ইরান চীনের সাথে তেল-যুদ্ধবিমান বিনিময় করতে চায়, কেন…?

 

ইরান চীনের সাথে তেল-যুদ্ধবিমান বিনিময় করতে চায়।

নগদ অর্থ না থাকায় তেল ও প্রাকৃতিক গ্যাসের বিনিময়ে ইরান চীনের কাছ থেকে যুদ্ধবিমান অস্ত্র নিতে চাইছে বলে দাবি করেছেন সামরিক গবেষকরা।

তারা বলছেন, চীনের কাছ থেকে জে-১০সি লাইটওয়েট ফাইটার জেট নিতে আগ্রহ প্রকাশ করেছে ইরান। সাউথ চায়না মর্নিং পোস্ট এ খবর জানিয়েছে।

বেইজিংভিত্তিক সামরিক বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি ইনস্টিটিউট ইউয়ান ওয়াং থিংকট্যাংকের গবেষক ঝো চেনমিং বলেছেন, ‘সবচেয়ে বড় সমস্যা হলো, ইরানের কাছে চীনকে দেওয়ার মতো নগদ ডলার বা ইউরো নেই। অস্ত্রের বিনিময়ে তারা তেল ও প্রাকৃতিক গ্যাস দিতে আগ্রহী। ঝো চেনমিং আরও বলেন, ‘চীনের কাছে যথেষ্ট জ্বালানি সঞ্চিত রয়েছে। আর ব্যবসা হলো ব্যবসাই। অস্ত্রচুক্তির মূল বিষয়টিই হলো অর্থ উপার্জন। তাই, চীন এ ধরনের অলাভজনক দর কষাকষিতে আগ্রহী নয়।’

ইরানের ওপর আরোপ করা জাতিসংঘের ১৩ বছরের অস্ত্র নিষেধাজ্ঞা গত বছরের অক্টোবরে শেষ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে ওই ফাইটার জেটের প্রতি আগ্রহ প্রকাশ করেছে তেহরান। কয়েক মাস ধরেই চীনের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমগুলোতে এমন আলোচনা হচ্ছে।

এর আগে অনলাইন মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম সিনা নিউজের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছিল, কাতারের কাছ থেকে পাওয়া তিন বিলিয়ন অর্থ সহায়তার অর্ধেক ব্যবহার করে চীনের ৩৬টি ফাইটার জেট কিনতে পারে ইরান।

গত বছরের জানুয়ারিতে তেহরানে ইরানের প্রেসিডেন্ট হাসান রুহানির সঙ্গে সাক্ষাৎকালে এই অর্থ সহায়তার কথা বলেছিলেন কাতারের আমির শেখ হামাদ বিন খলিফা আল-থানি।

ইরানের ওপর মার্কিন নিষেধাজ্ঞার জন্য অর্থনৈতিক ইস্যু মোকাবিলায় বেইজিং ও তেহরানের মধ্যে গত মার্চে স্বাক্ষরিত ২৫ বছরের কৌশলগত সহযোগিতা চুক্তির অংশ হিসাবে নিরাপত্তা বিষয়ে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক দেখা গেছে।

আকাশপথে যুদ্ধের জন্য চীনের একক-ইঞ্জিন দ্বারা চালিত হালকা, বিভিন্ন দক্ষতার জে-১০ জেটের উন্নত সংস্করণ হলো জে-১০ সি।

সাংহাইভিত্তিক সামরিক বিশেষজ্ঞ নি লেক্সিয়ং বলেছেন, ‘২০১৮ সাল থেকে শুরু হওয়া যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চীনের বাণিজ্য যুদ্ধ করোনা মহামারির মধ্যেও চলমান রয়েছে। এর মধ্যে চীনকে তার নিজস্ব অর্থনৈতিক বিবেচনাকে অগ্রাধিকার দেওয়া উচিত।’

//দৈনিক বিশ্ব ডেস্ক//

দুবাইয়ে কাশ্মীর সমস্যা সমাধানে পাক-ভারত গোপন বৈঠক

 

বহুবিতর্কিত হিমালয় অঞ্চল কাশ্মীর  নিয়ে সামরিক উত্তেজনা কমিয়ে আনতে ভারত-পাকিস্তানের গোপন বৈঠক হয়েছে।

