ডুমুরিয়ার প্রতিযশা বংশীবাদক শিল্পী ওস্তাদ আব্দুল হাকিম একুশে পদকে ভূষিত

ডুমুরিয়ার প্রতিযশা বংশীবাদক শিল্পী ওস্তাদ আব্দুল হাকিম একুশে পদকে ভূষিত

//জাহিদুর রহমান বিপ্লব, ডুমুরিয়া//

খুলনার ডুমুরিয়ার উপজেলার চেচুড়ি গ্রামের সন্তান প্রতিযশা বংশীবাদক শিল্পী  ওস্তাদ আব্দুল হাকিম একুশে পদকে ভূষিত হয়েছেন।  । কাদা মাটি জল আর মাঠ ঘাটে বেড়া উঠা  ছোট বেলা থেকে বাশিঁ বাজাতেন। এক সময়ের নিভৃত পল্লীর বেড়ে উঠা টকবুকে তরুন আব্দুল হাকিম ১৯৭১ সালে মহান মুক্তিযুদ্ধে অংশ নিতে ভারতে চলে যান ।

যুদ্ধের সময় বাশিঁ ছাড়তে পারিনি। যুদ্ধের সময়  বাংক্যারে বসে একাকীত্বে বাশির সুর সাধনা করতেন। পরিবার হারানো বেদনা ও ক্লান্ত  মুক্তিযুদ্ধাদের বাশিঁর সুরে বিমোহিত করে রাখতেন। যুদ্ধে যাওয়ার খবর তখনকার  দেশিয় রাজাকরা  জানতে পেরে হাকিমের বাড়িতে প্রতিনিয়ত হানা দিতো। মা সহ পরিবারের লোকজনদের রাজাকাররা  মানষিক ও শারিরীক নির্ষাতন করতো। যুদ্ধ শেষে তিনি বাড়িতে ফিরে আসে। তখন বাশিঁকে ছাড়তে না পেরে মনের গভীরে একটাই স্বপ্ন ও সাধনা নিয়ে বাশিঁ সুরে এলাকার মানুষকে বিমোহিত করেছেন।

এলাকাসহ আশপাশ এলাকায় যেখানে সাংস্কৃতি অনুষ্ঠান হতো হাকিমের বাশিঁর সুর শুনতে এলাকার মানুষ জড়ো হতো। এভাবে চলতে চলতে ১৯৭৪ সালে শেষ দিকে খুলনা বেতারের সাথে যুক্ত হন । এরপর তিনি  ঢাকায় চলে যান। সঙ্গীত সাধনায় নিজেকে মেলে ধরতে সঙ্গীত শিল্পীদের সাথে কাজে করেছে। লালন ফকিরের জীবন নিয়ে নির্মিত ছায়াছবি মনের মানুষ এর সঙ্গীত্যয়োজনে তাঁর অন্যবদ্য ভূমিকা ছিল।

বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল হাকিম পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে তার বাশিঁর সুর মুগদ্ধ করেছে সঙ্গীত পিপাষুদের।  তিনি যন্ত্র সঙ্গীত শিল্পী সংস্থার প্রেসিডেন্ট।

আলোকিত মানুষটি একুশে পদক প্রাপ্তির খবর ডুমুরিয়া ফাউন্ডেশন নামের একটি সেচ্ছাসেবী সংগঠন সামাজিক যোগাযোগ মাধ‍্যামে প্রচার করে।

 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *