নাশকতা-সহিংসতার পরিকল্পনাকালে পাঁচতারকা হোটেল থেকে গ্রেফতার ১০ : র‍্যাব

//দৈনিক বিশ্ব ডেস্ক//

নারায়ণগঞ্জের আড়াইহাজারে মহাসড়কে নাশকতা, সহিংসতা ও পুলিশের ৩ সদস্যকে কুপিয়ে জখম করার ঘটনায় ১০ ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করেছে র‍্যাব।

সংবাদ বিজ্ঞপ্তি দিয়ে র‍্যাব বলেছে, আজ বৃহস্পতিবার সকালে রাজধানীর গুলশানের পাঁচ তারকা একটি হোটেল থেকে এই ১০ ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করা হয়। তাঁরা এই হোটেলে অবস্থান করে আরও নাশকতা-সহিংসতার পরিকল্পনা করছিলেন।

র‍্যাবের তথ্যমতে, গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন—জুয়েল আহম্মেদ (৫২), ইফসুফ আলী ভূঁইয়া (৬৯), মাসুম শিকারী (৪৫), হাবিবুর রহমান ওরফে সেলিম (৪৮), শফিউদ্দিন ভূঁইয়া (৫১), শফিউদ্দিন ভূঁইয়া (৪৮), মাসুকুল ইসলাম ওরফে রাজীব (৫৩), শাকিল মিয়া (৪০), আরমান মোল্লা (৪৬) ও হাবিবুর রহমান (৫৪)।

গত মঙ্গলবার আড়াইহাজারের পাঁচরুখী এলাকায় ঢাকা-সিলেট মহাসড়কে পুলিশ ও আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীদের সঙ্গে বিএনপির সংঘর্ষ হয়। এতে ৩ পুলিশ সদস্যসহ অন্তত ২০ জন আহত হন।

আহত তিন পুলিশ সদস্য হলেন—পরিদর্শক হুমায়ুন কবির, সহকারী উপপরিদর্শক মো. মতিন ও কনস্টেবল মো. নুরুল। তাঁদের কুপিয়ে জখম ও পিটিয়ে আহত করা হয় বলে জানায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।

র‍্যাবের ভাষ্য, আড়াইহাজারের ঘটনার বিভিন্ন ফুটেজ, মামলার এজাহারসহ সংশ্লিষ্ট তথ্য বিশ্লেষণ করে ১০ ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তাঁরা ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছেন।

র‍্যাব বলছে, আড়াইহাজারের ঘটনার পর এই ১০ ব্যক্তি আত্মগোপনের জন্য রাজধানীর গুলশান এলাকার পাঁচ তারকা একটি হোটেলে ওঠেন। এই হোটেলে বসে তাঁরা আরও নাশকতা ও সহিংসতার পরিকল্পনা করছিলেন। তাঁরা আগে বিভিন্ন সহিংসতা-নাশকতায় সরাসরি অংশগ্রহণ করেছিলেন। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তাঁরা এসব কথা স্বীকার করেছেন।

 

 

বাজারের সড়কের ইঠ তুলে খেলার মাঠ তৈরি

//সাইফুল্লাহ নাসির, বরগুনা প্রতিনিধি//

বরগুনা সদর উপজেলা ৭নং ঢলুয়া ইউনিয়নের নলী বাজারের আভ্যন্তরীণ সড়কের ইটের সলিং উঠিয়ে খেলার মাঠ তৈরি করেছে কতিপয় যুবক।

গত (২৬ অক্টোবর ২০২৩) বৃহস্পতিবার সকাল ১১ টায় এ ঘটনা ঘটলেও এখন পর্যন্ত জনপ্রতিনিধি ও প্রশাসন কোন ব্যবস্হা গ্রহণ না করায় বাজারের ব্যবসায়ীদের মাঝে খোভ বিরাজ করছে।

জানা গেছে,ঐ দিন স্থানীয় কয়েকজন যুবক এসে রাস্তার পাশে থাকা ভাসমান দোকানদারদের তাড়িয়ে দিয়ে রাস্তার ইট তুলে ফেলে।এমন ঘটনায় বিভিন্ন স্হানে অভিযোগ করেছেন বাজারের ব্যাবসায়ীরা।

ব্যবসায়ীরা জানান,মনির মৃধা নামের এক দোকানদার বলেন, ৫০ বছরের এই বাজারে সপ্তাহে ২ দিন রবিবার ও বৃহস্পতিবার বাজার বসে। বাজারের দিন বিভিন্ন এলাকা থেকে ব্যাবসায়ীরা এসে এখানে দোকান নিয়ে বসেন। গাতকালও এখানে দোকান নিয়ে বসেছিলেন কয়েকজন ব্যাবসায়ী। কিন্তু স্থানীয় কয়েকজন ছেলে এসে তাদেরকে তাড়িয়ে দিয়ে এখানের ইট উঠিয়ে নিয়ে যাচ্ছিলো, আমরা বাধা দেয়ায় তারা ইট না নিয়ে উঠিয়ে পাশে রেখেছে।

বাজেরের দোকাদাররা আরো অভিযোগ করে বলেন, দিলিপ কর্মকারের ছেলে লিটু কর্মকার (৪০), ফারুক সিকদারের ছেলে সিয়াম(২২), টিপু সিকদারের ছেলে জিসান(২৪), মোয়াজ্জেম এর ছেলে রবিউল(২৩) ও মন্নান খান এর ছেলে রাকিব (২১)তারা সবাই এসে দোকানদারদের সরিয়ে দিয়ে বাজারের ইট উঠিয়ে ফেলেছে।

নলী বাজারের ব্যাবসায়ী কমিটির সভাপতি বলেন, লিটু কর্মকার একজন সন্ত্রাসী তার ত্রাসে এলাকার লোকজন অতিষ্ঠ। গতকাল লিটু কর্মকার লোকজন নিয়ে এসে ক্ষমতা দেখিয়ে বাজেরের ইট উঠিয়ে ফেলেছে। সরকারি সম্পত্তি নিজ দখলে নিতে চাচ্ছে তারা।

তিনি আরো বলেন, আমরা দোকানদাররা বাধা দেয়ায় আমাদেরকে বিভিন্ন হুমকি দিচ্ছে, আমরা এর সঠিক বিচারের দাবি জানাচ্ছি। অভিযুক্ত জিসান ও সিয়াম বলেন, আমরা প্রতিবছর এখানে ব্যাটমিনটন খেলি, এই জায়গাটা নিচু হয়ে গেছে তাই ইট গুলো উঠিয়ে বালু দিয়ে উচু করার জন্য ইট উঠিয়েছি। এ বিষয়ে জানতে চাইলে অভিযুক্ত লিটু কর্মকার কোন মন্তব্য করতে রাজি হয়নি। এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. শামীম মিঞা বলেন, এ বিষয়ে আমরা কোন অভিযোগ পাইনি, তবে আমি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানের সাথে যোগাযোগ করে বিষয়টি জেনে প্রয়োজনীয় ব্যাবস্থা নিবো।

খুলনায় ভূয়া পুলিশ গ্রেফতার ডিবি পুলিশের হাতে

//খুলনা ব্যুরো, আঃ রাজ্জাক শেখ//

খুলনা জেলার পুলিশ সুপার মোহাম্মদ সাঈদুর রহমান পিপিএম-সেবার সার্বিক দিক-নির্দেশনায় এবং জেলা গোয়েন্দা শাখার ইনচার্জ মোঃ নাসির উদ্দিন এর নেতৃত্বে জেলা গোয়েন্দা পুলিশ বিশেষ অভিযানে রূপসা থানা এলাকা হতে ভূয়া পুলিশ ইন্সপেক্টর অনিল কুমার বিশ্বাস @ অনিক (৪০) গ্রেফতার করেছে।

সে চুয়াডাঙ্গা জেলার চুয়াডাঙ্গা সদর থানার হিজলগাতি গ্রামের মৃত নবীন কুমার বিশ্বাস এর ছেলে।

বর্তমান বাগেরহাট জেলার ফকিরহাট থানার লকপুর এলাকায় বসবাস করে।

মামলা সূত্রে জানাযায়, এসআই (নিঃ) আল আমিন সঙ্গীয় অফিসার-ফোর্স নিয়ে বিশেষ অভিযান পরিচালনাকালে রূপসা ব্রীজ টোল প্লাজা সংলগ্ন উত্তর পাশের ফুটপথ-এ অবস্থান কালে রাস্তার উপর থেকে ১৯ অক্টোবর রাত্র ১১.১০ মিনিটের সময় আসামী অনিল কুমার বিশ্বাসকে আটক করা হয়।

এসময় তাকে তল্লশি করে একটি ফেইক পুলিশ আইডি কার্ড, ফেইক পুলিশ ভিজিটিং কার্ড, একটি vivo Y02A এ্যাড্রয়েড মোবাইল ফোন, বাংলাদেশ পুলিশ বিভাগের সাপ্লাইকৃত একটি পিঠ ব্যাগ, বাংলাদেশ পুলিশের ইন্সপেক্টর র্যাং ক-ব্যাজ সম্বলিত মেট্রোপলিটন পুলিশের এক সেট পুলিশ ইউনিফর্ম; বাংলাদেশ পুলিশের ইন্সপেক্টর পদমর্যাদার পুলিশ মনোগ্রাম সম্বলিত একটি পি-ক্যাপ। বাংলাদেশ পুলিশ স্পেশাল ব্রাঞ্চ মনোগ্রাম সম্বলিত গ্রে-কালারের একটি কোটি যাহার সামনে পিছনে ইংরেজিতে বড় অক্ষরে SB লেখা আছে, বাংলাদেশ পুলিশ বিভাগের সাপ্লাইকৃত একজোড়া ক্যানভাস স্যু, এক জোড়া কাল রংয়ের স্যু।

