Category: বাংলাদেশ
Bangladesh
বরিশালে দেড় হাজার অসচ্ছল মানুষের মাঝে প্রধানমন্ত্রীর শুভেচ্ছা সামগ্রী বিতরন করা হয়
মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেয়ায় মমতা ব্যানার্জীকে অভিনন্দন জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা
ভারতের পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেয়ায় মমতা ব্যানার্জীকে অভিনন্দন জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
বৃহস্পতিবার (৬ মে) এক বার্তায় এ অভিনন্দন জানান তিনি। বিষয়টি সংবাদমাধ্যমকে জানান প্রধানমন্ত্রীর সহকারী প্রেস সচিব সারওয়ার সরকার জীবন।
তিনি জানান, পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যের টানা তিনবারের মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ গ্রহণ করায় মমতাকে অভিনন্দন জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
গতকাল বুধবার রাজ্যপালের কাছে শপথ নেন মমতা ব্যানার্জী। বিধানসভা নির্বাচনে বড় ব্যবধানে জয় পেয়েছে তার দল তৃণমূল কংগ্রেস।
অনলাইন ডেস্ক।।
করোনা পরীক্ষা সর্বোচ্চ ফি হতে পারে 2000 টাকা বেসরকারি পর্যায়ে…
কভিড-১৯ শনাক্তে বেসরকারি পর্যায়ে আরটি-পিসিআর (রিয়েল টাইম-পলিমার চেইন রিঅ্যাকশন) পরীক্ষার মূল্য সরকারি ও বেসরকারি পর্যায় থেকে পুনর্নির্ধারণের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে । তবে দুই পর্যায়ের প্রস্তাবিত মূল্যের মধ্যে রয়েছে অনেক ব্যবধান । কিট-রিএজেন্টের দাম কমায় কোভিড-১৯ সংক্রান্ত জাতীয় পরামর্শক কমিটি প্রস্তাব: পরীক্ষার মূল্য ১৫০০-২০০০ টাকা করা হোক।
অপরদিকে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর প্রস্তাব দিয়েছে সাধারণ এবং বিদেশগামী পর্যায়ে যথাক্রমে ৩০০০ ও ২৫০০ টাকা। এ ছাড়া বাড়িতে গিয়ে ৩৭০০ টাকা। তবে জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ২০২০ সালের পরিপ্রেক্ষিতে ৩৫০০ টাকা ঠিক ছিল। তবে বর্তমান সময়ের পরিপ্রেক্ষিতে কোভিড-১৯ পরীক্ষার মূল্য সর্বোচ্চ ২০০০ টাকা হতে পারে।
জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ২০২০ সালের শুরুর দিকে যখন দেশে করোনাভাইরাস দেখা দিয়েছিল তখন একটি পিসিআর পরীক্ষা করাতে কিট-রিএজেন্টসহ আনুষঙ্গিক ব্যয় ছিল ২৭০০ টাকা। এর সঙ্গে বিদ্যুৎ বিল, স্টাফ বেতন ইত্যাদি মিলিয়ে ৩৫০০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছিল। বর্তমানে কিট-রিএজেন্টসহ আনুষঙ্গিক ব্যয় কমে দাঁড়িয়েছে ৭০০ টাকা। এই পরিস্থিতিতে আরটি-পিসিআর পরীক্ষার মূল্য সর্বোচ্চ ২০০০ টাকা হতে পারে।
এক সূত্র জানায়, এর আগেও একবার বেসরকারি পর্যায়ে আরটি-পিসিআর পরীক্ষার ফি কমাতে প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল অধিদপ্তরের পক্ষ থেকে। তবে অজ্ঞাত কারণে সেই প্রস্তাব বাস্তবায়ন হয়নি। মূলত বেসরকারি পর্যায়ের ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক মালিকদের চাপের কারণেই আগেরবার দাম কমানো সম্ভব হয়নি। তবে এবার সরকারের উচ্চপর্যায় থেকে পরীক্ষার ফি কমানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
এবার দাম কমবে বলেই তারা মনে করছেন । স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিকসমূহ) ডা. মো. ফরিদ হোসেন মিঞা গত ২৬ এপ্রিল এ সংক্রান্ত চিঠি মন্ত্রণালয়ে পাঠান। স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের সচিবকে পাঠানো ওই চিঠিতে বলা হয়েছে, সম্প্রতি স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণমন্ত্রী জাহিদ মালেকের উপস্থিতিতে একটি অনলাইন সভা অনুষ্ঠিত হয়।
