ক্রয় করা জমি বেনামিদের অবৈধভাবে দখলে থাকার প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন

।।গজারিয়া, মুন্সীগঞ্জ প্রতিনিধি।।

বারবার বিচার চেয়েও পাচ্ছেন না বিচার, উল্টো নানান ভাবে হুমকি দামকি স্বীকার হচ্ছেন রীতিমত, জোরপূর্বক ভাবে একই দাগের সম্পত্তিতে অতিরিক্ত জমি জবর দখল করে রেখেছে স্থানীয় দখলদার গোষ্ঠী,স্থানীয় সাংবাদিকদের কাছে এক সংবাদ সম্মেলনে এমন অভিযোগ তোলে ভুক্তভোগী মুক্তিযোদ্ধা পরিবার।

মুন্সীগঞ্জের গজারিয়ায় নিজের ক্রয় করা সম্পত্তি জবর দখলের হাত থেকে পুনরুদ্ধারের দাবিতে সংবাদ সম্মেলন করেছে গজারিয়া উপজেলার মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের সন্তান ব্যবসায়ি মোঃ সোহেল মাসুদ খন্দকার ও তার পরিবারের স্বজনরা।

সে উপজেলার টেংগারচর ইউনিয়নের বড়ইকান্দি ভাটেরচর গ্রামের বীর মুক্তিযোদ্ধা মোঃ ঈস্রাফিল খন্দকারের মেঝো ছেলে।

ভাটেরচর দে. এ মান্নান পাইলট উচ্চ বিদ্যালয় সংলগ্ন তার ব্যক্তিগত কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে গজারিয়া উপজেলায় কর্মরত গণমাধ্যম কর্মীরা উপস্থিত ছিলেন। এ সময় লিখিত বক্তব্য পড়ে শোনান সোহেল মাসুদ।

তিনি বলেন, প্রতিবেশী জামাল মোল্লা তার ৮ শতাংশ সম্পত্তি জোর করে দখল করে রেখেছে। দখল করা সম্পত্তি পুনরুদ্ধারের চেষ্টা করা হলে তাকে নানাভাবে হয়রানি ও হুমকি দেওয়া হচ্ছে।

তিনি আরও বলেন, প্রতিবেশী ধন মিয়ার পৈত্তিক সূত্রে পাওয়া ৭.৫০ শতাংশ জমি থেকে থেকে ভাটেরচর মৌজায় আরএস ২৩৮৯ দাগে ৬০৬৮,২৫৫৯,৬৫২৩ এবং ৫৭৯০ নং সাব কবলা দলিল মূলে ২০১২ সাল পর্যন্ত মোট ৫.৫০ শতাংশ জায়গা ক্রয় করি। একই দাগে ধন মিয়ার অবশিষ্ট ২ শতাংশ জমি থাকলেও অবৈধভাবে দখলকারী জামাল মোল্লা ২০১৫ সালে ১৮৯৯ মূলে ৫ শতাংশ জায়গা ক্রয় করেন। তিনি ৩ শতাংশ জায়গা বেশী ক্রয় করেছেন যা তিনি পাবেন না।

বক্তব্যে তিনি আরও বলেন, অন্যদিকে দিকে একই দাগে আরেক প্রতিবেশী বক্সের আলীর সম্পত্তি থেকে ১৯৫৯ সালে সড়ক ও জনপদ ১০ শতাংশ ভূমি অধিগ্রহণ করায় তা বিক্রি করে দেন। তার আরেক ভাই আবেদ আলী ৫ শতাংশের মালিক থাকে। পরবর্তীতে ৫ শতাংশ জমি ২০১৪ সালে ৫০০০ নং সাফ কবলা দলিল মূলে তিনি ক্রয় করেন তবে রেকর্ড জনিত ভুলের কারণে ধন মিয়ার নামে ১ শতাংশ জমি বেশী রেকর্ড হয়।

বর্তমানে অবৈধ ভাবে জমি দখল কারী জামাল মোল্লা প্রকৃত অর্থে এই দাগের সম্পত্তিতে ২ শতাংশ জায়গার দাবিদার হলেও জোরপূর্বক ৮ শতাংশ জায়গা দখল করে রেখেছেন। ২০২১ সালে সে ১ শতাংশ জমির স্বত্ব দাবি করে দেওয়ানী আদালতে একটি মামলা দায়ের করেন যা মূলত ভিত্তিহীন। মামলা নং ৭৬/২১।

উল্লেখিত জমি নিয়ে এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গের উপস্থিতিতে একাধিকবার শালিশ বৈঠক করা হয়। শালিশ বৈঠকে জামাল মোল্লা ২ শতাংশ জমির মালিক বলে জানানো হয়। তাকে জবর দখল করে রাখা সম্পত্তি ফিরিয়ে দিতে বলা হলেও তিনি সেটা না করে জোরপূর্বক প্রায় ৮ শতাংশ জমি অবৈধভাবে নিজের দখলে রেখেছেন। মামলাবাজ জামাল মোল্লার কাছ থেকে নিস্তারের জন্য আমি স্থানীয় প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করছি।

এ সময় তিনি প্রমাণ হিসাবে তার কাছে থাকা বিভিন্ন দলিল দস্তাবেজ গণমাধ্যম কর্মীদের দেখান। সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন বীর মুক্তিযোদ্ধা মোঃ ঈস্রাফিল খন্দকারের তিন সন্তান ব্যাবসায়ী সোহেল খন্দকার, বড় ভাই ভাটেরচর দে.এ মান্নান উচ্চ বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির সাবেক সদস্য মিন্টু খন্দকার ও তার ছোট ভাই সবুজ খন্দকার সহ তার পরিবারের নিকট আত্মীয় স্বজনরা।

বাগেরহাট কচুয়ায় খাল খননে ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগ

কচুয়া, বাগেরহাট প্রতিনিধি॥

কচুয়ায় মৎস্য অধিদপ্তরের আওতায় কান্দের খাল ও সাংদিয়া-বিলকুল খাল পূণঃখননে ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগ পাওয়া গেছে।

ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের স্থানীয় পরিচালনাকারী প্রভাবশালী হওয়ায় নিয়ম নীতির তোয়াক্কা না করে নিজের ইচ্ছামত ভরা পানিতে নাম মাত্র খাল খনন করেছে বলে এলাকাবাসী জানিয়েছে।

জানাগেছে, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রনালয়ের মৎস্য বিভাগের টেকসই উপকূলীয় এবং সামুদ্রিক মৎস্য প্রকল্পের আওতায় স্কেলিং-আপ ক্লাস্টার ফামিংয়ের জন্য ডিজাইন এবং তত্বাবধন সহ খালগুলির পূনর্বাসনে জন্য বাগেরহাটরে কচুয়া উপজেলার বাধাল ইউনিয়নের কান্দের খাল ৪.৪৫ কি.মি ও সাংদিয়া-বিলকুল খাল ২.৬৪ কি.মি, সর্বমোট ৭.০৯ কি.মি খাল পূণঃখনন কাজ ৬ এপ্রিল ২০২২ তারিখ শুরু করে। কান্দের খালটি উপরে ১৩.৮৫ মিটার এবং নিচ ৬.৩৫ মিটার গভীরতা ৩.০০ মিটার, সাংদিয়া-বিলকুল খালের উপরে ১৩.১৬ মিটার এবং নিচ ৭.১৬ মিটার গভীরতা ৩.৪০ মিটার খনন করার কথা থাকলে ও পূর্বে যে অবস্থা ছিল তার সামান্য পরিবর্তন করে প্রায় সেই অবস্থায় রেখে পাশের মাটি সরিয়ে সমান করা হয়েছে।

