টাকা সঞ্চয় বেড়ে গেছে: আড়াই লাখ কোটি টাকা ব্যাংকে উদ্বৃত্ত তারল্য

 

 

করোনা মহামারি ছড়িয়ে পড়ার পর গত বছরের মার্চের শেষদিকে লকডাউন শুরু হয়। আর এপ্রিল থেকে বন্ধ হয়ে যায় অধিকাংশ ব্যবসা-বাণিজ্য। নতুন বিনিয়োগ পরিকল্পনা থেকে সরে আসেন অনেক ব্যবসায়ী। চলমান ব্যবসাও বন্ধ হয়ে যায় কারও কারও আবার কেউ বা ছোট করেন ব্যবসার পরিসর। চাকরিজীবীরাও সব ধরনের বিনিয়োগ ও বাড়তি খরচ থেকে সরে এসে সঞ্চয় শুরু করেন।

 

 

বিদেশ থেকে প্রবাসী আয়ের প্রবাহ বাড়লেও সে তুলনায় টাকা তোলা কম হয়েছে। একই চিত্র করোনার দ্বিতীয় ঢেউয়েও। চলতি বছরের মার্চে ক্ষতি কিছুটা কম হলেও এপ্রিলে পুরোপুরি থেমে গেছে। সব মিলিয়ে একের পর এক করোনার অভিঘাতে দেশের অর্থনীতি স্বাভাবিকের তুলনায় অনেকাংশে স্থবির হয়ে পড়েছে। পর্যাপ্ত ঋণ বিতরণ ও বিনিয়োগ না হওয়ায় চলতি বছরের মার্চ ও এপ্রিলে ব্যাংকগুলোতে উদ্বৃত্ত তারল্য আড়াই লাখ কোটি টাকা ছাড়াতে পারে। তবে ঈদকে ঘিরে আবার চাঙ্গা হয়ে উঠবে ব্যাংকিং খাত-এমন ধারণা ব্যাংকারদের।

 

জানতে চাইলে পূবালী ব্যাংকের সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) আব্দুল হালিম চৌধুরী যুগান্তরকে বলেন, সাময়িক স্থবির হলেও ঈদকে ঘিরে অর্থের ব্যাপক চলাচল হবে। অর্থাৎ মে মাসে ব্যাংক খাতে উদ্বৃত্ত তারল্য কমতে পারে।

 

অগ্রণী ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) মোহাম্মদ শামস উল ইসলাম যুগান্তরকে বলেন, এ মুহূর্তে তারল্য এবং ডলারের কোনো ঘাটতি নেই। ব্যাংকগুলোর হাতে প্রচুর উদ্বৃত্ত তারল্য রয়েছে। তবে আসছে রোজার ঈদে তারল্য কিছুটা কমতে পারে। কারণ সবকিছু খুলে দিচ্ছে, লেনদেন হবে অনেক।

 

সূত্র জানায়, ঋণের চাহিদা বাড়ার কারণে চলতি বছরের জানুয়ারি থেকেই ব্যাংক খাতের অতিরিক্ত তারল্য কমছিল। যা ফেব্রুয়ারিতে এসে আরও কমেছে।

 

বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ তথ্যমতে, ফেব্রুয়ারি শেষে ব্যাংক খাতে অতিরিক্ত তারল্য দাঁড়িয়েছে ২ লাখ কোটি টাকা, এক মাস আগে যা ছিল ২ লাখ ৪ হাজার ৭০ কোটি টাকা। তবে গত এক বছরের ব্যবধানে অতিরিক্ত তারল্য বেড়েছে ৯২ দশমিক ৪২ শতাংশ। গত বছরের ফেব্রুয়ারিতে ব্যাংক খাতে অতিরিক্ত তারল্যেও পরিমাণ ছিল এক লাখ ৩ হাজার ৯৩৪ কোটি টাকা।

 

ব্যাংকাররা বলছেন, ব্যাংক খাতে অতিরিক্ত তারল্যে ফেব্র“য়ারিতে কমলেও মার্চ এবং এপ্রিল মাসে বাড়বে। কারণ করোনার দ্বিতীয় ঢেউ দেশের অর্থনীতিতে আবারও বিরূপ প্রভাব ফেলতে শুরু করেছে। তারা বলছেন, জানুয়ারি ও ফেব্র“য়ারিতে ঋণের চাহিদা কিছুটা বাড়লেও বর্তমানে এই চাহিদা আবার কমতে শুরু করেছে।

 

এদিকে করোনাভাইরাসে ব্যবসায়ীরা গুটিয়ে গেলেও কম সুদের প্রণোদনা ঋণে যেন আবার প্রাণ ফিরে পান। পুরোনো ঋণ পরিশোধেই হোক বা চলতি মূলধনের জন্যই হোক, ব্যবসায়ীরা সীমিত পরিসরে ঋণ নিয়েছেন। ফলে ২০২০ সালে ঋণ বিতরণ ভালো হয়েছে।

 

এরপরও ব্যাংক খাতে উদ্বৃত্ত তারল্যের পরিমাণ ২ লাখ কোটি টাকা ছাড়িয়েছে। যা বর্তমানে আড়াই লাখ কোটি টাকা ছাড়াতে পারে। বিশাল এই তারল্যের একটি বড় অংশ বিলবন্ডে বিনিয়োগ করেছে। বাকি টাকা ব্যাংকগুলোতে অলস পড়ে আছে। ব্যাংকগুলোর জুলাই-ফেব্র“য়ারি সময়ের তথ্য পর্যালোচনায় এমন চিত্র পাওয়া গেছে। করোনার দ্বিতীয় ঢেউয়ের ‘লকডাউনে’ বাংলাদেশ ব্যাংকের অনেক বিভাগ বন্ধ থাকায় মার্চের তথ্য এখনো পাওয়া যায়নি। আর এপ্রিলে উদ্বৃত্ত তারল্য সবচেয়ে বেশি হবে। কারণ মাসের পুরোটা কেটেছে লকডাউনে।

 