অধিদপ্তরের মহাপরিচালকের সভাপতিত্বে সভায় আরটি-পিসিআরের সঙ্গে সম্পৃক্ত সকল পর্যায়ের স্টেকহোল্ডাররা উপস্থিত ছিলেন। ওই অনলাইন সভায় সংযুক্ত সবার মতামতের ভিত্তিতেই বেসরকারি পর্যায়ে আরটি-পিসিআর পরীক্ষার মূল্য পুনর্নির্ধারণের প্রস্তাব করা হয়েছে। তিনি ওই চিঠিতে অধিদপ্তরের পক্ষ থেকে তিন ধরনের পরীক্ষার মূল্য পুনর্নির্ধারণের প্রস্তাব করেছেন।
১. সাধারণ জনগণের ক্ষেত্রে পিসিআর পরীক্ষায় বর্তমানে ব্যয় করতে হয় সাড়ে তিন হাজার টাকা; এখানে প্রস্তাবিত মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে তিন হাজার টাকা। বিদেশগামীদের পরীক্ষায় বর্তমানে মূল্য রয়েছে তিন হাজার টাকা; প্রস্তাবিত মূল্য আড়াই হাজার টাকা। এ ছাড়া বাড়ি গিয়ে নমুনা পরীক্ষার ক্ষেত্রে বর্তমানে সেবামূল্য রয়েছে সাড়ে চার হাজার টাকা; প্রস্তাবিত মূল্য করা হয়েছে তিন হাজার ৭০০ টাকা।
এদিকে করোনা নির্ণয় পরীক্ষার মূল্য কমাতে সুপারিশ করেছে করোনা সংক্রান্ত জাতীয় কারিগরি পরামর্শক কমিটি। বুধবার গভীর রাতে এক সভায় কমিটি এ সুপারিশ করে। কমিটির সভাপতি অধ্যাপক ডা. শহিদুল্লা জানান, কোভিড পরীক্ষায় প্রয়োজনীয় কিটের দাম ৩০০০/২৭০০ টাকা থেকে কমে ৮০০-১০০০ টাকায় নেমে এসেছে।
এর পরিপ্রেক্ষিতে বেসরকারি পর্যায়ে পরীক্ষার সংখ্যা বৃদ্ধির লক্ষ্যে সংশ্লিষ্ট সবার সঙ্গে আলোচনা করে মূল্য পুনর্নির্ধারণের বিষয়ে দ্রুত ব্যবস্থা নিতে পরামর্শ দেয় তারা। এক্ষেত্রে বেসরকারি পর্যায়ে পরীক্ষার মূল্য ১৫০০-২০০০ টাকার মধ্যে নির্ধারণের পরামর্শ দেয় পরামর্শক কমিটি।
এ বিষয়ে জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ডা. আহমদ পারভেজ জাবীন যুগান্তরকে বলেন, ২০২০ সালে কিট-রিএজেন্ট-এর পেছনে ব্যয় হতো ২৭০০ টাকা। সেক্ষেত্রে আনুষঙ্গিক মিলিয়ে ৩৫০০ টাকা ফি নির্ধারণ করা হয়েছিল। কিন্তু বর্তমানে কিটের দাম ৭০০ টাকায় নেমেছে। স্বাভাবিকভাবে এসব ক্ষেত্রে ওভারহেড ব্যয় হয় ৪০ শতাংশ। অর্থাৎ, সব মিলিয়ে হাজার টাকার কম ব্যয় হচ্ছে।
এক্ষেত্রে বেসরকারি পর্যায়ে পরীক্ষার মূল্য কোনোভাবেই ২০০০ টাকার বেশি হতে পারে না। তিনি বলেন, করোনা নিয়ন্ত্রণে এবং দেশের প্রয়োজনে কিট আমদানি পর্যায়ে সব ধরনের শুল্ক, ভ্যাট মওকুফ করা যেতে পারে। পরীক্ষার মূল্য সহনীয় মাত্রায় এলে সাধারণ মানুষের মধ্যে পরীক্ষা করানোর হার বাড়বে। এতে করোনা পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ ও নিয়ন্ত্রণ সহজ হবে।
এ বিষয়ে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. এবিএম খুরশীদ আলম যুগান্তরকে বলেন, পিসিআর পরীক্ষায় আগের তুলনায় বর্তমানে কিট ও রিএজেন্টের দাম কমেছে। তা ছাড়া প্রধানমন্ত্রীও মূল্য কমাতে নির্দেশ দিয়েছেন। তাই অধিদপ্তরের পক্ষ থেকে সবার সঙ্গে আলোচনার পরিপ্রেক্ষিতে মূল্য পুনর্নির্ধারণের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।
এখন মন্ত্রণালয় অনুমোদন করলেই এটি বাস্তবায়ন করা হবে। অধ্যাপক খুরশীদ বলেন, এর আগেও অধিদপ্তরের পক্ষ থেকে একবার মূল্য পুনর্নির্ধারণের প্রস্তাব করা হয়েছিল; কিন্তু সেটি বাস্তবায়ন হয়নি। এবার মন্ত্রীসহ সংশ্লিষ্ট সবার সমন্বয়ে সভা করেই প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে, আশা করছি দ্রুতই এটি বাস্তবায়ন হবে।
এর আগে গত বছরের জুন মাসের শেষদিকে করোনাভাইরাস শনাক্তের মূল্য নির্ধারণ করে সরকার। দেশে এ ভাইরাস আসার পর অর্থাৎ মার্চ থেকে জুন মাস পর্যন্ত এই পরীক্ষা সরকারি প্রতিষ্ঠানে বিনা মূল্যে করা হতো। তবে জুন মাসের শেষদিকে সরকার পরীক্ষার মূল্য নির্ধারণ করে। তখন সরকারি পর্যায়ে বুথে বা হাসপাতালে নমুনা দেওয়ার ক্ষেত্রে মূল্য ধরা হয় ২০০ টাকা এবং বাসা থেকে নমুনা সংগ্রহ করার ক্ষেত্রে ৫০০ টাকা।
এ ছাড়া বিদেশগামীদের করোনা পরীক্ষা বাধ্যতামূলক করা হয় ২০ জুলাই থেকে। সেই সময় ৩৫০০ টাকা করে নেওয়া হতো করোনা পরীক্ষার ফি। পরবর্তী সময়ে ২৪ আগস্ট সরকার সেই মূল্য কমিয়ে এক হাজার ৫০০ টাকা করে।
এরপর আরেক দফা কমিয়ে প্রবাসী কর্মীদের পরীক্ষার মূল্য এক হাজার ২০০ টাকা করা হয়। পাশাপাশি সাধারণ পর্যায়ে বুথে বা হাসপাতালে গিয়ে পরীক্ষা করানোর ক্ষেত্রে মূল্য নির্ধারণ করা হয় ১০০ টাকা এবং বাড়ি গিয়ে নমুনা সংগ্রহের ক্ষেত্রে ৩০০ টাকা।
// নিজস্ব প্রতিবেদক //
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা করোনায় কর্মহীনদের কষ্টলাঘবে লাখ লাখ পরিবারকে আর্থিক সহায়তা প্রদান করছেন: সালাম মূশের্দী
বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনার নিদের্শে লকডাউনকালীন সময়ে সারাদেশে কর্মহীন দু:স্থ ও অসহায় বিভিন্ন শ্রেণী পেশার মানুষের মাঝে খাদ্য সহায়তা প্রদান করে হচ্ছে।
মহান মে দিবস শ্রমজীবী-মেহনতি মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠার এক গৌরবোজ্জ্বল দিন। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান আজীবন বঞ্চিত, মেহনতি মানুষের অধিকার আদায়ের জন্য সংগ্রাম করে গেছেন। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা করোনায় কর্মহীনদের কষ্টলাঘবে লাখ লাখ পরিবারকে আর্থিক সহায়তা প্রদান করছেন। তিনি আরও বলেন, প্রধানমন্ত্রী শ্রমজীবী মানুষের জন্য কাজ করছেন।
করোনা মোকাবেলায় সর্বাত্মক চেষ্টা চালাচ্ছে সরকার। শনিবার বিকালে রূপসা উপজেলার শ্রীফলতলা ইউনিয়নের হোসেনপুর মাদ্রাসা মাঠে ৪০০ শত অসহায় পরিবারের মাঝে খাদ্য সহায়তা প্রদান অনুষ্ঠানে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় একথা বলেন।
জেলা আ’লীগের সদস্য অধ্যক্ষ ফ ম আব্দুস সালাম এর সভাপতিত্বে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান কামাল উদ্দিন বাদশা, জেলা স্বেচ্চাসেবক লীগের ভারপ্রাপ্ত আহবায়ক মোঃ মোতালেব হোসেন, উপজেলা আওয়ামীলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক এস এম হাবিব, ভাইস চেয়ারম্যান ফারহানা আফরোজ মনা, ইউপি চেয়ারম্যান আলহাজ্ব এসহাক সরদার, শ্রমীকনেতা আলম হাওলাদার, সাবিনা ইয়াসমিন, স ম জাহাঙ্গির, সরদার মিজানুর রহমান।
আরও ছিলেন এমপির প্রধান সমন্বয়ক ও যুবলীগ নেতা নোমান ওসমানী রিচি, মিয়া আরিফ হোসেন, কামাল হোসেন লেলিন, সালাম মূর্শেদী সেবা সংঘের টিম লিডার ও যুবলীগ নেতা সামসুল আলম বাবু, উপজেলা প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক আ:রাজ্জাক শেখ, তরিকুল ইসলাম, নাজিম মোড়ল, সোহরাব হোসেন,জামাল মোল্লা, সালাম মিনা,শারাফাত হোসেন উজ্জল, ইউপি সদস্য শিরিনা আকতার,নারগিজ পারভিন,রাশিদা বেগম, আসমা বেগম মোঃ শিমুল হোসেন,এস এম রিয়াজ, সাব্বির হোসেন, সাজ্জাদ হোসেন, সহ নেতৃবৃন্দ।
// আ: রাজ্জাক শেখ, খুলনা ব্যুরো//শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বাংলাদেশ আজ মানবিক দেশ হিসেবে স্বীকৃত : আ: সালাম মূর্শেদী
মহামারিতে ক্ষতিগ্রস্থ দরিদ্র ও অসহায় মানুষের মধ্যে প্রধানমন্ত্রীর আর্থিক সহায়তা শুরু
করোনাভাইরাস মহামারির কারণে ক্ষতিগ্রস্থ দরিদ্র ও অসহায় মানুষের মধ্যে আর্থিক সহায়তা কার্যক্রমের উদ্বোধন করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। মোবাইল ব্যাংকিং পরিষেবার মাধ্যমে ঈদ উপহার হিসেবে সাড়ে ৩৬ লাখ মানুষকে এই সহায়তা দেওয়া হবে।
রোববার সকালে গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে দ্বিতীয় পর্যায়ের আর্থিক সহায়তা কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন তিনি।
