রামপালে ইউপি সদস্যের বিরুদ্ধে ভুয়া দাগের জমি রেজিস্ট্রি করার অভিযোগ

জেনিভা প্রিয়ানা, বিশেষ প্রতিনিধি ||

বাগেরহাটের রামপালে অসহায় এক নারীকে ভুয়া দাগের জমি রেজিস্ট্রি করে প্রতারণার অভিযোগ পাওয়া গেছে এক ইউপি সদস্যের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় রামপাল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা, খুলে সিটি কর্পোরেশনের মেয়র ও সংশ্লিষ্ট ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানের দপ্তরে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন ভুক্তভোগী নারী আবেদা বেগম।

অভিযোগে জানা গেছে, রামপাল উপজেলার সন্তোষপুর গ্রামের আনসার আলীর মেয়ে আবেদা বেগম একই গ্রামের মৃত মওলা বক্স হাওলাদারের ছেলে উজলকুড় ইউপি সদস্য মুজিবুর রহমান হাওলাদারের কাছ থেকে কবলামূলে জমি রেজিস্ট্রি করে নেন। গত ইংরেজি ১৫-০৬-১৯৯৭ সালে রামপাল সাবরেজিস্টার অফিস থেকে সন্তোষপুর জেএল ৮৯ খতিয়ানের ৩,৬ ও ৭ দাগের ০.১৪ একর জমি লিখে দেন। সেই জমিতে দীর্ঘ দিন ধরে ভুক্তভোগী বাড়ি ঘর নির্মাণ করে বসবাস করে আসছেন। এক পর্যায়ে আবেদা বেগম জানতে পারেন উক্ত জমি ইউপি সদস্য মুজিবুর রহমানের ছেলে বাচ্চু হাওলাদার ও হেমতুল্লাহর নামের জমি তাকে লিখে দেয়া হয়েছে।

পরে ভুক্তভোগী বিষয়টি মিমাংসার জন্য বিবাদী মুজিবের স্মরণাপন্ন হন। এতে কোন ফয়সালা না হওয়ায় আবেদা বিভিন্ন মানুষ দ্বারে দ্বারে ধর্ণা দিচ্ছেন। ইতিপূর্বে রামপাল উপজেলার বিদায়ী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নাজিবুল আলম উভয় পক্ষের শুনানি শেষে ভুক্তভোগীকে জমির দলিল সংশোধন করে জমি বুঝিয়ে দেওয়ার নির্দেশ দেন। এরপরে ও কোন সমাধান না পেয়ে সমাজপতিদের দ্বারস্থ হয়েছেন।

এ বিষয়ে অভিযুক্ত মুজিবুর রহমান হাওলাদারের মুঠোফোনে কথা হলে তিনি জানান, দলিলে দাগ নম্বর সংশোধন করে জমি বুঝিয়ে দেওয়ার নির্দেশ দেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা। তবে কেন এত দেরি হচ্ছে জানতে চাইলে তিনি বলেন স্বাক্ষাতে সব জানাবো।#

ফকিরহাটে প্রতারণার শীর্ষে জ্যোতি ক্লিনিক

জেনিভা প্রিয়ানা, বিশেষ প্রতিনিধি||

বাগেরহাটের ফকিরহাটে মানসা বাজার এলাকায় জ্যোতি ক্লিনিকের বিরুদ্ধে একাধিক প্রতারণার অভিযোগ উঠেছে। অভিজ্ঞ ডাক্তার,নার্স না থাকায় রোগীদের ভোগান্তির শেষ নেই।

অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে রোগীদের চিকিৎসাসেবা দেওয়া, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা না থাকায় তৈরি হয়েছে মরণফাঁদে। বিশেষজ্ঞ ডাক্তার, এনেস্থিসিয়া ছাড়াই প্রতিনিয়ত চলছে অপারেশন কার্যক্রম। ওটি নোটে বিভিন্ন সার্জন,ও এনেস্থিসিয়ার নাম ব্যবহার করে প্রতারনা করে আসছে ক্লিনিকটি। সরজমিনে গিয়ে দেখা যায় ফেব্রুয়ারির ২ তারিখে ওটি নোটে এনেস্থিসিয়া ডা: অনিকের নাম ব্যবহার করেছে,এ বিষয়ে ডা: অনিকের সাথে কথা হলে তিনি এনেস্থিসিয়া দেননি বলে জানান।

এ বিষয়ে উপজলা স্বাস্থ্য পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা: মো: মফিদুল ইসলামের কাছে সাংবাদিকরা জানতে চায়লে তিনি বলেন আমি গত বুধবার(৭ ফেব্রুয়ারি ) জ্যোতি ক্লিনিক পরিদর্শন করেছি, তাদের পরিবেশ নোংড়া ছিলো,ডাক্তারদের নাম ব্যবহার করে অপারেশন করছে, ৫ বছর ধরে নেই লাইসেন্স নবায়ন,এনেস্থিসিয়া মেশিন নষ্ট,নেই মানি রিসিট,ক্যাশ ম্যামো। ডিপ্লোমা কোর্স কমপ্লিট করে ডাক্তার লেখা প্যাডে রুগী দেখছেন তমানাস বসু। তিনি আরও বলেন এ বিষয়ে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