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, ব্যাংক খাতে আমানতের পরিমাণ বেড়ে গত জানুয়ারিতে ১২ লাখ ৮৬ হাজার ২০১ কোটি টাকায় উঠেছে। এত বিপুল আমানত আগে কখনো দেখা যায়নি। ২০২০ সালের জুন শেষে আমানত ছিল ১১ লাখ ৮০ হাজার ৯৯৯ কোটি টাকা। অর্থাৎ চলতি ২০২০-২১ অর্থবছরের প্রথম সাত মাসে আমানত বেড়েছে ১ লাখ ৫ হাজার ২০২ কোটি টাকা। আগের ২০১৯-২০ অর্থবছরের একই সময়ে আমানত বেড়েছিল ৭৩ হাজার ৩৪৯ কোটি টাকা। তারও আগের ২০১৮-১৯ অর্থবছরের একই সময়ে আমানত বৃদ্ধি পেয়েছিল ৪০ হাজার ৮৩৫ কোটি টাকা। এতে দেখা যায়, করোনার মধ্যেই আমানত বেড়েছে সবচেয়ে বেশি।

 

ব্যাংক কর্মকর্তারা জানান, করোনার মধ্যে প্রবাসী আয় অনেক বেশি এসেছে। এসব টাকার বড় অংশ ব্যাংকে আমানত হিসেবে জমা হয়েছে। আগে যারা সঞ্চয় করেননি, তারাও করোনাকালে সঞ্চয় করতে শুরু করেছেন। আসলে করোনা সবাইকে ভবিষ্যৎ নিয়ে অনিশ্চয়তায় ফেলে দেওয়ার কারণেই সঞ্চয়ের প্রবণতা ও পরিমাণ বেড়েছে।

 

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য পর্যালোচনায় দেখা যায়, রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকগুলোর মধ্যে সবচেয়ে বেশি আমানত রয়েছে সোনালীর। গত ডিসেম্বর শেষে এই ব্যাংকে গচ্ছিত আমানতের পরিমাণ দাঁড়ায় ১ লাখ ২৫ হাজার ৩৫৭ কোটি টাকা। এক বছরে ব্যাংকটির আমানত বেড়েছে ৯ হাজার ৪৭৮ কোটি টাকা। সোনালীর পেছনে রয়েছে অগ্রণী, জনতা ও রূপালী ব্যাংক। বেসরকারি খাতে সবচেয়ে বেশি আমানত রয়েছে ইসলামী ব্যাংকের। জানুয়ারি শেষে ব্যাংকটিতে আমানত বেড়ে হয়েছে ১ লাখ ২০ হাজার কোটি টাকা, যা গত বছরের জুনে ছিল ১ লাখ কোটি টাকা। ২০১৯-২০ অর্থবছরের একই সময়ে ব্যাংকটিতে আমানত ছিল ৯৪ হাজার ৬৮১ কোটি টাকা।পূবালী ব্যাংকে গচ্ছিত আমানতের পরিমাণ ৪৩ হাজার ২০০ কোটি টাকা, যা বেসরকারি ব্যাংকগুলোর মধ্যে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ। এরপরই ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংকে ৪৩ হাজার ১৫৮ কোটি ও ন্যাশনাল ব্যাংকে ৪২ হাজার ৮০০ কোটি টাকার আমানত রয়েছে।

 

এদিকে চলতি ২০২০-২১ অর্থবছরের প্রথম সাত মাসে ব্যাংকগুলো মোট ৯৫ হাজার ৭২৯ কোটি টাকার ঋণ বিতরণ করেছে। ফলে সার্বিক ঋণের পরিমাণ গত জানুয়ারিতে বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৪ লাখ ৪৮ হাজার ২১৯ কোটি টাকা, যা গত বছরের জুন শেষে ছিল ১৩ লাখ ৫২ হাজার ৪৯০ কোটি টাকা (এই ঋণ নন-ফান্ডেড দায়সহ, গত জানুয়ারিতে শুধু ঋণ ছিল ১১ লাখ ২১ হাজার ১২২ কোটি টাকা)। আগের ২০১৯-২০ অর্থবছরের একই সময়ে ঋণ বিতরণ হয়েছিল ৯৬ হাজার ৬৪ কোটি টাকা। তার আগের ২০১৮-১৯ সালের একই সময়ে ঋণ বিতরণ হয়েছিল ৬৭ হাজার ৭৫২ কোটি টাকা। বিভিন্ন খাতের ব্যবসায়ী-উদ্যোক্তাদের করোনার প্রভাব মোকাবিলায় সহায়তা করতে সরকার কম সুদের এক লাখ কোটি টাকার বেশি ঋণ প্যাকেজ ঘোষণা করে। ওই প্যাকেজের ঋণ বিতরণ এখনো চলছে। ইতোমধ্যে ৭৫ হাজার কোটি টাকার মতো বিতরণ হয়েছে। প্রণোদনা প্যাকেজের ফলে জুলাই-জানুয়ারি সময়ে ঋণ বিতরণ আগের বছরের একই সময়ের কাছাকাছি পৌঁছে গেছে।

অনলাইন ডেস্ক।।

বিশুদ্ধ পানির জন্য যোগাযোগ করুন…

আরো পড়ুন…

জেলহ্ত্যা দিবসের কিছু ঘটনা: খাপড়া ওয়ার্ড: দেশের ইতিহাসে প্রথম জেল হত্যা

বৈশাখের মধ্য গগণে সূর্যের তেজ ফুটছে সেদিন। কৃষ্ণচূড়ার আগুন লেগেছে যেন নগরে। রাজশাহী জেলের জানালা দিয়ে এগিয়ে আসা কৃষ্ণচূড়ার আগুন রাঙা ডাল দেখবে সমস্ত কক্ষ, আকাশে বাতাসে তার রঙ আজ। কে জানত ধূসর মাখা এক বিকেলে নামবে লাশের মিছিল। শ্রাবণের অঝোর বর্ষণের মতো ঝরবে রক্ত। রাজশাহী জেলের ভিতরে আরেক জেল যেন খাপড়া ওয়ার্ড। টালির ছাদ, চারপাশে দেওয়াল।

