আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম বাড়লে বাংলাদেশের অর্থনীতির ওপর ‘মারাত্মক বিরূপ প্রভাবের’ আশংকা

//আন্তর্জাতিক নিউজ ডেস্ক//

ইউক্রেনের যুদ্ধকে ঘিরে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম যেভাবে বাড়ছে এবং আরো বাড়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে – তাতে আগামী দিনগুলোতে বাংলাদেশের অর্থনীতির ওপর মারাত্মক বিরূপ প্রভাব পড়তে পারে বলে আশংকা করছেন বিশেষজ্ঞরা।

ইউক্রেনে রুশ অভিযানের কারণে পশ্চিমা দেশগুলো রাশিয়ার তেল রফতানির ওপর নিষেধাজ্ঞা দেবার কথা বিবেচনা করছে – এমন খবরে সারা বিশ্বে শেয়ারবাজারগুলোয় মূল্যপতন ও তেলের দামে উর্ধগতি দেখা দেয়।

এমন আশংকাও করা হচ্ছে যে অপরিশোধিত তেলের দাম ব্যারেল প্রতি দুশো ডলার পর্যন্ত উঠে যেতে পারে।

“এটা প্রচণ্ড বিপর্যয়ের সৃষ্টি করবে। আমার ধারণা, গাড়িঘোড়া থেকে শুরু করে বিদ্যুৎ উৎপাদন – সবকিছুতেই রেশনিং হবে তখন। কারণ অত উচ্চমূল্যে সরকার বাইরে তেল বিক্রি করতে পারবে না। পরিবহন বা বিদ্যুতের খরচ তাহলে এত বেড়ে যাবে যে তা জনমানুষের ক্ষমতার বাইরে চলে যাবে” – বিবিসি বাংলাকে বলছিলেন সরকারের সাবেক জ্বালানি উপদেষ্টা অধ্যাপক ম. তামিম।

অনেকে বলছেন, ১৯৭৩ সালের আরব-ইসরায়েল যুদ্ধের পর জারি করা তেল নিষেধাজ্ঞার পর বিশ্ব অর্থনীতি যেভাবে বিপর্যস্ত হয়েছিল, সেরকম একটি পরিস্থিতি হতে পারে।

বাংলাদেশের বিদ্যুৎ ও জ্বালানী খাতে আমদানি করা তেলের ওপর নির্ভরশীল। তা ছাড়া তেলের দাম অপেক্ষাকৃত কম রাখতে সরকার বেশ কিছু ভর্তুকি দিয়ে থাকে। বিবিসি

পড়ুণ দৈনিক বিশ্ব 

English Dainikbiswa

ইউক্রেনের ওপর ‘নো ফ্লাই জোন’ ঘোষণা হলে তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধ শুরু হতে পারে- মার্কো রুবিও

 

খুলনার ডুমুরিয়ায় ঐতিহাসিক ৭ মার্চ দিবস পালিত

//জাহিদুর রহমান বিপ্লব, ডুমুরিয়া  সংবাদদাতা//

সাবেক মন্ত্রী নারায়ন চন্দ্র চন্দ এমপি বলেছেন বঙ্গন্ধুর ঐতিহাসিক  একটি  ভাষন দেশের মুক্তিকামী  মানুষের প্রেরনা,যুদ্ধ, স্বপ্নের স্বাধীনতা,  বাংলাদেশ  একটি নাম বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। জাতির সত্তার আবহমান ৭ ই মার্চ যুগ যুগ  ধরে বাঙ্গালী জাতি ও মুক্তিযুদ্ধের চেতনা  বিশ্বাসী মানুষের কাছে চির স্মরনীয় থাকবে।   বঙ্গবন্ধুর আর্দশ জীবন  সংগ্রাম  নবীন ও তরুন প্রজম্মদের মাঝে ছড়িয়ে দিতে হবে ।

খুলনার ডুমুরিয়ায় ঐতিহাসিক ৭ মার্চ দিবস পালিত

ঐতিহাসিক  ৭ই মার্চ  দিবস উপলক্ষে সোমবার সকালে ডুমুরিয়া  উপজেলা প্রশাসনের আয়োজনে আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তৃতায় এ সব কথা বলেন ।  সকালে স্বাধীনতা চত্বরে বঙ্গবন্ধুর মূর‍্যালে  পূষ্পমাল‍্য অর্পন করেন সংসদ নারায়ন চন্দ চন্দ এমপি, উপজেলা প্রশাসনের নির্বাহী কর্মকতা মো; আব্দুল ওয়াদুদ পরিষদের চেয়ারম‍্যান গাজী এজাজ আহম্মেদ, উপজেলা আওয়ামী লীগ সহ সহযোগী সংগঠন, মুক্তিযোদ্ধা সংসদ, থানা প্রশাসন,  পানি উন্নযন বোর্ড, পল্লী বিদুৎ সমিতি, ডুমুরিয়া  মহাবিদ্যালয়, সরকারী বিভিন্ন দপ্তর।

১০টা স্থানীয়শহীদ জোবায়েদ আলী মিলনযতনে আলোচনা সভা, শিক্ষার্থীদের পুরষ্কার বিতরন করা হয। উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো: আব্দুল ওয়াদুদ এর সভাপতিত্বে আলোচনা সভায় আরো বক্তব‍্য দেন সহকারী কমিশনার ভূমি মামুনুর রশিদ, কৃষি অফিসার মোচ্ছাদেক হোসেন, উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার নূরুল ইসলাম মানিক, মহিলা ভাইন্স চেয়ারম‍্যান শারমিনা পারভীন রুমা, মৎস‍্য কর্মকর্তা আবু বক্কার, শিক্ষা অফিসার সেখ ফিরোজ আহম্মেদ, থানা অফিসার্স ইনচার্জ মো: ওবাইদুর রহমান, উপজেলা আওযামীলীগের ভারপ্রাপ্ত সাধারন সম্পাদক শাহানেওয়াজ হোসেন জোয়াদার, প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার শিকদার আতিকুর রহমান জুয়েল, সহ বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা, বীর মুক্তিযোদ্ধা, শিক্ষার্থীরা উপস্থিত  ছিলেন।

পরে ৭ই মার্চ এর ভাষন প্রতিযোগিতায় বিজযী শিক্ষার্থীদের পুরষ্কার বিতরন করা হয়।

পড়ুণ দৈনিক বিশ্ব

English Dainikbiswa

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নেতৃত্বে আমরা পেয়েছি সোনার বাংলাদেশ- চেয়ারম্যান নুর হোসেন পাটওয়ারী

 

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নেতৃত্বে আমরা পেয়েছি সোনার বাংলাদেশ- চেয়ারম্যান নুর হোসেন পাটওয়ারী

