হায়রে আমাদের বেঁচে থাকাটাই যে দেশে আশ্চর্য !!!

হায়রে আমাদের বেঁচে থাকাটাই যে দেশে আশ্চর্য !!! একবারো চিন্তা করেছি সকাল থেকে রাত কি খাচ্ছি?

১. সকালে ঘুম থেকে উঠে কোলগেট পেস্ট নিলাম- তার মধ্যে ক্যান্সারের উপাদান!

২. নাস্তায় পরোটা খাইলাম- তার মধ্যে অ্যামোনিয়ার তৈরি সল্টু মিশানো!

৩. কলা খাইলাম- কার্বাইড দিয়ে পাকানো!

৪. কফি নিলাম- এতে তেঁতুলের বিচির গুড়া মিশানো!

৫. বাজারে গেলাম টাটকা শাঁক সবজি কিনলাম-
কপার সালফেট ছিটায়ে সতেজ করা, হাইব্রিড সার দিয়ে ফলানো!

৬. মসলা আর হলুদের গুড়া নিলাম – লেড এবং ক্রোমাইট ক্যামিকেল মিশানো!

৭. গরমের দিন বাসায় এসে তরমুজ খাইলাম – পটাশিয়াম পারম্যাংগানেট দিয়ে লাল করা!

৮. আম এবং লিচু বাচ্চাকে দিলাম খেতে – কার্বাইড দিয়ে পাকানো এবং ফরমালিন দিয়ে সংরক্ষিত!

৯. দুপুরে ভাত খাবো – ইউরিয়া দিয়ে সাদা করা!

১০. মুরগি নিলাম প্লেটে- ক্রমাগত এন্টিবায়োটিক দিয়ে বড় করা!

১১. সয়াবিন তেলে রান্না সব- ভিতরে অর্ধেক পাম অয়েল মেশানো!

১২. খাওয়ার পর মিষ্টি জিলাপি নিলাম- পোড়া মবিল দিয়ে মচমচে করা!

১৩. রোজা থাকলে সন্ধ্যায় রুহ আফযা নিলাম- ক্যামিকেল আর রং ছাড়া কোন পুষ্টি উপাদান পাওয়া যায়নি পরীক্ষায়!

১৪. খেজুর খাইলাম- বছরের পর বছর স্টোরেজে ফরমালিন দিয়ে রেখেছিলো!

১৫. সরিষার তেল দিয়ে মুড়ি মাখানো খাইলাম- মুড়ি ইউরিয়া দিয়ে ফুলানো আর সাদা করা এবং সরিষার তেলে ঝাঁঝালো ক্যামিকাল মিশানো!

রাতে আবার একই বিষ ডবল খাইলাম!
ঘুমানোর আগেও বাদ যাবেনা।

১৬. গরম দুধ আর হরলিক্স খাইলাম- গাভীর পিটুইটারি গ্রন্থিতে ইঞ্জেকশন দেওয়ার পর অতিরিক্ত দুধ দোওয়ানো হয়, এরপর ইউরিয়া মেরে সাদা করা হয়।আর হরলিক্সে পরীক্ষা করে ক্যামিকাল ছাড়া কোন পুষ্টি উপাদান পাওয়া যায়নি!

এত ভেজাল খেয়ে দু একটা ঔষধ না খেলে তো শরীর টিকবেনা। ৭০ ভাগ ঔষধ কোম্পানি দেশে মান সম্মত ঔষধ তৈরি করে না।

এইসব খাওয়ার পর ভাবতেছি, কেমনে বেঁচে আছি!
[একমাত্র আল্লাহ ই কি আমাদেরকে রক্ষা করছেন না? এরপরও কি আমরা আল্লাহর শোকর আদায় করছি?]

মানুষের ঈমান তো না-ই কারণ দুর্নীতির ভিতরেও এরা দুর্নীতি করে। আসলে আমরা কেউই বেঁচে নাই।

Collected From: G.M. Masud Iqbal Rana’s Profile

।। অনলাইন ডেস্ক ।।

পড়ুন দৈনিক বিশ্ব …

প্রাকৃতিক দূর্যোগ ইয়াসের বিশাল থাবাও রুখতে পারেনি ধর্মীয় বিশ্বাসকে

জগন্নাথপুরের কাজল বাহিনী জমি দখল বানিজ্য বহাল : গ্রামের লোকজন জিম্মি

 

জগন্নাথপুরের কাজল বাহিনী দিয়ে আধিপত্য বিস্তার করে সনাতন ধর্মের ও সরকারী জমি বিক্রয় করা সহ নানান অপকর্ম করে যাচ্ছেন সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুর উপজেলার সাবেক ইউপি সদস্য কাজল মিয়া। তার বিরুদ্ধে সন্ত্রাসী কার্যকলাপ সহ নানা অভিযোগ। সরজমিনে জানা যায়, ক্ষমতাসিন দল আওয়ামী লীগের নাম ভাঙ্গিয়ে গ্রামের নিরিহ জনসাধারনদের অত্যাচার ও মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানী সহ তার বিরুদ্ধে রয়েছে জমি দখলের বিস্তর অভিযোগ।

এ নিয়ে সাবেক ইউপি সদস্য কাজল মিয়ার বিরুদ্ধে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সহ জগন্নাথপুর থানা ও আদালতে রয়েছে ৮ এর অধিক মামলা। তার হাত থেকে রক্ষা পায়নি পুলিশও। থানা পুলিশের উপর হামলা করে আহত করার অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। ফলে পুলিশের কর্তব্যকাজে বাঁধা প্রদানের অভিযোগে পুলিশ বাদি হয়ে মামলা করায় জেলও কেটেছেন তিনি। তারপরও একের পর এক মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানী করছেন নিরিহ গ্রামবাসীকে।

জানা যায়, উপজেলার পাইলগাঁও ইউনিয়নের রমাপতিপুর গ্রামের মৃত মুক্তার মিয়ার ছেলে সাবেক ইউপি সদস্য কাজল মিয়া দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় গড়ে তুলেছেন একটি শক্তিশালি বাহীনি। তার বাহীনি দিয়ে গ্রামের নিরিহ লোকজনের জমি দখল, সনাতন ধর্মের পরিত্যক্ত ভূমি ও সরকারী জমি নানা কৌশলে দখল করে বিক্রি করার অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে।

আইনের প্রতি তোয়াক্কা না করে এবং ক্ষমতাসীন আওয়ামীলীগের নাম ভাঙ্গিয়ে এলাকায় রাম রাজত্ব কায়েম করে যাচ্ছেন। তার অনিয়ম দূর্নীতির বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করলে মিথ্যা মামলা ও হামলার শিকার হতে হয় জনসাধারনকে। এ ব্যাপারে গ্রামের ভুক্তভোগি আবুল মনাফ, সৈয়দ মিয়া, ছোরাব উল্লাহ, নাসির মিয়া, আনছার মিয়া, ফজলু মিয়া, হারুন মিয়া, আব্দুল মমিন, ফারুক মিয়া সহ শতাধিক লোকজন জানান, মোজাহিদপুর ও চৌকি মৌজার সরকারী জায়গা বিক্রয় করে টাকা আত্মসাৎ করেন।

গ্রামের লোকদের বিভিন্ন প্রলোভন ও ভয় দেখিয়ে হাতিয়ে নিয়েছেন লক্ষ লক্ষ টাকা। ভূমি খেকো কাজল মিয়ার নেতৃত্বে হাতের লেখা স্টাম্প করে প্রতারনার মাধ্যমে ভূমিগুলো বিক্রয় করেছেন। এমনকি গ্রামের বায়তুন নুর জামে মসজিদ কমিটি ভেঙ্গে নিজে একাই দায়িত্ব নিয়ে কোন রকম হিসাব নিকাশ ছাড়াই দীর্ঘদিন ধরে পকেটভারি করে যাচ্ছেন। যার কারনে দীর্ঘ ৫মাস ধরে মসজিদের ইমাম ও মোয়াজ্জিনের বেতন বন্ধ থাকায় মানবেতর জীবন যাপন করছেন তারা।

তার নিজস্ব বাহিনি দিয়ে বার বার হামলা চালিয়ে আতঙ্কে পরিনত করেছেন নিরিহ গ্রামবাসীকে। বর্তমানে কাজল বাহিনির ভয়ে গ্রামের লোকজন গ্রামের মসজিদে নামাজ বন্ধ করে দিয়েছেন। তার ভয়ে গ্রামবাসী গত ঈদুল ফিতরের নামাজ আদায় করেছেন জগন্নাথপুর থানার এসআই সাফায়েত ও এসআই শামিম সহ একদল পুলিশি পাহারায়। গ্রামের রাস্তা ঘাটে চলা ফেরায় প্রতিবন্ধকতা সহ পার্শবতি শিবগঞ্জ বাজারেও আসতে পারছেন না গ্রামে নিরিহ লোকজন। বার বার অপরাধ করেও ছাড় পেয়ে যাচ্ছেন অদৃশ্য খুটির জোড়ে। এ নিয়ে উপজেলার বিভিন্ন শ্রেনী পেশার মানুষের মধ্যে মিশ্ন প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে।

