”হিট স্ট্রোকে মৃত্যু”- বরিশাল নগরীতে জনসম্মুখে এক রিক্সা চালকের মৃত্যু হয়েছে প্রচন্ড তাপদাহে

 বরিশাল নগরীর প্রাণকেন্দ্র সদররোডে অর্ধশতাধিক জনসাধারণের চোখের সামনে এক মুহুর্তে হিট স্ট্রোকে রাজা মিয়া (৬৫) নামের এক রিক্সা চালকের মৃত্যু ঘটেছে। আজ (মঙ্গলবার ২৭ এপ্রিল) সকাল ১১টায় এঘটনাটি ঘটে।

সদররোডে বে-সরকারী ল্যাব এইড হাসপাতালের গার্ড সদস্যরা বলেন দূর্ঘটনাটির ঠিক কয়েক মিনিট আগে রিক্সা চালক তাদের ল্যাব এইডের সামনে এসে থামিয়ে দাঁড়ান।

এসময় তিনি কয়েকবার শরীরে কাপুনী দিয়ে রাস্তায় পড়ে গেলে তাকে ধরে ল্যাব এইডের ট্রলিতে রেখে সেবা দেয়ার চেষ্টা করেন উক্ত প্রতিষ্ঠানের সেবিকারা। এ সময় কোতয়ালী মডেল থানার টহলরত এ.এস.আই রিয়াজুল ইসলাম রাজা মিয়াকে সদর জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে গেলে মেডিকেল চিকিৎসক ডাঃ মলয় কৃষ্ণ রিক্সা চালক রাজা মিয়াকে মৃত্যু ঘোষণা করেন।

এব্যাপারে এ.এস. আই রিয়াজ বলেন, ল্যাব এইডে রাখা অবস্থায় রাজা মিয়ার মেয়ে মাহিনুর ও ছেলে ইমন দ্রুত সংবাদ পেয়ে তারা চলে আসলে তাদেরকে সাথে নিয়ে সদর হাসপাতালে নিয়ে যাই। পড়ে সেখানে বসে ছেলে ও মেয়ের কাছে তাদের পিতার লাশ হস্তান্তর করা হয়।

জানা গেছে, রাজা মিয়া বরিশাল নগরীর বগুড়া রোড অপসোনিন মেডিসিন ফেক্টরি কারখানা এলাকায় তারা বসবাস করেন।

আরও জানাযায়, সাধারণত দীর্ঘ সময় বাইরে বা গরম পরিবেশে কাজ করেন, কৃষক, শ্রমিক, রিকশাচালক। ফলে দীর্ঘক্ষণ রোদে দাঁড়ালেও এমন হতে পারে। এ থেকে মৃত্যুও হতে পারে। লক্ষণ শুনে আমাদের ধারণা রাজা মিয়া হিট স্ট্রোকে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন।

পলাশ চন্দ্র দাস, বরিশাল //

আরও পড়ুন…

 

নীলফামারীর ডোমার  উপজেলায় ট্রাক্টরের অত্যাচারে অতিষ্ট সাধারন মানুষ

 

আজ সোমবার ডোমার উপজেলার সোনারায় ইউনিয়নের সাধারণ মানুষেরা জানান, ডোমারের ইউনিয়ন গুলোতে দিন রাত সর্বক্ষন শহরে গ্রামে রাত দিন ট্রাক্টর চলাচলের অত্যাচারে অতিষ্ট সাধারন মানুষ,এতে করে সড়ক গুলো যেমন ধ্বংসের দিকে নিয়ে যাচ্ছে তেমনি ছোটখাট দূর্ঘটনা সহ হতাহতের ঘটনা ঘটছে প্রায়ই।  উপজেলার বিভিন্ন  ইউনিয়ন গুলোতে দিন রাত যে ভাবে উচ্চ শব্দে ব্যালেন্সহীণ ভাবে চলছে ট্রাক্টর,বিশেষ করে ডোমার উপজেলার সোনারায় ইউনিয়নে যে ভাবে টাক্টর চলাচল করছে তাতে সাধারন মানুষ ও এলাকা বাসি পাড়া মহল্লার সড়ক গুলোর যে অবস্থা হচ্ছে তাতে যান চলাচলে সৃষ্টি হচ্ছে চরম ভোগান্তি।

ডোমারউপজেলার সোনারায় ইউনিয়নের সাধারণ মানুষের দাবী পর্যায়ে ট্রাক্টর চলাচলের উপর নিষেধাজ্ঞা জারি করা হোক ও উপজেলা আইনশৃঙ্খলা বাহীনির মাধ্যমে ডোমার উপজেলার সকল সড়কের উপর দিয়ে দিনেরবেলা ট্রাক্টর চলাচল নিষিদ্ধ ঘোষনা করা হোক।

জানা যায় যান্ত্রিক দানব খ্যাত এ ট্রাক্টর যন্তটি মূলত একটি কৃষি যন্ত্র হিসেবে কৃষকদের জন্য স্বল্প শুল্কে এদেশে কৃষি কাজের জন্য আমদানি করা হয়,এই যানবাহনটি জমি চাষের জন্যে  ব্যাতিত সড়কে চলাচলের কোন প্রকার সরকারি অনুমতি নেই। সময়ের পরিক্রমায় এটি দিয়ে বাসা বাড়ি নির্মানের কাজ সহ সকল ধরনের স্থাপনা নির্মানের কাজে ব্যবহৃত মালামাল বহনের জন্য ট্রাক্টর বাহন হিসেবে দাঁড়িয়েছে।

