বাগেরহাটের কচুয়ায় দুই ট্রাক চোরাই কয়লা সহ ব্যবসায়ী আটক

বিশেষ প্রতিনিধি, কচুয়া, বাগেরহাট।।

বাগেরহাটের কচুয়ায় দুই ট্রাক চোরাই কয়লা সহ বাধাল বাজারের ব্যবসায়ী সুমন শেখকে আটক করেছে পুলিশ।

জানাগেছে, সোমবার সকাল ৯টায় উপজেলার বাধাল বাজার সংগলগ্ন বাধাল-কচুয়া রাস্তার বক্তারকাঠী নামক স্থানে অবৈধ ভাবে আশা দুই ট্রাক কয়লা আনলোড করছিল। কয়লা দেখে স্থানীয় লোকজনের সন্দেহ হলে তারা থানা পুলিশ ও উপজেলা নির্বাহী আফিসাকে জানালে কচুয়া থানার পুলিশ এসে কথিত কয়লার মালিক গোপালপুর গ্রামের ধলু শেখের পুত্র সুমন শেখ সহ কয়লা ভর্তি ট্রাক আটক করে থানায় নিয়ে যায়।

নওয়াপাড়ার একজন কয়লা ব্যবসায়ী জানান,আমদানিকারক ছাড়া কেহ ক্যাশমেমো দিতে পারে না। নওয়াপাড়ায় অনেক চোর সেন্ডিকেড এধরনের কাজ করে থাকে। ট্রাক চালকেরা জানায়, নওয়াপাড়া থেকে আমাদের চালান করে ট্রাক লোড করে দিয়েছে। কার নিকট থেকে কি ভাবে এনছে আমরা জানি না।

এব্যাপারে উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোছাঃ তাসমিনা খাতুন বলেন, সুমন শেখ কয়লা ক্রয় করেছে বলে দাবী করে কিন্তু এখন পর্যন্ত কোন ক্যাশমেমো বা কাগজ পত্র দেখাতে পারেনি। আমি ওসিকে বলেছি, কাগজ পত্র না দেখাতে পারলে আইনগত ব্যবস্থা নিতে।

এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত কোন কাগজ পত্র দেখাতে পারেনি ওই ব্যবসায়ী।

ফেসবুকে লাখ টাকার জ্যাকপট, মিলিয়ন ডলারের লটারি-তে  ক্লিক করলেই আইডি হ্যাক

//অনলাইন নিউজ ডেস্ক//

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুক অ্যাকাউন্ট হ্যাক ও র‍্যাব কর্মকর্তা সেজে টাকা দাবি করার অভিযোগে আশরাফুল প্রত্যয় ওরফে লুনেটিক প্রত্যয় (২০) নামের এক হ্যাকারকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। গতকাল শনিবার সাভারের বাসস্টেশন এলাকা থেকে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়।

পুলিশ বলছে, আশরাফুল ‘লাখ টাকার জ্যাকপট’, ‘মিলিয়ন ডলারের লটারি’ ইত্যাদি লোভনীয় পুরস্কারের লিংক বিভিন্ন ব্যক্তির মেসেঞ্জারে পাঠান। কেউ সেই লিংকে ক্লিক করলেই আইডি হ্যাক হয়ে যায়। পরে র‍্যাব কর্মকর্তা সেজে সেই আইডি উদ্ধারের নামে বিভিন্ন অঙ্কের টাকা হাতিয়ে নেন তিনি।

মিরপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ মহসিন বলেন, আশরাফুল সাভার মডেল কলেজের শিক্ষার্থী। অনলাইনে তিনি পরিচিত লুনেটিক প্রত্যয় নামে। নিজেকে গেমার পরিচয় দিলেও তিনি মূলত হ্যাকার। ফেসবুকে বিজ্ঞাপন দিয়ে ‘প্রতিদিন ২০০ ডলার গেম খেলে টাকা আয়’—এমন ধরনের লোভনীয় লিংক পাঠান। লোভে পড়ে কেউ সেগুলো ক্লিক করলেই আইডি হ্যাকড হয়ে যায়। পরে র‍্যাব কর্মকর্তা সেজে সেই আইডি উদ্ধারের জন্য জিডি, সার্ভিস চার্জসহ অন্যান্য ফির নামে বিভিন্ন অঙ্কের টাকা হাতিয়ে নেন তিনি।