মৎস্য ও প্রাণি সম্পদ মন্ত্রনালয়ের মৎস্য বিভাগের টেসই উপকূলীয় এবং সামুদ্রিক মৎস্য প্রকল্পের আওতায় স্কেলিং-আপ ক্লাস্টার ফামিংয়ের জন্য ডিজাইন এবং তত্বাবধন সহ খালগুলির পূনর্বাসনে জন্য পরামর্শ সংস্থা জেপিজেড-কেএআইওয়াই-জেসিএল জয়েন্ট ভেঞ্চারের মাধ্যমে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান এম/এস তাহসিন ট্রেডিং কাজটি পায়। ওই ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান থেকে স্থানীয় ঠিকাদার বাগেরহাট জেলা পরিষদের সাবেক সদস্য কামাল হোসেন কাজটি সম্পূর্ন করার জন্য নিয়ে নিজের ইচ্ছামত কাজ করাচ্ছে বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন।

এলাকাবাসীর পক্ষে নিজাম উদ্দিন জানান, সঠিক নিয়মে খাল খনন হচ্ছে না। স্থানীয় ঠিকাদারী কামাল হোসেন বলেন, খননের সময় সব জায়গায় এক লেভেল হয় না। কোথাও কম এবং কোথাও বেশি খনন করা হয়েছে। এম.এস তাহসিন ট্রেডিং এর সত্বাধিকারি এমডি সহিদুল ইসলাম বলেন, কামাল হোসেন এর সাথে কথা বলেন, খাল যেখানে যে অবস্থায় আছে সেই অসস্থায় কাটা হয়েছে।

এ ব্যাপরে সিনিয়র উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা প্রনব কুমার বিশ্বাস বলেন, প্রতি ঘনফুট মাটি বাবদ ১২০/-টাকা হিসাবে ধরা হয়ে থাকে, তবে এই প্রকল্পে কত টাকা ধরা হয়েছে তা জানা নেই।

Daily World News

নিখোঁজের সাড়ে চার ঘন্টা পর এনএসআই কর্মকর্তা ও তার স্ত্রী ‘র বোনের মেয়ের মরদেহ উদ্ধার 

 

নারী মানবাধিকার কর্মীকে চেয়ারম্যানের সামনে পেটালেন ইউপি সদস্য

//দৈনিক বিশ্ব ডেস্ক//

কুমিল্লার মুরাদনগরে পূর্ব বিরোধ ও ভোট না দেয়ার অজুহাতে ইউপি চেয়ারম্যানের উপস্থিতিতে সালিশে মরিয়ম বেগম নামে এক মানবাধিকার কর্মীকে মারধর ও শ্লীলতাহানির ঘটনা ঘটেছে। এই ঘটনার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে ভাইরাল হয়েছে।

উপজেলার নবীপুর (পশ্চিম) ইউপি চেয়ারম্যান ভিপি জাকির হোসেনের সামনে ইউপি সদস্য দেলোয়ার হোসেন ও তার দলবল এ ঘটনা ঘটিয়েছেন। বর্তমানে আহত ওই নারী দেবিদ্বার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

মুরাদনগর উপজেলার কোম্পানীগঞ্জ বাজারের উত্তর ত্রিশ এলাকার একটি প্রতিষ্ঠানে এই ঘটনা ঘটে। মারধরের সময়ে ধারণকৃত সিসিটিভি ফুটেজ ভাইরাল হওয়ায় বিষয়টি নিয়ে এলাকায় তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে।

জানা যায়, কুমিল্লার মুরাদনগরে পূর্ব বিরোধ এবং গত ইউপি নির্বাচনে ভোট না দেয়ার অভিযোগ এনে গত ২৮ জুন রাতে মুরাদনগর উপজেলার ত্রিশ গ্রামের নারী মানবাধিকার কর্মী এবং ইন্টারন্যাশনাল লিগ্যাল এইড ফাউন্ডেশনের কর্মী মরিয়ম বেগমকে লোক মারফত কোম্পানীগঞ্জ বাজারে ডেকে আনেন ইউপি চেয়ারম্যান ভিপি জাকির হোসেন। এ সময় এক ব্যবসায়ীর দোকানে সালিশে বসেন।

ভিডিওতে দেখা যায়, সালিশ চলাকালে নবীপুর ইউপি চেয়ারম্যান ও আওয়ামী লীগ নেতা ভিপি জাকির হোসেনের উপস্থিতিতে ইউপি সদস্য দেলোয়ার হোসেন তার দলবল ওই নারীকে শ্লীলতাহানিসহ মারধর করেন। এক পর্যায়ে আত্মরক্ষায় ওই নারী এদিক সেদিক ছোটাছুটি করলেও হামলাকারীরা তাকে নির্যাতন করেন।

নির্যাতনের শিকার মরিয়ম বলেন, ইউপি চেয়ারম্যান ভিপি জাকির হোসেন পরিকল্পিতভাবে আমাকে ডেকে নিয়ে সালিশে বসেন‌। এ সময় চেয়ারম্যানের সামনেই তার ভাতিজা ইউপি সদস্য দেলোয়ার হোসেন এবং তার দলবল আমাকে শ্লীলতাহানি এবং নির্যাতন করেন। আমি আত্মরক্ষার্থে সালিশ থেকে দৌড়ে পালানোর চেষ্টা করলে তারা আমাকে ধরে এনে ব্যাপক নির্যাতন করেন। এক পর্যায়ে আমি অজ্ঞান হয়ে মাটিতে লুটিয়ে পড়লে আশপাশের লোকজন উদ্ধার করে দেবিদ্বার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স এ ভর্তি করেন।

ভুক্তভোগী বলেন, এ ঘটনায় প্রভাবশালী ইউপি চেয়ারম্যান জাকির হোসেনের নির্দেশে থানায় মামলা নিচ্ছে না পুলিশ। আমি এখন চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি।

হামলাকারী ইউপি সদস্য দেলোয়ার হোসেনের দাবি, তাকে গালমন্দ করায় মারধর করা হয়েছে।

ইউপি চেয়ারম্যান ভিপি জাকির হোসেন বলেন, পূর্বের সামান্য একটি বিরোধ নিয়ে আমরা বৈঠকে বসেছিলাম। এ সময় আমরা তা মীমাংসা করে দিয়েছি। ভিডিওতে দেখা নারীকে মারধরের বিষয়টি তিনি এড়িয়ে যান।

এ বিষয়ে মুরাদনগর থানার ওসি আবুল হাশিম বলেন, ওই নারী শুরুতে একটি সাধারণ ডায়েরি করতে এসেছিলেন। কিন্তু এ বিষয়ে আমরা তাকে নিয়মিত মামলা দেয়ার পরামর্শ দিয়েছি। বিষয়টি তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে আমরা ব্যবস্থা গ্রহণ করবো। সূত্র: বিডিজা

Daily World News

ফুলগাজীতে ১৪৪ ধারা জারি

জগন্নাথপুর পৌরসভার বিরুদ্ধে নাগরিকদের সেবা প্রদানে হয়রানির অভিযোগ

//রনি মিয়া, স্টাফ রিপোর্টার//

সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুর পৌরসভার বিরুদ্ধে নাগরিকদের সেবা প্রদানে হয়রানির অভিযোগ পাওয়া গেছে । সেবা নিতে আসা নাগরিকরা জন্ম নিবন্ধন সহ বিভিন্ন কাগজপত্র সগ্রহ করতে এসে প্রতিদিন কোন না কোন ভাবে হয়রানির শিকার হচ্ছেন।

বিশেষকরে অদক্ষ কর্মচারী দিয়ে পৌর কার্যালয়ের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সেক্টরে কাজ করানো হচ্ছে, ফলে কাগজি জটিলতা দূর করতে এসে উল্টো জটিল সমস্যায় পড়তে হচ্ছে পৌরসভার সাধারণ নাগরিকদের।

তবে সার্ভারের নানা সমস্যার কথা বলে অভিযোগ উড়িয়ে দেন দায়িত্বরত কর্মচারীরা।

এদিকে কার্যালয়ে নতুন কর্মরত কিছু কর্মচারীর যোগ্যতা ও কিভাবে নিয়োগ পেল, এ নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন সচেতন মহল।