গত জানুয়ারিতে দুবাইয়ে তাদের এই বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।

বার্তা সংস্থা রয়টার্স ও আলজাজিরা এমন খবর দিয়েছে।

দুই দেশের সরকার কাশ্মীরের পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে কূটনৈতিক চ্যানেল ব্যবহার করতে চাইছে।

সামনের কয়েক মাসে এ বিষয়ে ভালো সিদ্ধান্ত আসতে পারে।

দুই ব্যক্তিকে উদ্ধৃত করে রয়টার্স বলছে, সংযুক্ত আরব আমিরাত সরকারের সহযোগিতায় এই বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে কোনো মন্তব্য করা হয়নি। পাকিস্তানের সেনাবাহিনীও রয়টার্সের অনুরোধে কোন সাড়া দেয়নি।

পাকিস্তানের নামকরা প্রতিরক্ষা বিশ্লেষক আয়েশা সিদ্দিকির বিশ্বা- কয়েক মাস ধরেই ভারত-পাকিস্তানের কর্মকর্তারা অন্য দেশে বৈঠক করছেন।

তিনি বলেছেন, আমার মনে হয় থাইল্যান্ডে বৈঠক হয়েছে, দুবাইতে হয়েছে, হয়েছে লন্ডনেও।

 

// আন্তর্জাতিক ডেস্ক //

মিশরে বাস-ট্রাক সংঘর্ষে বাসে আগুণ: মৃত্যু ২০

 

মিশরের আসিউত প্রদেশে থেমে থাকা ট্রাকে যাত্রীবাহী বাসের ধাক্কায় ২০ জনের মৃত্যু হয়েছে। আহত হয়েছেন আরও তিন জন। দেশটির স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের বরাতে এ খবর জানিয়েছে রয়টার্স।

রাজধানী কায়রো থেকে ৩৭০ কিলোমিটার দক্ষিণে আসিউত প্রদেশে মঙ্গলবার ১৩ এপ্রিল এ দুর্ঘটনাটি ঘটে বলে জানিয়েছে প্রাদেশিক গভর্নরের কার্যালয়।

রয়টার্স জানিয়েছে, যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে সিমেন্টবোঝাই ট্রাকটি মহাসড়কে থেমে ছিল পরে কায়রো থেকে আসা একটি যাত্রীবাহী বাস ট্রাকটিকে সজোরে ধাক্কা দেয়। দুর্ঘটনার পরপরই বাসটিতে আগুন ধরে যায়। পোড়া বাস থেকে মৃতদেহ ও আহতদের বের করতে সক্ষম হয়েছে উদ্ধারকারীরা।

বেপরোয়াভাবে গাড়ি চালানো এবং রাস্তার বেহাল দশার কারণে মিশর থেকে প্রায়ই সড়ক দুর্ঘটনা ও প্রাণহানির খবর পাওয়া যায়। সাম্প্রতিক সময়ে কয়েকটি সড়ক ও রেল দুর্ঘটনায় মিশরে কয়েক ডজন মানুষের মৃত্যু হয়েছে। মার্চে কায়রোর ৮০ কিলোমিটার দক্ষিণের গিজা প্রদেশে ট্রাক ও মিনিবাসের সংঘর্ষ ১৮ জনের প্রাণ কেড়ে নিয়েছে; রাজধানীর ৪৪০ কিলোমিটার দক্ষিণে তাহতার কাছে দুটি ট্রেনের সংঘর্ষে মারা গেছে অন্তত ৩২ জন। আহতও হয়েছিল দেড়শ’র বেশি।

//আন্তর্জাতিক  ডেস্ক//

মিয়ানমারে সামরিক অভ্যুত্থানেপর সহিংসতায় এপর্যন্ত মৃত্যু ৭০০

 

মিয়ানমারে সামরিক অভ্যুত্থানের পরিপ্রেক্ষিতে চলমান বিক্ষোভে সামরিক ও নিরাপত্তা বাহিনীর সহিংসতায় অন্তত সাত শ’ একজন নিহত হয়েছে বলে জানা গেছে। মিয়ানমারের অবস্থা পর্যবেক্ষণকারী এক সংস্থার বরাত দিয়ে রোববার এই তথ্য জানায় আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম।