পুলিশ জানায়, এই হ্যাকার সম্প্রতি ফাইয়াজ রহমান নামের এক শিক্ষার্থীর মেসেঞ্জারেও এমন একটি লিংক পাঠান। সেই লিংকে ক্লিক করার সঙ্গে সঙ্গেই তাঁর ফেসবুক আইডি হ্যাকড হয়ে যায়। পরে আইডি উদ্ধারের জন্য র‍্যাব কর্মকর্তা সেজে তাঁকে ফোন দেন আশরাফুল। আইডি উদ্ধারের জন্য ফাইয়াজের কাছে সাড়ে ১৩ হাজার টাকা দাবি করেন তিনি। টাকা না দিলে মামলায় জড়ানোসহ বিভিন্ন হুমকিও দেন তিনি। পরে ফাইয়াজ অভিযোগ করলে সাভারের বাসস্টেশন এলাকা থেকে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়।

খুলনার রূপসায় আদালতের নির্দেশ না মেনে পুনরায় গৃহ নির্মান কাজের অভিযোগ

রূপসা প্রতিনিধিঃ

খুলনার রূপসার টিএসবি ইউনিয়ন স্বল্পবাহিরদিয়া গ্রামে জসীম সেখ (২৮) পিতা মোঃ গোলাম সেখ। এর সাথে একই গ্রামের আশরাফ আলী শেখ (৪৫) পিতা মৃত সলেমান শেখ এর দীর্ঘদিন জমিজমা নিয়ে বিরোধ চলে আসছে। এই বিষয়ে খুলনার অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিষ্ট্রেট আদালতে আশরাফ আলী শেখ (৪৫) পিতা মৃত সলেমান শেখ, কবির শেখ (২৮), রূহুল শেখ (২৬) উভয়ের পিতা আশরাফ শেখ দ্বয়ের নামে ৫ মার্চ ২০২৩, জসীম সেখ বাদী হয়ে মামলা দায়ের করেন। মামলা নং এম.পি-১৭৬/২৩ ধারা ১৪৪/১৪৫ ফৌজদারি কার্যবিধি স্বারক নং এডিএম/খুলনা ৫৫৪/২৩ যুক্ত ২/২ মামলায় উল্লেখ করেন তিনি দীর্ঘদিন জমি ভোগ দক্ষল করে আসছেন।

গত ৩ মার্চ বিবাদী পক্ষ অতর্কিত ভাবে নালিশি জমির উপর পাকা গৃহ নির্মান কাজ শুরু করেন। কাজে বাধা প্রদান করলে বিবাদীগণ দা, শাবল, লাঠি দিয়ে আঘাত করতে আসে এবং ভয়ভীতি প্রদান করে মেরে ফেলার হুমকি দেয়। বাদীর মামালার পরিপেক্ষিতে অতিরিক্ত খুলনা জেলা ম্যজিট্রেট এর বিজ্ঞ আদালত ১৪৪/১৪৫ ধারা মোতাবেক উক্ত সম্পত্তির উপর উভয় পক্ষেকে শান্তি শৃংখলা বজায় রাখার জন্য নির্দেশ প্রদান করেন। এবং আদালতের আইন অমান্য করলে আইনত ব্যাবস্থা গ্রহন করবে এই মর্মে উভয় কে নোটিশ প্রদান করে। বিবাদী আশরাফ আলী শেখ কোটের আদেশ অমান্য করে পুনরায় ১৩ মার্চ গৃহ নির্মান কাজ শুরু করে যা আইনের পরিপন্থি।

পরে বিভিন্ন পত্র পত্রিকায় এই সংক্রান্ত নিউজ প্রকাশিত হয়। বাদী পুনরায় আদালতে উপস্থিত হয়। উক্ত আদালত মামলা চলাকালিন সময়ে ঐ জমিতে কোন কার্যক্রম না করার নির্দেশ প্রদান করেন। পরবর্তিতে ১৫ মে বিবাদী আশরাফ কোটে হাজিরা দেন। কোট, সহকারি কমিশনার (ভুমি) কে জমি মাপার নির্দেশ প্রদান করেন। এরপর গত ৮ জুন আবারও কোটের আদেশ অমান্য করে জমিতে থাকা বাঁশ কর্তন করে এবং গৃহ নির্মানের প্রস্তুতি নেয়। ঐ দিনই বাদী রূপসা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার বরাবর একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। বিবাদী ৯ জুন শুক্রবার গৃহ নির্মানের কাজ শুরু করে।

