বরিশালে যথাযথ মর্যাদায় শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবস পালিত

শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবসের প্রথম প্রহরে বরিশাল নগরীর ওয়াপদা কলোনীর নির্যাতন কেন্দ্র ও বধ্যভূমি স্মৃতি-৭১ স্তম্ভে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন সিটি কর্পোরেশনের কাউন্সিলর-কর্মকর্তা এবং জেলা ও মহানগর আওয়ামী লীগসহ সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা।

এছাড়া মঙ্গলবার সকালেও বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ ফুলেল শ্রদ্ধা নিবেদন করেন।

শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবসের প্রথম প্রহরে সোমবার দিবাগত রাত ১২টা ১ মিনিটে টর্চার সেলের স্মৃতি স্তম্ভে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন সিটি কর্পোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা সৈয়দ ফারুক আহমেদ এবং কাউন্সিলররা। পরে পর্যায়ক্রমে জেলা আওয়ামী লীগের পক্ষে সাধারণে সম্পাদক তালুকদার মো. ইউনুস এবং মহানগর আওয়ামী লীগের পক্ষে সভাপতি কেএম জাহাঙ্গীর পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন। এছাড়া আওয়ামী লীগের বিভিন্ন অঙ্গ সংগঠনের নেতৃবৃন্দ ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন।

মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ১০টায় নগরীর ত্রিশ গোডাউন বধ্যভূমি স্মৃতি স্তম্ভে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন বিভাগীয় কমিশনার মো. সাইফুল হাসান বাদল, ডিআইজি এসএম আক্তারুজ্জামান, মেট্রোপলিটন পুলিশ, জেলা প্রশাসক, মুক্তিযোদ্ধা সংসদের নেতৃবৃন্দ ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন।

বেলা ১১টায় জেলা প্রশাসক কার্যালয় সংলগ্ন শহীদ মুক্তিযোদ্ধা স্মৃতি ফলকে সদর আসনের এমপি ও পানি সম্পদ প্রতিমন্ত্রী কর্নেল (অব.) জাহিদ ফারুকের পক্ষে মহানগর যুবলীগের যুগ্ম আহ্বায়ক মাহমুদুল হক খান মামুন ফুলের শ্রদ্ধা নিবেদন করেন।

এদিকে দিবসটি উপলক্ষে বেলা ১১টায় সার্কিট হাউজে জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে এক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।

অপরদিকে দিবসটি উপলক্ষে বিকাল ৩টায় সদর রোডের দলীয় কার্যালয়ে এক আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়।

//নিজস্ব প্রতিবেদক: বরিশাল//

পড়ুন দৈনিক বিশ্ব …

রাণীশংকৈলে শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবস উপলক্ষে আলোচনা সভা

 

রাণীশংকৈলে শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবস উপলক্ষে আলোচনা সভা

//মাহাবুব আলম, রাণীশংকৈল ঠাকুরগাঁও প্রতিনিধি//

ঠাকুরগাঁওয়ের রাণীশংকৈলে উপজেলা প্রশাসনের আয়োজনে ১৪ ডিসেম্বর শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবস পালন উপলক্ষে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।

এ উপলক্ষে সকাল ১১টায় উপজেলা কনফারেন্স রুমে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সোহেল সুলতান জুলকার নাইন কবিরের সভাপতিত্বে প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন, উপজেলা চেয়ারম্যান  শাহারিয়ার আজম মুনা।

বিশেষ অতিথি , এসিল্যান্ড ইন্দ্রজিৎ সাহা, ভাইসচেয়ারম্যান সোহেল রানা ও শেফালি বেগম, ওসি জাহিদ ইকবাল প্রেসক্লাব প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি আনোয়ারুল ইসলাম, বীর মুক্তি যোদ্ধা হবিবর রহমান প্রমুখ।

এছাড়াও বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা, জনপ্রতিনিধি, রাজনৈতিক – সামাজিক ব্যক্তিবর্গ, শিক্ষক ও সাংবাদিকরা উপস্থিত ছিলেন।সন্ধ্যা সাড়ে ৭ টা ৩০ মিনিটে উপজেলা পরিষদ চত্বরে বঙ্গবন্ধুর ম্যূরালে মোমবাতি জ্বালিয়ে শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানানো হয়।

আজ বুদ্ধিজীবী দিবস।।  স্মৃতিসৌধে রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর শ্রদ্ধা

//দৈনিক বিশ্ব ডেস্ক//

শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবস উপলক্ষে জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তানদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়েছেন রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ এবং প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। মঙ্গলবার সকালে তাদের পক্ষ থেকে মিরপুর শহীদ বুদ্ধিজীবী স্মৃতিসৌধে শ্রদ্ধা জানানো হয়।

এদিকে দিবসটি উপলক্ষে নেয়া হয়েছে জাতীয় কর্মসূচি। রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ এবং প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এ উপলক্ষে পৃথক বাণী দিয়েছেন।

এছাড়া বিভিন্ন রাজনৈতিক দল, সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও পেশাজীবী দল ও সংগঠনের নেতাকর্মীরা ও সাধারণ মানুষ মিরপুর ও রায়েরবাজার শহীদ বুদ্ধিজীবী স্মৃতিসৌধে শ্রদ্ধা জানান।