অভিযোগ রয়েছে, জন্ম নিবন্ধনে নিজের নাম, পিতার নাম, মাতার নাম কিংবা জন্ম তারিখে ভুল রয়েছে।

এসব ভুল সংশোধন করতে গিয়ে হয়রাণির পাশাপাশি নানা অজুহাতে গুনতে হচ্ছে অতিরিক্ত টাকা।

পৌর কার্যালয়ে সেবা নিতে আসা পৌর নাগরিক ও শিক্ষার্থীরা নেটওয়ার্কের অজুহাতে প্রতিদিন ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন।

অভিভাবকরা বলেন, স্কুল পড়ুয়া মেধাবী শিক্ষার্থীদের জন্মনিবন্ধন থাকা সত্বেও সময়মত ডিজিটাল জন্ম নিবন্ধনের কাগজপত্র স্কুলে জমা দিতে না পারায় সরকার প্রদত্ত উপবৃত্তির টাকা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে শিক্ষার্থীরা।

যার ফলে কোমলমতি শিক্ষার্থীদের মধ্যে হতাশা বিরাজ করছে।

ভুক্তভোগী অনেকেই অভিযোগ করেন, বিদেশের জন্য প্রয়োজনীয় কাগজপত্র, জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধন, ওয়ারিশান সার্টিফিকেট, নাগরিকত্ব সাটিফিকেট সহ অন্যান্য কাগজপত্র সগ্রহ ও সংশোধনে হয়রানির শিকার হচ্ছেন নাগরিকরা।

এছাড়া কম্পিউটারে দক্ষ লোক না থাকায় তাদের ভুলের মাশুল দিতে হচ্ছে জনসাধারণকে।

পৌর কার্যালয়ের সুপারভাইজার (টিকাদানকারী) বিপ্রেশ মৈত্রকে এ বিষয়ে জিজ্ঞেস করা হলে তিনি ভুলের দায় স্বীকার না করে বলেন, নেটওয়ার্ক সমস্যায় কম্পিউটার ভুল করছে।

পৌরসভার (ভারপ্রাপ্ত) সচিব সতীশ গোস্বামী বলেন জন্মনিবন্ধন করতে অনেক কিছু প্রয়োজন হয়, সরকার যা চায় তা দিতে হয়, প্রসেস করতে সময় লাগে, এছাড়া এগুলো উপজেলা নির্বাহী অফিস থেকে নিয়ন্ত্রন করা হয়। ফলে আমাদের কিছুই করার থাকেনা।

এ ব্যাপারে জগন্নাথপুর পৌরসভার মেয়র আক্তার হোসেন বলেন নেটওয়ার্ক সমস্যার কারণে এখটু সময় লাগতে পারে। যদি হাতের লেখা জন্ম নিবন্ধন থাকে, এটা আসতে পারে। অতিরিক্ত টাকা নেওয়ার কথা নয়। এ বিষয়ে আমার কাছে কেউ অভিযোগ করেনি।

Daily World News

রাণীশংকৈলে শয়নকক্ষে ৭ম শ্রেণির ছাত্রের ঝুলন্ত লাশ

প্রধানমন্ত্রীর স্বাক্ষর জালিয়াতি একটা ভয়ংকর অপরাধ : হাইকোর্ট

//অনলাইন নিউজ//

প্রধানমন্ত্রীর স্বাক্ষর জালিয়াতি জঘন্য অপরাধ; যারা এই কাজে জড়িত তাদের প্রতি নমনীয় হওয়ার কোনো সুযোগ নেই বলে মন্তব্য করেছে আদালত।

প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের নথি জালিয়াতি সংক্রান্ত মামলায় ফাতেমা খাতুনের জামিন বিষয়ে রুল খারিজ করে আজ রায় দিয়েছে হাইকোর্ট বিভাগ।

বিচারপতি মো. নজরুল ইসলাম তালুকদার ও বিচারপতি কাজী মো. ইজারুল হক আকন্দ সমন্বয়ে গঠিত একটি হাইকোর্ট ডিভিশন বেঞ্চ আজ এ রায় দেন। এ সময় আদালত বলে, প্রধানমন্ত্রীর স্বাক্ষর জালিয়াতি জঘন্য অপরাধ, যারা এই কাজে জড়িত তাদের প্রতি নমনীয় হওয়ার কোনো সুযোগ নেই। আদালত আরো বলে, প্রধানমন্ত্রীর স্বাক্ষর জালিয়াতির সঙ্গে জড়িতদের জামিন দেয়ার প্রশ্নই উঠে না। তাদের জেলে থাকতে হবে।

আদালতে ফাতেমার পক্ষে ছিলেন আইনজীবী মোমতাজ উদ্দিন মেহেদী। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি এটর্নি জেনারেল একেএম আমিন উদ্দিন মানিক।

মামলার বিবরণ থেকে জানা যায়, নর্থ-সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের কোষাধ্যক্ষ পদের জন্য ওই বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাস বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. এম এনামুল হক, বুয়েটের পুরঃকৌশল বিভাগের অধ্যাপক মো. আব্দুর রউফ ও বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি অব প্রফেশনালের সাবেক কোষাধ্যক্ষ অবসরপ্রাপ্ত এয়ার কমোডর এম আবদুস সালাম আজাদের নাম প্রস্তাব করে শিক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে নথি পাঠানো হয়। সেই নথি প্রধানমন্ত্রীর সামনে উপস্থাপন করা হলে তিনি অধ্যাপক ড. এম এনামুল হকের নামের পাশে টিক চিহ্ন দেন। পরে চূড়ান্ত অনুমোদনের জন্য রাষ্ট্রপতির কাছে পাঠানোর প্রস্তুতি পর্বে নথিটি প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের অফিস সহকারী ফাতেমার কাছে গেলে তিনি ফোনে ছাত্রলীগের নেতা তরিকুলকে জানান যে এম আবদুস সালাম আজাদ কোষাধ্যক্ষ হিসেবে অনুমোদন পাননি। এরপর তরিকুলের পরিকল্পনা অনুযায়ী কৌশলে নথিটি প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে বের করে ফরহাদ নামে একজনের হাতে তুলে দেন ফাতেমা। সেই নথিতে ড. এম এনামুল হকের নামে পাশে প্রধানমন্ত্রীর দেয়া টিক চিহ্নটি ‘টেম্পারিং’ করে সেখানে ক্রস চিহ্ন দেন তরিকুল। একইভাবে অধ্যাপক মো. আব্দুর রউফের নামের পাশে ক্রস চিহ্ন দিয়ে এয়ার কমোডর এম আবদুস সালাম আজাদের নামে পাশে টিক চিহ্ন দেন তিনি। পরে নথিটি রাষ্ট্রপতির কার্যালয়ে পাঠানো হয়।

ওই নথি হস্তান্তরের আগে ফাতেমা মোবাইল ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে ১০ হাজার টাকা গ্রহণ করেন এবং আরেক দফায় তার ছেলের মোবাইল ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে ১০ হাজার টাকা নেন বলে মামলায় বলা হয়।

প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের পরিচালক-৭ মোহাম্মদ রফিকুল আলম বাদী হয়ে ২০২০ সালের ৫ মে এ ঘটনায় মামলা করেন। এ মামলায় ফাতেমা হাইকোর্টে জামিন চেয়ে আবেদন করেন। আদালত শুনানি নিয়ে তার জামিন প্রশ্নে রুল জারি করে। ওই রুলের শুনানি শেষে আজ রুলটি খারিজ করে রায় দেয় হাইকোর্ট বিভাগ।

Daily World News

বরিশালের নলছিটিতে বস্তায় ভরা যুবকের লাশ উদ্ধার

কচুয়া স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের ভেক্সিনেটর ও ভলানটিয়ারের ভাতার টাকা আত্মসাৎ