এছাড়া বাংলাদেশ পুলিশের ইন্সপেক্টর পদমর্যদার একটি পুলিশ বেল্ট, পুলিশ ইউনিফর্ম পরা ধৃত আসামীর একটি 3R সাইজের লেমিনিটেড ছবি, বাংলাদেশ পুলিশ ইউনিফর্ম পরা ধৃত আসামীর একটি ৮ ইঞ্চি×৬ ইঞ্চি সাইজের লেমিনিটেড ছবি আসামীর নিজ নামীয় ২টি পুলিশ ভিজিটিং কার্ড উদ্ধার করে।

এ সংক্রান্তে এসআই(নিঃ) আল আমিন বাদী হয়ে রূপসা থানায় ধৃত আসামীর বিরুদ্ধে নিয়মিত মামলা দায়ের করেন।

মাসুদ চেয়ারম্যান নাঙ্গলকোট ও মনোহরগঞ্জ এলাকায় এক মূর্তিমান আতংকের নাম

//বিশেষ প্রতিনিধি//

মাসুদ চেয়ারম্যান নাঙ্গলকোট ও মনোহরগঞ্জ এলাকায় এক মূর্তিমান আতংকের নাম  !  এক সময় ছিল আন্তঃজেলা ডাকাত দলের সদস্য ।  নাঙ্গলকোট উপজেলা চেয়ারম্যান সামসুদ্দিন কালু’র মাধ্যমে অর্থ মন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল ওরফে লোটাস কামালের এপিএস কে এম সিং রতনকে ম্যানেজ (?)  করে ২০১৮ সালে আ’লীগ দলীয় মনোনয়ন নেন এবং সরকারী যন্ত্র ব্যবহার করে ভোট কেন্দ্র দখলে নিয়ে জোড্ডা পঃ ইউপি চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন । আওয়ামী লীগ রাজনীতিতে ন্যূনতম অবদান না থাকায় তাঁর দলীয় মনোনয়ন নিয়ে সেই সময় স্থানীয় নেতাকর্মীদের ঘোর আপত্তি ছিল  ।

মাসুদদের  আদিবাস নোয়াখালীর সোনাইমুড়ী উপজেলার পোরকরা গ্রামে । তার বাপের নাম আবুল বাশার । পেশায় ড্রাইভার । বিয়ে করেন জোড্ডা পঃ ইউপির গোহারুয়া গ্রামের কুখ্যাত  হাফেজ ডাকাতের বোন । এখানেই ঘর জামাই আবুল বাশার । তার ঔরশে মাসুদ । বড় হয়ে অনুসরণ করেন মামা হাফেজ ডাকাতের পথ । যোগ দেন মনোহরগঞ্জের আন্তঃ জেলা ডাকাত দলের সর্দার কাদেরের সাথে ।

কাদের কুমিল্লা- নোয়াখালী আঞ্চলিক মহাসড়কে ডাকাতি, অপহরণ, ইভটিজিং, চাঁদাবাজি, অস্ত্রের মহড়া, ইয়াবা, ফেনসিডিলসহ বিভিন্ন অপকর্ম চালাতেন । পরবর্তীতে কুমিল্লা ডিবি পুলিশের সাথে বন্দুকযুদ্ধে আবদুল কাদের নিহত হলে  সেকেন্ড ইন কমান্ড হসেবে দায়িত্ব নেন মাসুদ  ও তার ভাগিনা জনি । এলাকায় সন্ত্রাসী কর্মকান্ড চালিয়ে যাচ্ছেন নির্বিঘ্নে । কখনো রাজনৈতিক পরিচয়, কখনো অস্ত্রের ভয় দেখিয়ে  যাচ্ছেন নানাহ অপরাধমূলক কর্মকান্ড । মাসুদ রানা ও জনির সাথে রয়েছে মোঃ হেলাল ( মানিক মুড়া), বেলল (গোহারুয়া,), সুমন ( মানিক মুড়া), জনি ( লক্ষীপুর), রাসেল ( মানিক মুড়া), মুকবুল গোহারুয়া ) ও সৌরভ সহ ১৫/২০ জন  ডাকাত দলের  সদস্য ।  ডাকাতির পাশাপাশি এদের বিরুদ্ধে ইভটিজিং, ব্যক্তিগত শত্রুতা, লেনদেন নিয়ে বিরোধ, জমি নিয়ে বিরোধ, পরকীয়া, মাদক ব্যবসা, ডাকাতি, ছিনতাই, অস্ত্র ব্যবসাসহ নানা অভিযোগ অহরহ । চুরি ও ডাকাতির মামলায় মাসুদ কয়েকদফা জেল খেটেছেন । দৌলখাঁড় ইউনিয়নের বাম গ্রামে ঘরে ডুকে মোবাইল চুরি করে । পরে ট্রাকিংয়ে ধরা পেড়ে জেলহাজতে যান। এভাবে চুরি ও ডাকাতির মামলায় বেশ কয়েকদফা জেল খেটেছেন।

মাসুদ রানা নিজেই মান্দ্রা বাজার এলাকায় ও বিভিন্ন স্থানে ইয়াবা, গাজা, ফেনসিডিল ও মদের ব্যবসা  পরিচালনা করতো। এলাকাবাসী অতিষ্ট হয়ে ২০১৫ সালের ৩০ শে ডিসেম্বর  ইউনিয়নের মান্দ্রা বাজারে এক প্রতিবাদ সভা করেন । সেই প্রতিবাদ সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন নাঙ্গলকোট থানার তৎসময়ের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোঃ নজরুল ইসলাম, আর বিশেষ অতিথি ছিলেন তৎসময়ের জোড্ডা ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মোঃ আলী আক্কাছ, আওয়ামীলীগ নেতা মোঃ নাছির উদ্দিন মানিক, আবু জাহের ভূইয়া, শহিদুল আলম ভুট্ট ভূঁইয়া, শামছু উদ্দিন ভূঁইয়া (গার্ড), আব্দুল লতিফ, মোঃ আব্দুল হক ভূঁইয়া, বক্তারা সবাই এই ডাকাত মাসুদ ও তার সন্ত্রাসী গ্রুপদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছিলেন ।  শেষতক, এই মাসুদকে চেয়ারম্যান পদে নির্বাচন করার মনোনয়ন দেয়া দেখে সবাই বিস্ময় প্রকাশ করেছিলেন । চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়ে মাসুদের আস্ফালান অনেক বেড়ে যায়। আগে যাহা করতো রাতে আর চেয়ারম্যান হয়ে একেবারে প্রকাশ্য দিবালোকে । চুরি, ডাকাতি আর মাদক ব্যবসা ছিল তার প্রধান কাজ । ২৫ থেকে ৩০ জন সশস্ত্র সহযোগিকে নিয়ে সে   এলাকার  অবস্থান করতো । এ জন্য কেউ তার বিরুদ্ধে টু শব্দও করতো না ।

তার এসব অপকর্ম জানাজানি হবার পর পরবর্তী নির্বাচনে আওয়ামী লীগ তাঁকে চেয়ারম্যান পদে মনোনয়ন দেয়নি। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে মাসুদ বিদ্রোহী প্রার্থি হয়। মাত্র নয়’শ ভোট পাওয়ায়  তার জামানত বাজেয়াপ্ত হয় । নৌকার মনোনীত ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সভাপতি মাত্র দেড়’শ ভোটে ফেল করেন।

উল্লেখ্য, নৌকা প্রতীকের প্রার্থি ও বিদ্রোহী একই গ্রামের হওয়ায় আওয়ামী লীগ প্রার্থী পরাজিত হন ।

ভোটে অর্থ হারা মাসুদ অনেকটা দ্বিগবিদিক শূন্য। কিছুদিন ইটের ব্যবসা করতেন।  ইটা দিবেন বলে অনেকের কাছ কোটি কোটি টাকা হাতিয়েছেন । এখন ইটাও টাকাও না । টাকা প্রদান কারীরা টাকা বা ইট চাইলে জীবন নাশের হুমকি খেয়ে ফেরত যাচ্ছেন ।

সম্পৃতি তার বিরুদ্ধে  কুমিল্লার আদালতে একটা হত্যা হয় । মামলার বিবরণে জানা যায়, গত ২৭ জুলাই ২০২৩ ইং তারিখে তাদের পাশের গ্রাম মানিক মুড়ায় পোল্যান্ড প্রবাসী বেলাল হোসেনের ঘরে ডাকাতেরা ডাকাতি করে স্বর্ণ অলংকার ও নগদ টাকা নিয়ে যায় । ঘরে থাকা একমাত্র প্রবাসীর মা ডিসিস রাশেদা বেগম ৬০ কে নামাজরত অবস্থায় এলোপাতাড়ী কুপিয়ে হত্যা করে । যাবার সময় সন্ত্রাসীরা  রাশেদা বেগমের ব্যবহৃত মোবাইলটিও নিয়ে যায় । ঘটনার  পরে থানায় মামলা করতে ব্যর্থ হলে কোর্টে মামলা হয় । এতে আসামী করা হয় মাসুদ রানা, মাসুদের ভাই মাহবুব আলম কাঞ্চন ও কাঞ্চন কন্যা তাহমিনা আক্তারকে ।

ঘটনার বিবরণে জানা যায়, প্রবাসী বেলাল হোসেন ঘটনার দুই মাস আগে দেশে এসে কাঞ্চনের মেয়ে তাহমিনা আক্তারকে বিবাহ করেন । প্রবাসে ফেরত যাবার সময় বেলাল হোসেন স্ত্রীকে মায়ের তত্ত্বাবধায়নে রেখে যান । বেলাল হোসেন প্রবাসে যাবার পর পরই তার স্ত্রী তাহমিনা বেপর্দা ও উচ্ছৃঙ্খল চলাফেরা শুরু করে । এতে শ্বাশুড়ি ডিসিস রাশেদা বেগম বাধা দিলে তাঁকে মারধর করে ঘরে থাকা যাবতীয় স্বর্ণালংকার ও নগদ টাকা পয়সা নিয়ে পিত্রালয়ে চলে যায় । ডিসিস রাশেদা বেগম বিষয়টি ছেলে বেলাল হোসেনকে জানালে মাসুদ ও কাঞ্চন একদল সন্ত্রাসী এনে বেলাল হোসেনের মাকে অকথ্য ভাষায় গালমন্দ করে । রাশেদা বেগম পাড়া প্রতিবেশীকে জানালে তারা.আরও বেশী ক্ষিপ্ত হয়ে পরের দিন ধারালো.অস্ত্র-শস্ত্র নিয়ে নামাজরত অবস্থায় রাশেদা বেগমকে হত্যা করে ।