বাদী জসীম সেখ বলেন, এই জমির উপর ১৪৪/১৪৫ ধারা রয়েছে। তারা কোটের আদেশ অমান্য করে, পুনরায় গৃহ নির্মানের কাজ  শুরু করেছে। এ ব্যাপারে আমি শতভাগ আইনি সহায়তা পাবো বলে আশা করছি।

বিবাদী আশরাফ আলী সেখ গৃহ নির্মানের ব্যাপারে বলেন, আমাদের উকিল বলেছে, গৃহ নির্মানের ব্যাপারে কোন বাধা নেই। যেহেতু কোন বাধা নেই সেহেতু আমরা গৃহ নির্মানের অসমপ্ত কাজ পুনরায় করছি।

Daily World News

বাগেরহাটের কচুয়ার শ্রেষ্ঠ পাঁচ জয়িতার জীবন সংগ্রাম

রামপালে মৎস্য ঘের নিয়ে দুর্দান্ত সংঘর্ষ – আহত ১৫ আটক ৭

এ এইচ নান্টু, বিশেষ প্রতিনিধি ||

বাগেরহাটের রামপালে মৎস্যঘের দখলকে কেন্দ্র করে প্রতিপক্ষের মারপিটে ১৫ জন আহত হয়েছে। এ ঘটনায় রামপাল থানায় একটি মামলা দায়ের হয়েছে। আহতদের রামপাল ও খুলনার বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। আহতদের নাম পরিচয় পাওয়া সম্ভব হয়নি।

পু্লিশ অভিযান চালিয়ে আত্মসমার্পণকৃত সুন্দরবনের আব্বাস বাহিনীর সেকেন্ড ইন কমান্ড ও রাজনগর ইউপি সদস্য ওলি ইজারদার (৪২), প্রসাদনগর গ্রামের হুমায়ুন মোল্যার পুত্র মেশকাত মোল্লা (৩০), বর্ণি গ্রামের আ. হামিদ শেখের পুত্র মো. রোকন উদ্দিন শেখ (৪৫), কাষ্টবাড়িয়া গ্রামের মাহাজিব শেখের পুত্র সোহেল পারভেজ বাবু (৩১), কালিকাপ্রসাদ গ্রামের শওকাত ইজারদারের পুত্র মো. হোসেন ইজারদার (২৪), প্রসাদনগর গ্রামের রুহুল আমিনের পুত্র মো. রনি ইজারদার(২৮), খামঘাটা চিত্রা গ্রামের আবু্ল হাসেমের পুত্র হাফিজুর রহমান(৩২)।

রামপাল থানার ওসি এস, এম আশরাফুল আলম জানান, আসামিরা মঙ্গলবার বিকাল পৌনে ৪ টায় উপজেলার কৈগরদাসকাটি চর এলাকায় নতুন আশ্রায়ন প্রকল্পের পার্শ্বের একটি মৎস্যঘের দখলের চেষ্টা করে। খবর পেয়ে গৌরম্ভা ফাড়ির এসআই নাসির উদ্দিন সংগীয় ফোর্স নিয়ে মৎস্যঘের দখল প্রতিহত করেন। ওই সময় অভিযান চালিয়ে ৭ জন আসামীকে আটক করেন। আটককৃতদের গ্রেফতার দেখিয়ে বাগেরহাটের আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে।

ভূমি অধিগ্রহনের চেক পাইয়ে দেওয়ার কথাবলে টাকাহাতিয়ে নেওয়া দালাল জিল্লু আটক, ৬ মাসের কারাদন্ড