উদ্বোধনের দিনে ২২ হাজার ৮৯৫ জন সুবিধাভোগী মোবাইল পরিষেবার মাধ্যমে সহায়তা পেয়েছেন। তিন দিনে সাড়ে ৩৬ লাখ মানুষ এ সহায়তা পাবেন।
দ্বিতীয়বারের মতো হাতে নেওয়া এই সহায়তা জন্য ৯১২ কোটি ৫০ লাখ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।
ভোলা, জয়পুরহাট ও চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসক কার্যালয় প্রান্ত থেকে স্থানীয় সংসদ সদস্য,জেলা প্রশাসনের কর্মকর্তা ও উপকারভোগীরা অনুষ্ঠানে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে যুক্ত থাকায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তাদের সঙ্গেও মতবিনিময় করেন।
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, সবার জন্য করোনার টিকা নিশ্চিতে কাজ করছে সরকার।
আজ রবিবার করোনাভাইরাসে ক্ষতিগ্রস্তদের সহায়তা প্রদান অনুষ্ঠান উদ্বোধনকালে তিনি এসব কথা বলেন।
সরকার প্রধান বলেন, ঈদ উৎসব তো আছেই। এটা সবাই উদযাপন করবেন। কিন্তু স্বাস্থ্যবিধি মানতে হবে। ঈদের আনন্দ করবেন। কিন্তু যারা মারা গেছে, তাদের কথাও ভাবুন। নিজের জীবন বিপন্ন করে উৎসব নয়। মাস্ক ছাড়া ঘরের বাইরে যাবেন না। গরম পানির ভাপ নেয়া, গরম পানি খাওয়ার মতো বিষয়গুলো যত্ন সহকারে মানার জন্য আমি সবার প্রতি অনুরোধ জানাই।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাইরে থেকে ভাইরাস নিয়ে এসে নিজের পরিবারের ক্ষতি করবেন না। আমরা যে নির্দেশনাগুলো দিচ্ছি, সেগুলো মানতে হবে। কোয়ারেন্টাইনের বিষয়গুলো মানতে হবে। আপনারা সচেতন হোন, স্বাস্থ্যবিধি মানুন।
মহান মে দিবসে বাংলাদেশসহ বিশ্বের সকল শ্রমজীবী মানুষকে শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি বলেন, মহান মে দিবস বিশ্বব্যাপী শ্রমজীবী মানুষের ঐক্য ও সংহতির প্রতীক।
মহান মে দিবসে (১ মে) দেয়া বাণীতে প্রধানমন্ত্রী আরও বলেছেন, সরকার দেশের শ্রমজীবী মানুষের জীবনমান উন্নয়ন ও কল্যাণে বিভিন্ন কার্যক্রম বাস্তবায়ন করে যাচ্ছে। তিনি জানান, ‘বিশ্বব্যাপী করোনাভাইরাস সংক্রমণের ভয়াল পরিস্থিতি মোকাবিলায় আমাদের সরকার শ্রমজীবী মানুষের পাশে থেকে ত্রাণ বিতরণসহ সর্বাত্মক কার্যক্রম পরিচালনা করছে। সরকার সংকট মোকাবিলায় শ্রমিকদের বেতনের জন্য ৮ হাজার ৬০০ কোটি টাকা বরাদ্দ করেছে।’
প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, ‘রপ্তনিমুখী তৈরি পোশাক, চামড়াজাত পণ্য ও পাদুকাশিল্পে কর্মহীন হয়ে পড়া ও দুস্থ শ্রমিকদের জন্য সামাজিক সুরক্ষা কার্যক্রম বাস্তবায়ন নীতিমালা, ২০২০ বাস্তবায়নের জন্য শ্রম অধিদপ্তরের অনুকূলে ৫০ কোটি টাকা বরাদ্দ প্রদান করেছে। করোনা পরিস্থিতিতে দেশের অর্থনীতির চাকা সচল রাখতে স্বাস্থ্যবিধি মেনে কলকারখানা চালু রাখার নির্দেশ প্রদান করা হয়েছে। সে ক্ষেত্রে অবশ্যই শ্রমিকদের স্বাস্থ্য ও নিরাপত্তার বিষয়টি সংশ্লিষ্ট সবাইকে নিশ্চিত করতে হবে।’
// ডেস্ক রিপোর্ট //
সালাম মূশের্দী বলেছেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সরকার দেশকে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছেন…
পাবনার গৃহবধূ রিতা হত্যার রহস্য উদঘাটন, গ্রেফতার ৩
পাবনার ঈশ্বরদী পৌরশহরের মশুরিয়াপাড়া এলাকার চাঞ্চল্যকর গৃহবধূ মুক্তি খাতুন রিতা (২৭) হত্যার রহস্য উদঘাটন হয়েছে। এ ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে ঘটনার ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে গ্রেফতার তিন আসামি আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছে।
জবানবন্দি গ্রহণ শেষে আদালতের নির্দেশে তাদের কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
শনিবার রাতে পাবনার পুলিশ সুপার মহিবুল ইসলাম খান এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