মোঃ হোসেন গাজী।।

রক্ত যখন দিয়েছি আরো দিবো এ শ্লোগানে হাইমচর উপজেলা প্রশাসনের আয়োজনে ঐতিহাসিক ৭ই মার্চ উপলক্ষে আলোচনা সভা ও ডকুমেন্টারি প্রদর্শনী অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়েছে।

সোমবার ৭ ই মার্চ হাইমচর উপজেলা প্রশাসনের আয়োজনে উপজেলা সম্মেলন কক্ষে উপজেলা নির্বাহী অফিসার চাই থোয়াইহল চৌধুরীর সভাপতিত্বে বক্তব্য প্রধান অতিথির বক্তব্যে হাইমচর উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান নুর হোসেন পাটওয়ারী বলেন, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নেতৃত্বে আমরা পেয়েছি সোনার বাংলাদেশ।

যার মেধা ও সংগ্রামের মাধ্যমে অল্প সময়ের এ দেশ স্বাধীনতা অর্জন করছেন। বিশ্বের কোন  ইতিহাসে নেই কোন দেশ বা কোন ভু- খন্ড  নয় মাসে যুদ্ধে স্বাধীন হয়েছে। রাখেন হাইমচর উপজেলার আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত  সভাপতি মোঃ হুমায়ুন কবির প্রধানীয়া,  মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান শাহনাজ বেগম, উপজেলা সহকারী কমিশনার ( ভূমি)  আবদুল্লাহ আল ফয়সাল, হাইমচর থানা অফিসার ইনচার্জ মোঃ মাহবুবুর রহমান মোল্লা, হাইমচর সরকারী মহাবিদ্যালয় অধ্যক্ষ মানোয়ার হোসেন মোল্লা, মুক্তি যোদ্ধা ডেপুটি কমান্ডার ডাঃ হাফেজ আহমেদ পাটওয়ারী, সাবেক কমান্ডার মোঃ বারেক বকাউল, কৃষি অফিসার দেবব্রত সরকার, হাইমচর প্রেসক্লাবে সভাপতি মোঃ খুরশিদ আলম, গাজীপুর ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান হাবিবুর রহমান গাজী, মুক্তিযোদ্ধা মফিজুর রহমান প্রমূখ।

এ সময় বক্ততা বলেন, স্বাধীনতা মহাপুরুষ জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান সেদিন স্বাধীনতা ডাক না দিতো তাহলে এ দেশ কখনও স্বাধীনতা অর্জন হতো না। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান সে ৭ই মার্চ ঐতিহাসিক ভাষনে দেশের ভাগ্য রেখা লেখাছিল। আমরা যতদিন বেঁচে থাকবো এ বাংলাদেশ ও বাঙালি জাতি থাকবে ততদিন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান আমাদের হ্রদয়ের বেঁচে থাকবে।

পড়ুণ দৈনিক বিশ্ব

English Dainikbiswa

গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করলেন মাননীয় সাংসদ ড. শ্রী বিরেন শিকদার

গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করলেন মাননীয় সাংসদ ড. শ্রী বিরেন শিকদার

//সুজন মাহমুদ, মাগুরা জেলা প্রতিনিধি//

“ঐতিহাসিক ৭ মার্চ” উপলক্ষ্যে স্বাধীনতার মহান স্থপতি সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে গভীর শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করা হয়েছে।

আজ ৭ মার্চ সকালে মাগুরার মহম্মদপুর উপজেলা পরিষদে মুক্তিযোদ্ধা চত্বরে বঙ্গবন্ধুর মুর‌্যালে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানানো হয়।

মাগুরা-২ আসনের সংসদ সদস্য জনাব ড. শ্রী বীরেন শিকদার ও উপজেলা চেয়ারম্যান অধ্যক্ষ আবু আব্দুল্লাহেল কাফী ও উপজেলা নির্বাহী অফিসার রামানন্দ পাল,মহম্মদপুর উপজেলা পরিষদের মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান জনাব মোছাঃ বেবি নাজনীন,আঃলীগ সাধারণ সম্পাদক জনাব মোঃ মোস্তফা কামাল সিদ্দিকী লিটন,বীর মুক্তিযোদ্ধা জনাব মোঃ আব্দুল হাই মিয়া সহ বিভিন্ন অঙ্গ সংগঠনের নেতৃত্ব বৃন্দ এসময় উপস্থিত ছিলেন।

ঐতিহাসিক ৭ মার্চ// বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে প্রধানমন্ত্রীর পুষ্পস্তবক অর্পণ

//নিজস্ব প্রতিবেদক//

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ঐতিহাসিক ৭ মার্চ উপলক্ষ্যে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতিকৃতিতে পুষ্পস্তবক অর্পণ করে গভীর শ্রদ্ধা জানিয়েছেন ।

সোমবার সকালে ধানমণ্ডির ৩২ নম্বরে বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে ফুল দিয়ে মহান এ নেতার প্রতি শ্রদ্ধা জানান প্রধানমন্ত্রী।

সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালি স্বাধীনতার স্থপতি জাতির পিতার প্রতি শ্রদ্ধার নিদর্শন স্বরূপ সেখানে কিছুক্ষণ নীরবে দাঁড়িয়ে থাকেন প্রধানমন্ত্রী।

দলীয় সভাপতির শ্রদ্ধা জানানোর পর আওয়ামী লীগ, ছাত্রলীগ, যুবলীগ, স্বেচ্ছাসেবক লীগসহ আওয়ামী লীগের বিভিন্ন সহযোগী ও ভাতৃপ্রতিম সংগঠন, বিভিন্ন সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনসহ বিভিন্ন শ্রেণি পেশার মানুষ বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন।

এর পর সবার জন্য উন্মুক্ত করে দেওয়া হয় ৩২ নম্বর।

ঐতিহাসিক ৭ মার্চ আজ সোমবার। বাংলাদেশের স্বাধীনতাসংগ্রাম ও মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসে স্বর্ণাক্ষরে লেখা গৌরবের এক অনন্য দিন।

১৯৭১ সালের অগ্নিঝরা এই দিনে বাংলাদেশের স্বাধীনতার মহতী কাব্যের কবি শোনান তার অমর কবিতাখানি। তার বজ্র কণ্ঠের নিনাদে বাংলার আকাশে-বাতাসে ধ্বনিত হয়েছিল স্বাধীনতার ঘোষণা, যার অঙ্গুলিহেলনে গর্জে উঠেছিল উত্তাল জনসমুদ্র।

লাখ লাখ মানুষের গগনবিদারী স্লোগানের উদ্দামতায় বসন্তের মাতাল হাওয়ায় সেদিন পতপত করে উড়েছিল বাংলাদেশের মানচিত্রখচিত লাল-সবুজের পতাকা। উত্থিত হয়েছিল শপথের লাখো বজ্র মুষ্টি।

