হাইমচর মধ্যচরের মাটি বিক্রি হচ্ছে ইটভাটায়,নীলকমলের মানচিত্রে মাটি খেকু চক্রের কু-নজর

//হাইমচর প্রতিনিধি//

হাইমচর উপজেলার ৪নং নীলকমল ইউনিয়নের ৭ ও ৮নং ওয়ার্ডের মাঝি কান্দি এলাকার মাটি মুন্সিগঞ্জের একটি ইটভাটায় বিক্রি করে যাচ্ছেন স্থানীয় কতিপয় মাটি খেকু। যার ফলে নীলকমল ইউনিয়নের মানচিত্র থেকে বিলীন হয়ে যাচ্ছে এ দুটি ওয়ার্ড। এ বালু খেকুদের হাত থেকে নীলকমল ইউনিয়নকে রক্ষা করার জন্য প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করে বালু খেকুদের আইনের আওতায় আনার জোর দাবী জানান এলাকাবাসী।

মাটি কেটে নিয়ে যাওয়ার সংবাদ পেয়ে ঘটনাস্থলে যান উপজেলা সহকারি কমিশনার (ভূমি) আব্দুল আল ফয়সাল মাটি খেকুরা সহকারি কমিশনার ভুমির আসার সংবাদ পেয়ে পালিয়ে যায়। তিনি চলে আসার পর এই চক্র পুনরায় মাটি কাটার প্রস্তুতি নেয়। রাতের আধারে মাটি কাটবে বলে জানাগেছে।

সরজমিনে গিয়ে দেখা যায়, হাইমচর উপজেলার ৬টি ইউনিয়নের মধ্যে ৩ টি ইউনিয়ন নদীর গর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। ৩টি ইউনিয়ন কাগজে কলমে থাকলেও ঐ তিনটি ইউনিয়নের বেশির ভাগই এখন নদীর গর্ভে বিলীন হয়েছে। নীলকমল ইউনিয়নে যে টুকু জায়গা রয়েছে সেটুকুতেও কুনজর পড়েছে স্থানীয় কতিপয় মাটি খেকু সদস্যদের। দিনে দুপুরে ৪টি বেকু দিয়ে কয়েকটি জাহাজে করে প্রতিদিনই বিক্রি করছে মাটি। যার ফলে মানচিত্র থেকে বিলীনের পথে রয়েছে নীলকমল ইউনিয়নে অর্থনৈতিক অঞ্চল ঘোষণাকৃত এ মধ্যচরের মাটি কেটে মানচিত্র থেকে মুছে ফেলার মত জঘন্যতম কাজ করছে এ মাটি খেকু চক্রটি। এ মাটি কাটার সাথে জড়িত স্থানীয় কবির মাঝি, সেলিম মাঝি, আবু চকিদার, সেলিম চকিদার, মুকবিল। যারা নীলকমল ইউনিয়নের প্রভাবশালী লোক। যার কারণে ভয়ে প্রতিবাদ করতে পারেনি স্থানীয় লোকজন।

নাম বলতে অনিচ্ছুক স্থানীয় কয়েকজন ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, আমাদের এলাকার ফসলী জমি জোর করে কেটে নিয়ে যাচ্ছে কবির মাঝি, সেলিম সহ প্রায় ১০ থেকে ১২ জনের নেতৃত্বে আরও কয়েকজন।  তারা ৪টি বেকু দিয়ে মাটি কেটে জাহাজে করে নিয়ে মুন্সিগঞ্জে মাটি বিক্রি করছে। যার কারণে আমাদের গ্রামটা এখন বিলীনের পথে। আমরা প্রশানের হস্তক্ষেপ কামনা করছি এবং এ চরের মাটি বিক্রেতাদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থাগ্রহন করার জন্য জোর দাবী জানাচ্ছি।

ইউপি সদস্য বাচ্চু সরকার জানান, আমার পাশের ওয়ার্ডের মাঝি কান্দি গ্রামের মাটি অন্যত্র বিক্রি করার কারনে গ্রামটি বিলুপ্তির পথে। যা অত্যান্ত দুঃখজনক বিষয়। কে বা কারা এ মাটি কেটে নিয়ে যাচ্ছে এবং মুন্সিগঞ্জে বিক্রি করছে এটা সকলেরই জানা। তবে গ্রামটি রক্ষার স্বার্থে এ মাটি কাটা বন্ধ করা প্রয়োজন এবং অবৈধ মাটি কাটা বন্ধের জন্য ইউনিয়ন পরিষদে কোনো লিখিত অভিযোগ করেন না।

৭নং ওয়ার্ড ইউপি সদস্য রতন  জানান, আমার ওয়ার্ডে মাটি কাটার সংবাদ পেয়ে উপজেলা সহকারি কমিশনার ভূমি স্যার এবং বায়ারচর পুলিশ ফাঁড়ির কর্মকর্তাকে অবহিত করেছি। আজ এসিল্যান্ড এসে বন্ধ করে দিয়েছে। স্যার আসার সংবাদ পেয়ে সব কিছু নিয়ে তারা পালিয়ে যায়।

স্থানীয় এলাকাবাসী জানান নীলকমল ইউনিয়নের বাসিন্দা কবির মাঝি, বাচ্চু মাঝি,সেলিম চকিদার, আবু চকিদারের মুকবিল জমির মালিক দাবি করে মাটি বিক্রি করেন।

অভিযুক্ত কবির মাঝি,বাচ্চু মাঝি, সেলিম চকিদার, আবু চকিদার মুকবিল বলেন আমরা ৪/৫ দিন মাটি কেটেছি। আজ এসিল্যান্ড এসে নিষেধাজ্ঞা দিয়ে গেছেন,তাই আমরা আর মাটি কাটবো না।

নীলকমল ইউপি চেয়ারম্যান সাউদ আল নাসের বলেন ৮,৯ নং ওয়ার্ডের  কৃষকদের জমির পাশাপাশি সরকারি জমির মাটি কেটে নিচ্ছিল স্থানীয় প্রভাবশালীরা। অবৈধ ভাবে মাটি কাটার বিষয়ে হাইমচর উপজেলা ভুমি কর্মকর্তাকে অবগত করি এবং  অবগত করলে ঘটনা স্থানে আমি সহ হাইমচর উপজেলা প্রশাসনের কর্মকর্তা ঘটনা স্হলে যাই।

ইউপি চেয়ারম্যান সাউদ আল নাসের আরো বলেন মাটি কাটার সঙ্গে জড়িত এবং যারা অবৈধ ভাবে মাটি কাটছে, তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। তিনি আরও বলেন, ১টি ভেকু ও ৩টি স্যালো মেশিন বিকল করে দেওয়া হয়।এ সময় জড়িতদের কাউকে পাওয়া যায়নি।

ভূমিদস্যুদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য প্রশাসনের জোর দাবি জানান   এবং ইউপি চেয়ারম্যান সাউদ আল নাসের এর বিরুদ্ধে মিথ্যা বানোয়াট সংবাদ প্রকাশ করা হয়েছে তা মিথ্যা  ভিত্তিহীন ও ষড়যন্ত্রমূলক।।