গ্রেফতাররা হলেন- নাটোরের বড়ইগ্রাম উপজেলার চরগোবিন্দপুর গ্রামের মাহাবুল সরকারের ছেলে শরীফ সরকার (২১), একই গ্রামের সাব্বির আহমেদ (২৭) ও এক কিশোর (১৭)।
গত ২৯ এপ্রিল দুপুরে চাকরির অর্থ লেনদেনের ঘটনায় বাড়িতে ঢুকে গৃহবধূ মুক্তি খাতুন রিতাকে গলা কেটে হত্যা করা হয়। তার স্বামীর নাম বায়োজিদ সারোয়ারের। বায়োজিদ রূপপুর পারমাণবিক প্রকল্পের পাওয়ার প্ল্যান্টে চাকরি করেন।
পুলিশ সুপার মহিবুল ইসলাম খান জানান, নিহতের শাশুড়ির দেয়া অস্পষ্ট তথ্য এবং প্রযুক্তির সহায়তায় অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অপরাধ) মাসুদ আলমের নেতৃত্বে ওইদিন রাতেই নাটোরের বড়াইগ্রাম থানার চরগোবিন্দপুর গ্রামের শরীফ ও হেলালকে গ্রেফতার করে পুলিশ।
তাদের জিজ্ঞাসাবাদ ও প্রাথমিক তদন্তে হত্যাকাণ্ডে চারজনের সম্পৃক্ততার বিষয়টি পুলিশ নিশ্চিত হয়। এদের মধ্যে শরীফ ও এক কিশোর (১৭) শুক্রবার সন্ধ্যায় আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেয়।
শনিবার আসামি সাব্বির স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন। আরেক আসামিকে গ্রেফতারে পুলিশের তৎপরতা চলছে। পাশাপাশি এই হত্যাকাণ্ডে অন্য কারও ইন্ধন বা প্ররোচনা আছে কিনা এসব বিষয়েও তদন্ত চলছে।
তিনি আরও জানান, রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ প্রকল্পে চাকরি দেওয়ার জন্য টাকা লেনদেনের ঘটনাকে কেন্দ্র করেই এ হত্যাকাণ্ড হয়েছে বলে আসামিদের জিজ্ঞাসাবাদে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে।
সাব্বিরের দেখানো মতে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত ছুরি উদ্ধার করা হয়েছে। ঘটনার সময় পরিহিত আসামিদের কাপড়ও জব্দ করা হয়েছে।
পুলিশ সুপার জানান, নিহত গৃহবধূ রিতার স্বামী বায়োজিদ সারোয়ার রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ প্রকল্পের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান বাংলা পাওয়ার কোম্পানিতে চাকরি করেন। তিনি অর্থের বিনিময়ে মানুষকে চাকরি দিতেন। গৃহবধূ রিতার মাধ্যমে চাকরিপ্রার্থী যোগাড় ও টাকা লেনদেন হতো।
বায়োজিদের নানাবাড়ি এলাকার সাব্বিরকে ৪০-৪৫ হাজার টাকা বেতনে চাকরি দেওয়ার জন্য বেশ কিছু টাকা নেওয়া হয়।
এছাড়াও ওই এলাকার আরও কয়েকজন চাকরির জন্য টাকা দেন। কিন্তু সাব্বিরকে উল্লেখিত বেতনের চাকরি না দিয়ে ১২-১৫ হাজার টাকা বেতনের চাকরি দেওয়া হয়।
এতে সাব্বির ক্ষুব্ধ হয়ে টাকা ফেরত চান। এ নিয়ে বেশ কয়েকদিন ধরে তাদের মধ্যে ঝামেলা চলছিল। এই অবস্থায় গত ২৯ এপ্রিল সাব্বির আরও কয়েকজন চাকরিপ্রার্থী নিয়ে বায়োজিদের বাড়িতে হাজির হয়ে গৃহবধূ রিতাকে গলা কেটে হত্যা করেন।
এ সময় রিতার শাশুড়িকেও শ্বাসরোধ করে হত্যার চেষ্টা করা হয়।
// অনলাইন ডেস্ক //
লকডাউন নতুন করে বর্ধিত করা হয়েছে যা ৫ মে পর্যন্ত বহাল থাকবে
বৈশ্বিক মহামারী করোনার দ্বিতীয় ঝড় পার্শ্ববর্তী দেশ ভারতে সুপার সাইক্লোনের মতে ছড়িয়ে পড়েছে। প্রতিবেশী রাষ্ট্রের সাথে ব্যবসাবানিজ্য, চিকিৎসাসহ বিভিন্ন রাষ্ট্রীয় যোগাযোগ অবারিত আর তাই এসকল দিক বিবেচনা করে ২৮এপ্রিল-২০২১ রোজ বৃহস্পতিবার মধ্যরাত থেকে শুরু করে আগামী ০৫ মে রোজ বুধবার মধ্যরাত পর্যন্ত লকডাউন বৃদ্ধি করে পুনরায় আজই প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে।
লকডাউন চলাকালে পূর্বের ১৮ টি বিধি নিষেধ বহাল থাকবে।এছাড়া নতুন করে ০ ৬টি বিধিনিষেধ জারি করা হয়েছেঃ

১. স্থল,নৌ ও বিমানযোগে যেকোন ব্যক্তি প্রবেশের ক্ষেত্রে ( পণ্য পরিবহন ব্যতিত) নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে।