হত্যার দুই মাস পার হলেও এ পর্যন্ত কোনও আসামী গ্রেফতার হয়নি এবং মোবাইল উদ্ধার হয়নি । বরং আসামীরা রাজনৈতিক নেতার ছত্রছায়ায় বুক ফুলিয়ে দিব্যি ঘুরে বেড়াচ্ছে । এ নিয়ে জনমনে ক্ষোভ দেখা যাচ্ছে ।

Daily World News

মহিষের মাংস কিভাবে গরুর মাংসে রূপান্তরিত হয়ে রেস্তোরায় বিক্রি হয়

অভয়নগরে ১৩৪ টি পুজা মন্ডপে চলছে দেবী দুর্গার সাজসজ্জা রংয়ের প্রস্তুতের কাজ

ডুমুরিয়ায় বিশ্ব খাদ‍্য দিবস ২০২৩ উদযাপন উপলক্ষে আলোচনা সভা।

তারল্যসংকটে থাকার পরেও ইসলামী ব্যাংক ৭০০ কোটি টাকা ঋণ দিল অ্যাননটেক্সের বন্ধ কারখানায়

//দৈনিক বিশ্ব ডেস্ক//

জনতা ব্যাংকের আলোচিত গ্রাহক অ্যাননটেক্স গ্রুপের এক বন্ধ প্রতিষ্ঠানের জন্য ৭০০ কোটি টাকা ঋণ অনুমোদন করেছে তারল্যসংকটে থাকা ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ পিএলসি। ঋণ পাওয়া প্রতিষ্ঠানটি হলো শব মেহের স্পিনিং মিলস লিমিটেড। ইতিমধ্যে এই ঋণ থেকে চলতি মাসের প্রথম ২ দিনে ১৪০ কোটি টাকা তুলে নিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি। প্রতিষ্ঠানটির কারখানা নরসিংদীর শিবপুর উপজেলার সাধারচর ইউনিয়নের তাতারকান্দী গ্রামে। গত মঙ্গলবার কারখানায় গিয়ে জানা যায়, কারখানাটি এক বছর ধরে বন্ধ আছে।

ব্যাংকটির নির্বাহী কমিটির (ইসি) ১৯৯৭তম সভায় এই ঋণ দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়। এই সভা হয়েছে গত ২৪ আগস্ট। ব্যাংকটির চেয়ারম্যান আহসানুল আলম নিজেই ব্যাংকটির নির্বাহী কমিটির চেয়ারম্যান। তিনি এস আলম গ্রুপের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ সাইফুল আলমের ছেলে। ২০১৭ সালে ইসলামী ব্যাংকের নিয়ন্ত্রণ নেয় এস আলম গ্রুপ। নানা অনিয়মের কারণে গত বছরের ডিসেম্বরে ব্যাংকটিতে যাকে পর্যবেক্ষক নিয়োগ দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক, তিনিও ওই সভায় যোগ দিয়েছিলেন। বাংলাদেশ ব্যাংক ও ইসলামী ব্যাংকের একাধিক সূত্র বিষয়টি নিশ্চিত করেছে।

গত জুলাই থেকে ইসলামী ব্যাংকের শাখা ব্যবস্থাপকদের (ব্রাঞ্চ ম্যানেজার) ঋণ দেওয়ার ক্ষমতা কেড়ে নেওয়া হয়। এমনকি বিভাগীয় ও জোনপ্রধানদেরও ঋণ অনুমোদনের ক্ষমতা বন্ধ করা হয়। তবে কৃষি খাতে তাঁদের ঋণ দেওয়ার ক্ষমতা বহাল রাখা হয়েছে। ব্যাংকটির মোট ঋণের মাত্র ৩ শতাংশ কৃষিতে। এরপরই ব্যাংকটির পরিচালকেরা নতুন এই ঋণ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন।

জানতে চাইলে ইসলামী ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) মুহাম্মদ মুনিরুল মওলা বলেন, ব্যাংকের ইসি সভায় প্রতিষ্ঠানটির ঋণ অনুমোদন হয়েছে। বন্ধ কোম্পানিতে ঋণ দেওয়ার কারণ ও ঋণের অর্থ ইতিমধ্যে তুলে নেওয়া বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি কোনো জবাব দিতে রাজি হননি।

এদিকে ইসলামী ব্যাংক এখনো আমানতের বিপরীতে বাংলাদেশ ব্যাংকে চাহিদামতো নগদ জমা (সিআরআর) ও বিধিবদ্ধ জমা (এসএলআর) রাখতে পারছে না। এ জন্য প্রতিদিন জরিমানা হলেও জরিমানার টাকা দিতে পারছে না ব্যাংকটি। এ অবস্থায় মাঝেমধ্যে টাকা ধার দিয়ে ইসলামী ব্যাংকের চেক ক্লিয়ারিং ও অনলাইন লেনদেনব্যবস্থা সচল রাখছে বাংলাদেশ ব্যাংক। এর মধ্যে বন্ধ প্রতিষ্ঠানে নতুন করে ঋণ দেওয়া নিয়ে নানা প্রশ্ন উঠছে।

ঋণ অনুমোদন যেভাবে

জানা যায়, শব মেহের স্পিনিং মিলস লিমিটেড মূলত জনতা ব্যাংক থেকে ঋণ নিয়ে গড়ে ওঠা একটি কারখানা। গত বছর পর্যন্ত ব্যাংকটিতে প্রতিষ্ঠানটির ঋণ ছিল প্রায় ১৮০ কোটি টাকা। জনতা ব্যাংকের বড় গ্রাহকদের একজন অ্যাননটেক্স গ্রুপ। গত বছরের নভেম্বরে অ্যাননটেক্সের ঋণের ৩ হাজার ৩৫৯ কোটি টাকা সুদ মওকুফ করার সিদ্ধান্ত নেয় জনতা ব্যাংক। জুন মাসের মধ্যে অ্যাননটেক্সকে ৪ হাজার ৮২০ কোটি টাকা শোধ করার শর্ত দেওয়া হয়। তবে গ্রুপটি এতে ব্যর্থ হয়। এরপর জনতা ব্যাংকের বোর্ডের পরিচালনা পর্ষদ গত ২৫ জুলাই ঋণটি শোধের জন্য চলতি বছরের ডিসেম্বর পর্যন্ত সময় দেয়। তবে এবার নতুন শর্ত হিসেবে অ্যাননটেক্সকে তাদের দুটি প্রতিষ্ঠান বিক্রি করে ৩০ সেপ্টেম্বরের মধ্যে প্রাপ্য অর্থ জনতা ব্যাংকে জমা দিতে বলা হয়।

গত ২৪ আগস্ট ইসলামী ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদের সভায় অ্যাননটেক্সের প্রতিষ্ঠান শব মেহের স্পিনিং মিলস লিমিটেডের ৭০০ কোটি টাকা ঋণ অনুমোদন করা হয়। এর মধ্যে ৫০০ কোটি টাকা নন–ফান্ডেড (ঋণপত্র, গ্যারান্টি) ও ২০০ কোটি টাকা ফান্ডেড (সরাসরি ঋণ)। এর আগে ১৬ জুলাই ইসলামী ব্যাংকের প্রধান কার্যালয় সংলগ্ন ফরেন এক্সচেঞ্জ করপোরেট শাখায় শব মেহের স্পিনিং মিলসের নামে হিসাব খোলা হয়। এই হিসাবে জমা হওয়া ঋণের অর্থ থেকে ৫ সেপ্টেম্বর ৩ দফায় ৭০ কোটি টাকা ও ৭ সেপ্টেম্বর ৪ দফায় ৭০ কোটি টাকা তুলে নেওয়া হয়। ব্যাংকটি মুরাবাহা টিআর পদ্ধতিতে এই ঋণ বিতরণ করে। যার মাধ্যমে কোনো পণ্য কেনার জন্য ঋণ ছাড় করা হয়। তবে বাস্তবে কোনো পণ্য কেনার তথ্য পাওয়া যায়নি।

ইসলামী ব্যাংকের নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কর্মকর্তারা বলছেন, অ্যাননটেক্সের কিছু কোম্পানি কেনার প্রক্রিয়া শুরু করেছে এস আলম গ্রুপ। এই কারণে ঋণটি তড়িঘড়ি করে ছাড় করা হয়েছে। যদিও বাংলাদেশ ব্যাংকের নিয়মে এক ব্যাংক থেকে অর্থ নিয়ে অন্য ব্যাংকের ঋণ শোধ দেওয়ার কোনো আইনি সুযোগ নেই।

জনতা ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আবদুল জব্বার গত বুধবার তাঁর কার্যালয়ে বলেন, ‘অ্যাননটেক্স গ্রুপের ঋণ পুনঃ তফসিল করা আছে। জুন পর্যন্ত এর মেয়াদ ছিল, যা ডিসেম্বর পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে। গ্রুপটি তাদের প্রতিষ্ঠানগুলো বিক্রির চেষ্টা করছে বলে শুনেছি। আমরাও দুটি প্রতিষ্ঠান বিক্রি করার অনুমতি দিয়েছি। বিক্রি করতে হলে আমাদের সব ঋণ শোধ করে দিতে হবে। এখন পর্যন্ত কোনো টাকা পাইনি।’