কাজল ও তার বাহিনির হাত থেকে রক্ষা পাননি গ্রামের অসহায় মহিলাও। বার বার আক্রমের শিকার হলেও গ্রামের লোকজন তার বিরুদ্ধে কথা বলতে সাহস পাচ্ছেন না। সরকারী জায়গা থেকে মাটি উত্তোলন করে বিক্রি করলে গ্রামবাসী বাঁধা দেন এতে হামলার শিকার হন গ্রামের নিরিহ লোকজন। রমাপতিপুর গ্রামের সংযোগ সড়কের মুখে কাজল মিয়া তার নিজস্ব লোকের কাছে সরকারী জমি বিক্রয় করে গ্রামবাসীর চলাচলের রাস্তায় বাঁধার সৃষ্টি করেন। এ নিয়ে এলাকার গন্যমান্য লোকজন বার বার শালিসির চেষ্টা করলেও সুযোগ দিচ্ছেনা এই ইউপি সদস্য। এ দিকে সম্প্রতি গ্রামবাসী ও কাজল বাহীনির মধ্যে সংর্ঘষে ঘটনা ঘটে এতে উভয় পক্ষের প্রায় ২০জন আহত হন।

এ সময় কাজল মিয়ার লোকজন কয়েক রাউন্ড ফাঁকা গুলি বর্ষণ করে বলে প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়। এ ব্যাপারে ভোক্তভোগী জনসাধারন কাজল মিয়া ও তার লোকদের হাত থেকে রক্ষা পেতে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, পরিকল্পনামন্ত্রী সহ সংশিষ্ট কর্তৃপক্ষের সু-দৃষ্টি কামনা করেন। অভিযুক্ত কাজল মিয়ার সাথে মুঠোফোনের ৩টি নাম্বারে ০১৭১১-০১৭৮৫-০১৩১….নিউজ লেখার আগ মর্হূতে বার বার যোগাযোগ করা হলে মুঠোফোনটি বন্ধ থাকায় আলাপ করা সম্ভব হয় নাই এমনকি কাজলের ওয়াটসআপ নাম্বারে যোগাযোগ করলে ফোন রিসিভ করেন নাই। কাজলের লোকজনের সাথে আলাপ করার চেষ্টা করা হলে তারা মন্তব্য করতে নারাজ।

স্থানীয় ইউপি সদস্য ও প্যানেল চেয়ারম্যান শাহান আহমদের সাথে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, আমি এই গ্রামের বাসিন্দা আমাদের চেয়ারম্যান সাহেবকে নিয়ে বারবার চেষ্টা করেছি। কিন্তু উভয় পক্ষের লোকজনের সম্মতি না থাকায় সমাধান করতে পারি নাই। স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যারম্যান হাজী মখলিছ মিয়ার সাথে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, রমাপতিপুরের দুই পক্ষের লোকজনের সমস্যার জন্য আমি সহ ইউনিয়ন পরিষদের সদস্যদের নিয়ে বার বার সমাধান করার চেষ্টা করেছি।

কিন্তু কোন পক্ষেই আমাদের বিচারের তারিখ দেয় নাই। আমাাদের উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান সাহেব ও ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি সহ আরো অনেকেই বহু চেষ্টা করে সমাধান করতে পারেন নাই। সহকারী পুলিশ সুপার জগন্নাথপুর (সার্কেল) কামরুল ইসলামের সাথে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, অভিযোগ উভয় পক্ষেই দিয়েছে।

অভিযোগের আলোকে আইনআনুক ব্যবস্থা গ্রহন করতেছি। আসামী যাকে পাব থাকেই ধরবো আমাদের অভিযান অব্যাহত থাকবে।

//মোঃ রনি মিয়া, জগন্নাথপুর প্রতিনিধি//

পড়ুন দৈনিক বিশ্ব …

মধুখালী টু মাগুরা রেল লাইন।। স্বপ্ন নয় বাস্তব।। প্রধানমন্ত্রীর ভিত্তি প্রস্তর স্থাপন

 

 

অপরাধ করেই কেন টাকা কামাতে হবে! শিশু হাসপাতাল করোনা কেলেঙ্কারিতে

 

অপরাধ করেই কেন টাকা পাহাড় গড়তে হবে..! সৎ ভাবে রোজগার করা, সৎ ভাবে বেচে থাকার আনন্দ অসৎ ভাবে রোজগার করা সুখ সাচ্ছন্দের থেকে অনেক স্থাঙী।  কোভিড-১৯-এর নমুনা পরীক্ষা কেলেঙ্কারির সঙ্গে শিশু হাসপাতালও জড়িয়ে পড়েছে। তাদের নাম ভাঙিয়ে স্বাস্থ্যসেবা খাতের একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান অন্য জায়গা থেকে নমুনা পরীক্ষা করাচ্ছে। এর সঙ্গে জড়িত শিশু হাসপাতালের দুই কর্মকর্তা। তাদের সহায়তায় পরিচালকের অনুমতি ছাড়াই গত বছরের এপ্রিল থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত চলে এ কার্যক্রম।

 

 

বেসরকারি এ হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ প্রতিটি নমুনা পরীক্ষার জন্য রোগীদের কাছ থেকে নিয়েছে ৫ হাজার টাকা। তারা এগুলো পরীক্ষার জন্য শিশু হাসপাতালের নামে (রেফারেন্সসহ) পাঠাত চাইল্ড হেলথ রিসার্চ ফাউন্ডেশনে। সেখানে প্রতিটি নমুনার জন্য সাড়ে তিন হাজার টাকা পরিশোধ করে। শিশু হাসপাতালের দুজন কর্মী এ কাজের জন্য টাকা লেনদেনসহ নমুনা সংগ্রহ সংক্রান্ত সরঞ্জাম সরবরাহ করে, যাদের এ সংক্রান্ত কোনো দায়িত্ব দেওয়া হয়নি। শিশু হাসপাতাল গঠিত তদন্ত কমিটির রিপোর্টে এসব তথ্য উঠে এসেছে।

 

সংশ্লিষ্টরা জানান, এ ধরনের অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে ১৮ জানুয়ারি বিষয়টি সুষ্ঠু তদন্তের জন্য ৫ সদস্যের কমিটি গঠন করে শিশুহাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। কমিটি ইতোমধ্যেই তাদের প্রতিবেদন পেশ করেছে। এর আগে তদন্ত কমিটি ১ জানুয়ারি থেকে অভিযুক্ত ও সংশ্লিষ্টদের বক্তব্য নেওয়া শুরু করে। সবার বক্তব্য বিশ্লেষণ করে হাসপাতালের দুজন কর্মচারীকে দায়ী বলে মনে করে কমিটি। যার মধ্যে একজন হাসপাতালের এপিডেমিওলজিস্ট কিংকর ঘোষ এবং অপরজন জুনিয়র অফিসার অ্যাডমিন মো. আতিকুল ইসলাম। কমিটি মনে করে, এ দুজনের জন্য হাসপাতালের সুনাম ক্ষুণ্ন হয়েছে। যার দায় তারা এড়াতে পারেন না। এর আগে জেকেজি, রিজেন্টসহ বেশকিছু প্রতিষ্ঠান কোভিড-১৯ পরীক্ষার নামে অনিয়মের সঙ্গে জড়িয়েছে।

 

এ প্রসঙ্গে ঢাকা শিশু হাসপাতালের পরিচালনা বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ডা. মো. শহিদুল্লা বলেন, তদন্তের কাজ এখনো পুরোপুরি সম্পন্ন হয়নি। সব কাজ সম্পন্ন হলে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। এক্ষেত্রে প্রতিষ্ঠানের আইন অনুযায়ী উপযুক্ত শাস্তি নিশ্চিত করা হবে বলে জানান তিনি।

 

সামগ্রিক বিষয়ে হাসপাতালের পরিচালক অধ্যাপক ডা. সৈয়দ সফি আহমেদ  বলেন, তদন্ত প্রতিবেদন ইতোমধ্যে গৃহীত হয়েছে। পাশাপাশি অভিযুক্তদের আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ দেওয়া হয়েছে। তদন্ত প্রতিবেদন এবং আত্মপক্ষ সমর্থনে লিখিত বক্তব্য চূড়ান্ত যাচাইয়ের জন্য হাসপাতালের পরিচালনা বোর্ডের সদস্য ও সরকারের যুগ্ম সচিব উম্মে সালমা তানজিয়ার কাছে পাঠানো হয়েছে। তিনি সবকিছু যাচাই-বাছাই করে মতামত দেবেন। সেই মতামতের ওপর ভিত্তি করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