এ এইচ নান্টু, বিশেষ প্রতিনিধি||
জমি অধিগ্রহণের চেক পাইয়ে দেওয়ার কথা বলে টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগে বাগেরহাট ডিসি অফিসের এল এ শাখার এক দালালকে আটক করেছে জেলা প্রশাসন। পরে ভ্রাম্যমান আদালত ছয় মাসের কারাদণ্ড দিয়েছেন ওই দালালকে।

দন্ডাদেশ প্রাপ্ত দালাল বাগেরহাটের রামপাল উপজেলার হোগলডাঙ্গা গ্রামের মো. জলিল মলঙ্গীর ছেলে জিল্লুর রহমান মালঙ্গী (৪২)। ভ্রাম্যমান আদালত পরিচালনা করেন জেলা প্রশাসনের সহকারী কমিশনার রোহান সরকার। বৃহস্পতিবার (২৫ মে) দুপুরে জেলা প্রশাসকের কার্যালয় থেকে তাকে আটক করা হয়।

আদালত সূত্রে জানা গেছে, জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে অহেতুক ঘোরাফেরা করাকালীন সন্দেহবশত তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করলে সে অসংলগ্ন কথা বার্তা বলতে থাকে। জিজ্ঞাসাবাদের এক পর্যায়ে দালাল জিল্লুর মলংগী অধিগ্রহণ হওয়া ভূমির মালিকদের টাকা পাইয়ে দেওয়ার নামে অর্থ নেওয়ার কথা স্বীকার করেন।

খানহাজান আলী বিমান বন্দরের জমি অধিগ্রহণের চেক পাইয়ে দেওয়ার কথা বলে অন্তত আটজনের কাছ থেকে বিভিন্ন অঙ্কের টাকা হাতিয়ে নিয়েছে জিল্লুর। চেক ও টাকা ফেরত না দেওয়ায় ভুক্তভোগীরা জেলা প্রশাসক বরাবর লিখিত অভিযোগও দিয়েছেন। আজ তাকে আটকের পর ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে ৬ মাসের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।

সুদের টাকা পরিশোধে ব্যর্থ হয়ে রামপালে বৃদ্ধের আত্মহত্যা আটক-১

এ এইচ নান্টু, বিশেষ প্রতিনিধি ||

বাগেরহাটের রামপালে সুইসাইড নোট লিখে রাজকুমার বিশ্বাস (৬০) নামের এক বৃদ্ধের আত্মহত্যা খবর পাওয়া গেছে। শুক্রবার ভোররাতে ৫ টায় সে বাড়ীর কাঁঠাল গাছে রশি দিয়ে আত্মহত্যা করে। এ ঘটনায় গত শুক্রবার (১৯ মে) দিনগত রাতে ওই বৃদ্ধের জামাতা উত্তম কুমার সরকার বাদী হয়ে রামপাল থানায় একটি মামলা করেছেন।

মামলার আসামীরা হলেন উপজেলার উত্তর গৌরম্ভা গ্রামের মৃত হারান চন্দ্র রায়ের পুত্র তুহিন রায় (৫০) ও একই গ্রামের অজিত অধিকারীর পুত্র মিলন অধিকারী (৪৫)। রামপাল থানার ওসি (তদন্ত) রাধেশ্যাম ও গৌরম্ভা ফাড়ির এসআই নাসির উদ্দিন শুক্রবার গভীর রাতে অভিযান চালিয়ে খুলনার লবনচরা থানার জিন্নাহ পাড়া এলাকার একটি বাড়ী থেকে প্রধান আসামী তুহিন রায়কে গ্রেফতার করেছে।