তারল্যসংকট কাটেনি, কোনো শাস্তিও হয়নি

এদিকে ইসলামী ব্যাংক থেকে নামে-বেনামে নানা ঋণ বের হওয়ার পর তারল্যসংকটে ভুগছে ব্যাংকটি। যদিও এভাবে ঋণ দেওয়ার সঙ্গে যুক্ত কর্মকর্তাদের কারও শাস্তি হয়নি বরং কাউকে কাউকে পদোন্নতি দেওয়া হয়েছে। ইসলামী ব্যাংকের তারল্যসংকটের ফলে এস আলম গ্রুপভুক্ত আরও চারটি শরিয়াহভিত্তিক ব্যাংকও তারল্যসংকটে রয়েছে। কারণ, এসব ব্যাংক তারল্যসহায়তার জন্য ইসলামী ব্যাংকের ওপর নির্ভরশীল ছিল।

অ্যাননটেক্স গ্রুপের ইউনুছ বাদলের মালিকানাধীন শবমেহের স্পিনিং মিল গত বছর থেকে বন্ধ। সম্প্রতি শিবপুর উপজেলার সাধারচর ইউনিয়নের তাতারকান্দী গ্রামে।

অ্যাননটেক্স গ্রুপের ইউনুছ বাদলের মালিকানাধীন শবমেহের স্পিনিং মিল গত বছর থেকে বন্ধ। সম্প্রতি শিবপুর উপজেলার সাধারচর ইউনিয়নের তাতারকান্দী গ্রামে।প্রণব কুমার দেবনাথ

গত বৃহস্পতিবার মুডিস ইনভেস্টর সার্ভিসের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বাংলাদেশের শরিয়াহভিত্তিক ব্যাংকগুলোয় তারল্যসংকট দীর্ঘস্থায়ী হচ্ছে। গ্রাহকদের আমানতের পরিমাণ কমে যাওয়া এবং কেন্দ্রীয় ব্যাংকের দেওয়া অধিকাংশ সহায়তামূলক ব্যবস্থা ঠিকঠাক কাজে লাগাতে না পারার কারণে এই পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। তারল্যঘাটতির প্রভাব ব্যাংকগুলোর ঋণমানেও পড়তে পারে। এতে দেশের ইসলামি ধারার ব্যাংকগুলো স্বল্পমেয়াদি দায় মেটাতে সমস্যায় পড়তে পারে।

মুডিস বলছে, ২০২২ সালে দেশের ১০টি ইসলামি ধারার ব্যাংক আইন অনুসারে তারল্য বজায় রাখতে পেরেছিল; কিন্তু ৬ মাস পর দেখা যাচ্ছে, ১০টির মধ্যে ৪টি ব্যাংক এ ক্ষেত্রে পিছিয়ে পড়েছে। ৬টি ব্যাংক বিধি অনুসারে তারল্য বজায় রাখতে পারলেও তাদের অতিরিক্ত তারল্যের পরিমাণ ছিল কম।

আরেকটি শীর্ষস্থানীয় ঋণমান যাচাইকারী প্রতিষ্ঠান ফিচ রেটিংস বলেছে, ঋণ অনিয়মের কারণে প্রচলিত ব্যাংকগুলোর তুলনায় বেশি তারল্যসংকটে ভুগছে শরিয়াহভিত্তিক ব্যাংকগুলো।

বাংলাদেশ ব্যাংক সূত্রে জানা গেছে, গত বছরের ২৪ নভেম্বর ইসলামী ব্যাংকের আমানত ছিল ১ লাখ ৫১ হাজার ৫০৩ কোটি টাকা, যা গত ডিসেম্বর কমে হয় ১ লাখ ৪১ হাজার ৬০ কোটি টাকা। এরপর গত আগস্ট শেষে আমানত বেড়ে ১ লাখ ৪৯ হাজার ১৭ কোটি টাকা হলেও আবার তা কমে ১ লাখ ৪৭ হাজার ৭৯২ কোটিতে নেমেছে। এসব আমানত জমা রেখেছেন প্রায় দেড় কোটি গ্রাহক। ব্যাংকটির আমানতকারীদের বড় অংশ গ্রামীণ এলাকার। তবে ঋণ যাচ্ছে সব ঢাকা ও চট্টগ্রামে।

পলিসি রিসার্চ ইনস্টিটিউটের নির্বাহী পরিচালক আহসান এইচ মনসুর প্রথম আলোকে বলেন, সরকার ও বাংলাদেশ ব্যাংক এই ব্যাংকের অনিয়ম নিয়ে নির্বিকার। আমানতকারীদের অর্থের নিরাপত্তা দিতে এই ব্যাংকের ঋণ দেওয়ার ক্ষমতা এখনই কেড়ে নেওয়া উচিত। দীর্ঘদিন ধরে দেশের ব্যাংকটিকে শেষ করে ফেলা হচ্ছে, সরকারি কোনো উদ্যোগ দেখা যাচ্ছে না।

সরেজমিন যা দেখা গেল

মঙ্গলবার দুপুরে শিবপুর উপজেলার সাধারচর ইউনিয়নের তাতারকান্দী গ্রামের শব মেহের স্পিনিং মিলে গিয়ে নরসিংদী প্রতিনিধি দেখেন যে কারখানাটির প্রধান ফটক বন্ধ, কোনো সাইনবোর্ডও নেই। বেশ কিছুক্ষণ ডাকাডাকির পর আবদুর রহিম (৬৫) ও ফজলুল হক কাজী (৬০) নামের দুজন নিরাপত্তাকর্মী এসে গেট খুললে ভেতরে প্রবেশ করেন এই প্রতিনিধি। প্রথমেই চোখ পড়ে কারখানার দেয়ালে সাঁটানো একটি সাইনবোর্ডের ওপর। সেখানে ইংরেজিতে লেখা ‘শব মেহের স্পিনিং মিলস লিমিটেড, ফাইন্যান্সড বাই জনতা ব্যাংক লিমিটেড’।

স্থানীয় ব্যক্তিরা জানান, তুলা থেকে সুতা তৈরির এই কারখানার প্রতিষ্ঠাতা অ্যাননটেক্সের মালিক ইউনুছ বাদল। দাদি শব মেহেরের নামে সাত-আট বছর আগে কারখানাটি প্রতিষ্ঠা করেন তিনি। প্রথম প্রায় তিন বছর নিজেই পরিচালনা করেন। পরে দুই বছর বন্ধ থাকার পর আরেকটি প্রতিষ্ঠানের কাছে ভাড়া দেওয়া হয়। তারা প্রায় এক বছরের মতো চালানোর পর লোকসান হওয়ায় কারখানা ছেড়ে দেয়। এর পর থেকে এক বছর ধরে কারখানাটি পুরোপুরি বন্ধ রয়েছে। দিনরাতের জন্য মোট ১৪ জন নিরাপত্তাকর্মী ছাড়া এখানে আর কেউ নেই। এক বছর আগেও ৭০০-৮০০ শ্রমিক-কর্মচারী কাজ করতেন।

কারখানাটি ঘুরে দেখা গেছে, বিশাল এলাকাজুড়ে নির্মিত কারখানাটির মাঝখানে বড় অংশজুড়ে টিনের একাধিক শেড। রয়েছে একটি ছয়তলা ভবনও। তবে সব কটিই তালাবদ্ধ। ভবন বাদে বাকি অংশ জঙ্গলে ভরে আছে। নানা জায়গায় ফুটে আছে কাশফুল। তালাবদ্ধ থাকায় ভবনগুলোর ভেতরে থাকা মেশিনপত্র দেখা সম্ভব হয়নি। সূত্র: প্রথম আলো

“দরবেশ বাবা“ সেজে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছে

//দৈনিক বিশ্ব ডেস্ক নিউজ//

অবসরপ্রাপ্ত সরকারি কর্মকর্তা আনোয়ারা বেগমের (৫৯) তিন ছেলে-মেয়েই দেশের বাইরে প্রতিষ্ঠিত। স্বামী দেশের নামকরা চিকিৎসক। কর্মজীবন থেকে অবসরের পর আনোয়ারা বেশির ভাগ সময় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যস্ত থাকেন। এর মধ্যে তিনি কিছুটা পারিবারিক সমস্যায়ও ভুগছিলেন। এ থেকে মুক্তির পথ খুঁজছিলেন।

এ অবস্থায় একদিন ফেসবুকের একটি বিজ্ঞাপনে তার চোখ আটকে যায়। বিজ্ঞাপনে সুন্দর সৌম্য চেহারার দরবেশ বেশধারী এক ব্যক্তি নিজেকে মসজিদে নববির ইমাম দাবি করে বলছেন, তিনি কুরআন-হাদিসের আলোকে মানুষের নানা সমস্যার সমাধান করেন। বিজ্ঞাপনে দুজন মেয়েও সাক্ষাৎকারে বলেন, তারা এই ‘দরবেশ বাবার’ কাছ থেকে নিজেদের সমস্যার সমাধান পেয়েছেন।

আনোয়ারা বেগম বাসার গৃহপরিচারিকার সঙ্গেও বিষয়টি আলোচনা করেন। সে তাকে জানায়, জিন-পরির মাধ্যমে ‘দরবেশ বাবারা’ এসব সমস্যার সমাধান করেন। তার গ্রামের কয়েকজনও এভাবে সমস্যার সমাধান পেয়েছেন। এ কথা শুনে আনোয়ারা বেগম উৎসাহিত হন। এরপর বিজ্ঞাপনে দেওয়া মোবাইল নম্বরে কল করেন। কল দেওয়ার সঙ্গে সঙ্গে ‘দরবেশ বাবা’ তার সঙ্গে খুব সুন্দর করে কথা বলে পারিবারিক সমস্যা শুনতে চান।

‘দরবেশ বাবা’ সমস্যার কথা শুনে তাকে বলেন, ‘মা তোমার সব সমস্যা সমাধান হয়ে যাবে। বাবার ওপর আস্থা রাখ। আমি তোমাকে মা বলে ডাকলাম। আজ থেকে তুমি আমার মেয়ে। তবে মা, কিছু খরচ লাগবে। খরচের কথা কাউকে জানানো যাবে না। যদি জানাও, তবে তোমার সমস্যার সমাধান হবে না। বরং তোমার সমস্যা আরও বাড়বে এবং তোমার ছেলে-মেয়ে ও স্বামীর ক্ষতি হবে।’