 

তদন্ত কমিটির রিপোর্টে যা আছে : পাঁচ সদস্যের তদন্ত কমিটি প্রথমেই তাদের সামনে হাজির করেন হাসপাতালের জুনিয়র অফিসার অ্যাডমিন মো. আতিকুল ইসলামকে। কমিটিকে বলেন, তিনি পদ্মা জেনারেল হাসপাতালেও খণ্ডকালীন কাজ করেন। শিশু হাসপাতালের পাশাপাশি সেখানে তিনি কম্পিউটার অপারেটর হিসাবে দায়িত্ব পালন করেন। পদ্মা জেনারেল হাসপাতালের কিছু কোভিড-১৯ পরীক্ষা শিশু হাসপাতালের নামে চাইল্ড হেলথ রিসার্চ ফাউন্ডেশনে করা হতো।

 

এসব পরীক্ষার নমুনা সংগ্রহ, পরিবহণ এবং ডেলিভারিসংক্রান্ত কাজের সঙ্গে তিনি সম্পৃক্ত নন। তবে হাসপাতালের এপিডেমিওলজিস্ট কিংকর ঘোষ এ বিষয়ে জাড়িত থাকতে পারেন। পদ্মা জেনারেল হাসপাতালের টাকা লেনদেনের রসিদে টাকা গ্রহণকারী হিসাবে তার নাম ও স্বাক্ষর থাকার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি তদন্ত কমিটিকে জানান, তার স্বাক্ষর জাল করা হয়েছে। তবে তার প্রতিস্বাক্ষর নিয়ে তদন্ত কমিটি ওই রসিদের সঙ্গে হুবহু মিল পায়। তবে এ বিষয়ে তিনি কোনো গ্রহণযোগ্য ব্যাখ্যা দিতে পারেননি।

 

তদন্ত কমিটি এ বিষয়ে জানতে কর্মরত মেডিকেল টেকনোলজিস্ট সুজন বাবু, নারায়ণ চন্দ্র বর্মণ ও কংকন রায়ের বক্তব্য নেয়। তারা জানান, হাসপাতালে এপিডেমিউলজিস্ট কিংকর ঘোষের নির্দেশে তারা অন্তঃবিভাগ ও বহির্বিভাগে নমুনা সংগ্রহ করতেন। কমিটিকে তারা জানান, কিংকর প্রতিদিন ২০ থেকে ২৫টি টিউব নমুনা সংগ্রহের জন্য সরবরাহ করতেন। তবে দু-একটি টিউব নিজের কাছে রেখে দিতেন।

 

এসব বিষয়ে তদন্ত কমিটির সামনে হাজির হয়ে বক্তব্য দেন কিংকর। তিনি বলেন, হাসপাতালের পরিচালকের মৌখিক নির্দেশে তিনি ২০২০ সালের ১৭ এপ্রিল থেকে শিশু হাসপাতালের রোগী, অভিভাবক এবং স্বাস্থ্যকর্মীদের কোভিড-১৯-এর পরীক্ষার ব্যবস্থা করতেন। হাসপাতালের বাইরের নমুনা সংগ্রহ ও পরীক্ষার ক্ষেত্রেও পরিচালককে জানাতেন।

 

পদ্মা জেনারেল হাসপাতালের বিষয়ে তিনি বলেন, একজন সংসদ সদস্যের নির্দেশে তিনি এই কাজ সমন্বয় করতেন। প্রতিদিন দু-একটি নমুনা সংগ্রহের টিউব তিনি নিজের কাছে রাখতেন কিনা জানতে চাইলে কমিটিকে বলেন, এটা কোনো বিষয় নয়- এমন টিউব তার কাছে অনেক আছে। অন্যান্য হাসপাতালের নমুনা নিজ নিজ হাসপাতাল থেকে রেফার্ড হয়ে এলেও পদ্মা জেনারেল হাসপাতালের নমুনা শিশু হাসপাতালের নামে কেন রেফার্ড করা হতো জানতে চাইলে তিনি কোনো ব্যাখ্যা দিতে পারেননি।

 

তদন্ত কমিটি এ বিষয়ে জানতে সাবেক উপ-পরিচালক ডা. এজেডএম মশিউল আযমের বক্তব্য নেয়। কারণ ২৩ মে, শিশু হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ এক সার্কুলারে জানায়, শুধু ভর্তি রোগী এবং ফিভার ক্লিনিকের রোগী ছাড়া অন্য রোগীদের নমুনা নিতে হলে উপ-পরিচালকের অনুমতি নিতে হয়।

 

তবে এ উপপরিচালক জানান, হাসপাতালের বাইরের নমুনা সংগ্রহের বিষয়ে তার কোনো অনুমতি নেওয়া হয়নি। কোভিড-১৯ পরীক্ষার কোনো দায়িত্ব তিনি কিংকর ঘোষকে দেননি। এমনকি পদ্মা জেনারেল হাসপাতাল বা অন্য কোনো হাসপাতালের পরীক্ষা শিশু হাসপাতালের নামে রেফার্ড হওয়ার বিষয়ে তিনি কিছুই জানেন না।

 

একই বিষয়ে তদন্ত কমিটি বর্তমান উপ-পরিচালক ডা. প্রবীর কুমার সরকারের বক্তব্য নেন। তিনি জানান, এসব বিষয়ে তার কাছ থেকে কখনোই কোনো অনুমতি নেওয়া হয়নি। এমনকি হাসপাতালের বাইরের কোনো নমুনা সংগ্রহ বা পরীক্ষার বিষয়েও তিনি কিছুই জানেন না।

এসব বিষয়ে হাসপাতাল পরিচালকের বক্তব্য নেয় তদন্ত কমিটি। পরিচালক অধ্যাপক ডা. সৈয়দ সফি আহমেদ তদন্ত কমিটিকে জানান, শিশু হাসপাতালের ভর্তি রোগী, ফিভার ক্লিনিক ও সেখানে কর্মরত চিকিৎসক, নার্স, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের নমুনা সংগ্রহ এবং আরটিপিসিআর পরীক্ষা সমন্বয়ের জন্য উপ-পরিচালক, আবাসিক চিকিৎসক ও এপিডেমিওলজিস্টকে দায়িত্ব দেওয়া হয়।

 

এছাড়া বাইরের নমুনা সংগ্রহ ও পরীক্ষা করাতে হলে উপ-পরিচালকের অনুমতি নিতে হবে। কিংকর ঘোষকে কোভিডকালীন শুধু সর্বস্তরের কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের স্বাস্থ্যসামগ্রী বিতরণ ও সংরক্ষণের দায়িত্ব দেওয়া হয়। এছাড়া অ্যাডমিনের জুনিয়র অফিসার মো. আতিকুল ইসলামকে এ সংক্রান্ত কোনো দায়িত্ব দেওয়া হয়নি। পদ্মা জেনারেল হাসপাতালে নমুনা সংগ্রহ ও পরীক্ষার বিষয়ে তিনি কোনো নির্দেশ-আদেশ দেননি। তার কাছ থেকে কোনো অনুমতিও নেওয়া হয়নি।

 

তদন্ত কমিটি চাইল্ড হেলথ রিসার্চ ফাউন্ডেশনে পরিচালক অধ্যাপক ড. সমীর কুমার সাহার বক্তব্য নেয়। তিনি কমিটিকে বলেন, একজন সংসদ সদস্য পদ্মা জেনারেল হাসপাতালের দু-একটি পরীক্ষা করে দিতে অনুরোধ করলে তিনি সম্মতি দেন। তবে এ বিষয়ে কিংকর ঘোষকে কোনো দায়িত্ব দেওয়া হয়নি। এমনকি পদ্মা জেনারেল হাসপাতালের নমুনা শিশু হাসপাতালের নামে রেফার্ড হওয়ার বিষয়েও তিনি অবহিত নন বলে জানান।

// স্টাফ রিপোর্টার //

পড়ুন দৈনিক বিশ্ব …

দেশ ব্যাপি লক্ষ লক্ষ অবৈধ গ্যাস সংযোগ খুজে বের করতে কর্তৃপক্ষের অভিযান

 

রাণীশংকৈলে মোবাইল ফোনে ইউএনও পরিচয়ে টাকা আদায়ের চেষ্টা দুই প্রতারকের

 

ঠাকুরগাঁয়ের রাণীশংকৈলে এক বীর মুক্তিযোদ্ধার সাথে মোবাইল ফোনের মাধ্যমে ভুয়া ইউএনও’ পরিচয়ে টাকা আদায়ের চেষ্টা দুই প্রতারকের। ভক্তভোগী মৃত রাম শরণ ভক্তের ছেলে বীর মুক্তিযোদ্ধা রতন কুমার ভক্ত।