আলিম পরীক্ষার্থী প্রক্সি দিতে এসে আটক

//দৈনিক বিশ্ব ডেস্ক//

রাজশাহীর পবা উপজেলায় অন্য পরীক্ষার্থীর হয়ে প্রক্সি দিতে এসে ধরা পড়েছেন এক আলিম পরীক্ষার্থী। তাকে আটক করে এক বছরের কারাদণ্ড দিয়েছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত। একই সঙ্গে প্রকৃত পরীক্ষার্থীকে বহিষ্কার করা হয়েছে।

রোববার সকালে সারাদেশে একযোগে শুরু হয় এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষা। এদিন পবার নওহাটা ছালেহিয়া দারুচ্ছুন্নাত ফাজিল মাদরাসা কেন্দ্রে উপজেলার আলিগঞ্জ দারুন সুন্নাহ কামিল মাদরাসার শিক্ষার্থী আবুল হায়াতের (রোল নম্বর-১১৮১৯২, রেজিস্ট্রেশন নম্বর- ১৫১৮৯১০৪১০) পরিবর্তে পরীক্ষা দিতে বসেন স্থানীয় রুস্তম আলীর ছেলে মকবুল হোসেন।

পরীক্ষা শুরুর পর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট অভিজি’ সরকার ওই কেন্দ্র পরিদর্শনকালে মকবুলের আচরণে সন্দেহ মনে হলে কেন্দ্রে দায়িত্বরত শিক্ষকদের জানান। পরে তাকে জিজ্ঞাসাবাদ এবং প্রবেশপত্র যাচাই করে নিশ্চিত হন, আবুল হায়াতের প্রক্সি পরীক্ষা দিতে আসেন মকবুল। জিজ্ঞাসাবাদে তিনি নিজেও বিষয়টি স্বীকার করেন।

এ ঘটনায় সহকারী কমিশনার অভিজিৎ সরকার ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে মকবুলকে এক বছরের বিনাশ্রম কারাদণ্ড ও এক হাজার টাকা জরিমানা করেন। একই সঙ্গে আবুল হায়াতকে সব পরীক্ষা হতে বহিষ্কার করা হয়।

পবা উপজেলা কমিশনার (ভূমি) অভিজিৎ সরকার এসব তথ্য নিশ্চিত করে জাগো নিউজকে বলেন, এ ঘটনার সাথে আলিগঞ্জ দারুস সুন্নাহ আলিম মাদরাসার অধ্যক্ষ নূর মোহাম্মদ খানের যোগসাজস রয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এ বিষয়ে ব্যবস্থা নিতে জেলা প্রশাসক বরাবর একটি অভিযোগপত্রও পাঠানো হয়েছে।

অভয়নগরে কলেজ অধ্যক্ষের প্রতারণার শিকার একাধিক শিক্ষার্থী

//মোঃ শফিকুল ইসলাম পিকুল, বিশেষ প্রতিনিধি//
যশোরের অভয়নগরে কলেজ অধ্যক্ষের প্রতারণার শিকার হয়ে একটি বছর নষ্ট হলো মেধাবী শিক্ষার্থী আসমা খাতুন ও দীপুমন্ডলের । চলতি বছরে উচ্চ মাধ্যমিক এইচএসসি পরীক্ষা দেওয়ার কথা ছিল তাদের । রাতদিন পরিশ্রম করে পরীক্ষার প্রস্তুতি নিয়েছেন অথচ কলেজ অধ্যক্ষের প্রতারণার শিকার আসমা খাতুন ‌ও দীপুমন্ডল পরীক্ষা দিতে পার পারছেন না। পড়ার টেবিলে থাকার বদলে আসমা অসুস্থ হয়ে এখন বিছানায় । মানসিক ভারসাম্য হারিয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা চালায় কলেজ শিক্ষার্থী আসমা ।

অভয়নগরে কলেজ অধ্যক্ষের প্রতারণার শিকার একাধিক শিক্ষার্থী

তার মতো আরো অনেকে ওই অধ্যক্ষের প্রতারণার শিকার হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে । ভূক্তভোগী শিক্ষার্থী আসমা খাতুন জানায়, আমি ২০২০ সালে এস‌এসসি পাশকরি ২০২০-২১ শিক্ষাবর্ষের নিয়মিত শিক্ষার্থী হিসেবে একাদশ শ্রেণীতে ভর্তি হয়ে লেখাপড়া চালিয়ে যাচ্ছি, এর‌ই মাঝে পারিবারিক ভাবে আমার বিবাহ হয়। এস‌এসসি পাশ করার পর আমাকে শশুরবাড়ি তুলে নেবে ।তাই সুশীল সমাজের কাছে আমার একটি প্রশ্ন, এখন আমার কি উপায় হবে?। ফরম পূরণসহ কলেজের যাবতীয় ফিস পরিশোধ করেছি । পরীক্ষার এক সপ্তাহ আগে অন্য শিক্ষার্থীরা তাদের প্রবেশপত্র হাতে পেয়েছেন । অথচ আমি এখনো প্রবেশপত্র হাতে পাইনি ।ওই অধ্যক্ষের কাছে একাধিকবার ফোন করলে তিনি রিসিভ করে বলেন, আমি জরুরী কাজে ঢাকায় এসেছি তোমার প্রবেশপত্র বাড়িতে পৌঁছে যাবে । পরবর্তীতে তার কাছে কল করলে তিনি আর ফোন রিসিভ করেননি । ধোপাদী গ্ৰামের ধোপাপাড়া এলাকার সুফল মন্ডলের ছেলে দীপুমন্ডল অভিযোগ করে বলেন,অধ্যক্ষ শহিদুল স্যার ফরম পূরণ করার নামকরে আমার কাছ থেকেও দুই হাজার টাকা নিয়েছেন কিন্তু আমার এখন ও প্রবেশপত্র দেয়নি।। এখন আমি চরম বিপদে পড়েছি । আমি তার বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তির দাবি করছি। শিক্ষার্থী ও তার অভিভাবকদের অভিযোগ হাজার হাজার টাকা নিয়েও তাদের প্রবেশপত্র দেয়নি শহীদ স্মৃতি (এসএস )কলেজের অধ্যক্ষ শহিদুল ইসলাম । শিক্ষার্থী আসমার পিতা আসাদুল হক কান্না জনিত কন্ঠে এই প্রতিনিধিকে জানান, মেয়ের পিছনে লাখ লাখ টাকা খরচ করেছেন। পরীক্ষার ফরম পূরণ করার নামকরে দুই হাজার টাকা নিয়েছেন এবং আরো পাঁচ হাজার টাকা দাবি করেছেন এস এস কলেজের অধ্যক্ষ । অথচ আমার মেয়ের প্রবেশপত্র আনতে পারিনি । এলাকার বিশিষ্ট ব্যবসায়ী বেনজির হোসেন বলেন, শিক্ষক হচ্ছেন মানুষ কারিগরের হাতিয়ার । একজন কলেজের অধ্যক্ষ শিক্ষার্থীদের সাথে এমন প্রতারণা করতে পারে তা আমি কখনো ভাবতে পারিনি।ওই শিক্ষকের কাছে শিক্ষার্থীরা কি শিক্ষা গ্রহণ করতে পারে? বিজ্ঞ মহলের কাছে আমার ছোট্ট একটি প্রশ্ন । তাছাড়া ওই অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে আগেও বিভিন্ন প্রতারণার অভিযোগ পাওয়া গেছে । তিনি গোটা শিক্ষক সমাজকে কলঙ্কিত করেছে তার শাস্তি অবশ্যই হওয়া উচিত ।
এবিষয়ে অভয়নগর ধোপাদী এস এস কলেজের অধ্যক্ষ এস এম শহিদুল ইসলাম টাকা গ্রহনের কথা স্বীকার করে বলেন, ওই ছাত্রী নিয়মিত কলেজে আসেনা। আমি রেজিষ্ট্রেশন করে দিয়েছি তাই দুইহাজার টাকা নিয়েছি। ফরম ফ্লাপ ওই ছাত্রীর দোষে হয়নি। এদিকে আছমার জীবনের একটি বছর নষ্ট হওয়ার জন্য ওই অধ্যক্ষকে দায়ী করেছে ওই ছাত্রী ও তার পরিবার, তারা শিক্ষা প্রশাসনসহ উর্দ্ধতন কতৃপক্ষের কাছে ওই অধ্যক্ষের শাস্তি দাবি করেছেন। এবিষয়ে অভয়নগর উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার শহিদুল ইসলামের সাথে কথা বলার জন্য একাধিক বার ফোন করলেও তিনি ফোনটি রিসিভ না করায় তার বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।