এ বিষয়ে জ্যোতি ক্লিনিকের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ডি এম এফ) তমানাস বসুর সাথে কথা হলে তিনি বলেন আমার প্যাডটি ডাক্তার লেখা এটি আমি নিজে করিনি ঔষধ কম্পানি বানিয়ে দিয়েছে, এবং আমরা নবায়ন এর টাকা জমা দিয়েছি সফটওয়্যারজনীত সমস্যার কারনে আটকে আছে।

ফকিরহাটে কিশোরীর গোসলের ভিডিও ধারণ করে চাঁদা দাবি, আটক- ১

জেনিভা প্রিয়ানা, বিশেষ প্রতিনিধি ||

বাগেরহাটের ফকিরহাটে এক কিশোরীর (১৩) গোসলের ভিডিও ধারন করে দুই লাখ টাকা চাঁদা দাবীর ঘটনায় পুলিশ একজনকে গ্রেপ্তার করেছে। ঐ কিশোরী একটি মাদ্রাসার অষ্টম শ্রেণির ছাত্রী।

এ ঘটনায় ওই কিশোরীর বাবা বাদি হয়ে শুক্রবার (১৯ জানুয়ারি) সকালে একজনের নাম সহ ২জনকে অজ্ঞাতনামা আসামী উল্লেখ করে থানায় পর্ণগ্রাফী আইনে একটি মামলা করেন।

গ্রেপ্তারকৃত আসামী অহিদ মোড়ল (২৮) উপজেলার হোগলডাঙ্গা গ্রামের নিজাম মোড়লের ছেলে। সে বিভিন্ন বাড়িতে দিনমুজুরের কাজ করে।

পুলিশ জানায়, ১৩ জানুয়ারি রাত ১টার দিকে ওই কিশোরীর বাড়ীতে কে বা কারা দরজার সামনে একটি প্যাকেট রেখে যান। কিশোরীর বাবা প্রকৃতির ডাকে সাড়া দিতে বাইরে বের হলে ওই প্যাকেটটি দেখতে পান। প্যাকেটি খুলে তিনি দেখেন একটি চিরকুট ও একটি মেমোরি কার্ড রয়েছে। তখন তিনি চিরকুটটি পড়ে দেখেন সেখানে লেখা আছে ‘মেমোরি কার্ডটি একজন মেয়েকে দেখবেন। এছাড়া ১৮জানুয়ারি রাত ৮টার দিকে মান্দার এলাকার যে কোন স্থানে একটি সাদা ব্যাগ থাকবে। ব্যাগের ভিতর একটা চিঠি থাকবে। ওই ব্যাগের মধ্যে দুই লাখ টাকা রেখে চিঠিটি নিয়ে চলে যাবেন। তা না হলে ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছেড়ে দেওয়া হবে। ‘ পরদিন ১৪ জানুয়ারি সকালে কিশোরীর বাবা মেমোরি কার্ডটি চালু করে দেখেন সেখানে তার মেয়ের গোসলের আপত্তিকর ছবি ও ভিডিও রয়েছে।

তিনি চিঠির কথামত ১৮জানুয়রি রাত ৮টার দিকে একটি ব্যাগে করে কাগজ দিয়ে টাকা বানিয়ে খামে ভরে ওই মান্দারতলা এলাকায় রেখে আসেন। এসময় তিনি সহ অন্যান্য লোকজন আশেপাশে পাহারা দিতে থাকেন। কিছু সময় পর একটি লোক ব্যাগটি নিয়ে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে। এসময় স্থানীয় লোকজন তাকে আটক করে। পরে অহিদ মোড়লকে থানা পুলিশের নিকট সোর্পদ করেন।

গ্রেপ্তারকৃত আসামী অহিদ মোড়ল গোসলের ভিডিও কখন কিভাবে ধারন করেছে তা কিশোরী ও তার পরিবারের লোকজন জানেন না। ভিডিওটি গোপনে ধারন করা হয়েছে বলে তারা জানান।

ফকিরহাট মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. আশরাফুল আলম এ তথ্য নিশ্চিত করে বলেন, একজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তার বিরুদ্ধে থানায় একটি পর্ণগ্রাফী আইনে মামলা হয়েছে। শুক্রবার (১৯ জানুয়ারি) আসামীকে বাগেরহাট বিজ্ঞ আদালতে সোর্পদ করা হবে। মামলাটি তদন্তধিন রয়েছে।

Daily World News

অভয়নগরে সেনা সদস্যের পরিচয়ে তরুণীদের সাথে প্রেমের সম্পর্ক করে  প্রতারনা ও  অর্থ হাতনোর অভিযোগ  

গ্রেপ্তার হওয়া ভুয়া চিকিৎসক মুনিয়া খান টিকটক সেলিব্রিটি

//দৈনিক বিশ্ব নিউজ ডেস্ক //

ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতাল থেকে আনসার সদস্যরা মুনিয়া খান রোজা (২৫) নামে এক ভুয়া গাইনি চিকিৎসককে আটক করেন। এরপর তাকে প্রতারণার মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতে পাঠায় পুলিশ। সেখান থেকে ওই তরুণীর ঠাই হয় জেলহাজতে। গত শনিবারের এ ঘটনা ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে এবং একটি ভিডিও সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে।

অভিযুক্ত তরুণী ঢাকা মেডিকেল থেকে বেসরকারি হাসপাতালে রোগী ভাগিয়ে নিতেন এবং সুযোগ পেলে চিকিৎসকদের রুমে ঢুকে মোবাইলসহ বিভিন্ন মালামাল চুরি করতেন। এ ছাড়া নীলক্ষেত থেকে অ‍্যাপ্রোন, আইডি কার্ড এবং মিডফোর্ড থেকে স্টেথোস্কোপ কিনে প্রতারণায় ব্যবহার করতেন এবং নিজেকে চিকিৎসক পরিচয় দিতেন।