রামপাল থানার ওসি এস, এম আশরাফুল আলম সাংবাদিকদের সামনে এক প্রেস ব্রিফিং এ জানান। নিহত রাজকুমার এজাহারে উল্লেখিত ১ নং আসামী তুহিন রায়ের নিকট থেকে বিভিন্ন সময়ে লাখে ৬ হাজার টাকা সুদে ৭ লক্ষ টাকা নেয়। এরপর সুদ বাবদ ভিকটিম ৩ লক্ষ ৬৩ হাজার টাকা পরিশোধ করেন। ২ নং আসামী মিলন অধিকারীর নিকট থেকে একই চুক্তিতে ৪ লক্ষ ৫০ হাজার টাকা নেন। এরপর ভিকটিম ২ লক্ষ ৮০ হাজার টাকা সুদ বাবদ পরিশোধ করেন। ১ নং ও ২ নং আসামী মূল টাকা ফেরৎ পাওয়ার জন্য মানষিকভাবে চাপ প্রয়োগ করতে থাকে ভিকটিমকে। এক পর্যয়ে স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ শালিস করে মূল টাকা হইতে পরিশোধকৃত টাকা বাদ দিয়ে বাকী টাকা পরিশোধ করার জন্য বলেন। তারা উক্ত সিদ্ধান্ত না মেনে পুরো সুদসহ টাকা পরিশোধের জন্য চাপ প্রয়োগ করে। তারা প্রকাশ্যে ও মোবাইল ফোনে চাপ দিতে থাকে।

এতে রাজকুমার ভীত হয়ে মানষিকভাবে ভেঙে পড়েন। গত ইং ১৮ মে বিকাল ৫ টায় গৌরম্ভা বাজারে মাছের চাদির সামনে টাকার জন্য আবারো আসামীরা চাপ দেয় ও গালাগাল করে। শুক্রবার রাতে কাউকে কিছু না জানিয়ে বাড়ীর কাঁঠাল গাছের সাথে রশি দিয়ে রাজকুমার আত্মহত্যা করেন। ওসি আরও জানান, অপর আসামীকে ধরার চেষ্টা করছি।

রামপালে পুলিশের নামে টাকা আদায় করা বোমারু মিজান গ্রেফতার

এ এইচ নান্টু, বিশেষ প্রতিনিধি ||

রামপালের কালেখারবেড় গ্রামের তাসলিমা বেগম নামের এক নারীর কাছ থেকে পুলিশের নাম ভাঙ্গিয়ে টাকা আদায়ের ঘটনা ঘটছে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী নারী মো. মিজানুর রহমান শেখ ওরফে বোমা মিজান (৫৫) ‘র বিরুদ্ধে রামপাল থানায় একটি মামলা দায়ের করেছেন।

পুলিশ প্রতারণার অভিযোগে রামপাল থানা এলাকা থেকে ৯ এপ্রিল মঙ্গলবার বিকালে মিজানকে আটক করেছে। সে উপজেলার রাজনগর ইউপির কালেখারবেড় গ্রামের হাবিবুর রহমান শেখের পুত্র। রামপাল থানার ওসি এস, এম আশরাফুল আলম সাংবাদিকদের জানান, পুলিশের নাম করে প্রতারনার মাধ্যমে ভুক্তভোগী নারী তাসলিমা বেগমের কাছ থেকে ১৮ হাজার টাকা হাতিয়ে নেয়।

এ ঘটনায় ভুক্তভোগী মহিলা বিষয়টি রামপাল থানা পুলিশকে জানালে ওসি (তদন্ত) রাধেশ্যাম সরকার, এসআই লিটন কুমার বিশ্বাস, এসআই সঞ্জয় পাল ও সঙ্গীয় ফোর্সসহ রামপাল থানা পুলিশের একটি চৌকশ টিম আসামী মো. মিজানুর রহমান শেখ কে রামপাল থানা এলাকা হতে আটক করে। এসময় তার নিকট হতে নগদ ১৮ টাকা উদ্ধার করা হয়।

ভুক্তভোগী তাসালিমা বেগম রামপাল থানায় একটি অভিযোগ দায়ের করলে রামপাল থানায় একটি নিয়মিত মামলা রুজু হয়। আসামী মিজানের বিরুদ্ধে ইতিপূর্বে একাধিক প্রতারণার অভিযোগসহ বিভিন্ন থানায় একাধিক মামলা রয়েছে বলে জানান পুলিশের ওই কর্মকর্তা।

বাগেরহাটের রামপালের কুমলাই কবরস্থানের বরাদ্দ আত্মসাতের চেষ্টা অবশেষে সংস্কার শুরু

