সেই কমিটি তদন্ত শেষে একটি প্রতিবেদন মন্ত্রণালয়ে জমা দেয়। তবে ওই তদন্ত প্রতিবেদনে কী উল্লেখ ছিল তা জানা যায়নি।

একই ইস্যুতে কক্সবাজারের পুলিশ সুপারসহ একযোগে দেড় সহস্রাধিক পুলিশ সদস্যকে অন্যত্র বদলি করে তাদের জায়গায় নতুন পুলিশ সদস্যদের পদায়ন করা হয়েছিল।

পড়ুল দৈনিক বিশ্ব

চাঁদপুরে বাল্কহেডের সঙ্গে ট্রলারের সংঘর্ষ, ৫ জনের মরদেহ উদ্ধার

 

আজ সিনহা হত্যা মামলার রায়: সর্বোচ্চ ও দৃষ্টান্তমূলক সাজা চায় পরিবার

//দৈনিক বিশ্ব প্রতিবেদন//

সেনাবাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত মেজর সিনহা মো. রাশেদ খান হত্যা মামলার রায় ঘোষণা করা হবে আজ সোমবার। জেলা ও দায়রা জজ মোহাম্মদ ইসমাঈলের আদালতে এই মামলায় দীর্ঘ বিচার প্রক্রিয়া শেষে রায়ের জন্য প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে। এই হত্যা মামলার প্রধান দুই অভিযুক্ত বাহারছড়া পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের তৎকালীন পরিদর্শক লিয়াকত আলী ও টেকনাফ থানার বরখাস্ত ওসি প্রদীপ দাশের সর্বোচ্চ ও দৃষ্টান্তমূলক সাজা চায় পরিবার।

এছাড়া অন্য আসামিদের তাদের অপরাধের ভিত্তিতে সাজা হবে বলে প্রত্যাশা করেছেন সিনহার বড় বোন শারমিন শাহরিয়ার ফেরদৌস। তিনি গণমাধ্যমকে বলেন, এই রায়ের মাধ্যমে একই সঙ্গে বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড বন্ধ হবে বলে আমি আশা করি। অপরাধী যেই হোক না কেন, অপরাধ করলে কেউ আইনের হাত থেকেও সাজা পাওয়ার হাত থেকে রেহাই পাবে না। এই রায়ের মাধ্যমে সেটি ও প্রতিষ্ঠিত হবে বলেই আমাদের প্রত্যাশা।

সিনহা কক্সবাজার-টেকনাফ মেরিন ড্রাইভ সড়কে শামলাপুর এপিবিএন চেকপোস্টে ২০২০ সালের ৩১ জুলাই রাতে পুলিশের গুলিতে নিহত হন। সেনাবাহিনী থেকে অবসরে যাওয়া রাশেদ ‘লেটস গো’ নামে একটি ভ্রমণ বিষয়ক ডকুমেন্টারি বানানোর জন্য প্রায় একমাস ধরে কক্সবাজারের হিমছড়ি এলাকায় ছিলেন। ওই কাজে তার সঙ্গে ছিলেন স্ট্যামফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের ফিল্ম অ্যান্ড মিডিয়া বিভাগের শিক্ষার্থী সাহেদুল ইসলাম সিফাত ও শিপ্রা দেবনাথ।

পুলিশ সে সময় বলেছিল, সিনহা তার পরিচয় দিয়ে ‘তল্লাশিতে বাধা দেন’। পরে ‘পিস্তল বের করলে’ চেক পোস্টে দায়িত্বরত পুলিশ তাকে গুলি করে। বিষয়টি উল্লেখ করে এসআই নন্দদুলাল রক্ষিত বাদী হয়ে টেকনাফ থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলায় একমাত্র আসামি করা হয় সিনহার সঙ্গি সিফাতকে।

কিন্তু সিনহার বোন শারমিন শাহরিয়ার ফেরদৌস বাদী হয়ে টেকনাফ থানার সাবেক ওসি প্রদীপ কুমার দাশ ও বাহারছড়া পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের সাবেক ইনচার্জ পরিদর্শক লিয়াকত আলী সহ নয় পুলিশ সদস্যের বিরুদ্ধে হত্যাকাণ্ডের ৬ দিন পর ৫ আগস্ট কক্সবাজারের আদালতে মামলা করেন। আদালত মামলাটি আমলে নিয়ে র‌্যাবকে তদন্তের দায়িত্ব দেয়।