যেভাবে খাপড়া ওয়ার্ডে প্রতিবাদের সূচনা

পাকিস্তানে আমলে কারাবন্দীদের উপর প্রচণ্ড নির্যাতন চালানো হতো নানা অজুহাতে। অমানবিক নির্যাতনের সঙ্গে কম খাবার দেওয়া হতো, তামাক খাওয়া নিষিদ্ধ ছিল পুরোদমে। পশুর মতো ব্যবহার করা হতো বন্দীদের সঙ্গে। তেলের ঘানি টানানো, গম মাড়াই, পেষাই সহ নানান কাজ করতে হতো বন্দীদের। আর কাজ করতে দেরী হলে কিংবা করতে গিয়ে খানিকটা বিশ্রাম নিলে ভয়াবহ অত্যাচার নেমে আসত তাদের উপর।

প্রথমে রাজশাহী কারাগারের কমিউনিস্ট বন্দীরা প্রথম ওই অমানবিক শাস্তির প্রতিবাদ করেন। চলে অনশন। ক্রমে তা ছড়িয়ে পড়ে অন্য কারাগারগুলোতেও। ১৯৪৯ সালের মার্চ থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত ঢাকা ও রাজশাহী কারাগারে বন্দীরা চার দফায় মোট ১৫০ দিন অনশন করলেন। খুলনা কারাগারে পিটিয়ে হত্যা করা হয় কমিউনিস্ট আন্দোলন কর্মী বিষ্ণু বৈরাগীকে। ঢাকা কারাগারে জোর করে খাওয়াতে গেলে ৮ ডিসেম্বর শিবেন রায়ের মৃত্যু হয়। অথচ প্রচার করা হয় শিবেন রায় ও বিষ্ণু বৈরাগী আত্মহত্যা করেছে। এর আগে যেসব বন্দীরাই প্রতিবাদ করেছে তাদেরকে শারীরিক নির্যাতনের পর আত্মহত্যা করতে চেয়েছে অভিযোগ এনে এক বছর সশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হলো। অন্যদিকে রাজবন্দীদের সঙ্গে থাকতে দেওয়া হলো তাদের।

রাজবন্দীরা আসায় একদিকে শাপে বর হলো সাধারণ বন্দীদের জন্য। কারণ সাধারণ বন্দীরা নীরবে চোখ বুজে সহ্য করে গেলেও রাজবন্দীরা প্রতিবাদ করতেন। রাজবন্দীদের সঙ্গে থাকতে গিয়ে বিষয়টি অনুধাবন করল সাধারণ বন্দীরা। প্রতিবাদে বন্দীরা বলল, কারাগারে নির্যাতন চালানো যাবে না। বন্দীদের ভালো খাবার দিতে হবে। অন্যদিকে বিষ্ণু বৈরাগী ও শিবেন রায়ের মৃত্যুর সংবাদ শোনার পর ১৯৫০ সালের জানুয়ারি মাসে সারাদেশের কারাগারগুলোতে বন্দীদের মধ্যে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। বিচ্ছিন্নভাবে বন্দীরা কারাগারের ভিতরেই প্রতিবাদ-বিক্ষোভে অংশ নেন। সঙ্গে সঙ্গে বন্দীদের উপর নেমে আসে অসহনীয় নির্যাতন। যখন কারাগার কর্তৃপক্ষ দেখল অত্যাচারেও কাজ হচ্ছে না, তখন কারা কর্তৃপক্ষ হিন্দু, মুসলমান ও আদিবাসীদের মধ্যে পরিকল্পিতভাবে বিভেদ সৃষ্টির চেষ্টা চালায়।

বন্দীরা তখন তা বুঝে ফেলে। রাজশাহী কারাগারের রাজবন্দীরা নির্যাতন বন্ধের দাবি ও সাম্প্রদায়িক উসকানির প্রতিবাদে মুখ্যমন্ত্রী নুরুল আমিনের কাছে স্মারকলিপি দেন। সেই চিঠিতে কারারক্ষী ও কারাগারের কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে প্রতিটি অভিযোগ ও সুস্পষ্ট বিবরণ ছিল। এই চিঠিতে কারাবন্দীদের সমস্যা সমাধানে ১৫ দিনের সময় বেঁধে দেওয়া হয়। ওই সময়ের মধ্যে কোনো উত্তর আসেনি মুখ্যমন্ত্রীর কাছ থেকে। জবাব না পেয়ে বন্দীরা ৫ এপ্রিল অনশন শুরু করেন। ক্রমে অনশনকারীর সংখ্যা হাজার ছাড়িয়ে যায়। একপর্যায়ে রাজবন্দীদের দাবির খবর পৌঁছায় আইজি প্রিজন আমীরউদ্দিনের কাছে। তিনি রাজশাহী সফরে এসে কয়েদী ও সাধারণ বন্দীদের বলেন অনশন ত্যাগ করার জন্য কিন্তু রাজবন্দীরা তা মানবেন না বলে জানিয়ে দেন। এর পরই তিনি রাজবন্দীদের সঙ্গে আলোচনায় বসতে রাজি হন। কারা অভ্যন্তরে কমিউনিস্ট বন্দীরা বৈঠক করে সিদ্ধান্ত নিয়ে ১২ জন প্রতিনিধি পাঠালেন। বৈঠকের প্রথমেই মেজাজ হারিয়ে আইজি প্রিজন আমীর হোসেন প্রশ্ন তোলেন, সাধারণ বন্দী, কয়েদিদের সমস্যা নিয়ে রাজবন্দীরা কেন আন্দোলন করছে? উত্তপ্ত পরিস্থিতির মধ্যে কোনো সমাধান ছাড়াই এই আলোচনার সমাপ্তি ঘটে। তখনও দাবি মেনে নেওয়ার বিষয়ে কোনো সিদ্ধান্তের কথা বলেনি কারাগার কর্তৃপক্ষ। অনশন চালিয়ে যান বন্দীরা।