তৎকালীন ঐতিহাসিক রেসকোর্স ময়দানে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান উত্তাল জনসমুদ্রে বজ্র কণ্ঠে হেঁকেছিলেন, ‘এবারের সংগ্রাম আমাদের মুক্তির সংগ্রাম, এবারের সংগ্রাম স্বাধীনতার সংগ্রাম।’

দিনটি উপলক্ষ্যে রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বাণী দিয়েছেন।

রাষ্ট্রপতি তার বাণীতে বলেন, বাঙালি জাতির মুক্তিসংগ্রাম ও স্বাধীনতার ইতিহাসে ৭ মার্চ একটি অবিস্মরণীয় দিন। ১৯৭১ সালের এদিনে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান তৎকালীন রেসকোর্স ময়দানে বজ্র কণ্ঠে যে কালজয়ী ভাষণ দিয়েছিলেন, তার মধ্যেই নিহিত ছিল বাঙালির মুক্তির ডাক। এ ভাষণের কারণে বিশ্বখ্যাত নিউজউইক ম্যাগাজিন ১৯৭১ সালের ৫ এপ্রিল সংখ্যায় বঙ্গবন্ধুকে ‘পয়েট অব পলিটিক্স’ হিসাবে অভিহিত করে। বঙ্গবন্ধুর ৭ মার্চের ঐতিহাসিক ভাষণ কেবল আমাদের নয়, বিশ্বব্যাপী স্বাধীনতাকামী মানুষের জন্যও প্রেরণার চিরন্তন উৎস হয়ে থাকবে।

প্রধানমন্ত্রী তার বাণীতে বলেন, জাতির পিতার ঐতিহাসিক ৭ মার্চের ভাষণের বিশ্ব স্বীকৃতি আজ বাঙালি জাতির জন্য এক বিরল সম্মান ও গৌরবের স্মারক। ’৭৫ থেকে ’৯৬ সাল পর্যন্ত এদেশে এ ভাষণ প্রচার নিষিদ্ধ ছিল, যেমনটা করেছিল পাকিস্তানের সামরিক শাসকগোষ্ঠী-তারাও সেদিন রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমে এ ভাষণ প্রচার করতে দেয়নি। কিন্তু সত্য সর্বদাই অনিরুদ্ধ। তাই নিপীড়িত-নির্যাতিত বাঙালিদের মুক্তির এ মহামন্ত্র শুধু বাংলাদেশেই নয়-বিশ্বজুড়ে সমাদৃত হচ্ছে, অনুপ্রেরণা দিয়ে যাচ্ছে।

পড়ুণ দৈনিক বিশ্ব

English Dainikbiswa

অবৈধ দখলমুক্ত ফুটপাত ও আধুনিক ঢাকা গড়ার নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর

আজ ঐতিহাসিক ৭ মার্চ।। স্বাধীনতা সংগ্রামের বীজমন্ত্র

অবৈধ দখলমুক্ত ফুটপাত ও আধুনিক ঢাকা গড়ার নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর

//দৈনিক বিশ্ব ডেস্ক//

ঢাকা মহানগরীকে সীমিত শক্তি দিয়েই যতদূর সম্ভব বসবাসের উপযোগী করায় জন্য তাঁর সরকারের প্রচেষ্টার উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ফুটপাতগুলো দখলমুক্ত রাখতে এবং পথচারীদের চলাচলের জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দিয়েছেন।

তিনি গুলশাল, বনানি, বারিধারার মত এলাকার বর্জ্য ব্যবস্থাপনা আরো উন্নয়নের জন্যও সংশ্লিষ্ট মেয়রকে নির্দেশ প্রদান করেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমাদের যারা ইঞ্জিনিয়ার বা আর্কিটেক্ট, যখন তারা কোন প্ল্যান করবেন অন্তত ফুটপাতটা যেন মানুষের হাঁটার যোগ্য থাকে এবং সেটা যেন দখল না হয় যেদিকে দৃষ্টি দিয়েই করতে হবে।’

তিনি বলেন, ‘আর কাউকে দোষ দেব না আমাদের প্ল্যান করা সময়ই এই সর্বনাশটা করা হয়ে যায়।’ যেটাকে তিনি ‘দুর্ভাগ্যজনক’ বলেও উল্লেখ করেন।

প্রধানমন্ত্রী আজ দুপুরে ‘ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনে (ডিএনসিসি) নতুনভাবে অন্তর্ভুক্ত ১৮টি ওয়ার্ডের সড়ক অবকাঠামো ও ড্রেনেজ ব্যবস্থার নির্মাণ ও উন্নয়ন (ফেজ-১)’ শীর্ষক প্রকল্পের কাজের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির ভাষণে একথা বলেন।

তিনি গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে ডিএনসিসি’র ৪৪ নং ওয়ার্ডস্থ কাঁচকুড়া হাইস্কুল প্রাঙ্গনে আয়োজিত অনুষ্ঠানে ভার্চুয়ালি যুক্ত হন।

ঘন বাসতিপূর্ণ হরিরামপুর এক সময় অত্যন্ত অবহেলিত ছিল উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, প্রকল্পের কাজ বাস্তবায়িত হলে এই অঞ্চলের মানুষের জীবন-জীবিকার মান আরও উন্নত হবে এবং মানুষের স্বাস্থ্যকর ভাবে বসবাস করতে পারবেন।

শেখ হাসিনা বলেন, ঢাকা শহরটাকে সীমিত শক্তি দিয়েই যতদূর সম্ভব আধুনিকায়ন করা, সবুজায়ন ও বসবাসের উপযোগী করার আমরা চেষ্টা করছি। নতুন ইউনিয়নগুলো যুক্ত করার মাধ্যমে ১৮টি ওয়ার্ড করেছি।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, এখানে খেলার মাঠ, পাবলিক টয়লেটসহ নানা নাগরিক সুবিধা সৃষ্টির জন্য যে প্রকল্প নেয়া হয়েছে। এর মাধ্যমে এই নতুন ঢাকা আরো সুন্দর হয়ে উঠবে বলেও তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন। কেননা এই কাজের দায়িত্ব প্রাপ্ত ২৪ ইঞ্জিনিয়ারিং ব্যাটালিয়ানও তাঁর হাতেই সৃষ্টি এবং যখনই তাঁদেরকে কোন কাজের দায়িত্ব দেয়া হচ্ছে তাঁরা তা সুষ্ঠু ভাবেই সম্পন্ন করছেন। পার্বত্য চট্টগ্রাম থেকে শুরু করে বিভিন্ন জায়গায় তাঁরা জনগণের পাশে থেকে সেবা করে যাচ্ছেন।