নীলফামারীতে ৫০ তম হানাদারমুক্ত দিবস পালিত

//মোঃ মোস্তাফিজুর রহমান, নীলফামারী প্রতিনিধি//

নীলফামারীতে ৫০ তম হানাদারমুক্ত দিবস পালিত হয়েছে। বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা সংসদ নীলফামারী সদর উপজেলা কমান্ড এর আয়োজনে সোমবার (১৩ ডিসেম্বর) ৫০ তম নীলফামারী হানাদারমুক্ত দিবস উপলক্ষে নীলফামারী কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার প্রাঙ্গণে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।

বীর মুক্তিযোদ্ধা কান্তিভূষণ কুন্ডুর পরিচালনায় অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বীর মুক্তিযোদ্ধা আমিনুল ইসলাম পাটাশ। অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন, জনাব আজহারুল ইসলাম, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক নীলফামারী, বাংলাদেশ আওয়ামীলীগের নীলফামারী জেলা সভাপতি ও পৌর মেয়র দেওয়ান কামাল আহমেদ, নীলফামারী জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান বীর মুক্তিযোদ্ধা জয়নাল আবেদীন, সদর উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান শাহিদ মাহমুদ প্রমূখ। এ সময় বক্তারা মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিচারণ করেন।

সভায় মুক্তিযোদ্ধাগণ, সুধীসমাজ ও গণমাধ্যম কর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

এবার অস্ট্রেলীয় এমপি খালেদা জিয়াকে বিদেশ পাঠাতে প্রধানমন্ত্রীকে চিঠি

অসুস্থ্য বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে উন্নত চিকিৎসার জন্য বিদেশে যাওয়ার অনুমতি দিতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে চিঠি লিখেছেন অস্ট্রেলিয়া পার্লামেন্টের উচ্চকক্ষের সদস্য আবিগেল বয়েড।

সোমবার এ চিঠি লেখেন সিডনির নিউ সাউথ ওয়েলস থেকে নির্বাচিত গ্রিনসের এই এমপি।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে লেখা চিঠিতে এই নারী এমপি লিখেছেন— ‘সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার প্রয়োজনীয় চিকিৎসার বিষয়ে মানবিক পদক্ষেপ নিতে বাংলাদেশের দীর্ঘ সময়ের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে আপনার প্রতি অস্ট্রেলিয়ার পার্লামেন্টের সদস্য হিসেবে আমরা আহ্বান জানাচ্ছি।’

এতে বলা হয়— সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী খালেদা জিয়াকে শর্তসাপেক্ষে দেওয়া মুক্তির সময় বাড়ানো এবং জরুরি চিকিৎসার জন্য বিদেশ যাওয়ার অনুমতি দেওয়ার অনুরোধ জানিয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে আবেদন করেছে তার পরিবার।

চিঠিতে আরও বলা হয়— সাবেক এই প্রধানমন্ত্রী আর্থ্রাইটিস, ডায়াবেটিস, হৃদরোগ ও কিডনিজনিত নানা জটিলতায় ভুগছেন। গত কয়েক মাস ধরে তিনি ঢাকার হাসপাতালে করোনারি কেয়ার ইউনিটে চিকিৎসা নিচ্ছেন।

অস্ট্রেলিয়া পার্লামেন্টের উচ্চকক্ষের এই এমপি বলেন, খালেদা জিয়ার স্বাস্থ্যের অবনতিশীল পরিস্থিতি সবার জ্ঞাত। খালেদা জিয়ার পরিবারের আবেদন মঞ্জুর এবং তাকে বিদেশে জরুরি চিকিৎসাসেবা নেওয়ার অনুমতি দিতে আপনার (শেখ হাসিনা) প্রতি আমরা আবেদন জানাচ্ছি।

তিনি বলেন, খুবই সংকটজনক এই মুহূর্তে খালেদা জিয়ার মানবাধিকারের প্রতি সম্মান দেখাতে আপনার প্রতি আমরা আহ্বান জানাই। যদি বন্দি অবস্থায় তিনি মারা যান, সেটা ব্যক্তিগতভাবে খালেদা জিয়ার জন্য এবং তার পরিবারের জন্য ট্র্যাজেডি হয়ে থাকবে। অনুগ্রহ করে খালেদা জিয়ার সর্বোচ্চ চিকিৎসা পাওয়ার অধিকারের প্রতি সম্মান প্রদর্শন করুন।

//দৈনিক বিশ্ব প্রতিবেদন//

পড়ুন দৈনিক বিশ্ব …

তিনটি প্রশ্নের উত্তর: লিও টলস্টয়ের গল্প

তিনটি প্রশ্নের উত্তর: লিও টলস্টয়ের গল্প

এক রাজার কাছে হঠাৎ মনে হল যে তিনি যদি কোন কাজ করবার একদম উপযুক্ত সময়টি জানতে পারতো, ঠিক কোন ধরণের ব্যক্তির কোন কথা শুনতে হবে তা যদি আগের থেকেই জানতে পারতো বা কোন ধরণের লোক এড়িয়ে চলতে হবে তা আগের থেকেই বুঝতে পারতো এবং সবকিছুর উপরে, তিনি যদি আগের থেকেই জানতো কখন কোন কাজটি করা সবচাইতে প্রয়োজন; তাহলে তাকে কখনই কোন কাজে ব্যর্থ হতে হতো না যার দায়ভার তাকে ভবিষ্যতে নিতে হতো।