তালতলীতে মাদ্রাসায় না গিয়েও বেতন ভাতা নিচ্ছেন এক শিক্ষক

//সাইফুল্লাহ নাসির,আমতলী (বরগুনা) প্রতিনিধি//

বরগুনার তালতলী উপজেলার দক্ষিণ ঝাড়াখালী সালেহিয়া দাখিল মাদ্রাসার শিক্ষক মানসুরুল আলম অসুস্থতা সহ নানা অজুহাতে দীর্ঘ ১০ মাস মাদ্রাসায় না গিয়েও মাদ্রাসার ভারপ্রাপ্ত সুপার মাওলানা আঃ জব্বার এর যোগসাজশে নিয়মিত সরকারি বেতন ভাতা নিয়েছেন।

অভিযোগ থেকে জানা গেছে, উপজেলার কড়াইবাড়িয়া ইউনিয়নের দক্ষিণ ঝারাখালী দাখিল মাদ্রাসার সহকারী মৌলভী মানসুরুল আলম চলতি বছরের (২০২২) জানুয়ারী মাস থেকে মাদ্রাসায় উপস্থিত না থাকলেও ভারপ্রাপ্ত সুপার মাওলানা আঃ জব্বার শিক্ষক হাজিরা খাতা গোপনে বাড়িতে পাঠিয়ে ঐ শিক্ষকের স্বাক্ষর করিয়েছেন। যারফলে ঐ শিক্ষক বাড়িতে বসে মাসিক বেতন ভাতার সরকারি অংশ উত্তোলন করেছেন। অভিযুক্ত শিক্ষকের মাসিক বেতন ২০ হাজার টাকা সে হিসেবে তিনি এক বছরে মাদ্রাসায় না গিয়েও প্রায় ২ লক্ষ ৪০ হাজার টাকা উত্তোলন করেছেন।

বিষয়টি গোপন সংবাদের ভিত্তিতে সাংবাদিকরা জানতে পেরে মাদ্রাসায় গিয়ে দেখে চলতি বছরের সেপ্টেম্বর মাসের বিগত দিনের সম্পূর্ণ হাজিরা খাতায় ঐ শিক্ষকের স্বাক্ষরের ঘরটি খালি রয়েছে।

এসম সাংবাদিকদের উপস্থিতি টের পেয়ে তিনি তড়িঘড়ি করে একটি মোটর সাইকেলযোগে মাদ্রাসায় উপস্থিত হন। তার মাদ্রাসায় পৌছানোর আগেই সাংবাদিকরা হাজিরা খাতার ছবি তুলে নেন। ভারপ্রাপ্ত সুপার মাওলানা আঃ জব্বার ও শিক্ষক মানসুরুল আলমের এসব কর্মকাণ্ডে খুব্ধ স্থানীয় জনপ্রতিনিধি,অভিভাবক ও শিক্ষকরা।

জানা যায়, চলতি বছরের ১৫ জুন ভোট গ্রহন হয়। সেই ইউপি নির্বাচনে তিনি কড়াইবাড়িয়া ইউনিয়নে চেয়ারম্যান পদে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে প্রতিদন্ধীতা করেন। নিবার্চন চলাকালীন সময়ে মাদ্রাসা থেকে ছুটি নেওয়ার কথা থাকলেও তিনি ছুটি না নিয়েই নিবার্চন পরিচালনা করেন। মে ও জুন মাসে প্রায় ১ মাস নির্বাচনী প্রচারের কাজে মাদ্রাসায় অনুপস্থিত থাকেন। পরবর্তীতে নিবার্চন চলাকালীন মাসেও তিনি ভারপ্রাপ্ত সুপার মাওলানা আঃ জব্বারের সহযোগিতায় হাজিরা খাতায় স্বাক্ষর করে বেতনভাতা তুলেন। এর পরে জুলাই মাসে মাদ্রাসায় না গিয়ে মেডিকেল সার্টিফিকেট দাখিল করে বেতনভাতা তুলেন।মেডিকেল সার্টিফিকেট এর মেয়াদ শেষ হলে নিয়মানুযয়ী পরবর্তী তিন মাস মূল বেতনের অর্ধেক পাবেন। সেই অনুযায়ী আগস্ট মাসে তিনি অর্ধেক বিল নেন। সেপ্টম্বর পুরো মাসে তিনি মাদ্রাসায় অনুপুস্থিত থাকেন ও হাজির খাতায় স্বাক্ষর নেই। তবে ঐ মাসের শেষে বিল করানোর জন্য পার্শ্ববর্তী পটুয়াখালীর কলাপাড়া উপজেলা বেসরকারী ক্লিনিক থেকে হাতে লিখে একটি মেডিকেল সার্টিফিকেট দিয়ে বিল করিয়ে বেতন নেন। চলতি মাসেও তিনি অনুপুস্থিত রয়েছে।

নাম না প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক শিক্ষক ও অভিভাবক বলেন,মানসুরুল আলম চলতি বছরের কোনো মাসে মাদ্রাসায় আসেননি। তিনি ভারপ্রাপ্ত সুপারের সাথে গোপন সখ্যতা তৈরি করে বাড়িতে হাজিরা খাতা পাঠিয়ে স্বাক্ষর আনেন।

এবিষয়ে অভিযুক্ত শিক্ষক মানসুরুল আলম বলেন, তোমরা (সাংবাদিক) আর যাই করো আমার ক্ষতি করিওনা। আমি অনেক অসুস্থ। এই বলে ফোন কেটে দেন।

এ বিষয়ে মাদ্রাসার ভারপ্রাপ্ত সুপার মাওলানা আব্দুর জব্বার এর কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন,মেডিকেল ফিটনেস এর ভিত্তিতে তার বেতন ভাতা দিয়েছি। তার তো হাজিরা খাতায় স্বাক্ষর নেই জানতে চাওয়া হলে তিনি কোন সদুত্তর দিতে পারেননি।

মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার লুৎফুল কবির মোঃ কামরুজ্জামান জানান, মেডিকেল ফিটনেস দিতে হলে সিভিল সার্জনকে মেডিকেল ফিটনেস দিতে হবে। কিন্তু তিনি কলাপাড়া হাসপাতালের একজন মেডিকেল অফিসারের প্যাডে ফিটনেস সার্টিফিকেট দেখান এ সময়ে ওই মেডিকেল অফিসার ছিলেন একটি ডায়াগনস্টিক সেন্টারে ডিউটিরত।

এ বিষয় তালতলী উপজেলা নির্বাহি কর্মকর্তা এস এম সাদিক তানভীর বলেন,যদি কোন শিক্ষক অনুপস্থিত থেকে বেতন ভাতা উত্তোলন করেন তাহলে তার বিরুদ্ধে তদন্ত কওে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে।

জেলা পরিষদের নির্মাণাধীন ভবনের ছাদ ধসে নিহত ২, আহত ৫

//দৈনিক বিশ্ব ডেস্ক//

খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলা পরিষদের নির্মাণাধীন নতুন ভবনের গ্রিলশেডের ছাদ ভেঙে দুই নির্মাণ শ্রমিক নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আরও পাঁচজন আহত হয়েছেন। শনিবার বিকালে জেলা পরিষদ প্রাঙ্গণে এ দুর্ঘটনা ঘটে।

নিহত দুজনের মধ্যে একজনের নাম সাজ্জাদ হোসেন। অন্য শ্রমিকের নাম জানা যায়নি।

ফায়ার সার্ভিস সূত্রে জানা গেছে, জেলা পরিষদের নতুন ভবনের গ্রিলশেডের নির্মাণ কাজ করার সময় হঠাৎ করে উপর থেকে ভেঙে পড়ে। ছয়জনকে উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠানো হলে একজনের মৃত্যু হয়। সন্ধ্যায় আরও একজনের মৃতদেহ ঘটনাস্থল থেকে উদ্ধার করা হয়।

জেলা ফায়ার সার্ভিসের সহকারী স্টেশন ম্যানেজার রাজেশ বড়ুয়া দুর্ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, আরও কোনো শ্রমিক ছাদের নিচে চাপা পড়ে আছেন কিনা সেজন্য উদ্ধারকাজ চলছে।

খাগড়াছড়ি জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মংসুপ্রু চৌধুরী বলেন, এ ঘটনায় প্রকৌশলী ও ঠিকাদারের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

কচুয়ায় মহিলা কলেজে প্রভাষকের বিরুদ্ধে উপবৃত্তির টাকা আত্মসাতের অভিযোগ

কচুয়া (বাগেরহাট) প্রতিনিধি॥

কচুয়ায় প্রধান মন্ত্রীর শিক্ষা সহায়তা কল্যান ট্রাষ্ট্রের ছাত্রীদের উপবৃত্তির টাকা আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে ।

জানা গেছে, বাগেরহাটের কচুয়া সরকারি শহিদ শেখ আবু নাসের মহিলা ডিগ্রী কলেজের প্রভাষক অনুপ কুমার পালের বিরুদ্ধে এ অভিযোগ করেছে কয়েক জন ছাত্রী। এর পর বেরিয়ে আসছে বিভিন্ন তথ্য। মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসারের হস্তক্ষেপে ১২ জন ছাত্রী ফেরৎ পেয়েছে ১ লক্ষ ৫ হাজার ৯শত টাকা। সহকারী অধ্যাপক মৃনাল কান্তি সাহাকে প্রধান করে প্রভাষক ইকবাল হোসেন ও সমির কান্তি বাড়ৈর নাম উল্লেখ করে তিন সদস্য বিশিষ্ট দায় সারা তদন্ত কমিটি করেছেন অধ্যক্ষ (ভারপ্রাপ্ত) হর প্রসাদ মিস্ত্রী। ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ হর প্রসাদ মিস্ত্রী ও প্রভাষক অনুপ কুমার পাল যোগসাযোসে এ কাজ করেছেন বলে কথিত আছে। উপবৃত্তির আবেদনে প্রতি ছাত্রীর নিকট থেকে নেওয়া হয়েছে ২ শত টাকা।

২০২০-২০২১একাদশ শ্রেনীতে ভর্তির পরই ২১৩ ছাত্রীর নিকট থেকে আবেদন খরচ ২ শত টাকাসহ জন্মনিবন্ধন, মোবাইল নাম্বর সহ মোবাইল ব্যাংকিং ও পিন কোড সহ সিমকার্ড জমা নেয়। এর পর ১৮৮ জনের নামে উপবৃত্তির তালিকা প্রকাশ সহ টাকা বরাদ্দ হয়। এর মধ্যে কয়েক জন ছাত্রী অভিযুক্ত প্রভাষক কর্তৃক টাকা উত্তোলোনের বিষয়টি জানতে পেরে উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার কে জানালে তার হস্তক্ষেপে ওই প্রভাষক নিজেই উত্তোলন কৃত টাকার মধ্যহতে গত ২৯/০৬/২২ তারিখ চার জন ছাত্রীর ৩৬,৬০০ টাকা ০৩/০৭/২২ইং তারিখ চার জন ছাত্রীর ৩৯,৬০০ টাকা, ০৫/০৭/২২ ইং তারিখ তিন জন ছাত্রীর ১৭,৯০০ টাকা ফেরত দিয়েছেন।

সহকারী অধ্যাপক আশুতোষ হালদার সহ কয়েক জনে জানান, অধ্যক্ষ হর প্রসাদ মিস্ত্রী কলেজের উপবৃত্তি সহ সকল প্রকার অনলাইনের কাজ প্রভাষক অনুপ কুমার পালকে দিয়ে করিয়ে থাকেন। এই সুবাদে অনুপ কুমার পাল ছাত্রীদের উপবৃত্তির অনলাইনে ফরম পূরনের জন্য প্রতি ছাত্রীর নিকট থেকে দুই শত টাকাসহ মোবাইল ব্যাংকিং হিসাব নাম্বর ও পাসওয়ার্ড রেখে দেন। এমনকি কৌশলে অনেকের মোবাইল সিমও রেখেছেন। তাদের টাকা উত্তোলন করে নিজে হাতে রেখে বিভিন্ন কথা বলে অত্মসাৎ করে। এছাড়া ২০২১-২০২২ শিক্ষা বর্ষের ২৩৪ জন ছাত্রী ভর্তি হয়। এদের মধ্যে ২২৯ জন ছাত্রীর নামে উপবৃত্তির টাকা আশে। এদের মধ্যে কয়েকজন ছাত্রী টাকা পেয়েছে। বাকি ছাত্রীদের প্রাপ্য ১২ লক্ষাধীক টাকা প্রভাষক অনুপ কুমার পাল নিজেই উত্তোলন করেছেন।