এ সুযোগকে কাজে লাগিয়ে ট্রাক্টর মালিকরা ব্যবসার কাজে লাগিয়ে ট্রাক্টর ব্যবহার করে আসছে,ট্রাক্টর শুধুমাত্র কৃষিকাজে ব্যবহারের জন্য অনুমোদন দেওয়া হয়েছে এটি সড়কের উপর ব্যবহার করার জন্য অনুমোদিত নয়। ডোমার উপজেলার ঘাতক ট্রাক্টর গুলো অনেক তাজা প্রাণ কেরে নিয়েছে। অত্যান্ত দ্রুত গতীতে এটি সড়কে চলাচল করে সম্পূর্ন ব্যালেন্সহীন ভাবে। সকল শ্রেণী পেশার মানুষ চায় এটি নিষিদ্ধ করা হোক তাই ডোমারে ট্রাক্টর নিষিদ্ধের ব্যপারে জোর দাবি জানান এলাকাবাসি।

ট্রাক্টরের চাপায় পৃষ্ট হয়ে ঘটে যাওয়া নৃশংস হত্যাকান্ড গুলোর কোন বিচার হয় না বলে,ঘটনা ঘটার সাথে সাথে চালক পালিয়ে যায়। এই অবৈধ যানটি যেন বৈধ যানবাহনের মতো চলতে থাকে কোন প্রকার আইনি পদক্ষেপ না থাকায় ট্রাক্টর চালকরা হয়ে উঠেছে বেপরোয়া?মালিকরা অধিক লাভের আশায় অদক্ষ চালক দিয়ে মাটিকাটা শ্রমিকদের দিয়ে ট্রাক্টর চালাতে বাধ্য করছে-এতে করে প্রতিদিন গড়ে ছোটখাট দূর্ঘটনা সহ ঘটে যাচ্ছে বড় ধরনের প্রাণ হাণির ঘটনা।

ডোমার উপজেলার সকল ইউনিয়নের সড়ক সহ অনেক গ্রামের পাড়া মহল্লায় দিন রাত ট্রাক্টর চলাচল করে রাস্তাগুলো অল্প সময়েই ধ্বংস করে দিচ্ছে এখন উক্ত সড়ক গুলোতে বড় বড় গর্ত সৃষ্টি হচ্ছে,সে ক্ষেত্রে এলাকা এবং উপজেলা ইউনিয়নের ভাবমূর্তি ক্ষুন্ন করছে তারা।সেই সাথে এসব যানের কোন ব্যালেন্স নেই অত্যান্ত তীব্র গতীতে ছুটে চলে একের পর এক ঘটিয়ে চলছে দূর্ঘটনা উপজেলার সকল সড়কের উপর দিয়ে ট্রাক্টর চলাচল নিষিদ্ধ ঘোষনা করা হোক ।

সোনারায় ইউনিয়ন বাসির প্রত্যাশা হলো সাধারণ মানুষের জনস্বার্থের কথা ভেবে এলাকার রাস্তা এবং উপজেলার সড়ক রক্ষায় ট্রাক্টর গুলোকে সড়কের উপর দিয়ে চলাচলের জন্য নিষিদ্ধ ঘোষনা করা হোক।

//স্টাফ রিপোর্টার, মোঃ মোস্তাফিজুর রহমান//

আরও পড়ুন…

বিশুদ্ধ পানির জন্য RO Filter ব্যবহার করুন…

 

 

সারাদেশের মাঠঘাট ফেটে চৌচির শুধু জলাবদ্ধ হয়ে আগাছায় ভরে আছে ভবদহের ২১ টি বিল

 

গ্রীষ্মের দাবদাহে যখন সারাদেশের মাঠঘাট ফেটে চৌচির, নদ-নদী খাল-বিল পানি শূন্যতায় ভুগছে, ভরা বৈশাখে রৌদ্রের দহনে ধরনী ও ধরনীর মানুষ যখন দিশেহারা,সমগ্র বাংলাদেশের কৃষক তাদের উৎপাদিত স্বপ্নের ফসল বোরোধান ঘরে তোলার কাজে দিনরাত অক্লান্ত পরিশ্রম করছেনতখন ভবদহ এলাকার হাজার-হাজার কৃষক অনাবাদি বিলের দিকে তীর্থের কাকের মতো তাকিয়ে বসে আছে।

আজ যখন সারাদেশের কৃষক যখন মনের আনন্দে তাদের উৎপাদিত ফসল ঘরে তোলার কাজে ব্যস্ত তখন তারা অনাবাদি বিলগুলির দিকে চেয়ে চেয়ে চোখের জল ফেলছে।কারণ গত কয়েক বছর কৃষকের ঘরে কোন নতুন ফসল ফলেনি কিন্তু এবছর অনেক স্বপ্ন নিয়ে দেশের সরকার,স্থানীয় জনপ্রতিনিধিসহ পানি উন্নয়ন বোর্ড, বিএডিসি-এর ৬০ লক্ষ টাকা ব্যয়ে পরিচালিত সেচ প্রকল্পের দিকে চেয়েছিল। কিন্তু আশায় গুড়ে বালি ঢেলে ভবদহ এলাকার হাতে গুণা কয়েক বিলে ফসল উৎপাদিত হলে ২৭ টি বিলের  মধ্যে ২১ বিলের অনাধিক ৪০ হাজার হেক্টর জমি পানির নিচেয় তলিয়ে আছে।

 