তার মাথায় এই চিন্তা আসবার পর তিনি তার সমগ্র রাজ্যে প্রচার করবার ব্যবস্থা করলেন যে যদি কোন ব্যাক্তি কোন কাজ শুরু করবার সবচাইতে সঠিক সময়, ঠিক কোন ধরণের ব্যক্তির বা ব্যক্তিদের কথা শুনতে হবে এবং বিভিন্ন কাজের সুযোগের মধ্যে কোনটির গুরুত্ব সবচাইতে বেশী, এই তিনটি বিষয়ে সঠিক সিধান্ত গ্রহণ রাজাকে শিখাতে পারে তাহলে তাকে রাজামশাই বিশাল আকারের পুরস্কার প্রদান করবেন।

রাজ্যের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে জ্ঞানীগুণী-বুদ্ধিজীবীরা আসতে লাগলো রাজার কাছে। কিন্তু তারা প্রত্যেকে রাজার প্রশ্নের ভিন্ন ভিন্ন উত্তর দিলো।

প্রথম প্রশ্নের উত্তরে কেউ বললেন যে কোন কাজ সঠিক সময়ে শুরু করবার জন্য একজনকে অনেক আগের থেকে; এক সপ্তাহ, এক মাস এমনকি প্রয়োজনে এক বছর আগের থেকে পরিকল্পনা করে এগুতে হবে। আর শুধুমাত্র এভাবেই কোন কাজ সঠিক সময়ে শুরু করা যাবে।

আবার অনেকে বললেন প্রতিটি কাজের জন্য আগের থেকেই পরিকল্পনা করে সেই অনুযায়ী কাজ করা অসম্ভব; কিন্তু তাই বলে কোন কাজ না করে বসে থাকাও উচিৎ নয়। একজনের প্রতিটা কাজ সময়মত, গুরুত্ব বুঝে করা আবশ্যক।

আবার জ্ঞানীদের কেউ কেউ বললেন রাজাকে খুব সচেতন হতে হবে কি চলছে সে বিষয়ে, কিন্তু প্রতিটি কাজের সময় আগের থেকে নির্ধারণ করা প্রকৃতপক্ষে অসম্ভব। রাজা বড়জোর একটা তার জ্ঞানী সভাসদদের নিয়ে একটি উপদেষ্টা পরিষদ গঠন করে তাদের সাথে আলোচনা করে কর্ম পরিকল্পনা নির্ধারণ করতে পারেন।

আবার আরেকদল সকল বুদ্ধিতে বাগড়া দিয়ে বললেন যে কিছু কিছু ব্যাপার হয়তো আসবে যেটা নিয়ে উপদেষ্টা পরিষদের সাথে আলোচনা করবার সময়ই পাওয়া যাবে না। যেগুলোর সিদ্ধান্ত মুহূর্তের মধ্যে নিতে হবে। এবং সেসকল সিদ্ধান্তে সফল হবার জন্য ভবিষ্যতে কি হবে তা জানতে হবে। এবং একমাত্র জাদুকররাই ভবিষ্যৎ বলতে পারে। তাই জাদুকরদের নিয়ে একটা উপদেষ্টা পরিষদ করতে হবে।

একইভাবে দ্বিতীয় প্রশ্নের বিভিন্ন উত্তর আসতে থাকলো। কেউ বললো উপদেষ্টাদের কথা, কেউ বলল পুরোহিতদের কথা, কেউ চিকিৎসকদের কথা, আবার অনেকে বলল যোদ্ধাদের কথা শোনাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।

তৃতীয় প্রশ্ন; যেটি ছিলো কোন বিষয়টিকে রাজার সবচেয়ে গুরুত্ব দিয়ে দেখা উচিৎ, তার উত্তরে অনেকে পরামর্শ দিলো বিজ্ঞানচর্চার উপর সবচাইতে গুরুত্ব আরোপ করা উচিৎ। অনেকে মতামত দিলো যুদ্ধক্ষেত্রে দক্ষতা বাড়ানো নিয়ে সবচাইতে মনোযোগ দেয়া উচিৎ। আবার আরেক দল ধর্মচর্চাকেই সবচাইতে উপরে রাখলেন।

রাজা সবার পরামর্শই মনোযোগ দিয়ে শুনলেন কিন্তু কোনোটির সাথেই একমত হতে পারলেন না। তাই তিনি কাউকেই পুরস্কার দিলেন না। কিন্তু তারপরও রাজা সঠিক উত্তর পাবার জন্য উদগ্রীব হয়ে ছিলেন।

শেষমেশ রাজা জনৈক সন্ন্যাসী; পুরো রাজ্যে যার জ্ঞান ও দূরদর্শিতার স্বীকৃত তার সাথে পরামর্শের সিদ্ধান্ত নিলেন।