মোবাইল ফোনের মাধ্যমে প্রতারকের খপ্পরে পরে হেনস্ত হয়ে অবশেষে বুঝতে পারেন তাকে নিয়ে ফাঁদ পাতা হয়েছে অর্থ আত্মসাতের জন্য।উপজেলার এ বীর মুক্তিযোদ্ধা জানান , অচেনা দুটি মোবাইল নাম্বার থেকে ফোন আসে আমার কাছে। একজন ইউএনও অপরজন ব্যাংক কর্মকর্তা। নানান কথার অবসান ঘটিয়ে মোবাইলের নগদ মাধ্যমে দাবী করেন ৪২ হাজার ২০০ টাকা। এ টাকা মোবাইলে পরিশোধ করলেই পেয়ে যাবেন বেশ মোটা অংকের টাকা।

তিনি বলেন, মঙ্গলবার দুপরে বসে বাড়িতে টিভি দেখছিলেন এ বীর মুক্তিযোদ্ধা। ইউএনও পরিচয়ে ফোন দেন এক প্রতারক। বলেন মুজিবর্ষ উপলক্ষে আপনার জন্য একটি অনুদান এসেছে ২ লক্ষ ৭৫ হাজার টাকা।

 

শুরুটা এভাবে হলেও প্রতারণার জাল পেতে সোনালী ব্যাংকের জিএম পরিচয়ে মোবাইল ফোনে আরেক প্রতারক একই কথা বলে মুক্তিযোদ্ধার সাথে। টাকা পাইয়ে দিতে বিনিময়ে টাকা দিতে হবে মোবাইলে নগদ মাধ্যমে।

যদিও দু’জন কর্মকর্তার ফোন পেয়ে বিচলিত হয়ে উঠেন তিনি, তবুও মনে সন্দেহ বাসা বাঁধে। বুঝতে পারেন অপর প্রান্তে থাকা দু ব্যক্তিই প্রতারক।

কোনমতে এ মোবাইল ফাঁদ থেকে বেচে যান ঐ মুক্তিযোদ্ধা। হাফ ছেড়ে ছুটে আসেন রাণীশংকৈল নির্বাহী কর্মকর্তার অফিসে।

প্রতারকের বিষয়টি ইউএনও কে জানান বীর মুক্তিযোদ্ধা রতন কুমার ভক্ত ইউএনও সোহেল সুলতান জুলকার নাইন কবির জানান, বিষয়টি জানার সাথে সাথে থানা পুলিশকে জানানো হয়েছে। প্রতারকদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে অবহিত করেছি।।

প্রতারক দুজনের মোবাইল নাম্বার দেয়া হলো-ভূয়া ইউএনও (০১৮৭৭৬২০০৯৭) ভূয়া ব্যাংক কর্মকর্তা( ০১৮৮৮২৬৭৫৬৬)

।।মাহাবুব আলম ,  ঠাকুরগাঁও প্রতিনিধি।।

 

 

পটুয়াখালীতে চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে দুস্থ জেলেদের চাল আত্মসাতের মামলা

 

পটুয়াখালীতে চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে উপজেলার সদর উপজেলার ছোট বিঘাই ইউনিয়নে পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষে গরীব দুস্থ মৎস্যজীবীদের জন্য বরাদ্দকৃত চাল আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে ইউপি চেয়ারম্যান আলতাফ হাওলাদারের ও ইউপি সদস্য সাইফুল ইসলাম এর বিরুদ্ধে।

সরেজমিনে গিয়ে জানাগেছে, ঈদুল ফিতর উপলক্ষে ১৩’মে ছোটবিঘাই ইউনিয়নে ৪৫০ জন জেলে পরিবারকে ২ মাসের ৮০ কেজি করে মৎস্য ভিজিডির ৮৫২ বস্তা চাল বরাদ্দ করা হলে, বিতরনের আগেই চাল আত্মসাতের অভিযোগ উঠে ইউপি চেয়ারম্যান আলতাফ হাওলাদার ও ইউপি সদস্য সাইফুল ইসলাম এর বিরুদ্ধে।একপর্যায়ে চাল চোরের বিচারের দাবিতে এলাকাবাসীর বিক্ষোভ মিছিল শুরু হলে ঘটনাস্থলে উওেজনা বিরাজ করে। খবর পেয়ে তাৎক্ষনিক সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসার, সদর ভুমি এসিল্যান্ড ও উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা সহ ঘটনাস্থলে পরিদর্শনে যান।সেখানে এলাকাবাসী, স্থানীয় সকল ইউপি সদস্য ও প্রশাসনের উপস্থিতিতে চালের বস্তার হিসাব অনুযায়ী ৩৩ বস্তা চালের হিসাব গড়মিল পাওয়া যায়।

এব্যাপারে উপজেলা নির্বাহী অফিসার লতিফা জান্নাতি বলেন, ঘটনাস্থলে পরিদর্শন করে সকল তথ্য প্রমান অনুযায়ী ৩৩ বস্তা চালের গরমিল পাওয়া গেছে।তিনি আরও বলেন, তদন্ত সাপেক্ষে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে জানান।

এবিষয়ে ঘটনার দিন ১৩/০৫/২০২১ ইং তারিখ সন্ধ্যার পড়ে পটুয়াখালী সদর থানায় উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা মু. মাহাফুজুর রহমান বাদী হয়ে ইউপি চেয়ারম্যান আলতাফ হাওলাদারকে প্রধান আসামি করে সদর থানায় একটি মামলা দায়ের করেন, মামলা নং-১৯/, যাহা ১৯৭৪ সালের বিশেষ ক্ষমতা আইনের ধারা, ২৫/১ এর অনুযায়ী রুজু করা হয়।মামলা সুত্রে, ৩৩ বস্তা চালের ৫ বস্তা ইউপি সদস্য সাইফুল ইসলাম, ১৫ বস্তা চাল গোপনে গোডাউনে রাখা ও ১৩ বস্তা চালের কোন হিসাব দিতে পারিনি ইউপি চেয়ারম্যান আলতাফ হাওলাদার।

 //মোঃ তুহিন শরীফ, নিজস্ব প্রতিনিধি//

পড়ুন দৈনিক বিশ্ব….

ইসরাইল ফিলিস্তিন সংকট…

কষ্টার্জিত বেতনের দেড় কোটি টাকা জালিয়াতি করে ফয়সাল এখন জেলে

 

মাত্র ? দেড় কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগে রেলের এক জুনিয়র কর্মকর্তাকে আটক করেছে রেলওয়ে নিরাপত্তা বাহিনী (আরএনবি)। আটককৃত জুনিয়র কর্মকর্তা হলেন, বাংলাদেশ রেলওয়ের পূর্বাঞ্চলের হিসাব বিভাগের জুনিয়র অডিটর ফয়সাল মাহবুব। গত শনিবার রাতে তাকে আটক করা হয়।

সূত্র জানায়, ২০২০ সালের জানুয়ারী থেকে  চলতি বছরের মে মাস পর্যন্ত কর্মচারীদের বেতন জালিয়াতির মাধ্যমে এ অর্থ হাতিয়ে নেন আটককৃত ফয়সাল মাহবুব। বিষয়টি নজরে আসলে রেলওয়ের পূর্বাঞ্চলের ডেপুটি এডভাইজার মোহাম্মদ শাহজাহান রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলের প্রধান অর্থ ও হিসাব কর্মকর্তা কামরুন্নাহার বরাবরে একটি লিখিত অভিযোগ করেন।

অভিযোগের বিষয়ে প্রাথমিক সত্যতা পাওয়ার কারনে অভিযুক্ত ফয়সাল মাহবুবকে আটক করা হয়। আটককৃত ফরসালের বিরোদ্ধে দেড় কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ থাকলেও প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে সে ৫০ লক্ষ টাকা আত্মসাতের কথা স্বীকার করেছেন।

এ ব্যাপারে রেলওয়ের প্রধান অর্থ ও হিসাব কর্মকর্তা কামরুন্নাহারকে বার বার ফোন করা হলেও তাকে পাওয়া যায় নি। তবে আটক ফয়সালের বিরোদ্ধে সিদ্ধান্ত গ্রহনের বিষয়ে রবিবার রেলওয়ের উর্ধ্বতন কর্মকর্তারা বৈঠক করেছেন বলে জানা গেছে।

শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে আজ রবিবার (৯ মে) রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা বৈঠকে বসেছেন।

এ ব্যাপারে জানতে রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলের প্রধান অর্থ ও হিসাব কর্মকর্তা কামরুন্নাহারের মোবাইল ফোনে একাধিকবার কল করা হলেও তিনি মোবাইল রিসিভ করেননি।