এব্যাপারে অভিযুক্ত প্রভাষক অনুপ কুমার পাল বলেন, উপবৃত্তির সর্ম্পকে এমুহুর্তে কিছু বলতে পারছি না সকল তথ্য অধ্যক্ষ স্যার বলতে পারবেন। ছাত্রীদের নিকট থেকে উপবৃত্তির আবেদনের জন্য কোন টাকা নেওয়া হয় না। উপবৃত্তির টাকা উত্তোলনের কোন সুযোগ আছে কি? এছাড়া মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসারের সামনে  উত্তোলন কৃত টাকার মধ্যে হতে কয়েক জন ছাত্রীকে স্বাক্ষর করে টাকা ফেরত দেওয়ার ব্যপারে বলেন,শিক্ষা অফিসার কি লিখেছে তা সে জানেন।

নাম প্রকাশ না করা শর্তে ২০২১-২০২২ শিক্ষা বর্ষের কয়েক জন ছাত্রী জানান,তাদের নিকট থেকে উপবৃত্তির ফরম পূরনের জন্য তাদের নিকট থেকে দুই শত টাকা নেওয়া হয়েছে। এপর্যন্ত তারা কোন টাকা পায়নি। এছাড়া আরো এক জন ছাত্রী কান্না জড়িত কন্ঠে জানান, তার পিতা দিন মজুর বর্তমানে কাজ না থাকায় সে অর্থের অভাবে কলেজে যেতে পারছে না। উপবৃত্তির টাকা পেলে উপকার হতো এবং কলেজে যেতে পারতো।

অধ্যক্ষ (ভারপ্রাপ্ত) হর প্রসাদ মিস্ত্রী বলেন, আমি দায়িত্ব পাওয়ার আগের থেকেই কলেজের অন-লাইনের সকল কাজ প্রভাষক অনুপ কুমার পাল করে আসছেন অন্যকেহ এসব কাজ করতে পারে না। তাই তাকে দিয়ে কাজ করানো হচ্ছে। কত জন ছাত্রী উপবৃত্তি পেয়েছে তা অনুপ কুমার পাল বলতে পারবে, কারন সে কাজ করে। তাকে উপবৃত্তির আবেদনের জন্য পারিশ্রমিক বাবদ এক শত ৫০ টাকা নিতে বলেছি। কিন্তু সে দুই শত টাকা নিয়েছে। কয়েকজন ছাত্রীর টাকা উত্তোলন করেছিল সে টাকা আবার শিক্ষা অফিসারের সামইে ছাত্রীদের ফেরত দিয়েছে।

প্রভাষক ইকবাল হোসেন বলেন, প্রভাষক অনুপ পালের বিরুদ্ধে অভিযোগের ব্যাপারে অধ্যক্ষ স্যার সহকারী অধ্যাপক মৃনাল সাহাকে প্রধান করে তিন সদস্য বিশিষ্ট একটি তদন্ত কমিটি করে আমাদের উপর তদন্তের দায়িত্ব দিয়েছেন। আমরা তদন্ত করছি। কিন্তু আমি অনলাইন সম্পর্কে কিছু বুঝিনা  প্রভাষক যা বলে তাই শুনছি  দেখা যাক কি করা যায়।

এব্যাপরে উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার মোঃ মোজাম্মেল হক বলেন,জুন/২০২২ মাসে কচুয়া উপজেলায় যোগদানের পর সরকারি শহিদ শেখ আবু নাসের মহিলা ডিগ্রী কলেজের বেশ কিছু ছাত্রী আমার অফিসে অভিযোগ করে যে, তারা কোন উপবৃত্তির টাকা পাচ্ছে না। উপবৃত্তি প্রকল্পের সফটওয়্যারে সার্চ দিয়ে দেখতে পাই অভিযোগকারীর অধিকাংশ ছাত্রীর নামে উপবৃত্তির টাকা প্রকল্প হতে প্রেরণ করা হয়েছে। কিন্তু ওই টাকা ছাত্রীদের দেয়া মোবাইল একাউন্টে না প্রবেশ করে অন্য অজানা কোন মোবাইল একাউন্টে ক্যাশইন হয়েছে। ওই নাম্বারে ফোন করলে সর্বদাই বন্ধ পাওয়া যায়। এই কাজ গুলি যেহেতু  প্রভাষক অনুপ কুমার পাল করেছেন তাই তাকে দায়িত্ব নেয়ার কথা বলা হয়। দায়িত্ব না নিলে তাকে দায়ী করা হবে বললে সে এক পর্যায়ে স্বীকার করেন এবং অভিযোগকারী ছাত্রীদেরকে আমার অফিসে ডেকে এনে তন্মধ্যে ১২ জনের উপবৃত্তির টাকা বাবদ মোট এক লক্ষ পাঁচ হাজার নয়শত টাকা  আমার উপস্থিতিতে প্রভাষক অনুপ কুমার পালের নিজ হাত দিয়ে সংশ্লিষ্ট শিক্ষার্থীদের মাঝে ফেরত দেয়া হয় ও তাদের স্বাক্ষর গ্রহণ করা হয়। এরূপ আরো অনেক শিক্ষার্থী এখনো অপেক্ষায় রয়েছে। প্রভাষক অনুপ কুমার পাল এখন আর কোন টাকা দিতে রাজী হচ্ছেন না। বিধায় অনেক শিক্ষার্থী বাববার কলেজে যাচ্ছে উপবৃত্তির টাকা পাবার আশায়। বিষয়টি তিনি জেলা শিক্ষা অফিসার,বাগেরহাট মহোদয়কে লিখিতভাবে অবগত করেছেন।

এ ব্যাপারে কলেজ পরিচালনা পরিষদের সভাপতি ও উপজেলা নির্বাহী অফিসার এস এম তারেক সুলতান বলেন,এটা জেলা পর্যায়ের বিষয় আমার কাছে কোন তথ্য নেই এটা জেলা থেকে ম্যানেজ হচ্ছে,আমার কোন ষ্ট্রেটমেন্ট নেই, আমার কোন একশান ও নেই, বক্তব্য ও নেই।

নজরুল ফের রিমান্ডে// ফারইস্ট ইন্স্যুরেন্সের গ্রাহকের ৮০০ কোটি টাকা আত্মসাৎ

//অনলাইন নিউজ ডেস্ক//

গ্রাহকের ৮০০ কোটি টাকা আত্মসাতের মামলায় ফারইস্ট ইসলামী লাইফ ইন্স্যুরেন্সের সাবেক চেয়ারম্যান মো. নজরুল ইসলামকে ফের রিমান্ডে পাঠিয়েছেন আদালত।

দুই দিনের রিমান্ড শেষে শুক্রবার তাকে আদালতে হাজির করে পুলিশ। এরপর মামলার সুষ্ঠু তদন্তের জন্য তার বিরুদ্ধে ফের ১৩ দিনের রিমান্ডের আবেদন করেন মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা। শুনানি শেষে ঢাকা মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট রশিদুল আলম তার একদিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

এর আগে গত ১৩ সেপ্টেম্বর ঢাকা মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মাহবুব আহম্মেদের আদালতে তাকে হাজির করে পুলিশ। এরপর শাহবাগ থানায় করা মামলায় তার বিরুদ্ধে ১৫ দিনের রিমান্ডের আবেদন করেন তদন্ত কর্মকর্তা। অপরদিকে আসামিপক্ষের আইনজীবীরা রিমান্ড বাতিল চেয়ে জামিনের আবেদন করেন। উভয়পক্ষের শুনানি শেষে বিচারক তার জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে দুই দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