তাঁর সরকারের প্রচেষ্টায় দেশের উন্নয়নশীল দেশ হিসেবে গ্রাজুয়েশন প্রাপ্তির প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, আজকে একটা সম্মানজনক জায়গায় আমরা আসতে পেরেছি। যেটা ধরে রেখেই আমাদের সামনে এগিয়ে যেতে হবে। সাথে সাথে আমাদের নাগরিক সুবিধাটাও বাড়াতে হবে।

স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী মো.তাজুল ইসলাম অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন। সেনাপ্রধান জেনারেল এস এম শফিউদ্দিন আহমেদ এবং স্থানীয় মেয়র মো. আতিকুল ইসলাম অনুষ্ঠানে বক্তৃতা করেন।

২৪ ইঞ্জিনিয়ারিং কোরের কমান্ডার বিগ্রেডিয়ার জেনারেল এস এম জাকারিয়া হোসেন প্রকল্পের ওপর পাওয়ার পয়েন্ট প্রেজেন্টেশন উপস্থাপন করেন।

স্থানীয় সরকার বিভাগের সিনিয়র সচিব হেলালুদ্দীন আহমদ অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন।

সাধারণ জনগণকে অধিকতর সেবা প্রদানের জন্য গত ৪ ডিসেম্বও, ২০১১ তারিখে ঢাকা সিটি কর্পোরেশনকে দুইটি অংশে বিভক্ত করে ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশন এবং ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনে পরিণত করা হয়।

ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের আওতায় উত্তর-পশ্চিমে অবস্থিত হরিরামপুর ইউনিয়ন এবং পূর্বাঞ্চলে উত্তরখান, দক্ষিণখান, বাড্ডা, বেরাইদ, ডুমনি, সাঁতারকুল ও ভাটারা ইউনিয়নের এলাকা সমূহের ১৮টি ওয়ার্ডকে নতুনভাবে অন্তর্ভুক্ত করা হয়।

চলমান প্রকল্পের কাজ সম্পন্ন হলেএই ১৮টি ওয়ার্ডে বসবাসরত জনসাধারণের নিরাপদ যাতায়াত ব্যবস্থার উন্নয়ন ঘটবে। সেইসাথে বিদ্যমান জলাবদ্ধতা দূরীভূত হবে এবং নাগরিক সেবার মান বহুলাংশে বৃদ্ধি পাবে।

ডিএনসিসি’র নতুন এই ওয়ার্ডগুলোর জন্য ২০২০ সালের ১৪ জুলাই ৪ হাজার ২৫ কোটি ৬২ লাখ টাকার প্রকল্প ‘একনেক’ অনুমোদন করে । তবে, করোনার কারণে কাজ শুরু হতে দেরি হচ্ছিল।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ২১ বছর পর সরকার গঠনের সময় তাঁর একটাই লক্ষ্য ছিল এদেশের শোষিত বঞ্চিত মানুষের ভাগ্য পরিবর্তন করে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের স্বপ্ন পূরণ করা। অর্থাৎ বাংলাদেশের মানুষ বিশ^ দরবারে বিজয়ী জাতি হিসেবে সম্মানের সাথে মাথা উঁচু করে চলবে।

অগ্নিঝরা মার্চ মাসের প্রসঙ্গ উল্লেখ করে তিনি বলেন, ৭ মার্চের সেই ঐতিহাসিক ভাষণ, ১৭ মার্চ জাতির পিতার জন্মদিন এবং ২৬ মার্চ আমাদের স্বাধীনতা-সেই স্মৃতি বুকে নিয়েই আজও আমরা বেঁচে আছি, এগিয়ে যাচ্ছি, সেই চেতনা থেকেই আমরা দ্রুত বাংলাদেশকে উন্নয়নের ধারায় নিয়ে আসার প্রেরণা পাচ্ছি।

বাংলাদেশের জনগণের প্রতি তিনি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে বলেন, তাঁরা বারবার ভোট দিয়ে নির্বাচিত করায় সরকারের ধারাবাহিকতা ছিল বলেই আজকে দেশের উন্নতি করা সম্ভব হয়েছে। কিন্তু, আমরা চাচ্ছি বাংলাদেশকে সুন্দরভাবে সাজিয়ে তুলতে। যাতে, এর প্রত্যেকটা নাগরিক এখনকার নাগরিক সুবিধাগুলো ভোগ করতে পারে এবং উন্নত জীবন পেতে পারে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, এই ঢাকা শহর এক সময় চারিদিকে বুড়িগঙ্গা, তুরাগ, বালু এবং শীতলক্ষ্যা পরিবেষ্টিত একটি সুন্দর শহর ছিল। যা ’৭৫ পরবর্তী সরকারগুলোর অপরিকল্পিত নগরায়ণ এবং শহরমুখি জনতার চাপ এই শহরকে ধীরে ধীরে বাসবাসসের অনুপযোগী করে ফেলেছে।

তিনি বলেন, যখন সিটি কর্পোরেশন করা হলো একটা মাত্র সিটি কর্পোরেশন কিন্ত জনসংখ্যা এত বিশাল। কাজেই একটা সিটি কর্পোরেশন দিয়ে এত মানুষের সেবা দেয়া সম্ভব নয় ছিল না। পাশাপাশি, সংলগ্ন ইউনিয়নগুলো যেগুলো ন্যূনতম নাগরিক সুবিধা বঞ্চিত ছিল। এ সব ইউনিয়নকে অর্ন্তভূক্ত করে তাদের ওয়ার্ডে পরিণত করে ঢাকা সিটি কর্পোরেশনকে তিনি দুটি ভাগে ভাগ করার সিদ্ধান্ত নেন বলে উল্লেখ করেন। আর যা বাদ বাকী এলাকা রয়েছে সেগুলো অচিরেই অন্তর্ভূক্ত করা হবে।

এ সময় তিনি উৎপাদন খরচের কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে এখানে বসবাসকারীদের বিদ্যুৎ ও পানি ব্যবহারে সাশ্রয়ী হবার পরামর্শ দেন। পাশাপাশি, পরিস্কার-পরিচ্ছন্নতায় মনোযোগী হবার, ট্রাফিক আইন মেনে চলার এবং বৃক্ষরোপনের মাধ্যমে পরিবেশ সুন্দর রাখার কথাও বলেন তিনি। প্রধানমন্ত্রী স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদেরকে তাঁর সরকারের উন্নয়ন কাজে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে সহযেগিতা করার ও আহ্বান জানান।

বিভিন্ন খাল পূনরুদ্ধারের পদক্ষেপ নেয়ায় তিনি উত্তর সিটি কর্পোরেশনকে ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, আসলে সবথেকে খারাপ যেটা হয়ে গেছে, অতীতের এই বক্সকালভার্টগুলো নির্মাণ করায়। যেখানে খাল রয়েছে সেখানে খালটা রেখে দুপাশে রাস্তা করা যেত। পিলার দিয়ে ওপর দিয়েও এলিভেটেড রাস্তা করা যেত। কিন্তু ব´কালভার্ট করার ফলে সেখানে যেমন ময়লা জমছে তেমনি জলাবদ্ধতারও সৃষ্টি হচ্ছে। আবার অনেক স্থানে এজমালি সম্পত্তির মত খাল দখল হয়ে ঘর-বাড়ি বা স্থাপনা বা দোকান-পাট তৈরী করা হয়েছে।

