বাগেরহাটে মানব উন্নয়ন সমিতির সম্পাদক ২.৫কোটি টাকা নিয়ে উধাও

//নিজস্ব প্রতিবেদক//

বাগেরহাট সদর উপজেলার সিঅ্যান্ডবি বাজার এলাকায় সাধারণ গ্রাহকদের আড়াই কোটি টাকা নিয়ে পালিয়েছেন মানব উন্নয়ন সঞ্চয় ও ঋণদান সমবায় সমিতির সাধারণ সম্পাদক বিপ্লব সরকার।

এক সপ্তাহ ধরে বিপ্লবের কোনো খোঁজ পাচ্ছেন না স্থানীয়রা। স্থানীয়দের ধারণা, স্ত্রী ও একমাত্র মেয়েকে নিয়ে ভারত চলে গেছেন বিপ্লব।

এ অবস্থায় সিঅ্যান্ডবি বাজারে থাকা মানব উন্নয়ন সঞ্চয় ও ঋণদান সমবায় সমিতির অফিস, সমিতির অঙ্গপ্রতিষ্ঠান শ্রুতি এন্টারপ্রাইজ ও দারুচিনি শপিং সেন্টারে তালা লাগিয়ে দিয়েছেন ক্ষুব্ধ গ্রাহক ও জনপ্রতিনিধিরা।

এদিকে সাধারণ সম্পাদককে খুঁজে না পেয়ে সমিতির সভাপতি উন্নয়নকর্মী মানিক দাসকে টাকার জন্য চাপ দিচ্ছেন গ্রাহকরা।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, ২০১৫ সালে সিঅ্যান্ডবি বাজার এলাকার মানিক দাস ও বিপ্লব সরকার স্থানীয় কিছু লোকজনকে সঙ্গে নিয়ে মানব উন্নয়ন সঞ্চয় ও ঋণদান সমবায় সমিতি নামের একটি প্রতিষ্ঠান করেন। সিঅ্যান্ডবি বাজারের পরিতোষ দাসের ভবনে অফিস নিয়ে ব্যবসা শুরু করেন তারা। স্থানীয় সহজ-সরল মানুষকে গ্রাহক বানিয়ে দৈনিক, মাসিক ও এককালীন বিনিয়োগ নেওয়া শুরু করে প্রতিষ্ঠানটি।

মানিক দাস বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা রূপান্তরে চাকরিরত থাকায় সমিতির অর্থসহ সব ধরনের দেখভাল করতেন বিপ্লব সরকার। এভাবে বিপ্লব সরকার স্থানীয়দের কাছ থেকে প্রায় আড়াই কোটি টাকা বিনিয়োগ নেন। এর মধ্যে কয়েক লাখ টাকা গ্রাহকদের ঋণ দেওয়া আছে, শ্রুতি এন্টারপ্রাইজ ও দারুচিনি শপিং সেন্টারেও কিছু টাকার মালামাল রয়েছে। তবে দুই প্রতিষ্ঠানের কাছে ওয়ালটনসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান বেশ কিছু টাকা পাবে।

এ অবস্থায় গেল ১৯ এপ্রিল থেকে সমিতির প্রধান নির্বাহী সাধারণ সম্পাদক বিপ্লব সরকার পলাতক। এদিকে  সভাপতি মানিক দাসের কাছ থেকে জোরপূর্বক কয়েকটি চেকে স্বাক্ষর করিয়ে নিয়েছেন স্থানীয় কিছু প্রভাবশালী ব্যক্তি।

ভবন মালিক পরিতোষ দাস বলেন, ‘মানব উন্নয়ন সমবায় সমিতিতে আমার নিজের ১০ লাখ টাকা এবং আমার দুই বন্ধুর আট লাখ টাকা রয়েছে। আমার নয় মাসের ভাড়াও বাকি। এ অবস্থায় যে সমিতি চালাতেন, সমিতির টাকা-পয়সা পরিচালনা করতেন, সেই বিপ্লব সরকার পালিয়ে গেছেন। তাকে কোথাও খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। তার বৃদ্ধ বাবা-মাও ছেলের কোনো খোঁজ দিতে পারেন না। বউ আর একমাত্র মেয়েরও কোনো খোঁজ নেই। আমাদের ধারণা, গ্রাহকদের টাকা-পয়সা নিয়ে তিনি ভারত চলে গেছেন।’

কাজী তারেক নামের এক গ্রাহক বলেন, ‘১ লাখ ৪২ হাজার টাকা ছিল আমার সমিতিতে। অনেক কষ্ট করে টাকা রেখেছিলাম, কিন্তু সব শেষ হয়ে গেল।

জাহিদ হোসেন, সুবর্ণা দাস, বিমল সাহা, মিতা ঘোষ, হাসান আলীসহ কয়েকশ গ্রাহক এখন হায় হায় করছেন।  যে টাকা নিয়েছে, সে তো পালিয়েছে, এখন কে টাকা দেবে’ বলে বারবার বিপ্লবকে গালিগালাজ করছেন আকবর নামের আরেক গ্রাহক।

নিলয় দাস নামের এক ব্যবসায়ী বলেন, ‘প্রতি মাসে ১ লাখ টাকায় ১ হাজার ৪০০ টাকা লাভ দেওয়ার শর্তে সমিতিতে ১৫ লাখ টাকা বিনিয়োগ করেছিলাম। এখন কী হবে জানি না। যেকোনো মূল্যে আমরা টাকা ফেরত চাই।’

সমিতির ম্যানেজার কাম হিসাবরক্ষক পলাতক বিপ্লবের চাচাতো ভাই অনিক সরকার বলেন, ‘গ্রাহকদের প্রায় আড়াই কোটি টাকা রয়েছে আমাদের কাছে। ঋণী গ্রাহকদের কাছে আমাদের কিছু টাকা রয়েছে। সমিতি ভালোই চলছিল, এ অবস্থায় কেনো সাধারণ সম্পাদক পালিয়ে গেল জানি না। আমরা তো খুব বিপদে পড়ে গেলাম।’