রেলওয়ে পাহাড়তলী হিসাব শাখার ডেপুটি ফিনান্সিয়াল অ্যাডভাইজার মো. শাহজাহান বলেন, ফয়সাল মাহবুব হিসাবে বিভাগের জুনিয়র অডিটর হিসাবে কর্মরত আছেন। আর এ সুযোগেই ২০২০ সালের শুরু থেকে চলতি মে মাস পর্যন্ত কর্মচারীদের বেতন থেকে পাসওয়ার্ড জালিয়াতির মাধ্যমে হাতিয়েছেন দেড় কোটি টাকা।

এই কর্মকর্তা জানান, আসলে কত টাকা সরিয়েছে সেটা নিয়ে কনফিউশান আছে। আমরা ধারণা করছি আড়াই কোটি টাকা মতো চুরি হয়েছে। তবে সে ৫০ লাখ টাকার কথা স্বীকার করেছে। বাকিটা তদন্ত সাপেক্ষে বলা যাবে।

// আবুল হাসেম, চট্টগ্রাম ব্যুরো //


পড়ুন দৈনিক বিশ্ব …

৫০ লিটার মদ সহ মিলা আটক…

 

ঝালকাঠির নলছিটিতে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের দায়ে  ড্রেজার মালিককে জরিমানা

 

ঝালকাঠির নলছিটি উপজেলার খয়রাবাদ নদী থেকে ড্রেজার দিয়ে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের দায়ে মো. শাকিল হাওলাদার নামে এক ব্যক্তিকে ৮০ হাজার টাকা জরিমানা করেছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত। উপজেলা সহকারি কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. সাখাওয়াত হোসেন এই জরিমানা করেন।

উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, খয়রাবাদ নদীর ঘোপেরহাট এলাকায় রবিবার (৯ মে) দুপুরে ড্রেজার দিয়ে অবৈধভাবে নদী থেকে বালু উত্তোলন করছিলেন কিছু লোক। খবর পেয়ে সহকারি কমিশনার (ভূমি) মো. সাখাওয়াত হোসেন সেখানে গিয়ে একটি ড্রেজার জব্দ করেন।

পরে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে একটি ড্রেজারের মালিক মো. শাকিল হাওলাদারকে ৮০ হাজার টাকা জরিমানা করেন। দুপুরেই জরিমানার টাকা আদায় করা হয়েছে।

সহকারি কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. সাখাওয়াত হোসেন বলেন, অবৈধভাবে বালু উত্তোলন বন্ধে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা হচ্ছে। এটা অব্যাহত থাকবে।

//ঝালকাঠি প্রতিনিধি//

—————–

পড়ুন দৈনিক বিশ্ব …

সুবর্ণ চরের সন্ত্রাসী হামলা…

ঠিকাদারির আড়ালে দেলুর হাজার কোটির অবৈধ দোকান বাণিজ্য: হাজারো ব্যবসায়ী নি:স্ব

মার্কেটের আসল মালিক ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন (ডিএসসিসি)। কিন্তু দোকান বানিয়ে ভাড়া দিয়েছেন এক ঠিকাদার। ঠিকাদারির আড়ালে কৌশলে বহু বছর ধরে ৮২৪টি দোকান নিজের দখলে রেখে চালাচ্ছেন ভাড়া-বাণিজ্য। প্রতিমাসে হাতিয়ে নিচ্ছেন প্রায় কোটি টাকা।

 

 

শুধু ভাড়া নয়, ৯১১টি অবৈধ দোকান বরাদ্দের নামে প্রায় ২৫০ কোটি টাকা আত্মসাৎ করে ব্যবসায়ীদের সর্বস্বান্ত করার অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। সব মিলিয়ে কয়েকটি খাত থেকে প্রায় ৫০০ কোটি টাকা তার পকেটে পুরেছেন।

 

এ ব্যাপারে ইতোমধ্যে অর্থ আত্মসাৎ ও প্রতারণার অভিযোগে ভুক্তভোগী চার ব্যবসায়ী তাকে আসামি করে আদালতে পৃথক চারটি মামলা করেছেন। দেড় যুগ ধরে এই নৈরাজ্য চলছে নগর ভবনের কয়েক শ গজ দূরে ফুলবাড়িয়ার নগর প্লাজা, সিটি প্লাজা ও জাকির সুপার মার্কেটে।

 

যার বিরুদ্ধে এসব অভিযোগের তীরসেই ঠিকাদার দেলোয়ার হোসেন দেলু অবৈধ দোকানবাণিজ্য কবজা করতে তিনটি মার্কেটের ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতির পদও দখলে রেখেছেন ২৬ বছর ধরে

 

এক্ষেত্রে শ্রম মন্ত্রণালয়ের নির্দেশ উপেক্ষা করে অবৈধ প্রভাব খাটিয়ে সমিতির নির্বাচন আটকে রাখার অভিযোগও আছে। এই পদের প্রভাবেই দোকান-বাণিজ্যের ফাঁদ তৈরি করেন।

 

সেই ফাঁদে পা দিয়ে এখন হাজারো ব্যবসায়ীর মাথায় হাত। ভুক্তভোগী একাধিক ব্যবসায়ীর সঙ্গে আলাপ করে জানা গেছে এসব তথ্য।

 

উল্লেখ্য, সম্প্রতি সাবেক মেয়র সাঈদ খোকনকে চেকের মাধ্যমে ৩৫ কোটিসহ বিভিন্ন সময়ে শতকোটি টাকা ‘ঘুস’ দেওয়ার বিষয় ফাঁস এবং এ ঘটনায় খোকনকে আসামি করে মামলা করে ব্যাপক আলোচিত হন ওই ঠিকাদার দেলোয়ার হোসেন দেলু।

 

এদিকে তার (দেলুর) সম্পদের অনুসন্ধানে মাঠে নেমেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। প্রাথমিক অনুসন্ধানে তদন্ত সংশ্লিষ্টরা জানতে পেরেছেন ব্যবসায়ীদের পথে বসিয়ে কয়েক শ কোটি টাকার সম্পদের মালিক হয়েছেন ঠিকাদার দেলোয়ার হোসেন।

 

অবৈধ পথে অর্থ পাচার করে মালয়েশিয়ায় বিনিয়োগ করেছেন সেকেন্ড হোম প্রকল্পে। তার স্থাবর-অস্থাবর সম্পদের তথ্য পেতে ৬২টি সরকারি প্রতিষ্ঠানে বার্তা পাঠানো হয়েছে।

 

ঠিকাদারির আড়ালে অবৈধ দোকান-বাণিজ্য চালানোর বিষয়ে জানতে চাইলে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রধান সম্পত্তি কর্মকর্তা রাসেল সাবরিন বলেন, ‘এই তিনটি মার্কেটে তৈরি অবৈধ দোকান এরইমধ্যে উচ্ছেদ করা হয়েছে। যিনি দোকানগুলো বানিয়ে ব্যবসায়ীদের প্রতারিত করেছেন, তার বিরুদ্ধে ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীরা মেয়র মহোদয়ের কাছে লিখিত অভিযোগ করলে তদন্তসাপেক্ষে অবশ্যই ব্যবস্থা নেওয়া হবে। আর দীর্ঘদিন দখলে রেখে ভাড়া-বাণিজ্যের বিষয়টি দেখার দায়িত্ব আমার নয়। এটি প্রকৌশল বিভাগ দেখে থাকে।’

 

ডিএসসিসির তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী মুন্সি আবুল হাশেম যুগান্তরকে বলেন, ‘নির্মাণাধীন মার্কেটে দোকান ভাড়া দিয়ে অর্থ আত্মসাতের ঠিকাদারের আইনগত কোনো এখতিয়ার নেই। এ ধরনের ঘটনা ঘটে থাকলে মার্কেট পরিদর্শন করে অভিযুক্ত ঠিকাদার দেলুর বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

 

তবে ভুক্তভোগী ব্যবসায়ীরা বলেছেন, দেলোয়ার হোসেনের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার অনুরোধ জানিয়ে মেয়রের কাছে লিখিত আবেদন জমা দিয়েছেন তারা। এখনো এ ব্যাপারে কোনো কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হয়নি।

 

দেলোয়ার হোসেন যা বললেন : উল্লিখিত অভিযোগ সম্পর্কে জানতে চাইলে দেলোয়ার হোসেন যুগান্তরকে বলেন, তিনি সিটি করপোরেশনের তালিকাভুক্ত প্রথম শ্রেণির একজন ঠিকাদার। সরকারি নিয়ম মেনেই সিটি করপোরেশনের নির্মাণকাজ করে থাকেন।

 