// বাচ্চু দাস, কচুয়া, বাগেরহাট //

কচুয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে কর্মকর্তা ও অফিস সহকারীর বিরুদ্ধে করোনার টিকা ক্যাম্পেইনে ভেক্সিনেটর ও ভলানটিয়ারের ভাতার  টাকার আত্মসাথের অভিযোগ পাওয়া গেছে। স্বাস্থ্য সহকারী বেতন থেকে ভেক্সিনেটর ও ভলানটিয়ারের ভাতার  টাকার দিতে হয়েছে।

জানাগেছে, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আওতায় ২০২১-২২ অর্থ বছরে ১৬দিনের করোনা টিকা ক্যম্পেইন এ বরাদ্দকৃত ৬ লক্ষ ৯১ হাজার ৬ শত টাকার  বিল ভাউচার করে উত্তলোন করা হলেও ৭টি ইউনিয়নের দায়িত্বপ্রাপ্ত স্বাস্থ্য সহকারীকে ১৫ হাজার ৩ শত ৬০ টাকা করে  ২১টি ইপিআই কেন্দ্রে ৩ লক্ষ ২২ হাজার ৫শত ৬০ টাকাদেওয়া হয়েছে। উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ও অফিস সহকারী যোগসাজসে ওই বরাদ্দের টাকা থেকে ৩ লক্ষ ৬৯ হাজার ৪০টাকা কর্মীদের না দিয়ে আত্মসাথ করার চেষ্ঠা করছে বলে স্বাস্থ্য সহকারী  জানিয়েছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েক জন স্বাস্থ্য সহকারী জানান, উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তার কথা মতো ইপিআই কেন্দ্রের স্থানে ১৬দিনের করোনার টিকা ক্যাম্পেইনের জন্য প্রতি ৫ শত টাকা বেতনে দুই জন ভেক্সিনেটর ও ৩ শত ৫০ টাকা বেতনে তিন জন ভলানটিয়ার নিয়ে বাড়ি থেকে লোক ডেকে এনে ভেক্সিনেটরদের দিয়ে এক যোগে উপজেলার ৭টি ইউনিয়নে করোনার টিকা দেওয়া হয়।

সাবেক ১টি ওয়ার্ড (বর্তমান ৩টি ওয়ার্ড) এ ভেক্সিনেটর ও ভলানটিয়ারের ভাতা ৩২ হাজার ৮শত টাকা স্বাস্থ্য সহকারীদের মাসিক  বেতনের টাকা থেকে পরিশোধ করেন। এর পর বিল ভাউচার করে পাঠানোর পর বরাদ্দের টাকা পাওয়া গেলে স্বাস্থ্য পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা নিয়াজ মোস্তাফি চৌধুরী ও আফিস সহকারী সোমেন সাহা ৬ লক্ষ ৯১ হাজার ৬ শত টাকার মধ্যে হতে প্রথমে ২০% অফিস  খরচ হিসাবে ১ লক্ষ ৩৮ হাজার ৩ শত ২০ টাকা রেখে বাকি ৫ লক্ষ ৫৩ হাজার ২ শত ৮০ টাকা প্রতি জন স্বাস্থ্য সহকারীকে ২৬ হাজার ৩শত ৪৬টাকা করে দেওয়ার কথা বলে, গত ৩০ এপ্রিল তাদেরকে ১৫ হাজার ৩ শত ৬০ টাকা  দিয়ে বলে এই টাকা এখন নেন বাকী টাকা পরে দেখা যাবে। এর পর ১৭ মে আফিস সহকারী সোমেন সাহা  স্বাস্থ্য সহকারীদের দিয়ে একটি ফাকা রেজুলেশস খাতায় স্বাক্ষর করিয়ে  নিয়েছে।অফিস সহকারী সোমেন সাহা ফাকা খাতায় স্বাস্থ্য সহকারীদের স্বাক্ষর নেওয়া ও টাকা আত্মসাথের  ব্যাপারে অস্বীকার করে বলেন, আমি অফিসের এক জন কর্মচারী, আমি কিছু জানি না।

এব্যাপারে স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা(টিএইচএ) নিয়াজ মোস্তাফি চৌধুরী বলেন,আয়কর ও ভ্যাট বাবদ সাড়ে ১০ % কেটে রেখে দেওয়া হয়। আনেক স্বাস্থ্য সহকারীর দুই জন ভেক্সিনেটর ও তিন জন  ভলানটিয়ারের পরিবর্তে এক জন ভেক্সিনেটর ও দুই জন ভলানটিয়ারের রেখে সম্পূন্য বিল ভাউটার করেছে। যে যা পাবে তাদেরকে সব দেওয়া হয়েছে। বিভিন্ন প্রকল্পের টাকা বিল ভাউচার করে পাঠানো হয়েছে এখন পর্যন্ত চেক হয়নি। সোমেন সাহা একজন অফিস সহায়কারী সে তাদেরকে দিয়ে ফাঁকা রেজুলেশন খাতায় স্বাক্ষর করিয়ে নেবে আর তারা স্বাক্ষর করে কেন?  সোমেন  কি হইছে,এটা তাদের ব্যাপার। আমার পদায়ন বদলীর কারনে গত ১৯ মে রিলিজ নিয়েছি । এখন আর আমার অথরিটি নেই। তার পরেও বৃহস্পতি বার এক দিন অফিস করবো। সিভিল সার্জন জালাল উদ্দিন আহম্মেদ এর নিকট জানতে চাইলে তিনি বলেন, ও ব্যাপারে নো কমান্ট।

English Dainikbiswa

ঠাকুরগাঁওয়ে কলেজ ছাত্রীকে ইভটিজিংয়ের দায়ে ২ যুবক আটক

অনিয়ম-দুর্নীতির অভিযোগে অভিযুক্ত সিলেটের ভারপ্রাপ্ত ডিআইজি প্রিজন্স কামাল এখন চরম বেপরোয়া

//অনলাইন নিউজ ডেস্ক//

অভিযুক্তের বিরুদ্ধে ব্যবস্থার নির্দেশ উপেক্ষিত! * নামে-বেনামে রিয়েল এস্টেট কোম্পানিতে অর্ধশত কোটি টাকার বিনিয়োগ

সিলেটের ভারপ্রাপ্ত ডিআইজি প্রিজন্স কামাল হোসাইনের বিরুদ্ধে অনিয়ম-দুর্নীতির পাহাড়সম অভিযোগ ওঠার পরও কোনো ব্যবস্থা না নেওয়ায় তিনি দিন দিন আরও বেপরোয়া হয়ে উঠেছেন।

অভিযোগ-ভারপ্রাপ্ত ডিআইজি প্রিজন্স হিসাবে যোগ দিয়েই তিনি ভুল ঠিকানা দিয়ে চাকরি নেওয়া অর্ধশতাধিক কারারক্ষীকে চাকরিচ্যুত করার ভয় দেখিয়ে মোটা অঙ্কের অর্থ আদায় করেন। এ ছাড়া নানা অনিয়ম-দুর্নীতির মাধ্যমে তিনি কোটি কোটি টাকা অবৈধ উপায়ে আয় করেছেন।

এর আগে চট্টগ্রামের সিনিয়র জেল সুপার থাকাকালে কামাল হোসাইনের বিরুদ্ধে কারাবন্দি জঙ্গি ও বিএনপি-জামায়াত নেতাদের বিশেষ সুবিধা দেওয়ার অভিযোগ ওঠে। কারাগারে টাকার বিনিময়ে মাদক সরবরাহ এবং বন্দিদের ঘিরে নানা অনিয়ম-দুর্নীতির অভিযোগ তার বিরুদ্ধে।

এসব উল্লেখ করে কামালের বিরুদ্ধে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বরাবর লিখিত অভিযোগও দেন চট্টগ্রাম মহানগরের এক আওয়ামী লীগ নেতা।

অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগে ২০২১ সালের ৭ জুলাই স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সুরক্ষা সেবা বিভাগ থেকে কামাল হোসাইনকে প্রত্যাহার ও তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে নির্দেশ দেওয়া হয়।

উপসচিব (অতিরিক্ত দায়িত্ব) মোহাম্মদ আবু সাঈদ মোল্লা স্বাক্ষরিত স্মারকে এ নির্দেশ দেওয়া হলেও তার বিরুদ্ধে কোনো ধরনের ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। রহস্যজনক কারণে তার অনিয়ম-দুর্নীতির তদন্তও হয়নি। এ কারণে কামাল হোসাইন আরও বেশি বেপরোয়া হয়ে উঠেছেন। কারা সংশ্লিষ্টরা এমন দাবি করেছেন।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে কারা অধিদপ্তরের কয়েকজন সিনিয়র কর্মকর্তা জানান, সিলেটে ভুল ঠিকানা দেখিয়ে চাকরি করা অর্ধশতাধিকের বেশি কারারক্ষীর কাছ থেকে জনপ্রতি তিন থেকে পাঁচ লাখ টাকা পর্যন্ত ঘুস নিয়েছেন কামাল হোসাইন।

টাকা না দিলে এসব কারারক্ষীকে চাকরিচ্যুত করার এবং দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) ভয় দেখানো হয়। কর্মকর্তাদের আরও দাবি, কারা অধিদপ্তরের অতিরিক্ত কারা মহাপরিদর্শক আবরার হোসাইনের প্রশ্রয়ে কামাল হোসাইন বেপরোয়া হয়ে ওঠেন।

এর আগেও চট্টগ্রামের সিনিয়র জেল সুপার থাকাকালে তার বিরুদ্ধে ব্যাপক দুর্নীতির অভিযোগ উঠলেও কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। তদন্তকালে উলটো কামাল হোসাইনকে পদোন্নতি পাইয়ে দিয়েছেন অতিরিক্ত কারা মহাপরিদর্শক আবরার হোসাইন। বিশেষ ক্ষমতা বলে তিনি এটা করেছেন বলে দাবি কর্মকর্তাদের।

ভুক্তভোগী কারারক্ষীদের কয়েকজন পরিচয় গোপন রাখার শর্তে জানান, কামাল হোসাইনকে প্রত্যাহার করে কারাবিধি অনুযায়ী ঘুস আদায় ও দুর্নীতির বিষয়ে তদন্ত করা হলে তাদের অনেকেই সাক্ষ্য দিতে রাজি আছেন। তবে তাকে কর্মস্থল রেখে তদন্ত করলে তারা মুখ খুলবেন না।

১৯৮৫ সালের আধুনিক প্রশাসন ব্যবস্থাপনা আইনে সরকারি কর্মচারী শৃঙ্খলা আপিল বিধিমালায় এর ডি ধারায় স্পষ্ট বলা আছেযদি কোনো কর্মকর্তা বা কর্মচারী অনিয়ম বা স্বেচ্ছাচারিতা তার কর্মস্থলে ক্রমাগত অভিযোগে অভিযুক্ত হন সে ক্ষেত্রে তার বর্তমান কর্মস্থল থেকে সাময়িক অব্যাহতিপূর্বক সংস্থায় বা অধীনস্থ মন্ত্রণালয়ে সংযুক্ত করার বিধান রয়েছে

অন্য এক ধারায় বলা হয়েছেঅভিযুক্ত ব্যক্তির অভিযোগ তদন্তকালে যেন কোনো প্রকার প্রভাব বিস্তার বা তদন্তকাজ ব্যাহত না হয় সেজন্য অভিযুক্তকে কর্মস্থলে রাখা সমীচীন নয় অভিযুক্তকে কর্মস্থলে বহাল রেখে তদন্ত করলে তদন্ত কাজ ব্যাহত হয়

চট্টগ্রাম কারাগারে সিনিয়র জেল সুপার থাকাকালে কামাল হোসাইনের বিরুদ্ধে চট্টগ্রামের লালখান বাজার ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক দিদারুল আলম মাসুদ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর কাছে লিখিত অভিযোগ দেন।

চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় কারাগারে বন্দি থাকা অবস্থায় নিজের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে তিনি লেখেন, টাকার বিনিময়ে জঙ্গি ও কারাবন্দি বিএনপি-জামায়াতর নেতাকর্মীদের অবৈধ সুবিধা দিয়েছেন কামাল হোসাইন।

কারাগারে জেলকোড অনুযায়ী বন্দিদের মানসম্পন্ন খাবার দেওয়া হয় না। সরবরাহকারীদের কাছ থেকে কমিশন নিয়ে নিম্নমানের খাবার পরিবেশন করা হয়।

দিদারুল আলম মাসুদ আরও লেখেন-কারাগারের ভেতর মাদক সরবরাহের সুযোগ করে দেন কামাল হোসাইন। আদালতে হাজিরা থাকলে জেলকোড অনুযায়ী বন্দিদের দুপুরের খাবার বাবদ টাকা দেওয়ার বিধান থাকলেও তার নির্দেশে তা দেওয়া হচ্ছিল না।

প্রতিবাদ করার পর থেকে জনপ্রতি ২৬ টাকা করে দেওয়া হয়। সাধারণ বন্দিদের চেয়ে চিহ্নিত অপরাধীদের মোবাইল ফোনে কথা বলার সুযোগ বেশি দেওয়া হয়। কারা অভ্যন্তরে প্রতিবাদ করায় আমি কামাল হোসাইনের রোষানলের শিকার হয়েছি।

কামাল হোসাইনের বিরুদ্ধে আনা সব অভিযোগ তদন্ত করে ব্যবস্থা নিতে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল সাবেক কারা মহাপরিদর্শককে নির্দেশ দেন। এ ছাড়া কামাল হোসাইনকে প্রত্যাহার করে বিভাগীয় ব্যবস্থা নিতে দুদকের পক্ষ থেকে কারা মহাপরিদর্শককে গত বছরের ৭ জুলাই চিঠি দেওয়া হয়।

কিন্তু এখনো তার বিরুদ্ধে দৃশ্যমান কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। অথচ অভিযোগের তদন্তকালে ২০২০ সালের অক্টোবরে পদোন্নতি দিয়ে কামাল হোসাইনকে ডিআইজি (প্রিজন্স) হিসাবে দায়িত্ব দেওয়া হয়।

এ ছাড়া কারা অধিদপ্তরে দাম্ভিকতা দেখিয়ে কামাল অনেকবার ভাগিয়ে নিয়েছেন ভালো জেলায় পোস্টিং। এতে তাকে সাহায্য করেছেন বিএনপি-জামায়াতপন্থি কারা অধিদপ্তরের সিনিয়র কর্মকর্তারা। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সুরক্ষা সেবা বিভাগের কারা অনু শাখার একজন অতিরিক্ত সচিবও তাকে সহযোগিতা করেছেন।

অনিয়ম ও দুর্নীতি করে পার পেতে কামাল হোসাইন সব সময় কারা অধিদপ্তরের অতিরিক্ত কারা মহাপরিদর্শক আবরার হোসাইন ও অতিরিক্ত সচিবসহ শীর্ষ কর্মকর্তাদের নাম ব্যবহার করেন। ঘনিষ্ঠ লোক হিসাবেও তিনি সর্বত্র তাদের পরিচয় দিয়ে আসছেন।

এ কারণে হাজারো অভিযোগ থাকলেও তার বিরুদ্ধে কোনো শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয় না। বরং উলটো তার পছন্দের বিভাগে পোস্টিং ও পদোন্নতি দেওয়া হয়। কামাল হোসাইনের বিরুদ্ধে দুদক, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও পুলিশ সদর দপ্তর থেকে ব্যবস্থা নিতে সুপারিশ করা হলেও কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।