সমিতির মাঠ কর্মকর্তা সবুজ দাস বলেন, ‘দৈনিক, সাপ্তাহিক, মাসিক ও এককালীন বিনিয়োগ নিতাম আমরা। সাধারণ সম্পাদক বিপ্লব সরকার যেভাবে বলতেন সেভাবেই আমাদের সমিতি চলত। সভাপতি তেমন আসতেন না। সাধারণ সম্পাদক পালিয়ে যাওয়ার পর এলাকার লোকজন আমাদের প্রতিষ্ঠানে তালা দিয়েছে।’

সমিতির ইলেকট্রনিকস বিভাগের পাইকারি সেকশনের দায়িত্বে থাকা কয়রা এলাকার কার্তিক সরকার বলেন, ‘ওয়ালটনসহ তিন-চারটি কোম্পানির ফ্রিজ, রাইসকুকার, ফ্যানসহ নানা নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য আমরা পাইকারি বিক্রি করতাম। শতাধিক খুচরা ব্যবসায়ীকে আমরা পাইকারি মাল দিতাম। সমিতির সাধারণ সম্পাদক বিপ্লব কুমার সরকার এসব দেখভাল করতেন। কিন্তু ১৯ এপ্রিল থেকে তিনি পলাতক রয়েছেন। যারা সমিতির কাছে টাকা পাবে, তারা স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের নিয়ে এসে আমাদের শোরুমে তালা দিয়ে গেছেন। এখন খুচরা বিক্রেতাদের কাছে আমরা যে ৪৬ লাখ টাকা পাব, তা কীভাবে উঠাব। আবার কোম্পানির লোকজন আমাদের কাছে প্রায় ৩২ লাখ টাকা পাবে౼এই টাকা কোথা থেকে দেব? সভাপতি মানিক দাস তো এসব লেনদেনের বিষয়ে কিছুই জানে না। আমার বেতন বন্ধ দুই মাস। এখন কী করব ভেবে পাচ্ছি না।’

অন্যদিকে সমিতির কর্মকর্তা জাকিয়া সুলতানা ও সঞ্জয় সরকারের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাদের পাওয়া যায়নি।

বিপ্লবের সঙ্গে যোগাযোগের জন্য মুঠোফোনে বারবার চেষ্টা করে না পেয়ে সিঅ্যান্ডবি বাজারের অদূরে বিপ্লবের বাড়িতে গিয়ে কাউকে পাওয়া যায়নি। তালাবদ্ধ ঘরে বিপ্লবের বাবা-মাও নেই। সপ্তাহখানেক আগে কোথায় যেন চলে গেছেন বলে জানান বিপ্লবের প্রতিবেশীরা।

সমিতির সভাপতি মানিক দাস বলেন, ‘আমি একটি বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থায় চাকরি করতাম। যার কারণে সমিতির কোনো বিষয় আমি দেখভাল করতাম না। বিভিন্ন সময় কোনো কাগজপত্রে আমি স্বাক্ষর করতাম মাত্র। সব টাকা-পয়সা ও ম্যানেজমেন্ট দেখাশোনা করত বিপ্লব সরকার। গ্রাহকদের কোনো টাকা আমি নিইনি, কোনো গ্রাহক আমার কাছে টাকাও দেয়নি। মূলত বিপ্লব সরকার গ্রাহকদের কাছ থেকে টাকা নিয়ে পালিয়েছে। সুষ্ঠু তদন্ত করে দেখলে বুঝতে পারবেন, এই টাকা তছরুপের ঘটনায় আমার কোনো সংশ্লিষ্টতা নেই। বিপ্লবই সব টাকা নিয়ে পালিয়েছে।’ বিপ্লবকে ফিরিয়ে এনে গ্রাহকদের টাকা ফেরত দিতে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেন তিনি।

বাগেরহাট জেলা সমবায় কর্মকর্তা এসএম আনিছুর রহমান বলেন, ‘আমরা বিষয়টি ভালো করে খোঁজখবর নেব।’ এ বিষয়ে তদন্ত কমিটি গঠন করা হবে। তদন্তের পর আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে জানান তিনি।

বাগেরহাট সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মাদ মুছাব্বেরুল ইসলাম বলেন, ‘বিষয়টি নিয়ে আমি উপজেলা সমবায় কর্মকর্তার সঙ্গে কথা বলেছি। যারা টাকা লোপাট করেছে, তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। সেই সঙ্গে যেসব গ্রাহক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন, তারা যাতে টাকা পেতে পারেন, সে অনুযায়ী আমরা পদক্ষেপ গ্রহণ করব।’

English Dainikbiswa

ইফতার মাহফিলে হট্টগোল, চট্টগ্রাম শিক্ষাবোর্ডের দুই কর্মকর্তা সাময়িক বহিষ্কার

খেজুর ঘোষণায় সিগারেট আমদানী : সাত কোটি টাকার রাজস্ব ফাঁকির অপচেষ্টা

//আবুল হাসেম, চট্টগ্রাম প্রতিনিধি//

খেজুর আমদানীর ঘোষণা দিয়ে বিদেশী সিগারেট আমাদানী করে কোটি টাকার রাজস্ব ফাকির অপচেষ্টা উৎঘাটন করেছে চট্টগ্রাম কাস্টম হাউজ। খেজুর আমদানীর ঘোষণায় চট্টগ্রাম বন্দরে আসা একটি ৪০ ফুটের কনটেইনারে ৫৫ লাখ ৫২ হাজার শলাকা বিদেশি সিগারেট পাওয়া গেছে। যার আনুমানিক মূল্য ১ কোটি ১৯ লাখ টাকা। এ চালানে শুল্ক ফাঁকির চেষ্টা হয়েছে ৭ কোটি ১১ লাখ টাকা।