 বিলগুলি হলো-বিল কেদারিয়া, বিল গান্ধী মারী, চাতরার বিল, নুনের বিল, বিল ঝিকরা, ধলের বিল,ডুমুরের বিল, শালিখার বিল,ফাহালের বিল, ভায়নার বিল,মাঠের ডাঙার বিল, বিল পায়রা, বিল কপালিয়া,আড়পাতার বিলের ৩০ হাজার হেক্টর জমি ও কেশবপুর উপজেলার বক উড়ার বিল,বাগডাঙার বিল, ভাটবিলার বিল, নড়ের বিল, জিয়লদহের বিল, বিল খুকশিয়া, বিল ভায়নাসহ অনেকগুলি কুড় বিলের ১০ হাজার হেক্টর জমি।বিলগুলি অধিকাংশ  মনিরামপুর,অভয়নগর ও কেশবপুর উপজেলার অবস্থিত।

উল্লেখ যশোর সদর, মনিরামপুর,অভয়নগর, কেশবপুর ও খুলনা জেলার ডুমুরিয়া ও ফুলতলা উপজেলার  এই ২৭ টি বিল মুক্তেশ্বরী, টেকা,হরি,আপারভদ্রা,হরিহর ও বুড়িভদ্রা নদী দ্বারা বেষ্টিত।এই অঞ্চলের বৃষ্টির ও উজানের পানি উপরে উল্লেখিত নদী ও বিলের সাথে সংযুক্ত খালের মাধ্যমে নিষ্কাশিত হতো।

কিন্তু সমুদ্রের লবণাত্মক পানি যাতে জোয়ারের সময় বিলগুলিতে প্রবেশ করতে না পারে এবং কৃষিযোগ্য চাষের পানি ধরে রাখার জন্য ষাটের দশকে অভয়নগরের সীমান্তবর্তী ভবদহ নামক স্থানে  হরি ও টেকা নদীর উপরে ২১, ০৯ ও ০৬ ভেন্ট স্লুইসগেট তৈরি করা হয়। ষাট থেকে আশির দশক পর্যন্ত এই স্লুইজগেটের সুবিধা পাওয়া যায়।

 

মুক্তেশ্বরী- টেকা- হরি-আপারভদ্রা ও বুড়িভদ্রা নদী গুলোর মূল উৎস পদ্মা। এই নদীগুলোর পানির মূল উৎস পদ্মার পানি প্রবাহে বাঁধার সৃষ্টি হওয়ায় উজানের পানিতে আসা পলি নদী ও খালের তলদেশে পড়ে ভরাট হতে থাকে এবং শুষ্ক মৌসুমে পলির প্রবাহ বেড়ে যাওয়ায় খুব দ্রুত সময়ের মধ্য নদীও খালগুলি ভরাট হতে হতে স্থায়ী জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়।

 আর এই জলাবদ্ধতা দূরীকরণের জন্য সরকারের পানি উন্নয়ন বোর্ড অপরিকল্পিত ও কল্পনা প্রসূত কিছু প্রকল্প বাস্তবায়ন করে যার ফলাফল শূন্য।

এবার পানি উন্নয়ন বোর্ডের সাথে অলীক সেচ প্রকল্প নিয়ে  যুক্ত হয়েছে বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ(বিএডিসি)। ষাট লক্ষ টাকা খরচ করে ১৩ টি সেচ পাম্পের মাধ্যমে ভবদহ এলাকার ২৭ টি বিলের পানি অপসরণের অপচেষ্টা। এই সেচ প্রকল্প বাস্তবায়ন করতে গিয়ে দেখা গেল কিছুদিন চলার পর নদীতে পানি না থাকায় বন্ধ রাখা,পর্যাপ্ত লোকবল,বিদ্যুৎ সরবরাহসহ বিভিন্ন ধরনের প্রতিকূলতা।

ফলাফল ২৭ টি বিলের কয়েকটি বিলের উঁচু জমিতে বোরোধান উৎপন্ন করা গেলেও বাকি ২১ বিলের জল অপসরণ না হওয়ায় স্থায়ীভাবে এখন জলাবদ্ধতায় মগ্ন।

 বিলগুলির উঁচু অংশের পানি কমলেও অধিকাংশ বিলের জমিগুলিতে কোমর সমান পানি।আর বিলগুলিতে এখন নৌকা চলছে।আর বিলের জমিতে শাপলা-শালুকসহ নানারকম আগাছা জঙ্গলে ভরে আছে। যেহেতু বিলগুলি জলাবদ্ধ তাই আগামী বর্ষাকালে যে আবারও স্থায়ী জলাবদ্ধতার বিভৎস্যরূপ নিবে এই চিন্তায় ভবদহ এলাকার জনগণ চিন্তিত ও শঙ্কিত। 

ভবদহ এলাকার জলাবদ্ধতা নিরসনে প্রথমে দরকার পানি উন্নয়ন বোর্ড ও স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের প্রকল্পের বাইরে রেখে বাংলাদেশ সামরিক বাহিনী দিয়ে নদনদী,খালবিল গুলি খনন,অব্যাহতভাবে নদী ড্রেজিং করে নদীর নাব্যতা ফিরিয়ে আনা, পর্যায়ক্রমে ২৭ টি বিলে পরিক্ষিত টিআরএম( টাইডার রিভার্স ম্যানেজমন্ট) চালু রাখা এবং পার্শ্ববর্তী নওয়াপাড়ার ভৈরব নদ খনন করে আমডাঙ্গা খালের সাথে সংযুক্ত করা।

 

অন্যদিকে এই বিলগুলির কিছু বিলে ব্যক্তি মালিকানায় মাছের চাষ হচ্ছে।আর মাছ চাষ করে জমির মালিকদের যত সামান্য টাকা দিয়ে ব্যক্তি বিশেষ লাভবান হচ্ছে।ফলে জোঁক গল্পের ন্যায় এখানেও অত্র এলাকার কৃষকদের রক্ত চোষার ন্যায় শোষণ করা হচ্ছে ।শুধু শোষণ করেই ক্ষান্ত নেই অনেক সময় কৃষকের পাওনা টাকাটাও ঠিক মতো দেয় না।

