এক নারীর সাথে ভাইরাল তালতলীর সেই চার রাজনৈতিক ও জনপ্রতিনিধির বিরুদ্ধে গণ ধর্ষণ মামলা

//মাহমুদুল হাসান, আমতলী, বরগুনা প্রতিনিধি//

বরগুনার তালতলীতে এক নারীর সাথে চার রাজনৈতিক ও জনপ্রতিনিধি’র সাথে আপত্তিকর ভিডিও ভাইরাল হওয়া সেই চারজনের বিরুদ্ধে গণ ধর্ষণ ও পর্নোগ্রাফি আইনে মামলা হয়েছে।

মামলার আসামীরা হলেন,তালতলী উপজলা আওয়ামীলীগ সভাপতি ও উপজলা পরিষদ চেয়ারম্যান মোঃ রেজবি-উল কবির জোমাদ্দার, নিশানবাড়িয়া ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান ড. কামরুজ্জামান বাচু,পঁচাকোড়ালিয়া ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান আব্দুর রাজ্জাক হাওলাদার ও উপজেলা ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক মিনহাজুল আবেদীন মিঠু।

বুধবার বরগুনার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে ধর্ষিতার বাবা বাদী হয়ে এ মামলা দায়ের করেন। আদালতের বিচারক মোঃ মশিউর রহমান খাঁন মামলাটি আমলে নিয়ে পটুয়াখালী পিবিআইকে তদন্ত পুর্বক সাত কার্যদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দিয়েছেন। তিন চেয়ারম্যানর বিরুদ্ধ মামলা হওয়ায় উপজেলা চাঞ্চল্যের সষ্টি হয়ছ।

মামলার বিবরন সুত্রে জানাগেছে,তালতলী উপজেলার নিশানবাড়িয়া ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান ড. কামরুজ্জামান বাচু মিয়ার সঙ্গে মামলার বাদীর কন্যার মোবাইল ফোনে প্রেম হয়। এক পর্যায়ে চেয়ারম্যান বাচ্চু মোল্লা বিয়ের প্রলোভন দেখিয় দৈহিক সম্পর্ক গড়ে তোলে। এখন চেয়ারম্যান তাকে বিয়ে করা নিয়ে টালবাহানা করতে থাকে। ধর্ষিতা বিয়ের জন্য চাপ প্রয়োগ করলে চেয়ারম্যান তাকে বিয়ে করবে বলে স্ট্যাম্পে লিখিত দেয় এবং বিভিন স্হানে নিয়ে স্বামী-স্ত্রী পরিচয়ে ধর্ষণ করে এবং ধর্ষিতার অজান্তে গোপনে মোবাইলে নগ্ন ছবি ধারণ করে। ওই ছবি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে দেয়ার ভয় দেখিয়ে মামলার ২ নং আসামী পঁচাকোড়ালিয়া ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান আব্দুর রাজ্জাক হাওলাদারের সঙ্গে দৈহিক সম্পর্ক করতে বাধ্য করেন। চেয়ারম্যান রাজ্জাকও তাকে একাধিকবার ধর্ষণ করেন এবং তিনিও মোবাইলে নগ্ন ছবি ধারন করে রাখে। পরে পঁচাকোড়ালিয়া ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান ওই কন্যাকে ব্লাকমেইল করেন এবং তালতলী উপজেলা আওয়ামীলীগ সভাপতি উপজলা পরিষদ চেয়ারম্যান মোঃ রেজবি-উল কবির জোমাদ্দারের সঙ্গে দৈহিক সম্পর্ক গড়ে তুলত বাধ্য করে। তার কথা না শুনল তাকে জীবন নাশের হুমকি দেন। নিরুপায় হয়ে ধর্ষিতা উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান রেজবি-উল কবির জোমাদ্দারের সঙ্গেও দৈহিক সম্পর্কে বাধ্য হয়। উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যানও ওই কন্যাকে বিভিন্ন হোটেল ও লঞ্চে নিয়ে একাধিকবার ধর্ষণ করছে বলে দাবী করেন মামলার বাদী। তাদের হাত থেকে রক্ষা পেতে ধর্ষণের শিকার ওই মেয়ে তাদের বিরুদ্ধে ধর্ষণ মামলা করবো বলে হুমকি দেয়। এমন খবর পেয়ে তিন চেয়ারম্যান ও ছাত্রলীগ সাধারণ সম্পাদক মিলে ওই ধর্ষিতার বিরুদ্ধে উল্টো পর্নোগ্রাফি আইনে মামলা দেয়। ওই মামলায় ডিবি পুলিশ তাকে গ্রেপ্তার করে। বর্তমানে ওই মামলার ধর্ষিতা জেল হাজতে রয়েছ। এ ঘটনায় ধর্ষিতার বাবা বুধবার বরগুনা নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে তালতলী উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান মোঃ জবি-উল কবির জোমাদ্দার, নিশানবাড়িয়া ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান ড. কামরুজ্জামান বাচ্চু,পচাঁকোড়ালিয়া ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান আব্দুর রাজ্জাক হাওলাদার ও উপজেলা ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক মিনহাজুল আবেদীন মিঠুর বিরুদ্ধে গণধর্ষণ ও পর্নোগ্রাফী আইনে মামলা দায়ের করেন। আদালতের বিচারক মোঃ মশিউর রহমান খাঁন মামলাটি আমলে নিয়ে পটুয়াখালী পিবিআইকে তদন্ত করে সাত কার্যদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন দিতে নির্দেশ দেন।