চট্টগ্রামের কোতোয়ালী থানাধীন জুবলি রোডের সূচনা ইন্টারন্যাশনালের নামে চালানটি আসে। চালানটির এলসি ইস্যু করা হয় গ্লোবাল ইসলামি ব্যাংক লিমিটেডের খাতুনগঞ্জ শাখায়। সংযুক্ত আরব আমিরাতের জেবেল আলি বন্দর থেকে গত ২৭ ডিসেম্বর চালানটি জাহাজীকরণ হয়, ৩০ ডিসেম্বর জাহাজটি চট্টগ্রাম বন্দরে পৌঁছায়। চট্টগ্রাম কাস্টম হাউসের ডেপুটি কমিশনার (এআইআর) মো. শরফুদ্দিন মিঞা বিষয়টি নিশ্চিত করেন।

তিনি জানান, আমদানির দীর্ঘদিন পরও কাস্টম হাউসে বিল অব এন্ট্রি দাখিল না করায় কায়িক পরীক্ষার লক্ষ্যে রোববার কনটেইনারটি ফোর্স কিপডাউনের জন্য ইস্পাহানি সামিট অ্যালায়েন্স টার্মিনালস লিমিটেডকে চিঠি দেওয়া হয়। এ দিন ডিপোর ভিতরে কনটেইনারটি খুলে কাস্টম হাউসের অডিট, ইনভেস্টিগেশন অ্যান্ড রিসার্চ (এআইআর) টিম চালানটি পরীক্ষা করে। কনটেইনারের ২ হাজার ৭৭২টি কার্টুনের মধ্যে ১ হাজার ৯৮৩টি কার্টনে উপরে খেজুর ভেতরে মন্ড ব্রান্ডের সিগারেট পাওয়া যায়। ৭৮৯টি কার্টনে ছিল শুধু খেজুর। যার ওজর ১১ হাজার ৮৫৬ কেজি। সিগারেট পাওয়া যায় ৫৫ লাখ ৫২ হাজার ৪০০ শলাকা, যার আনুমানিক মূল্য ১ কোটি ১৯ লাখ টাকা। যার মাধ্যমে শুল্ক ফাঁকির চেষ্টা হয়েছে ৭ কোটি ১১ লাখ টাকা। কাস্টম হাউসের কমিশনারের নির্দেশে এ ঘটনায় দোষী ব্যক্তিদের চিহ্নিত করে শাস্তির ব্যবস্থা নিশ্চিতের কার্যক্রম চলমান আছে বলে জানান এ কর্মকর্তা।

English Dainikbiswa

মামলার ২৪ বছর পর রায়: সাজা যাবজ্জীবন, আসামি পলাতক

চন্দনাইশে ৭ হাজার পিস ইয়াবাসহ মা, ছেলে আটক

বরগুনার তালতলীতে টেন্ডার ছাড়াই পুরাতন ভবন বিক্রি করে টাকা আত্মসাৎ

//সাইফুল্লাহ নাসির, বরগুন প্রতিনিধি//

উপজেলা নির্বাহী অফিসারের অনুমোদন ও টেন্ডার না দিয়েই বরগুনার তালতলী উপজেলার দক্ষিন ঝাড়াখালী ছালেহিয়া দাখিল মাদ্রাসার একটি পুরাতন পরিত্যক্ত ভবন বিক্রির অভিযোগ পাওয়া গেছে। মাদ্রাসার ভারপ্রাপ্ত সুপার মাওলানা আব্দুল জব্বার ও সভাপতি মাওলানা আব্দুল মতিনের বিরুদ্ধে।

মাদ্রাসার ইবতেদায়ী কারী নুরুল আমিন তালতলী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বরাবর এসব অনিয়ম ও দুর্নীতির ব্যাপারে লিখিত অভিযোগ করেন। আবেদনের প্রেক্ষিতে উপজেলা তথ্য কর্মকর্তা সঙ্গীতা রাণীর কাছে তদন্তভার অর্পণ করেন তিনি।

অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার দক্ষিণঝাড়াখালী সালেহিয়া মাদ্রাসায় একটি সরকারী নতুন ভবন বরাদ্ধ পায়। পুরাতন ভবনটি উপজেলা নিবার্হী অফিসারের অনুমতি ও টেন্ডার না ছাড়াই মাদ্রাসার সভাপতি ও ভারপ্রাপ্ত সুপার নিয়মনীতির তোয়াক্কা না করেই নিজেরা গোপনে ভেঙে বিক্রি করে।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, পূর্বের ভবনটি ৮৫ ফুট দৈর্ঘ্য, ১৮ ফুট প্রস্থ্য, টিনশেড একতলা বিল্ডিংটি ভেংগে বিক্রি করা হয়েছে। বিল্ডিং ভাংগা বা বিক্রির বিষয়টি উপজেলা শিক্ষা অফিসার, উপজেলা নির্বাহী অফিসারকে জানাননি।

মাদ্রাসার শিক্ষক কারী নুরুল আমিন বলেন, টেন্ডার ছাড়া অধিকাংশ শিক্ষকদের না জানিয়ে তাদের পছন্দের কিছু শিক্ষক নিয়ে করোনাকালীন বন্ধের সময় মাদ্রাসার সাবেক সুপার ও বর্তমান সভাপতি বিল্ডিং টি ভেংগে বিক্রি করে মোটা অংকের টাকা আত্মসাৎ করেছে।

মাদ্রাসা সংলগ্ন বাড়ির মোঃ মোস্তফা ও মোঃ মোর্তজা বলেন, মাদ্রসা সভাপতি আঃ মতিন বিল্ডিটা ভেঙ্গে প্রায় ৩০ হাজার ইট, টিন, কাঠ ও দরজা-জানালা বিক্রি করে দিয়েছে।