একাধিক সূত্রে জানা যায়, অভিযুক্ত মুনিয়া খান রোজা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম টিকটকের সেলিব্রিটি। তিনি ডাক্তার সেজে ও বিভিন্ন চিকিৎসা সরঞ্জামাদি নিয়ে ঢামেকে টিকটক ভিডিও তৈরি করতেন। টিকটকে নিজেকে চিকিৎসক হিসেবেও পরিচয় দিতেন এই তরুণী।

ঢামেকের নতুন ভবনের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্র (আইসিইউ) থেকে শনিবার ওই তরুণীকে আটকের পর বেরিয়ে আসে এসব তথ্য।

চিকিৎসকের মিথ্যা পরিচয় দেওয়া মুনিয়া খান চাঁদপুর সদরের হামান কর্দ্দি গ্রামের প্রয়াত মো. করিম খানের মেয়ে। তিনি পুরান ঢাকার নাজিম উদ্দিন রোডে ভাড়া বাসায় থাকেন।

ঢামেক হাসপাতালের মেডিসিন ভবনের ওয়ার্ড মাস্টার জিল্লুর রহমান বলেন, শনিবার ভুয়া এক গাইনি চিকিৎসককে নতুন ভবনের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্র (আইসিইউ) থেকে আনসার সদস্যরা আটক করেন। পরে তাকে শাহবাগ থানায় হস্তান্তর করা হয়। এই ঘটনায় আমি বাদী হয়ে শাহবাগ থানায় প্রতারণার মামলা করি। পরদিন রোববার সেই মামলায় তাকে আদালতে পাঠায় পুলিশ।

তিনি আরও বলেন, ওই ভুয়া নারী চিকিৎসক অ‍্যাপ্রোন পরে ও গলায় স্টেথোস্কোপ দিয়ে আইসিইউয়ের ভেতরে ঢুকে বিভিন্ন রুমে যাওয়া-আসা করছিলেন। পরে আনসার সদস্যদের সন্দেহ হলে তাকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। প্রথমে ওই নারী বহির্বিভাগের গাইনি চিকিৎসক বলে পরিচয় দিলেও পরে তিনি স্বীকার করেন— তিনি কোনো চিকিৎসক নন।

এদিকে সিসিটিভি ফুটেজে ওই নারীর বিভিন্ন রুমে যাওয়া-আসার দৃশ্য দেখা যায়। হুবহু চিকিৎসকের মতো সেজে ইচ্ছেমতো আইসিইউয়ের ভেতর দিয়ে তিনি ঘুরে বেড়ান।

এ প্রসঙ্গে হাসপাতালের আনসার প্লাটুন কমান্ডার (পিসি) উজ্জ্বল বেপারী বলেন, অভিযুক্ত তরুণী আটকের সময় ডাক্তারদের ব্যবহারের অ্যাপ্রোন পরা অবস্থায় ছিলেন। তাকে দেখে বোঝার উপায় নেই— তিনি ডাক্তার নন। একপর্যায়ে তিনি চিকিৎসক নন বলে আমাদের কাছে স্বীকারও করেন।

অপরদিকে অভিযুক্ত মুনিয়া প্রথমে নিজেকে চিকিৎসক দাবি করলেও পরে ভুয়া ডাক্তারের বিষয়টি স্বীকার করেন। তিনি বলেন, সত্যিকার অর্থে আমি কোনো চিকিৎসক নই, চিকিৎসা পেশার সঙ্গে আমি জড়িতও নই। আমি নীলক্ষেত থেকে ৫৫০ টাকা দিয়ে অ্যাপ্রোন কিনি এবং মিটফোর্ড এলাকা থেকে স্টেথোস্কোপ ক্রয় করি। এরপর নীলক্ষেত থেকে একটি আইডি কার্ড বানাই।

অভিযুক্ত মুনিয়ার টিকটক আইডিতে ঢুকে দেখা যায়, তিনি ঢাকা মেডিকেলের বিভিন্ন ওয়ার্ডে বসে রোগী দেখছেন এবং চিকিৎসা দিচ্ছেন। এমন আরো অসংখ্য ভিডিও তার প্রোফাইলে রয়েছে। যেগুলো বিভিন্ন সময়ে আপলোড দেওয়া।

অভিযুক্ত তরুণীকে কারাগারে পাঠানোর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা শাহবাগ থানার উপপরিদর্শক (এসআই) সানাউল হক।

তিনি বলেন, শনিবার মধ্যরাতে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল থেকে এক ভুয়া চিকিৎসককে আটক করে থানায় নিয়ে আসা হয়। পরে ঢামেক হাসপাতালের ওয়ার্ড মাস্টার জিল্লুর রহমান বাদী হয়ে শাহবাগ থানায় (মামলা নং-৪১) প্রতারণার একটি মামলা দায়ের করেন। সেই মামলায় তাকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতে পাঠালে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন বিচারক।