তার কর্মকাণ্ডের ব্যাপারে করপোরেশনের কোনো অভিযোগ নেই। ঠিকাদারির পাশাপাশি তিনি আমদানি-রপ্তানি, হাউজিং, ট্রাভেল এজেন্সিসহ বিভিন্ন ধরনের ব্যবসার সঙ্গে জড়িত। ব্যবসায়ী হিসাবেই তিনি নগর প্লাজা, সিটি প্লাজা ও জাকির সুপার মার্কেটের ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি নির্বাচিত হয়েছেন। পদ দখলের অভিযোগ মিথ্যা।

 

মার্কেটে অবৈধ দোকান তৈরি করে বরাদ্দ দিয়ে ব্যবসায়ীদের সর্বস্বান্ত করা ও ভাড়া-বাণিজ্যের বিষয়টি অস্বীকার করে তিনি জানান, সিটি করপোরেশনের টেন্ডার ও কার্যাদেশ অনুযায়ী মার্কেট নির্মাণ করেছেন। কোনো অবৈধ দোকান তৈরি ও ভাড়া-বাণিজ্যের সঙ্গে তিনি জড়িত নন।

 

একটি মহল মার্কেটের দখল নিতে তার বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালাচ্ছে। মামলার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, কে কোথায় মামলা করল তাতে কিছু যায়-আসে না। সম্পদের অনুসন্ধান সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি বলেন, দুদক সম্পদের হিসাব চেয়েছিল, দিয়ে দিয়েছি।

 

তবে অনুসন্ধানকারী দুদকের উপসহকারী পরিচালক মোহাম্মদ জাফর সাদেক শিবলী যুগান্তরকে বলেন, ‘দেলোয়ার হোসেন মিথ্যাচার করেছেন। সম্পদের তথ্য দিতেও তিনি গড়িমসি করছেন। বিভিন্নভাবে প্রভাব বিস্তারের অপচেষ্টা করছেন। কিন্তু নিয়মানুযায়ী আমি আমার কাজ করে যাচ্ছি।’

 

অনুসন্ধানে জানা যায়, অবিভক্ত ঢাকা সিটি করপোরেশনের মেয়র আওয়ামী লীগ নেতা মোহাম্মদ হানিফের আমল থেকেই দেলোয়ার হোসেন দেলু করপোরেশনের ঠিকাদারি শুরু করেন। তার মালিকানাধীন হৃদী কনস্ট্রাকশন একের পর এক মার্কেট নির্মাণের কাজ পায়।

 

বিএনপি-আওয়ামী লীগ সব আমলেই তিনি নগরভবনে ছিলেন অপ্রতিরোধ্য। ঠিকাদারির আড়ালেই তিনি শুরু করেন ‘দোকান-বাণিজ্য’। অবৈধ এই বাণিজ্য কবজায় রাখতে দখল করেন নগর প্লাজা, সিটি প্লাজা ও জাকির সুপার মার্কেটের ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতির পদ।

 

মামলার এজাহার : গত এপ্রিলে ঢাকার মুখ্য মহানগর হাকিম আদালতে চার ভুক্তভোগী ব্যবসায়ী আলাদাভাবে চারটি মামলা করেন। ব্যবসায়ী কামাল হোসেন মামলার এজাহারে উল্লেখ করেন, আসামি দেলোয়ার হোসেন জাকির সুপার মার্কেটের সভাপতি হিসাবে মার্কেট ভবনের সি-ব্লকের উত্তর পাশে দ্বিতীয় তলায় ১২ নম্বর দোকান সংলগ্ন এক্সট্রা ১২/১ নম্বর দোকান বরাদ্দ দেন।

 

২০১৮ সালের ৬ জানুয়ারি এই দোকান বাবদ তিনি নেন ৩০ লাখ টাকা। এককালীন এক হাজার টাকার নোটের ৩০টি বান্ডিল সাক্ষীদের উপস্থিতিতে তাকে বুঝিয়ে দেওয়া হয়। সমিতির প্যাডে সই করে দোকানের বরাদ্দ দেন তিনি। কিন্তু চুক্তির শর্ত মোতাবেক সিটি করপোরেশন থেকে দোকানের অনুমোদন করিয়ে দিতে ব্যর্থ হলে কামাল হোসেন ৩০ লাখ টাকা ফেরত চান।

 

টাকা ফেরত না-দিয়ে এখন তাকে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হচ্ছে। কামাল হোসেন যুগান্তরকে বলেন, ‘দেলোয়ার হোসেনকে অনেক অনুরোধের পর যখন আমি দোকানের বৈধতা হিসাবে সিটি করপোরেশনের অনুমোদনপত্র পাইনি, তখনই বুঝেছি আমি প্রতারণার ফাঁদে পড়েছি। এখন আমার দোকানও নেই, টাকাও নেই। দেলোয়ার হোসেনের বিরুদ্ধে মামলা করায় উলটো হুমকির মধ্যে আছি।

 

আরেক ভুক্তভোগী আব্বাস আলীর দায়ের করা মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে, ‘আসামি দেলোয়ার হোসেন একজন প্রতারক, বিশ্বাসভঙ্গের মাধ্যমে অর্থ আত্মসাৎকারী ও প্রাণনাশের হুমকি প্রদানকারী। তিনি জাকির সুপার মার্কেটের সভাপতি হিসাবে মার্কেট ভবনের সি-ব্লকের বেজমেন্টের পূর্বপাশে ১৬ নম্বর দোকান সংলগ্ন এক্সট্রা ১৬/১ নম্বর দোকান (৮৫০ বর্গফুট) লিখিতভাবে বরাদ্দ দেন।

 

এই দোকান বাবদ তিনি নেন ৪৮ লাখ টাকা। কিন্তু দীর্ঘদিনেও তিনি সিটি করপোরেশন থেকে দোকানের অনুমোদন করিয়ে দিতে না-পারলে টাকা ফেরত দেওয়ার অঙ্গীকার করেন। কিন্তু ২০২০ সালের ১ নভেম্বর আসামির কাছে টাকা চাইলে তিনি টাকা দেবেন না বলে জানিয়ে দেন। টাকা না-দিলে মামলা করার কথা বললে তিনি বাদীকে প্রাণনাশের হুমকি দেন।

 

এ ছাড়া ভুক্তভোগী জাহাঙ্গীর আলম ও হাবিবুর রহমানও তাদের মামলার এজাহারে একই ধরনের অভিযোগ তুলে ধরেছেন। তাদের মতো হাজারো ব্যবসায়ী দেলোয়ার হোসেনের প্রতারণার ফাঁদে পড়ে সর্বস্বান্ত হয়েছেন। নগর প্লাজা, সিটি প্লাজা ও জাকির সুপার মার্কেটে ৯১১টি অবৈধ দোকান বানিয়ে ওই সব ব্যবসায়ীকে সমিতির প্যাডে সই করে বরাদ্দ দেওয়ার নামে দেলোয়ার হোসেন হাতিয়ে নিয়েছেন অন্তত ২৫০ কোটি টাকা-এ অভিযোগ ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীদের। ব্যারিস্টার শেখ ফজলে নূর তাপস মেয়র হিসাবে দায়িত্ব নেওয়ার পর এসব দোকান অবৈধ হিসাবে চিহ্নিত করে উচ্ছেদ করেন।

 

এ ছাড়া ভুক্তভোগী ব্যবসায়ীদের আরও অভিযোগ, দেলোয়ার হোসেন তিন মার্কেটের বেজমেন্টে ৫৩৯টি দোকান তৈরি করে সেগুলোর নামজারির কথা বলে প্রতি দোকান থেকে পাঁচ লাখ টাকা হারে মোট ২৬ কোটি ৯৫ লাখ টাকা তুলে আত্মসাৎ করেন।

 

বরাদ্দ ও ভাড়া-বাণিজ্য : ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীদের এক হিসাবে দেখা গেছে, তিনটি মার্কেটে অবৈধ ৯১১টি দোকানের প্রতিটি সর্বনিু ১০ লাখ থেকে সর্বোচ্চ ৫০ লাখ টাকায় বরাদ্দ দেন দেলোয়ার হোসেন। গড়ে ২৫ লাখ টাকা হিসাবে ৯১১টি দোকান থেকে নেন প্রায় ২৫০ কোটি টাকা। আর ৮২৪টি দোকানের ভাড়া থেকে প্রতিমাসে আদায় হয় প্রায় কোটি টাকা (দোকানপ্রতি গড়ে নয় হাজার টাকা)। এ খাত থেকে গত ১২ বছরে আদায় করা হয় অন্তত দু’শ কোটি টাকা। এ ছাড়াও বেজমেন্টে দোকানের নামজারি খাত থেকেও কোটি কোটি টাকা আদায় করেন দেলু। সব খাত মিলিয়ে তার বিরুদ্ধে অন্তত ৫০০ কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ পাওয়া গেছে।