এভাবে প্রলুব্ধ করে ‘দরবেশ বাবা’ তার বিকাশ নম্বরে একটা বড় অঙ্কের টাকা পাঠাতে বলেন। এভাবে বিভিন্ন সময়ে ‘দরবেশ বাবা’ আনোয়ারা বেগমকে কল করে বিভিন্ন অজুহাত ও সমস্যা সমাধানের প্রলোভন দেখিয়ে প্রায় ৭ কোটি টাকা হাতিয়ে নেন।

একপর্যায়ে আনোয়ারা বেগম বুঝতে পারেন তিনি প্রতারকের খপ্পরে পড়েছেন। তখন প্রতিকার চেয়ে তিনি মোহাম্মদপুর থানায় মামলা করেন। পরে সিআইডির সাইবার পুলিশ সেন্টারের একটি টিম অভিযোগের সত্যতা যাচাই করে আসামিদের শনাক্ত করে। এরপর রাজধানীর উত্তরা থেকে অভিযুক্ত মো. তানজিল আহমেদ ওরফে তানজিদ হাসানকে গ্রেফতার করে। তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ভোলার বোরহানউদ্দিন থেকে গ্রেফতার করা হয় চক্রের মূল হোতা হাসেমকে।

সিআইডি জানিয়েছে, গ্রেফতার দুজনকে জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায়, এ চক্রের মূল হোতা মো. হাসেম। সে প্রথমে বিকাশ ও রকেটের মাধ্যমে ছোট অঙ্কের টাকা নিত। এরপর বড় অঙ্কের টাকা নেওয়ার সময় তানজিদ হাসানকে আনোয়ারা বেগমের কাছে পাঠাত এবং সে একসঙ্গে ৩০-৪০ লাখ টাকা নিয়ে যেত। এভাবে ধাপে ধাপে তারা আনোয়ারা বেগমের কাছ থেকে প্রায় সাত কোটি টাকা নিয়েছে।

হাসেম জানিয়েছে, ২০০৫ সাল থেকে সে এভাবে মানুষকে প্রতারণা করছে। প্রথমদিকে সে বিভিন্ন পত্রিকা ও টিভি চ্যানেলে বিজ্ঞাপন দিত। পরে ২০১৬ সাল থেকে পত্রিকা ও টিভি চ্যানেলের পাশাপাশি ইউটিউব ও ফেসবুকে বিজ্ঞাপন দেওয়া শুরু করে। প্রতিমাসে সে ফেসবুকে চার লাখ টাকা খরচ করে বিজ্ঞাপন দিত এবং পোস্ট বুস্ট করত। মধ্যপ্রাচ্যে কর্মরত স্বল্পশিক্ষিত প্রবাসী বাঙালিদের টার্গেট করে সৌদি আরব, দুবাই, ওমানসহ সিঙ্গাপুর ও মালয়েশিয়ায় সে দেশভিত্তিক বিজ্ঞাপন প্রচার করত। এছাড়াও সে ইউরোপের ইতালি ও ফ্রান্সে বিজ্ঞাপনও প্রচার করত। এভাবে সে পত্রিকা, টিভি চ্যানেল, ইউটিউব ও ফেসবুকে বিজ্ঞাপন দেওয়ার মাধ্যমে অসংখ্য মানুষের সঙ্গে ‘দরবেশ বাবা’ পরিচয় দিয়ে কথা বলত ও তাদের কাছ থেকে বিভিন্ন ভয়-ভীতি ও প্রলোভন দেখিয়ে কৌশলে টাকা হাতিয়ে নিত। দরবেশ বাবা রূপি প্রতারক হাসেম হিন্দি ও আরবি ভাষায় কথা বলাসহ বিভিন্ন রকম কণ্ঠে কথা বলতে দক্ষ।

সিআইডি আরও জানিয়েছে, প্রতারক হাসেম ফ্রান্স প্রবাসী মো. ইমাম হোসেনকে ১২ কোটি টাকার লটারি জিতিয়ে দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে দেড় কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছে। এছাড়া আরেক ইতালি প্রবাসীর কাছ থেকে লটারি ও জুয়ায় জিতিয়ে দেওয়ার কথা বলে হাতিয়ে নিয়েছে প্রায় ৪০ লাখ টাকা।

অনুসন্ধানে সিআইডি জেনেছে, মধ্যপ্রাচ্যে এই প্রতারকচক্রের এমন ২০ থেকে ২৫ জন ক্লায়েন্ট আছে। মালয়েশিয়াতে আছে ১০ থেকে ১২ জন। এর মধ্যে ৫ থেকে ৬ জন ফিক্সড ক্লায়েন্ট আছেন যারা গত ৪-৫ বছর ধরে নিয়মিত এই দরবেশ রূপি প্রতারককে টাকা দিয়ে আসছেন।

গ্রেফতার এ দুই প্রতারকের বিরুদ্ধে মোহাম্মদপুর থানায় মামলা হয়েছে। মামলাটি বর্তমানে সিআইডিতে তদন্তাধীন রয়েছে।

Daily World News

আজ শ্রী শ্রী বিশ্বকর্মা পূজা

খুলনা-সাতক্ষীরা মহাসড়কের গুটুদিয়া এলাকায় অবৈধ স্হাপনা উচ্ছেদ অভিযান চালিয়েছে সড়ক ও জনপথ বিভাগ

নজিপুরে ভূমিদস্যু মোস্তফা ও নুরুলের জালিয়াতিঃ চৌধুরীপাড়ার জোলেখার মৃত্যু

//বিশেষ প্রতিনিধি//

উত্তরবঙ্গের সীমান্তবর্তী নওগাঁ জেলায় জাল দলিল সিন্ডিকেট চক্রের তৎপরতা উদ্বেগজনক। সাবরেজিস্ট্রি অফিসের একটি চক্র মোটা অংকের বিনিময়ে এই কর্মকাণ্ড দীর্ঘ দিন ধরে চালিয়ে আসছে।

প্রকাশ, সাপাহার উপজেলার চৌধুরীপাড়ার বাসিন্দা জোলেখা খানম চৌধুরী এধরনের জালিয়াতি ও প্রতারণার কারণে  স্ট্রোক করে মারা যায়। যা এলাকায় ব্যপকভাবে আলোচিত হয়। কিন্তু জোলেখার মৃত্যুর জন্য দায়ী ব্যাক্তিদের আইনের আওতায় আনা এখনো সম্ভব হয়নি।

অনুসন্ধানে জানা যায়, পৈত্রিক সূত্রে প্রাপ্ত জোলেখা চৌ: তার কিছু সম্পদ একমাত্র ছেলে আজিজার রহমান কে  তার কন্যা দেলুয়ারার সামনে দান করে, দখলও বুঝে দেন। গত ২১/০১/১৯ তারিখে ৩০৯নং হেবার ঘোষণা দলিল রেজিস্ট্রিও তিনি করে দেন ।

মায়ের প্রদত্ত সমুদয় সম্পত্তি আজিজার রহমানের ভোগ দখলে রয়েছে। ইতিমধ্যে মুনিকুড়া-১৩২, মৌ:,খং১৭৯,০৪দাগে২১২ শতক জামি আম বাগান তৈরির জন্য এর কাছথেকে গত জুন’১৯থেকে , পোরশা থানার (দুয়ারপাল)মি:রুবেল১২বছরের লিজ নিয়ে, আমবাগান করে আছেন।

এরই মাঝে ধামইরহাট উপজেলার খেলনা গ্রামের বাসিন্দা নুরুল ইসলাম এই সম্পত্তি গ্রাসের নীল নকশা করে। তার বিরুদ্ধে এলাকায় বিভিন্ন অপরাধ ও জালিয়াতির সাথে সম্পৃক্তের বহু অভিযোগ রয়েছে। খেলনা স্কুলের শিক্ষক হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে দুর্নীতি ও চেক জালিয়াতির অভিযোগে চাকরীচ্যুত হন। ধামুইরহাট  থানায় একটি খুনের মামলাও রয়েছে তার বিরুদ্ধে।

নজিপুর বাজারে মাস্টার ট্রেডার্স নামক রড-সিমেন্টের দোকান খুলে সাধারণ মানুষ, এনজিও, ব্যাংক থেকে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে দীর্ঘদিন গা-ঢাকা দিয়েছিলেন তিনি। এই ব্যবসা গুটিয়ে ম্যানেজার হিসেবে যোগ দেন তার পৌত্রা নজিপুর বাজারের গোলাম মোস্তফার ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে।

তারপর তালই-পৌত্রা মিলে শুরু করেন জাল-জলিয়াতি ও ভূয়া দলিল সৃজনের সিন্ডিকেট ব্যবসা। জোলেখা চৌধুরী  ও তাঁর ছেলের দুর্বলতা ও অসহায়ত্বের সুযোগে বানোয়াট দলিল মূলে রাতারাতি মাণিকুরা মৌজার ২.১২ শ: জমি প্রভাব খাটিয়ে খারিজ করে ফেলে ভূমি দস্যু গো: মোস্তফা। যার নং ৩০৩/২০। সেই সাথে আজিজার রহমানের লিজ দেওয়া ২.১২ শতক আমবাগান সন্ত্রাসী দালালদের মাধ্যমে (দখল না থাকা সত্ত্বেও)বিক্রি ও হুমকির অপচেষ্টা চালায়, এব্যাপারে আমবাগানের লিজ গ্রহীতা রুবেল আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহনের জন্য জিডি সহ অন্যান্য ব্যবস্হা নেন।

বিষয়টি জানাজানি হলে একমাত্র পুত্র আজিজার রহমানের চিন্তায় জোলেখা খানম অসুস্থ হয়ে পড়েন। কাগজপত্র সংগ্রহ করে দেখা যায় সৃজনকৃত ভূয়া দলিলে জুলেখার স্বাক্ষর নাই। ভোটার আইডির সাথে দলিলের ঠিকানার মিল নেই।

জোলেখা চৌধুরী তার ছেলেমেয়েসহ বিষয়টি চ্যালেঞ্জ করে ভূয়া দলিল সৃজন চক্রের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহনের জন্য স্বশরীরে হাজির হয়ে সাপাহার সহাকারী কমিশনার (ভূমি) বরাবর ১৬/০৩/২তাংএও ইউএনও ৬/৪/২২তা্ংএ লিখিত আবেদন করেন।এছাড়াও এই চক্রান্তের প্রতিকার পেতে,মান্যবর মি: আলম চৌধুরী:, মি:মাসুদ সেক্রে: ই: র নিকট হাত ধরে অনুরোধ করেন।

যার প্রেক্ষিতে প্রশাসনিক তদন্ত ও খারিজ (৩০৩/২০) বাতিলের জন্য মিস কেস করা হয়। সহকারী কমিশনার বিষয়টির ULAO তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের জন্য ইউনিয়ন সহকারী ভূমি কর্মকর্তাকে নির্দেশ দেন। যার স্মারক নং ৩২৩ তাং ৩১/৭/২২। সাপাহার -তিলনা ইউনিয়ন ভূমি  কর্মকর্তা সিরাজুল ইসলাম ২৬/১২/২২ তারিখে ৩৩০/২২ স্বারকের এক তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করে। ৩০৩/২০নং খারিজ সম্পতি জেল নং ১৩২, মাকিকুড়া মৌজার আরএস ১৭৯ নং খাতিয়ানভূক্ত জমিটি হেবা দলিল মুলে মোঃ আজিজার রহমানকে ভোগ দখলদার মালিক হিসেবে উল্লেখ করা হয়। উক্ত জমিতে আজিজার রহমানের লিজ প্রদত্ত দখলদার রুবেলের আমবাগানের স্বীকৃতি প্রদান করা হয়।

ভূমি দস্যুদের তৎপরতা, জাল দলিল, খারিজ বিষয়ক টেনশন ও একমাত্র ছেলে আজিজার রহমানের হয়রানীর দুশ্চিন্তায় জোলেখা চৌধুরী স্ট্রোকের শিকার হন, উন্নত চিকিৎসার জন্য ভর্তি করা হয় রাজশাহী মেজিকেল কলেজ হাসপাতালে। তিনি চিকিৎসাধীন অবস্থায় হাসপাতালে মৃত্যুবরন করেন। যা এলাকায় হৃদয় বিদারক পরিবেশ সৃষ্টি করে।

এলাকাবাসী অবিলম্বে জাল দলিল সৃজন সিন্ডিকেট দলের গড ফাদার নুরুল ইসলাম সরকার ও গোলাম মোস্তফার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহন ও ভূয়া ৩০৩/২০ নং খারিজটি দ্রুত বাতিলের যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহনের জন্য প্রশাসনের উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনাকরেন।

এমপি রেজাউল করিম বাবলুর বিরুদ্ধে শতকোটি টাকা দুর্নীতির অভিযোগ

//দৈনিক বিশ্ব ডেস্ক//

বগুড়া-৭ (গাবতলী-শাজাহানপুর) আসনে বহুল আলোচিত স্বতন্ত্র সংসদ-সদস্য রেজাউল করিম বাবলুর বিরুদ্ধে কাবিখা, কাবিটা, টিআর, এডিবিসহ বিভিন্ন প্রকল্প দেওয়ার নামে বিপুল অঙ্কের টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। গত প্রায় পাঁচ বছরে দুর্নীতির মাধ্যমে শতাধিক কোটি টাকার মালিক হয়েছেন। নির্বাচনি হলফনামায় তার বিরুদ্ধে থাকা মামলার তথ্য গোপন করেছেন। ভুক্তভোগীরা এমপি বাবলুর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে সরকারের সংশ্লিষ্ট বিভাগের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

বগুড়ার শাজাহানপুরের মাঝিরা ইউনিয়নের ওয়ার্ড সদস্য মজিবুর রহমান ও অন্যরা অভিযোগ করেন, সংসদ-সদস্য রেজাউল করিম বাবলু একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের হলফনামায় তার বাৎসরিক আয় প্রায় পাঁচ হাজার টাকা উল্লেখ করেন। সে হিসাবে তার মাসিক আয় ছিল ৪১৭ টাকা। ব্যাংক হিসাব শূন্য ও একটি মাটির বাড়ির কথা উল্লেখ করেছিলেন।

তিনি ২০০৭ সালে নিজের প্রতিষ্ঠিত কারিগরি বিদ্যালয়ে চাকরি দেওয়ার নামে ঘুস নেওয়ায় এক ব্যক্তি মামলা করেছিলেন। এমপি হলফনামায় ৩(ক) ও ৩ (খ)তে তার বিরুদ্ধে মামলা থাকার তথ্য গোপন করেন।

অনুসন্ধানে জানা যায়, আগে পুরাতন মোটরসাইকেলে চলাফেরা করলেও সংসদ-সদস্য হওয়ার দুই মাসের মাথায় ৩৪ লাখ টাকা দামের গাড়ি কিনে সবাইকে তাক লাগিয়ে দেন। মাটির বাড়ি ভেঙে বহুতল ভবন নির্মাণ চলছে। শাজাহানপুর উপজেলার ডোমনপুকুর, মাঝিরাসহ বিভিন্ন এলাকায় চার জামাতাকে ভবন নির্মাণ করে দিয়েছেন। ডোমনপুকুর এলাকায় মাঝিরা বিএম কলেজ প্রতিষ্ঠা করতে নিজের টাকায় জায়গা কিনেছেন।

নিজেই দাবি করেন, তিনি (এমপি) শতকোটি টাকার মালিক। ২০২০ সালের অক্টোবরে অস্ত্র ও ম্যাগাজিনসহ নিজের একটি ছবি ফেসবুকে ভাইরাল করে তুমুল সমালোচিত হন এমপি বাবলু।

তারা আরও বলেন, এমপি বাবলু এলাকার মসজিদ, মাদ্রাসা, মন্দির, গোরস্থান, ক্লাব ও সমিতিকে টাকা ছাড়া কোনো প্রকল্প দেন না। কাবিখা, কাবিটা, টিআর, এডিবি, সৌর প্যানেল, টিউবওয়েলসহ সরকারের যত প্রকল্প আছে সব টাকার বিনিময়ে দিয়ে থাকেন। গত প্রায় পাঁচ বছরে জ্ঞাত আয়বহির্ভূত কোটি কোটি টাকার মালিক হওয়ায় দুদক বগুড়া সমন্বিত কার্যালয় থেকে তাকে নোটিশ করা হয়েছিল। তদন্তে অনেক অবৈধ সম্পদ ও সম্পত্তির সন্ধান পাওয়ায় তদন্তকারী কর্মকর্তা তার বিরুদ্ধে মামলার প্রস্তুতি নেন। সেই কর্মকর্তা বদলি হওয়ার পর এমপি বাবলু মামলার কার্যক্রম চাপা দিয়ে রেখেছেন। তারা এমপির সীমাহীন অনিয়ম, দুর্নীতি ও সরকারি বরাদ্দে স্বজনপ্রীতি ও লুটপাটের বিচার চেয়ে সরকারের সংশ্লিষ্ট বিভাগের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

শাজাহানপুর উপজেলা যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক বাদশা আলমগীর অভিযোগ করেন, এমপি বাবলু কাবিটা-কাবিখা প্রকল্পে মাটি কাটার কাজ দেওয়ার নামে তার কাছে চার লাখ টাকা নেন। আজ পর্যন্ত প্রকল্প পাননি। তাকে টাকাও ফেরত দেওয়া হয়নি। এ টাকা ফেরত নিয়ে বাগবিতণ্ডায় এমপি শাজাহানপুর উপজেলা চেয়ারম্যান সোহরাব হোসেন ছান্নুর দিকে পিস্তল তাক করেছিলেন। এমপি বাবলু কয়েক বছরে প্রকল্প দেওয়ার নামে অনেকের কাছ থেকে টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন।

উপজেলার খোট্টাপাড়া ইউনিয়নের ঘাসিরা উত্তরপাড়ার বীর মুক্তিযোদ্ধা জহুরুল ইসলামের ছেলে আশরাফ আলী মিঠু অভিযোগ করেন, এমপি বাবলু ও তার পিএ রেজাউল করিম রেজা তাকে ১২টি প্রকল্পের কাজ দেওয়ার নামে তিন লাখ টাকা নিয়েছিলেন। কিন্তু কাজ দেওয়া হয়নি। অনেক দেনদরবার করে মাত্র ২০ হাজার টাকা ফেরত পেয়েছেন। তার অসুস্থ মায়ের চিকিৎসার জন্য প্রধানমন্ত্রী ৫০ হাজার টাকা অনুদান দিয়েছিলেন। সেখান থেকেও এমপি পাঁচ হাজার টাকা কেটে নিয়েছেন।

দুদক বগুড়া সমন্বিত কার্যালয়ের একটি সূত্র জানায়, বগুড়া-৭ আসনের সংসদ-সদস্য বাবলু নির্বাচনি হলফনামায় যে সম্পদ বিবরণী দাখিল করেছিলেন এর চেয়ে অনেক বেশি সম্পদ অর্জন করেছেন। তার বিরুদ্ধে বগুড়ায় নির্মাণাধীন বহুতল বাড়ি, ঢাকায় ফ্ল্যাট, ব্যক্তিগত ৩-৪টি গাড়ি কেনার তথ্য রয়েছে। এর মধ্যে শুল্কমুক্ত একটি বিলাসবহুল পাজেরোও আছে। নোটিশের প্রেক্ষিতে এমপি বাবলু ২০২১ সালের ২৩ জুন তার সম্পদ বিবরণী জমা দেন।