তখন ‘ডিভাইড অ্যান্ড রুল’ আইনে আইজি প্রিজন আমীর হোসেন জেল সুপার ডব্লিউ এফ বিলকে পরামর্শ দিলেন রাজবন্দীদের কয়েকজনকে সরিয়ে নিয়ে গেলেই অবস্থার সমাধান হবে। কিতু রাজবন্দীরা কেউই খাপড়া ওয়ার্ড ছেড়ে যেতে রাজী হলেন না। নির্দেশনা অনুযায়ী বলা হয়েছিল কমিউনিস্ট বন্দীদের ১৪ নম্বর সেলে যেতে হবে। ওই সেলটি মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত বন্দীদের জন্য। কুষ্ঠ ও যক্ষ্মা রোগীদের রাখা হতো। কারাগারে মারা যাওয়া বন্দীদের ময়নাতদন্তও হতো সেখানে। তখন কমিউনিস্ট বন্দীরা কারা কর্তৃপক্ষের এই সিদ্ধান্তের প্রতিবাদ জানান।

এদিকে সাত দিন চেষ্টা করেও যখন দেখা গেল কোন অগ্রগতি হচ্ছে না তখন রাজবন্দী ও কয়েদীদের কয়েকজন প্রতিনিধিদের জেল গেটে ডেকে এনে অনশন প্রত্যাহারের চাপ দেওয়া হলো। কিন্তু বন্দীরা অনড়, আগে তাদের দাবি মানতে হবে। এপ্রিল আইজি প্রিজন আশ্বাস দিলেন বন্দীদের শারীরিক নির্যাতন করা হবে না। নিজের পয়সায় বন্দীরা তামাক কিনে খেতে পারবে। এদিকে আইজি প্রিজন এটাকে দেখলেন ফায়দা লোটার বড় সুযোগ। তিনি আড়াই হাজার কয়েদীকে একত্র করলেন রাজশাহী কারাগারের খেলার মাঠে। সেখানে সমবেত বন্দীদের উদ্দেশ্যে বললেন, কমিউনিস্টরা বাইরে কিছুই করতে পারছে না। আর এখন জেলে এসে আপনাদের উসকে দিচ্ছে। সুবিধা লোটার চেষ্টা করছে আপনাদের উসকে দিয়ে। আপনারা কমিউনিস্টদের ফাঁদে পা দিয়ে নিজের বিপদ নিজে ডেকে আনবেন না। অন্যদিকে আমীর হোসেন রাজবন্দীদের কক্ষে গিয়ে বললেন, ‘জেলের ভিতরে আপনারা বিপ্লবের নামে যে অস্থিতিশীল পরিবেশের সৃষ্টি করছেন তার পরিণাম শিগগির দেখতে পাবেন।’

এই পরিস্থিতিতে খাপড়া ওয়ার্ডের ভেতর রাজবন্দীরা বৈঠকে বসেন। বৈঠক চলে সারারাত।

২৪ এপ্রিল ১৯৫০

ভোরের দিকে বন্দীরা কিছু সময় ঘুমিয়ে ও নাস্তার খাওয়ার পর সকাল ৯টায় ফের আলোচনা শুরু করেন। ওই সময় জেল সুপার ডব্লিউ এফ বিল ওয়ার্ডের ভেতর ঢুকে বন্দীদের আবারও ১৪ নম্বর সেলে যাওয়ার নির্দেশ দেন। জেল সুপার উত্তেজিত হয়ে ওয়ার্ডের দরজা বন্ধের নির্দেশ দিয়ে দৌড়ে বাইরে যাওয়ার চেষ্টা করেন। এ সময় তার পথরোধ করে দাঁড়ান বাবর আলী, দেলোয়ার ও রশিদ উদ্দিন। বিলের হান্টারের আঘাতে বাবর আলীর কব্জি ভেঙে দিয়ে বাইরে বেরিয়ে সঙ্গে সঙ্গে হুইসেল বাজান। সঙ্গে সঙ্গে ৪০ জন কারারক্ষী খাপড়া ওয়ার্ড ঘিরে ফেলে। ওয়ার্ডের ভেতর কমিউনিস্ট বন্দীরা তাৎক্ষণিক সিদ্ধান্ত নেন, দরজা আটকে রাখতে হবে। তারা নারিকেলের ছোবড়া, চৌকি, তোশক বালিশ ও শরীরের সমস্ত শক্তি দিয়ে দরজা আটকে রাখেন। প্রসাদ রায় ছুটে গিয়ে দরজায় কাঁধ লাগান। বাইরে থেকে পুলিশ ধাক্কা দিতে থাকলে দরজা না খোলায় পুলিশ গুলি চালায়। গুলিবিদ্ধ প্রসাদ রায় মেঝের ওপর লুটিয়ে পড়েন। বেপরোয়া পুলিশ ঢুকে পড়ে ওয়ার্ডের ভেতরে। রাইফেলের গুলির শব্দ আর অসহায় বন্দীদের আর্তচিৎকারে ভারি হয়ে ওঠে কারাগারের বাতাস। খাপড়া ওয়ার্ডের বন্দীদের প্রতিরোধ ভেঙে পড়ে। তারা পুলিশের লাঠির আঘাতে মারাত্মক আহত হয়ে যন্ত্রণায় ছটফট করতে থাকেন। আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে পুরো কারাগারে। ঘটনাস্থলেই মারা যান ছয় জন। আহত হন ওয়ার্ডের সবাই। খাপড়া ওয়ার্ডে প্রথম শহীদ হয়েছিলেন কুষ্টিয়া মোহিনী মিলের শ্রমিক নেতা হানিফ শেখ। চারপাশের নিস্তব্ধতা দেখে যখনই খুলনার ছাত্র নেতা আনোয়ার মাথা তোলেন ঠিক তখনই একটি গুলি এসে লাগে তার মাথায়। মুহূর্তেই লুটিয়ে পড়েন তিনি। তার মাথার খুলি উড়ে গিয়ে পড়ে পাশে নারকেলের ছোবড়ার মধ্যে।