তালতলী উপজেলা আওয়ামীলীগ সভাপতি ও উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান মোঃ রেজবি উল কবির জোমাদ্দার বলেন,নির্বাচনকে সামনে রেখে আমার বিরুদ্ধে আমার প্রতিপক্ষরা ষড়যন্ত্রমুলুক এ মামলা দায়ের করছে।এ ঘটনার সঙ্গে আমি ও অন্য দুই চেয়ারম্যানর কোন সংশ্লিষ্টতা নেই। আমি আইনগতভাব মোকাবেলা করবো।

মামলার বাদী পক্ষের আইনজীবি মোঃ আনিচুর রহমান মিলন বলন,আদালতের বিচারক মামলাটি আমলে নিয়ে পটুয়াখালী পিবিআইকে তদন্ত করে সাত কার্যদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন দিতে নির্দেশ দিয়েছন।

রামপালে আনসার ভিডিপি কর্মকর্তা রীনার বিরুদ্ধে অর্থ বাণিজ্যের অভিযোগ

জেনিভা প্রিয়ানা, বিশেষ প্রতিনিধি ||

আসন্ন উপজেলা পরিষদ নির্বাচনকে সামনে রেখে রামপাল উপজেলা আনসার ও ভিডিপি কর্মকর্তা রীনা বেগমের অর্থ বাণিজ্য এখন তুঙ্গে। ভিডিপি কমান্ডার আবজাল ও আনসার কমান্ডার আ. হাকিমের মাধ্যমে একটি সিন্ডিকেট গড়ে তুলে এমন অর্থ বাণিজ্য করে আসছেন ওই কর্মকর্তা রীনা। এতে গোটা উপজেলার সহাস্রাধিক আনসার ও ভিডিপি সদস্য ওই সিন্ডিকেটের কাছে জিম্মি হয়ে পড়েছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ সমস্যা থেকে রেহাই পেতে সাধারণ আনসার ও ভিডিপি সদস্যরা রামাপাল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাসহ উর্ধতন কর্মকর্তাদের তদন্তসহ আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহনের জোর দাবী জানিয়েছেন।

জানা গেছে আনসার ভিডিপি কর্মকর্তা রীনা বেগেম রামপালে যোগদান করার পর আনসার ও ভিডিপি সদস্যদের বিভিন্ন সুযোগসুবিধা পেতে উৎকোচ গ্রহন করতে থাকেন। কেউ কোন প্রতিবাদ করলে ভিডিপি আবজাল ও হাকিমের মাধ্যমে তাকে সায়েস্তা করেন। এদের সায়েস্তা করতে সদস্যের দিয়ে সহি করিয়ে উর্ধতন কর্তৃপক্ষ বরাবর চিঠি দেন।

অভিযোগে জানা গেছে গত জাতীয় নির্বাচনে এ উপজেলায় ৪৮ টি ভোট কেন্দ্রে ৪৮ টি দল দেয়া হয়। ৪৮ দলে ১২ জন করে মোট ৫৭৬ আনসার ও ভিডিপি সদস্য দেয়া হয়। তাদের প্রতিজনের কাছ থেকে ৪০০ টাকা করে মোট উৎকোচ নেন ২ লক্ষ ৩০ হাজার ৪০০ টাকা। এর বাইরে প্রতিজন আনসার সদস্যদের কাছ থেকে ৮০০ থেকে ১ হাজার টাকা করে তোলে ওই সিন্ডিকেটের সদস্যরা। তাতে প্রায় সাড়ে ৪ লক্ষ থেকে সাড়ে ৬ লক্ষ টাকা মাঠ পর্যায় থেকে আদায় করেন।

চলতি উপজেলা পরিষদ নির্বাচনকে সামনে রেখে এবারো ওই সিন্ডিকেট মেতে উঠেছে অর্থ বাণিজ্যে। এবার তারা ৪৯ টি ভোট কেন্দ্রে ৪৯ টি দল গঠন করেছে। প্রতি দলে ১৩ জন করে মোট ৬৩৭ জন সদস্যকে বাছাই করা হয়েছে।