এমনকি চুক্তির মেয়াদ শেষ হলেও ঐসব মালিকেরা তাদের বিলের জমি ছেড়ে দিতে তালবাহানা করে এবং গ্রামের সাধারণ কৃষকদের হুমকি ধামকি দেয়।যা দেখার জন্য স্থানীয় জনপ্রশাসন থাকলেও টাকার কাছে বিক্রি হয়ে যায়।

অনেক সময় দেখা যায় এই সব মৎস্য ব্যবসায়ীরাও  তাদের মাছ চাষের সুবিধার্থে চায় না বিলগুলি জলাবদ্ধতা মুক্ত হোক।আর তাই তারা স্থায়ী সমাধানের  জন্য এলাকার সাধারণ মানুষের প্রস্তাবিত সুনির্দিষ্ট কোন প্রকল্প বাস্তবায়নে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টির জন্য স্থানীয় জনপ্রতিনিধিসহ সরকারি প্রশাসনকে কব্জা করে নেয়।

 

 যদি কৃষকদের নিয়ে সমবায় সমিতি গঠন করা যায় এবং  সরকারের মৎস্য অধিদপ্তর থেকে মৎস্য চাষের উপর কৃষকদের প্রশিক্ষণসহ সরকারি ঋণদিয়ে মৎস্যচাষে উদ্ধুদ্ধ করা যায় তাহলেও সাধারণ কৃষকের কিছুটা হলেও উপকার হতো এবং রক্তচোষাদের হাত থেকে বাঁচাতে পারতো।

//নিজস্ব প্রতিবেদক।স্বীকৃতি বিশ্বাস//

বাঁচতে চান এমএম কলেজের মেধাবী শিক্ষার্থী ছাত্রী সোমা রায়

 

যশোর সরকারি মাইকেল মধুসূদন কলেজের ব্যবস্থাপনা বিভাগের মাস্টার্সের মেধাবী শিক্ষার্থী সোমা রায় (২৬)। মরণব্যাধি ব্রেইন টিউমারে আক্রান্ত। তার চিকিৎসার জন্য ৭-৮ লাখ টাকা প্রয়োজন।

কিন্তু এত টাকা জোগাড় করতে পারছে না তার দরিদ্র পরিবার। সোমার বাবা শহরের একটি সুপার শপে সামান্য বেতনে চাকরি করেন। মা সবিতা রায় গৃহিণী। তিনিও অসুস্থ। আর একমাত্র ছোটভাই এবার এইচএসসি পাস করেছে।

সোমার সুচিকিৎসার জন্য এত টাকা সংগ্রহ করতে না পেরে সমাজের বিত্তবান মানুষের কাছে সহযোগিতা চেয়েছে পরিবারটি। মানুষের সহযোগিতা পেলে মেধাবী এই শিক্ষার্থী জীবনটা ফিরে পাবেন। সংসারের হাল ধরতে পারবেন।

জানা যায়, যশোর শহরের বেজপাড়া পিয়ারী মোহন রোড এলাকার বাসিন্দা অশোক রায় ও সবিতা রায় দম্পতির একমাত্র মেয়ে সোমা। পড়াশোনার পাশাপাশি নিয়মিত হোম টিউটর, দক্ষ কম্পিউটার প্রশিক্ষক এবং গ্রামীণফোন কাস্টমার কেয়ারের একজন সার্ভিস হোল্ডার হিসেবে সংসারের হাল ধরেছিলেন।

সোমার ইচ্ছা ছিল একজন আদর্শবাদী শিক্ষিকা হয়ে সমাজকে বদলে দেওয়ার। কিন্তু সেই স্বপ্নভঙ্গের উপক্রম। তিনি মরণব্যাধি ব্রেইন টিউমারে আক্রান্ত। সংগ্রামী সোমা রোগাক্রান্ত হওয়ায় তার পরিবার, সহপাঠীদের মাঝে নেমে এসেছে বিষাদের ছায়া।

তার জন্য দোয়া ও সহযোগিতা চেয়েছেন তার স্বজন ও সহপাঠীরা। যশোর ও খুলনায় চিকিৎসা শেষ করে বর্তমানে বাড়িতেই ডাক্তারের পরামর্শে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

চিকিৎসকেরা বলছেন, দ্রুত অপারেশন করালে ভালো হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তার চিকিৎসার জন্য দ্রুত ভারতে নিতে হবে। এজন্য প্রয়োজন ৭ থেকে ৮ লাখ টাকা।

অশোক রায় জানান, নিজেরা নিরক্ষর হলেও দুই ছেলেমেয়েকে শিক্ষিত করেছি। তাদের মানুষের মতো মানুষ হিসেবে গড়ে তোলার স্বপ্ন ছিল। সোমা পড়াশুনায় মেধাবী। সে সংসারের হাল ধরেছিল। হঠাৎ তার অসুস্থতা সব স্বপ্ন ভেঙে চুরমার হওয়ার উপক্রম হয়েছে। অসুস্থতা নিয়ে মাস্টার্স পরীক্ষা দিয়েছে।

গত মাসে হঠাৎ করেই আরও বেশি অসুস্থ হয়ে পড়লে এক পর্যায়ে পরীক্ষা-নিরীক্ষায় ধরা পড়ে তার মরণব্যাধি ব্রেন টিউমার। চিকিৎসকেরা জানিয়েছে দ্রুত অস্ত্রোপচার প্রয়োজন। এতে কমপক্ষে ৭ থেকে ৮ লাখ টাকা লাগবে।

