//সুজন মাহমুদ, মাগুরা//
মাগুরার মহম্মদপুরে বিয়ের দাবিতে মাস্টার্স শেষ বর্ষের এক কলেজ ছাত্রী তার প্রেমিকের বাড়িতে দুই দিন ধরে অবস্থান নিয়েছে। বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে ৭ বছর প্রেম এবং একাধিক বার শারীরিক সম্পর্কের পর এখন তাঁকে অস্বীকার করছে তার প্রেমিক।
এ ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে। প্রেমিকাকে দেখতে ভিড় করছেন প্রেমিকের বাড়ির সামনে স্থানীয়রা।
প্রেমিক যুবক রাজকুমার বিশ্বাস (৩০) উপজেলার বাবুখালী ইউনিয়নের কাওয়ালী পাড়া গ্রামের পদ্ম কুমার বিশ্বাসের ছেলে।
এদিকে প্রেমিকা বাড়িতে আসার খবর শুনে উধাও হয়েছে প্রেমিক। গত শুক্রবার সকালে এ ঘটনা ঘটে। দুই দিন পাড় হলেও ছেলের পরিবার বা স্থানীয়রা তার সমাধান করতে এগিয়ে আসেনি।
স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান বা মেম্বাররা ঘটনার কথা জানলেও কোনো পদক্ষেপ নেননি।
রাজকুমার বিশ্বাস বাড়িতে অবস্থানরত ওই নারী জানান, রাজকুমারের সাথে তার প্রায় সাত বছর ধরে প্রেমের সম্পর্ক চলছে। প্রেমের সম্পর্ক নিয়ে বিয়ের আশ্বাসে রাজকুমার সঙ্গে একাধিকবার শারীরিক সম্পর্ক হয়েছে। রাজকুমারের পরিবার তাদের সম্পর্কের বিষয়টি আগে থেকেই জানতো। রাজকুমারের বাড়ির পাশে তার প্রেমিকার জামাই বাবুর বাড়ি। সেই সুবাদে তাদের প্রথম পরিচয় ও প্রেম হয়।
ওই নারী আরও জানান, প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠার পর মাগুরা ও ফরিদপুরের বিভিন্ন মেসে তাঁরা গোপনে দেখা করতো। এক পর্যায়ে মেয়েটি অন্তঃসত্ত্বা হয়ে পড়ে। এর তিন মাস পর বাচ্চা নষ্ট করার জন্য চাপ দেয় রাজকুমার। পরে বাচ্চা নষ্ট করে ফেলি।
এর আগে গত ২০১৮ সালে ফেব্রুয়ারি মাসে বিয়ের দাবিতে রাজকুমারের বাড়িতে চলে আসে ওই নারী। তখন স্থানীয় চেয়ারম্যান ও মেম্বররা বিয়ের আশ্বাস দিয়ে তাঁকে বাড়িতে ফেরত যেতে বাধ্য করেন। কিন্তু পরে আর বিয়ে হয়নি।
ছেলের বাড়িতে গিয়ে ছেলের বোন রুপা রানীকে ছাড়া কাউকে পাওয়ায় যায়নি। তিনি বলেন, ‘শুক্রবার হঠাৎ এই নারী বাড়িতে ওঠে আসে। প্রথমে বলে রাজকুমারের কাছে টাকা পাবো। এখন বলছে রাজকুমার তার প্রেমিক। তাকে আমরা খাবার দিয়েছি সে খেয়েছে। এখানে কোন অনশন চলছে না।’
স্থানীয় বাবুখালী ইউপি চেয়ারম্যান মীর মো. সাজ্জাদ আলী বলেন, ‘অনেক আগে একবার এই মেয়ে এসেছিল। এখন আবার এসেছে। দুই পক্ষকে ডাকা হয়েছে আশা করি আজ একটি সুন্দর সমাধান করে দিতে পারবো।