আনসার ভিডিপি কর্মকর্তা রীনা প্রতিজনের কাছ থেকে ৩০০ টাকা করে মোট টাকা ১ লক্ষ ৯১ হাজার ১০০ টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন। এর বাইরে আবজাল, হাকিম, ও মোস্তফাগংয়েরা  সিন্ডিকেট করে প্রতিজন আনসার সদস্য নিয়োগের বিপরীতে ৮ শ টাকা থেকে ১৫ শত টাকা করে হাতিয়ে নিয়েছেন। এভাবে আরো ৫ লক্ষ টাকারও বেশী পিসি এপিসিরা হাতিয়ে নিয়েছেন। সাধারণ আনসারদের সাথে কথা বলে জানা গেছে এসব তথ্য। তারা জানান, আমরা কোন কথা বললে আমাদের আর কোন দিন ডিউটিতে পাঠাবে না।

আনসার ভিডিপি কর্মকর্তা এখানে যোগদান করার পর স্বভাবসুলভভাবে একের পর এক দুর্নীতি করেই চলেছেন। একবার এক মহিলা সদস্য ওই রীনাকে ৩ হাজার টাকা স্বামীকে ড্রাইভিং প্রশিক্ষণ বাবদ উৎকোচ দেওয়ার সময় গোপনে ভিডিপি করেন। এরপর থেকে ওই অফিসে কোন আলোচনা করার পূর্বে বিশেষ করে নির্বাচন ডিউটি বিষয়ে টাকা পয়সার আলোচনা করার সময় সবার মোবাইল ফোন জব্দ করে রেখে তারপর আলোচনা করেন। কেহ কোন কথা সাংবাদিক বা কোন কর্তৃপক্ষের কাছে ফাঁস করলে তাকে হয়রানির শিকার হতে হয়।

অভিযোগের বিষয়ে উপজেলা আনসার ও ভিডিপি কর্মকর্তা রীনা বেগমের কাছে জানতে চাইলে তিনি সকল অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, গ্রুপ কমান্ডররা টাকা নেয়। আমি কোন টাকা পয়সা কারো কাছ থেকে নেইনি। মোস্তফা, ফরিদ, ফাতেমা আমার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করে এসব রটাচ্ছে। এরপরে আনসার কর্মকর্তা রীনা সাংবাদিকদের আবার তার কার্যালয়ে ডেকে নেন। কথার ফাঁকের এক পর্যয়ে তিনি নিউজ না করার অনুরোধ করে তার পার্স ব্যাগ থেকে টাকা বের করে সাংবাদিকদের ম্যানেজ করার চেষ্টা করেন।

এ বিষয়ে রামপাল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রহিমা সুলতানা বুশরা এর মুঠোফোনে বিষয়টি অবগত করে দৃষ্টি আকর্শন করা হলে তিনি হতবাক হয়ে যান। পরে তিনি সাংবাদিকদের জানান, লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্ত করে আইনগত ব্যাবস্থা নেয়া হবে।

রামপাল উপজেলা উন্নয়ন সংগ্রাম সমন্বয় কমিটির সভাপতি এ্যাডভোকেট মহিউদ্দিন শেখসহ নেতৃবৃন্দ উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের তদন্তসহ আইনানুগ ব্যাবস্থা গ্রহনের জোর দাবী জানিয়েছেন।

এক নারী বিপুল পরিমান জাল টাকাসহ আটক

জেনিভা প্রিয়ানা, বিশেষ প্রতিনিধি||

খুলনার রূপসা এলাকার সেলিনা আক্তার তিশা (২৫) নামের এক নারী প্রতারক কে গ্রেফতার করেছে মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ। এ সময় তার কাছ থেকে এক লক্ষ পনের হাজার টাকার জাল নোট জব্দ করা হয়েছে।

গ্রেফতারকৃত তিশা খুলনা জেলার পূর্ব রূপসার বাগমারা গ্রামের মৃত আজিজ মোল্লার মেয়ে এবং বশির মিয়ার স্ত্রী।

আটক তিশা কে বিজ্ঞ আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে।

খুলনা গোয়েন্দা পুলিশ এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানান, বুধবার (২৪ এপ্রিল) সন্ধ্যায় ডিবির একটি চৌকস টিম গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে খুলনা সদর থানার ১নং কাস্টম ঘাটের জেলা স্কুল মোড়ের জনতা ব্যাংক পিএলসি শাখার বিপরীত পাশে রাস্তার উপর থেকে সেলিনা আক্তার তিশা (২৫) কে অভিযান চালিয়ে গ্রেফতার করা হয়েছে। সে দীর্ঘদিন যাবৎ খুলনা মহানগর এলাকায় জাল টাকা ক্রয়-বিক্রয়ের কাজ করে আসছে।
আটক তিশার বিরুদ্ধে খুলনা সদর থানায় ১৯৭৪ সালের স্পেশাল পাওয়ার এ্যাক্টস্ এর ২৫-A ধারায় মামলা রুজু করে আদালতে পাঠানো হয়েছে।