কিন্তু আমার কাছে এত টাকা সংগ্রহ করা অসম্ভব হয়ে পড়েছে। সোমাকে বাঁচাতে সমাজের বিত্তবান ও সহৃদয়বান ব্যক্তিদের সহযোগিতা কামনা করছি।

যোগাযোগ: ডাচ্ বাংলা ব্যাংক-নিজস্ব অ্যাকাউন্ট- সোমা রায় ১৬৩১৫১০১৯৫৯৮৪ (ব্র্যাঞ্চ-যশোর- কোড ১৬৩)।

//অনলাইন ডেস্ক//

লেবুর বাড়তি দামে বেজায় খুশি দক্ষিণ চট্টগ্রামের কৃষক মহল

চলমান করোনা মহামারী মোকাবেলায় স্বাস্থ্যের জন্য ফলদায়ক লেবু। আর পাশাপাশি চলমান রমজানে লেবুর চাহিদা বেড়ে যাওয়ায় লেবুর কদর অনেকাংশে বেড়েই চলছে। চলতি মৌসুমে বৃষ্টিপাত না হওয়ায় লেবুর ফলন ভালো না হলেও উৎপাদিত লেবুর চাহিদা বাড়তি হওয়ায় দক্ষিণ চট্টগ্রামে প্রতিটি লেবু ১০-১৫ টাকা ও প্রতি ডজন ১২০ থেকে ১৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

দক্ষিণ চট্টগ্রামের পটিয়া উপজেলার   খরনা, শ্রিমাই, লালাখিল, হাইদগাঁও, বোয়ালখালী উপজেলার  জৈষ্টপুরা, কানুঙ্গুপাড়া, পাহাড়ীয়া এলাকা চন্দনাইশ উপজেলার লালুটিয়া, লট এলাহাবাদ, কাঞ্চননগর, ধোপাছড়ি পাহড়ীয়া এলাকা, আনোয়ারা উপজেলার    মোহসেন আউলিয়া, চাতুরী চৌমুহুনীর পাহাড় ও কাপকোর এলাকাধিন পাহাড়, লোহাগাড়া উপজেলার, পুটুবিলা, চরম্বা, ফাসিয়ালী, চুনুতী, বড় হাতিয়া পাহাড়িয়া এলাকা, সাতকানিয়া উপজেলার বাইতুল ইজ্জত, কেউচিয়া, মাদার্শা, ছদাহা, বাজালিয়া পাহাড়িয়া এলাকা, বাঁশখালি উপজেলার কালিপুর পাহাড়ীয়া এলাকায় ছোট বড় ৪ শাতধিক লেবুর বাগান রয়েছে বলে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর থেকে জানা যায়।

লেবুর প্রতি ভার ১ হাজার থেকে ১২শ টাকায় বিক্র হচ্ছে। লেবুর বাগানের পাশাপাশি আদা, ও অন্যান্য শাক সবজির চাষ একই সাথে হয়ে থাকে তবে চলতি মৌসুমে বৃষ্টিপাত না হওয়ায় অন্যান্য চাষাবাদ তেমন একটা না হলে ও লেবুর কদর কোন আংশে কমেনি। করোনা মহামারি থেকে পরিত্রাণের জন্যে মুসলিম সমাজ প্রতিদিন লেবুর শরবত, অগ্রাধিকার দিচ্ছে।

কৃষকরা এলাকায়  হিমাগার নির্মাণের জন্য সরকারের যথাযথ কতর্ৃপক্ষের সু-দৃষ্টি কামনা করছেন। হিমাগার নির্মিত হলে করোনাভাইরাস প্রতিরোধসহ সস্তা দামে লেবুর চাহিদা পূরণ হবে অভিজ্ঞ মহল জানিয়েছেন।

//মোঃ হামিদুর রহমান, চট্টগ্রাম জেলা প্রতিনিধি //

প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে এদেশের মানুষ দারিদ্রকে জয় করে বিশ্বের দরবারে মাথা উচু করে দাড়িয়েছে: সালাম মূশের্দী

// আ: রাজ্জাক শেখ, খুলনা ব্যুরো//

খুলনা -৪আসনের সংসদ সদস্য আব্দুস সালাম মূশের্দী বলেছেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সরকার যতদিন এদেশের মানুষের দায়িত্বে নিয়োজিত থাকবেন তত দিন পর্যন্ত এদেশের মানুষের জান, মাল,ইজ্জত নিরাপত্তা থাকবে।

প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে এদেশের মানুষ দারিদ্রকে জয় করে বিশ্বের দরবারে মাথা উচু করে দাড়িয়েছে। তিনি আর ও বলেন করোনা ভাইরাস নামক মহামারী থেকে এদেশের মানুষকে নিরাপত্তা দিতে নিজের জিবনকে বাজি রেখে তিনি সার্বক্ষনিক কাজ করে যাচ্ছেন।

একারনে বিশ্বের যেকোন দেশ থেকে বাংলাদেশ অনেক সুরক্ষা রয়েছে। সালাম মূশের্দী সেবা সংঘের আয়োজনে ও সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান মোল্লা ওয়াহিদুজ্জামান মিজান এর ব্যবস্থাপনায় রূপসা উপজেলার ঘাটভোগ ইউনিয়নে অসহায়দের মাঝে ২০ এপ্রিল বিকালে চানপুর সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে ইফতার সামগ্রী বিতরণ করা হয়।