সেই সন্ন্যাসী সবসময় বনে বসবাস করতেন এবং কখনই বন ছেড়ে বাইরে লোকালয়ে যেতেন না। তিনি সাধারণ লোক ব্যতীত উচ্চপদস্থ কারো সাথে কথাও বলতেন না। তাই সন্ন্যাসীর সাথে কথা বলবার জন্য রাজা তার বেশভূষা ছেড়ে সাধারণ প্রজার ছদ্মবেশ নিলেন। সন্ন্যাসীর কক্ষে প্রবেশ করবার কিছুদূর আগেই তিনি তার ঘোড়াটিকে ছেড়ে দিলেন ও দেহরক্ষীদের অপেক্ষা করতে বললেন।

যখন রাজা সন্ন্যাসীর কাছে গেলেন তখন সন্ন্যাসীটি তার কুঁড়েঘরের সামনে মাটি খুঁড়ছিল। রাজাকে(প্রজার ছদ্মবেশধারী) দেখে সন্ন্যাসী তাকে স্বাগত জানিয়ে আবার মাটি খোঁড়ায় মন দিলেন। সন্ন্যাসীটি খুবই হালকা-পাতলা এবং দুর্বল ছিলেন। কোদাল দিয়ে মাটি খুঁড়বার জন্য এক একটি করে কোপ দিচ্ছিলেন এবং জোরে জোরে দীর্ঘ দম নিচ্ছিলেন।

রাজা তার কাছে গিয়ে বললেন, যে জ্ঞানী সন্ন্যাসী, আমি আপনার কাছে এসেছি তিনটি প্রশ্নের উত্তর জানার জন্য। তখন রাজা সেই প্রশ্ন তিনটি করলেন।

সন্ন্যাসী মন দিয়ে রাজার কথা শুনলেন। কিন্তু কোন উত্তর না দিয়ে হাত দুটো একটু ভিজিয়ে নিয়ে পুণরায় খোঁড়া শুরু করলেন।

“আপনি ক্লান্ত” সন্ন্যাসীকে বললেন রাজা, “আমাকে কোদাল দিন। আমি আপনার বদলে কিচ্ছুক্ষণ মাটি খুঁড়তে থাকি”।

“ধন্যবাদ” বলে সন্ন্যাসী রাজার হাতে কোদালটি দিয়ে মাটিতে বসলেন।

২টি ক্ষেতের মত জায়গা খুঁড়ে রাজা মাটি কোপানো বন্ধ করে দিলেন এবং পুনরায় সন্ন্যাসীকে প্রশ্ন তিনটি জিজ্ঞাস করলেন।

সন্ন্যাসী এবারও কোন উত্তর দিলেন না। কোদালের দিকে হাত বাড়িয়ে রাজাকে বললেন, “এবার আপনি একটু বিশ্রাম নিন, আমি একটু কোপাই।

কিন্তু রাজা কোদাল না দিয়ে নিজেই আবার মাটি কোপানো শুরু করলেন।

এক ঘন্টা পার হল। এরপর আরো এক ঘন্টা পার হল। বনের গাছের পেছনে সূর্য ডুবতে শুরু করলো। শেষে রাজা কোদাল মাটিতে গেথে রেখে খোঁড়া বন্ধ করলেন এবং বলল, “আমি আপনার কাছে আমার তিনটি প্রশ্নের উত্তর শুনতে এসেছি। আপনি যদি উত্তর না দিন তাহলে তাহলে আমাকে ফিরে যেতে হবে।“

“কে যেনো দৌড়িয়ে আসছে” সন্ন্যাসী বললেন, “দেখি তো কে।”

রাজা পিছনে ঘুরে তাকালেন এবং দেখলেন একজন দাড়িওয়ালা ব্যক্তি বনের ভেতর থেকে দৌড়ে দৌড়ে আসছে। লোকটি তার দুই হাত দিয়ে তলপেট চেপে ধরে আছে এবং হাতের ফাঁকফোকর দিয়ে রক্তের ধারা বের হচ্ছে।

লোকটি রাজার কাছে পৌছেই জ্ঞান হারিয়ে মাটিতে পড়ে গেলো। তার জামা খুলে দেখা গেলো তলপেটে অনেক গুরুতর একটি জখমের ক্ষত আছে। রাজা ও সন্ন্যাসী দুজনে মিলে লোকটির ক্ষত পরিষ্কার করে ব্যান্ডেজ বেঁধে দিলেন। এরপর ও রক্তপাত বন্ধ হচ্ছিলো না। তখন রাজা ব্যান্ডেজ খুলে ক্ষত শুকনো করে মুছে পুনরায় ব্যান্ডেজ করে দিলে রক্তপাত বন্ধ হলো এবং লোকটির অবস্থা স্থিতিশীল হল। জ্ঞান ফিরলে সে পানি খেতে চাইলো। রাজা পানি এনে তাকে খেতে দিলেন।

