সাংবাদিকতার মান ফেরাতে সর্বপ্রথম অন্য পেশায় জড়িতদের প্রতিনিধি বাতিল করা জরুরী

সাংবাদিকতার মান ফেরাতে সর্বপ্রথম অন্য পেশায় জড়িতদের প্রতিনিধি বাতিল করা জরুরী

 মোঃ তুহিন শরীফ, নিজস্ব প্রতিনিধিঃ

আমার লেখা কোন ব্যাক্তি কিংবা প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে নয়।কিংবা কোন পেশার উপদেশ নয়, বাস্তবতা দিয়ে বলছি,ছোট মুখে বড় কথা হলে ক্ষমার দৃষ্টিতে দেখবেন সবাই, আজ সাংবাদিক সমাজের অবনতির মুল কারন প্রতিনিধি নিয়োগে অবহেলা।অনুসন্ধানে আমার নিজ জেলার বাস্তবতা তুলে ধরা হলো, আমি আজ ৫ বছর ধরে সাংবাদিক হওয়ার জন্য বহু চেষ্টা চালাচ্ছি।

এমন কি সঠিক সংবাদ তুলে ধরতে গিয়ে বহু প্রতিকুল অবস্থার সম্মুখীন হতে হয়েছে।এর মধ্যে কথিত বড় বড় মিডিয়া পরিচয়ধারী লোকদের সাক্ষাৎ পেয়েছি কখনো ফোনে কখনও নামে।তাদের হাতে চলছে সাংবাদিকদের এক হয়ে বসার স্থান যার নাম হয়তো সকলেই জানেন।এছাড়াও বাংলাদেশে রয়েছে কয়েকটি সুনামধন্য সাংবাদিক সংগঠন।

কিন্তু এরা অধিকাংশ সাংবাদিক কেহ নিজে ব্যাবসা প্রতিষ্ঠান পরিচালনা কিংবা স্কুল কলেজ অথবা ব্যাংক নয়তো অন্য কোন প্রতিষ্ঠানে নিত্যদিনের কর্মরত রয়েছেন।অথচ যারা শুধু সাংবাদিক পেশা নিয়ে প্রতিদিন সাধারন জনগণের বিভিন্ন বিষয়ে নিউজের জন্য সকাল সন্ধ্যা এক উপজেলা থেকে অন্য উপজেলায় ছুটছে তারা সঠিক মূল্যায়ন পাচ্ছে না। এর কারন তারা ভালো কাজে গেলেও সেটাকে মন্দ বলে আখ্যায়িত করেন স্থানীয় নামধারী কথিত মিডিয়া কর্মীরা।

এর কারন স্থানীয়ভাবে তাদের নামের পোস্ট পজিশনের প্রভাব।এছাড়াও রয়েছে প্রতিহিংসা, দেখাগেছে সরকারি ডিকলারেশনে দৈনিক,সাপ্তাহিক,মাসিক ও পাক্ষিক মিলিয়ে কয়েক’শো প্রিন্ট পত্রিকা রয়েছে বাংলাদেশে এর মধ্যে জাতীয় অষ্টম ওয়েজবোর্ড ও লিষ্টে রয়েছে ২৭৩ টি পত্রিকা এখন প্রশ্ন যারা অষ্টম ওয়েজবোর্ড ভুক্ত তারা এর বাহিরে পত্রিকার প্রতিনিধিদের মানতে নারাজ এর কারন কি? এমন কি বলেন হলুদ সাংবাদিক তাহলে কি বাংলাদেশে হলুদ সাংবাদিক নামে কোন পত্রিকা আছে কি? এমতে বাকি পত্রিকার প্রতিনিধি নিয়োগ দেয়া উচিত নয়।এছাড়াও সকল জেলা উপজেলায় দেখাগেছে একটি প্রেসক্লাব যেখানে সদস্য পদ সীমিত প্রতিনিধি বহু তাহলে যারা প্রেসক্লাবে সদস্য নেই তারা কি সাংবাদিক হতে পারে না? অথচ সকল দিক বিবেচনা করে দেখাযায় যারা ক্লাবের সদস্য তাদের চেয়েও বেশি নিউজ লেখা পেশাকে মুল্যায়ন ও সাধারন জনগণের বিপদে বেশিরভাগ কাজ করেন তারা আর এরই প্রেক্ষিতে বাঁধা হয়ে দাড়ায় যারা পেশাকে মুল্যায়ন নয় বরং সাংবাদিক নাম ব্যবহার করে তাদের নিকটবর্তী অপরাধীদের পক্ষে কথা বলেন।