পরিস্থিতি পুলিশ নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার পর ওয়ার্ডের ভেতর ঢোকেন জেল সুপার বিল। খুঁজে বের করেন রাজবন্দীদের নেতা আবদুল হককে। তাকে পেয়ে বিল রাগে দিশাহারা হয়ে হান্টারের শক্ত অংশ দিয়ে মাথায় আঘাত করেন। রক্তাক্ত আবদুল হক মেঝের ওপর পড়ে গিয়ে জ্ঞান হারান। এই দৃশ্য দেখে গুলিবিদ্ধ রাজশাহীর বিজন সেন চিৎকার করে ওঠেন, ‘আমরা মরিনি কমরেড! আমরা জিতব। আগামী দিন আমাদের।’ এর পরই তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। একে একে মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন বাকিরা।

কেবল গুলিবর্ষণ করেই ক্ষান্ত হয়নি পুলিশ ও কারারক্ষীরা। আরেকদল পুলিশ এসে অতর্কিত লাঠিচার্জ শুরু করে আহত বন্দীদের উপর। এক বন্দী তখন তীব্র তৃষ্ণায় পানি পান করতে চাইলেন জেলার মান্নান সিপাহীকে নির্দেশ দিলেন সে বন্দীর মুখে প্রস্রাব করতে।

এর মধ্যে কারাগারের বাইরে থেকে রাজশাহীর পুলিশ সুপারিন্টেনডেন্টকে খবর দেওয়া হয়েছিল যে রাজবন্দীরা জেলগেট ভেঙে পালাচ্ছে। তিনি কারাগারে এসে দেখেন পুরোটাই মিথ্যা এবং সাজানো। রক্তাক্ত খাপড়া ওয়ার্ড দেখে তিনি দিশেহারা হয়ে পড়েন। রাগে অগ্নিশর্মা হয়ে জেলার ও জেল সুপারকে গালাগাল করতে করতে পুলিশ নিয়ে চলে যান।

সেদিন পুলিশের গুলিতে শহীদ হন সাত জন কমিউনিস্ট নেতা-কর্মী। আহত হয়েছিলেন ৩২ জন।

খুলনার আনোয়ার হোসেন, রংপুরের সুধীন ধর, কুষ্টিয়ার হানিফ শেখ, ময়মনসিংহের সুখেন ভট্টাচার্য ও কুষ্টিয়ার দেলোয়ার হোসেন। বেলা ৩টায় গুরুতর আহত সৈয়দ মনসুর হাবিবুল্লাহ, আবদুল হক, কম্পরাম সিং, প্রসাদ রায়, বাবর আলী, আমিনুল ইসলাম বাদশা, শ্যামাপদ সেন, সত্যেন সরকার, সদানন্দ ঘোষ দস্তিদার, অনন্ত দেব, আবদুস শহীদ, প্রিয়ব্রত দাস ও নূরুন্নবী চৌধুরীকে হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে মারা যান দিনাজপুরের কম্পরাম সিং। আহত অবস্থায় পরে শহীদ হয়েছিলেন বিখ্যাত কমিউনিস্ট নেতা বিজন সিং ও তেভাগা আন্দোলনের অন্যতম বিপ্লবী কম্পরাং সিং।

খাপড়া ওয়ার্ডে শহীদ প্রত্যেক বন্দীর লাশ গুম করে ফেলেছিল জেলার ও পুলিশ। শহীদদের কোন আত্মীয়স্বজনকে খবরটুকুও দেওয়া হয়নি। আর যেসব বন্দী আহত হয়েছিলেন তারা বেশীরভাগই পঙ্গু হয়ে গিয়েছিলেন। খাপড়া ওয়ার্ড গণহত্যা ছিল উপমহাদেশের প্রথম জেল হত্যা।

কিন্তু দীর্ঘদিন এই হত্যাকাণ্ডের খবর জানেনি সাধারণ মানুষ। সম্পূর্ণ চাপা পড়ে যায় এই হত্যাকাণ্ড। খাপড়া ওয়ার্ড হত্যাকাণ্ডের কথা প্রকাশ্যে আসে ১৯৫৮ সালে সেখানে গুরুতর আহত আব্দুস শহীদের মাধ্যমে। তিনি খাপড়া ওয়ার্ড হত্যাকাণ্ড নিয়ে নিজের লেখা একটি বই ফেরি করে জানিয়েছেন দেশের সাধারণ মানুষকে।

আজ ২৪ এপ্রিল রাজশাহীর কুখ্যাত খাপড়া ওয়ার্ড হত্যাকাণ্ডের দিন। খাপড়া ওয়ার্ড হত্যাকাণ্ডে শহীদ রাজবন্দীদের প্রতি বিনম্র শ্রদ্ধা।

সূত্র: খাপড়া ওয়ার্ড হত্যাকাণ্ড ১৯৫০/ মতিউর রহমান

//অনলাইন ডেস্ক//

২৫ এপ্রিল থেকে শপিং মল – দোকান খোলা রাখা প্রসঙ্গে

//ডেস্ক নিউজ//

২৫ এপ্রিল ২০২১ইং সকাল ১০ টা থেকে বিকাল ৫ টা পর্যন্ত যথাযথ স্বাস্থ বিধি প্রতিপালন সাপেক্ষে দোকান-শপিংমল খোলা যাবে।

স্বাস্থ বিধি প্রতিপালনের বিষয় সংশ্লিষ্ঠ বাজার ব্যবস্থাপনা কমিটি প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।

পঞ্চগড়ের আটোয়ারীতে সরকারীভাবে গম সংগ্রহের উদ্বোধন

 

পঞ্চগড়ের আটোয়ারীতে গম সংগ্রহের উদ্বোধন করা হয়েছে। উপজেলা প্রশাসন ও খাদ্য অধিদপ্তরের আয়োজনে উপজেলার ফকিরগঞ্জ খাদ্য গুদামে গম সংগ্রহের শুভ উদ্বোধন করেন পঞ্চগড় ১ আসনের সাংসদ সদস্য আলহাজ্ব মোঃ মজাহারুল হক প্রধান এমপি।