ততক্ষণে সূর্য ডুবে গেছে এবং পরিবেশ একদম ঠান্ডা হয়ে গেলো। রাজা আর সন্ন্যাসী দুজনে মিলে ধরাধরি করে লোকটিকে সন্ন্যাসীর কুঁড়েঘরের ভেতর নিয়ে গিয়ে বিছানায় শুইয়ে দিলো। বিছানায় শুয়ে লোকটি নিশ্চুপ হয়ে চোখ বুজে রাখলো; কিন্তু রাজা দীর্ঘ পথ হেটে আসা এবং সারাদিনের খাটাখাটনির ফলে ক্লান্ত হয়ে দরজার পাশেই উপুড় হয়ে শুয়ে পড়লো এবং কিছুক্ষণের মধ্যেই ঘুমিয়ে পড়লেন— তার ঘুম এতটাই গভীর হল যে এক ঘুমেই গ্রীষ্মের সংক্ষিপ্ত রাত পার করে দিলেন। সকালে ঘুম থেকে উঠে রাজামশাই প্রথমে ঠাউরে উঠতে পাড়ছিলেন না উনি কোথায় আছেন, বা তার দিকে জ্বলজ্বলে চোখে তাকিয়ে থাকা দাড়িওয়ালা লোকটাই বা কে সেটাও মনে করতে পাড়ছিলেন না। তাঁর ধাতস্থ হতে খানিকটা সময় লাগলো।

রাজাকে তার দিকে তাকিয়ে থাকতে দেখে দাড়িওয়ালা লোকটি দুর্বল গলায় বললেন, “আমাকে ক্ষমা করুন।”

“আমি আপনাকে তো চিনিই না। আপনাকে ক্ষমা করার মত কিছুই ঘটেনি” বললেন রাজা ।

“আপনি আমাকে না চিনলেও আমি আপনাকে চিনি। আমি আপনার সেই শত্রু যে আপনাকে হত্যা করে প্রতিশোধ নেবার প্রতিজ্ঞা করেছিলো। আপনি আমার ভাইকে মৃত্যুদণ্ডের আদেশ দেন এবং তার সব সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করে নিয়েছিলেন। আমি জানতাম যে আপনি আজ এই সন্ন্যাসীর সাথে দেখা করতে যাবেন, সন্ন্যাসীর কুঁড়েঘর থেকে ফিরবার পথে আপনাকে হত্যা করার পরিকল্পনা করেছিলাম। কিন্তু আপনি সন্ধ্যা হয়ে যাবার পরও না ফিরলে আমি সন্ন্যাসীর কুঁড়েঘরে এসেই আপনাকে হত্যা করতে চলে আসি। কিন্তু আসার পথে আপনার দেহরক্ষীরা আমাকে চিনে ফেলে এবং তাদের সাথে আমার সংঘর্ষ হলে আমি আহত হয়ে কোন রকমে পালিয়ে আসি কিন্তু আমি রক্তক্ষরণেই মারা যেতাম যদি না আপনি আমার জখমের পরিচর্যা এবং সেবা করতেন।

আমি যেখানে আপনাকে হত্যা করতে এসেছি সেখানে আপনি আমার জীবন রক্ষা করেছেন। এখন আপনি যদি অনুমতি দেন, আমি আপনার সেবায় নিজেকে আমৃত্যু এবং আমার মৃত্যুর পর আমার ছেলেকে উৎসর্গ করতে চাই।“

রাজা এত সহজে নিজের শত্রুর সাথে সমঝোতা করতে পেরে বেশ খুশিই হলেন, তার সাথে বন্ধুত্ব স্থাপন করে শুধু তাকে ক্ষমাই করলেন না, একই সাথে তাকে নিজের ব্যক্তিগত চিকিৎসক দিয়ে চিকিৎসা করানোর আশ্বাস দিলেন এবং তার ভাইয়ের বাজেয়াপ্ত সকল সম্পদ ও জমি ফেরত দেবার কথা ও দিলেন।

নতুন বন্ধুর কাছ থেকে বিদায় নেবার পর রাজা বারান্দায় গিয়ে চারদিকে তাকিয়ে সন্ন্যাসীকে খুঁজলেন ফিরে যাবার আগে সে শেষবারের মত সন্ন্যাসীর কাছে তার উত্তর ভিক্ষা চাইবেন বলে। সন্ন্যাসী তখন বাইরে আগের দিন খুঁড়ে রাখা ক্ষেতে হাটুগেড়ে কিসের যেন বীজ বপন করছিলো।

রাজা সন্ন্যাসীর সামনে গিয়ে বললেন, “ হে জ্ঞানী, আমি শেষবারের মত আপনার কাছে আমার প্রশ্নগুলোর উত্তর প্রার্থনা করছি।“

“তুমি তো নিজেই নিজের প্রশ্নের উত্তর দিয়ে দিয়েছো” হাড্ডিসার পায়ের উপর ভর দিয়ে বসে, সামনে দাঁড়িয়ে থাকা রাজার মুখের দিকে তাকিয়ে উত্তর দিলো সন্ন্যাসী।

“মানে কি? কিভাবে দিলাম?” অবাক হয়ে উত্তর দিলেন রাজা।

“তুমি খেয়াল করো নি?”উত্তর দিলেন সন্ন্যাসী, “ কাল যদি তুমি আমাকে দুর্বল দেখে দয়াপরবশত আমাকে সাহায্য না করতে, এবং অপেক্ষা না করে ফিরে যেতে, তাহলে ঐ দাড়িওয়ালা লোকটি তোমাকে ফিরতি পথেই হত্যা করতো এবং তুমি তোমার ভুল অনুতাপ করবার জন্য বেঁচেই থাকতে না। সুতরাং তোমার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সময় ছিলো যখন তুমি মাটি খুঁড়ছিলে, সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ মানুষ ছিলাম আমি নিজে, এবং সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কাজ ছিলো আমার কল্যাণ করা।