যে কারাগারেই কামাল হোসাইন দায়িত্ব পালন করেছেন সেখানে অনিয়ম-দুর্নীতি করেছেন। কারারক্ষী বদলি বাণিজ্য, ক্যান্টিন বাণিজ্য, কারারক্ষী নিয়োগ বাণিজ্য, কারা ঠিকাদারদের কাছ থেকে কমিশন বাণিজ্য ও কারারক্ষীদের ভয় দেখিয়ে টাকা আদায়ের অভিযোগ রয়েছে।

তার বিরুদ্ধে আনা উল্লেখযোগ্য অভিযোগগুলো হলো-চট্টগ্রাম কারাগারের এমডি খাতের টাকা লোপাট, টাকার বিনিময়ে বন্দিদের সঙ্গে স্বজনদের সাক্ষাৎ এবং বন্দিদের খাবার ওজনে কম দেওয়া, লালমনিরহাটে তুষভাণ্ডার বাজারে শ্বশুরের নামে কোটি টাকার মার্কেট, স্ত্রীর নামে বহুতল ভবন ও ফসলি জমি, সিলেটে প্রিজম হাউজিং নামে একটি কোম্পানির অর্ধেক শেয়ার ক্রয়, সাবেক ও বর্তমান দুই কারা কর্মকর্তার সঙ্গে গোপন চুক্তিতে রিয়েল এস্টেট ব্যবসা, নারায়ণগঞ্জ ইউরো বাংলা রিয়েল এস্টেট কোম্পানিতে নিজ নামে পাঁচ কাঠার প্লট, ঢাকায় স্ত্রী শিরিন শবনম ও শ্বশুর সফিকুল ইসলামের নামে ফ্ল্যাট ও একাধিক প্লট ক্রয়। রিয়েল এস্টেট ব্যবসার মূল অর্থ কামাল হোসাইন ও ডেপুটি জেলার আব্দুস সালাম তালুকদারের যৌথ বিনিয়োগ হলেও শেয়ার হোল্ডার হিসাবে নাম রয়েছে সাবেক জেলার শামশুল ইসলামের।

চট্টগ্রামের কেন্দ্রীয় কারাগারের সিনিয়র জেল সুপার থাকাকালে কামাল হোসাইন এমডি খাতের ছয় লাখ টাকা স্টোর অর্ডার ছাড়াই তড়িঘড়ি করে তুলে নেন। যা এজি অফিসের ২০২০ সালের হিসাব খাতে সংরক্ষণ করা রয়েছে। এ অর্থ লোপাটের বিষয়ে চট্টগ্রাম বিভাগের ডিআইজি একেএম ফজলুল হক  বলেন, বিষয়টি আমার জানা নেই। তবে তদন্ত করে দেখা হবে।

সিলেট কেন্দ্রীয় কারাগারের ডেপুটি জেলার আব্দুস সালাম তালুকদার জানান, আমার ও আমার শ্বশুরের সঙ্গে কামাল হোসাইনের কোনো ব্যবসা নেই। এ কথা বলার পর তিনি ফোনের সংযোগ কেটে দেন। পরে তার মোবাইল ফোনে খুদে বার্তা পাঠিয়েও কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

কামাল হোসাইন ও ডেপুটি জেলার আব্দুস সালাম তালুকদারের টাকা বিনিয়োগ করে সিলেটে রিয়েল এস্টেট কোম্পানির পরিচালক হিসাবে ব্যবসা পরিচালনা করেছেন-এমন প্রশ্নের জবাবে সাবেক জেলার শামশুল ইসলাম যুগান্তরকে বলেন, সব অভিযোগ মিথ্যা। তিনি আরও বলেন, কামাল ও সালামের সঙ্গে আমার কোনো ব্যবসা নেই। কোনো প্রতিষ্ঠানেও আমার কোনো শেয়ার নেই।

অভিযোগের বিষয়ে ভারপ্রাপ্ত ডিআইজি কামাল হোসাইন বলেন, আমার ব্যাপারে যেসব অভিযোগ আনা হয়েছে সেগুলো সঠিক নয়। তবে চট্টগ্রামের অভিযোগগুলো আমার মনে নেই। রিয়েল এস্টেট ব্যবসা নিয়ে কারও সঙ্গে আমার কোনো সম্পৃক্ততা নেই। দুদকের অভিযোগের বিষয়ে তিনি বলেন, আমি একা অভিযুক্ত নই।

আমার জুনিয়র ও সিনিয়র একাধিক কর্মকর্তাকে অভিযুক্ত করা হয়েছে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আপনার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে কারা মহাপরিদর্শককে নির্দেশ দিয়েছিলেন। এর পরও আপনি কিভাবে আবার সিলেটে পদোন্নতি নিয়ে এলেন-এমন প্রশ্নের কোনো সদুত্তর কামাল হোসাইন দিতে পারেননি।

কারা অধিদপ্তরের অতিরিক্ত কারা মহাপরিদর্শক আবরার হোসাইন বলেন, কামাল হোসাইনের অনিয়মের বিষয়ে তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। তদন্তও চলছে। তদন্তে অনিয়মের প্রমাণ পেলে মন্ত্রণালয়কে অবহিত করা হবে। অভিযুক্ত ব্যক্তিকে কর্মস্থলে বহাল রেখে তদন্ত করলে তদন্ত কাজ ব্যাহত হবে কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, বিষয়টি মন্ত্রণালয়ের এখতিয়ার।

জানা গেছে, লালমনিরহাটের বাসিন্দা কামাল হোসাইন ২০০৮ সালে কারা অধিদপ্তরে জেল সুপার হিসাবে চাকরিতে যোগ দেন। রংপুর কারমাইকেল কলেজ থেকে এইচএসসি এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে এমএসএস পাস করেন তিনি। কারমাইকেল কলেজে পড়ার সময় তিনি শিবিরের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত ছিলেন।

তার বাবা মকবুল আহমেদ বিএনপির নেতা ছিলেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার সময় কামাল হোসাইন ছাত্রদলের নেতা বনে যান। এ ছাড়া তারেক রহমানের ঘনিষ্ঠভাজন ছাত্রদলের ক্যাডার সোহেলের মাধ্যমে কামাল হোসাইন তার (তারেক) আস্থাভাজন হন। সূত্র: যুগান্তর

English Dainikbiswa

গরুর রক্ত মরা ছাগলের মাংসে মেখে গরুর মাংস বলে বিক্রি- কসাই আটক

চাঁদপুরের হাইমচর ইউনিয়নে চাল বিতরনে ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে

//স্টাফ রিপোর্টার//

জাটকা মাছ ধরা থেকে বিরত থাকায় জেলেদের মধ্যে ভিজিএফ’র চাল বিতরণে ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে।

১৭ মে বুধবার সকালে চাঁদপুরের হাইমচর উপজেলার ৫ নং হাইমচর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান জুলফিকার আলি জুলহাস সরকার সকালে উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা ও ইউনিয়নের তদারকি কর্মকর্তার (ট্যাগ অফিসারের) উপস্থিতিতে ৪০ কেজি চাল দেয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে ইনটেক বস্তা খুলে জনপ্রতি দুই মাসের চাল ৩০ কেজি হারে  ৬০ কেজি করে বালতি দিয়ে চাল দেয়। এতে জেলেরা জানান আমাদের দুই মাসের ৮০ কেজি করে চাউল দেওয়ার কথা থাকলেও আমাদেরকে ৬০ কেজি করে চাল দেয়।

আমরা কিছু বলতে গেলে আমাদের উপর ক্ষেপে ওঠে এর মধ্যে জেলেদের মাঝে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়।

বিক্ষুব্ধ জেলেরা ওজনে কম দেওয়ার বিষয়টি জেলা প্রশাসক, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাসহ সাংবাদিকদের অবহিত করে।জানা যায়, রবিবার (১৭ মে) ইউপি শ্রমিকরা সরকারি ইনটেক ৫০ কেজি ওজনের বস্তা খুলে জেলেদের বস্তায় ওজন মাপা যন্ত্র ছাড়াই বালতি দিয়ে মেপে জেলেদের বস্তায় ভরে দেন।

হাইমচর ইউনিয়নের ২ নং ওয়ার্ড মেম্বার সাইফুল দেওয়ান, ৪ নং ওয়ার্ড মেম্বার মনির জানান বিভিন্ন খরচ নির্বাহের জন্য মৎস্য ও ট্যাগ অফিসারের উপস্থিতিতে ২০ কেজি করে কম দেওয়া হয়েছে বলে স্বীকার করেন।

এ বিষয়ে ইউপি চেয়ারম্যান জুলফিকার আলি জুলহাস সরকার বলেন ২০ কেজি চাল ওজনে কম দেয়ার অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, আমরা জনপ্রতি জেলেকে ৮০ কেজির পরিবর্তে ৬০ কেজি চাল বিতরণের করছি। চাল ঘাটতি, শ্রমিকদের মঞ্জুরী ও কার্ড বঞ্চিত হতদরিদ্র দুস্থদের মধ্যে বিতরণের জন্য ২০ কেজি করে কম দেওয়া হয়েছে।

উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা মোঃ মাহবুব রশীদ তার উপস্থিতিতে ওজনে কম দেওয়ার অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, আমি কার্ডধারী জেলেদের ৮০ কেজি করে চাল দেয়ার নির্দেশ দিয়েছি। ইউপি চেয়ারম্যান কম দিয়েছে কিনা সেটা আমার জানা নেই।

৫ নং হাইমচর ইউনিয়নের জেলেরা জানান, আমরা চাঁদপুর জেলা প্রশাসকের কাছ মৌখিক অভিযোগ করবো এ বিষয়ে হাইমচর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা চাই থোয়াইহলা চৌধুরীরকে জাননো হবে বলে জানিয়েছেন। এ বিষয়টি তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়ার জোর দাবি জানান জেলেরা।

এসময় জেলে কার্ডের চাউল নিতে আসা মহিলারা বলেন,,পরিষদের দালাল দের মাধ্যমে টোকেন করে টাকা নিয়ে টোকেন অনুযায়ী চাউল দিচ্ছে,বিক্রিত টোকেন জমা নিয়ে জেলেদের চাউল কম দিয়ে বিক্রেতাদের চাউল দিচ্ছেন বলে অভিযোগ করেন ভূক্তভোগী জেলে পরিবার’রা।

এছাড়া ও প্রতিবারের চাউল বিতরণে জেলেদের কাছ থেকে বাদ্ধতা মূলক চৌকিদারি টেক্স নামে ১’শত টাকা চাঁদা আদায় করছে বলে জানান জেলেরা।

এবং জেলে চাউল গোডাউনে না তুলে ট্রলারে করে নদীতে রেখে স্কেল বিহিন,বালতী মেপে চাউল দিচ্ছে বলে বলেন জেলেরা।

অপরদিকে চাঁদপুর জেলা আওয়ামী মৎস্যজীবী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও জেলে প্রতিনিধি মানিক দেওয়ান জানান জেলেদের ২০ থেকে ১৬ কেজি করে চাল কমদেয়ায় আমি দুঃখ প্রকাশ করি এবং এবিষয়ে প্রশাসনের সুদৃষ্টি করছি

স্কুলশিক্ষিকা মা ছেলেকে দেন ৮০ কোটি টাকা/ আয়কর ফাঁকি ২৪ লাখ টাকা

//দৈনিক বিশ্ব ডেস্ক//

এ যেন রূপকথার গল্পকেও হার মানায়। প্রত্যন্ত অঞ্চলের এক স্কুলশিক্ষিকা তার ছেলেকে ৮০ কোটি টাকা দান করেছেন। এত টাকা কোত্থেকে পেয়েছেন, আয়কর ফাইলে এর হদিস নেই। এ দানশীল মা হচ্ছেন লীলাবতী হালদার। আর সেই সৌভাগ্যবান ছেলে হচ্ছেন ঋণ কেলেঙ্কারির মহানায়ক পিকে (প্রশান্ত কুমার) হালদার।

ঋণ কেলেঙ্কারি ও অর্থ পাচারের দায়ে অভিযুক্ত পিকে হালদার কর ফাঁকিতেও সিদ্ধহস্ত ছিলেন। জালিয়াতির মাধ্যমে উপার্জিত অর্থ বৈধ করতে নিজের মা লীলাবতী হালদারকে ‘ঘুঁটি’ হিসাবে ব্যবহার করেছেন।

কর কর্মকর্তাদের সহায়তায় প্রথমে মায়ের নামে জাল আয়কর ফাইল খোলেন এবং সেখানে বিপুল অঙ্কের নগদ অর্থ দেখানো হয়। পরে মায়ের ফাইল থেকে নিজের আয়কর ফাইলে ‘দান’ দেখানোর মাধ্যমে অর্থ স্থানান্তর করা হয়। কিন্তু এতেও শেষরক্ষা হয়নি।

সম্পদ ও বিনিয়োগের তথ্য গোপন করে প্রায় ২৪ লাখ টাকা আয়কর ফাঁকি দেওয়ায় তার বিরুদ্ধে মামলা চলমান আছে। প্রাপ্ত তথ্য বলছে, ২০১৫ সালেই আয়কর গোয়েন্দাদের কাছে পিকে হালদারের জালিয়াতি ধরা পড়ে। ওই বছরের আগস্টে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সেলের (সিআইসি) কর্মকর্তারা গোপন সংবাদের ভিত্তিতে কর অঞ্চল-৫-এর সার্কেল-১০৩-এ অভিযান চালান। তখন পুরো আয়কর প্রশাসনে এ অভিযান আলোড়ন সৃষ্টি করে।

ওই অভিযানে করদাতাদের সম্পদবিবরণীতে প্রকৃত সম্পদের চেয়ে কমবেশি ও প্রকৃত আয় না দেখিয়ে কর ফাঁকিতে সহায়তা করার অভিযোগে এক সহকারী কর কমিশনারকে বরখাস্ত করা হয়। একই সঙ্গে তার অধীনে থাকা শতাধিক করদাতার কর নথি পর্যালোচনার জন্য সিআইসিতে আনা হয়। ওই কর্মকর্তার অধীনে থাকা সব কর নথিতেই করদাতাদের সম্পদ ও আয়ের গরমিল পাওয়া যায়। ওই সার্কেলে রিটার্ন দেওয়া ফাইলগুলোর মধ্যে একটি ছিল পিকে হালদারের মা লীলাবতী হালদারের।

অভিযানে অংশ নেওয়া এক কর্মকর্তা জানান, অশীতিপর এক বৃদ্ধার আয়কর ফাইলে বিপুল পরিমাণ নগদ অর্থ দেখানোয় পুরো বিষয়টি সন্দেহজনক মনে হয়। বিস্তারিত তদন্ত শুরু করলে পিকে হালদারের নাম বেরিয়ে আসে। কিন্তু অজ্ঞাত কারণে সেই তদন্ত বেশিদূর এগোয়নি। তখন থেকেই পিকে হালদারের ওপর নজর রাখছিলেন সিআইসির গোয়েন্দারা। এরপর একের পর এক আর্থিক কেলেঙ্কারিতে পিকে হালদারের সংশ্লিষ্টতা প্রমাণিত হলে তার কর ফাঁকির তদন্তে নামেন আয়কর গোয়েন্দারা।

একাধিক কর্মকর্তার সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার অংশ হিসাবে পিকে হালদার তার মায়ের নামে আয়কর ফাইল খুলেন। সেখানেও জালিয়াতির আশ্রয় নেওয়া হয়। শুরুর দিকে যে টিআইএন-এর বিপরীতে লীলাবতী রিটার্ন জমা দিয়েছেন, সেটি জালিয়াতির মাধ্যমে বানানো। ওই সংখ্যার টিআইএন তখনকার ডেটাবেজে পাওয়া যায়নি। অথচ সেই টিআইএন-এর বিপরীতে ১৯৮৯-৯০ করবর্ষে ৮০ কোটি টাকার বেশি নগদ অর্থ লীলাবতীর ফাইলে দেখানো হয়।