একইদিন মামলার অপর আসামি কোম্পানিটির সাবেক পরিচালক এমএ খালেক এবং তার ছেলে রুবায়াত খালেককে আদালতে হাজির করা হয়। এ মামলায় তাদের বিরুদ্ধে ১৫ দিনের রিমান্ডের আবেদন করেন তদন্ত কর্মকর্তা। অপরদিকে আসামিপক্ষের আইনজীবীরা রিমান্ড বাতিল চেয়ে জামিনের আবেদন করেন। উভয়পক্ষের শুনানি শেষে বিচারক তাদের জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে দুই দিন জেলগেটে জিজ্ঞাসাবাদের নির্দেশ দেন।

গ্রাহকের ৮০০ কোটি টাকার বেশি আত্মসাতের অভিযোগে তাদের বিরুদ্ধে চলতি মাসের শুরুতে শাহবাগ থানায় এ মামলা করা হয়। মামলার পর তাদের গ্রেফতার করে পুলিশ।

বরিশাল কাউনিয়া থানা পুলিশের তোলপাড়! মাদক উদ্ধারে পুলিশের নাটকীয়তা ঘর তল্লাশি করে নিয়ে যায় লক্ষাধিক টাকা

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ বরিশাল//

মাদক উদ্ধার অভিযানের নামে তল্লাশি করে নিরাপরাধ এক যুবকের বাসা থেকে লক্ষাধিক টাকা নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে বরিশাল মেট্রোপলিটন কাউনিয়া থানা পুলিশের উপ-পরিদর্শক (এসআই) এবং সহকারি উপ-পরিদর্শক (এএসআই) পদমর্যাদার বেশ কয়েকজন কর্মকর্তার বিরুদ্ধে। এসআই সাইদুল হক সরদারের নেতৃত্বে ৭ সেপ্টেম্বর শহরের পুরানপাড়া থেকে মহিউদ্দিন ওরফে রাইফেল মহিউদ্দিন নামের এক যুবককে ইয়াবাসহ গ্রেপ্তার এবং পরবর্তীতে তার দেওয়া তথ্যমতে ওই দিন দুপুরে ইমরান হোসেন নামের আরেক যুবককে ধরতে কাউনিয়া বিসিক গল্লিতে হানা দেয়। তবে এই যুবককে না পেয়ে তার বাসায় মাদক উদ্ধারে নাটকীয় অভিযান চালায় এবং তল্লাশির একপর্যায়ে ওয়ারড্রব থেকে ১ লক্ষ ৩৪ হাজার টাকা নিয়ে যায়। ওই সময় যুবকের বাবা-মা বিষয়টির প্রতিবাদ করলে তাদের ভয়ভীতি দেখানোসহ ছেলে ইমরানকে মাদক মামলায় জড়িয়ে দেওয়ার হুমকি দেওয়া হয়। বিষয়টি জানাজানি হলে ঘটনার দিন রাতে ৪০ হাজার এবং একদিন বাদে ৮ সেপ্টেম্বর আরও ৫০ হাজার টাকা ফেরত দেয়। পাশাপাশি যুবক ইমরানকে মাদক মামলায় জড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। গত কয়েকদিন ধরে এই বিষয়টি নিয়ে বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশে ভেতরে তোলপাড় চললেও দায়িত্বশীল কোনো কর্মকর্তা মিডিয়ার কাছে মুখ খুলছেন না।

পুলিশের একটি সূত্র জানিয়েছে- পুরো ঘটনা বিশেষ কোনো মাধ্যম বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার মো. সাইফুল ইসলাম নিশ্চিত হয়েছেন এবং তার নির্দেশে অভিযোগসমূহের তদন্তও ইতিমধ্যে শুরু হয়েছে। ফলে বিষয়টি নিয়ে পুলিশের দায়িত্বশীল মহল আপাতত সংবাদমাধ্যমে কিছু বলতে চাইছে না।

একাধিক সূত্র জানায়- কাউনিয়া থানা পুলিশের উপ-পরিদর্শক (এসআই) সাইদুল হক সরদারের নেতৃত্বে এসআই রাহাতুল ইসলাম, এএসআই কামরুল আহসান, এএসআই শফিক, এএসআই হান্নান এবং এএসআই জাহিদ গত ৭ সেপ্টেম্বর পুরানপাড়া এলাকায় অভিযান করে এবং মহিউদ্দিন ওরফে রাইফেল মহিউদ্দিন নামের যুবককে সাত পিস ইয়াবাসহ গ্রেপ্তার করে। পরবর্তীতে তাকে নিয়ে থানা পুলিশের এই টিমটি কাউনিয়া বিসিক গলিতে আবুল হোসেন নামের জনৈক ব্যক্তির ছেলে ইমরান হোসেনকে ধরতে তার বাসায় যায়। কিন্তু সেখানে ইমরানকে না পাওয়া গেলে তার বাসায় ঢুকে পুলিশ কর্মকর্তারা মাদক উদ্ধারের নামে তল্লাশি করে। একপর্যায়ে পুলিশ কর্মকর্তারা ইমরানের বাবা-মায়ের উপস্থিতিতে বাসার ওয়ারড্রব থেকে ১ লক্ষ ৩৪ হাজার টাকা নিয়ে নেয়। এবং বিষয়টি নিয়ে বাড়াবাড়ি করলে ছেলে ইমরানকে মাদক মামলায় মহিউদ্দিনের সহযোগী হিসেবে জড়িয়ে দেওয়ার হুমকি দেয়।

যুবক ইমরানের পরিবারের অভিযোগ, কোনো ধরনের মাদক না পেলেও পুলিশ কর্মকর্তারা সমুদ্বয় টাকাসহ বাসা থেকে বেড়িয়ে দাবি করে ঘরের অভ্যন্তরে ইয়াবা সেবনের উপকরণ পাওয়া গেছে। এবং এই ঘটনায় স্থানীয় যুবকদ্বয় আল আমিন এবং মেহেদীকে সাক্ষী করতে মুঠোফোনে তাদের বক্তব্য রেকর্ড করে। এরই মধ্যে ইমরানের ফুফা বরিশাল সিটি কর্পোরেশনের ১ নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক কাউন্সিলর আউয়াল মোল্লা ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন এবং পুলিশ কর্মকর্তাদের কাছে নাটকীয় তল্লাশি অভিযানসহ ঘরে রাখা টাকা নেওয়ার কারণ জিজ্ঞাসা করেন। কিন্তু এসআই সাইদুলসহ অভিযানিক টিমের সদস্যরা সেখানে কোনো প্রকার উত্তর না দিয়ে এই জনপ্রতিধিকে পরবর্তীতে থানায় যোগাযোগ করতে বলেন।