এসময় উপস্থিত ছিলেন জেলা আওয়ামীলীগের সদস্য ও অধ্যক্ষ ফ ম আব্দুস সালাম, উপজেলা আওয়ামীলীগের সহ-সভাপতি সৈয়দ মোরশেদুল আলম বাবু, নজরুল ইসলাম,ভাইস চেয়ারম্যান ফারহানা আফরোজ মনা, এমপির চিফ কো-অডিনেটর ও যুবলীগ নেতা নোমান ওসমানী রিচি, সালাম মুর্শেদী সেবা সংঘের টিম লিডার ও যুবলীগ নেতা সামছুল আলম বাবু, সুব্রত বাগচী, মাধুরী রায়, স্বপ্না পাল, জেসমিন, ফিরোজা বেগম, আজিম আনম, জ্যাকি ইসলাম সজল,খায়রুজ্জামান সজল, শিমুল হোসেন, তরিকুল ইসলাম, রিয়াজ শেখ, শেখ রাসেল প্রমূখ।

ঘাটভোগ ইউনিয়নে ৪০০ পরিবারের মাঝে আটা, চিনি সেমাই, মুড়ি,ছোলা,  খেজুর ইফতার সামগ্রী বিতরণ করা হয়।

কোমরে অক্সিজেন বেঁধে ক‌রোনা আক্রান্ত মাকে বাঁচাতে এক ছেলের ছুটে চলা

 

মহামারী করোনাভাইরাসের এই সময়ে অনেককেই একা একা স্বজন ছাড়া দিন কাটাতে হচ্ছে। হাসপাতালে ভর্তি অনেকেই আছেন তারা দিনের পর দিন স্বজনের দেখা পান না। এই কঠিন সময়ে মা-ছেলের একটি ছবি ব্যাপক হারে ছড়িয়ে পড়েছে। এতে দেখা গেছে, ছেলে শরীরের সঙ্গে গামছা দিয়ে অক্সিজেন সিলিন্ডার বেঁধে রে‌খে‌ছেন। মোটরসাইকেলের পেছ‌নে ক‌রোনায় আক্রান্ত মা ব‌সে আছেন। সেই  স্কুল শিক্ষিকা মা‌কে লকডাউ‌নের সময় মোটরসাইকেলে ক‌রে শ‌নিবার (১৭ এপ্রিল) বি‌কে‌লে শের ই বাংলা মে‌ডি‌কেল ক‌লেজ হাসপাতালে নিয়ে এসে‌ছেন তার ছে‌লে।

লকডাউ‌নে মা-ছে‌লের এমন বিরল দৃশ্য শনিবার বিকেল ৩টার দিকে বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয় মসজিদ গেট সংলগ্ন বরিশাল-পটুয়াখালী মহাসড়কে স্থা‌নীয়রা ধারণ ক‌রে‌ছেন। এমন‌কি সেখানে চেকপোস্টে উপস্থিত থাকা বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশের সদস্যরা মোটরসাইকেল‌টি হাসপাতা‌লে পৌঁছা‌নোর জন্য সাহায্য ক‌রে‌ছে।

ক‌রোনায় আক্রান্ত ওই রোগী হ‌চ্ছেন, রেহেনা পারভীন (৫০)।  তি‌নি ঝালকাঠীর নলছিটি বন্দর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষিকা। তিনি বীর মুক্তিযোদ্ধা মরহুম আবদুল হাকিম মোল্লার স্ত্রী। রে‌হেনা‌কে বহনকারী মোটরসাইকেলের চালক হ‌চ্ছেন তারই ছে‌লে জিয়াউল হাসান টিটু।

জিয়াউল হাসান টিটু জানান, গত বুধবার তার মার করোনা শনাক্ত হলে নলছিটির সূর্যপাশা বাড়িতে বসেই চিকিৎসা নিচ্ছিলেন। শনিবার দুপুরে শ্বাসকষ্ট বেড়ে গেলে লকডাউনের মধ্যেই মায়ের জীবন বাঁচাতে মোটরসাইকেলে টিটু নিজের শরীরে অক্সিজেন সিলিন্ডার বেঁধে অক্সিজেন মাস্ক পরিয়ে হাসপাতে নিয়ে আসেন।

বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশের ট্রাফিক বিভাগের সার্জেন্ট তৌহিদ টুটুল বলেন, লকডাউনে বের হওয়ার কারণ জানতে চেকপোস্টে যথা নিয়মে তাদের থামানোর সংকেত দেওয়া হয়। তবে কাছাকাছি এলে দেখা যায় মোটরসাইকেলচালক তার শরীরের সঙ্গে একটি অক্সিজেন সিলিন্ডার গামছা দিয়ে বেঁধে নিয়েছেন। আর পেছনে তাকে ধরে যে নারী বসে আছেন তার মুখে অক্সিজেন মাস্ক।

সিলিন্ডার থেকে অক্সিজেন মাস্ক দিয়ে ওই নারী যথারীতি অক্সিজেন গ্রহণ করছেন। এভা‌বেই তাকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়।

//নিজস্ব সংবাদদাতা//

খুলনায় করোনাকালে কর্মহীনদের মাঝে খাদ্য সহায়তা কর্মসূচির শুভ উদ্বোধন

 

করোনাভাইরাস সংক্রমণরোধে ঘরে থাকা কর্মহীন মানুষের মাঝে খুলনা জেলা প্রশাসনের আয়োজন শনিবার হতে দ্বিতীয় পর্যায়ে খাদ্যসামগ্রী বিতরণ শুরু হয়েছে। জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে গঠিত ‘বেসরকারি মানবিক সহায়তা সেল’-এর আওতায় আজ দুপুরে খুলনা বিভাগীয় কমিশনার কার্যালয় চত্ত্বরে কর্মহীনদের খাদ্য সহায়তা বিতরণ কর্মসূচির উদ্বোধন করেন খুলনা সিটি কর্পোরেশনের মেয়র তালুকদার আব্দুল খালেক।