উপজেলা নির্বাহী অফিসার আবু তাহের মোঃ সামসুজ্জামান এর সভাপতিত্বে উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মোঃ তৌহিদুল ইসলাম।

অন্যান্যের মধ্যে উপজেলা কৃষি অফিসার মোঃ আব্দুল্লাহ আল মামুন, আটোয়ারী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোঃ ইজার উদ্দীন, খাদ্য কর্মকর্তা মোঃ কামরুজ্জামান, উপজেলা আওয়ামীলীগের যুগ্ন সম্পাদক সাজ্জাদ সেলিম, সাংগঠনিক সম্পাদক এমদাদুল হক, দপ্তর সম্পাদক মোঃ মিজানুর রহমান, বনিক সমিতির সম্পাদক জামিলুর রেজা মানিক, বিশিষ্ট ব্যবসায়ী মোঃ খলিলুর রহমান সহ গনমাধ্যমকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন। খাদ্য অধিদপ্তর সুত্রে জানা গেছে, এবার উপজেলায় ২৮টাকা দরে ৯১০ মেঃ টন গম সংগ্রহ করা হবে।

 //নিতিশ চন্দ্র বর্মন, পঞ্চগড় জেলা প্রতিনিধি//

ঠাকুরগাঁওয়ে অসহায়দের পাশে এ্যাপোলো ইফতার সামগ্রী বিতরণ করে

 

“সেবক হয়ে গড়বো দেশ শেখ হাসিনার নির্দেশ”- মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর এমন-ই নির্দেশনায় করোনাভাইরাসের সংক্রমণ প্রতিরোধে সরকার ঘোষিত লকাডাউনের কারণে ঠাকুরগাঁওয়ে কর্মহীন হয়ে পড়া অসহায়দের পাশে এসে দাঁড়ালেন জেলা স্বেচ্ছাসেবকলীগ সভাপতি নজমুল হুদা শাহ এ্যাপোলো।

(২০ এপ্রিল মঙ্গলবার) বিকেলে স্বেচ্ছাসেবকলীগের সভাপতি নজমুল হুদা শাহ্ এ্যাপোলো নিজ উদ্যোগে রোড রেলস্টেশনে থাকা অসহায় দরিদ্র মানুষদের মাঝে ইফতার সামগ্রী বিতরণ করেন। ইফতার সামগ্রী বিতরণে উপস্থিত ছিলেন জেলা স্বেচ্ছাসেবকলীগ সহ-সভাপতি মাসুম আহাম্মেদ,প্রচার সম্পাদক কুরবান আলী,শিল্প ও বাণিজ্য বিষয় সম্পাদক এস এম রানা সরকার,সদর উপজেলা স্বেচ্ছাসেবকলীগের সাধারণ সম্পাদক আবু ওয়াফু তপু,সাংগঠনিক সম্পাদক মিঠুন রানা,থানা স্বেচ্ছাসেবকলীগের সহ-সভাপতি খায়রুল আলম,পৌর স্বেচ্ছাসেবকলীগের সাধারণ সম্পাদক নূর ইসলাম তালাশ,১২ নং ওয়ার্ডের কমিশনার একরামুউদ্দৌলা শাহেদ,সহ জেলা কমিটির সদস্য সোয়াদ কোরাইশী, রনি, তুষার, পান্না, আশীষ কুমার পাল উপস্থিত ছিলেন।

ইফতার হাতে পেয়ে ৫৫ বছরের বৃদ্ধা আম্বিয়া খাতুন খুশি হয়ে বলেন,স্টেশনে থাকি আমি,বাসা বাড়ি নেই। প্রথম রোজা থেকে শুরু করে এখন পর্যন্ত কেউ কিছু দেয়নি।

 

 

এই প্রথম একজন দিলো ইফতার। লকডাইনের জন্য সব যেন পাল্টে গেছে। আগে তো স্বামী যেমনে হোক কিছু ইনকাম করতো। এখন সেটাও হয়না। আইজকা একজন ইফতার দিলো। যাক আইজ ভালো করি ইফতার করিম।

স্বেচ্ছাসেবকলীগ সভাপতি নজমুল হুদা শাহ এ্যাপোলো বলেন,মহামারি এই করোনার প্রকোপ যেহারে বাড়ছে এতে সব থেকে বেশি অসহায় হয়ে পড়েছে নিন্ম আয়ের মানুষেরা।

আমি সব সময় একটি বিষয় লক্ষ করেছি রোড রেলষ্টেশনে যে সব মানুষেরা থাকে তারা অনেক কষ্টে দিন কাটায়। আমি সব সময় চেষ্টা করে যাই এদের পাশে দাঁড়ানোর। শুধু এই মানুষদের পাশে নয় আমি সমাজের যে কোন অসহায়দের পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করি। তিনি আরো বলেন, স্বেচ্ছাসেবকলীগের কেন্দ্রীয় নির্দেশনায় সভাপতি নির্মল রঞ্জন গুহ,সা:সম্পাদক আফজালুর রহমান বাবু ভাইয়ের কর্মে অনুপ্রানিত হয়ে আমি প্রতিটি সময় জেলার অসহায়দের সেবায় নিয়োজিত থাকি। আজ আমি এসেছি তাদের মাঝে কিছু ইফতার সামগ্রী দিতে।

আমি জানি তারা হয়তো আমাদের মতো এতো ভালো ভালো জিনিস দিয়ে ইফতার কখনো করেনা। তাই আজ নিজের উদ্যোগে তাদের একটু ভালো কিছু দেবার চেষ্টায় এখানে আসা। আমি চেষ্টা করে যাবো অসহায়দের পাশে থাকার।