আমতলীতে যত্রতত্র গড়ে ওঠা ৪৫টি অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ

//মাহমুদুল হাসান, আমতলী, বরগুনা//

আমতলী পৌর শহরের উপর দিয়ে বয়ে যাওয়া পটুয়াখালী-কুয়াকাটা মহাসড়কের আমতলী এ,কে স্কুল চৌরাস্তা এলাকা থেকে ৪৫ টি অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করা হয়েছে।

আমতলী উপজেলা নির্বাহী অফিসার মুহাম্মদ আশরাফুল আলম বুধবার বিকেলে এ সকল অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করেছেন।

জানাগেছে,পৌর শগরের অভ্যন্তরে পটুয়াখালী-কুয়াকাটা মহাসড়কের একে স্কুল চৌরাস্তা এলাকায় প্রভাবশালী ব্যাক্তিরা সড়ক ও জনপদ অধিদপ্তরের জায়গা দখল করে ৪৫ টি অবৈধ স্থাপনা নির্মাণ করে।এতে মহাসড়কে যান চলাচলে বিঘ্ন সৃষ্টি হচ্ছিল।আজ বুধবার বিকেলে উপজেলা নির্বাহী অফিসার মুহাম্মদ আশরাফুল আলম এ সকল অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করে দেন।

প্রত্যক্ষদর্শীরা বলেন,স্থানীয় প্রভাবশালীরা নিজেদের জোর খাটিয়ে মহাসড়কের পাশে বেশ কিছু জায়গা দখল করে এ সকল  স্থাপনা নির্মাণ করেছিল। ওই স্থাপনাগুলো উপজেলা নির্বাহী অফিসার উচ্ছেদ করে দিয়েছেন। তারা আরো বলেন,সেই সাথে  মহাসড়কের পাশে সাপ্তাহিক হাটও উচ্ছেদ করেছেন।

আমতলী উপজেলা নির্বাহী অফিসার মুহাম্মদ আশরাফুল আলম বলেন,মহাসড়কের ১০ মিটারের মধ্যে নির্মাণ করা ৪৫ টি অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করা হয়েছে। এর মধ্যে ১৫ টি ঘর ও ৩০ টি আংশিক ঘর ছিল।

খুলনায় এস আই আনিছুরের বিরুদ্ধে জেলা প্রশাসক সহ তিন কার্যালয়ে অভিযোগ

//খুলনা ব্যুরো//

বাংলাদেশ পুলিশের উপ পরিদর্শক আনিসুর রহমান এবং কনস্টেবল নুরুজ্জামান নান্নুর  বিরুদ্ধে নিরীহ মানুষকে অযথা শরূীর তল্লাশি, বিভিন্ন প্রকার অশালীন কথাবার্তা, ভয়-ভীতি প্রদর্শন সহ সামাজিক হেয় প্রতিপন্ন করার অভিযোগ এনে খুলনা জেলা প্রশাসক, খুলনা জেলা পুলিশ সুপার ও রূপসা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বরাবর লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে।

গত ৮ এপ্রিল সোমবার  এসকল অভিযোগ দায়ের করেন খুলনার রূপসা উপজেলার আইচগাতীর যুগিহাটি এলাকার মোঃ সোহান মোড়ল সহ আরো ১০ জন ব্যক্তি।  এস আই  আনিসুর রহমান এবং কনস্টেবল নুরুজ্জামান নান্নু বর্তমানে খুলনার রূপসা উপজেলার ১নং আইচগাতীর পুলিশ ফাড়িতে কর্মরত আছেন।

এসব অভিযোগে তারা উল্লেখ্য করেন, এস আই আনিছুর রহমান ও কনস্টেবল নুরুজ্জামান নান্নু  পুলিশে চাকরি করার সুবাদে এলাকার সাধারণ নিরীহ মানুষদের এবং বিভিন্ন সময়ে- অসময়ে সামাজিক ও বংশীয় লোকদের দাঁড় করিয়ে অযথা শরীর তল্লাশির নামে বিভিন্ন প্রকার অশালীন কথাবার্তা এমনকি ভয়-ভীতি প্রদর্শন করে সামাজিক মান সম্মান ও  হেয় প্রতিপন্ন করে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি করে আসছে।

এছাড়া আরো উল্লেখ্য করেন, এইভাবে দীর্ঘদিন যাবৎ তারা এই ইউনিয়নে মাদকাসক্ত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে অভিযানের নামে নিরীহ লোকদের হয়ারনী করে আসছে। এতে করে শান্তিপ্রিয় মানুষের শাস্তি শৃঙ্খলার বিঘ্ন ঘটছে।