থাইল্যান্ডভিত্তিক সংস্থা অ্যাসিসটেন্স অ্যাসোসিয়েশন ফর পলিটিক্যাল প্রিজনারস (এএপিপি) তাদের শনিবারের প্রতিবেদনে জানায়, ১ ফেব্রুয়ারি, ২০২১ইং সেনা অভ্যুত্থানের পর থেকে শনিবার পর্যন্ত দেশটিতে বিক্ষোভে সামরিক জান্তার দমন অভিযানে অন্তত সাত শ’ একজন নিহত হয়েছেন।

প্রতিবেদনে আরো বলা হয়, বিক্ষোভ সংশ্লিষ্টতায় সামরিক জান্তার হাতে বন্দী রয়েছে তিন হাজার ১২ জন। এছাড়া গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি রয়েছে আরো ৬৫৬ জনের নামে।

এদিকে ৯ এপ্রিল শুক্রবার রাত থেকে শুরু হওয়া মিয়ানমারের মধ্যাঞ্চলীয় শহর বাগোতে নিরাপত্তা বাহিনীর দমন অভিযানে অন্তত ৮২ জন নিহত হয়েছে।

বাগোর বিভিন্ন সড়কে সামরিক শাসনের বিরুদ্ধে বিক্ষোভকারীদের তৈরি ব্যারিকেড সামরিক ও নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যরা ভাঙতে এলে সংঘর্ষে এই হতাহতের ঘটনা ঘটে।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, পুলিশ ও সৈন্যরা বৃষ্টির মতো বাগোর সড়কে গুলি ও গ্রেনেড নিক্ষেপ করে। নিহতদের লাশ তারা স্থানীয় প্যাগোডা ও স্কুল মাঠে জড়ো করে রাখে।

১ ফেব্রুয়ারি তাতমাদাও নামে পরিচিত মিয়ানমারের সামরিক বাহিনী দেশটিতে সেনা অভ্যুত্থান ঘটায় এবং প্রেসিডেন্ট উইন মিন্ট ও স্টেট কাউন্সিলর অং সান সু চিসহ রাজনৈতিক নেতাদের গ্রেফতার করে। সাথে সাথে দেশটিতে এক বছরের জন্য জরুরি অবস্থা জারি করা হয়। গত বছর ২০২০ সালের নভেম্বরে অনুষ্ঠিত নির্বাচনের ফলাফল নিয়ে বিতর্কের জেরে এই অভ্যুত্থান ঘটায় সামরিক বাহিনী।

সেনা অভ্যুত্থানের প্রতিবাদে ৬ ফেব্রুয়ারি থেকে মিয়ানমারের বিভিন্ন শহরেই বিক্ষোভ শুরু হয়। বিক্ষোভকারীরা অং সান সু চিসহ বন্দী রাজনৈতিক নেতাদের মুক্তির পাশাপাশি সামরিক শাসন প্রত্যাহারের দাবি জানিয়ে আসছেন।

সূত্র : আনাদোলু এজেন্সি

//আন্তর্জাতিক অনলাইন ডেস্ক//

সেনাবাহিনী মায়ানমারে বাস থামিয়ে যাত্রীদের পেটাচ্ছে

 

এতদিন মিয়ানমার সেনা শুধু বিক্ষাবকারীদের উপর অত্যাচার করছে এখন বাস থেকে নামিয়ে সাধারণ মানুষকে অত্যাচার শুরু করেছে সেনাবাহিনী। শুক্রবার ইয়াঙ্গুনের ওক্কালাপা শহরে এ ধরনের ঘটনা ঘটেছে।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন জান্তারা বাস থামিয়ে বলপূর্বক টেনেহিঁচড়ে যাত্রীদের নামিয়ে লাঠি দিয়ে অমানবিকভাবে আঘাত করেছে এবং প্রবলভাবে লাথির পর লাথি মেরেছে। খবর ইরাবতীর।