এ বিষয়ে মাদ্রাসার ভারপ্রাপ্ত সুপার আব্দুল জব্বার বলেন, মাদ্রাসায় মিটিং রেজিলেশন করে এ বিল্ডিং ভাংগা হয়। ইটগুলো মাদ্রসার মসজিদে দেয়া হয়েছে। আমি ভুল বশতঃ উপজেলা নির্বাহী ও শিক্ষা অফিসারের কাছে যানাইনি।

মাদ্রাসার সভাপতি এসব বিষয় অস্বীকার করে বলেন, কমিটির মাধ্যমে রেজুলেশন করে ভবনটি ভেঙে ফেলা হয়েছে।

উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা লুৎফুল কবির মোঃ কামরুল হাসান বলেন, টেন্ডার ছাড়া মালামাল বিক্রি করার নিয়ম নেই।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ কাওসছার হোসেন বলেন, একটি লিখিত অভিযোগ পেয়েছি, তথ্য কর্মকর্তাকে তদন্তভার দেয়া হয়েছে, অভিযোগের সত্যতা পেলে দোষীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে।

English Dainikbiswa

আমতলীতে ইটভাটায় করাতকল: হুমকির মুখে পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্

আস্থা ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন করতে চাই: সিইসি

হাজার কোটি টাকার সম্পদ প্রাথমিক শিক্ষিার; কেঁচো খুরতে সাপ!

//অনলাইন নিউজ ডেস্ক//

কুষ্টিয়ায় প্রাথমিক বিদ্যালয়ের একজন সহকারী শিক্ষিকার শত কোটি টাকার সম্পদের উৎসের সন্ধানে নেমে হাজার কোটি টাকার অবৈধ সম্পদের সন্ধান পেয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। এতে দুদকের সম্প্রসারিত তদন্তের জালে আটকে গেছেন ওই স্কুল শিক্ষিকার স্বামী কুষ্টিয়া সদর উপজেলার চেয়ারম্যান আতাউর রহমান আতা।

দুদক সদর দপ্তর থেকে পাঠানো নির্দেশনায় এখন আর কেবলমাত্র ৪ নং পৌর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষিকা শাম্মী আরা পারভীনের জ্ঞাত আয়বহির্ভুত সম্পদই নয়, সেইসাথে সমন্বিত তদন্ত প্রক্রিয়ায় তার স্বামীর অবৈধ সম্পদের হদিস উদঘাটনে নেমেছে দুদক।

সেই লক্ষ্যে সমন্বিত দুর্নীতি দমন কমিশন কুষ্টিয়া কার্যালয়ের উপ-পরিচালক জাকারিয়া স্বাক্ষরিত একটি ইনকোয়ারি পত্র সরকারের সবগুলো দপ্তরে পাঠিয়ে ১৩ এপ্রিলের মধ্যে সকল তথ্য দিতে অনুরোধ করেছিলেন।

দুদক কুষ্টিয়া কার্যালয়ের সূত্রে নিশ্চিত করেছে, সবগুলো তথ্যই নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সরকারি ওইসব দপ্তরগুলো থেকে পাঠানো হয়েছে। এখন সেগুলো যাচাই-বাছাই শেষে সঠিক তথ্যের মানদণ্ড ধরে মামলা চূড়ান্ত করার প্রক্রিয়া সম্পন্ন হবে বলে দুদকের ওই সূত্র নিশ্চিত করেছে।

তবে অভিযোগ নাকচ করেছেন ওই শিক্ষিকা শাম্মী আরা পারভীন এবং তার স্বামী আতাউর রহমান আতা। তারা বলছেন, একটি প্রতিপক্ষ রাজনৈতিক গ্রুপ হীন স্বার্থ চরিতার্থ করতেই পরিকল্পিতভাবে এসব অভিযোগ দাঁড় করিয়েছে। জ্ঞাত আয়বহির্ভুত বা অপ্রদর্শিত কোন সম্পদ তার নেই। দুদক মামলা করলে তারা তা মোকাবিলা করবেন বলে জানান।

দুদক সূত্রে জানা যায়, গত বছরের মধ্যবর্তী সময়ে ঢাকাস্থ দুদক সদর দপ্তরে প্রাপ্ত একটি অভিযোগের ভিত্তিতে দুদক জানতে পারে, কুষ্টিয়া শহরের একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষিকা মিসেস শাম্মী আরা পারভীনের বিভিন্ন ব্যাংকে চলমান নানা ধরনের সঞ্চয়ী স্কীম হিসাবে প্রায় অর্ধশত কোটি নগদ টাকা ছাড়াও উচ্চমূল্যের জায়গা-জমি, ভবন, মার্কেটসহ স্থাবর অস্থাবর সকল সম্পত্তির একত্রে আনুমানিক মূল্যমান শতকোটি টাকা ছাড়িয়ে গেছে। একজন স্কুল শিক্ষিকার ব্যাংক হিসাবে একসঙ্গে জমাকৃত এতো টাকার উৎসের সন্ধান শুরু করে দুদক। এ সময় শাম্মী আরা পারভিনের অধিকাংশ ব্যাংক হিসাবের ট্রানজেকশনের সূত্র সন্ধানে কুষ্টিয়া সদর উপজেলার চেয়ারম্যান আতাউর রহমান আতার নাম উঠে আসে। সঙ্গত কারণেই এটি হয়ে ওঠে দুদক তদন্তের টার্নিং পয়েন্ট। যে কারণে গত বছরের মধ্যবর্তী সময়ে শুধুমাত্র শাম্মী আরা পারভিনের মামলাটি ছাড়াও মুখ্য হয়ে ওঠে তার স্বামী আতাউর রহমান আতার সম্পদের অনুসন্ধান। তাই ট্যাগিং সিস্টেমে স্বামী স্ত্রী দুজনের মামলা একত্রেই প্রক্রিয়াধীণ।