সাবেক সহকারী পরিচালক আমিনুল ইসলাম জানান, তিনি তদন্তকালে এমপি বাবলুর স্ত্রীর নামে কোটি টাকার বেশি ও এমপির নামে ৬০-৭০ লাখ টাকা জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ পেয়ে প্রতিবেদন দাখিল করেছিলেন। এ ব্যাপারে তাদের বিরুদ্ধে মামলা হওয়ার কথা। এতদিন কেন মামলা হয়নি তা বোধগম্য নয়। প্রতিষ্ঠানের বর্তমান উপপরিচালক জাহাঙ্গীর আলম জানান, এমপি বাবলু তার সম্পদ বিবরণী জমা দিয়েছেন। যা বর্তমানে অনুসন্ধানে রয়েছে।

এসব অভিযোগ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে শুক্রবার বিকালে ফোনে সংসদ-সদস্য রেজাউল করিম বাবলু বলেন, তার বিরুদ্ধে অভিযোগকারীরা সবাই মাদকসেবী। তারা কারও ইন্ধনে ও চাঁদা না পেয়ে তার ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করার জন্য মিথ্যাচার করছেন। তিনি প্রকল্প দেওয়ার নামে কারও কাছ থেকে কখনো টাকা নেননি। জ্ঞাত আয়বহির্ভূত কোনো সম্পদ অর্জন করেননি বলেই দুদক তার বিরুদ্ধে মামলা করেনি। তিনি দাবি করেন, তার চার জামাতা অনেক ধনী। তারা নির্বাচনের সময় তাকে সহযোগিতা করেছে। এখনো অনেক সহযোগিতা করে থাকে। তাই তাদের ভবন নির্মাণ করে দেওয়ার প্রশ্নই ওঠে না। এছাড়া তিনি নিজেও কোনো ভবন নির্মাণ বা বাড়ি-ফ্ল্যাট ক্রয় করেননি। সূত্র: যুগান্তর

Daily World News

সিচুয়েশনশিপ হ্যাঁ ঠিক পড়েছেন, এটা সম্পর্কের এক নতুন নাম

হান্টার বাইডেন অস্ত্র মামলায় অভিযুক্ত ডেলাওয়্যারের একটি আদালতে

ষ্টেশনে পানি বিক্রি করা থেকে জুয়েল গড়ে তুলল অপরাধের সাম্রাজ্য

//দৈনিক বিশ্ব ডেস্ক//

চট্টগ্রাম রেলওয়ে স্টেশন এলাকায় অপরাধের সাম্রাজ্য গড়ে তুলেছেন মো. জুয়েল নামে এক যুবক। তিন বছর আগেও স্টেশনের প্ল্যাটফর্মে ফেরি করে পানির বোতল বিক্রি করা জুয়েল রীতিমতো বাহিনী গড়ে তুলেছেন। এ বাহিনীতে রয়েছে অর্ধশত শিশু-কিশোর। ভাসমান এসব শিশু-কিশোরের মাধ্যমে স্টেশন এলাকায় চলে মাদক, ছিনতাই, চাঁদাবাজিসহ সব ধরনের অপরাধ। কেবল তাই নয়, জুয়েল বাহিনীর নেতৃত্বে এ এলাকায় প্রকাশ্যে চলে পতিতাবৃত্তি ও জুয়ার আসর। তাদের ছত্রছায়ায় মাদক সেবন ও বেচাকেনায় যারা জড়িত, তারাও থাকেন নির্ভয়ে। অপরাধের এ হটস্পট পয়েন্ট থেকে রেলযাত্রীদের মোবাইল ফোন ও হাতব্যাগ ছিনিয়ে নেওয়া যেন এখন নিত্যনৈমিত্তিক ঘটনা হয়ে দাঁড়িয়েছে। আর প্রতিরোধ করতে গিয়ে জুয়েল বাহিনীর হামলার শিকার হয়েছেন খোদ রেলওয়ে নিরাপত্তা বাহিনীর (আরএনবি) সদস্যরা। এ বিষয়ে একাধিকবার আরএনবির পক্ষ থেকে থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হলেও দৃশ্যমান কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। ফলে জুয়েল বাহিনীর দৌরাত্ম্য দিন দিন বেড়েই চলেছে।

সূত্র জানায়, ১৬ জুলাই চট্টগ্রাম রেলওয়ে স্টেশনের অটোরিকশা পার্কিং এলাকায় জুয়ার আসর বন্ধে অভিযান চালান আরএনবি সদস্যরা। একই সঙ্গে ভাসমান দোকানদার সরিয়ে দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়। তবে কিছু দোকান সরে গেলেও জুয়েল বাহিনীর একটি দোকান সরাতে গিয়ে বিপত্তিতে পড়েন আরএনবি। রেলওয়ের জায়গা থেকে সরে না গিয়ে জুয়েল বাহিনীর সদস্য মো. গফুর আরএনবি সদস্যদের ওপর চড়াও হন। একপর্যায়ে লাঠিসোঁটা নিয়ে আরএনবি সদস্যদের মারধর করতে এগিয়ে গেলে নিজেদের চৌকিতে গিয়ে আত্মরক্ষা করেন বাহিনীর সদস্যরা।

এ নিয়ে ওই দিনই কোতোয়ালি থানায় আরএনবির জেনারেল শাখার সিআই মোহাম্মদ আমান উল্লাহ আমান বাদী হয়ে সাধারণ ডায়েরি করেন। এর আগে গত বছরের ৩১ অক্টোবর স্টেশন এলাকায় অবৈধ দোকান সরাতে গিয়ে জুয়েল বাহিনীর হামলার শিকার হন আরএনবি সদস্যরা। খবর পেয়ে রেলওয়ে থানা পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনলেও ঘটনাস্থল থেকে কাউকে আটক বা গ্রেফতার করেনি। ওই ঘটনায় ২ নভেম্বর কোতোয়ালি থানায় জিডি করেন চৌকির সিআই আমানউল্লাহ আমান। তবে কোনো ঘটনাতেই জুয়েল বাহিনীর কেউ আইনের আওতায় আসেনি। এরপর থেকে জুয়েলের কোনো কাজে পারতপক্ষে বাধা দিতে দেখা যায়নি আরএনবি সদস্যদের।

আরএনবির চট্টগ্রাম জেনারেল শাখার সিআই আমানউল্লাহ আমান বলেন, ‘স্টেশন এলাকায় অবৈধ স্থাপনা সরাতে গিয়ে বিভিন্ন সময় প্রতিকূল পরিস্থিতিতে পড়তে হয়। এ বিষয়গুলো আমাদের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে।’

নগরীর কোতোয়ালি থানাধীন পুরাতন রেলওয়ে স্টেশনের পশ্চিম কোনায় প্রকাশ্যে বিক্রি হয় গাঁজা। মাদকের এ স্পটটি গুজার গাঁজার স্পট হিসাবে পরিচিত। এ ছাড়া নতুন স্টেশনের উত্তর দিকের পার্কিং মাঠে রয়েছে মিনা নামে এক নারীর গাঁজা ও ইয়াবার স্পট। নগরীর ৮০ শতাংশ গাঁজা সেবনকারী এ দুটি স্পট থেকে মাদক সংগ্রহ করে থাকে। মাদকের দুটি স্পটই নিয়ন্ত্রণ হয় জুয়েলের মাধ্যমে। কেবল এ দুটি স্পট ছাড়াও স্টেশন এলাকার চোলাই মদ বিক্রেতারাও জুয়েল বাহিনীকে ম্যানেজ করতে হয়। অপর দিকে জুয়েলের নেতৃত্বে অটোরিকশা পার্কিং মাঠে প্রতিদিন বিকাল থেকে আয়োজন করা হয় ইন্ডিয়ান তির খেলা নামক অনলাইন জুয়ার আসর। এ আসরে দায়িত্ব পালন করেন জুয়েল বাহিনীর রনি, আকাশ, সুমন ওরফে চান্দি সুমন ও জয়নাল। রাত ১১টার পর অটোরিকশা পার্কিংয়ের ছাদের ওপর বসে জুয়ার আসর। এ আসরটি চলে সকাল ৮টা পর্যন্ত। শফিকুল নামে এক যুবক এ আসরটি নিয়ন্ত্রণ করেন। শফিকুল জুয়েলের সবচেয়ে বিশ্বস্ত সহচর। এ ছাড়া রয়েছে জনি, জলিল, তারেক, ছোট জুয়েল, কামাল, খোকন, হাসান ওরফে মামা হাসান অন্যতম।

স্টেশন এলাকার আবাসিক হোটেলগুলোতে পতিতাবৃত্তি চালাতে হলে জুয়েল বাহিনীকে প্রতি মাসে মাসোয়ারা দিতে হয়। মেহেদী নামে এক যুবক হোটেল সিলটন, বসুন্ধরা, আলী বোর্ডিং, গনি বোর্ডিং, ইরেন, মেট্রো ইন এবং স্টেশনের অভ্যন্তরে দুটি আবাসিক হোটেল জুয়েলের নামে মাসোয়ারা নিয়ে থাকে। এ ছাড়া স্টেশন এলাকার ৩০ জন পতিতা ও ১০ দালালের কাছ থেকে প্রতিদিন জুয়েলের নামে চাঁদা আদায় করে শিউলি, নুর জাহান ও ফারুক ওরফে ঠোঁট কাটা ফারুক।

পুরাতন স্টেশনসংলগ্ন ফলের আড়তে সড়কে গাড়ি রেখে মালামাল আনলোড করতেও জুয়েল বাহিনীকে চাঁদা দিতে হয়। স্টেশন এলাকায় যাত্রীদের মোবাইল ও ব্যাগ ছিনতাইয়ে সঙ্গে জুয়েলের অন্তত ২০ শিশু-কিশোর রয়েছে। তারা সকাল, বিকাল ও রাতে তিন শিফটে ছিনতাই করে থাকে বলে জানা গেছে। অভিযোগ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে মো. জুয়েল বলেন, ‘স্টেশনের ছাদের ওপরের জুয়ার আসর এবং অনলাইন জুয়ার আসর ছাড়া অন্য কিছুর সঙ্গে আমার সম্পৃক্তা নেই। যারা আমার বিষয়ে এসব কথা বলেছে তারা ভুল বলেছে।’ কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জাহিদুল কবির বলেন, ‘রেলওয়ে স্টেশন এলাকায় যে কোনো অপরাধের খবর পেলেই তাৎক্ষণিক অভিযান চালানো হয়। সর্বশেষ বৃহস্পতিবার রাতে স্টেশন এলাকায় জুয়ার আসর চলছে-এমন সংবাদ পেয়ে অভিযান চালানো হয়েছে। তবে সেখান থেকে কাউকে গ্রেফতার করা সম্ভব হয়নি।’সূত্র: যুগান্তর