উত্তর ওক্কালাপা শহরের গুরুত্বপূর্ণ সড়ক থুধামায় চলতে থাকা ইয়াঙ্গন বাস সার্ভিসের গাড়িগুলোকে সিগন্যাল দিয়ে রাস্তার পাশে থামানো হয়। এরপর সেনা সদস্যরা বাসের ভেতরে ঢুকে যাত্রীদের ধরে ধরে জোরপূর্বক টেনে নিচে নামায়।

তাদেরকে ‘নিলডাউন’ করতে বলা হয়, শুরু হয় অত্যাচার। শুধু যাত্রী নয় বাসের চালকসহ অন্য কর্মীদেরও তারা এই অত্যাচার নির্যাতন থেকে রেহাই দিচ্ছে না।

এ ঘটনার পর থেকে খবর পেয়ে ওই বাসগুলো গন্তব্যে যেতে অন্য রাস্তা ব্যবহার করতে শুরু করে। চালকদের রুট পরিবর্তনের খবর পেয়ে সেনা সদস্যরা আবাসিক ওয়ার্ডগুলোতে চিৎকার করতে করতে গুলি চালাতে থাকে।

ওই এলাকার কয়েকজন বাসিন্দা বিপদে পরেছেন শুধু দেখতে এসেছিলেন এখানে কি ঘটতেছে ।

এদের ধরতেই সেনারা সংশ্লিষ্টদের বাড়ির ভেতরে ঢুকে হামলা চালায়, ভাঙচুর করে।

বাসে থাকা আরেকজন প্রত্যক্ষদর্শী তার ফেসবুক স্ট্যাটাসে লিখেছেন, ‘সেনারা প্রথমে বাসচালককে লাথি মেরে ফেলে দেয়। এরপর পুরুষ যাত্রীদের লাথি দিতে থাকে আর বলে-যুদ্ধ কর আমার সঙ্গে। মহিলা যাত্রীদের চুল ধরে টানাটানি করে এবং গালে থাপ্পড় মারতে থাকে।’

শনিবার পর্যন্ত জান্তা বাহিনীর হাতে কমপক্ষে ২০ বিক্ষোভকারী নিহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে দ্য ইরাবতী। ফেব্রুয়ারির ১ তারিখ থেকে শুরু হওয়া অভ্যুত্থানবিরোধী আন্দোলনে এ পর্যন্ত ৫৫৬ জনের মৃত্যুর খবর জানিয়েছে তারা।

সীমান্তে সীমান্তে নারী নেতৃত্বে বিক্ষোভ কাচিনেই জন্ম ওর। নাম সোই লিং। বয়স এখন ২৬। সৈনিকদের সঙ্গে ভারী অস্ত্র হাতে নিজের উপস্থিতিকে দেখছেন খুবই স্বাভাবিক বিষয় হিসাবে। মিয়ানমারের একেবারের উত্তরের সীমান্তবর্তী এলাকা কাচিন। দশকজুড়ে তিনি দেখে এসেছেন সরকারি সেনাদের সঙ্গে যুদ্ধ করে কীভাবে টিকে আছে ওই এলাকার বাসিন্দারা। এমনকি এসব যুদ্ধে চড়া মূল্যও চুকাতে হয়েছে তাদের।

তবু কখনো তার মনে হয়নি তারা অনিরাপদ। এটাও মনে হয়নি কখনো অত্যাচার নিপীড়নের বিরুদ্ধে তাকে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ হতে হবে। এখন তার মনে হয় জান্তাদের বিরুদ্ধে গড়তেই হবে, নিরাপদ ভবিষ্যৎ উপহার দিতে হবে পরবর্তী প্রজন্মকে।

চীন সীমান্তবর্তী এলাকা কাচিন। খ্রিষ্টান-অধ্যুষিত এ এলাকার স্বায়ত্তশাসন প্রতিষ্ঠার জন্য ১৯৬০ সাল থেকে যুদ্ধ করে যাচ্ছে কাচিন ইনডিপেনডেন্স আর্মি। কিন্তু সম্প্রতি মিয়ানমারের চলমান আন্দোলনে সম্পৃক্ত হয়ে তারা গণতন্ত্রকামীদের পক্ষে যুদ্ধ করে তাতমাদাওকে পরাস্থ করার ঘোষণা দিয়েছে। তারা বিশ্বাস করেন এই একাত্মতা তাদের ভবিষ্যৎ লক্ষ্যে পৌঁছাতে সহায়তা করবে।