এ এইচ নান্টু, বিশেষ প্রতিনিধি ||

অবশেষে রামপালের কুমলাই গ্রামের জান্নাতুল বাকী গণকবর স্থানের সংস্কার কাজ শুরু হয়েছে। বাগেরহাট জেলা পরিষদের বরাদ্দ এনে আবুল কালাম নামের এক ব্যক্তি টাকা আত্মসাৎ করে গিলে ফেলেছেন। পরে জানাজানি হলে তা পুনরায় জেলা পরিষদে ফেরত দেওয়ার পর সংস্কার কাজ শুরু হয়েছে। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন জেলা পরিষদের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ঝুমুর বালা।

অভিযোগে জানা গেছে, রামপাল উপজেলার কুমলাই গ্রামে জান্নাতুল বাকী কবরস্থান নির্মাণ করছেন কুমলাই এর কৃতি সন্তান ও কুষ্টিয়া ইসলামী বিশ্ব বিদ্যালয়ের বর্তমান ভিসি ডক্টর আ. সালাম। ওই কবরস্থান সংস্কারের জন্য বাগেরহাটের জেলা পরিষদ থেকে তিনি ২ লক্ষ টাকা অনুদান পান। এরপর ওই কবরস্থানের বাউন্ডারি ওয়াল নির্মাণের জন্য কাজটি পান ঠিকাদার ফারুক তালুকদার। তিনি কবরস্থানের স্থায়ী কমিটির এক সদস্যের সাথে যোগাযোগ করলে তিনি বলেন, আমি কাজ করে দিবো। আবুল কালাম নামের ওই ব্যাক্তি দীর্ঘ ৮/৯ মাস পূর্বে ঠিকাদারের কাছ থেকে টাকা বুঝে নিয়ে পকেটে পুরে রাখেন। কবরস্থানের পুরাতন ওয়ালের ছবি তুলে কাজ সম্পন্ন হয়েছে মর্মে ফাইনাল রিপোর্ট জমা দেন আবুল কালাম। দীর্ঘ দিন পরে বিষয়টি জানাজানি হলে ঠিকাদার ফারুক তালুকদার ওই আবুল কালামকে চাপ দিয়ে বকাঝকা করেন। এরপর আবুল কালাম তড়িঘড়ি করে ঠিকাদারের কাছে টাকা ফেরত দেন।

এলাকাবাসী জানান, আবুল কালাম ডক্টর আ. সালাম এর সৎ ভাই। তিনি জানতে পেরে ছোট ভাই কে তিরস্কার করেন।
অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্ত আবুল কালামের সাথে কথা হলে তিনি সকল অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, ঠিকাদার বাঁচার জন্য আমার নাম বলছেন। আমি কিছু জানি না।

এ বিষয়ে ঠিকাদার ফারুক তালুকদারের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি সরল বিশ্বাসে আবুল কালামের কাছে টাকা দিয়েছিলাম। সে যে কবরস্থানের টাকা গিলে খাবে তা চিন্তাও করতে পারিনি। তবে টাকা ফেরত পাওয়ার কথা জানান ওই ঠিকাদার।

জেলা পরিষদের প্রকৌশলী আওলাদ হোসেনের সাথে কথা হলে বলেন, আমি বিষয়টি জেনেছি। প্রশ্ন করা হয়, কাজ পরিদর্শন করার দায়িত্ব ছিল আপনার, কাজ পরিদর্শন না করে বিল ভাউচারে স্বাক্ষর করলেন কি করে এমন প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, এখনো কাজের মেয়াদ রয়েছে বলে দাবি করেন।

এ বিষয়ে কথা হয় বাগেরহাটের জেলা পরিষদের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ঝুমুর বালা’র সাথে। তিনি জানান, আমরা খবর পেয়ে তাৎক্ষণিকভাবে সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারকে ডেকে দ্রুত কাজ করার নির্দেশ দিয়েছি। সেখানে কাজ শুরু হয়েছে।

বাগেরহাটের জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান কামারুজ্জামান টুকুর সাথে মুঠোফোনে কথা হলে তিনি বলেন, বিষয়টি আমি শুনেছি এবং দ্রুত ওয়াল নির্মাণের নির্দেশ দিয়েছি। এতে কারো কোন গাফিলতির প্রমাণ পাওয়া গেলে ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে। #