পরবর্তী সময়ে এই অর্থই ২০১৩-১৪ করবর্ষে পিকে হালদারের ফাইলে স্থানান্তর করা হয়। সেই অর্থ দিয়ে পিকে হালদার শেয়ারবাজারে বিনিয়োগ ও জমিজমা ক্রয়ের মাধ্যমে সম্পদ অর্জন করেছেন বলে নিজ আয়কর ফাইলে প্রদর্শন করেন। ২০১৩ সালের অক্টোবরে ১২ সংখ্যার নতুন টিআইএন নেন লীলাবতী। পরবর্তী সময়ে সিআইসি লীলাবতীর বিরুদ্ধে ২৩ কোটি টাকা কর ফাঁকি উদ্ঘাটন করে। দায় স্বীকার করে ফাঁকি দেওয়া আয়কর পরিশোধও করেন তিনি।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, পিরোজপুরের নাজিরপুর উপজেলার মাটিভাঙ্গা ইউনিয়নের দীঘিরজান গ্রামের পিকে হালদারের পৈতৃক বাড়ি আছে। তার বাবা প্রণবেন্দু হালদার পেশায় ছিলেন দীঘিরজান বাজারের একজন দরজি। মা লীলাবতী হালদার ছিলেন স্কুলশিক্ষিকা। দীঘিরজান মাধ্যমিক বিদ্যালয় থেকে এসএসসি ও বাগেরহাটের সরকারি পিসি কলেজ থেকে এইচএসসি পাশ করেন পিকে হালদার। এরপর বুয়েট থেকে মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে পড়াশোনা শেষে চাকরিজীবন শুরু করেন। এখন পিকে হালদারের পৈতৃক ভিটায় শুধু ভাঙা ঘর আছে। সেখানে তারই চাচাতো ভাই থাকেন। অর্থ পাচারের কেলেঙ্কারি ফাঁস হওয়ার পর তার মা আরেক ছেলে প্রীতিশ হালদারের বাড়ি ভারতের অশোকনগরে চলে যান। তার আরেক ভাই প্রাণেশ হালদার কানাডায় থাকেন বলে জানা যায়।

গত ফেব্রুয়ারিতে পিকে হালদারের কর ফাঁকির বিস্তারিত তথ্য তুলে ধরে সিআইসি থেকে কর অঞ্চল-১৩তে প্রতিবেদন পাঠানো হয়। ওই প্রতিবেদনে বলা হয়, পিকে হালদার কর ফাঁকি দিতে সুদ আয় ও প্রকৃত সম্পদের তথ্য গোপন করেছেন। এভাবে প্রায় ২৪ লাখ টাকা আয়কর ফাঁকি দিয়েছেন তিনি। তাছাড়া দুদক পিকে হালদারের যে সম্পদের বিবরণী গণমাধ্যমে বিজ্ঞপ্তি আকারে প্রকাশ করেছে, রিটার্নে সেসব সম্পদের পূর্ণাঙ্গ তথ্য পাওয়া যায়নি। অর্থাৎ রিটার্নে সম্পদের তথ্য গোপন করেছেন তিনি। প্রতিবেদনে কর আদায়ে বেশকিছু সুপারিশ করা হয়েছে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হচ্ছে-দুদকের অনুসন্ধানে প্রাপ্ত সম্পদ অনুযায়ী কর নির্ধারণ করা। পাশাপাশি ব্যাংক হিসাব জব্দের মাধ্যমে ফাঁকি দেওয়া কর আদায় এবং ভুল তথ্য দেওয়ায় আয়কর আইনে পিকে হালদারের বিরুদ্ধে মামলা করতে বলা হয়েছে।

ওই প্রতিবেদনে ফাঁকি দেওয়া কর আদায়ে ১৪৩ ও ১৬৫ ধারা অনুযায়ী ব্যবস্থা নিতে সিআইসির পক্ষ থেকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। আয়কর অধ্যাদেশের ১৪৩ ধারায় বলা হয়েছে, করদাতার অর্থ বা পণ্য বা সম্পদ জমা রয়েছে-এমন ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানকে কর আদায়ে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা নোটিশ দিতে পারবেন।

সাধারণত এ ধরনের নোটিশ যে ব্যাংকে করদাতার অ্যাকাউন্ট রয়েছে, সেই ব্যাংকে পাঠানো হয়। নোটিশে ফাঁকি দেওয়া করের সমান অর্থ ব্যাংকে গচ্ছিত থাকলে অথবা পাওনার সমপরিমাণ অর্থ ব্যাংকে জমা হওয়ামাত্র অথবা খেলাপকারীর অর্থ বৈধভাবে ব্যাংকের অধিকারে আসামাত্র তা এনবিআর-এর কোষাগারে জমা করার নির্দেশ দেওয়া হয়। এছাড়া ১৬৫ ধারা অনুযায়ী, ইচ্ছাকৃতভাবে রিটার্নে অসত্য তথ্য দিলে অথবা হিসাব, বিবৃতি, সার্টিফিকেট বা মিথ্যা ঘোষণা দিলে সর্বনিম্ন তিন মাস থেকে সর্বোচ্চ তিন বছরের কারাদণ্ড বা অর্থদণ্ড বা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত করার বিধান রয়েছে। এক্ষেত্রে সাধারণত কর কর্মকর্তারা অর্থদণ্ড দিয়ে থাকেন।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে কর অঞ্চল-১৩-এর সহকারী কর কমিশনার মুহাম্মদ জাহিদুল হাসান বিশ্বাস যুগান্তরকে বলেন, সিআইসি প্রতিবেদন পেয়েছি। সে অনুযায়ী পরবর্তী কার্যক্রম চলমান আছে।

English Dainikbiswa

প্রশাসনের কর্মচারীরা পাহাড় কাটছে কক্সবাজারে

যদি এক গোডাউনে ৪০হাজার লিটার সয়াবিন তেল মজুদ থাকে তাহলে..

//আন্তর্জাতিক নিউজ ডেস্ক//

কুষ্টিয়ায় সয়াবিন তেল মজুত করে রাখা ও বেশি দামে বিক্রির অপরাধে তিন দোকানিকে জরিমানা করা হয়েছে। শহরের বড় বাজার ও পৌর বাজার এলাকায় এ অভিযান চালানো হয়।

মঙ্গলবার সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের কুষ্টির সহকারী পরিচালক সুচন্দন মন্ডলের নেতৃত্বে এ অভিযান চালানো হয়।

অভিযান শেষে সুচন্দন মন্ডল জানান, বড় বাজার এলাকায় মেসার্স ফুড প্রোডাক্টস নামের একটি গোডাউনে গিয়ে মজুদ পাওয়া যায় ৪০ হাজার লিটার তেল। এভাবে বিক্রি না করে মজুদ রাখায় প্রতিষ্ঠানটিকে ৩০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে।

এরপর শহরের পৌর বাজারে বোতলের মূল্য অপেক্ষা অধিক মূল্যে সয়াবিন তেল বিক্রয় করার অপরাধে মা স্টোরকে হাজার টাকা এবং বোতলের তেল ঢেলে অধিক মূল্যে বিক্রি করার অপরাধে সবুজ সাথী স্টোরকে ৬ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।

ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ কর্মকর্তা আরও জানান, জনস্বার্থে এই অভিযান চলবে।

অভিয়ানে জেলা স্যানিটারি ইন্সপেক্টর (ভারপ্রাপ্ত) সুলতানা রেবেকা নাসরীন, সিনিয়র কৃষি বিপণন কর্মকর্তা আব্দুস সালাম তরফদার ও কুষ্টিয়া জেলা পুলিশের একটি দল অভিযানে সহায়তা করে।