Daily World News

রূপসায় বাগমারায় নির্বাচনী কমিটির মতবিনিময়

কুকুরের মাংস দিয়ে বিরিয়ানী বিক্রী || খুলনায় আটক-৪

//বিশেষ প্রতিনিধি//

খুলনায় গরু ও খাসির মাংসের কথা বলে কুকুরের মাংস দিয়ে তৈরি বিরিয়ানি বিক্রির অভিযোগে তিন কিশোরসহ চারজনকে আটক করেছে পুলিশ। গতকাল বুধবার বিকেলে খুলনা সরকারি পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটের পরিত্যক্ত একটি ভবন থেকে তাদের আটক করা হয়।

আটক সবাই খালিশপুর পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটের আশপাশের এলাকার বাসিন্দা। তিন কিশোরের বাইরে আটক অন্যজন হলেন খালিশপুরের বঙ্গবাসী মোড় এলাকার নর্থ জোন-২৩-এর হাবিবুর রহমানের ছেলে মো. আবু সাইদ (৩৭)।

পুলিশ ও স্থানীয় লোকজন জানান, এক মাস ধরে কয়েকজন কিশোর এলাকার বিভিন্ন জায়গা থেকে কুকুর ধরে পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটের পরিত্যক্ত ভবনে নিয়ে যেত। বেশ কয়েকবার একই ঘটনা ঘটায় ও পরিত্যক্ত ভবন থেকে কয়েক দিন ধরে দুর্গন্ধ আসায় স্থানীয় লোকজনের সন্দেহ হয়।

গতকাল বিকেলে এলাকার লোকজন কয়েকজনকে একটি কুকুর নিয়ে সেখানে যেতে দেখেন। খবর দিলে পুলিশ এসে তিনজনকে আটক করে। পরে ওই মাংস দিয়ে বিরিয়ানি রান্না করে বিক্রি করে এমন একজনকেও আটক করা হয়। এ সময় সেখানে পা বেঁধে গলা কেটে রাখা একটি কুকুর পাওয়া যায়।

গতকাল রাতে খালিশপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. আনোয়ার হোসেন এই খবরের সত্যতা নিশ্চিত করেন। তিনি বলেন, আটক ব্যক্তিরা জানিয়েছে যে তারা প্রায় এক মাস ধরে কুকুরের মাংস দিয়ে বিরিয়ানির ব্যবসা করছিল। ভবনটি থেকে অনেক কুকুরের চামড়া ও হাড় উদ্ধার করা হয়েছে। প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের পক্ষ থেকে অভিযুক্ত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে প্রাণী কল্যাণ আইনে মামলা করা হবে।

একজন পৌর সচিব শতকোটি টাকার মালিক…!

//দৈনিক বিশ্ব ডেস্ক//

যশোর জেলার শার্শা উপজেলার বেনাপোল পৌরসভার সচিব ছিলেন রফিকুল ইসলাম। চাকরিকালে ব্যাপক অনিয়ম-দুর্নীতির মাধ্যমে তিনি বিপুল সম্পদের মালিক হয়েছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।

রফিকুলের বিরুদ্ধে শতকোটি টাকার অবৈধ সম্পদ অর্জনের একটি অভিযোগ দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) অনুসন্ধান করছে বলে সূত্র নিশ্চিত করেছে।

অনুসন্ধানে জানা গেছে, ‘রাইসা বিল্ডার্স’ নামের একটি নির্মাণপ্রতিষ্ঠানের পরিচালক পদে আছেন রফিকুল। প্রতিষ্ঠানটির স্বত্বাধিকারী তাঁর স্ত্রী ইসরাত জাহান। রফিকুল পৌর সচিব থাকাকালে প্রতিষ্ঠানটি চালু করা হয়।

রাইসা বিল্ডার্স রাজধানীর মিরপুরের পীরেরবাগে একটি ১০ তলা (আবাসিক-বাণিজ্যিক) ও একটি ৯ তলা ভবন (আবাসিক) নির্মাণ করেছে। পীরেরবাগে প্রতিষ্ঠানটির আরেকটি ১০ তলা আবাসিক ভবন নির্মাণাধীন। এসব ভবন নির্মাণের ক্ষেত্রে কোথাও থেকে ঋণ নিতে হয়নি বলে রফিকুল নিজেই স্বীকার করেছেন।

অনুসন্ধানে আরও জানা গেছে, চাকরিকালে ঢাকার অদূরে সাভারের আশুলিয়ায় জুতার একটি কারখানা গড়ে তোলেন রফিকুল। বর্তমানে এই কারখানায় প্রায় দুই শ শ্রমিক কাজ করছেন।

বেনাপোল পৌরসভা-সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্রের ভাষ্য, চাকরিকালে পৌরসভার বিভিন্ন কাজের টেন্ডার নিয়ন্ত্রণ, অর্থের বিনিময়ে পছন্দের ঠিকাদারকে কাজ দেওয়া, কাজ শেষ হওয়ার আগেই ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে টাকা পরিশোধের ব্যবস্থা করতেন রফিকুল। এসব করে তিনি বিভিন্ন ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান থেকে বিপুল অঙ্কের টাকা পেতেন।

এ ছাড়া তিনি অন্য ঠিকাদারের লাইসেন্সে নিজেই পৌরসভার বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পের কাজ করতেন। এভাবে তিনি অবৈধভাবে অঢেল সম্পদের মালিক হয়েছেন।

রফিকুলের বাড়ি মাদারীপুর জেলায়। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, তিনি ১৯৯৮ সালে পৌর সচিব পদে চাকরি শুরু করেন। বেনাপোল পৌরসভায় কর্মরত অবস্থায় তাঁর বিরুদ্ধে অনিয়ম-দুর্নীতির বিভিন্ন অভিযোগ ওঠে। ২০২১ সালের আগস্টে তিনি চাকরি থেকে ইস্তফা দেন।