// মাহাবুব আলম, ঠাকুরগাঁও প্রতিনিধি //

প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে এদেশের মানুষ দারিদ্রকে জয় করে বিশ্বের দরবারে মাথা উচু করে দাড়িয়েছে: সালাম মূশের্দী

// আ: রাজ্জাক শেখ, খুলনা ব্যুরো//

খুলনা -৪আসনের সংসদ সদস্য আব্দুস সালাম মূশের্দী বলেছেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সরকার যতদিন এদেশের মানুষের দায়িত্বে নিয়োজিত থাকবেন তত দিন পর্যন্ত এদেশের মানুষের জান, মাল,ইজ্জত নিরাপত্তা থাকবে।

প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে এদেশের মানুষ দারিদ্রকে জয় করে বিশ্বের দরবারে মাথা উচু করে দাড়িয়েছে। তিনি আর ও বলেন করোনা ভাইরাস নামক মহামারী থেকে এদেশের মানুষকে নিরাপত্তা দিতে নিজের জিবনকে বাজি রেখে তিনি সার্বক্ষনিক কাজ করে যাচ্ছেন।

একারনে বিশ্বের যেকোন দেশ থেকে বাংলাদেশ অনেক সুরক্ষা রয়েছে। সালাম মূশের্দী সেবা সংঘের আয়োজনে ও সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান মোল্লা ওয়াহিদুজ্জামান মিজান এর ব্যবস্থাপনায় রূপসা উপজেলার ঘাটভোগ ইউনিয়নে অসহায়দের মাঝে ২০ এপ্রিল বিকালে চানপুর সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে ইফতার সামগ্রী বিতরণ করা হয়।

এসময় উপস্থিত ছিলেন জেলা আওয়ামীলীগের সদস্য ও অধ্যক্ষ ফ ম আব্দুস সালাম, উপজেলা আওয়ামীলীগের সহ-সভাপতি সৈয়দ মোরশেদুল আলম বাবু, নজরুল ইসলাম,ভাইস চেয়ারম্যান ফারহানা আফরোজ মনা, এমপির চিফ কো-অডিনেটর ও যুবলীগ নেতা নোমান ওসমানী রিচি, সালাম মুর্শেদী সেবা সংঘের টিম লিডার ও যুবলীগ নেতা সামছুল আলম বাবু, সুব্রত বাগচী, মাধুরী রায়, স্বপ্না পাল, জেসমিন, ফিরোজা বেগম, আজিম আনম, জ্যাকি ইসলাম সজল,খায়রুজ্জামান সজল, শিমুল হোসেন, তরিকুল ইসলাম, রিয়াজ শেখ, শেখ রাসেল প্রমূখ।

ঘাটভোগ ইউনিয়নে ৪০০ পরিবারের মাঝে আটা, চিনি সেমাই, মুড়ি,ছোলা,  খেজুর ইফতার সামগ্রী বিতরণ করা হয়।

‘কঠোর লকডাউন’ আরও এক সপ্তাহ বাড়ানোর সুপারিশ করা হয়েছে

 

করোনাভাইরাসের দ্বিতীয় ঢেউয়ের সংক্রমণ প্রতিরোধে আরও এক সপ্তাহের জন্য ‘কঠোর লকডাউনের’ সুপারিশ করেছে জাতীয় কারিগরি পরামর্শক কমিটি।

গতকাল রোববার রাতে কমিটির এক ভার্চ্যুয়াল সভায় এ সুপারিশ করা হয়। এতে সভাপতিত্ব করেন জাতীয় কমিটির সভাপতি অধ্যাপক মোহাম্মদ সহিদুল্লা।

সারাদেশে করোনার উচ্চ সংক্রমণ ও ক্রমবর্ধমান মৃত্যুতে উদ্বেগ জানিয়ে চলমান এক সপ্তাহের লকডাউন শেষ হওয়ার আগে সংক্রমণের হার বিবেচনা করে আবার সিদ্ধান্ত নেয়ার পরামর্শ দিয়েছে কমিটি।

এছাড়া ধীরে ধীরে লকডাউন শেষ করার পূর্ব পরিকল্পনা তৈরির রাখার পরামর্শও দিয়েছে কমিটি।

সোমবার সকালে গণমাধ্যমে পাঠানো সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানানো হয়েছে।

করোনাভাইরাসের সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে ১৪ এপ্রিল থেকে লকডাউন চলছে। ২১ এপ্রিল তা শেষ হওয়ার কথা। তার আগেই কমিটি এই পরামর্শ দিল।

এদিকে লকডাউন পরিস্থিতি পর্যালোচনা করতে আজ সোমবার মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের উদ্যোগে সভা হওয়ার কথা। সেখানে পরিস্থিতি বিবেচনা করে লকডাউন আরও এক সপ্তাহ বাড়ানো হবে কি না সেটা ঠিক হওয়ার কথা ।

চলতি বছরের ফেব্রুয়ারির মাঝামাঝি সময় থেকে থেকে দেশে করোনাভাইরাস সংক্রমণ বাড়তে শুরু করে। মার্চের শুরু থেকে সংক্রমণ তীব্র হয়।

সংক্রমণ ঠেকাতে ৫ এপ্রিল থেকে প্রথম দফায় সাত দিনের ‘লকডাউন’ শুরু হয়। তবে তার ধারাবাহিকতা চলে ১৩ এপ্রিল পর্যন্ত।

এরপর ১৪ এপ্রিল থেকে দ্বিতীয় দফয় কঠোর লকডাউন দেয় সরকার, যা চলবে ২১ এপ্রিল পর্যন্ত।

সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, জাতীয় কারিগরি পরামর্শক কমিটি কমপক্ষে দুই সপ্তাহের জন্য পূর্ণ লকডাউন সুপারিশ করেছিল। সরকার ১৪ এপ্রিল থেকে এক সপ্তাহের লক ডাউন ঘোষণা করায় কমিটি সন্তোষ প্রকাশ করে।