তবে শুধুমাত্র ভিসার মেয়াদ উত্তীর্ণ বাংলাদেশীগণ ভারতে অবস্থিত বাংলাদেশ হাইকমিশনের অনুমতি / অনাপত্তি ছাড়পত্র গ্রহন সাপেক্ষে বিশেষ বিবেচনায় বাংলাদেশে প্রবেশ করতে পারবেন।
এক্ষেত্রে বাংলাদেশে প্রবেশকারীদের ১৪ দিনের কোয়ারেন্টাইন সংক্রান্ত বিষয়ে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর প্রণীত বিধিনিষেধ কঠোরভাবে অনুসরণ করার জন্য স্বাস্থ্যসেবা বিভাগ, জননিরাপত্তা বিভাগ, সুরক্ষা সেবা বিভাগ, নৌপরিবহন মন্ত্রণালয় ও সংশ্লিষ্ট জেলা প্রশাসকগণ প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহন করবেন।
০২. দোকানপাট শপিংমলসমূহ সকাল ১০ টা থেকে রাত ০৮ পর্যন্ত যথাযথ স্বাস্থ্যবিধি প্রতি পালনের বিষয়ে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়,শ্রম মন্ত্রণালয় ও সংশ্লিষ্ট বাণিজ্যসংগঠনসহ সংশ্লিষ্ট বাজার/সংস্থার ব্যবস্থাপনা কমিটি প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহন করবেন। নির্দেশনা অমান্যকারীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহন করা হব,
০৩. আসন্ন ইদুল ফিতর নামাজের বিষয়ে ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা অনুযায়ী কার্যক্রম গ্রহন করতে হবে,
০৪. মধ্য প্রাচ্য, সিঙ্গাপুর, মালেশিয়া ও চীন থেকে আগত যাত্রীদের ভ্যাকসিন গ্রহনের সনদসহ ননকোভিট-১৯ সনদধারী যাত্রীগণ নিজ বাড়িতে ১৪ দিন কোয়ারান্টাইন থাকবেন। এক্ষেত্রে তাদেরকে সংশ্লিষ্ট থানাকে আগমন ও কোয়ারেন্টাইনের বিষয়ে অবহিত করতে হবে,
০৫. উল্লেখিত দেশ থেকে আগত শুধুমাত্র ননকোভিট-১৯ সনদধারীরা সরকার নির্ধারিত কোয়ারেন্টাইন ব্যবস্থায় থাকবেন। ৩ -৫ দিনের মধ্যে চিকিৎসকগণ তাদের পরীক্ষা করে সম্মতি প্রদান করলে স্ব স্ব বাড়িতে কোয়ারেন্টাইনে থাকবেন। তবে এক্ষেত্রে তাদের স্ব স্ব থানায় অবহিত করতে হবে এবং
০৬. অন্যান্য দেশ থেকে আগত যাত্রীরা সরকার নির্ধারিত হোটেলে নিজ ব্যয়ে ১৪ দিন কোয়ারেন্টাইনে থাকবেন। এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহনের জন্য স্ব স্ব মন্ত্রণালয়কে অবহিত করা হয়েছে।
//স্বীকৃতি বিশ্বাস, নিজস্ব প্রতিবেদক//
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা প্রাণঘাতী করোনা ভাইরাস মোকাবেলায় নিরলস কাজ করে যাচ্ছেন: সালাম মূশের্দী
খুলনা-৪আসনের সংসদ সদস্য আব্দুস সালাম মূর্শেদী বলেন, বঙ্গবন্ধু কন্যা মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা প্রাণঘাতী করোনা মোকাবেলায় নিরলস কাজ করছেন। তিনি সবসময় দেশের জনগণের পাশে আছেন এবং থাকবেন। বর্তমান এই বৈশ্বিক মহামারী করোনা ভাইরাসের প্রাদুর্ভাবের কারণে আমরা এক ক্রান্তিকালের মধ্য দিয়ে অতিবাহিত করছি।
মহামারি করোনার এই দ্বিতীয় ঢেউ মোকাবেলায় দেশব্যাপী লডডাউন চলছে। এই লকডাউনকালীন সময়ে কর্মহীন হয়ে পড়া দুঃস্থ ও অসহায় মানুষদের সর্বাত্ত্বক সহযোগিতা করে যাচ্ছেন বর্তমান সরকার। আমি চাই আমার নির্বাচনী এলাকা তেরখাদা, রূপসা, দিঘলিয়ার গরীব দুঃখী মানুষ যাতে অভুক্ত না থাকে। তার জন্য করোনা ভাইরাসের প্রার্দুভাব যতদিন থাকবে, ততদিন আমি তাদরে পাশে থেকে সাহয্য সহযোগিতা করে যাব।
সোমবার ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে তেরখাদা উপজেলার সাচিয়াদাহ ইউনিয়নে ৪ শতাধিক গরীব, অসহায় ও দু:স্থদের মাঝে খাদ্য সামগ্রী বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় একথা বলেন।
খুলনা-৪ আসনের সংসদ সদস্য আব্দুস সালাম মূর্শেদীর নিজস্ব অর্থায়নে করোনা ভাইসার প্রাদুর্ভাবের কারণে ‘সালাম মূর্শেদী সেবা সংঘে’র মাধ্যমে করোনাকালীন সময়ে গরীব, অসহায় মানুষ যাতে খাদ্য কষ্টে না ভোগে, সে জন্য আব্দুস সালাম মূর্শেদী এমপি তার নির্বাচনীয় এলাকা রূপসা, তেরখাদা, দিঘলিয়ায় ইতোমধ্যে খাদ্য সামগ্রী বিতরণ অব্যাহত রেখেছেন।