আবার পরের কথাই ধরো। যখন দাড়িওয়ালা আহত ব্যাক্তিটি যখন আসলো তখন সবচাইতে গুরুত্বপূর্ণ সময় হল যখন তুমি তার পরিচর্যা করছিলে, তুমি যদি তার জখম ব্যান্ডেজ না করতে, তার সাথে তোমার বন্ধুত্বও হত না। সেহেতু, তখন সবচাইতে গুরুত্বপূর্ণ কাজ ছিলো তার সাথে তুমি যা করেছো এবং সবচাইতে গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি হল ঐ ব্যক্তি নিজে।

মনে রাখবে- সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সময় হল, এখন। বর্তমান।

বর্তমানই হল একমাত্র সময় যখন তোমার হাতে ক্ষমতা আছে। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ মানুষ হল বর্তমানে তুমি যার সাথে আছো; কেউই জানেনা ভবিষ্যতে সে কখনো আর কারো সাথে লেনদেনের সুযোগ পাবে কি না। এবং সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কাজ হল বর্তমানে তুমি যে ব্যক্তির সাথে আছো, সেই ব্যক্তির কল্যাণ। কারণ এইটাই একমাত্র কারণ যার জন্য মানুষকে পৃথিবীতে পাঠানো হয়েছে। মানব কল্যাণ!!“ Collected .

//নিজস্ব প্রতিবেদক//

পড়ুন দৈনিক বিশ্ব …

.নগদে টাকা না পাওয়ায় পেটে টিউমার রেখেই সেলাই 

 

‘বঙ্গবন্ধু’ ছবিটিতে শেখ হাসিনা চরিত্রে নুসরাত ফারিয়া: কি বললেন

বঙ্গন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের বায়োপিক নিয়ে নির্মিত ‘বঙ্গবন্ধু’ ছবিটিতে শেখ হাসিনা চরিত্রে অভিনয় করছেন চিত্রনায়িকা নুসরাত ফারিয়া। ছবিটিতে নিজের শুটিং পার্ট শেষ করে তিনি বললেন, ‘শেখ হাসিনা চরিত্রটি আমি সারা জীবন লালন করব। আমার জীবনের অন্যরম এক জার্নি ছিলো এটা।’

রোববার সমকালকে ফারিয়া জানান, আপাতত বলা যায় বঙ্গবন্ধুর বায়োপিকের আমার শুটিং পার্ট শেষ। তবে এরপর আবার শুটিং করা যে লাগবে না সেটা বলা যায় না। পরে লাগতেও পারে আবার নাও পারে। তাই আনুষ্ঠানিকভাবে বলতে পারছিনা শেষ। বলতে হচ্ছে আপাতত শেষ।

ভারতের খ্যাতিমান নির্মাতা শ্যাম বেনেগাল নির্মাণ করছেন ছবিটি। বাংলাদেশ ও ভারতের যৌথ প্রযোজনায় নির্মিত এ ছবিটির প্রথম ধাপের শুটিং ভারতের পর শেষ ধাপের শুটিং হচ্ছে বাংলাদেশে।

ছবিটির শুটিং শেষ করে আবেগে ভাসলেন নুসরাত ফারিয়া। বললেন, ‘এই সিনেমার প্রত্যেকটি চরিত্র খুবই গুরুত্বপূর্ণ। প্রত্যেকটি চরিত্রই ইতিহাসের অংশ। এই ইতিহাসের অংশ হয়ে শ্যাম বেনেগাল স্যারের সঙ্গে যে জার্নিটা এতোদিন দিলাম তা আজীবন মনে থাকবে। ছবিটিতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার চরিত্রটি নিঃসন্দেহে আমার ক্যারিয়ারের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ চরিত্র।’

শুটিং শেষে করে নুসরাত ফারিয়া ফেসবুকে শ্যাম বেনেগালের সঙ্গে তোলা একটি সাদাকালো ছবিও শেয়ার করেছেন। সেখানে ক্যাপশনে নিজের অনুভূতি প্রকাশ করেছেন তিনি।  ছবিতে তরুণ শেখ হাসিনার রূপেই দেখা যাচ্ছে ফারিয়াকে।

‘বঙ্গবন্ধু’ ছবিতে কেন্দ্রীয় চরিত্র তথা বঙ্গবন্ধুর চরিত্রে অভিনয় করছেন চিত্রনায়ক আরিফিন শুভ। তাজউদ্দীন আহমদের চরিত্রে রিয়াজ আহমেদ, বঙ্গবন্ধুর স্ত্রী শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিবের চরিত্রে নুসরাত ইমরোজ তিশা ও দীঘি।

এছাড়াও আরও অভিনয় করছেন দিলারা জামান, সিয়াম আহমেদ, চঞ্চল চৌধুরী, খায়রুল আলম সবুজ, রাইসুল ইসলাম আসাদ, গাজী রাকায়েত, তৌকীর আহমেদ, মিশা সওদাগর প্রমুখ।

//অনলাইন নিউজ//

পড়ুন দৈনিক বিশ্ব …

সৌদি আরবে জুমার খুতবায় তাবলিগ জামাতের সমালোচনার নির্দেশ

 