জানা গেছে, সাম্প্রতিক সময়ে কাচিন ইনডিপেনডেন্ট আর্মিতে (কেআইএ) যোগ দেওয়াদের মধ্যে শতকরা প্রায় ৩০ ভাগই মহিলা। সোই লিং বলেন, ‘এখন প্রতিটি দিনই আমার জন্য কঠিন। সহকর্মীদের নিয়ে আমার উদ্বেগ কাটছে না। এখন জান্তারা দেশজুড়ে বেআইনিভাবে নিষ্পাপ মানুষগুলোকে হত্যা করছে। বাড়িতে বা রাস্তায় কোনো মানুষই নিরাপদ নয়। এ কারণেই আমি ভীষণ শঙ্কিত।’

ফ্রন্টিয়ারকে এভাবেই নিজের মানসিক অবস্থার কথা জানালেন ছদ্মনাম ব্যবহার করা সোই। জান্তাবিরোধী আন্দোলনে অংশ নিয়েছিলেন ২৮ ফেব্রুয়ারি। জানালেন সেদিনের অভিজ্ঞতার কথা।

মিতকিয়ানায় সেদিন বিক্ষোভ তুঙ্গে। সবার সামনের সারিতে সোই। পুলিশ আর সেনাদল তাদের ঘিরে রেখেছিল। শুরু হয়েছে ধরপাকড়। সমূহ বিপদ আঁচ করতে পেরেই তিনি কৌশলে পেছনে থাকা জনতার সঙ্গে মিশে যান। পরদিনই গ্রেফতার করা হয়েছিল ৭৪ জন বিক্ষোভকারীকে। কিন্তু গ্রেফতার এড়াতে পালিয়ে বাঁচেন সেদিন।

তার মতো বহু নারী এভাবে অভ্যুত্থানবিরোধী আন্দোলনে জড়িয়ে আছেন মিয়ানমারজুড়ে।

দ্য উইমেন’স লীগ অব বার্মার ধারণা, বিক্ষোভকারীদের প্রায় ৬০ শতাংশ মহিলাই নিজেদের এ অভ্যুত্থানে উৎসর্গ করে বিভিন্ন পন্থায় আন্দোলনে সম্পৃক্ত রয়েছেন। ফ্রন্টিয়ারকে সাক্ষাৎকার দেওয়া অধিকাংশ নারীই দাবি করেছেন, স্বৈরাচারী শাসনের অবসান চাওয়ার ক্ষেত্রে নারীরাই বেশি স্পষ্টবাদী। তাদের কণ্ঠ পুরুষের চেয়ে বেশি উচ্চকিত।

সোই লিং জানান, মাতকিয়ানার বিভিন্ন মাধ্যমে কাজ করা যুবক যুবতীরা কাচিন রাজ্যের নাগরিক আন্দোলনের সঙ্গে নিজেদের সম্পৃক্ত করছে প্রায় প্রতিদিনই। তারা গোপনসভা করছেন, গ্রুপ চ্যাটে অংশ নিচ্ছেন স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনের পরবর্তী পরিকল্পনা নিয়ে।

।।অনলাইন ডেস্ক।।

কুকুর কেন রিপোর্টারের মাইক্রোফোন ছিনিয়ে নিলো….!

 

আলি ওযকুক নামের এক রুশ সংবাদকর্মী শুক্রবার (২ এপ্রিল) টুইটারে এটি পোস্ট করেন ক্যাপশনে লিখেছেন ‘রাশিয়ায় একটি কুকুর রিপোর্টারের মাইক্রোফোন ছিনিয়ে নিলো এবং সরাসরি সম্প্রচার চলাকালীন তা নিয়ে দৌঁড় দিলো।’

রাশিয়ায় এক নারী টিভি উপস্থাপিকার আবহাওয়া বার্তা অনুষ্ঠান সরাসরি সম্প্রচারকালীন তার মাইক্রোফোন নিয়ে দৌড় দিয়েছে একটি কুকুর। উপস্থাপিকাও সঙ্গে সঙ্গেই কুকুরটির পেছনে দৌড় দেন। কিছুক্ষন পরেই কুকুরের কাছ থেকেই মাইক্রোফোন উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে।