সংবাদ বিজ্ঞপিতে বলা হয়, ‘বৈজ্ঞানিকভাবে দুই সপ্তাহের কম লকডাউনে কার্যকর ফলাফল আশা করা যায় না। দেশের অর্থনীতি সচল রাখার স্বার্থে শিল্প-কলকারখানা খোলা রাখার বিষয়টি কমিটি উপলব্ধি করে। তবে, বেসরকারি দপ্তর, ব্যাংক খোলা রাখা, ক্রমবর্ধমানভাবে ব্যক্তিগত গাড়ি চলাচল, ইফতার বাজারে অনাকাঙ্ক্ষিত ও অপ্রয়োজনীয় অতিরিক্ত ভিড় লকডাউনের সাফল্যকে অনিশ্চিত করে।

লকডাউনের সময় স্বাস্থ্যসেবা, ফায়ার সার্ভিস ও অন্যান্য জরুরী সেবা ছাড়া সবকিছু বন্ধ রাখার পরামর্শ দিয়েছে কমিটি। খোলা রাখা যাবে এমন জরুরি সেবার তালিকা প্রকাশ করারও অনুরোধ জানানো হয়েছে কমিটির পক্ষ থেকে।

‘অন্যথায় বিরূপ পরিস্থিতির আশংকা রয়েছে। চলমান লকডাউনে চিকিৎসকসহ স্বাস্থ্যকর্মীদের চলাচলে বাধা ও অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটনা ঘটেছে।’

কাঁচা বাজার আবারও উন্মুক্ত স্থানে বসানোর প্রস্তাব দিয়েছে জাতীয় কমিটি।

//দৈনিক বিশ্ব ডেস্ক//

 

খুলনায় বাড়ী থেকে ডেকে নিয়ে কুপিয়ে হত্যা যুবককে

 

খুলনার খালিশপুরের কাশিপুর এলাকায় লিটন (২৫) নামে এক যুবককে ধারালো অস্ত্র দিয়ে  কুপিয়ে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা। শনিবার (১৭ এপ্রিল) দিনগত রাত একটার দিকে এ ঘটনা ঘটে।

নিহত লিটন কাশিপুরের বাইতিপাড়া এলাকার বাসিন্দা সোবাহানের ছেলে।

স্থানীয়রা জানান, একই এলাকার বাসিন্দা সোহেলের ছোট ভাইকে চড় মারার জন্য সোহেল শনিবার দিনগত রাতে লিটনকে ফোন দিয়ে ডেকে নেয়। এসময় তারা লিটন ও আমিনকে এলোপাথাড়ি মারধর ও ধাঁরালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে জখম করে। তাৎক্ষণিকভাবে রক্তাক্ত অবস্থায় লিটন ও আমিনকে খুলনা মেডিক্যাল কলেজ (খুমেক) হাসপাতালে নিলে লিটনের মৃত্যু হয়। আমিন বর্তমানে চিকিৎসাধীন ও আশঙ্কামুক্ত এঘটনায় প্রাথমিকভাবে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য একজনকে পুলিশ হেফাজতে নেয়া হয়েছে।

খালিশপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) কাজী মোস্তাক জানান, দুর্বৃত্তদের গ্রেফতারের অভিযান চলছে।

          //আ:রাজ্জাক শেখ, খুলনা ব্যুরো//

খুলনার রূপসার জনগণের ভালবাসায় শিক্ত ওসি মোশাররফ হোসেন

 

বাংলাদেশ পুলিশ বাহিনীর এক উজ্জ্বল নক্ষত্র, জনবান্ধব, কর্মবীর আলোকিত মানুষ,সু- প্রশংসিত, খুলনার রূপসা উপজেলার সকল জনগণের সেবার মান উন্নত করার লক্ষে তিনি নিয়মিত নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছেন।

তিনি হলেন থানার অফিসার ইনচার্জ সরদার মোশাররফ হোসেন।

ইতিমধ্যে কর্ম ও জনসেবা দিয়ে সকল মানুষের মন জয় করে নিয়েছেন তিনি।

থানার চৌকস পুলিশ অফিসার গন তাহার নির্দেশে ভালোবাসায় শিক্ত হয়ে দিনরাত প্রহরায় নিজেদেরকে নিয়োজিত রেখেছে।

যেকোনো দুর্যোগ মোকাবেলায় ও জনগণের যেকোন সমস্যার পাশে থাকার জন্য প্রস্তুত রয়েছেন তারা।

মরণ ব্যাধি করোনা ভাইরাস এর মোকাবেলায় উপজেলার হাট-বাজার সহ বিভিন্ন স্থানে গণসচেতনতামূলক লিফলেট বিতরণসহ নিরাপদ দূরত্ব বজায় রাখার নির্দেশ প্রদানে কাজ করে চলেছেন।

নব-যোগদানকৃত ওসি মোশাররফ  মাদকদ্রব্য, চাঁদাবাজি, চুরি-ডাকাতিসহ  অনৈতিক কর্মকান্ড কঠোর হাতে নিয়ন্ত্রণ করার কাজে নিজেকে অব্যাহত রেখেছেন।

জনগণ তথা সকল শ্রেণী পেশার মানুষের সাথে ভদ্র আচরণ করে প্রমাণ করেছেন পুলিশই জনতা, জনতাই পুলিশ।

অত্যন্ত বিনয়ী স্বভাবের এই অফিসার ইনচার্জ সরদার মোশাররফ তার কর্মযজ্ঞ দিয়ে রূপসা থানার অতীতের জরাজীর্ণ রেকর্ড ভঙ্গ করে নতুন নতুন দিগন্ত উন্মোচন করছেন।

আইন শৃংখলা পরিস্থিতি পূর্বের তুলনায় এখন অনেক ভাল।

ওসি মোশাররফ এর  বিচক্ষণতা গরীব, দুঃস্থ,অসহায় পরিবারের সদস্যসহ সকল মহলের মাঝে স্বস্তি ফিরে এসেছে। তার এই সুষম সেবা জনগণের মাঝে অটুট থাকুক এই প্রত্যাশা সকলের।

//আ: রাজ্জাক শেখ, খুলনা ব্যুরো//