এবিষয়ে খুলনা  জেলা প্রশাসক, জেলা পুলিশ সুপার ও রূপসা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা কর্মকর্তা বরাবর অভিযোগ করা

মোঃ সোহান মোড়ল  জানান, এস আই আনিছুর রহমান ও তার সহযোগী কনষ্টেবল নুরুজ্জামান নান্নু আমাদের গ্রামে এসে আমাকে সহ এলাকার অনেককেই মিথ্যা মামলায় ফাঁসিয়ে দেয়ার ভয় দেখায়।তাই বাধ্য হয়ে আমি সহ আমরা ১০ জন লিখিত অভিযোগ করেছি। বিষয়টি তদন্তপূর্বক তার বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছি।

যদিও এসকল অভিযোগের বিষয়ে পুলিশের উপ পরিদর্শক আনিছুর রহমান বলেন, বিশ্বস্ত সোর্সের তথ্যানুযায়ী অভিযোগকারী ব্যাক্তি মাদক ইয়াবার ব্যবসার সাথে জড়িত। তাই তাকে তল্লাশি করা হয়। কিন্তু তিনিই আবার এখন আমার বিরুদ্ধে মিথ্যা এবং আমাকে ফাঁসানোর জন্যই  এমনটা করেছে বলে তিনি জানান।

বাগেরহটের রামপালে সামাজিক বন বিভাগের শতাধিক গাছ কেটে বিক্রি করেছে ঠিকাদার

জেনিভা প্রিয়ানা, বিশেষ প্রতিনিধি ||

বাগেরহটের রামপালে সামাজিক বন বিভাগের শতাধিক গাছ কেটে বিক্রির অভিযোগ পাওয়া গেছে। এতে সরকারের কয়েক লক্ষ টাকার ক্ষতি হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় বাগেরহাট জেলা সামাজিক বন দপ্তরে অভিযোগ দায়ের হয়েছে। বন বিভাগের কর্মকর্তারা সরেজমিনে গিয়ে কতক গাছ জব্দ করে স্থানীয়ভাবে জিম্মায় রেখেছে বলে জানা গেছে।

জানা গেছে, রামপাল উপজেলার জিয়লমারী গ্রামের দিপক পাইক ও স্থানীয় ভোজপাতিয়া ইউপি সদস্য গাজী রেজাউল ইসলাম বাবুল সামাজিক বনায়নের গাছ কমিটির মাধ্যমে রোপণ করেন। তারা জিয়লমারী সড়কের দুই পাশে সামাজিক বন বিভাগের শিশু, বাবলা, রেইনট্রি ও অর্জুন গাছসহ নানা প্রজাতির এসব গাছ রোপণ করেন। কয়েকদিন পূর্বে ওই রাস্তা সম্প্রসারণের জন্য গাছ কাটা হয়। বাগেরহাট সামাজিক বন বিভাগের কর্মকর্তাদের না জানিয়ে সড়ক নির্মাণের ঠিকাদার ওই গাছ স্কেভেটর দিয়ে উপড়ে ফেলে। সেই গাছ রোপণকারী সামাজিক বনায়ন কমিটির সভাপতি ও ইউপি সদস্য বাবুল ও দিপক কেটে বিক্রি করে দেন। অভিযোগ পেয়ে বন দপ্তরের রামপাল উপজেলা কর্মকর্তা মো. আ. রাজ্জাক ঘটনাস্থলে গিয়ে কিছু গাছ জব্দ করেন বলে দাবী করেন। সরজমিনে গিয়ে এ বিষয়ে অভিযুক্ত দিপক পাইকের সাথে কথা হলে তিনি জানান, রাস্তার ঠিকাদার রাস্তা প্রশস্ত করতে গাছ উপড়ে ফেলেছে। সেই গাছ কেটে জড়ো করতে আমার গাঁটের টাকা খরচ হয়েছে। আপনারা সব দেখে যান, আমি শ্রমিকদের মজুরি বাবদ কিছু ডালপালা বিক্রি করেছি। গাছগুলো রেখে দিয়েছি।

এ বিষয়ে কথা হয় অভিযুক্ত ইউপি সদস্য গাজী রেজাউল ইসলাম বাবুলের সাথে। তিনি বলেন, রাস্তায় কাজ করা ঠিকাদারের লোকজন গাছ কেটে ফেলেছে। বন বিভাগের সাথে কথা বলে আমি দুই হাজার ৪ শত টাকায় কিছু গাছ বিক্রি করেছি। তবে গাছ কেটে তা আত্মসাতের বিষয়টি তিনি অস্বীকার করেন।