উদ্বোধনকালে সিটি মেয়র বলেন, করোনা পরিস্থিতি উত্তরণে সরকার সার্বক্ষণিক তৎপর রয়েছে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দেশে করোনা সংক্রমণের শুরু থেকে ত্রাণ বিতরণে বিরল দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন। তিনি বলেন, করোনাকালে সরকার গরিব ও অসহায় মানুষের পাশে সবসময় আছে এবং থাকবে। কোভিড-১৯ প্রতিরোধে সকলকে সাবধানতা অবলম্বন করে ঘরে থাকতে হবে এবং স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলতে হবে। সিটি মেয়র সরকারের পাশাপাশি এই কর্মসূচিতে বিত্তবানদের এগিয়ে আসার আহবান জানান। মেয়র এধরণের উদ্যোগের জন্য জেলা প্রশাসনকে ধন্যবাদ জানান।

উদ্বোধন অনুষ্ঠানে অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন খুলনার বিভাগীয় কমিশনার মোঃ ইসমাইল হোসেন, অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার সরদার রকিবুল ইসলাম, জেলা পরিষদের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ আছাদুজ্জামান ও খুলনা মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এমডিএ বাবুল রানা। খুলনার জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ হেলাল হোসেন এতে সভাপতিত্ব করেন।

এসময় জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের স্থানীয় সরকার বিভাগের উপপরিচালক মোঃ ইকবাল হোসেন, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মোঃ ইউসুপ আলী, খুলনা বিভাগীয় শ্রম দপ্তরের পরিচালক মোঃ মিজানুর রহমান, খুলনা প্রেসক্লাবের সভাপতি এসএম জাহিদ হোসেন, সাংবাদিক ইউনিয়নের সভাপতি মুন্সি মোঃ মাহবুব আলম সোহাগ, খুলনা মহানগর শ্রমিক লীগের সাধারণ সম্পাদক রণজিৎ কুমার ঘোষ প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

অনুষ্ঠানে সিটি মেয়র তিনশত জন কর্মহীন ইজিবাইক-থ্রি হুইলার শ্রমিক ও দোকান কার্মচারীর প্রতি জনের মাঝে সাত কেজি চাল, এক কেজি আলু, ডাল ৫০০ গ্রাম, তৈল ৫০০ গ্রাম ও সবজিসহ খাদ্যসামগ্রী বিতরণ করেন।

 

  //আ: রাজ্জাক শেখ, খুলনা  ব্যুরো//

ছোটবেলার মিনা পাল হয়ে উঠল মিষ্টি মেয়ে কবরী

 

১৯৫০ সালের ১০ জুলাই চট্টগ্রামের বোয়ালখালীতে জন্ম হয় কবরীর। তার আসল নাম ছিল মিনা পাল।

১৯৬৪ সালে সুভাষ দত্তের সুতরাং ছবির মধ্যে দিয়ে সিনেমায় অভিষেক হয় ১৪ বছরের মেয়ে মিনা পালের, সেসময়ই নতুন নাম হয় কবরী।

সত্তর ও আশির দশকে বাংলাদেশের গ্রাম-গঞ্জের সাধারণ মানুষ থেকে শুরু করে শহুরে মধ্যবিত্ত বা উচ্চবিত্তরাও কবরীকে যতটা নিজেদের মানুষ হিসেবে ভাবতে পেরেছিলেন, ততটা হয়তো বাংলাদেশের সিনেমা জগতে অন্য কোনো অভিনেত্রীর ক্ষেত্রে পারেননি।

আর সেজন্যেই ‘মিষ্টি মেয়ে’ নামে দর্শকদের কাছে জনপ্রিয় ছিলেন তিনি।

কৈশোর আর যৌবনের পাট চুকিয়ে ফেলার পরও ‘মিষ্টি মেয়ে’ হিসেবে কবরীর সেই গ্রহণযোগ্যতা সবসময়ই ছিল। ২০১১ সালেও  এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেছিলেন, এখনও দেখা হলে কেউ কেউ বলে- ‘আপনি ঠিক আগের মতই আছেন।’

কিন্তু কেউ কি কখনো একরকম থাকতে পারে! পারেনা… তখন আমি তাকে বলি, আপনি আমাকে ভীষণ ভালোবাসেন বলেই এরকম মনে হয়।

অভিনেতা হিসেবে মানুষের হৃদয়ের কাছে যেতে পারা, মানুষের ভালোবাসার পাত্র হতে পারাটাই কবরীর সবচেয়ে বড় অর্জন বলে মনে করেন কবরীর সমসাময়িক অভিনয় শিল্পী মাসুদ পারভেজ, যিনি সোহেল রানা হিসেবেই বেশি পরিচিত।

তার মতে, কবরী তার অভিনয় দিয়ে মানুষকে যতটা প্রভাবিত করতে পেরেছেন, তেমনটা আর কেউ পারেননি।

সিনেমার পর্দায় বাংলাদেশি সাধারণ মেয়ে হিসেবে কবরীকে যেভাবে দেখা যেত, বাস্তবের গ্রামীণ নারী বা শহুরে মধ্যবিত্তের ঘরের মেয়ের চরিত্রটা ঠিক সেরকম ছিল।

অভিনয় শিল্পী হিসেবে নিজস্ব স্বকীয়তা ও সহজাত প্রবৃত্তি কবরীকে অন্যদের চেয়ে আলাদা অবস্থান দিয়েছে বলে মনে করেন মাহমুদা চৌধুরী, যিনি চার দশকেরও বেশি সময় জড়িত ছিলেন চলচ্চিত্র সাংবাদিকতার সাথে।