কুষ্টিয়া সদর উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা শহিদুর রহমান জানান, ২০১৯ সালের এপ্রিলে বিনা প্রতিদ্বন্দিতায় নির্বাচিত কুষ্টিয়া সদর উপজেলার চেয়ারম্যান আতাউর রহমান আতা তার প্রার্থীতাপত্রের সাথে সংযুক্ত অঙ্গীকারনামায় স্ত্রী ও নিজ নামীয়/স্বত্ত্বাধীন স্থাবর অস্থাবর-সম্পত্তির বিবরণে যথাক্রমে ১৫ লক্ষ ও ৪ লক্ষ ৮৮ হাজার টাকার ব্যাংক হিসাব এবং সম্পদের উল্লেখসহ সরকারি কোনো লাভজনক উন্নয়ন প্রকল্পের ঠিকাদার নন বলে অঙ্গীকার করেন।

দুদকের নোটিশ সূত্রে আরও জানা যায়, চেয়ারম্যান আতাউর রহমান আতা ও তার স্ত্রী শাম্মি আরা পারভীনকে চলতি মাসের ১৩ তারিখের মধ্যে দুদকের নির্দিষ্ট ছকে সব সম্পত্তি হিসেব দাখিল করতে বলা হয়েছিল।

সমন্বিত জেলা দুর্নীতি দমন কমিশন দুদক কুষ্টিয়া জেলা কার্যালয়ের উপ-পরিচালক মো. জাকারিয়া জানান, আতাউর রহমান আতার বিরুদ্ধে নানা অভিযোগ রয়েছে। চাঁদাবাজি, টেন্ডারবাজি, সরকারি রাজস্ব ফাঁকি দিয়ে বালুমহাল ব্যবসা, হাট-বাজার ইজারা, নিয়োগ বাণিজ্যসহ নানা খাত থেকে অর্জিত অবৈধ সম্পদের হিসাবে এক হাজার কোটি টাকার দুর্নীতির অভিযোগ আনা হয়েছে তার বিরুদ্ধে। একইভাবে একজন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষিকা শাম্মী আরা পারভীন তার স্বামীর রাজনৈতিক প্রভাবকে কাজে লাগিয়ে অবৈধ পন্থায় অর্জিত শত কোটির টাকার সম্পদ রয়েছে বলে অভিযোগ আছে। এসব অভিযোগের সত্যতা যাচায়ে তথ্য জানাতে বিভিন্ন সরকারি দপ্তরে গত ৩০ মার্চ পত্র পাঠানো হয়েছ।

ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন কুষ্টিয়া জেলা পরিষদের প্রধান নির্বাহী মুন্সি মো. মনিরুজ্জামান, স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী জাহিদুর রহমান মন্ডল, সড়ক ও জনপথ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী শাকিরুল ইসলাম, গণপূর্ত বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী জাহিদুল ইসলাম, শিক্ষা প্রকৌশল বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. ইসতিয়াক ইকবাল হিমেলসহ দুদকের পত্রপ্রাপ্ত দপ্তরগুলো।

এসব দপ্তর সূত্রে জানা যায়, দুদক প্রেরিত ওই পত্রে কেবলমাত্র মেসার্স আতাউর রহমান নামক ফার্মের স্বত্ত্বাধিকার আতাউর রহমানের সব তথ্য পাওয়া সম্ভব নয়। কারণ আতাউর রহমান আতা নিজ নামীয় ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ছাড়াও অন্তত আরও অর্ধডজন অন্যান্য নামের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের নামে উন্নয়ন প্রকল্পের কার্যাদেশপ্রাপ্ত হন।

কুষ্টিয়া জেলা প্রশাসনের রাজস্ব বিভাগের একটি বিশ্বস্ত সূত্রে জানা যায়, ২০১৯-২০২০ অর্থবছর পর্যন্ত সময়কালে এক ভুয়া মামলাবাজের খপ্পরে আটকে কেবলমাত্র জেলার ২১টি বালুমহাল থেকে সরকারের রাজস্ব ফাঁকি দিয়ে আয় করেছেন প্রায় সাড়ে ৬শ’ কোটি টাকা। যা বিভিন্ন গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশিত হয়।

স্থানীয় আওয়ামী লীগসহ বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে, ভেড়ামাড়া উপজেলার ষোল দাগ গ্রামের বাড়ি থেকে ২০১২ সালে কুষ্টিয়া শহরের মজমপুরের একটি ভাড়া বাড়িতে ওঠেন আতাউর রহমান। এরপর পৌর আওয়ামী লীগের লীগের সাধারণ সম্পাদক মোমিনুর রহমান মোমিজ এক ঘটনায় দল থেকে বহিষ্কার হলে আতাউর রহমান ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক হন। পরে কাউন্সিলের মাধ্যমে ভারমুক্ত হন তিনি। সর্বশেষ ২০১৯ সালে উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে দলীয় মনোনয়নপ্রাপ্ত হন এবং বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় চেয়ারম্যান হন। এরপর আর তাকে পেছন ফিরে তাকাতে হয়নি।

অভিযোগ আছে, মাধ্যমিক উত্তীর্ণ এই নেতা ম্যানেজিং কমিটিতে ননা জটিলতা সৃষ্টি করে স্কুল, কলেজ ও মাদ্রাসাসহ সকল শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিয়োগ ছাড়াও সরকারি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে নিয়োগ বাণিজ্য করে শতকোটি টাকা হাতিয়েছেন। এছাড়া কুষ্টিয়া মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল নির্মাণে পুকুরচুরি জেলাজুড়ে আলোচিত বিষয়। সূত্র: বিডিজা

English Dainikbiswa

৬১ টি জেলা পরিষদ বিলুপ্ত ঘোষণা করেছে সরকার

রপ্তানি চালানের আড়ালে প্রণোদনা হাতিয়ে নেয়ার অপচেষ্টা

//আবুল হাসেম, চট্টগ্রাম //

রপ্তানি চালানের আড়ালে প্রণোদনা হাতিয়ে নেয়ার অপচেষ্টা উম্মোচন করেছে চট্টগ্রাম কাস্টমস।এ চালানে অবৈধভাবে ৩ কোটি ৮১ লক্ষ টাকা দেশে এনে সরকারের কাছ থেকে ৮০ লাখ টাকার প্রণোদনা আদায়ের চেষ্টা করা হয়।