তিনি বলেন, মানুষের যেমন রক্ত প্রবাহের জন্য ধ্বমনি থাকে একটি শহরেরও তেমনি শিরা বা ধ্বমনি হিসেবে কাজ করে এই খালগুলো। কাজেই সেটা উদ্ধার করা একান্ত অপরিহার্য।

পরিচ্ছন্নতা কর্মীদের জন্য ’৯৬ সালে সরকারে এসেই তাঁর নেতৃত্বাধীন আওয়ামী লীগ সরকারের ফ্লাট নির্মাণের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, শুরুটা আমরা করেছিলাম, কিন্তু, মাঝে বিএনপি ক্ষমতায় আসার পর সেগুলোকে এমনভাবে লুটে খেল যে, একটি বিল্ডিংও খাড়া হয়ে দাঁড়াতে পারল না। একটা আরেকটার ওপর ঢলে পড়ে যাচ্ছিল।

তখনকার বিএনপি’র সিটি মেয়র এবং সংশ্লিষ্টরা এই প্রকল্পের অর্থ আত্মস্যাৎ করে পুরো প্রকল্পের বারোটা বাজিয়ে দেন বলেও তিনি অভিযোগ করেন।

তাঁর সরকারের বস্তিবাসীর জন্য ভাড়া ভিত্তিক ফ্লাট নির্মাণের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, বস্তিতে তারা মানবেতর জীবন যাপন করে। কাজেই, কোন নাগরিক কষ্টে থাক সেটা আমি চাই না। এ সময় তিনি হিজড়া, বেদে এবং কুষ্ঠরোগীদের জন্যও ঘরবাড়ি তৈরী করে জীবন-জীবিকার ব্যবস্থা করে দেয়ায় তাঁর সরকারের পদক্ষেপসমূহ তুলে ধরেন।

তিনি বলেন, মুজিববর্ষ এবং স্বাধীনতার সুবর্ণ জয়ন্তী আমরা কেবল উদযাপনের মধ্যদিয়ে নয়, জাতির পিতা এদেশ স্বাধীন করে গেছেন এবং তাঁর প্রতিটি নাগরিক যেন সুন্দর জীবন পায় সেটাই আমার লক্ষ্য। সেজন্য সকলকে আমরা ঘর করে দিচ্ছি।

এ সময় কোভিড-১৯ প্রতিরোধে তাঁর সরকারের নানাবিধ পদক্ষেপের পাশাপাশি দেশব্যাপী বিনে পয়সায় ভ্যাকসিন প্রদানেরও উল্লেখ করেন তিনি।

বিহারীরা পাকিস্তানে ফিরে যেতে চাইলেও পাকিস্তান সরকারের উদ্যোগ না থাকায় তাদের বাধ্য হয়ে জেনেভা ক্যাম্পের ছোট জায়গায় অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে বসবাসের প্রসঙ্গ উল্লেখ করে সরকার প্রধান বলেন, তাদের জন্য তিনি ভাল বাসস্থানের ব্যবস্থা করে দেবেন।

তিনি বলেন, তারা খুব কর্মঠ, বিভিন্ন কাজ তারা খুব দক্ষতার সঙ্গে করতে পারেন। যে কারণে, আমি চাচ্ছি তাদের জন্য একটা ভাল বাসস্থানের ব্যবস্থা করে দেওয়ার এবং তারা যে যে কাজে পারদর্শী নিজেদের সে কাজে সম্পৃক্ত করে যাতে জীবন-জীবিকার ব্যবস্থা করতে পারে সে ব্যবস্থাটা আমাদের করতে হবে। কারণ, মানুষকে মানুষ হিসেবেই আমরা দেখতে চাই।

প্রয়োজনে ঢাকার বাইরে আরো বড় জায়গায় বা ইন্ডাস্ট্রিয়াল জোনে, যেখানে কাজের ব্যবস্থা রয়েছে সেখানে এই পুণর্বাসনটা করা যেতে পারে বলেও তিনি অভিমত ব্যক্ত করেন। সূত্র: বাসস

পড়ুণ দৈনিক বিশ্ব

English Dainikbiswa

আজ ঐতিহাসিক ৭ মার্চ।। স্বাধীনতা সংগ্রামের বীজমন্ত্র

আজ ঐতিহাসিক ৭ মার্চ।। স্বাধীনতা সংগ্রামের বীজমন্ত্র

//দৈনিক বিশ্ব ডেস্ক//

১৯৭১ সালের ৭ মার্চ বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের দেয়া ঐতিহাসিক ভাষণে গ্রামীণ সাধারণ মানুষের ভাষা থাকায় এ ভাষণ স্বাধীনতার সংগ্রামের বীজমন্ত্র হয়ে পড়ে। অন্যদিকে এ ভাষণ শুধুমাত্র রাজনৈতিক দলিলই নয়, জাতির সাংস্কৃতিক পরিচয় প্রকাশের একটি সম্ভাবনাও তৈরি করে।

জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৭ মার্চের ভাষণ নিয়ে এ মন্তব্য করেছেন দেশের সাংস্কৃতিক-নাট্য এবং ভাষা বিশেষজ্ঞরা।

তারা বলেন, বঙ্গবন্ধু ’৭১-এর ৭ মার্চ যে ভাষণ দিয়েছিলেন ইতিহাসে তার তুলনা খুঁজে পাওয়া যায় না। এই ভাষণে তথাকথিত পরিশীলিত বাচন ভঙ্গির চেয়ে গ্রামীণ সাধারণ মানুষের ভাষা থাকায় গোটা দেশের মানুষকে আপ্লুত এবং মুক্তির সংগ্রামে উদ্বুদ্ধ করেছিল। ফলে এই ভাষণ স্বাধীনতার সংগ্রামের বীজমন্ত্র হয়ে পড়ে।