দেশে তিন শ্রেণির পৌরসভা আছে। প্রথম (ক) শ্রেণির পৌরসভায় কর্মরত নির্বাহীদের (সাবেক পৌর সচিব) বেতন স্কেল ৯ম গ্রেডের, দ্বিতীয় (খ) শ্রেণির ১০ম গ্রেডের, তৃতীয় (গ) শ্রেণির ১১তম গ্রেডের। বেনাপোল পৌরসভাকে ২০১১ সালে ক শ্রেণিতে উন্নীত করা হয়।

রফিকুল সচিব থাকাকালে তিনি বেনাপোল পৌরসভার তৎকালীন মেয়র আশরাফুল আলমের কাছ থেকে নানা অবৈধ সুযোগ পেতেন বলে অভিযোগ আছে। তবে এই অস্বীকার করেছেন সাবেক মেয়র আশরাফুল। তিনি প্রথম আলোকে বলেন, ‘আমার কাছ থেকে রফিকুল কোনো অবৈধ সুবিধা পাননি।’

পৌরসভার সচিব পদে চাকরি করে কীভাবে এত সম্পদের মালিক হলেন, তা জানতে সম্প্রতি রফিকুলের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়। তিনি প্রথম আলোকে বলেন, ‘আমার যত সম্পদ আছে, সবকিছু আয়কর বিবরণীতে দেখানো আছে।’

অনিয়ম-দুর্নীতির অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে রফিকুল ফোন কেটে দেন। পরে তাঁর স্ত্রী ইসরাতের সঙ্গে কথা হয়। নির্মাণপ্রতিষ্ঠান খুলে একাধিক বহুতল ভবন করার জন্য টাকা কোথায় পেলেন, তা জানতে চাইলে তিনি ফোন কেটে দেন। পরে একাধিকবার তাঁর সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হয়। তবে তিনি ফোন ধরেননি।

জানতে চাইলে দুদকের সমন্বিত জেলা কার্যালয়ের (যশোর) উপপরিচালক মো. আল আমিন সম্প্রতি  বলেন, ‘রফিকুলের বিরুদ্ধে অবৈধভাবে বিপুল সম্পদ অর্জনের অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগটি অনুসন্ধান পর্যায়ে আছে।’

দুদক সূত্র জানায়, অভিযোগ অনুযায়ী, বিভিন্ন ব্যাংকে নামে-বেনামে বিপুল পরিমাণ অবৈধ টাকাও রয়েছে রফিকুল-ইসরাত দম্পতির। আছে একাধিক গাড়িও।

আরও অভিযোগ

মিরপুরের পীরেরবাগের ৬০ ফিট সড়কের পাশে ‘রাইসা অ্যান্ড শিকদার টাওয়ার’ নামের একটি ১০ তলা ভবন নির্মাণ করেছে রফিকুল-ইসরাতের রাইসা বিল্ডার্স। তিনজন মালিকের প্রায় আট কাঠা জমির ওপর ২০১৪ সালে ভবনটি নির্মাণ করা হয় বলে জানা যায়। তবে চুক্তি অনুযায়ী জমির মালিকেরা তাঁদের ফ্ল্যাটের অংশ ঠিকঠাক বুঝে পাননি বলে অভিযোগ।

জমির দুজন মালিক প্রথম আলোকে বলেন, নিজের অংশের ফ্ল্যাটের কাজ ঠিকভাবে শেষ করেছেন রফিকুল। কিন্তু জমির মালিকদের অংশের সব ফ্ল্যাটের কাজ শেষ করা হয়নি। এই কাজ রফিকুল করেও দিচ্ছেন না।

জমির তিন মালিকের একজন রেহেনা রউফ। তিনি সম্প্রতি বলেন, ‘চুক্তি অনুযায়ী, জমির মালিকদের ভবনের মোট ফ্ল্যাটের ৫০ শতাংশ দেওয়ার কথা। কিন্তু আমাদের অংশ সঠিকভাবে বুঝিয়ে দেওয়া হয়নি। আমার ভাগে দুটি ফ্ল্যাটের কাজ শেষ করা হয়নি। পরে কিছুদিন আগে আমি নিজের টাকায় এই কাজ শেষ করেছি।’

রেহেনা রউফ আরও বলেন, ‘আমাদের অংশ বুঝিয়ে না দিয়ে উল্টো মামলা করা হয়েছে। এতে আমরা হয়রানির শিকার হচ্ছি। আমিও আমার পাওনা ঠিকভাবে বুঝে পেতে মামলা করেছি।’ সূত্র : প্রথম আলো

Daily World News

ফৌজদারি আইনে মৃত্যুদণ্ডের বিধান বাতিল চেয়ে রিট আবেদন

ফকিরহাটে নাশকতা মামলায় ইউপি সদস্য প্রেপ্তার

জেনিভা প্রিয়ানা, বিশেষ প্রতিনিধি ||

ফকিরহাটে নাশকতা মামলায় মো. মাসুদ রানা আরিফ (৫০) নামে এক ইউপি সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। বৃহস্পতিবার দুপুরে তাকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে বলে পুলিশ নিশ্চিত করেছে।