পোস্টটি  এখন পর্যন্ত প্রায় সাড়ে ৫ মিলিয়ন ভিউ হয়েছে এবং মন্তব্য করেছেন ৬৩ হাজারের বেশি ব্যবহারকারী।

।। অনলাইন ডেস্ক ।।

আইসিসির ওপর ট্রাম্পের দেওয়া নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করলেন জো বাইডেন

 

ফিলিস্তিনিদের ওপর ইসরাইলের যুদ্ধাপরাধ তদন্তের অনুমোদন দেওয়ার অপরাধে ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন আইসিসির দুই কর্মকর্তার ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করেছিলেন গত ২ এপ্রিল । আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের (আইসিসি) দুই কর্মকর্তার ওপর আরোপ করা নিষেধাজ্ঞা তুলে নেন জো বাইডেন।

এতেকরে আইসিসির জন্য ইসরাইলি সেনাদের বর্বরতার তদন্ত করার পথ আরও সুগম হলো। নেদারল্যান্ডসের হেগ শহরে অবস্থিত আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের (আইসিসি) প্রধান আইনজীবী ফ্যাতৌ বেনসৌদা এবং আদালতের বিচার বিভাগের প্রধান ফাকিসো মচোচোকোর ওপর ট্রাম্প প্রশাসন নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছিল।

ফিলিস্তিনিদের ওপর নির্মম নির্যাতন, গুম, হত্যা ও জোর করে বাড়ি দখলের মতো ইসরাইলি সেনাদের অপরাধ তদন্তের অনুমতি চেয়েছিলেন ফ্যাতৌ বেনসৌদা। এই আবেদন গ্রহণ করে তদন্তের অনুমতি দিয়েছিলেন আদালতের বিচার বিভাগের প্রধান ফাকিসো মচোচোকো।

এ কারণেই আইসিসির এ দুই কর্মকর্তার ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে ইসরাইলের পৃষ্ঠপোষক হিসেবে পরিচিত ট্রাম্প প্রশাসন।

বলার বিষয় হলো আইসিসির ১২০টি সদস্য রাষ্ট্রের তালিকায় যুক্তরাষ্ট্রের নাম নেই। ২০১৯ সালের মার্চে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয় আইসিসির এ দুই কর্মকর্তার ওপর। এর ১৮ মাস পর যুক্তরাষ্ট্রে তাদের সম্পদ বাজেয়াপ্তের নির্দেশ দেয় ট্রাম্প প্রশাসন।

।। অনলাইন ডেস্ক ।।

মিয়ানমারে সশস্ত্র বাহিনীর গুলিতে ৪৩ শিশু নিহত

 

সেফ দ্য চিলড্রেন জানিয়েছে মিয়ানমারে সশস্ত্র বাহিনীর গুলিতে অন্তত ৪৩ শিশু নিহত হয়েছে  । বৃহস্পতিবার সংস্থাটি জানিয়েছে, মিয়ানমারে দুঃস্বপ্নের পরিস্থিতি বিরাজ করছে। নিহতদের মধ্যে সাত বছরের শিশুটিই সবচেয়ে কম বয়সী।

০১ ফেব্রুয়ারি মিয়ানমারের নির্বাচিত সরকারকে হটিয়ে ক্ষমতা দখল করে সেনাবাহিনী। দেশটিতে অভ্যুত্থানবিরোধী বিক্ষোভে এ পর্যন্ত পাঁচ শতাধিক মানুষ নিহত হয়েছে।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, সশস্ত্র বাহিনী হরহামেষাই সড়কে গুলি চালিয়ে মানুষদের হত্যা করেছে। এমনকি কিছু কিছু মানুষকে বাড়িতে গিয়ে হত্যা করা হয়েছে।