লোক সংস্কৃতি ও পল্লী সাহিত্য গবেষক শামসুজ্জামান খান এ ভাষণ প্রসঙ্গে লিখেছেন, আব্রাহাম লিংকনের গেটিসবার্গ এড্রেস বা দ্বিতীয় মহাযুদ্ধের সময় চার্চিলের ভাষণসহ অন্য কোন ভাষণের সঙ্গে এ ভাষণের তুলনা চলে না, এই দেশের মাটি, মানুষ, নিসর্গ, প্রকৃতি এবং জীবনধারার বৈশিষ্ট্যের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ এই ভাষণটি মনে হয় যেন বঙ্গবন্ধু জীবনব্যাপী সাধনায় ধীরে ধীরে ধাপে ধাপে প্রস্তুত করে নিয়েছিলেন। এমন মনে হয় যে, বাঙালির হাজার বছরের দুঃখ-বেদনা, বঞ্চনা এবং ক্ষমতার কেন্দ্র থেকে দূরে থাকার ইতিহাস, কৃষক, কৈবর্ত, উপজাতিদের বিদ্রোহ প্রভৃতির বারুদ ঠাঁসা উপাদানে তাঁর সচেতন এবং অবচেতন মনে এই ভাষণটি তৈরি হয়ে প্রকাশের জন্য উন্মুখ হয়েছিল।

অনেকেই মনে করেন ৭ মার্চ এক অলৌকিক মুহূর্তে সেই ভাষণটি অমন অসাধারণ ভাষা, ভঙ্গি ও আঙ্গিকগত স্বাতন্ত্র্যে বাঙ্গময়তার সঙ্গে প্রকাশিত হলো, যা মনে হয় যেন এক ঐশ্বরিক ক্ষমতার স্পর্শে উচ্চকিত ভাষণ। যে ভাষণ মানুষকে তার মর্মমূল থেকে গভীরভাবে উদ্দীপ্ত এবং জাগ্রত করে তুলেছিল। এতে করে এই ভাষণের পরতে পরতে যুক্ত হয়ে থাকা দ্রোহের বাণী মানুষকে স্বাধীনতা সংগ্রামে ঝাঁপিয়ে পড়তে, এমনকি প্রয়োজনে লড়াকু মুক্তিযোদ্ধার ভূমিকায় উত্তীর্ণ করে তোলে। এই জন্যই বঙ্গবন্ধুর ৭ মার্চের ভাষণ বাঙালির স্বাধীনতার বীজমন্ত্র, মুক্তিযুদ্ধের অশেষ প্রেরণা এবং বাঙালির হাজার বছরের স্বাধীনতার স্বপ্ন বাস্তবায়নের এক শক্তিশালী হাতিয়ার।

একুশে পদকপ্রাপ্ত বিশিষ্ট নাট্য ব্যক্তিত্ব নাসির উদ্দিন ইউসুফ বাচ্চু বঙ্গবন্ধুর ৭ মার্চের ভাষণকে আধুনিক ইতিহাসের একটি অনন্য রাজনৈতিক দিক-নির্দেশনা এবং আন্দোলনের দলিল হিসেবে অভিহিত করে বলেন, এতে ভাষাগত যে উৎকর্ষ আছে তা রীতিমত বিস্ময়কর।

তিনি বলেন, কোলকাতা কেন্দ্রিক ভাষার বাক্য প্রকরণ রীতির বিপরীতে পদ্মাপাড়ের ভাষা ও বাক্য প্রকরণ রীতির উন্মেষ ঘটেছিল এই ভাষণের মধ্যে। এতে করে যে ঘটনাটি ঘটেছে তা হচ্ছে- বাংলা ভাষা একটি সুনির্দিষ্ট দিকে বাঁক নেয়, যা পোশাকী ভাষার বিপরীতে ভাটি বাংলার মৃত্তিকা সংলগ্ন ভাষা। এ কারণে এটি শুধু রাজনৈতিক দলিল নয়, একটি সাংস্কৃতিক পরিচয় বিধানের সম্ভাবনা তৈরি করেছিল এই ভাষণ।

তিনি বলেন, ভাটি বাংলার খরস্রোতা নদী নদী এবং বঙ্গোপসাগরের উত্তাল ধ্বনি এবং ভঙ্গি এই ভাষণের মধ্য দিয়ে জাতির সামনে উপস্থাপিত হয়েছিল। যার কারণে সারাদেশের মানুষ মন্ত্রমুগ্ধের মত এই ভাষণ শুনেছে- যার জন্য তাদের অপেক্ষা করতে হয়েছে যুগ যুগ ধরে। সেদিনের ভাষণ পাঠ করলে বিভিন্নভাবেই স্বাধীনতার মর্মার্থ অনুধাবন করা যায়। ভাষণে বঙ্গবন্ধু যে শব্দগুলো ব্যবহার করেছিলেন সেগুলো ছিল একটি চূড়ান্ত লড়াইয়ের নির্দেশ।

ভাষণে সবকিছুকে ছাড়িয়ে বঙ্গবন্ধু বললেন, ‘এবারের সংগ্রাম, মুক্তির সংগ্রাম। এবারের সংগ্রাম স্বাধীনতার সংগ্রাম।’ এর পরেই অকুতোভয় বাঙালি এবং সর্বস্তরের মানুষ ঝাঁপিয়ে পড়েছিলেন মুক্তির চূড়ান্ত লড়াইয়ে। ঐক্যবদ্ধ মানুষের শক্তি কত যে প্রচ- হতে পারে তা দখলদার বাহিনী তো বটেই সারাবিশ্বের মানুষও দেখেছে অবাক বিষ্ময়ে।

আসলে বঙ্গবন্ধুর ৭ মার্চের ঐতিহাসিক ভাষণ সকলের মধ্যে সচেতনতা এবং প্রেরণা সৃষ্টি করেছিল। আর সে কারণে মানুষ নির্দ্বিধায় প্রাণ বিসর্জন দিতে পেরেছিলেন। বঙ্গবন্ধুর দৃপ্ত কণ্ঠে যে বজ্রের বাণী সেদিন উচ্চারিত হয়েছিল সেটিই ছিল আমাদের স্বাধীনতার ঘোষণা।

ইমেরিটাস অধ্যাপক আনিসুজ্জামান লিখেছেন, বঙ্গবন্ধুর এই ভাষণ রণকৌশলের দিক দিয়ে অসাধারণত্ব, আবেগ আর স্বতঃস্ফুর্ততার পরিচায়ক। যে ভাষায় তিনি কথা বলতেন, সেই ভাষায় তিনি বক্তব্য দিয়েছেন। এ ভাষণ বিশ্ব ঐতিহ্যের স্বীকৃতি পাওয়ায় বাংলাদেশের মানুষের গৌরব সম্মান আরেকবার আন্তর্জাতিকভাবে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। সূত্র: বাসস

পড়ুণ দৈনিক বিশ্ব

English Dainikbiswa

ইউক্রেনের বাইরে বসে ইউক্রেন সরকার গঠনের প্রস্তুতি পশ্চিমাদের

বাগেরহাটের রামপাল বিদ্যুৎকেন্দ্রে ভারতীয় কর্মীর লাশ উদ্ধার

//নিজস্ব প্রতিবেদক///

বাগেরহাটের মোংলা উপজেলার একটি বাড়ি থেকে এক ভারতীয় নাগরিকের লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। অরবিন্দ কুমার শ্রীবাস্তব (৪১) নামের ওই ব্যক্তি নির্মাণাধীন কয়লাভিত্তিক রামপাল তাপবিদ্যুৎকেন্দ্রে কর্মরত ছিলেন।