‘মিষ্টি মেয়ে’ ছাড়া তিনি ‘পাশের বাড়ির মেয়ে’ হিসেবেও খ্যাত ছিলেন। কারণ তার চেহারায়, আচরণে, অভিনয়ে সেই বিষয়টা ছিল।

১৯৭৩ সালে ‘রংবাজ’ সিনেমায় দর্শক এক লাস্যময়ী কবরীকে আবিষ্কার করে। সেই চলচ্চিত্রের ‘সে যে কেন এল না, কিছু ভালো লাগে না’ গানটি এখনও বহু দর্শকের বুকে বাজে।

খুব বেশি মেক আপ করতো না, এমনকি চুলটাও একদম সাধারণ একটা মেয়ের মত রাখতো। যার কারণে সাধারণ মানুষের কাছে খুব আপন হয়ে ধরা দিতো।

আন্তর্জাতিক একটি গণমাধ্যমকে দেয়া সাক্ষাৎকারে কবরী বলেছিলেন, ‘সুতরাং’ সিনেমার কিশোরী কবরী দর্শকদের কাছে যে এতটা জনপ্রিয়তা পাবে, সেটা তিনি ভাবতেই পারেননি।

শুরুর দিকে চট্টগ্রাম থেকে ঢাকায় এসে তাকে প্রচুর রিহার্সাল করতে হয়েছিল ‘ভাষা থেকে চাঁটগাইয়া আঞ্চলিক টান’ এবং কথায় ‘নাকি নাকি ভাব’ দূর করতে।

কবরী বলেছেন, তখন চোখ তুলে তাকাতে সাহস পেপেতেন না, খুব লজ্জা পেতেন। সুভাষ দত্তই তাকে শিখিয়েছেন। কিন্তু ‘সুতরাং’এর পর তাকে আর ফিরে তাকাতে হয়নি।

এরপরের দুই দশকে ‘রংবাজ’, ‘নীল আকাশের নীচে’, ‘দ্বীপ নেভে নাই’, ‘তিতাস একটি নদীর নাম’, ‘সুজন সখী’, ‘সারেং বৌ’য়ের মত বহু ব্যবসা সফল এবং আলোচিত সিনেমায় প্রধান নারী চরিত্রে অভিনয় করেন।

বাংলাদেশের সিনেমায় ‘নায়ক রাজ’ হিসেবে পরিচিত রাজ্জাকের সঙ্গে তার জুটি এখন পর্যন্ত নিঃসন্দেহে বাংলাদেশের চলচ্চিত্রে সবচেয়ে জনপ্রিয় এবং আলোচিত জুটি।

বাংলাদেশের সিনেমায় কিংবদন্তী তুল্য এই জুটি দর্শকদের কাছে যতটা গ্রহণযোগ্যতা পেয়েছিল, তার ধারে কাছে গ্রহণযোগ্যতা পায়নি আর কোনো জুটি।

কবরী মনে করতেন, রাজ্জাকের সঙ্গে অভিনয়ের সময় তাদের দু’জনের আবেগের অকৃত্রিমতার কারণেই জুটির রসায়ন মানুষের মনে দাগ কেটেছে।

১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধের পূর্ববর্তী সময়ে বা যুদ্ধ পরবর্তী উত্তাল সময়গুলোতে রাজ্জাক-কবরী জুটি তৎকালীন প্রেক্ষাপটে সমাজের সাধারণ মানুষের চিন্তাধারার প্রতিনিধিত্ব করতো এবং মানুষকে মানসিকভাবে স্বস্তি দিয়েছিল বলে এই জুটি মানুষের মধ্যে ব্যাপক গ্রহণযোগ্যতা পেয়েছে বলে মনে করেন বাংলাদেশের একজন সিনেমা গবেষক অনুপম হায়াৎ।

//দৈনিক বিশ্ব ডেস্ক//

 

৭১ টিভির সহযোগী প্রযোজক রিফাত সুলতানা করোনায় মৃত্যু…

 

প্রায় ১ সপ্তাহ করোনার সঙ্গে লড়াই করে অবশেষে হেরে গেলেন বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেল একাত্তর টিভির অ্যাসোসিয়েট নিউজ প্রডিউসার (সহযোগী প্রযোজক) রিফাত সুলতানা।

আজ শুক্রবার বিকাল ৫টার দিকে রাজধানীর ইমপালস হাসপাতালে মারা যান তিনি। এদিকে, আজ সকালেই সন্তানের মা হয়েছিলেন তিনি। অন্যদিকে, প্রয়াত রিফাতের স্বামী নাজমুল ইসলাম করোনায় আক্রান্ত হওয়ার পর কয়েকদিন ধরে মুগদা হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।

একাত্তর টিভির প্রযোজক মাজহারুল মাসুম গণমাধ্যমকে বলেন, সকালে সুলতানা সন্তান জন্ম দিয়েছেন। আর বিকালে তার মৃত্যুর সংবাদ আমরা পেয়েছি। একই হাসপাতালে চিকিৎসাধীন তার শাশুড়ি। এছাড়া রিফাতের স্বামীও করোনায় আক্রান্ত। আমরা সবাই দ:খ ভারাক্রান্ত।

রিফাতের আরও দুটো সন্তান রয়েছে। তাদের বয়স প্রায় দুই বছর। আজ সকালে ইমপালস হাসপাতালে রিফাতের কন্যা সন্তান জন্ম দেন। সদ্য পৃথিবীতে আসা সন্তানের অবস্থাও খারাপ ছিল। এ কারণে সকালেই তার কন্যা সন্তানকে এভারকেয়ার হাসপাতালে নেয়া হয়। সেখানে শিশুটি বিশেষভাবে চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে।

।।অনলাইন ডেস্ক।।