নিহত সাত বছরের খিন মায়ো চিতের পরিবার বিবিসিকে জানিয়েছে, বাড়িতে অভিযান চালানোর সময় খিন যখন তার বাবার কোলে ছুটে যাচ্ছিল তখনই নিরাপত্তা বাহিনী গুলি করে। এর কিছুক্ষণ পর মারা যায় শিশুটি। মান্ডালেতে বাড়ির ভেতরে অবস্থানের সময় গুলিতে নিহত হয় ১৪ বছরের আরেক শিশু। এছাড়া ইয়াঙ্গুনে সড়কে খেলার সময় নিরাপত্তা বাহিনীর গুলিতে নিহত হয় ১৩ বছরের আরেক শিশু।

সেভ দ্য চিলড্রেন সতর্ক করে দিয়ে বলেছে, বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে নিরাপত্তা বাহিনীর সংঘাত চলাকালে বিপুল সংখ্যক শিশু আহত হয়েছে।

অনলাইন ডেস্ক।।

অনিয়ন্ত্রিত করোনা ।। যেকোন সময় কাতারে পূর্ণাঙ্গ লকডাউন।।

 

গত দুই সপ্তাহ ধরে কোনওভাবেই নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব হচ্ছে না কাতারের করোনা । ফলে আবারও পূর্নাঙ্গ লকডাউনের আহ্বান জানিয়েছে দেশটি। যে কোন সময় কার্যকর হবে এই নির্দেশনা।

অভিবাসীদের স্বাস্থ্য সুরক্ষা নিশ্চিত করতে বিনামূল্যে ভ্যাকসিনও দিচ্ছে কাতার। এতে করে প্রতিদিন নতুন করে করোনা আক্রান্তের সংখ্যা বৃদ্ধির প্রেক্ষিতে সারাদেশে পূর্ণাঙ্গ লকডাউন দেয়ার আহ্বান জানিয়েছেন কাতারের স্বাস্থ্য বিষয়ক কর্মকর্তা আহমেদ আল মোহাম্মদ।

সোমবার (২৯ মার্চ) তিনি বলেছেন, প্রথম দফা সংক্রমণ বা প্রথম ঢেউয়ের পর কাতারে করোনা সংক্রমণ উচ্চ পর্যায়ে দেখা যাচ্ছে। নতুন সংক্রমিতের মধ্যে বহু শিশু আছে। যাদের বয়স ১৪ বছরের নিচে।

উল্লেখ্য, কাতারে বিপুল সংখ্যক বাংলাদেশি শ্রমিক অবস্থান করছেন। কাতারজুড়ে লকডাউন দেয়া হলে তাদের কি অবস্থা দাঁড়াবে তা নিশ্চিত নয়। তবে তাদের দুর্ভোগ বৃদ্ধি পেতে পারে এমনটা আশঙ্কা করা যায়।

সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে আহমেদ আল মোহাম্মদ বলেছেন, আইসিইউতে ফেব্রুয়ারিতে আক্রান্তের সংখ্যা ছিল ৫৩। কিন্তু এখন সেই সংখ্যা তিন শতাধিক। কয়েক মাসের মধ্যে এই সংখ্যা কিভাবে লাফিয়ে বেড়েছে সেদিকে দৃষ্টি দিন।

তিনি আরও বলেছেন, এমনকি গত বছর করোনা মহামারির পিক সময়েও আমরা আইসিইউতে এত রোগী পাইনি।

মঙ্গলবার (৩০ মার্চ) কাতারে নতুন করে ৭২০ জনের দেহে করোনা সংক্রমণ শনাক্ত করা হয়েছে। মারা গেছেন তিন জন। করোনা মহামারি শুরুর পর কাতারে কমপক্ষে ১৭ লাখ মানুষ করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন। মারা গেছেন ২৮৯ জন।

আহমেদ আল মোহাম্মদ বলেন, গত গ্রীষ্মে আমরা যখন পূর্ণাঙ্গ লকডাউন দিয়েছিলাম তখন রাস্তাঘাট ছিল একদম ফাঁকা। মানুষজন বাড়িতে বসে কাজ করছিলেন। এবারও ভাইরাসের বিস্তারকে রোধ করতে সেটাই হবে উত্তম উপায়।

তিনি আরও বলেন, যতদিন মানুষে মানুষে দেখা-সাক্ষাত হবে, কাজে যোগ দেবেন, কোনো অনুষ্ঠানে সমবেত হবেন, ততদিন এই ভাইরাসের বিস্তার অব্যাহত থাকবে। প্রথম করোনা ভাইরাসের ঢেউয়ের সময় আমরা এত মানুষ আক্রান্ত দেখতে পাইনি।