কিন্তু থানায় পৌছানোর আগেই পুলিশ কর্মকর্তারা আরও একটি বিতর্কিত ঘটনার জন্ম দেন। ইমরান ভেবে তারা পথিমধ্যে ফয়সাল নামে স্থানীয় এক যুবককে আটক করে মারধর শুরু করেন। একপর্যায়ে ওই যুবককে গাড়িতে উঠিয়ে মহিউদ্দিনের সাথে থানায় নিয়ে যাওয়া হয়। থানা পুলিশের ভেতরকার একটি সূত্রে জানা গেছে- এই যুবককে সাধারণ ধারায় আদালতে পাঠানোর প্রতিশ্রুতি দিয়ে তার পরিবারের কাছ থেকে ওইদিন রাতে ২০ হাজার টাকা ঘুস নেন এসআই সাইদুল। সন্ধিচুক্তি অনুযায়ী যুবককে পরদিন ৮১ ধারায় আদালতে চালান দেওয়া হয়।

এসব অভিযোগসমূহ অভিযানিক টিম প্রধান এসআই সাইদুল হক সরদার এবং এসআই রাহাতুল ইসলাম অসত্য দাবি করলেও ইমরানের ফুফা আউয়াল মোল্লা বলছেন- এই দুই কর্মকর্তাই বাসায় বসে টাকা গুণে নিয়ে যান। ঘটনার দিন সন্ধ্যায় থানায় গেলে তারা বলেন- সমুদ্বয় টাকার বিনিময়ে ইমরানকে মাদক মামলায় থেকে বাদ দেওয়া হবে। কিন্তু এর আগেই তল্লাশির নামে বাসা থেকে টাকা দেওয়ার বিষয়টি পুলিশের শীর্ষমহলে জানাজানি হয়। পরে অনেকটা চাপের মুখে সেখান থেকে ৪০ হাজার টাকা ফেরত দেন এসআই সাইদুল। এবং ক্ষোভে ইমরানকে মহিউদ্দিনের সহযোগী হিসেবে মাদক মামলায় জড়িয়ে দিয়ে পলাতক দেখান।

ইমরানের পরিবার জানায়- টাকা নেওয়ার পরেও কেন নিরাপরাধ ইমরানকে মামলায় জড়িয়ে দেওয়া হল এই বিষয়ে দুই পুলিশ কর্মকর্তারা সাথে যোগাযোগ করা হলে তারা ৮ সেপ্টেম্বর সকালে আরও ৫০ হাজার টাকা ফেরত দেন। পাশাপাশি ইমরানকে এই মামলায় গ্রেপ্তার করে আদালতে পাঠানোসহ আরও কয়েকটি মাদক মামলায় জড়িয়ে দেওয়ার হুমকি দেন। এবং গত দুদিন ধরে ইমরানকে ধরতে তারা এলাকায় অভিযান অব্যাহত রেখেছেন। ফলে যুবকের পরিবার অনেকটা আতঙ্কগ্রস্ত হয়ে পড়েছেন। পাশাপাশি সামাজিকভাবে হেয়প্রতিপন্ন হয়েছেন, হচ্ছেন দাবি করেছেন ইমরানের বাবা আবুল হোসেন।

কাউনিয়া থানা পুলিশের কতিপয় কর্মকর্তার নাটকীয় এই মাদক উদ্ধার অভিযানের খবর চাউর হয়ে যাওয়ায় স্থানীয় সুশীলমহলে ক্ষোভের তৈরি হয়েছে। পাশাপাশি ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত পরবর্তী অভিযুক্ত পুলিশ সদস্যদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি রাখা হয়। এই ঘটনায় বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশের ভেতরে তোলপাড় চললেও দায়িত্বশীল কর্মকর্তারা প্রাসঙ্গিক বিষয়টিতে মুখ খুলতে চাইছেন না।

বিষয়টি সম্পর্কে জানতে উপ-পুলিশ কমিশনার (উত্তর) জাকির হোসেন মজুমদারের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি কোনো মন্তব্য না করলেও শীর্ষ পুলিশ কর্মকর্তা মো. সাইফুল ইসলাম বলছেন- এই ঘটনায় তদন্ত চলছে। অভিযুক্ত পুলিশ সদস্যদের বিরুদ্ধে অভিযোগের সত্যতা মিললে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। সেক্ষেত্রে ধারণা করা হচ্ছে উত্থ্যাপিত এই অভিযোগের সত্যতা মিললে অভিযুক্তদের ভবিষ্যত বিষিয়ে উঠতে পারে। এমতাবস্থায় কারও কারও অভিমত তাদের বরখাস্ত করাসহ বিভাগীয় মামলাও হতে পারে। কারণ স্বচ্ছ-সৎ পরিচ্ছন্ন মানসিকতার শীর্ষ পুলিশ কর্মকর্তা সাইফুল ইসলাম
অপরাধ বা অপরাধীদের সাথে কখনই আপস করেননি। সুতরাং এই ইস্যুতেও কাউকে ছাড় দেওয়ার সম্ভবনা খুবই কম যার প্রমাণ বরিশাল জেলা পুলিশ সুপার থাকাকালীন দেখিয়েছে বলে উদাহরণ টানা হচ্ছে। অপরাধে জড়িয়ে পড়া মাঠপর্যায়ের এই পুলিশ কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে কী ব্যবস্থা গ্রহণ করেন সেটাই এখন দেখার বিষয়।

অভয়নগরে প্রশাসনকে বৃদ্ধাঙ্গুল দেখিয়ে আবারও কাঠ পুড়িয়ে কয়লা তৈরি এলাকার পরিবেশ হুমকির মুখে

মোঃ শফিকুল ইসলাম পিকুল,বিশেষ প্রতিনিধিঃ
অভয়নগরে প্রশাসনকে বদ্ধাঙ্গুল দেখিয়ে আবারও কাঠ পুড়িয়ে কয়লা বানানাের অভিযােগ উঠেছে । এতে ওই এলাকার পরিবেশ হুমকির মুখে পড়েছে বলে জানিয়েছেন এলাকাবাসী। এই কাজটি দেদারসে করে যাচ্ছে কতিপয় প্রভাবশালী ব্যক্তি।

উপজেলার সিদ্দিপাশা এলাকায় প্রতিনিয়ত কাঠ পুড়িয় কয়লার ব্যবসা করে যাছে । তারা ট্রলিতে করে কাঠ নিয়ে শতাধিক মাটির কাঁচা চুল্লি তৈরি করে কয়লা বানিয়ে বিভিন্ন জায়গায় বিক্রি করছে। সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, গাছপালা কেটে ছােট ছােট কাঠের টুকরা বানিয়ে চুল্লির মধ্য দিয়ে জ্বালানাে হচ্ছে। এক পাশ দিয়ে ছােট কয়লা বড় করা হচ্ছে। অন্যপাশে সেই কয়লা শুকানাে হচ্ছে। বাকি জায়গায় বস্তায় ভর্তি করে রাখা হয়েছে । চুল্লির মধ্যে সারিবদ্ধভাবে কাঠ সাজিয়ে চুল্লির খােলা মুখ দিয়ে আগুন দেওয়া হয়।

অভয়নগরে প্রশাসনকে বৃদ্ধাঙ্গুল দেখিয়ে আবার ও কাঠ পুড়িয়ে কয়লা তৈরি এলাকার পরিবেশ হুমকির মুখে