চট্টগ্রাম কাস্টমসের ডেপুটি কমিশনার মো: আহসার উল্লাহ জানান, নারায়নগঞ্জের ফতুল্লাস্থ সাগর জুট ডাইভারসিফাইড ইন্ডাস্ট্রিজের পাঁচটি বিল অব এক্সর্পোর্টের রপ্তানি চালানে এ ধরনের অনিয়ম ধরা পড়েছে। এ চালান সমুহের সিএন্ডএফ এজন্টে চট্টগ্রামের আজিজুল হক এন্ড কোং। আল আরাফা ইসলামী ব্যাংকের মাধ্যমে চালানের এলসি খোলা হয়।উক্ত চালানে ১২ হাজার ২১৫ কেজিতে ৮২ হাজার পিস পন্য রপ্তানির ঘোষণা প্রদান করা হয়। কিন্ত কায়িক পরীক্ষায় ১ হাজার ৫৭ কেজি পন্য পাওয়া যায়। পাওয়া পন্যের বাজার মূল্য হিসাব করলে এ চালানে ৩ কোটি ৮১ লক্ষ ৮৪ হাজার ৮৫৯ টাকা অবৈধভাবে দেশে এনে সরকার থেকে প্রায় ৮০ লাখ টাকার প্রণোদনা হাতিয়ে নেয়ার অপচেষ্টা করা হয়। এ ঘটনায় প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে বলে জানা গেছে।

 

বরিশাল সদর হাসপাতালে ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযানে ৪ দালাল আটক

//পলাশ চন্দ্র দাসঃ বরিশাল//

বরিশাল নগরীতে রমজানে সরকারি হাসপাতালে দরিদ্র রোগীদের চিকিৎসা সেবা নিশ্চিত করতে  ডায়াগনস্টিক ল্যাবএর  ষ্টাফসহ ৩ নারী রোগীর দালাল সদস্য আটক করেছে ভ্রাম্যমাণ আদালত। রোববার (৩ এপ্রিল) দুপুরে বরিশাল জেনারেল সদর হাসপাতালে অভিযান চালিয়ে তাদের আটক করা হয়। আটককৃতরা হলেন, শর্শী, শিল্পি, সেজমিন ও লাইফ লাইন ডায়াগনিস্টিক এর রিসিপশনিষ্ট আল-আমিন।

অভিযান পরিচালনাকারী নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট লাকি দাস জানান, বরিশাল সহ আশে পাশের জেলা উপজেলা থেকে আসা অসহায় গরিব রোগীদের চিকিৎসা নিশ্চিত করতে জেলা প্রশাসক জসীম উদ্দীন হায়দারের নির্দেশনায় রোগীর দালালদের দমনে মাঠে নেমেছে প্রশাসন। এরই ধারাবাহিকতায় রোববার বরিশাল সদর হাসপাতালে অভিযান চালায় ভ্রাম্যমান আদালত। এসময় ৪ দালালকে আটক করা হয়। পরে তাদেরকে বিভিন্ন মেয়াদে সাজা দিয়ে জেলে পাঠানো হয়েছে।

১ কোটি ২০ লাখ টাকার দুর্নীতি ধরা পড়ল যশোর শিক্ষাবোর্ডে

//অনলাইন নিউজ//

যশোর মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষাবোর্ডে বাজারমূল্যের চেয়ে অতিরিক্ত টাকা ব্যয়ে কম্পিউটার ও বিভিন্ন যন্ত্রাংশ কিনে সরকারের আর্থিক ক্ষতি করার অভিযোগে মামলা করেছে দুদক। বোর্ডের সাবেক চেয়ারম্যান মোল্লা আমির হোসেনসহ ১০ জনের নামে এই মামলা দায়ের করা হয়েছে।

মঙ্গলবার দুদকের সমিন্বত জেলা কার্যালয় যশোরে মামলাটি দায়ের করেন সংস্থাটির সহকারী পরিচালক মো. মাহফুজ ইকবাল। দুদকের জনসংযোগ কর্মকর্তা আরিফ সাদিক গণমাধ্যমকে বিষয়টি বিষয়টি নিশ্চিত করেন।

মামলার আসামিরা হলেন, সাবেক সচিব ও যশোর শিক্ষাবোর্ডের সাবেক চেয়ারম্যান ড. মোল্লা আমির হোসেন, সহকারী সচিব (কমন-সার্ভিস) মো. জাহাঙ্গীর আলম, নিরাপত্তা অফিসার মো. মনির হোসেন, উপসহকারী প্রকৌশলী মো. কামাল হোসেন, ক্রীড়া অফিসার আ ফ ম আসাফুদৌলা, অডিট অফিসার মো. আব্দুস সালাম, হিসাব অফিসার মো. মিজানুর রহমান, সহকারী সচিব (কমন সার্ভিস) আশরাফুল ইসলাম, সিস্টেম এনালিস্ট শরিফ সালমা কোহিনুর এবং হিসাব অফিসার মোছা. জাহানারা খাতুন।

মামলার এজাহারে বলা হয়, আসামিরা কম্পিউটার যন্ত্রাংশ ও প্রিন্টার ক্রয় বাবদ বাজারমূল্যের অতিরিক্ত এক কোটি ২০ লাখ ১৪ টাকা ব্যয় করে সরকারের আর্থিক ক্ষতিসাধন করার মাধ্যমে অপরাধ করেন।