বাগেরহাটের রামপালের পবনতলায় ভূয়া কমিটি দিয়ে মসজিদের টাকা আত্মসাতের চেষ্টা

এ এইচ নান্টু, বিশেষ প্রতিনিধি ||

বাগেরহাটের রামপালে জেলা পরিষদের বরাদ্দকৃত অর্থ ভুয়া রেজুলেশন ও বিল ভাউচার দিয়ে আত্মসাতের  চেষ্টার অভিযোগ পাওয়া গেছে। ঘটনাটি ঘটেছে উপজেলার কুমলাই পবনতলা এলাকায়।

এ ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। এলাকাবাসী অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থাসহ শাস্তির দাবী করেছেন।

অভিযোগে জানা গেছে,  উপজেলার কালিয়াতলা এলাকার গাছতলা বাইতুন নূর জামে মসজিদের কমিটির সদস্য শিক্ষক ইয়াহিয়া, শেখ ইউনুসসহ কয়েকজন যোগসাজশে জেলা পরিষদে দুই লক্ষ টাকা বরাদ্দের জন্য আবেদন করেন। তারা পাশের গ্রামের পবনতলা বাইতুন নূর জামে মসজিদের নামে ভূয়া রেজুলেশন, ভূয়া কমিটি ও সিল সই জাল করে জেলা পরিষদের বরাদ্দ থেকে দুই লক্ষ টাকা উত্তোলন করেন। বিষয়টি জানাজানি হলে পবনতলা বাইতুন নূর জামে মসজিদ কমিটিসহ এলাকাবাসী তীব্র নিন্দা ও ক্ষোভ প্রকাশ করেন। এরপর গাছতলা জামে মসজিদের সভাপতি,  সাধারণ সম্পাদক কামাল হোসেন ও অর্থ সম্পাদক শিক্ষক ইয়াহিয়ার সাথে কথা বলেন।

পবনতলা বাইতুন নূর জামে মসজিদের সভাপতি আলহাজ্ব আবু জাফর ও সাধারণ সম্পাদক সরদার মাঞ্জুরুল ইসলাম জানান, ইচ্ছাকৃতভাবে পবনতলা মসজিদের নামে বরাদ্দ এনে তা তারা আত্মসাৎ করার চেষ্টা করেছে গাছতলা মসজিদ কমিটির কয়েকজন সদস্য। পবনতলা মসজিদ কমিটির সদস্যগণ বিষয়টি নিশ্চিত হওয়ার জন্য বাগেরহাটের জেলা পরিষদে গিয়ে নথিপত্রে এমন জালিয়াতির চিত্র দেখতে পান। বিষয়টি ধামাচাপা দিতে গাছতলা মসজিদ কমিটির কয়েকজন সদস্য পবনতলা মসজিদ কমিটির সদস্যদের সাথে দফায় দফায় বৈঠক করে পরিস্থিতি ধামাচাপার চেষ্টা করেন। সর্বশেষ শিক্ষক ইয়াহিয়া ও ইউনুস আলী পবনতলা মসজিদের নামে বরাদ্দের টাকা ফেরত দেওয়ার কথা বলেন।

অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্ত শিক্ষক ইয়াহিয়ার ব্যবহৃত মুঠোফোনে জানতে চাইলে তিনি বলেন, অভিযোগ সত্য নয়। আমাদের মসজিদের নামে বরাদ্দ চেয়ে আবেদন করেছি। জেলা পরিষদ থেকে প্রিন্টেড মিস্টেক  হয়েছে। প্রশ্ন করা হয়, “গাছতলা” বাইতুন নূর জামে মসজিদের নাম একেবারে পাল্টে গিয়ে “পবনতলা” হলো কি করে ? এমন প্রশ্নের উত্তরে ওই শিক্ষক ইয়াহিয়া বলেন, আমরা টাকা আত্মসাতের চেষ্টা করিনি। টাকা খরচও করিনি। আপনি নথিপত্র দেখতে পারেন। এ বিষয়ে বাগেরহাট জেলা পরিষদের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ঝুমুর বালা’র সাথে কথা হলে তিনি বলেন, অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে এবং সরেজমিনে পরিদর্শন করা হবে।