প্রধানমন্ত্রীর মানবিক দৃষ্টি।। জমি ও ঘর পাচ্ছেন সেই আসপিয়া

বরিশালে ‘ভূমিহীন’ হওয়ার কারণে পুলিশ কনস্টেবল পদে লিখিত, মৌখিক ও স্বাস্থ্য পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়েও নিয়োগ আটকে যাওয়া আসপিয়া ইসলামকে জমি ও ঘর দেওয়ার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

আজ শুক্রবার সন্ধ্যায় বরিশালের জেলা প্রশাসক মো. জসীম উদ্দিন হায়দার  এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

তিনি জানান, যত দ্রুত সম্ভব আসপিয়ার পরিবারকে জমি ও ঘর দেওয়ার জন্য হিজলা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে (ইউএনও) নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

জেলা প্রশাসক বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সচিব মো. তোফাজ্জল হোসেন আমাকে ফোন করেছিলেন। আসপিয়ার পরিবারকে যেন জমি ও ঘর দেওয়া হওয়া হয় সেই নির্দেশনা দিয়েছেন তিনি। ওই নির্দেশনা অনুযায়ী, হিজলার ইউএনওকে আসপিয়ার পরিবারকে জমি ও ঘর দ্রুত তুলে দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।’

ডিআইজি এস এম আক্তারুজ্জামান বলেনে, ‘প্রধানমন্ত্রী যখন নির্দেশ দিয়েছেন তাহলে সেই আদেশ শিরোধার্য। আশাকরি পুলিশ প্রতিবেদন শেষে তার চাকরি হবে।’

গত ১৭ নভেম্বর বরিশালে অনুষ্ঠিত পুলিশ কনস্টেবল নিয়োগের লিখিত পরীক্ষায় পঞ্চম স্থান অধিকার করে পাশ করে আসপিয়া। এরপর মৌখিক ও স্বাস্থ্য পরীক্ষায়ও উত্তীর্ণ হয়ে চূড়ান্ত সুপারিশ লাভ করলেও সরকারি চাকরির নিয়ম অনুয়ায়ী পুলিশের গোপনীয় প্রতিবেদনে, তার ‘স্থায়ী ঠিকানা’ না থাকায় আটকে যায় তার চূড়ান্ত নিয়োগ।

গত বুধবার পুলিশের বরিশাল রেঞ্জের ডিআইজি এস এম আক্তাতারুজ্জামানের কার্যালয়ে আসেন আসপিয়া। কিন্তু, ডিআইজি বিষয়টি সহানুভূতির সঙ্গে দেখলেও চাকরির কোনো আশা দিতে পারেননি।

বিষয়টি গতকাল বৃহস্পতিবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে এবং মুহূর্তেই ভাইরাল হয়ে যায়।

আসপিয়া বলেন, ‘আমার বাবা নেই। বরিশালের সরকারি হিজলা ডিগ্রি কলেজ থেকে ২০২০ সালে এইচএসসি পাশ করেছি। হিজলা থেকে অনলাইনে আবেদন করে বরিশালের পুলিশ লাইন্স মাঠে শারীরিক যোগ্যতা পরীক্ষায় পাশ করার পর ১৭ নভেম্বর লিখিত পরীক্ষায় অংশ নিই। ২৩ নভেম্বর প্রকাশিত লিখিত পরীক্ষার ফলাফলে উত্তীর্ণ হয়।

এরপর ২৪ নভেম্বর একই স্থানে মৌখিক পরীক্ষায় অংশ নিয়ে মেধা তালিকায় পঞ্চম হয়। ২৬ নভেম্বর জেলা পুলিশ লাইন্সের চিকিৎসকরা প্রাথমিক স্বাস্থ্য পরীক্ষা করেন।

সর্বশেষ গত ২৯ নভেম্বর মৌখিক পরীক্ষায় উত্তীর্ণদের ঢাকার রাজারবাগ কেন্দ্রীয় পুলিশ লাইন হাসপাতালে চূড়ান্ত স্বাস্থ্য পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করালে সেখানেও পাশ করি। কিন্তু, চূড়ান্ত নিয়োগের আগে বরিশাল জেলা পুলিশের গোয়েন্দা প্রতিবেদনে আমার পরিবারকে ‘ভূমিহীন’ উল্লেখ করা হয়। এতে নিয়োগে আইনি জটিলতায় তৈরি হয়।’

তিনি আরও বলেন, ‘আমার স্বপ্ন পুলিশে চাকরি করা, আমার আবেদন ওপর মহল বিবেচনা করবেন বলে আশা করছি।’

//অনলাইন নিউজ//

পড়ুন দৈনিক বিশ্ব …

 তাহসান-মিথিলা-ফারিয়া যেকোন সময় গ্রেপ্তার হবেন

 

খুলনায় সর্বোচ্চ ভ্যাট প্রদানকারী ছয় প্রতিষ্ঠানকে সম্মাননা

জাতীয় ভ্যাট দিবস ও ভ্যাট সপ্তাহ উপলক্ষে আজ শুক্রবার সকালে খুলনায় খাত ভিত্তিক সর্বোচ্চ ভ্যাট প্রদানকারী ছয়টি প্রতিষ্ঠানকে সম্মাননা ক্রেস্ট ও সনদপত্র প্রদান করা হয়। খুলনা কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেট প্রাঙ্গণে এ উপলক্ষে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন খুলনা সিটি কর্পোরেশনের মেয়র তালুকদার আব্দুল খালেক।