ঘটনার বিবরণ থেকে জানা যায়, যশোর মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ড ২০১৬-১৭, ২০১৭-১৮ ও ২০১৮-১৯ অর্থবছরে কম্পিউটার, কম্পিউটার যন্ত্রাংশ ও প্রিন্টার ক্রয় বাবদ মোট ব্যয় করেছে ৩ কোটি ১৬ লাখ ২৮ হাজার ৩৫৬ টাকা।

দুদকের অনুসন্ধান থেকে জানা যায়, ওই কেনাকাটায় বাজারমূল্য যাচাই করে যশোরের গণপূর্ত বিভাগের নিরপেক্ষ প্রকৌশলী বোর্ড কর্তৃক কেনা ওই পণ্যের প্রকৃত বাজারামূল্য নির্ধারণ করা হয় ১ কোটি ৯৬ লাখ ২৮ হাজার ৩৪২ টাকা। অর্থাৎ এই কেনা-কাটায় অতিরিক্ত ১ কোটি ২০ লাখ ১৪ টাকা ব্যয় করা হয়েছে।

সরকারি বিধিবিধান লঙ্ঘন করে ক্ষমতার অপব্যবহারের মাধ্যমে উল্লিখিত তিনটি অর্থবছরে অতিরিক্তি এক কোটি ২০ লাখ ১৪ টাকা ব্যয় করে সরকারে অর্থ-আত্মসাতের অভিযোগে তাদের নামে মামলা করেছে সংস্থাটি। সূত্র: বিডি জার্নাল

English Dainikbiswa

বাঁশখালীর চাম্ব‌লে বঙ্গবন্ধু জা‌মে মস‌জি‌দ নির্মান কা‌জের উ‌দ্বোধন

খুলনার ডুমুরিয়ায় সেচ্ছাসেবক লীগের প্রতিনিধি সভা অনুষ্ঠিত

চট্টগ্রামে রফতানি চালানের মাধ্যমে ২২ লাখ টাকা পাচারের অপচেষ্টা

//আবুল হাসেম, চট্টগ্রাম//

রফতানি চালানের মাধ্যমে ২২ লাখ টাকা পাচারের অপচেষ্টা করা হলেও চট্টগ্রাম কাস্টম হাউজের তৎপরতার কারনে সফল হতে পারে নি সংশ্লিষ্ট রফতানিকারক প্রতিষ্ঠান ২২ মার্চ চট্টগ্রাম কাস্টমস কর্তৃপক্ষ টাকা পাচারের এই অপচেষ্টা উৎঘাটন করতে সক্ষম হন।
চট্টগ্রাম কাস্টম হাউজের ডেপুটি কমিশনার মো: আহসান উল্লাহ জানান, ঢাকার গুলশান এভিনিউস্থ আর এম স্টোরের ইনফিনিটি সার্ভিস সলিউশন নামের একটি প্রতিষ্টানের চালান ( বিল অব এক্সপোর্ট নম্বর সি- ৪৮২৩৯৭) সংযুক্ত আরব আমিরাতে রফতানির উদ্দেশ্যে এছাক ব্রাদাস ইন্ডস্ট্রিজ লিমিটেড নামের একটি বেসরকারী কনটেইনার ডিপোতে আনা হয়। চালানের সি এন্ড এফ এজেন্ট চট্টগ্রামের আগ্রাবাদস্থ ডায়নামিক ইন্টারন্যাশনাল লিমিটেড।

বিল অব এক্সপোর্টের বিপরীতে রফতানিকারক প্রতিষ্টান শাহজালাল ইসলামী ব্যাংকের মাধ্যমে এলসি খুলেছেন। রফতানিকারক ঘোষিত ৩৮ হাজার ৩১১ পিস পন্যের বিপরীতে ২১ হাজার, ৯৭২ পিচের বিপরীতে ২১ হাজার,  ৯৭২ দশমিক ৭৫ ডলার (প্রতিপিসের ঘোষিত মূল্য .৫৭ ডলার) বা ১৮ লাখ ৯০ হাজার ৭৫০ টাকা প্রাপ্তি হতো কিন্ত কায়িক পরিশ্রমে ৮৩ হাজার ৩৫১ পিস পন্য পাওয়া গেছে। অতিরিক্ত ৪৫ হাজার ৪০ পিস পন্য পাওয়া যায়। সঠিক ঘোষণা থাকলে বাংলাদেশী মুদ্রায় ৪০ লাখ৮৮ হাজার ২৪১ টাকা প্রাপ্ত হতো। রফতানিকারক এ চালানের মাধ্যমে ২১ লাখ ৯৭ হাজার ৪৮৬ টাকা পাচারের অপচেষ্টা করেছেন।

এ ঘটনায় দায়ীদের বিরোদ্ধে কাস্টমস এক্ট ১৯৬৯ এবং প্রচলিত আইন ও বিধি মতে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহনের প্রক্রিয়া চলছে বলে বলে জানানো হয়েছে। উল্লেখ্য রফতানি কারক প্রতিষ্ঠানটি ২০২০ সালের ১ জুলাই থেকে এ পর্যন্ত ৫ টি চালান রফতানি করেছে।

পড়ুণ দৈনিক বিশ্ব

English Dainikbiswa

নকল জেলেনস্কির ভিডিওতে কি বলা হয়েছিল…?