অভিযোগের ব্যাপারে কথা হয় রামপাল উপজেলা সামাজিক বন কর্মকর্তা আ. রাজ্জাকের সাথে। তিনি বলেন, সড়কের লোকেরা গাছ কেটে ফেলেছে। আমাদের জানায়নি। সড়কে যে পরিমাণ গাছ থাকার কথা ছিল তা নেই। দীপক পাইক ২০ ও বাবুল মেম্বরের জিম্মায় ৪ টি গাছ রেখে দেয়া হয়েছে। কোন গাছ বিক্রির বিষয়টি তিনি অস্বীকার করে বলেন, বরং গাছ জব্দ করতে গিয়ে উল্টো আমার পকেটের টাকা খরচ হয়েছে।

স্থানীয় ভোজপাতিয়া ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান আলহাজ্ব নূরুল আমীন অভিযোগ করে জানান, রাস্তায় অনেক গাছ ছিল। কতিপয় ব্যক্তি কেটে কয়েক লক্ষ টাকায় তা বিক্রি করেছে। সামাজিক বন বিভাগের কার্যক্রম রহস্যজনক বলে তারা অভিযোগ করে বিষয়টি দ্রুত তদন্ত করে ব্যবস্থা গ্রহনের দাবী করেন।

বাগেরহাটে ১৬ লক্ষ জাল টাকা ও মেশিনসহ কারিগর আটক

জেনিভা প্রিয়ানা,বিশেষ প্রতিনিধি||

বাগেরহাটে প্রায় ১৬ লক্ষ টাকা মূল্যের জাল নোটসহ ফয়সাল ইউনুস (৩৫) নামের এক প্রতারককে আটক করেছে জেলা গোয়েন্দা পুলিশ।
শুক্রবার (১৫ মার্চ) বিকেলে বাগেরহাট শহরের যদুনাথ স্কুল সংলগ্ন কামাল হোসেনের ভবনের ৬ তলার একটি কক্ষ থেকে তাকে আটক করা হয়।
আটককৃত ফয়সাল চার মাস আগে কামাল হোসেনের বাড়ির ৬ তলায় ভাড়াটিয়া হিসেবে বসবাস করেন।
অভিযান চালিয়ে সেখান থেকে জাল টাকা ও তৈরির মেশিন, রং, কাগজ জব্দ করা হয়।

আটক ফয়সাল ইউনুস কচুয়া উপজেলার ধোপাখালি ইউনিয়নের বারদাড়িয়া এলাকার মৃত মহিউদ্দিন শেখের ছেলে।

বাগেরহাট জেলা গোয়েন্দা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) স্বপন কুমার রায় বলেন, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে ১৬ লাখ টাকা মূল্যের জাল নোট, জাল টাকা তৈরির মেশিন, রং, কাগজ জব্দ করা হয়েছে। ধারণা করছি ঈদকে সামনে রেখে প্রতারক চক্র জাল টাকা তৈরি করছিল। আটককৃতের বিরুদ্ধে আইনি ব‍্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন।

চীনা সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ার গুগলের প্রযুক্তি চুরির অভিযোগে গ্রেফতার

//দৈনিক বিশ্ব আন্তর্জাতিক ডেস্ক//

গুগলের কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তি চুরির অভিযোগে চীনের একজন সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ারকে গ্রেফতার করা হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়া থেকে বুধবার তাকে গ্রেফতার করা হয়।

বার্তা সংস্থা এএফপি জানিয়েছে, গ্রেফতার ওই ব্যক্তির নাম লিনউই ডিং। ৩৮ বছর বয়সি ওই ব্যক্তি লিও ডিং নামেও পরিচিত।

ফরাসি বার্তা সংস্থাটি জানিয়েছে, লিনউই ডিং গুগলে চাকরি করতেন। গত বছরের ডিসেম্বরে তিনি গুগলের চাকরি ছেড়ে দেন। এর আগে প্রায় এক বছর ধরে তিনি চীনের দুটি প্রতিষ্ঠানে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার প্রযুক্তি পাচার করেছেন। যুক্তরাষ্ট্রের অ্যাটর্নি জেনারেল মেরিক গারল্যান্ড এক বিবৃতিতে এ তথ্য জানিয়েছেন।

মেরিক গারল্যান্ড আরও বলেছেন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও অন্যান্য আধুনিক প্রযুক্তি চুরি বরদাশত করবে না বিচার বিভাগ। কারণ এটি আমাদের জাতীয় নিরাপত্তাকে হুমকির মুখে ফেলবে।

এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থার (এফবিআই) পরিচালক ক্রিস্টোফার ওয়ারে বলেছেন, চীনের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কোম্পানি আমেরিকার উদ্ভাবন চুরি করতে চেয়েছিল।

লিনউই ডিংয়ের বিরুদ্ধে দায়ের করা অভিযোগ বলা হয়েছে, ২০১৯ সালে তিনি গুগলে যোগ দিয়েছিলেন। গুগলের সুপারকম্পিউটিং ডেটা সেন্টারগুলোতে সফটওয়্যারের উন্নয়নের সঙ্গে জড়িত তিনি।