 

নগর প্লাজা দোকান মালিক সমিতির সহসভাপতি মাসুদুর রহমান যুগান্তরকে বলেন, ২০১৪ সালে নগর প্লাজার চতুর্থ ও পঞ্চম তলার নির্মাণকাজ পান দেলোয়ার হোসেনের মালিকানাধীন হৃদী কনস্ট্রাকশন। দেড় বছরের মধ্যে ২০০ দোকানের নির্মাণকাজ শেষ হয়। কিন্তু দোকানগুলো সিটি করপোরেশনকে বুঝিয়ে না-দিয়ে কৌশলে নির্মাণকাজের সময় বাড়িয়ে নেন। এই ফাঁকে সব দোকান তিনি গোডাউন হিসাবে ভাড়া দেন। দুই বছর ভাড়া-বাণিজ্যের পর তিনি দোকান বুঝিয়ে দেন। প্রতি দোকান থেকে আট হাজার টাকা হারে মাসে ১৬ লাখ টাকা ভাড়া আদায় করা হয়। এ হিসাবে দুই বছরে এ খাত থেকে তিনি ৩৮ কোটি ৪০ লাখ টাকা আত্মসাৎ করেন; যা নির্মাণকাজের বিলের চেয়েও বেশি। একই মার্কেটের ৬, ৭ ও ৮ তলার ৩৪২টি দোকান তিন বছর আগে নির্মাণকাজ শেষ হলেও সেগুলো সিটি করপোরেশনকে বুঝিয়ে না-দিয়ে ভাড়া-বাণিজ্য চালিয়ে যাচ্ছেন দেলু। ২০১৮ সালের জুন থেকে চলতি বছরের জুন পর্যন্ত প্রতিমাসে এসব দোকান থেকে ৩৪ লাখ ২০ হাজার টাকা হারে তিন বছরে ১২ কোটি ৩১ লাখ ২০ হাজার টাকা ভাড়া আদায় করে আত্মসাৎ করেছেন।

 

সিটি প্লাজা দোকান মালিক সমিতির সহসভাপতি মোস্তাক আহমেদ যুগান্তরকে বলেন, এই মার্কেটের ৪ ও ৫ তলার ২০০ দোকান একইভাবে দুই বছর আটকে রেখে ভাড়া-বাণিজ্য করে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নেন তিনি। এক্ষেত্রে সিটি করপোরেশনকে রাখেন অন্ধকারে। এখনো সিটি প্লাজার ৬, ৭ ও ৮ তলার ৩৪২টি দোকানের মধ্যে ২০০টি দোকান তিনি গোডাউন ভাড়া দিয়ে রেখেছেন। উচ্ছেদ অভিযান চালানোর পর ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীদের তোপের মুখে তিনি এখন মার্কেটমুখী না-হলেও তার লোকজন প্রতি দোকান থেকে ১০ হাজার টাকা হারে ভাড়া তোলেন। তার মেয়েজামাই আফিফ জামান আবীর, ভাতিজা রবিন, শাওন, আরমান ও তারেক ভাড়া তোলার কাজ করেন। দেড় বছরে এসব দোকান থেকে তিন কোটি ৬০ লাখ টাকা ভাড়া-বাণিজ্য করেন দেলু। ২০২০ সালের শুরুতে দোকানগুলো গোডাউন হিসাবে ভাড়া দেওয়া হয়। ২০২১ সালের জুন পর্যন্ত অগ্রিম ভাড়া আদায় করা হয়েছে। ছয় মাসের ভাড়া এককালীন আদায় করা হয় বলেও জানান মোস্তাক।

 

জাকির সুপার মার্কেটের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক ফিরোজ আহমেদ জানান, তাদের মার্কেটের ২, ৩ ও ৪ তলার প্রতিটি ফ্লোরে ৯৪টি করে দোকান আছে। এগুলোর নির্মাণকাজ শুরু হয় ২০০৬ সালে। দেলোয়ার হোসেনের মালিকানাধীন হৃদী কনস্ট্রাকশন এ কাজ পায়। ২০০৮ সালের মধ্যে কাজ শেষ করে দোকানগুলো করপোরেশনকে বুঝিয়ে দেওয়ার কথা ছিল। কিন্তু বুঝিয়ে দেওয়া হয় ২০১৭ সালে। কাজ ঝুলিয়ে রেখে প্রতিটি দোকান আট হাজার টাকা হারে ভাড়া দিয়ে এ খাত থেকে নয় বছরে তিনি হাতিয়ে নেন ২৪ কোটি ৩৬ লাখ ৪৮ হাজার টাকা। এই তিন ফ্লোরের নির্মাণব্যয় বাবদ ৩৫ কোটি টাকা বিলও পান দেলোয়ার হোসেন। এ ছাড়া ফুলবাড়িয়া সুপার মার্কেট-১-এর তৃতীয় থেকে সপ্তম তলা পর্যন্ত ৫টি ফ্লোরের নির্মাণকাজ ঝুলিয়ে রেখে কোটি কোটি টাকার ভাড়া-বাণিজ্য করেন তিনি।

 

দুদকের অনুসন্ধান : জানা গেছে, দেলোয়ার হোসেন দেলুর স্থাবর-অস্থাবর সম্পদের অনুসন্ধানে নেমেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। অনুসন্ধান কাজে তথ্য-উপাত্ত চেয়ে দুদক থেকে একটি চিঠিও (স্মারক নম্বর : ০০.০১.০০০০.৫০১.০১.১১৮.১৯/৩২৪৩৬) দেওয়া হয়েছে দেলোয়ার হোসেনকে। তার বিরুদ্ধে অভিযোগ সম্পর্কে বলা হয়েছে, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের ৩টি মার্কেট দখল করে চাঁদাবাজির মাধ্যমে অবৈধ সম্পদ অর্জন করেছেন তিনি। চিঠিতে তার কর্মকাণ্ড, সম্পদসহ ৭টি ক্রমিকে নানা ধরনের তথ্য ও রেকর্ডপত্র চাওয়া হয়েছে। অনুসন্ধানের দায়িত্বে আছেন দুদকের উপসহকারী পরিচালক মোহাম্মদ জাফর সাদেক শিবলী। দুদক তার সম্পদের তথ্য পেতে দেশের ৬২টি সরকারি প্রতিষ্ঠানে প্রয়োজনীয় তথ্য চেয়েছে। এরইমধ্যে তার বিপুল সম্পদের ফিরিস্তি এসেছে অনুসন্ধান কর্মকর্তার কাছে। দেলোয়ার হোসেন, তার স্ত্রী, ছেলে ও মেয়ের নামে বিপুল সম্পদের তথ্য পাওয়া যাচ্ছে।

 

২৬ বছর সভাপতির পদ দখল : ১৯৯৪ সালে ফুলবাড়িয়া সুপার মার্কেট-১-এর ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতির পদ দখলের মধ্যদিয়ে উত্থান দেলোয়ার হোসেনের। এরপর দুই বছরের ব্যবধানে তিনি ফুলবাড়িয়ার সিটি প্লাজা, নগর প্লাজা ও জাকির সুপার মার্কেট ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতির পদও দখলে নেন। ফুলবাড়িয়া এলাকার ব্যবসায়ী মহলে পরিচিতি পান ‘চেয়ারম্যান সাহেব’ হিসাবে। ২৬ বছর ধরে ওই তিন মার্কেটের ব্যবসায়ী সমিতির নির্বাচন দেননি তিনি। যারা তার অন্যায় কর্মকাণ্ডের প্রতিবাদ করেছেন, তাদেরই তিনি নানাভাবে মিথ্যা মামলায় জড়িয়ে সরিয়ে দিয়েছেন।

এই পদের প্রভাবেই তিনি তিনটি মার্কেটে অবৈধ দোকান বানিয়ে বরাদ্দ দেন। ব্যবসায়ীরা বারবার নির্বাচনের দাবি জানিয়ে এলেও তিনি নির্বাচন দেন না। সবশেষ গত ৮ মার্চ শ্রমভবনে শ্রম প্রতিমন্ত্রীর উপস্থিতিতে অনুষ্ঠিত সভায় জাকের সুপার মার্কেটের নির্বাচন অনুষ্ঠানের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। ২২ মার্চ শ্রম অধিদপ্তর থেকে চিঠি দিয়ে সাত দিনের মধ্যে সাধারণ সভা ডেকে নির্বাচন করতে বলা হলেও তা কার্যকর হয়নি। দেলোয়ার হোসেন প্রভাব খাটিয়ে নির্বাচন আটকে রেখেছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।

 