তিনি বলেন, ২০২০ সালের মে মাসে প্রথম সংক্রমণের পিক সময়ে আমাদের আইসিইউতে ছিলেন মাত্র ২২০ জন রোগী। কিন্তু এবার তা অনেক বেড়েছে। এ থেকে পরিষ্কার হয় যে, মানুষজন অসুস্থ হচ্ছে এবং দ্বিতীয় ঢেউয়ে আরো কঠিন লক্ষণের মুখোমুখি হচ্ছে।

কাতারের জনস্বাস্থ্য বিষয়ক মন্ত্রণালয় বলেছে, বৃটিশ ভ্যারিয়েন্টের বিস্তারের ফলে কাতারে করোনা রোগীর সংখ্যা দ্রুত বাড়ছে। গত সপ্তাহে শিক্ষা, অবসর, ব্যবসায়ী কর্মকা-ের মতো খাতে করোনা সংক্রান্ত ধারাবাহিক বিধিনিষেধ আরোপ করে কাতার। এমনকি বন্ধ করে দেয়া হয় জিম। রেস্তোরাঁয় সক্ষমতার ওপর বিধিনিষেধ দেয়া হয়।

।। আন্তর্জাতিক অনলাইন ডেস্ক ।।

উইঘুর ইস্যুতে চীন যুক্তরাজ্যে ওপর পাল্টা নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে…

আন্তর্জাতিক অনলাইন ডেস্ক।।

মানবাধিকার চরম লঙ্ঘনের প্রতিবাদ হিসেবে যুক্তরাজ্য উইঘুর প্রসঙ্গে সোমবার (২২ মার্চ) চীনের ওপর নিষেধাজ্ঞা দেয়। এর পাল্টা জবাব দিয়ে যুক্তরাজ্যের বিরুদ্ধে মিথ্যা ও ভুল তথ্য ছড়ানোর অভিযোগ এনে পাঁচ সংসদ সদস্যসহ নয় নাগরিকের ওপর নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে চীন।

ব্রিটেনের এই নয় নাগরিক বরাবরই চীনের মানবাধিকারের লঙ্ঘনের বিরুদ্ধে সোচ্চার। তারা এ বিষয়ে একাধিক কমিটিতে কাজ করতেন। নিষেধাজ্ঞায় থাকা ব্যক্তিদের মধ্যে রয়েছে যুক্তরাজ্যে সাবেক কনজারভেটিভ নেতা স্যার ইয়ান ডানকান স্মিথ। তিনি বলেন, ‘এই নিষেধাজ্ঞা ‘সম্মানসূচক ব্যাজের মতো’ পরিধান করবেন।’

এক টুইট বার্তায় এই নয় নাগরিকের পাশে থাকার আশ্বাস দিয়ে যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসন বলেন, ‘চীন যদি অভিযোগ অস্বীকার করতে চায়, তাদের উচিত শিনজিয়াংয়ে জাতিসংঘের প্রবেশে অনুমতি দেওয়া।’

 

শিনজিয়াংয়ের উত্তর-পশ্চিম অঞ্চলের শিবিরগুলোতে চীন উইঘুরদের আটকে রেখে নির্যাতন, জোরপূর্বক শ্রম ও যৌন নিগ্রহের অভিযোগ উঠেছে বারবার। তবে সব অভিযোগ অস্বীকার করে চীন একে পুনঃশিক্ষণ কেন্দ্র হিসেবে উল্লেখ করেছে।

নিষেধাজ্ঞা থাকা ব্যক্তিদের মধ্যে কয়েকজন গবেষক ছাড়াও আরও আছেন টরি এমপি নুসরাত গানি ও টম ট্যুগেনডাট। নিষেধাজ্ঞার ফলে তারা চীনে প্রবেশ করতে পারবেন না।

উল্লেখ্য, যুক্তরাজ্যই ছাড়াও শিনজিয়াংয়ে মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগে দেশটির কয়েকজন কর্মকর্তার বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে যুক্তরাষ্ট্র, ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) ও কানাডা।