তদন্ত শেষে র‌্যাব-১৫ কক্সবাজারের সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার মো. খাইরুল ইসলাম ১৫ জনকে অভিযুক্ত করে ২০২০ সালের ১৩ ডিসেম্বর চার্জশিট প্রদান করেন। এরপর ২০২১ সালের ২৭ জুন আদালত ১৫ আসামির বিরুদ্ধে বিচারকাজ শুরুর আদেশ দেন। তারপর ২০২১ সালের ২৩ আগস্ট থেকে ১ ডিসেম্বর পর্যন্ত ৮ দফায় ৮৩ জন সাক্ষীর মধ্যে ৬৫ জন সাক্ষ্য প্রদান করেন। ৬ ও ৭ ডিসেম্বর আসামিরা ফৌজদারি কার্যবিধি ৩৪২ ধারায় আদালতে জবানবন্দি দেন।

সবশেষে গত ৯ থেকে ১২ জানুয়ারি মামলায় দু’পক্ষের আইনজীবীরা যুক্তি-তর্ক উপস্থাপন করলে বিচারিক কার্যক্রম শেষ হয়। আদালত ৩১ জানুয়ারি মামলার রায় ঘোষণার দিন ধার্য করেন। মামলার ১৫ আসামি মধ্যে ১২ জন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য। এদের মধ্যে পুলিশের ৯ জন ও এপিবিএনের ৩ জন। অপর ৩ জন পুলিশের দায়ের করা মামলার সাক্ষী ও স্থানীয় বাসিন্দা।

এই মামলার আসামিরা হলেন- বাহারছড়া পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের সাবেক ইনচার্জ পরিদর্শক লিয়াকত আলী, টেকনাফ থানার সাবেক ওসি প্রদীপ কুমার দাশ, এসআই নন্দ দুলাল রক্ষিত, কনস্টেবল সাফানুর করিম, কামাল হোসেন, আব্দুল্লাহ আল-মামুন, মোহাম্মদ মোস্তফা, এপিবিএন এর তিন সদস্য এসআই মোহাম্মদ শাহজাহান, কনস্টেবল মোহাম্মদ রাজীব ও মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ, পুলিশের দায়ের করা মামলার তিন সাক্ষী নুরুল আমিন, নেজাম উদ্দিন ও মোহাম্মদ আয়াজ, টেকনাফ থানার সাবেক কনস্টেবল রুবেল শর্মা এবং সাবেক এএসআই সাগর দেব।

পড়ুল দৈনিক বিশ্ব

পড়ুল দৈনিক বিশ্ব

পাবনার রূপপুর বিদ্যুৎকেন্দ্র দুই রুশ নাগরিকের মৃত্যু

চাঁদপুর সাংবাদিক ক্লাবের আয়োজনে সহযোদ্ধাদের সাথে ইলিশ আড্ডা

বাগেরহাটের মোংলায় আহরণ নিষিদ্ধ ১০ লাখ পোনা জব্দ: ৯ জেলেকে জরিমানা

এ এইচ নান্টু, বিশেষ প্রতিনিধি// বাগেরহাটের মোংলার পশুর নদী থেকে আহরণ নিষিদ্ধ ১০ লক্ষ পাইস্যার পোনা জব্দ করেছে কোস্টগার্ড। বৃহস্পতিবার (২৭ জানুয়ারি) সকালে অভিযান চালিয়ে এই পোনা জব্দ করা হয়। এসময় একটি ট্রলারসহ নয় জেলেকে আটক করা হয়।

আটককৃতরা হলেন, মোঃ হোসেন (২৫), রবিউল ইসলাম (৩৪), মাসুদ হোসেন (৩২), আবু জাফর (২৭), হাবিব হোসেন (৪২), আল আমিন (২৭), কোহিনুর (৩৫), শাহিনুর রহমান (২৫) ও রেজাউল ইসলাম (৩২)। এদের সবার বাড়ি খুলনা জেলার কয়রা উপজেলায়।

পরে এদেরকে মোংলা উপজেলা মৎস্য অধিদপ্তরের সহযোগিতায় ইউএনও ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট কমলেশ মজুমদারের আদালতে নয় জেলেকে তিন হাজার টাকা করে অর্থদন্ড দেয়।

এসময় উপস্থিত ছিলেন মৎস্য কর্মকর্তা মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম, অফিস সহায়ক মোঃ সাইফুল ইসলাম ও কোস্টগার্ডের অভিযানকারী দলের প্রতিনিধিরা।

ইউএনও কমলেশ মজুমদার বলেন, সারা বছরই নদীতে পাইস্যার পোনা শিকার নিষিদ্ধ। এই সময় যেসব অসাধু জেলেরা পোনা শিকার করবে তাদের বিরুদ্ধে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অভিযান অব্যাহত থাকবে।

খুলনার রূপসায় ইট ভাটায় ভ্রাম্যমান আদালতের অভিযানে জরিমানা প্রদান

 