এ ব্যাপারে জানতে চাইলে রেজিস্ট্রার অব ট্রেড ইউনিয়ন আমিনুল হকের মোবাইলে গত এক সপ্তাহে একাধিকবার কল করা হলে প্রতিবারই বন্ধ পাওয়া যায়। পরে তার অফিসে খোঁজ নিয়ে জানা যায় তিনি করোনায় আক্রান্ত।সূত্র: যুগান্তর

 //অনলাইন ডেস্ক রিপোর্ট//

পড়ুন দৈনিক বিশ্ব …

নওগায় চুরি যাওয়া টাকা উদ্ধার…

নওগাঁ’র এসিআই ফুডস-এর ১৩ হাজার কেজি সুগন্ধি অতপ চাল আত্মসাৎ: ১৫ দিন পর উদ্ধার : আটক ২

 
  চালকের ভুয়া পরিচয় দিয়ে নওগাঁ’র মহাদেবপুর থেকে নারায়নগঞ্জ সিদ্ধিরগঞ্জ মোকামে পৌঁছে দেয়ার নামে এ সি আই ফুডস লিঃ এর সাড়ে ১৪ লক্ষ টাকা মুল্যের ১৩ হাজার কে জি সুগন্ধি আতপ চাল প্রতারনা করে আত্মসাতের ১৫ দিন পর উদ্ধার করেছে পুলিশ।

মহাদেবপুর থানা পুলিশ সোমবার আত্মসাৎকৃত চালের মধ্যে প্রায় ৯ হাজার কেজি চাল এবং প্রতারক চক্রের মুল হোতাসহ ২ জনকে আটক করেছে। মঙ্গলবার দুপুরে আটক আসামীদের কোর্টে সোপর্দ করা হয়েছে।

মহাদেবপুর থনার অফিসার ইনচার্জ আজম উদ্দিন মাহমুদ বলেছেন গত ১৮ এপ্রিল মহাদেবপুর উপজেলার সরস্বতিপুর বাজারে অবস্থিত এ সি আই ফুডস লিঃ এর উক্ত ১৩ হাজার কেজি সুগন্ধি আডপ চাল নারায়নগঞ্জ জেলার সিদ্ধিরগঞ্জ বাজারে আব্দুল্লাহ ষ্টোরে সরবরাহ করতে মহাদেবপুর ভাই ভাই ট্রান্সপোর্টকে একটি ট্রাক করার অনুরোধ জানায়।

প্রেক্ষিতে ভাই ভাই ট্রান্সপোর্ট ঐ দিন ঢাকা আশুলিয়া বেরী বাঁধ এলাকার জনৈক আইনুল শেখ-এর পুত্র স্বপন পরিচয়ধারী একজন চালককে তার ট্রাক নং ঢাকা-মেট্রো-ট-২০-১২৫৪ ট্র্কাটি নিয়ে এ সি আই ফুডস লিমিটেড-এ পাঠায়। ১৮ এপ্রিল ২০২১ তারিখ দুপুর ২টা ৪ মিনিটে উক্ত ১৩ হাজার কেজি চিনিগুড়া চাল নিয়ে সিদ্ধিরগঞ্জের উদ্দেশ্যে রওনা দেয়। কিন্তু উক্ত চাল মোকামে পৌছায় না এবং চালক এবং হেলপারের দেয়া মোবাইল নম্বরগুলো বন্ধ থাকায় সন্দেহের সৃষ্টি হয়।

ট্রান্সপোর্ট এবং এসিআই ফুডস-এর মধ্যে আতঙ্ক সৃষ্টি হয়। পরে ২১ এপ্রিল ভাই ভাই ট্রান্সপোর্ট-এর পক্ষে সুশান্ত কুমার চক্রবর্তী এবং এসিআই ফুডস-এর পক্ষে স্থানীয় ম্যানেজার এম এ সাত্তার পৃথক পৃথক ভাবে মহাদেবপুর থানায় দু’টি সাধারন ডাইরী দায়ের করেন।

পরবর্তীতে বিষয়টি মহদেবপুর থানায় মামলা হিসেবে লিপিবদ্ধ করা হয় যার নম্বর ১ তারিখ ০১-০৫-২০২১ইং ধারা ৪০৬/৪২০/৩৪ পেনাল কোড।

খোঁজা খুজির এক পর্যায়ে উক্ত ড্রাইভার ও হেলপারের দেয়া ঠিকানা ভুয়া বলে প্রমানিত হয়। পুলিশ তদন্তের এক পর্যায়ে বগুড়া জেলার শেরপুর উপজেলাধীন সদর হাসরা গ্রামের সাবেক মেম্বর মোঃ হেলাল উদ্দিন মন্ডলের সম্পৃক্ততা থাকার সম্ভাবনা খুজে পান।

এরই প্রেক্ষিতে পুলিশ সুপার প্রকৌশলী মোঃ আব্দুল মান্নান মিয়ার সার্বক্ষনিক নির্দেশনায় এবং ওসি আজম উদ্দিন মাহমুদের তত্বাবধানে সংগীয় ফোর্স সহ গত ৩ এপ্রিল দুপুরে উক্ত হেলালকে নিজ এলাকা থেকে গ্রেফতার করা হয়। তার দেয়া স্বীকারোক্তি মোতাবেক ঐ রাতেই রঙপুর জেলার গঙ্গাচড়া উপজেলা সদরের মেসার্স নাইম ট্রেডার্স থেকে প্রতারনার মাধ্যমে চুরি যাওয়া চালের মধ্যে প্রায় ৯ হাজার কেজি চাল উদ্ধার করা হয়।

সেই সাথে মেসার্স নাইম ট্রেডার্সের ম্যানেজার লেবু মিয়াকে গ্রেফতার করা হয়। উদ্ধারকৃত চালসহ আটককৃতদের মহাদেবপুর থানায় নিয়ে আসা হয়। থানায় প্রয়োজনীয় দাপ্তরিক কার্যাদি মেষ করে আসামীদের কোর্টে সোপর্দ করা হয়।

মহাদেবপুর থানার অফিসার্স ইনচার্জ মোঃ আজম উদ্দিন মাহমুদ বলেছেন এটি একটি প্রতারক চক্রের কাজ। আটক হেলাল উদ্দিন মন্ডল এই চক্রের মুল হোতা। তার বিরুদ্ধে বগুড়ার শেরপুর, ধুনট ও ঠাকুরগাঁও সদর থানায় চুরি, ডাকাতির প্রস্তুতি এবং প্রতরনার মাধ্যমে আত্মসাতের অভিযোগে ৬টি মামলা রয়েছে।

//একেএম কামাল উদ্দিন, নওগাঁ জেলা প্রতিনিধি//

 পড়ুন দৈনিক বিশ্ব পত্রিকা …

বিল গেটস ও মেলিন্ডা গেটস দম্পতি ছাড়াছাড়ি

 

গাজীপুরে নকল,নিম্নমানের ও ভেজাল কসমেটিকস বিক্রির অপরাধে জরিমানা আদায়

 

বর্তমান সময়ের প্রেক্ষাপটে রূপচর্চার জন্য প্রসাধনীর কোন বিকল্প নেই। ছেলে- মেয়ে উভয়ই কমবেশি রূপের সৌন্দর্য বৃদ্ধির জন্য নামীদামী ব্রান্ডের কসমেটিক ব্যবহার করে।কিন্তু এই নামী-দামী ব্রান্ডের অন্তরালে দেশীয় ভেজাল কসমেটিক বিক্রি করেন অনেক অসাধু ব্যবসায়ী। ভোক্তাদের ফাঁকি দেওয়ার এই প্রবণতা দেখা যায় অহরহ।

আর তাই ভোক্তাদের অধিকার রক্ষায় আজ ২৬ এপ্রিল -২০২১ রোজ সোমবার সকাল ১০ঃ০০ টা থেকে দুপুর ১ঃ০০ টা পর্যন্ত গাজীপুর জেলার সৈয়দ আলী সুপার মার্কেট, চান্দনা চৌরাস্তা এবং নিউ চকবাজার মার্কেটের কসমেটিকসের পাইকারী ও খুচরা দোকানে গাজীপুর জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে মোবাইল কোর্ট পরিচালিত হয়।

মোবাইল কোর্ট পরিচালনা কালে দেখা যায় দোকান সমূহে নকল, অতি নিম্নমানের ও ভেজাল কসমেটিকস- এ সয়লাব। এই নকল নিম্নমানের ভেজাল কসমেটিকস বিক্রির অপরাধে দুই মার্কেটের ০৬ টি দোকানের মালিককে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইনের অধীনে ৪২,৫০০/-( বিয়াল্লিশ হাজার পাঁচশত) টাকা জরিমানা করা হয়।

//নিজস্ব প্রতিবেদক//

আরও পড়ুন…

বিশুদ্ধ পানির জন্য RO Filter ব্যবহার করুন…