Daily World News

রামপালে ওয়ারেন্টভুক্ত অস্ত্র মামলার আসামীসহ গ্রেফতার- ২

ডুমুরিয়ায় ব্র‍্যাকের আয়োজনে স্কুল শিক্ষার্থীদের তরুন‍্যের জ্ঞান মেলা, কুইজ বির্তক ও চিত্রাংঙ্কন প্রতিযোগিতা এবং আলোচনা সভা

খুলনার সুন্দরবন ফার্ম কি আসলে হালাল নাকি টাকা আত্মসাতের ফাঁদ

//দৈনিক বিশ্ব ডেস্ক নিউজ//

খুলনায় নামসর্বস্ব কিছু প্রতিষ্ঠান ও সমিতি নানা কৌশলে সরলপ্রাণ মানুষের কষ্টের টাকা আত্মসাৎ করছে। সুদবিহীন হালাল বিনিয়োগের কথা বলে জনগণের পকেট থেকে প্রায় ছয় কোটি টাকা উঠিয়ে নিয়েছে প্রতিষ্ঠানগুলো। স্থানীয় প্রশাসনসহ সরকারি দপ্তরগুলোকে ম্যানেজ করেই এমন প্রতারণা চলছে।

মঙ্গলবার রাতে খুলনার স্থানীয় বাসিন্দা শাহাদাত হোসেন বাবুলের মোবাইল ফোনে একটি খুদে বার্তা আসে। সেখানে উল্লেখ করা হয়, ১০০ শতাংশ সুদবিহীন হালাল বিনিয়োগ করুন এবং প্রতিমাসে বুঝে নিন ২০-২৫ শতাংশ লভ্যাংশ। জিরো পয়েন্ট, খুলনা। সঙ্গে একটি ওয়েবসাইটের অ্যাড্রেস দেওয়া হয়।

ওই ওয়েবসাইটে ঢুকে দেখা যায়, সুন্দরবন ফার্ম নামে প্রতিষ্ঠানের বর্ণনা সংবলিত এক পাতা লেখা রয়েছে। একই সঙ্গে প্রতিষ্ঠানটির ‘সুন্দরবন ফার্ম’ নামে একটি সাইট ও ফেসবুক লিংক দেওয়া রয়েছে। প্রতিষ্ঠানটির সংক্ষিপ্ত বিবরণীতে উল্লেখ রয়েছে, ‘২০১৬ সাল থেকে সুন্দরবন ফার্ম সুনামের সঙ্গে কৃষি ক্ষেত্রকে উন্নত ও আধুনিকায়ন করার লক্ষ্যে কাজ করে যাচ্ছে। সেই ধারাবাহিকতাকে আরও গতিশীল করতে সাধারণ জনগণের মধ্য থেকে স্বল্পসংখ্যক শেয়ারহোল্ডার বা বিনিয়োগকারীর সন্ধান করছি, যারা আমাদের প্রতিষ্ঠানে তাদের কষ্টার্জিত অর্থ বিনিয়োগ করে আকর্ষণীয় মুনাফা অর্জন করতে পারবেন। আপনি আগ্রহী হলে ফর্মটি পূরণ করুন। আমরাই আপনার সঙ্গে যোগাযোগ করব।’ এরপর নিচে একটি ফর্ম দেওয়া।

শাহাদাত হোসেন বলেন, ‘আমি ওয়েবসাইটে থাকা একটি নম্বরে ফোন করে বিস্তারিত জানতে চাই। আমাকে বিনিয়োগ করতে বলা হয়। এভাবে অসংখ্য মানুষের কাছে মেসেজ এসেছে। আমি জেনে-বুঝে দেখলাম এটি প্রতারণার ফাঁদ। তাহলে যারা সচেতন নয়, তারা তো টাকা দেবে অনায়াসে। দুদিন পর এই টাকা নিয়ে চক্রটি পালিয়ে যাবে। এসব মেসেজ প্রশাসন কেন চোখে দেখে না।’

এমন তথ্য পেয়ে জিরো পয়েন্ট এলাকায় ওই অফিসে গিয়ে দেখা যায়, মূল সড়ক থেকে প্রায় দুই-আড়াই কিলোমিটার ভেতরে রাস্তার পাশে একটি টিনশেড ঘরে অফিস করা হয়েছে। তিনটি কম্পিউটার নিয়ে বসে আছেন প্রতিষ্ঠানের মালিক মুজাহিদুল ইসলাম। পেছনের দেওয়ালে টিন, ট্যাক্স, ট্রেড লাইসেন্সের কপিগুলো টানানো। পাশের একটি কক্ষে বেশকিছু কৃষি যন্ত্রপাতি রাখা রয়েছে। এগুলোর মধ্যে মিনি ট্রাক্টর, ঘাস ও ধান কাটার মেশিন উল্লেখযোগ্য। জানা যায়, প্রতিষ্ঠানটিতে বিনিয়োগ করা শুরু করেছেন মানুষ। ইতোমধ্যে প্রায় দুই কোটি টাকা মাঠ থেকে উঠিয়ে নিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি।

টাকা নেওয়ার এমন কৌশলের বিষয়ে জানতে চাইলে মুজাহিদুল ইসলাম বলেন, ‘আমরা কৃষি বিভাগের সঙ্গে সমন্বয় করে এই সেক্টরের বিভিন্ন যন্ত্রাংশ বিক্রি করি। চায়না থেকে এগুলো আমদানি করা হয়। জনগণের কাছে বিক্রি করি। আমাদের মূলধন ক্যাপাসিটি কম। তাই জনগণের কাছ থেকে বিনিয়োগ আশা করছি। আমদানি করা পণ্য বিক্রিতে আমাদের ৪০/৫০ শতাংশ লাভ হয়। এর মধ্য থেকে ২০/২৫ শতাংশ লভ্যাংশ আমরা বিনিয়োগকারীদের দিলে তো আমাদের ক্ষতি নেই।’

এভাবে শেয়ার নেওয়ার বৈধতার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘ব্যক্তিগত ট্রেড লাইসেন্স দিয়ে মানুষ চাইলে আমানত সংগ্রহ করতে পারে। অবৈধতার কিছু নেই। আমরা তো চুপিসারে করছি না। প্রকাশ্যে করছি, তাহলে অসুবিধা কোথায়।’

এ বিষয়ে বটিয়াঘাটা উপজেলার এসি ল্যান্ড ও নির্বাহী কর্মকর্তা (অতিরিক্ত দায়িত্ব) আব্দুল্লাহ ইবনে মাসুদ আহমেদ বলেন, ‘এমনভাবে টাকা নেওয়ার বৈধতা নেই। এ বিষয়ে খোঁজ নিচ্ছি। সত্যি হলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

খুলনা জেলা প্রশাসনের এনডিসি রূপায়ণ দেব বলেন, ‘ব্যক্তিগত ট্রেড লাইসেন্সের বিপরীতে জনগণের কাছ থেকে টাকা নেওয়ার কোনো সুযোগ নেই। আমরা অভিযান চালিয়ে ব্যবস্থা গ্রহণ করব।’

এদিকে তিন মাসে খুলনা থেকে এমন নামসর্বস্ব আরও দুটি প্রতিষ্ঠান কয়েক কোটি টাকা নিয়ে উধাও হয়েছে। নগরীর নিরালা নাজিরঘাট এলাকায় জনসেবা শ্রমজীবী সমবায় সমিতি নামে সংগঠন পরিচালনা করতেন মাসুদ ইয়াদ। তিনি বুধবার সমিতির সব আসবাবপত্রসহ প্রায় ১ কোটি টাকা নিয়ে পালিয়েছেন। এ সমিতির গ্রাহক প্রায় ৭শ। তারা খুলনা সোনাডাঙ্গা মডেল থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন।

এছাড়া নগরীর পিটিআই মোড়ে অবস্থিত স্যাংগুইন সঞ্চয় ও ঋণদান সমবায় সমিতির চেয়ারম্যান আহসাবুর রহমান প্রায় তিন কোটি টাকা নিয়ে পালিয়েছেন। ওই সমিতির অন্তত দেড় হাজার গ্রাহক এখন থানায় দ্বারস্থ হয়েছেন টাকা ফেরত পেতে।

সমিতির ব্যবস্থাপক ও মাঠকর্মী আবু ছাত্তার সানা বলেন, স্যাংগুইন সঞ্চয় ও ঋণদান সমবায় সমিতিটি সমবায় দপ্তর থেকে রেজিস্ট্রেশন নেওয়া। সমিতিটির চেয়ারম্যান শেখ আহসাবুর রহমান। ব্যবস্থাপনা পরিচালক তার ছেলে শেখ মেহেদী হাসান। ফিক্সড ডিপোজিট করার অনুমোদন না থাকলেও চেয়ারম্যান নিজে অবৈধভাবে বিভিন্ন মানুষের কাছ থেকে বেশি মুনাফা দেওয়ার লোভ দেখিয়ে টাকা জমা রাখতেন।

এভাবে সমিতির নামে অর্থ আদায়ের বিষয়ে খুলনা জেলা সমবায় কর্মকর্তা বলেন, যেসব প্রতিষ্ঠান টাকা নিয়ে পালিয়ে যাচ্ছে তাদের কোনো নিবন্ধন নেই। কেউ কেউ উদ্দেশ্যমূলকভাবেই প্রতারণা করতে মাঠে নামে। এজন্য সবার সচেতন হওয়া জরুরি।

Daily World News

রূপসায় সড়ক ধ্বসে পুকুরের মধ্যে দূর্ঘটনার আশঙ্কা পথচারিদের