আ: রাজ্জাক শেখ, খুলনা।।

রূপসা উপজেলার ২ টি ইট ভাটায় ভ্রাম্যমান আদালত অভিযান চালিয়ে ১ লাখ ৫০হাজার টাকা জরিমানা আদায় করেছে ভ্রাম্যমান আদালত।

আদালত সূত্রে জানাগেছে ২৫ জানুযারী দুপুরে শ্রীফলতলা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আলহাজ এসহাক আলী সরদারের আজাদ ব্রিকস এ অভিযান চালিয়ে আঠারোবেকী নদীর মাটি কেটে ইট তৈরীর অপরাধে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।
এছাড়া ঘাটভোগ ইউনিয়নের সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান ইউনুচ আলী শিকদারের ইট ভাটা ইবিএমএ ১লাখ টাকা জরিমানা করেন ভ্রামম‍্যান আদালত।

খুলনা জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট নয়ন কুমার রাজবংশীর নেতৃত্বে ভ্রাম্যমান আদালত পরিচালিত হয়। এ সময় উক্ত ভাটায় ইট ভাটা প্রস্তুত, ভাটা স্থাপন ও নিয়ন্ত্রন আইন ২০১৩ এর ৪ ধারা লঙ্ঘনের অপরাধে এবং পাবলিক রাস্তার পাশে ইট তৈরীর মাটি রাখার অপরাধে উক্ত ভাটা মালিককে জরিমানা করেন।

এ সময় পরিবেশ অধিদপ্তর খুলনা এর সহকারী পরিচালক মো: হাসান আলী, ফায়ার সার্ভিস ও থানা পুলিশের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

ডুমুরিয়ায় ডিবি পুলিশের অভিযানে৫০ পিছ ইয়াবা  সহ ১ জন মাদক ব‍্যবসায়ী গ্রেফতার

জাহিদুর রহমান বিপ্লব, ডুমুরিয়া  সংবাদদাতা ।

খুলনা জেলা গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) অভিযানে ডুমুরিয়ার চুকনগর এলাকা হতে ৫০পিছ ইয়াবা ট্যাবলেটসহ ১জন মাদক কারবারিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। ধৃত আসামীকে ২২ জানুয়ারী শনিবার জেল হাজতে প্রেরণ করা হয়েছে। ডিবি পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ডিবি পুলিশের এসআই মোঃ হাসানুজ্জামান সংগীয় অফিসার ও ফোর্স নিয়ে উপজেলার  চুকনগর এলাকায় শুক্রবার দিবাগত রাত পৌনে ৮ টার দিকে মাদকদ্রব্য উদ্ধার ও অভিযান পরিচালনা করেন।
এ সময়  উপজেলার নরনিয়া গ্রামের সাইফুল ইসলাম (৩৭)কে ৫০ পিস ইয়াবা ট্যাবলেটসহ গ্রেপ্তার করা হয়।
বিষয়টি নিশ্চিত করে থানা অফিসার ইনচার্জ মোঃ ওবাইদুর রহমান জানান, ধৃত আসামীর বিরুদ্ধে থানায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে একটি মামলা রুজু করে তাকে আদালতের মাধ্যমে জেল হাজতে পাঠানো হয়েছে।

 

 পাওয়ার অব অ্যাটর্নি বন্ধ হচ্ছে জমির ক্ষেত্রে

ভূমিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরী বলেছেন, বৃহস্পতিবার থেকে ভূমি মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইটে ‘ভূমি অপরাধ প্রতিরোধ ও প্রতিকার আইন-২০২১’ এর খসড়া সব অংশীজনের মতামতের জন্য প্রকাশ করা হয়েছে। একইসঙ্গে তিনি আমমোক্তার নামার মাধ্যমে যেসব প্রতারণা, জালিয়াতি ও দুর্নীতি হচ্ছে- তা প্রতিরোধের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

বৃহস্পতিবার রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত ‘জেলা প্রশাসক সম্মেলন ২০২২’ এ ভূমি মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত কার্য অধিবেশনে প্রধান অতিথি হিসেবে জেলা প্রশাসকদের উদ্দেশে বক্তব্য প্রদানকালে তিনি এ কথা বলেন।