তারই ধারাবাহিকতায় তেরখাদা উপজেলার সাচিয়াদাহ ইউনিয়নের ‘শতদল মহাবিদ্যালয়’ মাঠে অসহায় দরিদ্র ৪ শতাধিক পরিবারের মাঝে খাদ্য সামগ্রী বিতরণ করেছেন।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন জেলা আ’লীগের সদস্য ও অধ্যক্ষ ফ ম আব্দুস সালাম, জেলা স্বেচ্চাসেবক লীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মোতালেব হোসেন, এমপি সালাম মূর্শেদীর প্রধান সমন্বয়ক নোমান ওসমানী রিচি, আ’লীগ নেতা আব্দুর রাজ্জাক রাজা, সাবেক চেয়ারম্যান বাদশা মল্লিক, সালাম মূর্শেদী সেবা সংঘের টিম লিডার যুবলীগ নেতা সামসুল আলম বাবু, ছাত্রলীগ নেতা শেখ হুসাইন আহমেদ, রিয়াজ, সুমন প্রমুখ।
//আ: রাজ্জাক শেখ, খুলনা ব্যুরো//
বিশুদ্ধ পানির জন্য RO Filter ব্যবহার করুন…
টাকা সঞ্চয় বেড়ে গেছে: আড়াই লাখ কোটি টাকা ব্যাংকে উদ্বৃত্ত তারল্য
করোনা মহামারি ছড়িয়ে পড়ার পর গত বছরের মার্চের শেষদিকে লকডাউন শুরু হয়। আর এপ্রিল থেকে বন্ধ হয়ে যায় অধিকাংশ ব্যবসা-বাণিজ্য। নতুন বিনিয়োগ পরিকল্পনা থেকে সরে আসেন অনেক ব্যবসায়ী। চলমান ব্যবসাও বন্ধ হয়ে যায় কারও কারও আবার কেউ বা ছোট করেন ব্যবসার পরিসর। চাকরিজীবীরাও সব ধরনের বিনিয়োগ ও বাড়তি খরচ থেকে সরে এসে সঞ্চয় শুরু করেন।
বিদেশ থেকে প্রবাসী আয়ের প্রবাহ বাড়লেও সে তুলনায় টাকা তোলা কম হয়েছে। একই চিত্র করোনার দ্বিতীয় ঢেউয়েও। চলতি বছরের মার্চে ক্ষতি কিছুটা কম হলেও এপ্রিলে পুরোপুরি থেমে গেছে। সব মিলিয়ে একের পর এক করোনার অভিঘাতে দেশের অর্থনীতি স্বাভাবিকের তুলনায় অনেকাংশে স্থবির হয়ে পড়েছে। পর্যাপ্ত ঋণ বিতরণ ও বিনিয়োগ না হওয়ায় চলতি বছরের মার্চ ও এপ্রিলে ব্যাংকগুলোতে উদ্বৃত্ত তারল্য আড়াই লাখ কোটি টাকা ছাড়াতে পারে। তবে ঈদকে ঘিরে আবার চাঙ্গা হয়ে উঠবে ব্যাংকিং খাত-এমন ধারণা ব্যাংকারদের।
জানতে চাইলে পূবালী ব্যাংকের সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) আব্দুল হালিম চৌধুরী যুগান্তরকে বলেন, সাময়িক স্থবির হলেও ঈদকে ঘিরে অর্থের ব্যাপক চলাচল হবে। অর্থাৎ মে মাসে ব্যাংক খাতে উদ্বৃত্ত তারল্য কমতে পারে।
অগ্রণী ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) মোহাম্মদ শামস উল ইসলাম যুগান্তরকে বলেন, এ মুহূর্তে তারল্য এবং ডলারের কোনো ঘাটতি নেই। ব্যাংকগুলোর হাতে প্রচুর উদ্বৃত্ত তারল্য রয়েছে। তবে আসছে রোজার ঈদে তারল্য কিছুটা কমতে পারে। কারণ সবকিছু খুলে দিচ্ছে, লেনদেন হবে অনেক।
সূত্র জানায়, ঋণের চাহিদা বাড়ার কারণে চলতি বছরের জানুয়ারি থেকেই ব্যাংক খাতের অতিরিক্ত তারল্য কমছিল। যা ফেব্রুয়ারিতে এসে আরও কমেছে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ তথ্যমতে, ফেব্রুয়ারি শেষে ব্যাংক খাতে অতিরিক্ত তারল্য দাঁড়িয়েছে ২ লাখ কোটি টাকা, এক মাস আগে যা ছিল ২ লাখ ৪ হাজার ৭০ কোটি টাকা। তবে গত এক বছরের ব্যবধানে অতিরিক্ত তারল্য বেড়েছে ৯২ দশমিক ৪২ শতাংশ। গত বছরের ফেব্রুয়ারিতে ব্যাংক খাতে অতিরিক্ত তারল্যেও পরিমাণ ছিল এক লাখ ৩ হাজার ৯৩৪ কোটি টাকা।
ব্যাংকাররা বলছেন, ব্যাংক খাতে অতিরিক্ত তারল্যে ফেব্র“য়ারিতে কমলেও মার্চ এবং এপ্রিল মাসে বাড়বে। কারণ করোনার দ্বিতীয় ঢেউ দেশের অর্থনীতিতে আবারও বিরূপ প্রভাব ফেলতে শুরু করেছে। তারা বলছেন, জানুয়ারি ও ফেব্র“য়ারিতে ঋণের চাহিদা কিছুটা বাড়লেও বর্তমানে এই চাহিদা আবার কমতে শুরু করেছে।
এদিকে করোনাভাইরাসে ব্যবসায়ীরা গুটিয়ে গেলেও কম সুদের প্রণোদনা ঋণে যেন আবার প্রাণ ফিরে পান। পুরোনো ঋণ পরিশোধেই হোক বা চলতি মূলধনের জন্যই হোক, ব্যবসায়ীরা সীমিত পরিসরে ঋণ নিয়েছেন। ফলে ২০২০ সালে ঋণ বিতরণ ভালো হয়েছে।