প্রায় ৭ থেকে ১০ দিন পােঁড়ানার পর চুলা থেকে কয়লা বের করা হয়। প্রতিটি চুল্লিতে প্রতিবার ২৫০ থেকে ৩০০ মণ কাঠ পােঁড়ানা হয়। কাঠ পুঁড়ে কয়লা হয় পরে সে গুলাে বের করে ঠান্ডা করে, বিক্রির উদ্দেশ্যে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে পাঠিয়ে দেওয়া হয়। সচেতন মহল বলেন, এ এলাকায় অনেক গাছপালা ছিল। বর্তমান গাছের সংখ্যা কম দেখা যাচ্ছে । এই কাঠ পুড়িয়ে কয়লা বানানাের কারনে আমাদের শ্বাসকষ্টসহ নানাবিধ রােগ দেখা দিয়েছে । সরকারি নিয়ম-নীতিকে তোয়াক্কা না করে এসকল ব্যক্তি কাঠ পুড়িয়ে কয়লা তেরি করে আসছে। সূত্রে জানা যায়, উপজেলা প্রশাসন ও পরিবেশ অধিদপ্তর থেকে চারবার অভিযান চালিয়ে চুল্লিগুলাে গুড়িয়ে দিলেও বন্ধ হয়নি এ অবৈধ ব্যবসা।

প্রতিবারই আরও নতুন নতুন চুল্লি তৈরি হয়েছে। ফলে একদিকে যেমন পরিবশ দূষিত হচ্ছে , উজাড় হচ্ছে গাছপালা অপরদিকে এলাকাবাসী শ্বাসকষ্টসহ নানাবিধ রােগে ভুগছে। নাম না প্রকাশ করার শর্তে কয়েকজন বলেন, এদের বিরুদ্ধে স্থানীয় কেউ প্রতিবাদ করলেই তাদের উপর নানা হুমকি ধামকি নেমে আসে বলে অভিযােগ রয়েছে। সেই সাথে এই এলাকার শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলােকে ও পােহাত হচ্ছে নানা রকমের সমস‍্যা । এর আগে অনেকবার এলাকাবাসীরা উপজেলা প্রশাসনের কাছে অভিযােগও দিয়েছেন। এলাকাবাসির দাবি, কতিপয় ব্যক্তি জােটবদ্ধ হয়ে অবৈধভাবে মাটির চুল্লি বানিয়ে কাঠ ও সীসা পুড়িয়ে কয়লা তৈরি করে আসছে। এমনকি সরকারি দাতব্য চিকিৎসালয় ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠান সংলগ্ন এলাকায় ও তারা এ পরিবেশের জন্য ক্ষতিকর কয়লা তৈরির চুল্লি নির্মাণ করছে। উপজেলার সিদ্দিপাশা ইউনিয়নের কয়েকটি গ্রামে অবৈধ চুল্লিতে এ কয়লা তৈরি হওয়ায় নির্গত ধােঁয়ায় পরিবশ দূষিত হচ্ছে । নষ্ট হচ্ছে ফসলি জমি। স্বাস্থ‍্য ঝুঁকিতে পড়ছে সাধারণ মানুষ। সংশ্লিষ্ট ইউনিয়নের সােনাতলা গ্রামের জিয়া মােল্যা, ছােট্ট মােল্যা, শহিদ মােল্যা, হারুন মােল্যা, রফিক মােল্যা, তকির মােল্যা, কবীর শেখ, হাবিব হাওলাদার, তসলিম মিয়া, মনির শেখ কামরুল ফারাজী এবং ধূলগ্রামের হরমুজ সর্দার, রশিদ সর্দার, ফারুক হাওলাদার এ অঞ্চলে১’শতটি চুল্লি তৈরি করে কয়লা বানিয়ে আসছেন।

তারা এতটাই দূর্ধর্ষ যে, স্থানীয়রা তাদের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করাতো দুরের কথা, মুখ খুলতেও সাহস পায়না। মাটি, ইট ও কাঠের গুঁড়া মিশিয়ে তৈরি করা চুল্লিতে প্রতিদিন কয়েক’শ মণ কাঠ পােঁড়ানা হচ্ছে। এ বিষয়ে কয়কজন চুল্লি মালিকের সাথে কথা বললে তারা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, ঘাটে ঘাটে টাকা দিয়ে আমাদর ব্যবসা চালাতে হয়। স্থানীয় পর্যায় থেকে শুরু করে সব মহলকে টাকা দিয়ে ম্যানেজ করেই তারপর ব্যবসা চালাই। এ বিষয়ে অভয়নগর উপজলার নিবার্হী অফিসার মেজবাহ উদ্দীন বলেন, এ বিষয় খােঁজ খবর নিয়ে দ্রুতই অভিযান চালানাে হবে।

ডুমুরিয়ায়  সেনাবাহিনীতে চাকরি দেয়ার নামে ভূয়া নিয়োগপত্র প্রদানকারী এক প্রতারককে গ্রেফতার করেছে র‍্যাব-৬

//জাহিদুর রহমান বিপ্লব, ডুমুরিয়া খুলনা//
খুলনার ডুমুরিয়া থেকে সেনাবাহিনীতে চাকরি দেয়ার নামে ভূয়া নিয়োগপত্র প্রদানকারী এক প্রতারককে গ্রেফতার করেছে র‍্যাব-৬।
শুক্রবার দিবাগত রাত সাড়ে ৯টার দিকে ডুমুরিয়া বাজার এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, র‌্যাব-৬, খুলনা (স্পেশাল কোম্পানি) এর একটি আভিযানিক দল গোপন সংবাদের ভিত্তিতে জানতে পারে যে, খুলনা জেলার ডুমুরিয়া থানা খর্নিয়া এলাকার মৃত‍্য শামছুর রহমান এর পুত্র মোঃ নুর ইসলাম(৪৬), চাকরি দেয়ার নামে উক্ত ব্যক্তি স্থানীয় বিভিন্ন ব্যক্তিকে ভূয়া নিয়োগপত্র প্রদানের বিনিময়ে তাদের নিকট হতে বিপুল পরিমাণ অর্থ হাতিয়ে নিচ্ছে। প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের উদ্দেশ্যে র‌্যাব-৬, খুলনার একটি অভিযানিক দল  উক্ত প্রতারককে  সেনাবাহিনীর চাকরির ভূয়া নিয়োগপত্র ০২টি,  চেক বইয়ের পাতা ০১ টি ও মোবাইল ফোন ০২টি সহ গ্রেফতার করে । প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেফতারকৃত আসামী প্রতারণার সাথে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করে বলে জানা যায়।
প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে আইনগত ব্যবস্থা এ সময়  আসামীর হেফাজত হতে সেনাবাহিনীর চাকরির ভূয়া নিয়োগপত্র ০২টি, ১পাতা ব্যাংক চেক ও ২টি মোবাইল ফোন উদ্ধার পূর্বক জব্দ করে।  জব্দকৃত আলামত ও গ্রেফতারকৃত আসামীকে ডুমুরিয়া থানায় হস্তান্তর করতঃ আসামীর বিরুদ্ধে মামলা রুজু করা হয়েছে।