আজ রোববার দুপুরে মোংলার দিগরাজ এলাকার নাসির উদ্দিন হাওলাদারের ভাড়া বাড়ির রান্নাঘর থেকে রশিতে ঝুলন্ত লাশটি উদ্ধার করে পুলিশ। ময়নাতদন্তের জন্য লাশটি বাগেরহাট সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।

মোংলা থানার উপপরিদর্শক অমিত কুমার বিশ্বাস বলেন, রান্নাঘরের সানসেটের একটি রডের সঙ্গে গলায় রশি দিয়ে ঝুলন্ত অবস্থায় অরবিন্দের লাশ উদ্ধার করা হয়। ঘরের ভেতর থেকে দরজা আটকানো ছিল। তাঁর শরীরের কোথাও আঘাতের বাহ্যিক চিহ্ন পাওয়া যায়নি। ধারণা করা হচ্ছে, তিনি আত্মহত্যা করেছেন।

সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা জানিয়েছেন, অরবিন্দ নির্মাণাধীন রামপাল তাপবিদ্যুৎকেন্দ্রের কাজ করা পাওয়ার ম্যাক প্রজেক্ট লিমিটেডের হিসাব বিভাগের সহকারী ব্যবস্থাপক পদে কর্মরত ছিলেন। তাঁর চাকরির পিপি নম্বর আর-২২৫৪২০৬। তাঁর বাড়ি ভারতের রাজস্থানে।

পুলিশ জানায়, অরবিন্দের সহকর্মীদের দেওয়া খবরের ভিত্তিতে পুলিশ গিয়ে তাঁর ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার করে। তিনি দিগরাজ এলাকার নাসির উদ্দিন হাওলাদারের পাঁচতলা ভবনের দ্বিতীয় তলায় ভাড়া থাকতেন। ওই ঘরে তিনি ছাড়া আর কেউ থাকতেন না।

 

ঐতিহাসিক ৭ মার্চ ।। আওয়ামী লীগের কর্মসূচি

//নিজস্ব প্রতিবেদক//

ঐতিহাসিক ৭ মার্চ উপলক্ষে কর্মসূচি ঘোষণা করেছে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ। শনিবার আওয়ামী লীগের দপ্তর সম্পাদক ব্যারিস্টার বিপ্লব বড়ুয়া স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ কর্মসূচি জানানো হয়।

দিবসটি উপলক্ষে ৭ মার্চ ভোর সাড়ে ৬টায় বঙ্গবন্ধু ভবন ও দলীয় কার্যালয়ে জাতীয় এবং দলীয় পতাকা উত্তোলন করা হবে। সকাল ৮টায় বঙ্গবন্ধু ভবন প্রাঙ্গণে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতিকৃতিতে শ্রদ্ধার্ঘ্য অর্পণ করবে আওয়ামী লীগ।

এদিন বেলা সাড়ে ১১টায় আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়েছে। এতে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে যুক্ত হয়ে সভাপতিত্ব করবেন আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ঐতিহাসিক ৭ মার্চের ভাষণ বাঙালির স্বাধীনতা-মুক্তি ও জাতীয়তাবোধ জাগরণের মহাকাব্য, বাঙালি তথা বিশ্বের সকল লাঞ্ছিত-বঞ্চিত নিপীড়িত-নির্যাতিত মানুষের মুক্তির সনদ। ৭ মার্চের ভাষণ বাঙালির পরাধীনতার শৃঙ্খল ভাঙার চূড়ান্ত প্রেরণা। বঙ্গবন্ধুর ঐতিহাসিক ৭ মার্চের ভাষণ বিশ্ব ঐতিহ্যের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ প্রামাণিক দলিল এবং বিশ্বে সর্বাধিকবার প্রচারিত ও শ্রবণকৃত অলিখিত ভাষণ।

এতে আরও বলা হয়, ১৯৭১ সালের ৭ মার্চ বাঙালি জাতির ইতিহাসে স্বর্ণাক্ষরে লেখা একটি অবিস্মরণীয় দিন। এই দিনে তৎকালীন ঐতিহাসিক রেসকোর্স ময়দানে বাঙালি জাতির অবিসংবাদিত নেতা জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এক উত্তাল জনসমুদ্রে বাংলাদেশের স্বাধীনতার ডাক দেন। বঙ্গবন্ধু তার বজ্রনির্ঘোষ কণ্ঠে বলেন, ‘‘এবারের সংগ্রাম আমাদের মুক্তির সংগ্রাম, এবারের সংগ্রাম স্বাধীনতার সংগ্রাম”।

এই ঐতিহাসিক ভাষণের মধ্য দিয়ে বঙ্গবন্ধু পাকিস্তান শাসকগোষ্ঠীর অত্যাচার-নির্যাতন-নিপীড়নের বিরুদ্ধে আন্দোলনরত নিরস্ত্র বাঙালি জাতিকে মুক্তির মহান মন্ত্রে উজ্জীবিত করেন। পরবর্তীতে বঙ্গবন্ধুর ডাকে বাঙালির স্বাধীনতা সংগ্রাম জনযুদ্ধে পরিণত হয়। ঐতিহাসিক এই ভাষণে উদ্দীপ্ত হয়ে ৯ মাসের মুক্তিযুদ্ধের মধ্য দিয়ে এক সাগর রক্ত আর ত্রিশ লাখ প্রাণের বিনিময়ে অর্জিত হয় মহান স্বাধীনতা। বিশ্ব মানচিত্রে প্রতিষ্ঠা লাভ করে স্বাধীন-সার্বভৌম বাংলাদেশ রাষ্ট্র।

পড়ুণ দৈনিক বিশ্ব

সরকার সাম্প্রদায়িক অপশক্তি বিনাশে বদ্ধপরিকর : ড. হাছান মাহমুদ

 

সরকার সাম্প্রদায়িক অপশক্তি বিনাশে বদ্ধপরিকর : ড. হাছান মাহমুদ

 //দৈনিক বিশ্ব নিউজ ডেস্ক//

তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী  এবং  আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ড. হাছান মাহমুদ বলেছেন, বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনার সরকার দেশে সাম্প্রদায়িক অপশক্তিকে সমূলে বিনাশে বদ্ধপরিকর।