ভ্যাট দিবস ও ভ্যাট সপ্তাহের এবারের প্রতিপাদ্য ‘অনলাইনে ভ্যাট দিন, দেশ গড়ায় অংশ নিন’।

প্রধান অতিথির বক্তৃতায় সিটি মেয়র বলেন, ভ্যাট দেশের অভ্যন্তরীণ রাজস্বের অন্যতম প্রধান উৎস। রাষ্ট্রের উন্নয়নে স্বতঃষ্ফুর্তভাবে ভ্যাট প্রদান করা প্রয়োজন। রাজস্ব ছাড়া দেশের উন্নয়ন সম্ভব নয়। তিনি বলেন, একসময় তলা বিহীন ঝুড়ি বাংলাদেশ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে অনেক দূর এগিয়ে গেছে। এছাড়া অর্থনৈতিক ও সামাজিক সূচকে বাংলাদেশ অনেক এগিয়েছে। রাজস্ব আদায় বৃদ্ধি এবং করদাতাদের রাজস্ব প্রদানে উৎসাহ দিতে সরকার নানামূখী পদক্ষেপ গ্রহণ  করেছে। এসময় ২০৪১ সালের মধ্যে উন্নত বাংলাদেশের স্বপ্ন পূরণে সকলকে এক সাথে কাজ করার আহবান জানান সিটি মেয়র।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তৃতা করেন জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের সদস্য (কর জরীপ ও পরিদর্শন) প্রদ্যুৎ কুমার সরকার, খুলনা কর অঞ্চলের কর কমিশনার মোঃ ফারুক আহমদ ও মোংলা কাস্টম হাউসের কমিশনার মোহাম্মদ নেয়াজুর রহমান। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন খুলনা কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেটের কমিশনার মোঃ সামছুল ইসলাম। স্বাগত জানান যুগ্ম কমিশনার মোঃ মিলন শেখ। মূলপ্রবন্ধ উপস্থাপন করেন অতিরিক্ত কমিশনার মোঃ তাসনিমুর রহমান।

অনুষ্ঠানে ২০১৯-২০ অর্থবছরে খুলনা বিভাগে সর্বোচ্চ ভ্যাট প্রদানকারী ছয়টি প্রতিষ্ঠানকে সম্মাননা ক্রেস্ট প্রদান করা হয়। সম্মাননাপ্রাপ্ত প্রতিষ্ঠানগুলো মধ্যে খুলনার শিরোমণি এলাকার পোলস এন্ড কংক্রিট লিঃ, খুলনা ডকইয়ার্ড, বাগেরহাট জেলার ফকিরহাটের সাউথ ইস্ট সিরামিক ইন্ডাঃ লিঃ, শরীয়তপুরের বাজাজ ভিলেজ, সাতক্ষীরা জেলার শ্যামনগরের সুশীলন টাইগার পয়েন্ট এবং শ্যামনগরের এস এম আবুল বাশার।

//আ: রাজ্জাক শেখ, খুলনা ব্যুরো//

পড়ুন দৈনিক বিশ্ব …

রাণীশংকৈলে আন্তর্জাতিক দূর্নীতি প্রতিরোধ দিবস পালিত হয়েছে

 

রাণীশংকৈলে আন্তর্জাতিক দূর্নীতি প্রতিরোধ দিবস পালিত হয়েছে

মাহাবুব আলম, রাণীশংকৈল, ঠাকুরগাঁও প্রতিনিধি।।

ঠাকুরগাঁওয়ের রাণীশংকৈল উপজেলায় (৯ ডিসেম্বর  বৃহস্পতিবার)  আন্তর্জাতিক দূর্নীতি দিবস পালিত হয়েছে। উপজেলা দূর্নীতি প্রতিরোধ কমিটির আয়োজনে এ উপলক্ষে এদিন সকাল ১০ টায় উপজেলা হলরুমে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সোহেল সুলতান জুলকার নাইন কবিরের সভাপতিত্বে সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন ঠাকুরগাঁও-৩ সংসদ সদস্য জাহিদুর রহমান জাহিদ।

বিশেষ অতিথি ছিলেন পৌর মেয়র মোস্তাফিজুর রহমান, মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান শেফালী বেগম ও থানার এসআই মমিনুল ইসলাম। এ ছাড়াও

সভায় বিভিন্ন রাজনৈতিক-সামাজিক নেতা,শিক্ষক-ছাত্র-ছাত্রী ও সাংবাদিকরা উপস্থিত ছিলেন।

অন্যদের মধ্যে বক্তব্য দেন-কমিটির সাধারণ সম্পাদক প্রভাষক প্রশান্ত বসাক, সহ-সভাপতি প্রেসক্লাব প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি অধ্যাপক আনোয়ারুল ইসলাম, পৌর আ’লীগ সভাপতি জাহাঙ্গীর আলম, মহিলা লীগ সম্পাদক ফরিদা ইয়াসমিন, বীর মুক্তিযোদ্ধা হবিবর রহমান ও সমাজসেবক আব্দুল খালেক।সভায় সর্বাগ্রে ব্যক্তিজীবনে দূর্নীতিমুক্ত থাকার উপর গুরুত্ব আরোপ করা হয়।