এজন্য আজ এসমাজে এত সাংবাদিক নির্যাতন হামলা মিথ্যা মামলার ঘটনা বেড়েই চলছে।এতে অপরাধীদের অপরাধের সংখ্যা ও সাহস শক্তি উভয় দিনের পর দিন বাড়ছে বিচারিক কার্যক্রমকে বাঁধাবিঘ্ন করছেন অন্য পেশায় জড়িত সাংবাদিক প্রতিনিধিরা। এমত অবস্থায় কেন্দ্রীয় সকল সাংবাদিক সংগঠনের নেতা ও সকল চ্যানেল মিডিয়ার নির্বাহী পরিচালক ও প্রিন্ট মিডিয়ার প্রকাশক সম্পাদকের কাছে অনুরোধ রইলো আপনারা প্রতিনিধিদের সঠিক পরিচয় সম্পর্কে জানুন এবং আপনাদের প্রতিনিধি হয়ে বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ প্রচারে সক্ষম কিনা তা জেনে নিয়ে দায়িত্ব দিন।কারন যারা প্রতিদিনের কর্মস্থলে কর্মরত কিংবা নিজ পরিচালনায় প্রতিষ্ঠান পরিচালনা করেন তারা অধিকাংশ সংবাদ কপি টিগারে করে থাকেন নামে শুধু সাংবাদিক সভাপতি ও সাধারন সম্পাদক খোঁজ নিন সে নিজেই এপেশাকে ব্যবহার করে সমাজের অবহেলিত মানুষের পাশে না দাড়িয়ে নিজ সার্থ উদ্ধারে বিভিন্ন সংগঠনের নেতা কর্মীদের কাছ থেকে সুবিধা ভোগ করে থাকেন।

যদি একজন প্রতিনিধি সারাদিন তার উপার্জনের কর্মস্থলে থাকেন তাহলে বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ সংগ্রহ করা তার জন্য কোনদিনি সম্ভব নয় বলে আমি মনে করি এতে আমার ভুল হলে ক্ষমা করবেন।আর বাংলাদেশ প্রেস কাউন্সিলের চেয়ারম্যান সাবেক বিচারপতি জনাব মমতাজ উদ্দিন আহমেদ স্যার আপনার সুদৃষ্টি কামনা করে জানাচ্ছি যে বিধিমালা অনুযায়ী নিজের দ্বারা পরিচালিত ছোট কিংবা বড় প্রতিষ্ঠান পরিচালনা কিংবা প্রতিদিনের কর্মরত স্থানে অথবা অন্য কোন সংগঠনের সাথে জড়িত থাকিলে সাংবাদিক পেশায় থাকিতে পারিবে না এই নিয়মনীতি ঘোষণা করুন। কারন যারা এধরণের প্রতিনিধি তারা সঠিক সংবাদ নিজেরা করেন না বরং যারা সঠিক মনোভাব নিয়ে এই পেশায় আসেন তাদেরকে বাঁধাপ্রাপ্ত করেন।

যুক্তি হিসেবে যদি একটি লোক তার মনে হয় এই পেশা আমার কোন কাজ নয় নিজে সারাদিন ব্যাবসা কিংবা মাসিক চাকুরীর ইনকাম করে চলি তাহলে কিভাবে তার দ্বারা দেশ ও জাতির কল্যাণে সাধারন জনগণের সেবা দেওয়া সম্ভব।কারন কোন প্রতিষ্ঠানে সারাদিন উপস্থিত না থেকে ব্যাবসা প্রতিষ্ঠানে সময় না দিয়েতো ইনকাম করা সম্ভব নয়।আমি চারদিকের সকল পরিস্থিতি দেখে বলছি এই পেশা সকল পেশার উর্ধে আর আজ ব্যাংক কর্মকর্তা, ব্যাবসায়ী, স্কুল শিক্ষিক তারা সহজে হচ্ছে প্রতিনিধি তাই তাদের কাছে মুল্যায়ন নেই পেশার, পাশাপাশি যোগ্যতাহীন লোকেরা এই সুযোগ নিয়ে হয়ে যাচ্ছেন সাংবাদিক।

আমি মনে করি যদি কোন মানুষ তার সঠিক শিক্ষাগত যোগ্যতা থাকা সত্বেও বেকারত্ব জীবন না কাটিয়ে ছোট একটা ব্যাবসা কিংবা চাকুরী করেন সেটা হাস্যকর কিংবা ছোট চোখে দেখার কিছুই নেই যদি সে কোন অসামাজিক কার্যকলাপ কিংবা দেশ ও আইন বিরোধী কাজে লিপ্ত হয়ে নিজেকে অপরাধের সাথে মিলিত না করেন।তবে সাংবাদিক পেশায় এসে উপস্থিত না থেকে বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ প্রচার না করা ও এই পেশাকে ঢাল হিসেবে ব্যবহার করে চলাটা বর্তমানে যেমন পেশার মানক্ষুন্ন তেমনি আইনত অপরাধ এবং কিছু ক্ষেত্রে হাস্যকর বানিয়ে ফেলছে কথিত সমাজের বিভিন্ন পেশার লোক। এছাড়াও প্রতিটি পেশা কিংবা সংগঠের ঐক্য রয়েছে শুধু পরিচর্যা ও প্রতিহিংসার কারনে সাংবাদিকদের ঐক্য নেই বললেই চলে।

তাই সাংবাদিক পেশার মান ফেরাতে সবার আগে অন্য পেশায় জড়িত প্রতিনিধি বাতিল ও সঠিক পরিচর্যা করা হলে ঐক্যবদ্ধ হয়ে সুন্দর ও সুশীল সমাজ গড়ার ক্ষেত্রে মহান পেশা সাংবাদিক পেশার ভুমিকা হবে অপরিসীম ও সচ্ছ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *