//নিজস্ব প্রতিবেদক//
খুলনার রূপসার টিএসবি ইউনিয়ন স্বল্পবাহিরদিয়া গ্রামে কিশোর কল্যাণ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ধর্মীয় শিক্ষক এশারাত হোসেন এর বিরুদ্ধে সপ্তম শ্রেণীর ছাত্রীর শরীরের বিভিন্ন স্পর্শ কাতর স্থানে হাত দেওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে।
ঘটনার পর বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ শিক্ষককে সাময়িক বরখাস্ত করেছে বলে জানা যায়।
অভিযোগে জানা গেছে, কিশোর কল্যাণ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে (করডোন্ড স্কল) সপ্তম শ্রেণীর ছাত্রীর সাথে দীর্ঘদিন ধরে ওই ধর্মীয় শিক্ষক ইশরাত হোসেন বিভিন্ন সময় অসৌজন্যমূলক কথা বলেন এবং তার শরীরের বিভিন্ন স্থানে বিভিন্ন সময় হাত দেন।
সর্বশেষ গত মঙ্লবার স্কুলে গেলে আবারো ওই শিক্ষক কৌশলে ছাত্রীর শরীরে হাত দেন।
বিষয়টি সে তার পরিবারকে জানায়।
তার পিতা ঘটনাটি স্কুলের প্রধান শিক্ষক নকিব উদ্দিনকে জানানোর পর
তিনি বিষয়টি বিদ্যালয়ের সভাপতি আহমেদুল কবির চাইনিজ এর সাথে কথা বলে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেন। এবং শিক্ষক এশারাতকে সাময়িক বরখাস্ত করেন।
বিদ্যালয়ের অভিভাবক সদস্য আনোয়ার হোসেনকে আহবায়ক এবং শিক্ষক গোবিন্দ দাস ও কোহিনুর আক্তার কে সদস্য করে তদন্ত কমিটি গঠন করেন।
তিন সদস্যর তদন্ত কমিটি দীর্ঘ সময় ধরে তদন্ত করে ঘটনার সত্যতা খুঁজে পান।
তদন্ত কমিটি তাদের প্রতিবেদন বিদ্যাল য়ের প্রধান শিক্ষকের নিকট জমা দেন।
প্রকৃত ঘটনা উল্লেখ করে ছাত্রী বলেন, হুজুর শিক্ষক এশারাত হোসেন আমার সঙ্গে অশ্লালিন আচরণ করার পর অসত উদ্দেশ্যে আমার বুকে হাত দেয়া শুরু করেন। সে এর আগেও এ ধরনের কাজ ৫/৬ দিন করেছেন। সে ক্লাস নেওয়ার সময় আমার টাউয়া ধরে, ঘাড় ও পিঠ টেপে। পরে কোন উপায়ন্ত না পেয়ে ছাত্রী এ ঘটনা তার ‘মাতা’ কে জানাই এবং পরে পিতা জানতে পান।
এ বিষয়টি ছাত্রীর দাদা-দাদি, চাচ-চাচি এ ঘটনার নিন্দা জানায় এবং সুষ্ঠু বিচারের দাবী করেন। এমনকি তারা ঐ স্কুলে ছাত্রীকে পড়াশুনা করিবে না বলেও জানান।
তারা এ ধরনের শিক্ষক কোন অবস্থাতে স্কুলে চাকুরী করতে না পারে তার জোর দাবি জানান।
উল্লেখ্য — শিক্ষক এশারাতের বিরুদ্ধে পূর্বেও ছাত্রীদের সাথে অশ্লালীন আচরণ করার একাধিক ঘটনা রয়েছে বলে তদন্ত কমিটি জানায়।
বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক নকিব উদ্দিন বলেন, ধর্মীয় শিক্ষক এশারাতের বিরুদ্ধে সপ্তম শ্রেণীর ছাত্রীর শরীরে হাত দেওয়ার ঘটনায় তার পরিবার অভিযোগ করেন। অভিযোগ পাওয়ার পর প্রকৃত ঘটনা জানার জন্য তিন সদস্য বিশিষ্ট তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়।
তদন্ত কমিটি তাদের রিপোর্ট আমাদের কাছে জমা দিয়েছেন।
তবে ঘটনার সাথে জড়িত থাকার প্রমাণ পেলে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এঘটনায় বিদ্যালয়ের সভাপতি আহমেদুল কবির চাইনিজ বলেন, ঘটনার অভিযোগ পেয়ে তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।
তদন্ত কমিটি তাদের প্রতিবেদন জমা দিয়েছে রির্পোট অনুযায়ী তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এ ব্যাপারে উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আইরিন পারভীন বলেন, কোনো শিক্ষক যদি ছাত্রীদের সাথে খারাপ আচরণ করেন এবং তার প্রমান পাওয়া যায় তার বিরুদ্ধে সকল ধরনের শাস্তি মূলক ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে। এমনকি তাকে চাকরি থেকে বরখাস্ত করা হতে পারে।