তিনি বলেন, ‘যারা ভোটের সময় ভারতবিরোধী, হিন্দুবিরোধী শ্লোগান দেয়, তারাই সাম্প্রদায়িক বিষবাষ্প ছড়াতে পরিকল্পিতভাবে নানা অঘটন ঘটানোর অপচেষ্টা লিপ্ত। গত দুর্গাপূজার সময়ও তারা সেই অপচেষ্টা চালিয়েছে। সেসময় আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা যেভাবে হিন্দু সম্প্রদায়ের পাশে দাঁড়িয়েছিল, সবসময়ই তারা সেভাবেই পাশে দাঁড়াবে। সরকার এই অপশক্তি নির্মূলে বদ্ধপরিকর।’

মন্ত্রী শুক্রবার সকালে রাজধানীর চকবাজারে ঢাকেশ্বরী মন্দিরে মহানগর সার্বজনীন পূজা কমিটির দ্বিবার্ষিক সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় একথা বলেন।

ড. হাছান বলেন, হাজার বছর ধরে এই ভূখন্ডে বসবাসকারী অধিবাসীদেরকে ‘শত্রু’ আখ্যা দিয়ে যে ‘শত্রুসম্পত্তি আইন’ করা হয়েছিল, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশেই তা সংস্কার করা হয়েছে, সংবিধানকেও মুক্তিযুদ্ধের অসাম্প্রদায়িক চেতনায় ফিরিয়ে আনা হয়েছে।

তিনি বলেন, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নেতৃত্বে সকল সম্প্রদায়ের মানুষের মিলিত রক্তস্রোতে যেমন বাংলাদেশ স্বাধীন হয়েছে, তেমনি বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনার নেতৃত্বে সকলের ঐক্যবদ্ধ প্রচেষ্টায় আমরা দেশকে ২০৩১ সালের মধ্যে উচ্চ মধ্যম আয়ের দেশ ও ২০৪১ সালের মধ্যে উন্নত রাষ্ট্রে পরিণত করে বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের ঠিকানায় পৌঁছুবো।’

মহানগর সার্বজনীন পূজা কমিটির সভাপতি শৈলেন্দ্রনাথ মজুমদারের সভাপতিত্বে ও অ্যাডভোকেট কিশোর রঞ্জন মন্ডলের পরিচালনায় সাবেক যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী ড. বীরেন শিকদার, আওয়ামী লীগের সাংস্কৃতিক বিষয়ক সম্পাদক অসীম কুমার উকিল এমপি, পংকজ দেবনাথ এমপি,  বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি জে এল ভৌমিক, সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক  ড. চন্দ্রনাথ পোদ্দার প্রমুখ এসময় বক্তব্য দেন।

পরে, আওয়ামী লীগের প্রচার ও প্রকাশনা উপ-কমিটির সাবেক সভাপতি এইচ টি ইমামের প্রথম মৃত্যুবার্ষিকীতে রাজধানীর বনানী কবরস্থানে তার সমাধিতে পুষ্পস্তবক অর্পণ করে তার আত্মার শান্তি কামনা করে দোয়া করেন তথ্যমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক। এসময় সাংবাদিকদের তিনি বলেন, প্রাজ্ঞ ও বিজ্ঞ নেতা এইচ টি ইমামের চলে যাওয়া দেশ ও আওয়ামী লীগের জন্য এক অপূরণীয় ক্ষতি।

বিকেলে ঢাকার বাসাবোতে আন্তর্জাতিক ধর্মরাজিক বৌদ্ধমহাবিহারে প্রয়াত সংঘনায়ক শুদ্ধানন্দ মহাথেরোর জাতীয় অন্তেষ্টিক্রিয়ায় যোগ দেন মন্ত্রী। সংসদ সদস্য সাবের হোসেন চৌধুরী, আওয়ামী লীগের দপ্তর সম্পাদক ও প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী ব্যারিস্টার বিপ্লব বড়ুয়া প্রমুখ এসময় উপস্থিত ছিলেন।

এছাড়াও শুক্রবার সন্ধ্যায় রাজধানীর শিল্পকলা একাডেমির নাট্যশালা মিলনায়তনে বাংলাদেশ শর্ট ফিল্ম ফোরাম আয়োজিত ষোড়শ আন্তর্জাতিক স্বল্পদৈর্ঘ্য ও মুক্ত চলচ্চিত্র উৎসব সমাপনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে যোগ দেন তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ।

বিভিন্ন ক্যাটাগরিতে বিজয়ী চলচ্চিত্রকারদের হাতে পুরস্কার তুলে দেওয়ার প্রাক্কালে দেয়া বক্তব্যে তিনি বলেন, ‘জাতি হিসেবে ভাষা আর সংস্কৃতি দু’টি আমাদের গর্বের বিষয়। বাঙালিরা মেধাবীও। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে উন্নত রাষ্ট্রে পরিণত হওয়ার পথে আমরা আজ মধ্যম আয়ের দেশ ও উন্নয়নশীল রাষ্ট্রগুলোর সামনে অনন্য উদাহরণ।

স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র নির্মাণে তরুণদের এগিয়ে আসাকে সাধুবাদ জানিয়ে ও তরুণ সৃষ্টিশীল প্রতিভা বিকাশে সংস্কৃতি চর্চার গুরুত্ব তুলে ধরে তিনি বলেন, দেশময় সাংস্কৃতিক বিপ্লব হলে জঙ্গি-মাদকাসক্তি সব ভেসে যেতো।

উৎসব আয়োজক পরিষদের সভাপতি নাসির উদ্দীন ইউসুফ বাচ্চু, শিল্পকলা একাডেমির মহাপরিচালক লিয়াকত আলী লাকী, উৎসব পরিচালক সৈয়দ ইমরান হোসাইন কিরমানী, চলচ্চিত্রকার মানজারে হাসীন মুরাদ, জাহিদুর রহিম অঞ্জন, জুনায়েদ আহমেদ হালিম, জহিরুল ইসলাম কচি প্রমুখ অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন।

‘মুক্ত চলচ্চিত্র, মুক্ত প্রকাশ’ শ্লোগান নিয়ে ২৫ ফেব্রুয়ারি থেকে ৪ মার্চ পর্যন্ত প্রদর্শিত ১৩০টি দেশের ৪ শতাধিক স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্রগুলোর মধ্যে তুরস্কের ‘আই এম এফ্রেইড টু ফরগেট ইয়োর ফেইস’ ও ‘আল-সিট’ এবং বাংলাদেশের ‘চক্রব্যূহ’ তিনটিকে শ্রেষ্ঠ পুরস্কার এবং বিশিষ্ট চলচ্চিত্র নির্মাতা তানভীর মোকাম্মেল ও মানজারে হাসীন মুরাদকে ‘হীরালাল সেন আজীবন সম্মাননা পুরস্কারে’ ভূষিত করেন অতিথিবৃন্দ। বাসস

পড়ুণ দৈনিক বিশ্ব

English Dainikbiswa

যেসব ক্ষেত্রে নিষেধাজ্ঞায় পড়া রুশ ব্যাংকের সঙ্গে লেনদেনে বাঁধা