ডুমুরিয়ায় নদী থেকে সরকারি ঔষধ উদ্ধার// ক্লিনিকের সিএইচসিপিকে প্রত্যাহার

//জাহিদুর রহমান বিপ্লব, বিশেষ প্রতিনিধি খুলনা//

খুলনার ডুমুরিয়ার কুলটি নদীথেকে   সরকারি ওষুধ উদ্ধার করেছে স্থানীয় জেলেরা। সরকারি ওষুধ তছরুপ ও বিনষ্টের অভিযােগে জিলেরডাঙ্গা কমিউনিটি ক্লিনিকের সিএইচসিপিকে প্রত্যাহার করা হয়েছে।  বুধবার (১২ এপ্রিল) সকালে উপজেলা স্বাস্হ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে,উপজেলার গুটুদিয়া ইউনিয়নের জিলেরডাঙ্গা কমিউনিটি ক্লিনিকের সামনের কুলটি নদী থেকে গত মঙ্গলবার জেলেরা মাছ ধরতে গিয়ে এক বস্তা সরকারি ওষুধ উদ্ধার করে ক্লিনিকের পাশে রেখে দেয় এবং কমিউনিটি-হেলথ-কেয়ার-প্রােভাইডার (সিএইচসিপি) আইরিন খানকে অবহিত করে।

এরপর আইরিন কৌশলে বস্তাবন্দি ওষুধগুলাে ক্লিনিকের পেছনে নিয়ে আগুন দিয়ে পুড়িয়ে বিনষ্ট করে। গত এক বছর আগে বস্তাবন্দি করা সরকারি এই ওষুধ নদীতে ফেলে দেন তিনি।যা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ তাে দুরের কথা কমিউনিটি ক্লিনিক কমিটির কেউ জানেনা।

এছাড়া তার বিরুদ্ধে রােগী দেখার ক্ষেত্রে স্বজনপ্রীতি, স্বেছাচারিতা ও অসাদাচরণসহ এলাকাবাসীর নানা অভিযােগ দীর্ঘদিনের।নদীত ওষুধ পাওয়ার পর থেকে এলাকার মানুষ ব্যাপক ভাবে ফুঁসে উঠেছে ওই সিএইচসিপি’র বিরুদ্ধে।

এক পর্যায়ে বুধবার সকাল সাড়ে ৮টার দিকে এলাকার শতাধিক নারি-পুরুষ কমিউনিটি ক্লিনিক ঘেরাও করে রাখে। সিএইচসিপি আইরিনকে ক্লিনিক ঢুকতে নিষেধ করে তারা। কুলটী গ্রামের লিটন মন্ডল জানান, ‘সিএইচসিপি আইরিন খান সরকারি ওষুধ বস্তাবন্দি করে পানিতে ফেলে দিয়েছে। মঙ্গলবার জেলেরা মাছ ধরতে যেয়ে ওষুধ গুলাে পেয়ে গ্রামবাসীকে জানায় এবং ওষুধগুলাে ক্লিনিকের পাশে রেখে দেয়। কােন কিছু কাউকে না জানিয়ে সেই ওষুধ আগুনে পুড়িয়ে ফেলে আইরিন। যারমধ্য মেয়াদাত্তীর্ণ ছাড়াও আগামী ২৪-২৫ সাল মেয়াদী পর্যন্ত ওষুধ রয়েছে অনেক। তিনি বলেন, গ্রামের কেউ অসুস্হ হয়ে তার কাছে গেলে তিনি চিকিৎসা দিতে অনিহা দেখান।’ তার বিরুদ্ধে এমন অভিযােগ এলাকার শতশত মানুষের। উপজলা স্বাস্হ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. সুফিয়ান রুস্তম জানান, তিনি খবর পেয়েই কমিউনিটি ক্লিনিক আসেন। সিএইচসিপি’র বিরুদ্ধে প্রাথমিকভাবে অভিযােগের সত্যতা মিলেছে। কােন অনুমতি বা যথাযথ প্রক্রিয়া ছাড়া সরকারি ওষুধ বিনষ্ট করার নিয়ম নেই। সিএইচসিপি আইরিন খানকে ক্লােজড করা হয়েছে এবং একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হবে। তারপর তদন্ত কমিটির রিপোর্টের আলােকে পরবর্তি পদক্ষেপ গ্রহন করা হবে।