ফকিরহাট মডেল থানা পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার ধনপোতা গ্রামের মো. আয়ুব আলী শেখের ছেলে অরিফের বিরুদ্ধে গত অক্টোবর মাসে নাশকতার মামলা হয়। মামলা নং-৯। ওই মামলায় তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। মো. মাসুদ রানা আরিফ ফকিরহাটের বেতাগা ইউনিয়নের ৩নং ওয়ার্ডের নির্বাচিত ইউপি সদস্য। তিনি উপজেলা বিএনপি’র আহবায়ক কমিটির সদস্য বলে জানা গেছে।

ফকিরহাট মডেল থানার ওসি মো. আশরাফুল আলম বলেন, নাশকতা মামলায় গ্রেপ্তারকৃত আরিফকে বৃহস্পতিবার দুপুরে বাগেরহাট আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

তালতলীতে সুফল প্রকল্পের অনিয়মের অভিযোগ

//সাইফুল্লাহ নাসির, বরগুনা প্রতিনিধি//

বরগুনার তালতলীতে টেকসই বন ও জীবিকা (সুফল) প্রকল্পের বিভিন্ন কাজের অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে রেঞ্চ মনিরুল ইসলাম ও বিট কর্মকর্তার ফজলুল হকের বিরুদ্ধে। স্থানীয় ১১টি ভিসিএফ সমিতির হাতে দায়িত্ব ও ক্ষমতা দেওয়া থাকলেও তা বাস্তবে নেই। এই রেঞ্চ ও বিট কর্মকর্তার সেচ্ছাচারিতায় মুখ থুবরে পড়েছে সরকারে এই প্রকল্প।

জানা যায়, গত ২০২১-২২ অর্থ বছরে উপজেলার সংরক্ষিত বন এলাকা বড়বগী,সোনাকাটা ও নিশানবাড়িয়া ইউনিয়নের টেকসই বন ও জীবিকা (সুফল) প্রকল্প দেয় বন বিভাগ। এই প্রকল্প বাস্তবায়নের জন্য ঘর ভাড়া নিয়ে ঐ তিনটি ইউনিয়নে ১১ টি ভিসিএফ সমিতি করা হয়। সেখানে ঘর ভাড়া মাসে ২৫’শ টাকা চুক্তি হয়। তবে চুক্তি অনুযায়ী ঘর ভাড়ার টাকা দেওয়া হয়নি। এই সমিতিতে সঞ্চয় ও ঋণ পরিচালনা করার জন্য প্রতি মাসে ৫ হাজার টাকা করে এক জন ক্যাশিয়ার (বুক কিপার) নিয়োগ দেওয়া হলেও সেই সম্মানী ভাতার টাকা দেওয়া হয়নি। ঐ এলাকার বন নির্ভরশীল মানুষকে সচেতন করার জন্য প্রশিক্ষন দেওয়ার কথা থাকলেও নামে মাত্র প্রশিক্ষন দেওয়া হয়েছে। বনকে সুরক্ষা করার জন্য স্থানীয়দের সম্মানী ভাতার মাধ্যমে প্রহরী নিয়োগ করে থাকলেও তাদের কোনো ধরনের সম্মানী ভাতা দেওয়া হয়নি। এছাড়া টেকসই বন ও জীবিকা(সুফল) প্রকল্পের ১১টির ভিসিএফ সমিতির অন্যান্য প্রকল্পগুলো সঠিক ভাবে বাস্তবায়ন করছে না তারা। এই সব অভিযোগের  উপজেলা রেঞ্চ কর্মকর্তা মনিরুল ইসলাম ও নিশানবাড়িয়া বিট কর্মকর্তা একে এম ফজলুল হক।

সংশ্লিষ্ট ভিসিএফ কমিটির সওদাগার পাড়ার সভাপতি মনোয়ার হোসেন মীর,কবিরাজপাড়ার সভাপতি মি.মংথিন জো  ও নামেশেপাড়ার সভাপতি মি.মংচিন থান বলেন,রেঞ্চ ও বিট কর্মকর্তার অনিয়ম ও দূর্নীতি কারণে সরকারের এই প্রকল্পটি মুখ থুবরে পড়েছে। প্রকল্পের শর্ত অনুযায়ী আমাদের হাতে ক্ষমতা দেওয়া থাকলেও তারা কোনো ক্ষমতাই দেয়নি। সমিতির টাকা ব্যাংক থেকে উঠানোর জন্য চেকে স্বাক্ষর নিয়ে যায়। সেই টাকা কি করে কোথায় খরচ করে তাও আমাদের জানায় না। এর প্রতিবাদ করতে গেলে আমাদের সবাইকে হুমকি দেয়।

কবিরাজপাড়া সমিতির ক্যাশিয়ার(বুক কিপার) রিপা বলেন, আমি বুক কিপার হিসেবে আমি দুই বছর যাবৎ কাজ করে আসছি। গত তিন মাস আগে আমারদের জন্য মাসে ৫ হাজার টাকা করে সম্মানী দেওয়ার বরাদ্দ হয়। তবে আমাদের তিন মাসের ১৫ হাজার টাকা দেওয়ার কথা থাকলেও মাত্র ৫ হাজার টাকা দিয়ে তিন মাসেইর স্বাক্ষর নিয়ে যায়। তখন বলেন বাকি দুই মাসের টাকা বিভিন্ন অফিস খরচ বলে আমাদের পাঠিয়ে দেয়। ১১টি সমিটির ১১ জন বুক কিপারের টাকাই রেখে দিয়েছেন রেঞ্চ ও বিট কর্মকর্তা। এমন অভিযোগ এই ১১টি সমিটির সকল বুক কিপারের।