রামপালে ১৩ লক্ষ টাকা আত্মসাতের ঘটনায় আলোচিত প্রধান শিক্ষক সাইদের বিরুদ্ধে পিবিআই’র প্রতিবেদন দাখিল

জেনিভা প্রিয়ানা, বিশেষ প্রতিনিধি||

বাগেরহাটের  রামপাল উপজেলার সোনাতুনিয়া আমেনা খাতুন নিন্ম মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের বরখাস্তকৃত সাবেক প্রধান শিক্ষক হাওলাদার সাইদুর রহমানের বিরুদ্ধে আদালতে প্রতিবেদন দাখিল করেছে বাগেরহাট পিবিআই। মঙ্গলবার বেলা ১১ টায় বাগেরহাটের পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন এর ইনস্পেক্টর মো. আশরাফুল আলম বিজ্ঞ আমল আদালত -৮ এ প্রতিবেদনটি দাখিল করেন। বাগেরহাটের বিজ্ঞ আদালতে গত ইংরেজি ২৭-১২-২০২৩ তারিখ পিটিশন- ৯৬/২০২৩ (রামপাল) নম্বর মামলাটি করেছেন বিদ্যালয় পরিচালনা পর্ষদ সভাপতি মো. ওয়ালিউল্লাহ শেখ।

জানা গেছে, রামপালের সোনাতুনিয়া আমেনা খাতুন নিন্ম মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয়ের সাবেক প্রধান শিক্ষক হাওলাদার সাইদুর রহমান ওই বিদ্যালয়ে কর্মচারী নিয়োগ দানের কথা বলে ৩ জন চতুর্থ শ্রেণীর কর্মচারীর কাছ থেকে মোট ১৩ লক্ষ টাকা নেন। বিদ্যালয়ের উন্নয়ন কল্পে তিনি ওই টাকা নেন। প্রধান শিক্ষক সাইদুর রহমান ওই বিদ্যালয়ের কর্মচারী মনিরুজ্জামানের কাছ থেকে ৫ লক্ষ টাকা, রাসেল গাজীর কাছ থেকে ৪ লক্ষ টাকা ও শাহীনা খাতুনের কাছ থেকে ৪ লক্ষ টাকা নেন। যা বিদ্যালয়ের উন্নয়নে ব্যায় করা হবে বলে টাকা নেওয়া হলেও তিনি তা করেননি। ওই টাকা নিয়ে সাইদুর রহমান নিজের পকেটে পুরে আত্মসাৎ করেছেন। এই বিপুল অংকের টাকা কোথায় খরচ করেছেন ? এ সংক্রান্ত কোন তথ্য পিবিআই এর তদন্তে পাওয়া যায়নি। তবে স্ব-স্বীকারোক্তি দিয়ে দুই পাতার একটি খসড়া খরচের তালিকা দিয়েছেন ওই প্রধান শিক্ষক সাইদুর রহমান। এত টাকার খরচ সংক্রান্ত কোন তথ্য প্রমাণ সংশ্লিষ্ট বিদ্যালয়ের নথি পত্রে পাওয়া যায়নি বলে পিবিআই এর তদন্তে উঠে এসেছে। বিদ্যালয়ের কর্মচারীদের কাছ থেকে ওই বিপুল পরিমাণ টাকা নিয়ে সাইদুর রহমান আত্মসাৎ করেছেন মর্মে পিবিআই এর প্রাথমিক তদন্ত প্রতিবেদনে উঠে এসেছে।

এ বিষয়ে অভিযুক্ত বরখাস্তকৃত সাবেক প্রধান শিক্ষক সাইদুর রহমান বরাবর অভিযোগ অস্বীকার করে আসছেন। তিনি সাংবাদিকদের বলেন, আমি ষড়যন্ত্রের শিকার।

এ বিষয়ে বাগেরহাটের পিবিআই এর ইন্সপেক্টর আশরাফুল আলম এর কাছে জানতে চাইলে অভিযুক্ত সাবেক প্রধান শিক্ষক সাইদুর রহমানের বিরুদ্ধে ১৩ লক্ষ টাকা আত্মসাতের বিষয়টি প্রাথমিকভাবে প্রমাণিত হয়েছে। মঙ্গলবার বিজ্ঞ আদালত -৮ এ প্রতিবেদন দাখিল করার বিষয়টি তিনি নিশ্চিত করেছেন।

আসামি প্রভাবশালী হওয়ায় বাদী ওয়ালিউর রহমানসহ স্বাক্ষীরা আতঙ্কে রয়েছেন বলে অভিযোগ করেছেন।#

রামপালে সাবরেজিস্টার সহ ৭ জনের বিরুদ্ধে জালিয়াতির অভিযোগে আদালতে প্রতিবেদন দাখিল