মন্ত্রী বলেন, ভূমি অধিগ্রহণ মামলায় (এলএ কেস) পাওয়ার অব অ্যাটর্নি ব্যবস্থা বাতিল করার ব্যাপারটি বিবেচনাধীন আছে। অধিগ্রহণ প্রক্রিয়া ও ক্ষতিপূরণ প্রদানের সময় পাওয়ার অব অ্যাটর্নির মাধ্যমে ব্যাপক দুর্নীতি হয়। বিশেষত গ্রামাঞ্চলের সাধারণ মানুষ এটার মাধ্যমে অসাধু ব্যক্তির দ্বারা প্রতিনিয়ত প্রতারণা ও হয়রানির শিকার হচ্ছেন। এজন্য বিশেষ ক্ষেত্র ব্যতীত, সাধারণভাবে এলএ কেসে পাওয়ার অব অ্যাটর্নি বন্ধ করার বিষয়টি বিবেচনাধীন আছে।

ডিসিদের ভূমিমন্ত্রী বলেন, এই বিবেচনাধীন ব্যবস্থায় বিশেষ ক্ষেত্র- যেমন বিদেশে বসবাসরত ব্যক্তিরা বাংলাদেশের দূতাবাসের মাধ্যমে পাওয়ার অব অ্যাটর্নি দিতে পারবেন। এছাড়া গুরুতর অসুস্থ ব্যক্তির ক্ষেত্রে এবং অন্যান্য প্রযোজ্য ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট জেলা প্রশাসকের কাছে আবেদন করে পাওয়ার অব অ্যাটর্নি দেওয়া যাবে। মন্ত্রী বলেন, সবার মতামতের ভিত্তিতেই এই বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

বৈঠক শেষে সাইফুজ্জামান চৌধুরী সাংবাদিকদের বলেন, অবৈধ ভূমি দখলকে ফৌজদারি অপরাধের আওতায় এনে ‘ভূমি অপরাধ প্রতিরোধ ও প্রতিকার আইন-২০২১’ এর খসড়া প্রস্তুত করা হয়েছে। ভূমি দস্যুতা রোধে এই আইন কার্যকর ভূমিকা রাখবে বলে তিনি মন্তব্য করেন। তিনি জানান, কৃষিজমি সুরক্ষা, খাদ্য নিরাপত্তা, জলবায়ু পরিবর্তনের ক্ষতিকর প্রভাব হ্রাসের উদ্দেশ্যে করা ‘ভূমি ব্যবহার আইন-২০২১’ এর খসড়া তৈরিও প্রায় শেষের দিকে।

বৈঠক সূত্র জানায়, ভূমিমন্ত্রী জেলা প্রশাসকদের খাস জমি উদ্ধার এবং খাদ্য নিরাপত্তায় তিন ফসলি জমির সুরক্ষা নিশ্চিত করার জন্য নির্দেশ দেন। এক স্থানে বিভিন্ন দপ্তরের জন্য ঊর্ধ্বমুখী সমন্বিত সরকারি অফিস করার ব্যাপারে প্রধানমন্ত্রীর অনুশাসনটি ভূমিমন্ত্রী পুনর্ব্যক্ত করেন।

ভূমি মন্ত্রণালয় এবং এর আওতাভুক্ত দপ্তরগুলো সেবাধর্মী প্রতিষ্ঠান উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, সেবার মান বৃদ্ধি করার জন্য গতানুগতিক চিন্তাধারার বাইরে এসে কাজ করতে হবে।

//অনলাইন নিউজ//

পড়ুন দৈনিক বিশ্ব …

কেন্দ্রিয় যুবলীগের প্রেসিডিয়াম সদস‍্য প্রকৌশলী মৃনাল জোদ্দার এর দ্রুত আরোগ‍্য কামনায় মিলাদ ও দোয়া মাহফিল

 

ডুমুরিয়ার চুকনগর ও খর্নিয়া ভ্রাম্যমান আদালতে ৬৮ হাজার ৫শ টাকা জরিমানা আদায়

//জাহিদুর রহমান বিপ্লব, ডুমুরিয়া সংবাদদাতা//

২০ জানুয়ারি  বৃহস্পতিবার দুপুরে ডুমুরিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেট মোঃ আব্দুল ওয়াদুদ এক ভ্রাম‍্যমান আদালত পরিচালনা করে উপজেলার  চুকনগর এলাকার ভিআইপি ফিলিং ষ্টেশনে তেল কম দেয়ার অপরাধে ৫০ হাজার, খর্ণিয়া ফাহিম ফিলিং ষ্টেশনে ৫ হাজার, চুকনগর আব্বাস হোটেলে পঁচা ও বাসি খাবার বিক্রির অপরাধে ১০ হাজার, দেব কুমার রাহার মুদি দোকানে তেল কম দেয়ায় ২ হাজার এবং স্বাস্থ্যবিধি না মানার অপরাধে ১হাজার ৫শ টাকা ধার্য‍্য করে  জরিমানা আদায় করা হয়।

এসময় তার সাথে ছিলেন উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেট মোঃ মামুনুর রশিদ ও ডুমুরিয়া থানা পুলিশ।