এবিষয়ে তালতলী রেঞ্চ কর্মকর্তা মনিরুল ইসলাম বলেন আমি কিছু জানি না। এটা ঐ সমিতির লোকজনের নামে ব্যাংকে টাকা আসে তারাই ভালো জানে। আমরা শুধু এই প্রকল্পের তরারকি করি।

পটুয়াখালী বিভাগীয় বন কর্মকর্তা শফিকুল ইসলাম বলেন,এবিষয়ে যদি কেউ অভিযোগ করেন তাহলে তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

Daily World News

তফসিল ঘোষণার পরপরই আমতলী উপজেলা আওয়ামী লীগের সভা ও শান্তি মিছিল

আমতলীতে কাজী বানিজ্য! ১২০ দিনে নয় বছর, চলছে ভুয়া কাজীর রমরমা অবৈধ বানিজ্য

সাইফুল্লাহ নাসির,আমতলী (বরগুনা) প্রতিনিধিঃ

বরগুনার আমতলী পৌরসভার ৯টি ওয়ার্ডে নিকাহ রেজিস্ট্রার ও কাজীর ৫টি শুন্য পদে দীর্ঘ নয় বছরেও নিয়োগ না দেওয়ার সুযোগে সর্বোচ্চ একশত বিশ দিনের জন্য অতিরিক্ত দায়িত্ব পাওয়া দুই কাজী মেয়াদ শেষ হওয়ার পরেও বিধি-বিধানের তোয়াক্কা না করে টানা নয় বছরেরও বেশি সময় ধরে প্রকাশ্যে কাজীর অফিসের সাইনবোর্ড লাগিয়ে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে অবৈধ দুই কাজী।এদিকে সংবাদ সংগ্রহকালে ভুয়া কাজীর বিষয়টি জানাজানি হলে কাজী জয়নুল ও শাহ আলম গভীর রাতে সাইনবোর্ড খুলে অফিস তালাবদ্ধ করে দেয়।

মুসলিম বিবাহ ও তালাক (নিবন্ধন) বিধিমালা ২০০৯ এর বিধি ৬ অনুযায়ী সংশ্লিষ্ট সাব রেজিস্ট্রার নিকাহ রেজিস্ট্রারের পদ শুন্য হওয়ার সর্বোচ্চ একশত বিশ দিনের মধ্যে উক্ত শুন্য পদে নতুন নিকাহ রেজিস্ট্রার ও কাজী নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করবেন এবং ঐ একশত বিশ দিনের জন্য সংশ্লিষ্ট জেলা রেজিস্ট্রার পার্শ্ববর্তী কোন নিকাহ রেজিস্ট্রার ও কাজীকে উক্ত শুন্য পদে সর্বোচ্চ একশত বিশ দিনের জন্য অতিরিক্ত দায়িত্ব প্রদান করিতে পারিবেন।

প্রাপ্ত তথ্য থেকে জানা গেছে, আমতলী পৌরসভার ৪,৫ ও ৬ নং ওয়ার্ডের নিকাহ রেজিস্ট্রার ও কাজী ২০১৫ইং সালে অবসর গ্রহণ করেন এবং ১,২,৩,৭,৮ ও ৯ নং ওয়ার্ড গুলো তারও আগ থেকে শুন্য ছিল।পৌরসভার এই ৯টি ওয়ার্ডে ২০১৫ সালে দুইজন নিকাহ রেজিস্ট্রারকে একশত বিশ দিনের জন্য অতিরিক্ত দায়িত্ব প্রদান করলেও উক্ত কাজী দ্বয় জেলা রেজিস্ট্রার অফিসের কতিপয় অসাধু কর্মচারীর সাথে যোগসাজশে বিভিন্ন কৌশলে ৯ বছরের বেশী সময় ধরে অবৈধভাবে নিকাহ রেজিস্ট্রার ও কাজীর অতিরিক্ত দায়িত্ব পালন করে হাতিয়ে নিচ্ছে কোটি কোটি টাকা।

এ বিষয়ে নিকাহ রেজিস্ট্রার ও কাজীর সংশ্লিষ্ট জনৈক ব্যক্তি বলেন,আমতলী পৌরসভায় বছরে সাতশত বিয়ে হলে এবং প্রতিটি বিয়েতে তিন হাজার টাকা ফি গ্রহণ করলে প্রতি বছরে ২১ (একুশ) লক্ষ টাকা আয় আসে। সে হিসাবে নয় বছরে প্রায় দুই কোটি টাকা আয় করেছে দুই কাজী।এছাড়াও তালাক রেজিস্ট্রিকরণ ও নকল এর ফি রয়েছে।

এ ছাড়াও আমতলী সদর ইউনিয়ন ও পৌর সভার একশত বিশ দিনের অতিরিক্ত দায়িত্ব পাওয়া নিকাহ রেজিস্ট্রার ও কাজী যথাযথ কর্তৃপক্ষের অনুমতি না নিয়ে এবং কাউকে দায়িত্বে না রেখে ২০২০ইং সালের জানুয়ারি মাসে সৌদিতে গিয়েছিলেন।প্রশ্ন উঠেছে তার সৌদিতে থাকা কালীন সময়ে আমতলী সদর ইউনিয়ন ও পৌর সভায় নিকাহ রেজিস্ট্রার ও কাজীর দায়িত্ব কে এবং কিভাবে পালন করেছে?