এরপরও ব্যাংক খাতে উদ্বৃত্ত তারল্যের পরিমাণ ২ লাখ কোটি টাকা ছাড়িয়েছে। যা বর্তমানে আড়াই লাখ কোটি টাকা ছাড়াতে পারে। বিশাল এই তারল্যের একটি বড় অংশ বিলবন্ডে বিনিয়োগ করেছে। বাকি টাকা ব্যাংকগুলোতে অলস পড়ে আছে। ব্যাংকগুলোর জুলাই-ফেব্র“য়ারি সময়ের তথ্য পর্যালোচনায় এমন চিত্র পাওয়া গেছে। করোনার দ্বিতীয় ঢেউয়ের ‘লকডাউনে’ বাংলাদেশ ব্যাংকের অনেক বিভাগ বন্ধ থাকায় মার্চের তথ্য এখনো পাওয়া যায়নি। আর এপ্রিলে উদ্বৃত্ত তারল্য সবচেয়ে বেশি হবে। কারণ মাসের পুরোটা কেটেছে লকডাউনে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, ব্যাংক খাতে আমানতের পরিমাণ বেড়ে গত জানুয়ারিতে ১২ লাখ ৮৬ হাজার ২০১ কোটি টাকায় উঠেছে। এত বিপুল আমানত আগে কখনো দেখা যায়নি। ২০২০ সালের জুন শেষে আমানত ছিল ১১ লাখ ৮০ হাজার ৯৯৯ কোটি টাকা। অর্থাৎ চলতি ২০২০-২১ অর্থবছরের প্রথম সাত মাসে আমানত বেড়েছে ১ লাখ ৫ হাজার ২০২ কোটি টাকা। আগের ২০১৯-২০ অর্থবছরের একই সময়ে আমানত বেড়েছিল ৭৩ হাজার ৩৪৯ কোটি টাকা। তারও আগের ২০১৮-১৯ অর্থবছরের একই সময়ে আমানত বৃদ্ধি পেয়েছিল ৪০ হাজার ৮৩৫ কোটি টাকা। এতে দেখা যায়, করোনার মধ্যেই আমানত বেড়েছে সবচেয়ে বেশি।
ব্যাংক কর্মকর্তারা জানান, করোনার মধ্যে প্রবাসী আয় অনেক বেশি এসেছে। এসব টাকার বড় অংশ ব্যাংকে আমানত হিসেবে জমা হয়েছে। আগে যারা সঞ্চয় করেননি, তারাও করোনাকালে সঞ্চয় করতে শুরু করেছেন। আসলে করোনা সবাইকে ভবিষ্যৎ নিয়ে অনিশ্চয়তায় ফেলে দেওয়ার কারণেই সঞ্চয়ের প্রবণতা ও পরিমাণ বেড়েছে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য পর্যালোচনায় দেখা যায়, রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকগুলোর মধ্যে সবচেয়ে বেশি আমানত রয়েছে সোনালীর। গত ডিসেম্বর শেষে এই ব্যাংকে গচ্ছিত আমানতের পরিমাণ দাঁড়ায় ১ লাখ ২৫ হাজার ৩৫৭ কোটি টাকা। এক বছরে ব্যাংকটির আমানত বেড়েছে ৯ হাজার ৪৭৮ কোটি টাকা। সোনালীর পেছনে রয়েছে অগ্রণী, জনতা ও রূপালী ব্যাংক। বেসরকারি খাতে সবচেয়ে বেশি আমানত রয়েছে ইসলামী ব্যাংকের। জানুয়ারি শেষে ব্যাংকটিতে আমানত বেড়ে হয়েছে ১ লাখ ২০ হাজার কোটি টাকা, যা গত বছরের জুনে ছিল ১ লাখ কোটি টাকা। ২০১৯-২০ অর্থবছরের একই সময়ে ব্যাংকটিতে আমানত ছিল ৯৪ হাজার ৬৮১ কোটি টাকা।পূবালী ব্যাংকে গচ্ছিত আমানতের পরিমাণ ৪৩ হাজার ২০০ কোটি টাকা, যা বেসরকারি ব্যাংকগুলোর মধ্যে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ। এরপরই ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংকে ৪৩ হাজার ১৫৮ কোটি ও ন্যাশনাল ব্যাংকে ৪২ হাজার ৮০০ কোটি টাকার আমানত রয়েছে।
এদিকে চলতি ২০২০-২১ অর্থবছরের প্রথম সাত মাসে ব্যাংকগুলো মোট ৯৫ হাজার ৭২৯ কোটি টাকার ঋণ বিতরণ করেছে। ফলে সার্বিক ঋণের পরিমাণ গত জানুয়ারিতে বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৪ লাখ ৪৮ হাজার ২১৯ কোটি টাকা, যা গত বছরের জুন শেষে ছিল ১৩ লাখ ৫২ হাজার ৪৯০ কোটি টাকা (এই ঋণ নন-ফান্ডেড দায়সহ, গত জানুয়ারিতে শুধু ঋণ ছিল ১১ লাখ ২১ হাজার ১২২ কোটি টাকা)। আগের ২০১৯-২০ অর্থবছরের একই সময়ে ঋণ বিতরণ হয়েছিল ৯৬ হাজার ৬৪ কোটি টাকা। তার আগের ২০১৮-১৯ সালের একই সময়ে ঋণ বিতরণ হয়েছিল ৬৭ হাজার ৭৫২ কোটি টাকা। বিভিন্ন খাতের ব্যবসায়ী-উদ্যোক্তাদের করোনার প্রভাব মোকাবিলায় সহায়তা করতে সরকার কম সুদের এক লাখ কোটি টাকার বেশি ঋণ প্যাকেজ ঘোষণা করে। ওই প্যাকেজের ঋণ বিতরণ এখনো চলছে। ইতোমধ্যে ৭৫ হাজার কোটি টাকার মতো বিতরণ হয়েছে। প্রণোদনা প্যাকেজের ফলে জুলাই-জানুয়ারি সময়ে ঋণ বিতরণ আগের বছরের একই সময়ের কাছাকাছি পৌঁছে গেছে।
অনলাইন ডেস্ক।।