জেনিভা প্রিয়ানা,বিশেষ প্রতিনিধি ||

বাগেরহাটের রামপালে জাল জালিয়াতির মাধ্যমে জমি রেজিস্ট্রেশন করার অভিযোগে সাবরেজিস্টার নাহিদ জাহান মুনাসহ ৭ জনের বিরুদ্ধে আদালতে প্রতিবেদন দাখিল করেছে পিবিআই। ভুয়া দাতা সাজিয়ে মৃত রণজিৎ কুমার পালের জমি রেজিষ্ট্রেশন করে নেওয়ার ঘটনায় প্রাথমিকভাবে অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় বাগেরহাটের পিবিআই ইন্সপেক্টর আশরাফুল আলম গত মঙ্গলবার (২০ ফেব্রুয়ারী) বাগেরহাট জেলার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট এর আদালতে এ প্রতিবেদন দাখিল করেন।
জানা গেছে, উপজেলার বড়দিয়া গ্রামের মৃত রণজিৎ কুমার পালের জমি উপজেলার গিলাতলা গ্রামের দীনেশ চন্দ্র পালের নামে ০.৬০ একর জমি রেজিস্ট্রি করা হয়। গত ইংরেজি ০৭-০২-২০২৩ তারিখ রামপাল সাব-রেজিস্টার নাহিদ জাহান মুনা ভুয়া দাতার মাধ্যমে জমিটি রেজিষ্ট্রেশন করেন, যার দলিল নম্বর ৩৪৪। বিষয়টি জানতে পেরে জমির মালিক রণজিৎ কুমার পালের ছেলে বিশ্বজিৎ পাল গত ইংরেজি ২৯-০৩-২০২৩ তারিখ বাগেরহাটের বিজ্ঞ আদালত (রামপাল) -২ এ পিটিশন মামলা নং ২৫/২০২৩ দায়ের করেন। বিজ্ঞ আদালতের বিচারক বাগেরহাটের পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) কে মামলাটি তদন্ত করে প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দেন। এমতাবস্থায় সাংবাদিকদের মাধ্যমে সংবাদ পেয়ে সাব-রেজিস্টার নাহিদ জাহান মুনা ওই ভুয়া দাতা জগদীশ চন্দ্র মন্ডলকে ডেকে এনে প্রকৃত জমির মালিক রণজিৎ কুমার পালের নামে আরও একটি ফেরত দলিল রেজিষ্ট্রেশন করেন। যার দলিল নম্বর ৯৩৪/২০২৩, তারিখ ০৪-০৪-২০২৩। এতে প্রমাণিত হয় সাবরেজিস্টার নাহিদ জাহান মুনা জাল জালিয়াতির সাথে জড়িত রয়েছেন পিবিআই এর তদন্তের উঠে এসেছে।

পিবিআই বাগেরহাটের পুলিশ সুপার মো. আব্দুর রহমান আদালতের কপি হতে পেয়ে তদন্তের দায়িত্ব দেন ইন্সপেক্টর আশরাফুল আলমকে। তিনি দীর্ঘ তদন্ত শেষে সাব-রেজিস্টার নাহিদ জাহান মুনা, ভুয়া দাতা জগদীশ চন্দ্র মন্ডল, ইউপি সচিব রতন কুমার পাল, তার পিতা দীনেশ চন্দ্র পাল, রীতা রানী পাল, দলিল লেখক সবুজ মন্ডল, সৈয়দ গালিব হোসেন ও রথীন কুমার পালের বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় তাদের বিরুদ্ধে প্রতিবেদন দাখিল করেন।
সাবরেজিস্টার নাহিদ জাহান মুনার বিরুদ্ধে আনিত অভিযোগের বিষয়টি তিনি বরাবরই অস্বীকার করে আসছেন। জাল জালিয়াতির বিষয়টি জানার পরেও পুনরায় একই ভুয়া দাতা জগদীশ চন্দ্র মন্ডলকে দিয়ে কেন জমি রেজিষ্ট্রেশন করা হয়েছে ? এমন প্রশ্নের সঠিক উত্তর তিনি দিতে পারেননি।

বাগেরহাটের পিবিআই ইন্সপেক্টর আশরাফুল আলম আদালতে প্রতিবেদন দাখিলের বিষয়টি সাংবাদিকদের নিশ্চিত করেছেন। অপরদিকে মামলার বাদী বিশ্বজিৎ পালের আইনজীবি আলী আকবর ও নিমাই চন্দ্র বাগেরহাটের আদালতে পিবিআই এর প্রতিবেদন দাখিলের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। বিবাদীরা প্রভাবশালী হওয়ায় বাদী বিশ্বজিৎ পাল মামলা করে নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন বলে জানিয়েছেন।