এসব বিষয়ে জানতে চাইলে পৌর সভার বর্তমান কাজী মোঃ জয়নুল আবেদীন বলেন,আমি যে টাকা পাই তার ৫০% (পঞ্চাশ ভাগ) উপজেলা সাব রেজিস্ট্রার, জেলা রেজিস্ট্রার,আইজিআর সহ বিভিন্ন অফিসে দিতে হয়। কাউকে অতিরিক্ত দায়িত্ব না দিয়ে এবং কর্তৃপক্ষকে না জানিয়ে সৌদিতে যাওয়ার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি নিরুত্তর থাকেন।এ ছাড়াও কাজী জয়নুল আবেদীনের মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডের আলিম পাশের সনদ জ্বাল বলে অভিযোগ রয়েছে। সে বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ বরাবরে তথ্য অধিকার আইনে তথ্য চেয়ে আবেদন করা হয়েছে।

এ বিষয়ে উপজেলা সাব রেজিস্ট্রার নুরুল আবসার বলেন,আমি অত্র অফিসে যোগদানের পর আমতলী পৌরসভায় নিকাহ রেজিস্ট্রার ও কাজীর পাঁচটি শুন্য পদে নিয়োগ প্রক্রিয়া শুরু করেছি। অচিরেই নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন হবে।নয় বছর ধরে অতিরিক্ত দায়িত্ব পালনকারী দুই নিকাহ রেজিস্ট্রার ও কাজীর সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি বলেন, এ বিষয়টি জেলা রেজিস্ট্রার এর এখতিয়ারাধিন।

এ বিষয়ে বরগুনা জেলা রেজিস্ট্রার মোঃ সিরাজুল করিম বলেন,নিকাহ রেজিস্ট্রার ও কাজী নিয়োগের বিষয়টি উপজেলা সাব রেজিস্ট্রারের।বিষয়টি বিলম্বিত হওয়ায় উপজেলা সাব রেজিস্ট্রারকে পত্র দিয়ে নিয়োগ প্রক্রিয়া ত্বরান্বিত করতে বলা হয়েছে। দীর্ঘ নয় বছর ধরে দুইজন নিকাহ রেজিস্ট্রার ও কাজীর অতিরিক্ত দায়িত্ব পালন প্রসঙ্গে বলেন,বিধি অনুযায়ী সর্বোচ্চ একশত বিশ দিনের জন্য দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।এই সময়ের পর উক্ত নিকাহ রেজিস্ট্রার ও কাজীর অতিরিক্ত দায়িত্ব পালন করার কোন বিধান নেই। এখনো পৌরসভায় নিকাহ রেজিস্ট্রার ও কাজী’র অতিরিক্ত দায়িত্ব কিভাবে পালন করছে জানতে চাইলে তিনি বলেন,তদন্ত করে উক্ত নিকাহ রেজিস্ট্রার ও কাজীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। কাজী জয়নুল আবেদীন এর সৌদিতে যাওয়ার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন,তিনি সৌদিতে যাওয়ার জন্য অফিসের কোন অনুমতি নেননি তবে এটি সহ সকল বিষয়ের তদন্ত পূর্বক আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

এ বিষয়ে আমতলী উপজেলা নির্বাহী অফিসার এবং নিকাহ রেজিস্ট্রার ও কাজী নিয়োগ কমিটির সদস্য মোহাম্মদ আশরাফুল আলম বলেন,আমি বিষয়টি জেনে উপজেলা সাব-রেজিস্ট্রার ও জেলা রেজিস্ট্রারের সাথে কথা বলেছি তারা আমাকে বলছেন দ্রুত সময়ের মধ্যে শূন্য পদে নিয়োগ প্রক্রিয়া শুরু করবেন এবং নির্দিষ্ট সময়ের পরেও নিকাহ রেজিস্ট্রার ও কাজীর অতিরিক্ত দায়িত্ব পালন করার বিষয়ে তদন্ত পূর্বক আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন।

কচুয়ায় ভুয়া ডাক্তারের কারাদন্ড

//শুভংকর দাস বাচ্চু, কচুয়া, বাগেরহাট //

কচুয়ায় ভুয়া ডাক্তারের জেল দিয়েছেন ভ্রাম্যমান আদালত।

কচুয়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও নির্বাহী হাকিম রাখী ব্যানার্জীর নেতৃত্বে মঙ্গলবার দুপুরে উপজেলা সদরে অভিযান চালিয়ে মো.লোকমান হোসেন (৩৯) নামের একজনকে আটক করা হয়। এসময়ে তার কাছে চিকিৎসা দেয়া সংক্রান্ত বৈধ কোন কাগজ না থাকায় তিন মাসের কারাদন্ড দেয়া হয়। সাজাপ্রাপ্ত মো.লোকমান হোসেন (৩৯) মোরেলগঞ্জ উপজেলার কিসমত গড়ঘাটা গ্রামের মো.শামসুল হক ফকিরের ছেলে।

কচুয়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও নির্বাহী হাকিম রাখী ব্যানার্জী বলেন, চিকিৎসা দেয়া সংক্রান্ত বৈধ কোন কাগজ না থাকায় মেডিকেল ও ডেন্টাল কাউন্সিল আইন ২০১০ এর ২২ এবং ২৯ ধারা মতে তিন মাসের কারাদন্ড দেয়া হয়েছে। অপরাধ নির্মূলে ভ্রাম্যমান আদালতের অভিযান অব্যাহত থাকবে।#