//আন্তর্জাতিক নিউজ ডেস্ক//

ইউক্রেন প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কির এক ভিডিও ফুটেজ ভাইরাল হয়েছে। সেখানে তাকে ইউক্রেনের সেনাদের অস্ত্র ফেলে দেওয়ার আহ্বান জানাতে দেখা যায়। মুহূর্তেই ভিডিও ফুটেজটি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোয় ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ে।

তবে পরে অবশ্য জানা যায় ওই ব্যক্তি জেলেনস্কি নন। এবং ভিডিওটি ও নকল।

এ বিষয়ে বিবিসির এক প্রতিবেদনে বলা হচ্ছে, জেলেনস্কির মতো দেখতে একজন কথা বলছেন। ভিডিও ফুটেজের সঙ্গে মিল রেখে ঠোঁটও নড়ছিলো তার। তবে ভিডিওতে যাকে দেখা যাচ্ছিল তার শরীরের সঙ্গে মাথার সামঞ্জস্য ছিলো না। আর ভিডিওতে বলা কথার সঙ্গে জেলেনস্কির কণ্ঠস্বরের কোনো মিলও পাওয়া যাচ্ছিল না।

ইউক্রেনের টিভি চ্যানেল ইউক্রেনিয়া ২৪-এর ওয়েবসাইটে নকল ওই ভিডিও থেকে নেয়া একটি ছবি প্রকাশিত হয়েছিলো। এ ছাড়া ভিডিওতে দেয়া বার্তা টিভিতেও সম্প্রচার করা হয়। তবে পরে ইউক্রেনিয়া ২৪ একটি বিবৃতি দিয়ে জানায়, হ্যাক করার মাধ্যমে টেলিভিশনের নিচে বার্তা সম্প্রচার ও ওয়েবসাইটে ছবিটি প্রকাশ করা হয়েছিলো।

এ নিয়ে পরে অবশ্য ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট জেলেনস্কি নিজে তার ইনস্টাগ্রামে একটি বার্তা দিয়ে জানান, তার নামে প্রচারিত ওই ভিডিও ফুটেজ ভুয়া। ভিডিওতে যাকে কথা বলতে দেখা যাচ্ছিল সেটা আসলে তিনি নন।

জেলেনস্কি আরও বলেন, ইউক্রেনীয় সেনাদের নয় তিনি শুধু রাশিয়ার সেনাদের অস্ত্র ফেলে ঘরে ফেরার আহ্বান জানাতে পারেন।

বিবিসি বলছে, জেলেনস্কির নামে প্রচারিত ওই ভিডিও ফুটেজ ভুয়া। মূলত প্রযুক্তির অপব্যবহারের মাধ্যমে কোনো একজনের ছবিতে জেলেনস্কির মাথা লাগিয়েই এই ভিডিওটি তৈরি করা হয়েছে। এটাকে বলা হয় ‘ডিপফেক’। ইউক্রেনে যুদ্ধ শুরুর পর থেকে দেশটির প্রেসিডেন্টকে নকল করে তৈরি এই ভিডিও ফুটেজই প্রথম ‘ডিপফেক’।

পড়ুণ দৈনিক বিশ্ব

English Dainikbiswa

বাস-মাইক্রোবাসের দুর্ধর্ষ সংঘর্ষে নরসিংদীতে নিহত ৩ জন

বরগুনার আমতলীতে জাল স্বাক্ষরে শিক্ষক নিয়োগ, অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে মামলা

//সাইফুল্লাহ নাসির,আমতলী, বরগুনা প্রতিনিধি//

বরগুনার আমতলীতে সভাপতির সাক্ষর জাল করে শিক্ষক নিয়োগ দেয়ার অভিযোগে অভিযুক্ত প্রধান শিক্ষকসহ নিয়োগকৃত কম্পিউটার শিক্ষকের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেছে মধ্যচন্দ্রা নিম্ন মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের তৎকালীন ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি মোঃ নজরুল ইসলাম মাতুব্বর।

মামলার আসামীরা যথাক্রমে অভিযুক্ত প্রধান শিক্ষক মোঃ সুলতান বিশ্বাস (৫০) এবং নিয়োগকৃত শিক্ষক মোঃ শাহিন মিয়া (৩৮)। মামলাটি অধিকতর তদন্তের জন্য পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)’র প্রতি নির্দেশ দিয়েছেন আমতলী সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত (৩) এর বিচারক মোঃ নাহিদ হোসেন।

মামলার বিবরণ থেকে জানা যায়, অভিযুক্ত প্রধান শিক্ষক সাক্ষর জাল-জালিয়াতির মাধ্যমে শিক্ষক নিয়োগ দেয়াই শুধু নয়, তার বিরুদ্ধে বিগত সময়ে এসএসসি পরীক্ষার্থীদের প্রবেশপত্র ও রেজিস্ট্রেশন কার্ড জালিয়াতি করে পরীক্ষার্থীদের কাছ থেকে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নেয়া সহ রয়েছে একই সময়ে দুটি প্রতিষ্ঠানে শিক্ষকের দায়িত্ব পালন করে বেতনভাতা উত্তোলনের অভিযোগও।

সার্বিক অভিযোগ ও মামলার বিষয়ে জানতে চাওয়া হলে অভিযুক্ত প্রধান শিক্ষক সুলতান বিশ্বাস জানান, তার বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগের কোন সত্যতা নেই। সরকারি বিধি মেনেই তিনি শিক্ষক নিয়োগের প্রক্রিয়া সম্পন্ন করেছেন। অপরদিকে নিয়োগপ্রাপ্ত শিক্ষক শাহীন মিয়ার সাথে মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে এ বিষয়ে কথা বলতে অস্বীকৃতি জানিয়ে তিনি যাবতীয় যোগাযোগ প্রধান শিক্ষকের সাথে করার জন্য বলেন।

মামলায় বাদীপক্ষের আইনজীবী মোঃ মাহবুব আলম বলেন, প্রধান শিক্ষকের সাক্ষর জালিয়াতির ঘটনাটি সত্য মর্মে বিজ্ঞ বিচারককে বোঝাতে সমর্থ হওয়ায় তিনি মামলাটি আমলে নিয়ে পিবিআইকে নির্দেশ দিয়েছেন তদন্তের জন্য। আশা করছি পিবিআই টিমের তদন্তেও ঘটনাটির সত্যতা প্রমাণিত হবে এবং সংশ্লিষ্ট শিক্ষক দোষী হিসেবে সাব্যস্ত হবেন।

English Dainikbiswa

পড়ুন দৈনিক বিশ্ব

 চীনের কাছ থেকে মস্কো সামরিক সহায়তা চেয়েছে বলে খবর